নীরব দর্শকের ভূমিকা

Posted on Posted in 14
শিরোনাম সূত্র তারিখ
৮৮। নীরব দর্শকের ভূমিকাওয়াশিংটন ডেইলি নিউজ২ অক্টোবর ১৯৭১

 

হাসান মাহবুব

<১৪, ৮৮, ২১৪>

ওয়াশিংটন ডেইলি নিউজ, ২ অক্টোবর ১৯৭১

সম্পাদকীয়

নীরব দর্শকের ভূমিকা

 

 

এই ছয় মাসে পুরো পৃথিবীর কাছেই স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে যে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা আন্দোলনকে দুমড়ে মুচড়ে দিতে চায়।

 

এই দৃশ্যে আছে হাজারো হতভাগ্য বাঙালীর মৃত্যু, গণহত্যা, পুড়ে ছাই হওয়া অসংখ্য গ্রাম, প্রায় নব্বই  লক্ষ নিরন্ন, অসহায় মানুষের উদ্বাস্তু হয়ে প্রতিবেশী দেশ ইন্ডিয়ায় চলে যাওয়া। এই বিপুল পরিমাণ শরনার্থীকে আশ্রয় দানকারী ইন্ডিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম জনবহুল এবং দরিদ্র দেশ।

 

বিশ্বব্যাংকের একটি জরিপে দেখা গেছে, এই বিপুল পরিমান শরণার্থীদের জন্যে ইন্ডিয়ার ১৯৭১-৭২ অর্থ  বছরে প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার খরচ হবে। বাহিরের দেশগুলি থেকে ২০০ মিলিয়ন ডলার  সাহায্য দেয়ার প্রস্তাব এসেছে। নীরব দর্শক হয়ে তারা প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার  ভবিষ্যতের দুর্যোগ  কবলিত পরিস্থিতির জন্যে তুলে রাখলো যেন অমায়িক ভাবে! ইন্ডিয়ার বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রায় তেরো মিলিয়ন। উদ্বাস্তুদের জন্যে যে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে, তা  তাদের বার্ষিক উন্নয়ন  পরিকল্পনার পাঁচ ভাগের এক ভাগ! এই অর্থ ব্যয় করা হবে শরণার্থীদের খাদ্য এবং কর্ম সংস্থানের জন্যে। এই পাঁচশ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি কতটা বিপুল তা বোঝা যাবে একটি উদাহরণের মাধ্যমে। এই অর্থবছরে  ইন্ডিয়ার বৈদেশিক সাহায্য মারফত পাবার কথা চারশ মিলিয়ন ডলার এভাবেই পাকিস্তানের  রাজনৈতিক উত্তেজনা ইন্ডিয়ার বিস্তর অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধন করছে।  

ভাগ্যের নির্মম পরিহাস এই, পাকিস্তানী সামরিক শাসকেরা এই তাণ্ডবলীলা ছড়িয়ে দিয়েছে ইন্ডিয়াতেও, হত্যা করেছে তাদের মানুষ এবং ঘোষিত হয়েছে একটি যুদ্ধ, যেখানে তাদের পরাজয় অবশ্যম্ভাবী।

দিনদিন পাকিস্তানের ধ্বংসযজ্ঞ বাড়ছেই আর সেই সাথে ইন্ডিয়ার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছেই। প্রতি  মাসেই প্রায় এক মিলিয়ন ক্ষুধাকাতর, রোগে ভোগা, অসুস্থ, বিদ্ধস্ত উদ্বাস্তু ইন্ডিয়ায় প্রবেশ করছে

বিশ্ববিবেক আশ্চর্য রকম নীরব প্রশান্তিতে সব পর্যবেক্ষন করছে। পাকিস্তানের “অভ্যন্তরীণ ইস্যু”তে হাত দিয়ে তারা তাদের সার্বভৌমত্বের অধিকারকে পীড়িত করতে চায় নি। চাইলেই তারা ইন্ডিয়াকে বিপুল পরিমাণ শরণার্থীদের বহন করতে সাহায্য করতে পারতো। তাও না করে তারা ছিলো নীরব দর্শকের ভূমিকায়।

 

কী করা যায় এমন পরিস্থিতিতে? যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ বিশ্বব্যাংক সহ দাতা সংস্থা বা দেশগুলি অবশ্যই পাকিস্তানের প্রতি তাদের সহযোগিতা বন্ধ করে তা ইন্ডিয়াকে সরবরাহ করতে পারে। এটাই হতে পারে হত্যার উল্লাসে বিভোর পাকিস্তানের জন্যে উচিৎ শিক্ষা।