ডঃ ডরফম্যানের কাছে লিখিত ওয়াশিংটন পাকিস্তান রাষ্ট্রদূতের চিঠি

Posted on Posted in 7

৭.২০.৪৭-৫১

শিরোনামসূত্রতারিখ
২০। ডঃ ডর্ফম্যানের কাছে লিখিত ওয়াশিংটনস্থ পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূতের চিঠিপাকিস্তানি দূতাবাসের দলিলপত্র২৮ এপ্রিল, ১৯৭১

 

পাকিস্তান দূতাবাস

২৩১৫ ম্যাসাচুসেটস এভিনিউ এনডব্লিউ

ওয়াশিংটন ডিসি ২০০০৮

২৮ এপ্রিল, ১৯৭১

 

প্রিয় ডঃ ডর্ফম্যান,

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট বরাবর আপিলের কপি সংযোজিত ১০ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখের আপনার চিঠিটি আমরা পেয়েছি। ১২ এপ্রিল ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনের একটি কপি আমি আমার সরকারের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।

২.আমি দুঃখ প্রকাশ না করে পারছি না যে আপনি এবং আপনার কো স্বাক্ষরকারীরা আমাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার চেয়ে রাজধানীর জনপ্রিয় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়াকে বেশি শ্রেয় মনে করেছেন। আপনি জানেন যে এই দেশে এই ধরনের পাব্লিকেশন এই দেশে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও শত্রুতা তৈরি করবে। আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন যে আমরা আপনাদের কিরূপ শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখি। আমাদের উপর বিজ্ঞাপিত আপীলের প্রভাব একটি জনসম্মুখে দেয়া বিবৃতির থেকে বেশি কিছু নয়।

৩. আমরা আরো দুঃখ পেয়েছি যে আপনি উপসংহার টেনেছেন এই মর্মে যে পাকিস্তান সরকার শান্তিপূর্ণ আলোচনা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিসমূহ পরিত্যাগ করেছে। আপনি অবশ্যই অবগত আছেন যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বারবার বলেছেন যে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনাই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি ইতিমধ্যে এক ব্যক্তি এক ভোট ভিত্তিতে পাকিস্তানের  ইতিহাসে প্রথম দেশব্যাপী নির্বাচনের আয়োজন করেছেন, যার ফলে জাতীয় সংসদে  সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনের ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের কাছে তাদের অধিকারের  নিশ্চয়তা প্রদান দ্বারা সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের অভিপ্রায় প্রমাণিত হয়েছে।

৪. রাষ্ট্রপতি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বিশেষ করে আওয়ামী লীগের নেতার সঙ্গে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নে একটি গণপরিষদ এবং এর আহ্বায়ক সংক্রান্ত একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক চুক্তি অর্জনের উদ্দেশ্যে  ঢাকায় অনুষ্ঠিত  বিশেষ আলোচনার পূর্ণ প্রতিবেদন প্রেস প্রকাশ করেছে।  এ ধরনের একটি চুক্তি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য প্রার্থিত স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করবে যা নজিরবিহীন।  প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া প্রকাশ্যে জাতীয় অখণ্ডতা এবং দেশের সংহতি ক্ষতিসাধন না করে  পাকিস্তানের দুই অংশের সর্বোচ্চ স্বায়ত্তশাসন পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্য ভাষায়, পাকিস্তান এক জাতি এবং এক দেশ থাকবে।

৫. প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে জাতীয় সংবিধান বিষয়ে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধানের জন্য দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। কিন্তু এটিও জানুন যে, তারা অনমনীয় ছিল।

এমনকি তিনি পশ্চিম পাকিস্তানে এসে প্রেসিডেন্টের সাথে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকার করেছেন। এরপর প্রেসিডেন্ট ১৫ মার্চ ২য় বারের মত ঢাকা সফর করেন আওয়ামী নেতাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। এগারো দিন ধরে তিনি এবং তার উপদেষ্টারা শেখ মুজিবুর রহমানকে আশ্বাস দেন যে স্বায়ত্তশাসনের দাবি গ্রহণ করা হবে  কিন্তু তাঁর  স্বীকার করা উচিত অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অঞ্চলের নেতাদেরও কিছু অধিকার আছে। কিন্তু এই সব প্রচেষ্টা নিরর্থক প্রমাণিত হয় কারণ শেখ মুজিবুর রহমান শুধু অন্য দলগুলোর বা অন্যান্য অঞ্চলের অধিকার স্বীকার করতে না অস্বীকৃতি জানালেনই না, তিনি এমনকি অবৈধ উপায়ে তার ইচ্ছার বাস্তবায়ন এবং অন্যদের বাধ্য করতে হুমকি দেন। খুব শীঘ্রই যেমন ২ মার্চ , পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক এবং রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারকে অগ্রাহ্য করে তিনি তার অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন এবং প্রদেশের বেসামরিক প্রশাসন এবং তার পুলিশ এবং সরকার আইনানুগ কর্তৃপক্ষ সহ  অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা জারি করে একটি সমান্তরাল সরকার শুরু করেছেন।   মার্চের শুরুর দিকে উত্তেজিত জনতা শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন হয়রানি করতে শুরু করেছে এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং প্রদেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব  কায়েম হয়েছে। এমনকি ধ্বংসাত্নক কার্যকলাপের মাধ্যমে রাস্তাঘাটে জনজীবন ও জানমালের ক্ষতি চোখের সামনে ঘটলেও প্রেসিডেন্ট যথেষ্ট ধৈর্য ধারন করেছেন। কারণ তিনি তখনও শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সমস্যা সমাধানে বিশ্বাস করেছেন।  এটা ছিল আওয়ামী লীগ  যারা যৌক্তিক এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথ পরিত্যক্ত করে অসহযোগ বিজ্ঞাপনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য অসহযোগ আন্দোলন  অব্যাহত রেখেছিল একটি এবং একটি সমান্তরাল সরকারও প্রতিষ্ঠিত করেছে?  প্রেসিডেন্ট সহ পশ্চিম পাকিস্তানের অন্যান্য সফল দলের নেতারা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি মেনে নিতে রাজি ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আওয়ামী লীগ নেতারা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, তারা স্বাভাবিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য কাজ করেনি বরং রাষ্ট্রের মধ্যে একটি ফেডারেশন তৈরি করে দেশে বিভাজন তৈরি করতে চেয়েছে। সংক্ষেপে তারা পাকিস্তানের প্রতিকূল শক্তির সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানে একটি সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্র তৈরি করতে চেয়েছিল।

৬. এই পরিস্থিতিতে, ঐক্যের সংরক্ষণ এবং দেশের অখণ্ডতা সবার আগে বিবেচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছিল। যেমন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট বার্তায় বলেন,

” কোনো সরকারই তার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার উপর আক্রমণ প্রশ্রয় দেয় না বা নাশকতামূলক কর্মকান্ড মোকাবেলা করার ব্যাপারে  যুদ্ধ করতে নমনীয় থাকে না ……”

৭. এটা অবশ্যই দুঃখজনক যে , সশস্ত্র ও শৃঙ্খলহীন প্রদেশে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারি বাহিনী বল প্রয়োগ করা হয়েছিল। ১৯৬৯  সালের মার্চে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যখন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন,  তার ঘোষিত অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রতি আওয়ামী লীগের সদস্যদের দ্বারা দেওয়া ঘোর উস্কানীর মুখে তার সামরিক  প্রশাসনের সহনশীলতা শুধুমাত্র সম্পূর্ণরূপে দেশের নাগরিকদের দিকেই ছিল না সব বিদেশীরা যারা  ঐ তারিখ থেকে পূর্ব পাকিস্তান সফর বা বসবাস করে আসছে তাদের প্রতিও ছিল। যেভাবে দেশের জাতীয় সেনাবাহিনীর সরল, দেশপ্রেমিক ও সুশৃঙ্খল সদস্যদের প্রতি আওয়ামী লীগের সদস্যদেরা আচরণ করেছে, নির্দোষ আইন মান্যকারী পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ মনের মধ্যে শত্রুতা ও তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা বাড়াতে  যে প্রচেষ্টা  হয়েছে, এগুলো সবার এতো বেশী জানা যে পুনরায় উল্লেখ করা নিষ্প্রয়োজন।

 

 

 

এমনকি ঢাকায় আওয়ামী নেতাদের সাথে আলোচনা চলাকালেও যখন বড় ছোট নানান উচ্ছৃঙ্খল লোকজন ও দুষ্কৃতিকারীরা হত্যা এবং লুটপাট চালাচ্ছিল প্রেসিডেন্টের সামনে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীকে ব্যবস্থা নিতে বলা ছাড়া আর কিইবা উপায় ছিল।

৮. আর আশ্চর্যের ব্যাপার, আপনি এবং আপনার সহকর্মীরা বলেছেন পাকিস্তান সরকার “নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে” “আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম নিয়ে ঝাপিয়ে পড়েছে।” সেনাবাহিনীকে যে আইনবিরুদ্ধতা মোকাবেলা করতে হয়েছে, সেটি ঢাকা ও চট্টগ্রামের মত শহরের রাস্তায় হোক বা ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে , গ্রামাঞ্চলে হোক সেখানে অবশ্যই “নিরস্ত্র মানুষের” ছিল না। এখানে দেশের শত্রুদের সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্বাসঘাতকরা দেশের সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। যখন এই দেশদ্রোহীদের এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে লড়াইয়ের সূত্রপাত ঘটে, এটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের কাছে বেশ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে যে  প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার আগে থেকে রাষ্ট্র বিরোধীরা ভারত থেকে অনুপ্রবেশকারী থেকে অস্ত্র এবং সহায়তা পেয়ে আসছিল।

৯. যখন আর কোন উপায় ছিল না, অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেনাবাহিনী মাঠে নামানো হয়েছে। একই সময়ে সেইলন (Ceylon) একই রকম পদক্ষেপ নিয়েছে এমনকি ইংল্যান্ডও উত্তর আয়ারল্যান্ডে একই কাজ করছে।  জোর করে জনসংখ্যার কোন সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশকে আয়ত্তে আনার কোন প্রশ্নই ওঠে না। সেনাবাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং উচ্ছৃঙ্খল জনতার  বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় যারা ক্রমাগত আইন ভঙ্গ করেছে। এই গোষ্ঠী পাকিস্তানের অধিকাংশ জনগনকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

১০. আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশনেয়া দলগুলোর একটি। আমরা জানি যে তারা পূর্ব পাকিস্তানে অসাধারণ বিজয় পেয়েছে। তা সত্ত্বেও প্রদেশের অন্যান্য দলগুলো বেশ ভোট পেয়েছে। এটিও সত্য যে পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের পাচটি প্রদেশের একটি এবং অন্যান্য প্রদেশে আওয়ামী লীগের কোন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নাই এবং সেখানে অন্যান্য দলগুলা সম্মিলিত বিজয় পেয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রাদেশিক দল হিসেবে সফল, এটি সত্য, কিন্তু তারা পাকিস্তানের পাচটি প্রদেশের একটিতেই ক্ষমতাশালী। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে অবশ্যই আওয়ামী লীগের অধিকার ছিল, কিন্তু প্রকৃত গণতন্ত্রে বিরোধী দল এবং ছোট দলগুলোরও অধিকার আছে এবং বিশেষ করে এই ক্ষেত্রে অন্য চারটি প্রদেশে একটি অথবা একাধিক দল নিজ নিজ প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং একত্রে তারা পশ্চিম অংশের জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে যা পাকিস্তানের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক, তাদের অধিকার আছে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলার।

১১. এটি ভুলে গেলেও চলবে না যে নির্বাচন হয়েছিল সমগ্র পাকিস্তানের সংবিধানের জন্য, একটি বা দুটি অংশের জন্য না।  সংবিধান একটি মৌলিক আইন যা সমগ্র জাতির ঐক্যমত্য এবং তার সব উপাদানকে উপস্থাপন করে। সাধারণ আইন একটি সহজ সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বারা গৃহীত হতে পারে, কিন্তু সংবিধান সাধারণত দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অন্তত তিন চতুর্থ সংখ্যাগরিষ্ঠ দ্বারা অনুমোদিত হয়। তাছাড়া, কোনো যুক্তরাষ্ট্রীয় সংবিধান, টেকসই হতে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন  ইউনিটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেতে হয়। আওয়ামী লীগ ৫৩% এর বেশি সীট পায় নি এবং অন্য চার প্রদেশে তাদের কোন প্রতিনিধি ছিল না।

 

 

 

 

 

১২. যেহেতু জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর দায়িত্ব ছিল সংবিধান রচনা করার, সকল অঞ্চলের স্বার্থকে জায়গা দেয়াটা অবশ্যই জরুরি ছিল। আওয়ামী লীগের জন্য দায়িত্ব ছিল দেশের অন্য অংশের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করা এবং তাদের মতামত ও আকাংখাকে বিবেচনায় আনা। অবশ্যই আওয়ামী লীগ জান্তা এগুলির পরোয়া করেনি এবং সকল আলোচনা তাদের আক্রমণাত্নক আচরনের সামনে ভেস্তে গেছে। আওয়ামী লীগ শুধু তাদের দলীয় স্বার্থকেই বিবেচনায় রেখেছিল, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট শুধু পাকিস্তানের কথাই চিন্তা করননি, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া নিয়েই তার চিন্তাভাবনা ছিল।

১৩. এটা বলা অবিচার এবং অন্যায় যে পাকিস্তান সরকার তার ইচ্ছাকে একটি বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীর উপর চাপিয়ে দিয়েছে যারা একত্রে বলেছে এবং যাদের আকাঙ্ক্ষা ছিল যৌক্তিক যা আওয়ামি লীগের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তাদের আলাদা হবার দাবি করার ম্যান্ডেট দেয় নি। জনাব হামিদুল হক চৌধুরী, একজন পূর্ব পাকিস্তানি নেতা যিনি ১৯৫৫-৫৬ তে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ছিলেন, ঢাকাতে তিনি বলেছেন সমগ্র ভোটাররা গত বছরের ৭ই ডিসেম্বর ভোট দিতে গিয়েছিল শুধু একটি দেশের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং সংবিধান রচনার জন্য, দুটি দেশের জন্য নয়।  এই নির্বাচন পাকিস্তান কিংবা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী পাকিস্তানে থাকতে চায় নাকি আলাদা হতে চায়, এরূপ কোন গণভোট ছিল না।  নির্বাচন একক রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে সংগঠিত হয়েছিল। যে মুহূর্তে আওয়ামী লীগ জান্তা  কাঠামো ভেঙে ফেলে এবং দেশকে আলাদা করার জন্য একটি চাহিদা তৈরি করে, রাষ্ট্রের অধিকার আছে তাদের নিষিদ্ধ করার এবং তার নেতাদের গ্রেফতার করার। দেশের একটি অংশের জনগণের আলাদা হওয়ার দাবি এবং নিজেদের স্বাধীন ঘোষনা করা পৃথিবীর কোন দেশেই যুক্তি সংগত মনে করা হয় না। এ ধরনের প্রথা কিংবা অধিকার বহাল থাকলে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডল ও সম্পর্কের ভারসাম্য থাকে না।

১৪. অবশেষে, যত  তাড়াতাড়ি সম্ভব পূর্ব পাকিস্তানে বৈধ এবং কার্যকরী সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য আপনার আবেদন রেফারেন্স সম্পর্কে, আমি  পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ২৬ মার্চ তার সম্প্রচারে যে  শব্দগুলোর মাধ্যমে অঙ্গীকার করেছেন তার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করছি,

“আমি আপনাদের নিশ্চিত করছি আমার লক্ষ্য অপরিবর্তিত আছে যেটি হল জনগণ দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। যত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি অনুকূলে আসবে, আমি এই লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাব। আমি আশা করি যে পূর্ব পাকিস্তানে আইন শৃঙ্খলা খুব তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং আমরা পুনরায় লক্ষ্য অর্জনের দিকে আগাতে থাকব।”

আবারো, ৫ই এপ্রিল, সোভিয়েট প্রেসিডেন্টের ভাষণের প্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট নিম্নোক্ত কথাগুলির পুনরাবৃত্তি করেনঃ

“মান্যবর, পরিশেষে আপনাকে আমি জানাতে চাই যে আমার লক্ষ্য এখনো অবিচল রয়েছে এবং যত দ্রুত সুযোগ আসবে আমি পূর্ব পাকিস্তানের বিবেচক গোষ্ঠীদের সাথে আলোচনায় বসতে চাই।”

 

১৫. আমি যেটি পূর্বেই বলেছি যে, আপনার বিজ্ঞাপন পাকিস্তানের ভাবমূর্তিতে দাগ ফেলেছে। এটি দুঃখজনক যে, আপনার মত ব্যাক্তি যার শুভ বুদ্ধি নিয়ে কোন সন্দেহ নাই, এমন কাজ করেছেন যা করার কথা এমন ব্যাক্তিদের যারা আমাদের এবং পাকিস্তানকে ঘৃণা করে।

 

পাকিস্তানে যা ঘটেছে তা আমাদের সকলকেই ব্যথিত করেছে এবং আমাদের নিজেদের লোকজনের যে প্রাণহানী এবং সম্পদহানী ঘটেছে তাতে আমরা আসলেই দুঃখিত। যাইহোক, এটি আমাদেরই দায়িত্ব এই দুঃখজনক পারিবারিক সংঘাত বন্ধ করা এবং বাইরের কারো এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করার অধিকার নাই। আমাদের দেশের সঙ্গে আপনার বন্ধুত্ব এবং আপনার এর উন্নতি কামনাকে আমরা গভীরভাবে মূল্যায়ন করি।  কিন্তু আমাদের অধিকার এবং আমাদের একত্রে দেশে থাকার আকাঙ্ক্ষা উপর নৈতিক রায় চাপিয়ে না দেয়ার  অনুরোধ  করছি আমরা, কারণ এটি এখনো আমাদের সর্বোচ্চ আকাঙ্ক্ষা।

 

আপনার অনুগত,

স্বাক্ষরিত

(এ. হিলালী)

 

ড. রবার্ট ডর্ফম্যান

প্রযত্নে, আমেরিকান ফ্রেন্ডস অফ পাকিস্তান

 ৮১, কিলবার্ন রোড,

বেলমোন্ট, ম্যাস. সি ২১৭৮