উত্তরঅঞ্চলের মুক্তিবাহিনী প্রধানের নির্দেশাবলী

Posted on Posted in 11

শিরোনাম
উৎসতারিখ
৭২। উত্তর অঞ্চলের মুক্তিবাহিনী প্রধানের নির্দেশাবলী৬নং সেক্টরের দলিলপত্র১৯৭১

 

কম্পাইল্ড বাইঃ রানা আমজাদ

<১১, ৭২, ৫৩৬>

 

বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের মুক্তিবাহিনী প্রধানের নির্দেশাবলী

 

  • প্রত্যেক বাড়িতে ও দোকানে বাতি এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে যাতে বাহির হতে আলো দেখা না যায়।
  • রাত্রিতে যানবাহনে কোন প্রকার বাতি ব্যবহার করবেন না।
  • মুক্ত এলাকায় প্রতিটি অঞ্চলে শান্তি রক্ষা বাহিনী গড়ে তুলুন। প্রতিটি বাড়িতে দূর্গ গড়ে তুলুন। মুক্ত এলাকার লোকের হাতে রামদা, ছুরি,খাপড় ও অন্যান্য অস্ত্রসহ শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকুন।
  • অপরিচিত ও সন্দেহজনক লোককে গ্রেফতার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট সোপর্দ করুন।
  • মুক্ত এলাকায় পুল, রাস্তাঘাট, নদীপথ ইত্যাদিতে পাহারা রাখুন।
  • ছইসহ গরুর ও মহিষের গাড়ীর যাত্রীদের প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি রাখুন।
  • কোন নদীতে মুক্তি সেনারা অজ্ঞাতে কোন প্রকার নৌকা, ভেলা ইত্যাদি রাখলে তারা খুবই দোষনীয় বলে বিবেচিত হবে এবং কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। নদীপথে দিনে অথবা রাতে চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • গুজব ছড়াবেন না গুজবে কান দেবেন না।
  • কোন বাঙ্গালী অর্থলোভে শত্রুপক্ষকে সাহায্য বা কোন প্রকার সংবাদ সরবরাহ করলে তাকে মুক্তিবাহিনী প্রধানের আদেশক্রমে গুলি করে মারা হবে।
  • মুক্তিফৌজের সম্বন্ধে কোনরূপ সমালোচনা করবেন না এবং মুক্তিফঊজের সঙ্গে কন প্রকার কথা বলা খুবই দোষনীয় বলে বিবেচিত হবে।
  • প্রতি বাড়িতে মরিচা খনন করতে হবে । এবং উহার উপর ১ ১/২ ফুত হতে ২ ১/২ ফুট মাটি ফেলে মজবুত করতে হবে। ইহা প্রত্যকেরই নিজ নিজ দায়িত্বে করতে হবে।
  • মুক্ত এলাকায় সর্ব সাধারণকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।মুক্তিবাহিনী কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলী সর্বদাই পালন করে যেতে হবে।
  • মুক্তিফৌজকে কোন প্রকার অর্থ প্রদান করবেন না। অর্থ বা অন্য কোন প্রকার লোভ দেখালে তাকে দোষনীয় বলে শাস্তি দেয়া হবে।
  • কারও কোন অভিযোগ থাকলে তা সেই অঞ্চলের সেক্টর কমাণ্ডার-এর কাছে পেশ করবেন।
  • হাটে বাজারে বা গ্রামে কোথাও জলসা বা সভা মুক্ত এলাকার বেসামরিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত হতে পারবেনা।
  • মুক্তিফৌজের নামে কোনোরূপ চাঁদা আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।