আগা শাহীর প্রতিবাদঃ ভারত পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত করছে

Posted on Posted in 7

৭.১১.৩২-৩৩

শিরোনামঃ ১১। আগাশাহীর প্রতিবাদ: ভারত   পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত করছে।  

সূত্রঃ দৈনিক পাকিস্তান

তারিখঃ ৯ এপ্রিল, ১৯৭১

.

আগাশাহীর প্রতিবাদ: ভারত   পাকিস্তানের

জাতীয় সংহতি বিনষ্ট করার চক্রান্ত করছে।

জাতিসংঘ, ৮ই এপ্রিল, (এ পি পি)- পাকিস্তান গতকাল ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানী রাষ্ট্রের জাতীয় সংহতি ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা বানচালের ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ করে।

পাকিস্তান সরকার এটাকে দুঃখজনক মনে করে যে, ভারত জাতিসংঘ সনদের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা সত্ত্বেও সদস্য রাষ্ট্রসমূহের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ না করার নীতি লংঘন করে জাতিসংঘের অন্যতম ভিত্তিই ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। পাকিস্তনী রাষ্ট্রদূত আগাশাহী জাতিসংঘ সেক্রেটারী জেনারেল উ থান্টের কাছে এক মৌখিক বার্তায় একথা জানান।

ভারতীয় লিপির জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ব সংস্থায় উত্তর, দক্ষিণ, পশ্চিম বা পূর্বভারতীয় পরিস্তিতি ওঠার আগে পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতি উঠতে পারে না। ভারতীয় লিপিতে পূর্ব পাকিস্তান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি দেশের ভেতরকার আঞ্চলিক বা প্রাদেশিক সমস্যা ন্যায়সংগত ভাবে কোন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের বিষয় হতে পারে না।

মৌখিক বার্তা প্রদানের মধ্যেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের চেষ্টা সীমাবদ্ধ থাকলে পাকিস্তান সেটা উপেক্ষা করতে পারত। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছে যে, পাকিস্তানের জাতীয় সংহতি ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নষ্ট করার দুরভিসন্ধি ভারতের রয়েছে। জনাব আগাশাহী বলেন, ভারতীয় তথ্য মাধ্যম পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে উগ্র প্রচার অভিযান চালিয়েছে এবং কখনো পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্ভট বানোয়াট খবর প্রচার করেছে।

গত ৩১শে মার্চ পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রতি প্রচ্ছন্ন হুমকি দেয়া হয়। একই দিনে পার্লামেন্টে পূর্ববাংলার প্রতি ভারতের অকুন্ঠ সমর্থন জানিয়ে এক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

ভারতীয় নেতাদের উস্কানী ও উৎসাহ দানের সরাসরি ফল হিসাবে কলকাতার সরকারী কর্মচারীগণ পূর্ব পাকিস্তানে সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবী পাঠাবার ব্যাপারে খোলাখুলি ভাবে উৎসাহ দিচ্ছে। অস্ত্র-শস্ত্র ও গোলাবারুদ বোঝাই ৯টি ভারতীয় যানবাহনের একটি কনভয়কে পাকিস্তানী এলাকায় শমশেরনগরের দিকে যেতে দেখা যায়। পাকিস্তানী সশস্ত্রবাহিনী কনভয়টি ধ্বংস করে দিয়েছে।

জনাব শাহী বলেন যে এমনকি পাকিস্তানের দু’অঞ্চলের মধ্যে নৌযোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর অবরোধ সৃষ্টির বিষয়ও ভারতীয় সরকারী মহলে আলোচনা হয়। একটি পাকিস্তানী বাণিজ্যতরী যখন পূর্বাঞ্চলে যাচ্ছিল, তখন ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজগুলো তাকে হয়বানী করে। পাকিস্তানী জাহাজটি করাচী ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

গতকাল একটি পাকিস্তানী হাজীবাহী জাহাজ মক্কা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নৌ-বন্দর চট্রগ্রাম যাচ্ছিল। উক্ত জাহাজটিকে ভারতীয় রণতরীগুলো একইভাবে হয়রানী করে।

পাকিস্তানী প্রতিনিধি বলেন যে, ভারত পূর্ব পাকিস্তান সীমান্তের নিকটে ছয় ডিভিশন সৈন্য মোতায়েন করেছে। একটি রাজনৈতিক মীমাংসায় আসার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রচেষ্টার বিবরণ দিয়ে জনাব শাহী বলেন যে, শেষ দফা আলোচনার পর সন্দেহের কোন অবকাশ থাকে না যে কিছুসংখ্যক লোক দেশকে বস্তুতপক্ষে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিল।

দেশকে ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়।

পূর্ব পাকিস্তানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পূর্ব পাকিস্তানের ১২ জন রাজনৈতিক নেতার এক প্রতিনিধি দল প্রদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতীয় প্রচারণাকে ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

সর্বশেষ খবরে প্রকাশ, জাতিবিরোধী শক্তিসমূহকে সাহায্য করার জন্য ভারত থেকে যে সকল সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী সাদা পোষাকে এসেছিল, পূর্ব পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করায় তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। গ্রাম থেকে ঢাকায় সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে দ্রব্যমূল্যের উপর অভিনন্দনযোগ্য প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।