প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে মতবাদ গড়ে তোলার সাফল্যের সংবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি

Posted on Posted in 4

<৪,১৯১,৩৮০-৩৮১>

অনুবাদকঃ জয়ন্ত সেন আবীর, সাবরিনা

শিরোনামসূত্রতারিখ
১৯১। প্রচার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষে মতবাদ গড়ে তোলার সাফল্যের সংবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি‘আমরা’৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

   

জাকার্তা, ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

প্রিয় মাকসুদ সাহেব,

       আপনার নিশ্চয়ই মনে আছে আমরা আপনাকে ১০ জনের নামের একটি তালিকা পাঠিয়েছিলাম। আমরা আপনাকে এদের প্রত্যেকের কাছে “দ্যাপিপল”এরকপিপাঠাতেঅনুরোধকরেছিলাম।খরচাপাতি বহন করবার দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে আমরা ইতোমধ্যেই আপনাকে ২৫ মার্কিন ডলার পাঠিয়ে দিয়েছি। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কি না জানতে পারলে আমরা খুশি হব।

       আমরা আপনাকে আরো অনুরোধ করেছিলাম যেন আপনি এই তালিকাভুক্ত মানুষগুলোর কাছে আমাদের মিশন কর্তৃক প্রকাশিত যেসব বুলেটিন বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য সেসব পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করেন।আমরা নিশ্চিত করেছি যে এসবেরপোস্টাল খরচ আমরাই বহন করব।

       আগস্টের ৩০ তারিখের ইন্দোনেশিয়ান অবজারভার পত্রিকার সম্পাদকীয়ের একটি কপি সাথে সংযুক্ত করা হল। আপনি লক্ষ্য করলে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে এতে মনোভাবের পরিবর্তন দেখতে পাবেন। এর পেছনে আমাদের কর্মকাণ্ডে তীব্রতার অভাবই ভূমিকা রেখেছে। আমরা আমাদের কাজকর্ম খোলামেলা ভাবে এবং তীব্রতার সাথে পরিচালনা করতে পারি না এবং এর কারণ স্পষ্টতই প্রতীয়মাণ। আরেকটি কারণ হল আমাদের প্রতিপক্ষের লোকজন কর্তৃক ক্রমাগত ভুল ধারণার সঞ্চালন। যাহোক, এখনো আমাদের জন্য হতাশাব্যঞ্জক কিছু ঘটে নিআর আমরা আমাদের লক্ষ্যের প্রতি অনুকূল, না হলে অন্তত যথাযথ একটি ধারণা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি কাগজপত্রগুলো সরাসরি আপনাদের কাছ থেকে তাদের কাছে পৌঁছালে তাদের মনোভাব সহজেই আমাদের অনুকূলে পরিবর্তন করা সম্ভবপর হবে। আপনি ইতোমধ্যেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন কিনা জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

       তথ্য উপকরণ ও সংবাদপত্রের সরবরাহ আমারা নিয়মিত পাই না। মাঝেমধ্যে এগুলো হাতে পেতে এতটাই দেরী হয়ে যায় যে এদের উপযোগিতা এবং তাদের প্রতি আগ্রহ উভয়েইশেষ হয়ে যায়। প্রতিদিন আপনার কি পরিমাণ চাপ এবং কাজের বোঝা মাথায় নিয়ে থাকেন তা আমরা উপলব্ধি করি। তবে এই কঠিন ক্ষেত্রে আমাদের কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের লক্ষ্যে আপনি যদি দয়াবশত উপকরণ এবং সংবাদপত্রের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারেন তবে আমরা কৃতার্থ হব।
আন্তরিকতার সাথে,

আপনাদের
‘আমরা’

জনাব মাকসুদ আলী
প্রেস অ্যাটাচে
বাংলাদেশ মিশন
৯ সার্কাস অ্যাভিনিউ
কলকাতা-১৭

ইন্দোনেশিয়ান অবজারভার

সোমবার,৩০শে আগস্ট,১৯৭১

সম্পাদকীয়

পূর্ব পাকিস্তানের ট্র্যাজেডি

       পূর্ব পাকিস্তানে ঘটমান ঘটনাগুলো বহির্বিশ্বের সামনে সংবাদপত্রের মাধ্যমে উঠে আসছিল যার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল পূর্ব পাকিস্তানের উদ্বাস্তুদের বাংলাদেশের সীমানা পার করে ভারত পাড়ি দেওয়াতে তাদের যে অভূতপূর্ব দুঃখদূর্দশা পোহাতে হচ্ছিলতা প্রকাশ পাচ্ছিল। মার্কিন সিনেট জুডিশ্যারি সাবকমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডি ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রিফিয়্যুজি ক্যামপ পরিদর্শনের পর নিশ্চিত করন যে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার পাঁচ মাসব্যাপী সংঘাতের ফলে প্রায় ৭…৫ মিলিয়ন বাঙ্গালি ভারতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।সহায় সম্পত্তি বা নিকটাত্মীয়হারানোই শেষ নয়, অনেক উদ্বাস্তু ইতোমধ্যে মারা গেছে বা বিভিন্ন রোগের কারণে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অবস্থা এমনই যে মৃত্যুও বেশি আকাঙ্খিত তাদের কাছে।ভারতের কিছু শরণার্থী শিবিরে ঘুরে কেনেডি বলেন“এটা ছিল সমসাময়িক সময়ের মানব দুর্দশার সবথেকে মর্মান্তিক চিত্র”।

       নিক্সন সরকারের ইয়াহিয়া খানের সাথে সকল কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য শরণার্থী শিবিরে শরণার্থীদের ভোগান্তির পরিমাণ সম্পর্কে কেনেডির বর্ণনার পর আর কোনো প্রমাণ লাগেনা  এবং রাওয়ালপিন্ডিতে তার শাসন হঠকারীতা ছাড়া আর কিছুই নয়। পূর্ব পাকিস্তানে ইয়াহিয়ার সৈন্যবাহিনীর নৃশংসতার তিরস্কার করা একরকমআর একটা সমগ্র জাতি,এর সরকার আর এর জনগণকে বর্জন করাকিন্তুসম্পূর্নভিন্ন ব্যপার।এটা কখনোই কারো ভূল শুধরানোর জন্য সঠিক উপায় নয়। ইয়াহিয়া সরকারের উপর এই দোষ বর্তায় যে তারা একটা রাজনৈতিক সমস্যাকে মিলিটারি উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করছিল যা আইয়ুব খানের শাসনামল থেকেই শুধু পূর্ব পাকিস্তান নয় বরং সমগ্র জাতির উপর চলে আসছে। ইয়াহিয়া খান তার পূর্বপুরুষদের থেকেও খারাপ ছিল কারণ সে স্বশস্ত্র সৈন্যবাহিনীকে পূর্ণ ক্ষমতায় নিরস্ত্র বাঙালীর উপর লেলিয়ে দিয়েছিল যার জন্য অনেক মানুষ ভারত পাড়ি দেয় আবার কোথাও কোথাও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এছাড়াও শেখ মুজিবর রহমান কে গ্রেফতার করা এবং তার আন্দোলনে সমর্থনের জন্য তাকে সামরিক আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া আরো একটি অযৌক্তিক এবং নিন্দনীয় পদক্ষেপ ছিল।

       ইয়াহিয়া খানের এভাবে শক্তি প্রয়োগ করে বিরোধীদেরদমিয়ে রাখা বা শেখ মুজিবর রহমানকে এভাবে মিথ্যা আইনের আশ্র্ররয়ে কোর্টে পাঠানো এগুলা সব ভূল হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের জন্মের যে দাবি তাগ্রহণ করা হয়নি।এটা স্পষ্ট ছিল যে বড় বড় শক্তিবর্গ এই বিভাগীকরণ প্রস্তাবনায় খুব বেশী আগ্রহ দেখায়নি।এমতাবস্থায় শরণার্থীদের চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারতের অবস্থান ছিল প্রশংসনীয়। নিঃসন্দেহে এমন অনেক মানুষ ছিল যারা বাংলাদেশের জন্মের দাবীকে সমর্থন করত। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমগ্র মহাদেশেই সমর্থক ছিল।উদাহরণস্বরুপ,এক সপ্তাহ আগেই যাকার্তার এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পাদকমণ্ডলীর কাছে“বাংলাদেশ” প্রজ্ঞাপনের কিছু অনুলিপিসহ একটি চিঠি আসে। এটাই প্রমাণ করে যে ইন্দোনেশিয়াতেও বাংলাদেশের সমর্থক আছে।যাই হোক, এটা সেগুলার ভিতরে  ছিলনা।