ত্রাণ সাহায্য ও সংকট সমাধানে বৃটিশে সরকারের ভূমিকাঃ পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য

Posted on Posted in 13
শিরোনামসূত্রতারিখ
ত্রাণ সাহায্য ও সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের  ব্যাপারে বৃটিশ সরকারের ভূমিকাঃ পররাষ্ট্র সচিবের বক্তব্য ও তৎসংক্রান্ত বিতর্ককমনস্‌ সভার কার্যবিবরণী৮ জুন, ১৯৭১

 

পূর্ব পাকিস্তান

 

        পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক পররাষ্ট্রমন্ত্রী (স্যার এ্যালেক ডগলাস-হোম): সংসদীয় সভার মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুমতিক্রমে আমি একটি বিবৃতি প্রদান করতে চাই।

        পূর্ব পাকিস্তান হতে ভারতে শরণার্থীদের প্রবাহে পাকিস্তানের পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার সময় হতেই সংসদে বিতর্ক হয়েছে। এই সংখ্যাটি এখন আনুমানিক ভাবে ৪০ লক্ষাধিক বলে পরিগনিত হচ্ছে।

        এপ্রিলেই এটা স্পষ্ট হয়েগিয়েছিল যে পূর্ব পাকিস্তানের চলমান পরিস্থিতি, বিশেষ করে খাদ্য সরবরাহ সম্পর্কিত পরিস্থিতির গুরুতর আকারের রূপ নিতে পারে। এইজন্যই আমেরিকার স্বরাষ্ট্র সচিব এখানে যখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া চুক্তি সংস্থার সভার জন্য ছিলেন তখন আমরা যৌথভাবে জাতিসংঘের মহাসচিবের নিকট তা উপস্থাপন করি এবং তাঁর কাছে বিনীত অনুরোধ জানাই যেন পূর্ব পাকিস্তানে জাতিসংঘের একটি দলকে তৈরী করা হয় যাতে ভবিষ্যতের প্রয়োজনীয় বিষয়ে ধারণা করতে পারে এবং সেই হিসাবে পর্যাপ্ততানুযায়ী আন্তর্জাতিক ত্রাণ গঠন করতে পারে।

        ভারতে শরণার্থীদের জন্য উ থান্টের দ্বারা জারিকৃত প্রথম আর্থিক আবেদনের প্রেক্ষিতে এর পরের দিনই যাদের সবচাইতে বেশী ত্রাণের প্রয়োজন তাদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে মহামান্য রানীর প্রশাসন ১ মিলিয়ন পাউন্ডের  অনুমোদন দেন। একই সাথে আমরা ৭৫০,০০০ পাউন্ড মূল্যমানের খাদ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি প্রদান করি। আহ্বানের দুই সপ্তাহের মধ্যেই সর্বমোট অবদানের যে পরিমাণ তার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই হচ্ছে মহামান্য রানীর প্রশাসন দ্বারা দেওয়া সহযোগীতার। অন্যান্য দেশগুলো সরাসরি ভারতকেই সাহায্য প্রদান করেছে এবং অত্যন্ত আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে জাতিসংঘের ত্রাণ সাহায্যের জন্য আরো যোগাড় করা হচ্ছে, কিন্তু তার চাইতেও আরও বেশী সাহায্যের প্রয়োজন হবে যদি তা মহসাচিবের দেওয়া ১৭৫ মিলিয়ন ডলার সাহায্যের লক্ষ্যে  পৌঁছাতে হয়।

        এছাড়াও, সেইখানে যারা যারা কাজ করছেন তাদের দেওয়া ভাষ্য অনুযায়ী দ্রুতই অন্যান্য যে সকল অত্যন্ত জরুরী সহযোগীতার প্রয়োজন তার জন্য আমরা আরও সাহায্য করার ব্যাপারে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা তাৎক্ষণিকভাবেই তা অনুমোদন করেছি যাতে জাতিসংঘের তহবিলে কোনরূপ ঘাটতি তৈরী না হয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে ত্রাণ সংগ্রহের সেই প্রয়োজনীয়তা অনুসারে দরকারি ব্যাপারগুলো যাতে  পূরণ করা যায়।

        শরণার্থীদের অব্যাহত বর্ধিত আগমন এবং ৪ঠা জুনে ভারত সরকার কর্তৃক কলেরার মহামারী হিসেবে রূপ নেওয়ার ঘোষণায় কিছু বিষয় এখন চিহ্নিত করা গিয়েছে, যেমন- আশ্রয়, ঔষধ সামগ্রী, পরিবহন এবং খাদ্য।

        সাহায্যের প্রথমভাগে ৬ইমে’র শুরুতেই বৃটিশ দাতব্য সংস্থাগুলো পরিবহনের মাধ্যমে তাঁবু পাঠিয়ে যার মূল্য পরিশোধ করেছিল মহামান্য রানীর প্রশাসন। বর্তমানে আমরা পাঠানোর জন্য বড় আকারের তাঁবু সিঙ্গাপুর হতে সংগ্রহ করছি। গতকালই আমি ঘোষণা করেছিলাম যে, কলেরার ভ্যাকসিন, সিরিঞ্জ এবং স্যালাইনের জন্য আমরা মূল্য পরিশোধে প্রস্তুত আছি যাতে আর্থিক সংকটের জন্য কোন প্রকারের দেরী না হয়। ১ মিলিয়নেরও বেশী ভ্যাকসিন ডোজ ও একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল সম্বলিত দুইটি বৃহৎ চালান

 

পাতা নংঃ ৮৩

 

বৃটিশ দাতব্য সংস্থা দ্বারা প্রেরণ করা হয়েছে। সরবরাহ যাতে ঠিকমতো পৌঁছায় তার প্রয়োজনানুযায়ী আমরা পরিবহণের ব্যবস্থা করেছি এবং যতক্ষণ এরূপ সাহায্যের প্রয়োজন থাকবে ততোক্ষণ এমনই করে যাবো। উ থানটকে আমি বলেছি যে, প্রয়োজনীয় ঔষধ ও যোগ্য প্রশাসনিক লোকের যোগান দিতে আমরা প্রস্তুত আছি। খাদ্যের বিষয়ে আমাদের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সহায়তা জাতিসংঘের মাধ্যমে পৌঁছানো হবে।

        এই ব্যাপারটি মোকাবিলায় বৃটিশ দাতব্য সংস্থার সাড়া দেওয়াটা দুর্দান্ত ছিল, কিন্তু এই প্রকারের সমস্যা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পরিষদের দ্বারা সমন্বয়ের ও নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে। ভারত সরকার এতে উদারতা এবং সংস্থানের মাধ্যমে তার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, কিন্তু এটা পরিষ্কার যে, এই বোঝা শুধুমাত্র তাদের একার  উপর বর্তায় না। তাই মহামান্য রানীর প্রশাসন মনে করেন যে, এর দায় দায়িত্ব অবশ্য জাতিসংঘকে গ্রহণ করতে হবে।

        উ থান্ট জাতিসংঘের হাই কমিশনারকে শরণার্থী বিষয়ে সমন্বয়কারী হিসেবে নিয়গ করেছেন। বর্তমানে হাই কমিশনার নিজেও পাকিস্তানে অবস্থান করছেন এবং তার প্রতিনিধিত্বকারীদেরকে পশ্চিম বঙ্গ ও পূর্ব পাকিস্তানে রেখেছেন।

        উ থান্টকে আমি বলেছি যে, আমরা আর্থিক ও পরিস্থিতির বিবেচনায় অন্যান্য প্রয়োজনীয়তাতে আরও অবদান রাখতে প্রস্তুত আছি এবং আমি মনে করি যে সমন্বয়কারী নিশ্চিত করবেন যে জন-সংস্থা ও ব্যক্তিগত উদ্যোগের উৎসগুলোর সাহায্যকে প্রয়োজনানুসারে সর্বোচ্চ ব্যবহারিকতার বিচারে প্রয়োগ করবেন।

        এখানে তিনটি সমস্যা রয়েছে যা একটি অন্যান্যগুলোর সাথে সংযুক্ত।  প্রথমটি হচ্ছে শরণার্থীরা। এদের অব্যাহত আগমন থামাতে এবং পাকিস্তানে তাদের ফিরে যাওয়ার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি তৈরীর আস্থা যোগাতে  হবে যা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপরই নির্ভর করছে। দ্বিতীয়ত, পুরো দেশজুড়ে বিদ্যমান পরিস্থিতিকে জীবনধারণকে সামাল দিতে পারার মতো পাকিস্তানের অর্থনীতির সেই যোগ্যতার হতে হবে। কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধ করার অন্তবর্তীকালীন সময়ে নতুন কোন ত্রাণের সরবরাহ না আসলে  হাজারো লোককে কর্মহীন করে দিতে পারে যা এই বিদ্যমান হৃদয় বিদারক পরিস্থিতিতে নতুন দুর্বিপাকের ক্ষেত্র যোগ করবে মাত্র।

        সর্বশেষ হচ্ছে, এই বছরের শেষদিকে পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খাদ্য উৎপাদনের স্বল্পতায় দুর্ভিক্ষের বিস্তার ঘটার সম্ভাবনা। এই প্রয়োজনীয়তার বিচারে পাকিস্তান সরকারকে অবশ্যই জাতিসংঘের সমন্বকারীর  সাথে সহযোগীতার মাধ্যম পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

        পরিস্থিতির অগ্রগামীতা সম্পর্ক আমি আমাদের সংসদকে অবহিত করবো।

        মিসেস জুডিথ হার্টঃ আমি সম্মানিত রাইট ভদ্রমহোদয়কে তাঁর বক্তব্যের জন্য এবং বৃটিশ দাতব্য সাহায্যকারী সংস্থার প্রচেষ্টা নিয়ে তাঁর নিজস্ব উপলব্দিকে জ্ঞাপনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি কি তাঁকে তিনটি প্রশ্ন করতে পারি?

        প্রথমত, দুর্ভোগ এবং প্রয়োজনের ব্যাপারে পুরোদস্তুর বর্ণনা দেওয়া,  তিনি কী বর্তমানে উ থান্টের জাতিসংঘ ওসরাসরি ভারত উভয়কেই ত্রাণ কার্যকলাপে আরও বেশী করে সহযোগীতা করার বিষয়টিকে বিবেচনা করবেন না, যখন ২ মিলিয়ন পাউন্ড সহ আরও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি করার বিষয়টি রয়েছে তখন কী তা এই বিষয় নিয়ে বৃটিশদের বর্তমান উদ্বেগের মাপকাটি নয়?

        দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানে ভবিষ্যৎ ত্রাণ কার্যক্রমে মাননীয় রাইট ভদ্রমহোদয় কী নিশ্চিত করছেন যে আসন্ন পাকিস্তান এইড কন্সোর্টিয়ামের সভায় পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুতরভাবে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থনৈতিক সঙ্কটাপন্ন পটভূমিতে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে সে সরকার তার কথামতো শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সমাধান কী অন্য কোন অর্থে বা ভবিষ্যৎ ত্রাণ কার্যক্রমের চাইতে অপরিহার্য হিসেবে পুনঃবিবেচনা করবে?

.

সুজয় বড়ুয়া

<<<ত্রয়োদশ খণ্ড- ৮৫ পৃষ্ঠা>>>

তৃতীয়ত, পরবর্তী কথাগুলো এই দ্বন্দ্বের প্রভাব সম্পর্কিত- পাকিস্তানের মধ্যে যে একটি দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে, সেটি এখন পাকিস্তানের সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং সেটি আন্তর্জাতিক শান্তি এবং এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা কি এই বিষয়ে আমার সাথে একমত যে, বিষয়টিকে এখন আর শুধুমাত্র পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে, বিবেচনা করা যায় না? জরুরি বিষয় হিসেবে নিরাপত্তা কাউন্সিল কিংবা অন্য কোন উপযুক্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়টি উত্থাপন করা যায় কিনা, সেটা কি তিনি বিবেচনা করে দেখবেন? স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ বর্তমানে আরো আর্থিক বরাদ্দ দেওয়ার ব্যাপারে আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা যে প্রশ্ন করেছেন তার উত্তরে বলছি, এটা করা উচিত হবে কিনা সেটা অবশ্যই আমরা বিবেচনা করে দেখবো। ভারতীয় সরকারের কাছ থেকে সরাসরি কোন অনুরোধ আমাদের কাছে আসে নি, যদিও জুনের ১৭ তারিখে ভারতীয় কনসোর্টিয়াম এর সভা বসার কথা রয়েছে। সে সময়ে, আমাদের ধারণা অনুযায়ী ভারতীয় কোন অনুরোধ আসে কিনা, সেটা দেখার জন্য আমি ঐ সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাই। সাহায্য সংক্রান্ত পাকিস্তানী কনসোর্টিয়াম এর অনেক আগেই বৈঠকে বসবে। কনসোর্টিয়ামের সব সদস্য পাকিস্তান সরকারকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সেখানে একটি রাজনৈতিক কাঠামো থাকতে হবে, যার মাধ্যমে সাহায্য প্রদান করা হবে।

.

আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা তাঁর সর্বশেষ পয়েন্টে, বিষয়টিকে পাকিস্তান অথবা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকছে না উল্লেখ করে এবং বিষয়টিকে নিরাপত্তা পরিষদে তোলার কথা উল্লেখ করেছেন, সেটার উত্তরে বলছি, বিষয়টি অবশ্যই প্রথমত ভারত অথবা পাকিস্তানের এবং এদের মধ্যে কেউই এখন এধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেয়নি। . জনাব, হ্যারল্ড উইলসনঃ আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি অবগত আছেন যে পুরো হাউজ এবং আমি বিশ্বাস করি সারা দেশের প্রতিনিধি নির্বাচনকারীরা জানেন পূর্বের ঘটা যেকোন ঘটনার চেয়েও খারাপ মানবিক বিপর্যয় সেখানে হয়েছে,যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, এমনকি যুদ্ধাবস্থা ছাড়াও?

.

নিশ্চয়ই, এমতাবস্থায় যখন বিষয়টিকে যথাযথ কোন উপায়ে মোকাবেলা করার কোন ইচ্ছে নেই, আমি কি আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তার কাছে জানতে চাই- তিনি কি অবগত আছেন দেশজুড়ে এমন মনোভাব আছে যে, এ বিষয়টিতে জরুরি তাগাদার অভাব আছে বলে তারা মনে করে? (সম্মানিত সদস্যমণ্ডলী-“ননসেন্স”)। যদি অপরপক্ষের সম্মানিত সদস্যরা বাধা দানে নিমগ্ন হন, আমি আগে যা বলেছি তা অবশ্যই আবার বলবো যে, ধারণা করা হয় সেখানে ত্রাণসহায়তা বিষয়ের চেয়ে “সাধারন আলোচনা” এর বিষয়ই অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। . উদাহরণস্বরূপ, বৈদেশিক সচিব কি অবগত আছেন, কয়েক সপ্তাহ হয়ে গেছে, যখন প্রধানমন্ত্রী আমাকে জরুরি ও গুরুত্বের দিক উল্লেখ করে তাঁকে চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন এবং এই সপ্তাহগুলো কেটে গেলেও যে, তাঁর কাছ থেকে ঐ প্রশ্নের বিষয়ে কোন রিপোর্ট হাউজ পায়নি?

.

এটির গুরুত্ত্বের কথা তুলে ধরে, আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা ১৭ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলছেন। তিনি কি এখানে এবং এখন সরকারী ডেসপ্যাচ বক্স থেকে জরুরি নিবেদন করে যথাযথ পন্থা যেটা অবলম্বন করে হাউজের প্রধানের সাথে আলোচনা করে আগামীকাল হাউজে এই জরুরী বিষয়ের আলোচনার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে কিনা, তা জানাতে পারবেন? (সম্মানিত সদস্যমণ্ডলী- “আগামীকাল এই বিষয়ে আলোচনা হবে”)। আমি বলেছি যে আমাদের এ জরুরি বিষয়ে আলোচনা করা উচিত। আগামীকাল সাহায্য বিষয়ক আলোচনাটি আরো বেশি গঠনমূলক হবে কারণ এতে উভয় পক্ষের সম্মানীত সদস্যরা বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সুযোগ পাবেন। যদি সাধারণ সাহায্য সংক্রান্ত বিতর্কে বেশিরভাগ কথাই যদি পাকিস্তান সম্পর্কিত থাকে- তাহলে ব্যাপারটা অশোভনীয় হবে। . আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি হাউজের মূলবিষয় পুনঃনির্ধারিত করার জন্য, তার পূর্বতন সম্মানিত বন্ধুপ্রতিম বক্তাকে অনুরোধ করবেন- আমাদের সরকার এরকম একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় নষ্ট করুক,

 

<<<<ত্রয়োদশ খণ্ড, ৮৬ পৃষ্ঠা>>> . সম্ভবত সাহায্য সংক্রান্ত আলোচনা দীর্ঘায়িত করে – তা আমরা চাই না? আমরা এখনো পর্যন্ত যতগুলো মানবিক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি এর মধ্যে একটি অন্যতম জরুরি ঘটনা। আমরা যদি আগামীকালেরর মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনার আয়োজন করতে না পারি, তাহলে ত্বরিতগতি দেখাতে না পারার কারনে আমরাও অপরাধী হব। . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ অবশ্যই, এটি আমাদের অনেকদিনের দেখা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম; এবং বিষয়টি কেউই অস্বীকার করছে না। আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা আশু প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। আমি যে বলেছিলাম-যুক্তরাজ্য থেকে যে সাহায্য এসেছে, তার চল্লিশ শতাংশ সাহায্য গতো সপ্তাহ থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে কথাটি সম্ভবত তিনি শুনেননি। . তারিখের কথা বলতে গিয়ে আমি ১৭ জুনের কথা উল্লেখ করেছি কারণ পূর্বের সম্মানিত বক্তা ল্যানার্ক এর সদস্য (মিসেস হার্ট) ভারতের একটি অনুরোধের কথা জিজ্ঞেস করেছিলেন। আমি বুঝতে পেরেছি যে, তিনি যে তারিখের কথা বলেছেন, সে তারিখে কনসোর্টিয়ামে যেখানে তাঁদের মধ্যে সভা হওয়ার কথা আছে, সেখানে ভারত কাছ থেকে কোন অনুরোধ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। যদি এখন থেকে সেই সময়ের মধ্যে কোন অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়, আমরা তা সরবরাহ করবো।

.

আমি আশা করবো, এই দেশের সমালোচনা করার পরিবর্তে – যেটা আদৌ প্রয়োজন নেই<বিরতি>আমার পূর্বের সম্মানিত বক্তা এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাতে মানুষকে যুক্ত করতে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। . জনাব, বয়েড কার্পেন্টারঃ মহারাণীর সরকার সাহায্য পাঠানোর দিক দিয়ে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন- সেটা সারা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটার প্রশংসা করার পাশাপাশি আমি আমার সম্মানিত পূর্বতন বন্ধুর কাছে জানতে চাই, পাকিস্তান সরকার কিংবা ঢাকায় নিযুক্ত সহকারী হাই কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি কি বলতে পারবেন,কি কি কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, এই কারণগুলো কি এখনো বিদ্যমান আছে এবং এই কারণগুলোর কি প্রতিকার আছে?

.

জনাব, বয়েড কার্পেন্টারঃ মহারাণীর সরকার সাহায্য পাঠানোর দিক দিয়ে যে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন- সেটা সারা বিশ্বের কাছে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, সেটার প্রশংসা করার পাশাপাশি আমি আমার সম্মানিত পূর্বতন বন্ধুর কাছে জানতে চাই, পাকিস্তান সরকার কিংবা ঢাকায় নিযুক্ত সহকারী হাই কমিশনারের বরাত দিয়ে তিনি কি বলতে পারবেন,কি কি কারণে এই বিশাল জনগোষ্ঠী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাচ্ছে, এই কারণগুলো কি এখনো বিদ্যমান আছে এবং এই কারণগুলোর কি প্রতিকার আছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ এই মানুষগুলোর উপর প্রভাব বিস্তার করছে ভয়। তারা পালিয়ে গিয়েছিলো কারণ তারা মনে করছিল পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের কাছে অসহনীয় জনসংখ্যাকে দমন করার জন্য কিছু ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই কারণেই তারা ভারতীয় সীমান্তর দিকে পালিয়ে গিয়েছিল। এই সব শরনার্থীদের ফিরিয়ে আনার একমাত্র উপায় হল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে হবে, যেটা তাদের তাদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা জোগাবে। আমি পাকিস্তানী সহকারী হাইকমশিনারকে নিয়মিতভাবে দেখেছি। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার তৎপরতা দেখে সন্তুষ্ট। তিনি বলেছেন যে তারা উদ্দেশ্য যত দ্রুত সম্ভব এই বিষয়টির সুরাহা করা। যদি, এমনটা ঘটে তাহলে আমরা কিছু শরণার্থীকে ফিরতে দেখবো। কিন্তু আমি এই ভেবে ভীত যে, এটি না ঘটা পর্যন্ত তারা ফিরবে না।

.

জনাব মাইকেল স্টুয়ার্টঃ আমার পূর্বতন সম্মানিত বক্তা কি বলতে পারবেন এই পরিস্থিতে কেন ঢাকায় নিযুক্ত মহারাণীর প্রতিনিধিকে ফিরিয়ে আনতে আপাত প্রস্তাব আনা হয়েছে, এবং তাঁর পরিবর্তে অন্য কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে কারণ তাকে প্রচুর ধকল পোহাতে হয়েছে এবং তাঁর স্বল্প বিশ্রামের প্রয়োজন। আমরা তাঁকে পরিবর্তন করছি। . জনাব ডাডস পারকার, এমন পরিস্থিতিতে কি পরিমাণ সুবিধাদি, মানুষ ও সামগ্রী সিঙ্গাপুরে পাঠানো প্রয়োজন বলে মনে হয়েছে? . স্যার এলেক ডগলাস হিউমঃ আমরা সিঙ্গাপুর থেকে বিমান ব্যবহার করতে সমর্থ হয়েছি এবং আমরা

.

পৃষ্ঠা ৮৭-৮৮ (৮৭ এর দ্বিতীয় প্যারা থেকে শুরু)

 

 

মিস্টার ডেভিড স্টিলঃ তিন মাস আগে, ৭ এপ্রিল তারিখে, ব্রিটিশ চ্যারিটির সমন্বয়ক তার রিপোর্টে অবর্ণনীয় যে দুঃখজনক পরিস্থিতির পূর্বাভাষ দিয়েছিলেন, সেটি সম্পর্কে সরকার কি অবগত ছিল?যদি সরকার অবগত থেকে থাকে, তাহলে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা বিভাগ, সরকারী বিভিন্ন সংস্থা এবং অন্যান্য দেশের সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার লক্ষে যথেষ্ট সমন্বয় করা হয়েছিল কিনা, এ ব্যাপারে সরকারের মান্যবর ভদ্রমহোদয় ও তার অধীন বিভাগ কি নিশ্চিত?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি মনে এটি নিশ্চিত করেই বলা যায় যে, প্রয়োজনমাফিক মোতায়েনের জন্য যথেষ্ট সংখ্যক যানবাহন আমাদের কাছে আছে, এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে ব্যবহারের জন্য কিছু বাড়তিও মজুদ আছে।

 

স্যার এইচ লেগ-বুর্কঃ মহারানির সরকার এ বিষয়ে যা যা ত্বরিত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছে, তা পুরো জাতির চিন্তা ও প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা, এ বিষয়ে কি আমার বন্ধু সরকারের মান্যবর ভদ্রমহোদয় অবগত আছেন?

 

চূড়ান্ত দুর্ভোগ ও অচলাবস্থার মাঝে এই শরণার্থীদের কলিকাতা অভিগমনের যে ধারা – সেটি কি আমার মান্যবর মন্ধু বিবেচনায় নিয়েছেন? কলেরা রোগ প্রতিষেধ করার চেয়ে কলিকাতা অভিমুখে শরনারথীর ঢল থামানো যে বেশি জরুরি, সেটি কি তিনি অনুধাবন করেন? এই ঢল থামানোর জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধব্যবস্থা বৃদ্ধি করার জন্য ভারত সরকারের তরফ থেকে কমনওয়েলথের কোন সমন্বিত পদক্ষেপের অনুরোধ আসলে, সেটি কি যথাযথ বিবেচনায় নেয়া সম্ভব?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমার জানা মতে, বর্তমান পরিস্থিতে ভারত সরকার মনে করছে যে বিদ্যমান সমস্যা মোকাবেলার সামর্থ তাদের আছে। তবে তারা যদি কোন রকম সহায়তার প্রয়োজন বোধ করে, তারা অবশ্যই নির্দ্বিধায় সেটি জানাতে পারে।

 

মিস্টার ডগলাস-মানঃ আমি মেনে নিচ্ছি যে ফরেন সেক্রেটারি মহোদয় শরণার্থীদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য রাজনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি কি তার ইতোমধ্যে উল্লেখিত উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের পাশাপাশি ঋণ সুবিধা বন্ধ করার কথাও বিবেচনা করবেন? তার কারণ, বিশ্বের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া বন্ধ হয়ে গেলে পাকিস্তান সরকার নিশ্চিতভাবেই আর এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারবেনা। আমরা ছাড়াও অপরাপর আন্তর্জাতিক দাতারা পাকিস্তান সরকারকে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আর্থিক সম্বল যোগানো বন্ধ করবে, এটি কি তিনি নিশ্চিত করতে পারবেন?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমরা পাকিস্তানকে এই যুদ্ধা চালানোর আর্থিক সম্বল যোগাচ্ছিনা। যে উন্নয়ন সহায়তা আমরা সেখানে দিচ্ছি সেটি সুনির্দিষ্টভাবে উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসংস্থান এর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, এই উন্নয়ন সহায়তা বন্ধ করলে সেখানে মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। বিদ্যমান দুর্ভোগের সাথে মানুষের জন্য আরও বাড়তি যাতনা তৈরী করার কোন যুক্তি আমি দেখিনা। তবে আমাদের কন্সোর্টিয়াম অবশ্যই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পাকিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা কিভাবে যাচ্ছে সেটি নিরীক্ষা করে দেখবে।

 

স্যার এফ বেনেটঃ সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে শরণার্থীদের একটি বড় এবং ক্রমবর্ধমান অংশই হিন্দু। ১৯৪৭ এর পরিস্থিতি মাথায় রেখে, এটি বলা কি অত্যুক্তি হবে যে একটি অসামান্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে? যদি ধর্মের ভিত্তিতে এই শরণার্থীকূল দুরাবস্থার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে তারা কি আদৌ স্বদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনাকে আমলে নেবে? ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে অতীতে যে জনগোষ্ঠি দেশত্যাগ করেছে, তারা কখনোই আদি নিবাসে আর ফিরে যায়নি।

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি মনে করি এই ভীতিটি প্রবলভাবে প্রভাব বিস্তার করছে।

 

মিস্টার আলফ্রেড মরিসঃ আন্তর্জাতিকভাবে ত্রাণ সহায়তার মজুদ গড়ে তোলার জন্য আমার প্রস্তাবের জবাবে ২৪ নভেম্বরে মাননীয় সেক্রেটারী যে উত্তর দিয়েছিলেন, তাতে তিনি এই বিষয়টিকে ‘জরুরী’ বলে অবিহিত করেছিলেন। আমি এই প্রস্তাবটি হেগ এ আই পি ইউ কনফারেন্সে পেশ করেছিলাম – এটিকে জরুরী বলে আখ্যা দিয়ে জরুরী পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়ার কথা কি তাঁর মনে আছে? এটি কি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে নেয়া একটি জরুরী আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হতে পারেনা?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ আমি আশা করি আমার মাননীয় বন্ধু আমাকে কালক্ষেপনের দায়ে আভিযুক্ত করছেনা – যেমনটি তিনি গতকাল করেছেন বলে আমার মনে হয়েছে। ওই প্রস্তাবের পরপরই আমি জাতিসঙ্ঘের মহাসচিবের কাছে বার্তা পাঠাই, এবং তিনিও এই প্রস্তাব অনুযায়ী একটি স্থায়ী ব্যবস্থা বা সংস্থা গঠনের জন্য যাচাই বাছাই’র প্রক্রিয়া শুরু করেন। আমাদের উদ্দেশ্য হবে এরকম হৃদয়বিদারক সংকট ঘটে যাওয়ার আগেই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারা। আগামী এক মাসের মধ্যে এই যাচাই বাছাই এর প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবে। জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এই বিষয়ে সম্ভাব্য সবকিছুই করেছেন। তবুও, যদি তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়, তাহলে আমি তাকে এই বিষয়টি আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে জোর অনুরোধ করব।

 

স্যার থমাস আর থম্পসনঃ আমার মান্যবর বন্ধু কি মনে করেন এই সংকটের মোকাবেলায় পাঠানো বিদেশি ত্রাণ সাহায্য কিভাবে বিতরণ ও সমন্বয় হচ্ছে তাঁর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তুষ্ট? তিনি কি লক্ষ করেছেন যে সরকারি ও বেসরকারি সব ধরণের উৎস থেকে প্রেরিত ত্রাণ সামগ্রী এমন সব এলাকায় জড়ো হচ্ছে যেখানে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিঃশেষ হয়ে আসছে? এই অবস্থা সামাল দেয়ার মত যথেষ্ট লোকবল বা সামর্থ জাতিসঙ্ঘের আছে বলে কি তিনি মনে করেন? বিকল্প হিসাবে ভারত সরকারকে বাড়তি লোকবল নিয়োগ করতে বলাটাই কি সমীচিন হবেনা? বিশেষ করে যেহেতু সমস্যাটির উপস্থিতি ভারতের নিজের মাটিতেই?

 

স্যার অ্যালেক ডগলাস-হোমঃ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ ভেঙ্গে পড়ছে বলে আমি মনে করিনা। ভারত সরকার তাদের সাধ্যমত কাজ করে যাচ্ছে, এবং তাদের আরও সাহায্য প্রয়োজন কিনা সেটা নির্ধারণের ভার তাদের হাতেই ছেড়ে দিতে হবে। আমাদের দরকার বিদেশ থেকে আসা ত্রাণ সামগ্রীর শ্রেয়তর ব্যবস্থাপনা। এই সমন্বয়ের ভার কেবল ভারতের কাঁধে চাপিয়ে না দিয়ে জাতিসঙ্ঘের পক্ষ থেকে নিয়োজিত প্রতিনিধিকেও এই দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি তাঁর টীম সহ ঘটনাস্থলেই আছেন, আমরা ঊথান্ট’কে (জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব) বলেছি আরও সাহায্য বা প্রশাসনিক লোকবল প্রয়োজন হলে সেগুলো দেয়ার জন্য ব্রিটেন প্রস্তুত আছে।

 

মিস্টার শোরঃ শরণার্থীদের সহায়তা ও ত্রাণ দেয়ার জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেয়া হয়েছে, আমি সেগুলোকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আমরা কি এটি বিবেচনায় নিচ্ছি, যে পূর্ব বাংলায় পাকিস্তান সরকারের বিদ্যমান নীতি ও অভিযানের কারণেই এই সমস্যার উদ্ভব? তাদের চলমান কর্মকাণ্ডের কারণেই এই শরণার্থী সমস্যার উদ্রেক। ফরেন সেক্রেটারী মহোদয় কি এই সমস্যার বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য একটি রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষে কোন ন্যয়সম্মত উদ্যোগ নেবেন?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ সর্বপ্রথমে আমাদের পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে বোঝাতে হবে যে যদি দেশটিকে পুনরায় একত্রিত করতে হয় তবে এরূপ একটি মীমাংসার প্রয়োজন হবে। আমার মনে হয় তিনি তা মেনে নিয়েছেন। তিনি আমাদের বলেছেন যে তিনি ব্যস্ত হাতে পূর্ব পাকিস্তানে এমন একটি রাজনৈতিক কাঠামো তৈরিতে কাজ করে যাচ্ছেন যা শরণার্থীদের ফিরে আসবার আত্মবিশ্বাস জাগাবে। আমি তথ্য পেয়েছি যে এ ব্যাপারে তিনি হাই কমিশনারের সাথেও কথা বলেছেন। আমার মনে হয় না ঠিক এই মুহূর্তে আমরা এর চাইতে আর বেশি কিছু করতে পারব। তবে স্বাভাবিকভাবেই চলমান ঘটনাবলির প্রতি আমাদের সজাগ দৃষ্টি বজায় থাকবে।

 

মি. লংডেনঃ আমার সম্মানিত বন্ধুর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে এবং কোনোভাবেই সরকারের বিরোধিতা না করে আমি কি ভবিষ্যতের ব্যাপারে আলোচনায় প্রত্যাবর্তন করতে পারি? একটি আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঘটা এবং সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে বিশ্বজুড়ে প্রতিবারই বিবেকবর্জিত যে বিলম্বের দেখা আমরা পাই, এর কারণ কী? কেন জাতিসংঘ এই কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্থায়ীরূপ দেয় নি?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ সেটা জাতিসংঘের বিষয়। ম্যানচেস্টার, ওয়াইদ্যানশো এর সম্মানিত সদস্য (মি. অ্যালফ্রেড মরিস) তার প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে আমি যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি তাদের ব্যাপারে অবগত আছেন। আমি আশা করব যে ইউ থান্টের তদন্তকাজ এটাই প্রমাণ করবে যে এমন একটি কমিটি স্থাপন করা সম্ভব, যাতে করে জরুরি কোনো অবস্থা তৈরির সাথেসাথেই বর্তমানে চলমান পদ্ধতিতে যে মূল্যবান সময়ের অপচয় হয় তাকে পাশ কাটিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী ও জনবলের ব্যবস্থা করতে পারি। আর যেরূপ আমি বলেছি, এই প্রতিবেদন দ্রুতই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে।

 

মি. কার্টার-জোনসঃ আমি সম্মানিত সজ্জনকে ভারতকে ইতোমধ্যেই পাঠানো সাহায্য বিষয়ে তার বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু এ সম্পর্কিত পরিসংখ্যান কি এটাই প্রমাণ করে না যে চাহিদার তুলনায় এই সাহায্য কতটা অপ্রতুল? এই লক্ষ লক্ষ ভুক্তভোগীর জন্যে আমাদের এই উদ্যোগ যে আরো অনেক বৃহদাকার রূপে দরকার, সেটাই কি প্রতীয়মান হচ্ছে না?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ আমি নিশ্চিত যে টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হবে না। কলেরা মহামারীকে ঠেকাতে ঘটনাস্থলে এখন প্রয়োজন সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যকলাপের। যন্ত্রপাতি, ভ্যাকসিন ও যথেষ্ট পরিমাণে স্যালাইন সেখানে মজুদ আছে, এবং আশা করা যায় যে মহামারী দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

মি. টম কিং: এই জরুরি সমস্যার ব্যাপারে স্বল্পমেয়াদী এই সচেতনতাকে আমি সাধুবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু আমার সম্মানিত বন্ধু কি এই ব্যাপারে একমত হবেন না যে বিশ্বে জনসংখ্যা বিস্ফোরণ কিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে সে ব্যাপারে পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাবলি আমাদের বিপদসংকেত দেখাচ্ছে? বিশ্বজুড়ে এই ব্যাপারে আলোচনার ক্ষেত্রে আমাদের সরকারের যে আরো জোর দেয়া প্রয়োজন সেটা কি তিনি এখনো উপলব্ধি করতে পারেন নি?

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ ভারতীয় সরকার এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমার সম্মানিত বন্ধুর উত্থাপিত বিষয়ের প্রতি আমাদের সরকারও অবশ্যই আগ্রহী।

 

মি. জন মেনডেলসনঃ সম্মানিত বিরোধীদলীয় নেতার প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিবের দেয়া বক্তব্যের আলোকে আমি আমার, এবং আরো অনেক সম্মানিত সদস্যবর্গের লভিত কিছু অভিজ্ঞতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। আলোচ্য বিষয়ে আমাদের সরকারের চলমান কার্যাবলি সম্পর্কে আমি যখনই কথা বলি, তখনই অনেকে আমাদের প্রশ্ন করে যে এ বিষয়ে আরো দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভবপর ছিল কি না এবং প্রকৃতপক্ষেই খুব বেশি দেরি হয়ে গিয়েছে কি না। প্রশ্নকর্তাদের মাঝে সকলপ্রকার রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্বাসে বিশ্বাসী মানুষই রয়েছে। সম্মানিত সদস্যবর্গের এই বিষয়টি এখানে উত্থাপন করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র সচিবের উচিৎ বিরক্ত না হয়ে উত্তর প্রদানের এই সুযোগকে স্বাগত জানানো। (সম্মানিত সদস্যবর্গঃ “ওহ”) আমি জানি বিষয়টি বিতর্কিত, তবে অকপটে করা প্রশ্নের উত্তর দেবার সুযোগ সম্মানিত সজ্জনের স্বাগত জানানোই উচিৎ। শুধুমাত্র সাহায্য করবার মধ্যে আটকে না থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতিসংঘের একটি কমিশন পাঠাবার অনুমতি প্রদানের বিষয়ে বলবার সময় কি এখনো আসে নি যাতে করে যেসকল জনগণ ফেরত আসতে বা থেকে যেতে ভয় পাচ্ছে তারা আন্তর্জাতিক নজরদারিতে অধিকতর নিরাপদ বোধ করতে পারে?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ এ মুহূর্তে পাকিস্তানে অবস্থানরত একটি আন্তর্জাতিক দল সাহায্যের প্রয়োজনীয়তা পরখ করে দেখছে। আমি সম্মানিত সদস্যকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে পাকিস্তান একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং আমরা একটি রাজনৈতিক মীমাংসা নির্ধারণ করে দিতে পারি না। আশা করি আমি কোনো বিরক্তি প্রকাশ করছি না। তবে যখন আমি এই সভাকে অনুরোধ করব যেন তারা আমাদের এই বিস্তৃত কর্মকাণ্ডের যথাযথ স্বীকৃতি দেন এবং অন্যদের আরো বেশি করে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেন, মনে হয় না সেটা ভুল কিছু বলা হবে।

 

মি. ব্রাইনিঃ ফসলহানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার ধ্বংসসাধনের ফলে পূর্ব পাকিস্তানে আসন্ন আরো বৃহদাকার এক দুর্যোগের প্রতি আজ বিকেলে সম্মানিত সহকর্মী আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। জাতিসংঘের বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার আলোকে আমার সম্মানিত বন্ধু বলতে পারেন কি যে খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী কমনওয়েলথ দেশগুলো – বিশেষ করে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড- এর সাথে প্রস্তুতিমূলক কোনো আলোচনা শুরু করা যায় কিনা, যাতে করে আসন্ন এই বিরাট খাদ্য চাহিদা মেটাতে এখন থেকেই খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখা যায়?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ এ কারণেই আমেরিয়াকন স্বরাষ্ট্রসচিব এবং আমি এপ্রিল মাসে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এখন সেখানে জাতিসংঘের একটি দল কর্মরত আছে যারা দ্রুতই সেপ্টেম্বর, অক্টোবর এবং নভেম্বরে চাহিদা কেমন হতে পারে তার হিসাব দিতে পারবে। আমি অবশ্যই সেই প্রতিবেদন হাতে পাবার চেষ্টা করব। যদি কমনওয়েলথ দেশগুলোকে খাদ্যের চাহিদা ও মজুদ সম্পর্কে আগে থেকে সতর্ক করে দিয়ে সাহায্য করা যায় তবে তাও করা হবে।

 

মি. স্টোনহাউসঃ মানবিকতা ও সহানুভূতির সাথে তাদের অনুরোধে সাড়া দেয়ায় ব্রিটেনের দাতব্যসংস্থাগুলোর কাছে পররাষ্ট্র সচিবের যে সমাদর সে বিষয়ে কি তিনি অবগত আছেন? জাতিসংঘের কাছে আবেদন বিষয়ে প্রদত্ত তার জবাবের দিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ে জানতে চাই, ভারতের এ বিষয়ে কোনো আলোচনার সূচনা না করার পেছনে যে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে তা কি তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন? পূর্ব পাকিস্তানে চলমান সংঘর্ষকে তারা সমর্থন করছে, এমন কোনো অভিযোগের দায় ভারত নিজের মাথায় নিতে চায় না। এ বিষয়ে তারা অতি সতর্ক। যখন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আগামী সপ্তাহে এখানে আসবেন তখন এ বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপনের ব্যাপারে পররাষ্ট্র সচিব তার সাথে আলোচনা করবেন কি? যদি ভারতীয়রা এর পক্ষে থাকে তবে আমাদের সরকার এবং পূর্ব বাংলার জনগণের উপর এক সামরিক শাসকগোষ্ঠীর চালানো নির্যাতন, যা পররাষ্ট্র সচিব টেমসের সন্নিকটের কিংস্টোনের সম্মানিত সদস্য (মি. বয়েড কার্পেন্টার) এর প্রশ্নের জবাবে ব্যক্ত করেছেন, এর কারণে ভীষণ রকম ক্ষুদ্ধ বিশ্ব মানবের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র সচিব তা উত্থাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন কি?

 

স্যার এলেক ডগলাস হোমঃ অবশ্যই আমি এসকল বিষয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে আলোচনা করব। যদি ভারতীয় সরকার আমাদের সরাসরি সাহায্য চায়, তবে অবশ্যই আমরা সানন্দে তা বিবেচনা করব। আমি আশা করি সম্মানিত ভদ্রমহোদয়া এবং অন্যান্যদের কাছে আমি এ ব্যাপারটি পরিষ্কার করতে পেরেছি যে আরো অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের কোনো সীমারেখা নেই। আমরা দেখতে চাই ঠিক কী প্রয়োজন, এবং প্রয়োজন সাপেক্ষে আমরা আরো অর্থ সাহায্য পাঠাবার ব্যবস্থা করব। নিরাপত্তা পরিষদের ব্যাপারে প্রশ্নের উত্তর ভারতীয় সরকারকেই দিতে হবে।

.

hasan latif

পৃষ্ঠাঃ ৯১

মিঃ হ্যারল্ড উইলসনঃ একটি জরুরী বিষয়ের উপর বিতর্কের জন্য স্বাভাবিক চ্যানেলের usual channels (pls chk) মাধ্যমে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রী অথবা যদি তিনি চান তাঁর ডানপন্থী সংসদীয় নেতা প্রস্তুত আছেন কিনা? সংসদের কারও এই বিতর্কে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের জন্য আগ্রহ/ মানসিকতা থাকবে না, কিন্তু সমস্যাটির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় বিষয়ে সংসদের উদ্বেগের কারণে এই বিতর্ক অবশ্যই যৌক্তিক। ডানপন্থী মহোদয় বা যে কেহ উত্তর দিতে চাইলে আমার পরবর্তি জিজ্ঞাস্য এই যে তিনি/ তাঁরা স্বাভাবিকভাবে ৯ নং স্থগিতাদেশের উপর তাৎক্ষণিকভাবে বিতর্কের জন্য আগ্রহ রয়েছে কিনা যেটি ত্রান সংক্রান্ত বিতর্ক হওয়ায় বিষয়টি কঠিন হবে। এই বিষয়টি আলোচনার জন্য ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্ক টেনে আনা ঠিক হবে না কেন না, আমাদের ডানপন্থী বন্ধু ত্রাণ সংক্রান্ত প্রশ্নের অনেকগুলোর উত্তরেই বিষয় বস্তু থেকে অনেক দুরে সরে যান। হাউজ অফ কমন্স এর নেতা ও পরিষদের সভাপতি লর্ড (মিঃ উইলিয়াম হুইটল) আমি ডানপন্থী নেতার প্রতি কৃতজ্ঞ, এই বিষয়ে সংসদের উদ্বেগও সম্পুর্নরূপে প্রশংসণীয়। আগামীকাল, যেমনটি ডানপন্থী মহোদয় জানেন, সংসদ স্থগিতের গতির জন্য ত্রাণ এর উপর বিতর্কের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থগিতের গতিতে যা উত্থিত হয়েছে তা আমাদের জন্য নয় বরং তার ব্যাপকতা সম্প্রসারিত। এই দু’টি বিষয়কে আজ ও আগামীকালের মধ্য বিভাজন করে অথবা এরকম কোন ব্যবস্থা করা যায় কিনা তার সম্ভাবনা নিয়ে স্বাভাবিক চ্যানেলে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।স্বাভাবিক চ্যানেলের usual channels (pls chk) মাধ্যমে আলোচনার জন্য আমি খুবই প্রস্তুত আছি। মিঃ হ্যারল্ড উইলসনঃ ডানপন্থী মহোদয়কে তাঁর তাৎক্ষণিক উত্তরের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। আমরা এমনভাবে সহযোগীতার জন্য প্রস্তুত থাকব যাতে করে সরকারকে সরকারের সময় অপচয় করতে না হয়, উদাহরণস্বরূপঃ ৭:০০ বা ৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তান সমস্যা বিতর্ক চলতে পারে এবং তারপর, সংসদ একমত হলে, সময় বর্ধিত করা যেতে পারে যাতে করে তারপরও অন্যান্য ত্রাণ সংক্রান্ত বিষয়ের উপর যথোপযুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ বিতর্ক চলতে পারে। মিঃ বার্ণসঃ আমি তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ নং: ৯ অনুসারে “যেসমস্ত উদ্বাস্তু পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে তাঁদের অনুকূলে বৃটিশ সরকারের সহযোগীতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং একই সময়ে তাঁদের নীতি পাকিস্তানের নিকট ব্যাখ্যাকরণ” শিরোনামে একটি নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনায় আসার জন্য অনুরোধ করছি যা জরুরীভাবে বিবেচণা করা উচিৎ। আমি বুঝতে পারছি যে আগামীকাল ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্ক হবে, কিন্তু বৃটেনের সহযোগীতার বিষয়টি এতই জরুরী ও নির্দিষ্ট যে সাধারণ বৈদেশীক ত্রাণ সংক্রান্ত বিতর্কে নিমজ্জিত হলে তা হবে সম্পুর্ণভাবে অযৌক্তিক। দ্বিতীয়ত, এই সংসদের জানা উচিৎ যে ভারত ও বৃটিশ হাইকমিশনেও যথেষ্ট দ্বিধা রয়েছে যে পাকিস্তানের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বৃটেনের অবস্থান আসলে কোথায় যা বৈদেশীক ত্রাণের অঙ্গীকার হতে সম্পুর্ণ পৃথক, যেমনটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, যার উপর আগামীকাল বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে দেশে ও সংবাদ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত ব্যাপক উদ্বেগ থাকায়, আমি আকূলভাবে পরামর্শ দিচ্ছি যে এই বিষয়টি নিজে থেকেই আগামীকাল একটি জরুরী বিষয় হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবেই বিতর্কের বিষয়বস্তু হওয়ার যোগ্য। পৃষ্ঠাঃ ৯২ মিঃ স্পীকারঃ সম্মানীত সাংসদ তাৎক্ষণিক স্থগিতাদেশ নং: ৯ হতে সড়ে এসে “যেসমস্ত উদ্বাস্তু পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে এসেছে তাঁদের অনুকূলে বৃটিশ সরকারের সহযোগীতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং একই সময়ে তাঁদের নীতি পাকিস্তানের নিকট ব্যাখ্যাকরণ” শিরোনামে একটি সুনির্দিষ্ট ও জরুরী জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তাব করেছেন। ধারণা করা যায় যে মাননীয় স্পীকার তাৎক্ষণিক আদেশ নং-৯ অনুসারে আদেশে উল্লেখিত প্রভাবকসমূহ বিবেচণা করবেন বলে আমি মনে করি এবং সংসদের ফ্লোরের কোথায় কি আলোচনা হচ্ছে সে বিষয়ে টুকে/ নোট নেবেন। আমি দুখিঃত যে সম্মানীত সাংসদ যে আবেদন করেছেন, যার জন্য তিনি মহানুভবতা দেখিয়ে আমাকে যে নোটিশ দিয়েছেন, তাঁর আবেদনের সাথে আমি একমত নই। পরবর্তিতে- মিঃ হুইটলঃ বিরোধী দলের নেতার সাথে আলোচনা অনুসারে সংসদের জন্য এটা জানা উপকারী হতে পারে যে ইতোমধ্যেই স্বাভাবিক চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে আলোচনা সংঘটিত হয়েছে। এটা প্রস্তাব করা হয়েছে যে আগামীকাল স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত আলোচনা ৮:০০ ঘটিকা পর্যন্ত কেবল পাকিস্তানের অবস্থার উপর হতে থাকবে এবং তারপর এক ঘন্টার বিরতি দিয়ে ত্রাণ এর উপর আলোচনা শুরু হয়ে তা ১১:০০ ঘটিকা পর্যন্ত চলতে থাকবে। তারপর দিনের কার্যসূচীর ক্রম স্থির করা হবে। আমি আশা করি যে এই ব্যবস্থাপনা সংসদে সন্তোষজনকভাবে বিবেচণা করা হবে এবং একই সাথে ভেব দেখা হবে যে আগামীকালের কার্যসূচী পরিবর্তনের জন্য সংসদে পর্যাপ্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।