আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের জরুরি সভায় গৃহীত সিন্ধান্ত সমূহ

Posted on Posted in 4

<৪,১২৫,২৩০-২৩১>

অনুবাদকঃ শিপ্রা কর্মকার

শিরোনামসূত্রতারিখ
১২৫। আমেরিকাস্থ ইস্ট পাকিস্তান লীগের জরুরি সভায় গৃহীত সিন্ধান্ত সমূহ ইস্ট পাকিস্তান লীগের সভার কাযবিবরণী২৮ মার্চ, ১৯৭১

 

 

আমেরিকার পূর্ব পাকিস্তান লীগ!

       ৬৬৭, ব্রডওয়ে নগরী,নিউইয়র্ক, এন. ওয়াই. ১০০২৫

 

২৮ শে মার্চ, ১৯৭১

আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে পূর্ব পাকিস্তান লীগ কতৃক ২ টায় এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থার উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয় এবং যার অর্থ দাড়ায় বাংলাদেশের নিরস্ত্র ও নিরীহ মানুষকে তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য একটি বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে লিপ্ত করা। সভাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশের মানুষের অংশগ্রহনে অনুষ্ঠিত এবং যার মূল উদ্দ্যেশ্য ছিল নিন্মলিখিত সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

১) এই সভায়, ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর সমাধানের ৩১ তম বার্ষিকী উৎযাপন করা হয় যাতে ভারতের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলে দুটি পৃথক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টির জন্য পরিষ্কারভাবে অনুরোধ করা হয়!

২) এই বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্র প্রতিনিধিত্ব করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা আত্মহুতি ও বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে সম্মত।

৩) গনতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত আমাদের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান, ৬ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর আওতায় পূর্ব পাকিস্তানের কাছে দিতে রাজি হল। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক স্বৈরাশাসক ইয়াহিয়া খান, ৭৫ কোটি বাঙ্গালীর চাহিদা গ্রহনের পরিবর্তে তাদের ধ্বংশের জন্য তাদের বিরুদ্ধে জেট বোম্বার, ট্যাংক ,কামান ও অন্যন্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করে মধ্যযুগীয় বর্বরতা শুরু করে!

৪) এই বিষয়ে বৈঠকে সংশোধিত হয়েছে যে এই সমাধি ঘন্টায় বাংলাদেশের প্রয়োজনে বিশ্বের সব গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলোর এগিয়ে আসা উচিত এবং মার্কিন জাতি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশেষকরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে অনুরোধ করা উচিত। চট্টগ্রামে অস্থায়ী সরকার মেজর জিয়া খানকে ভিত্তি করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি ও পশ্চিম পাকিস্তানি থেকে হানাদারদের বাইরে নিক্ষেপ করতে সম্ভাভ্য সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ভারত। জাতিসংঘের স্থায়ী মিশনের প্রধান বৈঠকে এসব দেশের অনুরোধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি সভা অাহ্বান করা হয় এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের অনুমতিক্রমে সদস্যপদ প্রাপ্ত হয়। বর্তমানে, ১৯৪৭ সালে ভারত মামলার উপমা পাকিস্তান কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয় যখন ভারত মূল সদস্যপদ বজায় রাখে  এবং পাকিস্তানকে নতুন করে আবেদন করতে হয়

৫) এই সভায় রাষ্ট্রপতি রিচার্ড এম নিক্সন কে অবিলম্বে পূর্ব পাকিস্তানের জাতিসংঘের সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য জিজ্ঞাসা করতে অনুরোধ করা হয় সরকারের শ্বাসত ধারনা সংরক্ষন করতে। জনগনের সরকার, জনগনের দ্বারা এবং জনগনের জন্য।

৬) এই বৈঠকে পূর্ব পাকিস্তানে গনতন্ত্রের কারন তার সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তার গভীরতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার অনুরোধ, গনতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক নৈতিকতা নামে তাদের সংগ্রামে প্রত্যেকের সাহায্যে প্রদান করা। সম্মান ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকাই অামাদের বীর সম্প্রদায়ের লক্ষ্য।

৭) এই সভায় জাতিসংঘের মহাসচিব উথান্ট, জাতিসংঘের সনদের ৯৯ ধারার অধীনে নিরাপত্তা পরিষদের একটি সভা আহ্বান করেন এবং জাতিসংঘের শান্তিমিশন পূর্ব পাকিস্তানের প্রানবধ গনহত্যা বন্ধ করার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।

                            (কাজী এস. আহমেদ)

                               (রাষ্ট্রপতি)