পুলিশের গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত মুলতবি প্রস্তাব বাতিলের বিরোধী দলের জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয়ই পরিষদ কক্ষ বর্জন

Posted on Posted in 2

 <2.52.283>

    শিরোনাম     সুত্র     তারিখ
পুলিশের গুলি বর্ষণ সংক্রান্ত মূলতবি প্রস্তাব বাতিলের বিরোধী দলের জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয়ই পরিষদ কক্ষ বর্জনদৈনিক ‘সংবাদ’৯ইজুন,১৯৬৬

      পুলিশের গুলি বর্ষণ সংক্রান্ত মূলতবি প্রস্তাব বাতিলের বিরোধী      দলের জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয়ই পরিষদ কক্ষ বর্জন

রাওয়ালপিন্ডি,৮ই জুন(এ,পি,পি)ঃ অদ্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বিরোধী দল কর্তৃক উত্থাপিত পূর্ব পাকিস্তানে পুলিশের গুলি বর্ষণ সংক্রান্ত তিনটি মূলতবি প্রস্তাব স্পীকার জনাব আব্দুল জববার খান বাতিল করায় উহার প্রতিবাদে বিরোধী দলীয় সদস্যগণ পরিষদ কক্ষ বর্জন করেন।স্পীকার তাহার চেম্বারেই মূলতবি প্রস্তাব তিনটি অগ্রাহ্য করেন।

     স্পীকারের মূলতবি প্রস্তাব তিনটি অগ্রাহ্য করার নিয়মতান্ত্রিকতা সম্পর্কে বিরোধী দলের নেতা জনাব নূরুল আমীন পরিষদে বক্তব্য পেশ করিতে ওঠেন।তিনি বলেন,বাহিরে যে সমস্ত গুলি বর্ষিত হইতেছে,সেই মুহূর্তে তাহদের জাতীয় পরিষদে বসিয়া থাকার কোণ যৌক্তিকতা নাই।তিনি ইহাকে “অবাস্তব পরিস্থিতি” বলিয়া আখ্যায়িত করেন।স্পীকার জনাব নূরুল আমিন বারংবার বসার অনুরোধ জানান এবং বলেন রূলিং চ্যালেঞ্জ করিতেছেন না,তবে মূলতবি প্রস্তাবের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু বলিতেছেন।অতঃপর স্পীকার বলেন যে,তিনি মূলতবি প্রস্তাবের উপর কোনরূপ আলোচনা করিবেন না।

    এই সময় পরিষদ কক্ষে প্রবল হৈচৈ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।এই সময় বিরোধীদলীয় নেতা জনাব নূরুল আমীন উহার প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের পরিষদ বর্জনের আহবান জানান।তিনি আরোও বলেন যে,জনগণের মনোভাব প্রতিফলনেরই নিমিত্তে তাহার পরিষদে প্রেরিত হইয়াছেন।গুলীবর্ষণের উপর উত্থাপিত মূলতবি প্রস্তাবের গুরত্ব সম্পর্কে আলোচনার অধিকার হৃত হওয়ার পর পরিষদে আসন গ্রহণ করার আর কোন যৌক্তিকতা নাই।

   এই সময় কতিপয় স্বতন্ত্র দলীয় সদস্যসহ বিরোধীদলীয় সদস্যগণ পরিষদ কক্ষ বর্জন করেন।

               প্রাদেশিক পরিষদ

  ঢাকা, ৮ই জুন (এ,পি,পি)ঃ নারায়নগঞ্জে পুলিশের গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত মূলতবি প্রস্তাব স্পীকার কর্তৃক প্রত্যাখাত হওয়ার প্রতিবাদে অদ্য প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধীদলীয় ও স্বতন্ত্র গ্রুপের সদস্যবৃন্দ পরিষদ কক্ষ বর্জন করেন।বিষয়টি বিবেচনাধীন রহিয়াছে বলিয়া স্পীকার উহা প্রত্যাখ্যান করেন।

                আমাদের নীরব প্রতিবাদ

  যে মর্মান্তিক বেদনাকে ভাষা দেওয়া যায় না সেখানে নীরবতাই একমাত্র ভাষা।তাই গতকল্য ‘সংবাদ’ প্রকাশিত হইতে পারে নাই।আমাদের এই নীরব প্রতিবাদ একক হইলেও ইহাতে আমাদের পাঠকরা ও শরিক হইলেন,ইহা আমরা ধরিয়া লইতেছি।

                                         কর্মধাক্ষ্য, “সংবাদ”