পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের প্রবাসী বুদ্ধিজীবিগণ কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি

Posted on Posted in 4

<৪,২১৯,৪৮৪-৪৮৫>

অনুবাদকঃ ইব্রাহীম

শিরোনামসূত্রতারিখ
২১৯। পশ্চিমবঙ্গের বাংলাদেশের প্রবাসী বুদ্ধিজীবিগণ কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি

 

পশ্চিমবঙ্গে প্রবাসী বুদ্ধিজীবী৭ জুলাই, ১৯৭১

 

কানাডায় সফররত বাংলাদেশ উদ্ববাস্তু বুদ্ধিজীবী সংসদ সদস্য

মহাশয়েরা, 

বাংলাদেশের জন্য কানাডিয়ান সরকার ও জনগণের সমর্থন ও সহানুভূতি প্রদানের জন্য আমাদের গভীর অনুভূতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছি।পাকিস্তানি সামরিক অধীস্বামীগনের অস্ত্র সরবরাহের উপর আপনার সরকারের নিষেধাজ্ঞা এবং রাজনৈতিক সমঝোতার মধ্যস্থতা করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। সাত মিলিয়ন এর ও বেশি দুর্ভাগা উদ্বাস্তু যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে তাদের জন্য আপনার অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছি।

১২ এপ্রিল,  ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, এ ব্যাপারে আপনার কোন সন্দেহ নেই।

জন্মলগ্ন থেকে পাকিস্তান একটি অস্বাভাবিক রাস্ট্র. আধুনিক ইতিহাসে অনন্য যে তার দুটি ডানা বিদেশী একাধিক হাজার মাইল দ্বারা আলাদা করা হয় শুধু কার্যত একটি সাধারণ ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে ..পাকিস্তান রেজ্যুলেশন ১৯৪০, যা বানানো হয় অবিভক্ত মুসলমানদের উচ্চাকাঙক্ষা পুরনে. উপমহাদেশের দুটি সংখ্যাগরিস্ট অঞ্চলে সার্বভৌম রাস্ট্র হিসেবে চিন্তা করা।

তাদের আন্তরিক ইচ্ছা ও উদ্দীপনা কে একটি সমন্বিত রাস্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পূর্ব পাকিস্তানের লোকদের সার্বভৌমত্ব অর্জনের জন্য অধিকার আত্মসমর্পণ দেখানো হয়েছে সেই রেজ্যুলেশনে এবং একটি পাকিস্তান কাঠামো গৃহীত হয়েছে। তারা এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে কিন্তু সফল হতে পারেনি। অগনতান্ত্রিক চালনার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের লোকজনের সুনামের সুযোগ নিয়েছে. তারা একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছে যা বাঙ্গালিদের জন্য নিকৃষ্ট ছিলো।পূর্ব পাকিস্তানের গত ২৩ বছরের বাংলাদেশের মানুষের দুর্বিপাক কষ্ট এবং শোষণ বুঝিয়ে দিয়েছে যদি না অঞ্চলের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় তারা সন্মান ও মর্যাদার সাথে বেঁচে থাকতে পারবেনা। পাকিস্তান ১৯৪০ এর রেজ্যুলেশন যা একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা হয়ে ওঠে. পাকিস্তানের একাত্মতা সংরক্ষণে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রনীত আওয়ামীলীগ এর “৬ দফা ” ছিলো আঞ্চলিক শোষণ এর শেষ চাওয়া। এই কর্মসূচিতে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষের ব্যাপক সমর্থন পাওয়া যায়। যা ছিলো তাদের সর্বশেষ চেষ্টা। অবস্থার ভয়াবহতা দেখে পূর্ব পাকিস্তানের শাসক চক্র বুঝতে পেরেছিল কিন্তু সামরিক শাসক রা বাংলাদেশের মানুষের উপর উপনিবেশিক শোষণ ছেড়ে দিতে কিংবা গণতন্ত্র বহাল রাখতে রাজি ছিলো না।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে তারা যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার ঘোষণা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা সংগঠিত নৃশংসতা সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, এক জাতি এক দেশ ইয়াহিয়া খান কখনোই মন থেকে গ্রহণ করেন নি। এবং তার সহযোগী দের কারণে এই ধরনের কাজ একটি সেনা দ্বারা কখনোই অনুমতি পেতে পারেনা, একজন সাহায্যকারী ব্যাক্তি ব্যাতিত যে মানুষ কে দমন এবং সন্ত্রস্ত করতে চায়।

আমরা আপনাদের মাধ্যমে কানাডা সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি নিচের পদক্ষেপ গুলো অবিলম্বে গ্রহণ করতে …

১. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বীকৃতি।

২. শেখ মুজিবুর রহমান ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য ইসলামাবাদের উপর চাপ সৃষ্টি।

৩. স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় বাংলাদেশ কে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করুন।

৪. পাইপলাইন সহ পাকিস্তানের সব ধরনের সাহায্য বন্ধ করুন।

৫. পাকিস্তানের সাথে সব বানিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক চিন্ন করুন।

৬. এই গণহত্যা বন্ধ করতে ইয়াহিয়া খান কে শক্তি প্রয়োগ করুন।

৭. আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠন করে পাকিস্তানের সৈন্যদের দ্বারা গনহত্যা ও নারী ট্র্যাফিকিং এর জন্য শাস্তির বিধান নিশ্চিত করুন।

বনগাঁ

জুলাই ৭, ১৯৭১

আপনার বিশ্বস্ত

বাংলাদেশের কূটনীতিবিদ দের পক্ষ থেকে