পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধের উদ্যোক্তা সিনেটরদের কাছে পাক রাষ্ট্রদূত আগা হিলালীর টেলিগ্রাম

Posted on Posted in 7

৭.২৬.৬০-৬১

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৬। পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধের উদ্যোক্তা সিনেটরদের কাছে পাক রাষ্ট্রদূত আগা হিলালীর টেলিগ্রামপাকিস্তান দূতাবাসের দলিলপত্র৫ মে, ১৯৭১

 

৫ মে, ১৯৭১

প্রেস রিলিজ

 

পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত, আগা হিলালী দশজন সিনেটরকে টেলিগ্রাম পাঠান, যারা একটি সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুসারে জাতিসংঘের সেক্রেটারি অফ স্টেট, জনাব উইলিয়াম পি. রজার্সকে পাকিস্তানে সকল সাহায্য স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

টেলিগ্রামের বক্তব্য নিচে বর্নিত হলো।

 

আমি উদ্বেগের সাথে উইলিয়াম পি. রোজার্সকে প্রেরন করা আপনাদের টেলিগ্রামটি পর্যবেক্ষন করেছি। আপনারা, পূর্ব-পাকিস্তানে বৃহদাকার সাহায্য কার্যক্রম শুরু এবং সাহায্য কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য আন্তর্জাতিক রেডক্রসের কর্মকর্তাদের প্রবেশাধিকার প্রদান না করা হলে, আমার দেশে সকল অর্থনৈতিক সাহায্য স্থগিত করার জন্য রজার্সকে অনুরোধ করেছেন।

 

আমি নিশ্চিত করতে চাই, আমার সরকার পূর্ব-পাকিস্তানীদের দুরবস্থা এবং দুর্দশা বিষয়ে পূর্ন সচেতন কেননা তারা আমাদেরই নিজস্ব লোক এবং আমার সরকার ইতিমধ্যে জাতিসংঘ ‌ও অন্যান্য সাহায্য সংস্থার সাহায্য গ্রহনে আগ্রহী। আমাদের মজুত শেষ হবার পূর্বেই,  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হতে যে সাহায্য প্রয়োজন, তা গ্রহনে আমরা ইচ্ছুক। আপনাদের সরকার অবগত আছে যে, পূর্ব-পাকিস্তানে বর্তমানে যথেষ্ট পরিমান খাদ্যদ্রব্য, কাপড় এবং ঔষুধ মজুত আছে। সরবারহ ঘাটতি নয়, বরং পরিবহন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা পুর্নস্থাপনের মাধ্যমে সমগ্র প্রদেশে বন্টন করাই এ মুহূর্তে প্রধান সমস্যা।

 

পাকিস্তান সেনাবাহিনী, শাসন ব্যবস্থা স্থাপন ও অস্ত্র-সন্ত্রাসী অনুপ্রবেশের স্থান, ভারত-সীমান্ত বন্ধ করার পর বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুর্নস্থাপন এবং হাজার খানেক লরি ও বোট সম্বলিত পরিবহন ব্যবস্থা পরিচালনাতে ব্যস্ত। একই সময় সেনাবাহিনী প্রয়োজনীয় সাহায্য কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। পূর্ব-পাকিস্তানের জনপ্রশাসন সম্প্রতি কার্যক্রম শুরু করেছে এবং সেনাবাহিনীকে সহায়তা করছে। বিদেশী সংস্থাদের কাছে অনুরোধ করার জন্য সাহায্য সামগ্রীর তালিকা এই মুহুর্তে প্রস্তুত করা হচ্ছে। ভবিষ্যত প্রয়োজন নির্ধারন শেষ হলেই, সাহায্যের আবেদন করা হবে। সাইক্লোন-পরবর্তী সময়ে অপরিকল্পিত এবং অপ্রয়োজনীয় সাহায্য সামগ্রী নষ্ট হওয়ার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, তাই এ পদ্ধতি গ্রহন করা হয়েছে। সাহায্য কার্যক্রম শুরুর পূর্বে এবং প্রয়োজন ছাড়া আন্তর্জাতিক সাহায্যকর্মীদের আমাদের দেশে আগমনের যৌক্তিকতা নেই।

 

একথা সুস্পষ্ট, পূর্ব-পাকিস্তানের জনগনের জন্য সাহায্য কর্মসূচীর বিষয়ে,  আপনার ও আপনার সহকর্মীদের উদ্দেশ্য এবং আমার সরকারে উদ্দেশ্যে কোন পার্থক্য নেই। আশা করি আপনারা একমত হবেন, আমাদের উদ্দেশ্যকে ব্যহত করে এমন কিছুই এখন করা সমীচিন হবে না। শর্তপূরন না হলে মার্কিন সাহায্য বন্ধের অনুরোধ-সম্বলিত টেলিগ্রামটি একটি বন্ধু সরকারে প্রতি হুমকি সমতুল্য এবং তা আমাদের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে বাঁধা সৃষ্টি করবে। ক্ষমা করবেন আমায় এটা বলার জন্য যে, কোন আত্ম-অহংকারী সার্বভৌম দেশই শর্তাধীন সাহায্য গ্রহন করতে পারেনা তা যতই মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে করা হোকনা কেন। আমি আপনার এবং আপনার সহকর্মীদের অনুরোধ করবো, আপনারা সমস্যাটির প্রতি আপনাদের অভিগমন পুনর্বিবেচনা করুন যাতে আমরা আমাদের যৌথ উদ্দেশ্য সাধনে একসাথে কাজ করতে পারি।

 

আগা হিলালী

পাকিস্তানী রাষ্ট্রদূত