পাকিস্তানের অবস্থা সংকটজনক

Posted on Posted in 14
শিরোনামসূত্রতারিখ
৯৩ পাকিস্তানের অবস্থা সংকটজনকওয়াশিংটন পোষ্ট১৭ অক্টোবর, ১৯৭১

 

Zulkar Nain

<১৪, ৯৩, ২২৬-২২৭>

 

ওয়াশিংটন পোষ্ট, ১৭ অক্টোবর, ১৯৭১

পাকিস্তানের অবস্থা সংকটজনক

অ্যান্থনি এস্ট্রাচ্যান

 

 

জাতিসংঘ, ১৬ই অক্টোবর – ইউএন সুত্রানুযায়ী, পূর্ব পাকিস্তান সংকটে মানবিক সমস্যা সমাধানে কিছুটা অগ্রগতি হলেও রাজনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে হয়নি, এবং সেখানে এখনো “উন্মত্ত” অবস্থা বিরাজমান।

 

এই সপ্তাহে শেষ হওয়া রাজনৈতিক সমঝোতার জন্য ডাকা বার্ষিক ইউএন সাধারন বিতর্কে সাতচল্লিশ জন বক্তা ছিল কিন্তু তাদের কেউই সাধারণ সমাবেশে বা নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচিতে এই সমস্যাকে অন্তর্ভুক্ত করেননি।

 

ইউএন কর্মকর্তারা এর পেছনে দুটি কারণ উল্লেখ করেন। এক, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে চীনাদের প্রতিনিধিত্বে জড়িত থাকার সামষ্টিক ক্লান্তি এবং অন্যটা হলো মহাশক্তি সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ভয়। গত আগস্টে, “শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি” মহাসচিব উ থান্ট এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত আলোচনা থেকে দেখা গেছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারতকে সমর্থন করছে এবং  আমেরিকা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছে এবং পরিষদ উ থান্টের উদ্বেগ অনুমোদন করতেও প্রত্যাখ্যান করে।

 

১১ই অক্টোবর পর্যন্ত, ভারতের হিসাবে অনুমানিক ৯.৩ মিলিয়ন উদ্বাস্তু পূর্ব পাকিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে গিয়েছিল। যখন প্রতিদিন আরও হাজার হাজার সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে, পাকিস্তান শরনার্থী সংখ্যা বলছে ২ মিলিয়ন, ইউএন কর্মকর্তারা ৬.৫ থেকে ৮.৫ মিলিয়ন শরনার্থীর পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণসামগ্রী হিসাব করছে।

 

এখানের কূটনীতিক ও ঢাকায় বিদেশিদের মতে, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের পূর্বশর্ত হলো, ঢাকায় একজন প্রতিনিধি সরকার, পূর্ব পাকিস্তানে পুলিশ ও সামরিক সন্ত্রাসের পরিসমাপ্তি, এবং সঙ্কটের ক্ষতি নিরাময়ে পাকিস্তান সরকার কতৃক আরো কার্যকর প্রচেষ্টা।

 

একই সূত্র মতে, ক্ষমার প্রতিশ্রুতি এবং রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান কর্তৃক রাজনৈতিক জীবনের পুনর্জাগরন সত্ত্বেও এসব পূর্বশর্ত পূরণ করা হয়নি।

 

এই পরিস্থিতিতে এখানের সূত্রানুযায়ী, শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তন এতই কম যে এটাকে অতিক্ষুদ্র প্রবাহ বলাও যায়না।

 

এখানের পর্যবেক্ষকরা সম্প্রতি দু’দেশের মধ্যে সাধারণ যুদ্ধ শুরু হওয়ার ভয় পাচ্ছে। একই সময়ে তারা উল্লেখ করেছেন যে, ভারত এখন পর্যন্ত যুদ্ধকে ত্বরান্বিত করে এমন কিছু করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এটা সম্ভবত সোভিয়েত ইউনিয়ন কতৃক বাধা পাওয়ার কারণে। এটা ভারতের মাটি কলকাতায় বাংলাদেশ সরকারকে আইনসম্মত স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করেছে, এবং এটি গেরিলাদের যৌক্তিক সমর্থন এবং আকাশপথ রক্ষায় অস্বীকৃতি জানায় যা তাদের পূর্ব পাকিস্তান অঞ্চলের একটা অংশ বাজেয়াপ্ত করতে সক্ষম হবে।

 

ভারতীয়রা দৃশ্যত গেরিলাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। গেরিলা মুক্তিবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান রেললাইন বিছিন্ন করেছে। প্রতি সপ্তাহে তারা সড়ক এবং সেতু উড়িয়ে দিচ্ছে। ফ্রগম্যানেরা (ডুবসাতারুরা) পূর্ব পাকিস্তানের বন্দরে থাকা প্রদেশের জলপথ চলাচলকারী বিদেশী জাহাজ এবং নৌকা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

এটি পাকিস্তানি অসহায় মানুষদের কাছে ত্রাণ সরবরাহ করতে বাধা দেয়। ঘটনাস্থলে থাকা ইউএন কর্মকর্তাদের মতানুযায়ী,  গেরিলারা ইউএন কর্মী বা তাদের কাজে আক্রমন করছেনা, কিন্তু এটা বোঝা যাচ্ছে যে ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে পাকিস্তান সরকারকে সমর্থন করা অনুচিত। বিদ্যালয়গুলোতে প্রায়ই ভালো খাবার বিতরণ করা হয়; এটা হয়তো শীঘ্রই আঞ্চলিক খাদ্য ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে মৌলিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সাহায্য করবে।

 

ইউএন রিপোর্ট ত্রাণ কার্যক্রমে পাকিস্তান সরকারের সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে। তবু যখন ইউএন ইস্ট পাকিস্তান রিলিফ অপারেশন (ইউএনপিআরও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং ত্রাণসামগ্রীর অবস্থান জানতে বহনযোগ্য রেডিও আনতে চেয়েছিল, উভয়পক্ষের বেসামরিক নাগরিক অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে। তারা ভয় পান যে মুক্তিবাহিনী হয়তো রেডিও কেড়ে নেবে।

 

ইউএন কর্মকর্তাদের পরিবহন ছাড়া এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ নিজেদের তত্ত্বাবধানে নিয়ে নিতে হয়েছিল, কিন্তু ইউএনইপিআরও (ইউনাইটেড নেশনস ইস্ট পাকিস্তান রিলিফ অপারেশন) পূর্ব পাকিস্তানে ৯০ জন ইউএন কর্মিবৃন্দের মধ্যে মাত্র ১৪ জনকে স্থায়ীভাবে ক্ষেত্রে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

ম্যানচেস্টার গার্ডিয়ানের মার্টিন উলাকুট ঢাকা থেকে রিপোর্ট করেন, খাদ্য বহন করতে আনা ১০০ ইউএনইপিআরও ট্রাকের মাত্র ৩০টি চট্টগ্রাম অংশ ছেড়ে চলে গেছে কারণ অধিকংশ অঞ্চলে যাওয়ার রাস্তা ব্যবহারযোগ্য ছিলনা। তিনি রিপোর্ট করেন যে, ১৭টি উপকূলীয় জাহাজের মাত্র পাঁচটি এবং নয়টি “মিনিবুল্ডার” এর মধ্যে মাত্র সাতটি পৌঁছেছে কিন্তু ইউএন কর্মকর্তারা এখানে দাবি করছে যে সবগুলাই পূর্ব পাকিস্তানে পৌঁছেছে।

 

ভারত সরকার বিদেশী সাহায্য ছাড়া ত্রাণকার্য (তহবিল বাদে) পরিচালনায় নিজস্ব প্রচেষ্টার দিকে জোর দিচ্ছে। আইজেএন কর্মকর্তারা প্রতিবেদন করেন যে, শরণার্থী শিবিরে তারা লোকজনের জন্য প্রদত্ত খাদ্য এবং আশ্রয় উপকরণ পরিদর্শন করা সুযোগ পেতো যদিও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ছিল নিদারুণ।

 

কর্মকর্তারা সন্দেহজনক, অবশ্য সেইসব এলাকায় অবস্থা আরো খারাপ যেখানে তাদের পরিদর্শন করতে দেয়া হয়নি। কেউ কেউ উদাহরণও দিচ্ছে এটা দেখানোর জন্য যে, পূর্ব পাকিস্তানের মত পশ্চিম বাংলায়ও একই সমস্যা। উদাহরণস্বরূপ, ইউএন কতৃক সরবরাহকৃত ১০০০ ট্রাক চালানো এবং রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য ভারতীয়রা মধ্যে প্রদান করতে ব্যর্থ হয়েছে।