জেনারেল টিক্কাখান সকাশে নেতৃবর্গঃ সহযোগিতার আশ্বাস

Posted on Posted in 7

(দুই)

বেসামরিক সহযোগিতা

.

৭.২১৯.৬৪৫

শিরোনামসূত্রতারিখ
২১৯। জেনারেল টিক্কা খান সকাশেনেতৃবর্গঃ সহযোগিতার আশ্বাসসংবাদপত্র১৯৭১

 

জেনারেল টিক্কা খান সকাশে নূরুল আমীনসহ ১২ জন নেতা

পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতার আশ্বাস

 

        গতকাল রবিবার অপরাহ্নে জনাব নূরুল আমীনের নেতৃত্বে ১২ জন বিশিষ্ট নেতার সমন্বয় গঠিত একটি প্রতিনিধি দল ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

 

        সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের এক প্রেস রিলিজে এ কথা জানানো হয়েছে। মৌলভী ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক গোলাম আজম, খাজা খয়েরউদ্দীন, জনাব শফিকুল ইসলাম, মওলানা নুরুজ্জামান প্রমুখ নেতৃবৃন্দ এ প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

 

        অবিলম্বে সমগ্র প্রদেশে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রতিনিধিদল সামরিক আন প্রশাসককে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস এবং জনগণের মন থেকে ভিত্তিহীন ভয় দূর করার উদ্দেশ্যে তারা ঢাকায় নাগরিক কমিটি গঠন করারও প্রস্তাব দেন।

 

        পূর্ব পাকিস্তানী নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও ভারতের বিদ্বেষপূর্ণপ্রচারণার প্রতিবাদ করেন।

 

        প্রতিনিধি দলের সহযোগিতার আশ্বাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে সামরিক আইন প্রশাসক পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক জীবনের পুনর্গঠন সম্পর্কে প্রশাসন কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাদি সম্পর্কে অবহিত করেন।

 

        সামরিক আইন প্রশাসক বলেন যে, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অচলাবস্থার ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণের উদ্দেশ্যে প্রত্যেককেইকঠোরভাবে কাজ করতে হবে। সাম্প্রতিক অসহযোগ আন্দোলনে বেসামরিক কর্মচারীদের যোগদানের কথা উল্লেখ করে সামরিক আইন প্রশাসক বলেন যে, তারা চাপে পড়েই একাজ করেছেন এটা তিনি বুঝেছেন। এখনো যারা কাজে যোগদান করতে পারেননি তিনি অবিলম্বে তাদের কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছেন।

 

        তিনি আরো বলেন যে, এমন কি এসব কর্মচারীদের ধর্মঘটের সময়েরও বেতনদানের জন্য তিনি ইতিপূর্বে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

        সামরিক আইন প্রশাসক রাষ্ট্রদ্রোহী এবং সমাজ বিরোধীদের কার্যকলাপের ফলে যারা স্থানচ্যুত হয়েছেন তাদের পুনর্বাসন ত্বরান্বিত করার প্রয়োজনের উপরেও গুরুত্ব আরোপ করেন। জেনারেল টিক্কা খান বলেন যে, প্রদেশে কোন খাদ্য ঘাটতি নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন যে, যদি দুষ্কৃতিকারীরা* খাদ্য শস্য প্রেরণে বাধা দেয় তাহলে কোন কোন এলাকা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারে।

 

        তিনি পুনরায় এ ধরনের দুষ্কৃতিকারী, রাষ্ট্রদ্রোহী ও সমাজ বিরোধীদের আশ্রয় না দেয়ার এবং এদের সম্পর্কে সংবাদ পৌঁছে দেয়ার জন্য জনগণকে উপদেশ দেন। এই প্রসঙ্গে তিনি সামরিক আইন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শান্তিপ্রিয় জনগণের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তাবিধানের কথা পুনরুল্লেখ করেন।

 

– পূর্বদেশ, ৫ এপ্রিল, ১৯৭১

 

……………………………………………………

*জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিতের পর জেনারেল ইয়াহিয়ার সামরিক কার্যক্রমে বাধাদানকারী এবং পরবর্তী সময়ে গেরিলা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বাঙ্গালীদেরকে দখলদার বাহিনী ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ সমাজবিরোধী ও ‘দুষ্কৃতিকারী’ বলে অভিহিত করতো।

 

 

আরো কয়েকজন নেতা

 

        সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের এক হ্যান্ডআউটে প্রকাশ, পূর্ব পাকিস্তানের আরো কতিপয় রাজনৈতিক নেতা গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন শাসনকর্তার সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রদেশের সর্বত্র দ্রুত পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

 

        জেনারেলটিক্কা খানের সঙ্গে যারাপৃথকভাবে দেখা করেন তারা হচ্ছেনসাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব হামিদুল হক চৌধুরী, পূর্ব পাকিস্তানের জামাতে ইসলামীর সভাপতি অধ্যাপক গোলাম আজম, জমিয়তেওলামায়ে ইসলামের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সভাপতি পীর মোহসেন উদ্দিন ও স্থানীয় বিশিষ্ট এডভোকেট এ.কে, সাদী।

 

        নেতৃবর্গ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ভারতের অনাহুত হস্তক্ষেপ ও পাকিস্তানে তার সশস্ত্র অনুপ্রবেশের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন যে ভারতীয় অভিসন্ধি নস্যাৎ করার জন্য প্রদেশের দেশপ্রেমিক জনগণ সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্য করবে।

 

        সামরিক আইন শাসনকর্তা রাজনৈতিক নেতাদের আশ্বাস দেন যে শাসন কর্তৃপক্ষ সকল শান্তিকামী নাগরিকের জান মাল পুরোপুরিভাবে রক্ষার কাজ অব্যাহত রাখবে। তিনি পুনরায় গত মাসের নিষ্ক্রিয়তার ফলে ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য প্রদেশের অর্থনীতি পূর্ণোদ্যমে চালু করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

 

                                                – দৈনিক পাকিস্তান, ৭ এপ্রিল, ১৯৭১

 

আব্দুস সবুর খান

 

        সাবেক জাতীয় পরিষদের নেতা জনাব আব্দুস সবুর খান গতকাল বুধবার ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেনারেল টিক্কা খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন। জনাব সবুরের সাথে তাঁর কয়েকজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক সহযোগীও ছিলেন।

– দৈনিক পাকিস্তান, ৮ এপ্রিল, ১৯৭১

নূরুল আমীনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল

 

        গতকাল শুক্রবার ঢাকা এপিপি পরিবেশিত এক খবরে বলা হয়েছে যে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জনাব নূরুল আমীনের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির কার্যনির্বাহক কমিটির একটি প্রতিনিধিদল গভর্নর ভবনে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নরলেঃ জেনারেল টিক্কা খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

 

        শান্তি কমিটির সদস্যগণ নাগরিকদের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছেতৎসম্পর্কেগভর্নরকে অবহিত করেন। তাঁরা জনসাধারণ যে কতিপয় অসুবিধা ভোগ করছে তৎপ্রতিওগভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

 

        আলোচনাকালে কমিটির সদস্যরা গভর্নরকে জানান যে, জনসাধারণ ভারতের কুমতলব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং পাকিস্তানের সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তাঁরা সম্পূর্ণভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে।

 

        গভর্নর শান্তি কমিটির সদস্যদের আশ্বাস দেন যে, জনগণের প্রকৃত সমস্যার উপর লক্ষ্য রাখা হবে এবং অনতিবিলম্বে প্রতিবিধানমূলকব্যবস্থাদি গ্রহণ করা হবে।

 

        গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎকারীদের মধ্যে ছিলেন জনাব এস কে খয়ের উদ্দীন, আহবায়ক জনাব এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আজম, জনাব মাহম্মুদ আলী, জনাব আব্দুল জব্বার খদ্দর, জনাব মোহন মিয়া, মওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম, জনাব আবদুল মতিন, অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, এ এস এম সোলায়মান, এ কে রফিকুল হোসেন, জনাব নুরুজ্জামান, জনাব আতাউল হক খান, তোয়াহা বিন হাবিব, মেজর আফসারুদ্দিন, হেকিমইরতেয়াজুর রহমান খান আখুনজাদা।

 

                                        – দৈনিক পাকিস্তান, ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১

জমিয়োতেওলামা ও নেজামে ইসলামের প্রতিনিধিবৃন্দ

 

        গতকাল রোববারজমিয়তেউলামায়ে ইসলাম ও পূর্ব পাকিস্তান নেজামে ইসলামের একটি প্রতিনিধিদল পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ও খ অঞ্চলের সামরিক শাসক জেনারেল টিক্কা খানের সাথে গভর্নর হাউসে সাক্ষাৎ করেন। দলের সহ সভাপতি সাঈদ মাহমুদ আল মুস্তাফা আল মাদানী নেতৃত্ব করেন।

 

        দলের সদস্যগণ সাড়া প্রদেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারী প্রচেষ্টার সাথে তাদের পূর্ণ সহযোগিতা দানের আশ্বাস দেন।

 

        – দৈনিক পাকিস্তান, ১৯ এপ্রিল, ১৯৭১

 

কনভেনশন লীগ নেতৃবৃন্দ

 

        এপিপির খবরে প্রকাশ, পাকিস্তান মুসলিম লীগের (কনভেনশন) সভাপতি জনাব ফজলুল কাদের চৌধুরী ও জেনারেল সেক্রেটারী মালিক মোহম্মদ কাশিম গতকাল সোমবার অপরাহ্নে প্রাদেশিক গভর্নরলেঃজেঃটিক্কা খানের সঙ্গে গভর্নর ভবনে এক সাক্ষাৎকারে মিলিত হন।

 

        প্রদেশে পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নেতৃদ্বয় তাদের দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

 

        দেশ ও জনগণের সাহায্যে এগিয়ে আসার জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ বিশেষ করে বেআইনী ঘোষিত আওয়ামীলীগেরনেতৃবৃন্দের প্রতি গভর্নর তাঁর বেতার ভাষণে যে প্রস্তাব দিয়েছেন তাতে মুসলিম লীগ নেতৃদ্বয় সন্তোষ প্রকাশ করেন।

        – দৈনিক পাকিস্তান, ২০ এপ্রিল, ১৯৭১