প্রবাসে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সংবলিত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে গণ-সংস্কৃত সংসদের পক্ষে পেশকৃত গোপন প্রতিবেদন

Posted on Posted in 4

<৪,২৮৯,৬৫৪-৬৫৭>

অনুবাদকঃ আরিফ রায়হান

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৮৯। প্রবাসে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব সংবলিত বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর কাছে গণ-সংস্কৃত সংসদের পক্ষে পেশকৃত গোপন প্রতিবেদনগণ-সংস্কৃতি সংসদের দলিলপত্র১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

গোপনীয়   

অসাধারণ বিচারপতি এ এস চৌধুরী

 এই নোট স্বাক্ষী দেয় যে লন্ডনে জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশ সংস্কৃতি সেন্টার স্থাপন করা দরকার ।  এটা এমন একটা সংস্থা হবে যার কমিটিতে ৩ জন সদস্য থাকবে ।

 ১. বিচারপতি চৌধুরী

 ২. সেন্টার এর সম্মানিত পরিচালক

 ৩. একজন প্রতিনিধি যিনি কমিটি পরিচালনা অথবা একজন উত্তরাধিকারী ।

এটা ফাইনেন্স করবে পরিচালনা কমিটি অথবা বেসরকারী কোন সংস্থা । এটার সম্ভাবনা হচ্ছে সয়ংসম্পূর্ন হওয়া প্রতিটি দিক থেকে ।  এই মুহূর্তে একটা কক্ষ হয় ১১ নং রাস্তায় অথবা  বাংলাদেশ মিশন  এর বাড়ির সেন্টার ।

কেন্দ্র এর প্রধান কেন্দ্রে অবস্থান করবেন এবং পরিচালনা করবেন ।  একজন ইই মাত্র সহকারী থাকেবে যে কিনা পার্ট টাইম মুদ্রালেখক এবং অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করবেন যা বেতন ভুক্ত কর্মচারী হিসেবে থাকবেন । বাকি সবাই কে সেচ্ছাসেবী হিসেবেই নিয়োগ দেয়া হবে ।

কেন্দ্র এর সাধারণ  উদ্দেশ্য ছিল যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যে সংকট চলছে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে তা দূর করা ।  কেন্দ্র এর প্রচেষ্টা ছিল যে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এর মাধ্যমে  বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবশ্যম্ভাবিতা  তুলে ধরা,  স্থাপিত করা এবং স্বাতন্ত্র‍্যতা বজায় রেখে যে দেশ গুলো বাংলাদেশের পক্ষে আছে তাদের সাথে মৈত্রী ভাব বজায় রাখা,প্রকল্প সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য জনগন কে আকর্ষন এর উদ্দেশ্যে দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনাময বজায় রাখা বাংলাদেশের জাতিসত্তা,কিছু সাহিত্য প্রকাশ করা যা বিশ্ববাসীর কাছে সমাদৃত হয় বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা, কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে আমনন্ত্রন করা বাংলাদেশ সম্পূর্কে তাদের দৃষ্টিভংগি আলোচনার জন্য, স্পন্সর ও প্রদর্শন করা বাংলাদেশের উপর তৈরিকৃত ফটোগ্রাফ, চিত্রকর্ম, ফিল্ম, পোস্টার ইত্যাদি, তৈরি করতে হবে গ্রন্থাগার, এবং দলিল পত্রের এক কক্ষ যেখানে থাকবে বই, সাময়িক পত্রিকা, ফিল্ম, স্লাইড, নথি, খবরের কাগজ, মানচিত্র, চার্ট ইত্যাদি যেটা বাংলাদেশ মিশন এর গবেষণা কক্ষ হিসেবে থাকবে,কেন্দ্রিয় কমিটি অথবা অন্য কেউ কোন যিনি কতৃপক্ষ এর দ্বায়িত্ব আছেন, তারা ২১শে ফেব্রুয়ারি উদযাপন, স্বাধীনতা দিবস (২৬শে মার্চ), বাংলা নববর্ষ (১৪ই এপ্রিল), রবি ঠাকুর এর জন্মদিন (৭ মে), কাজী নজরুল এর জন্মদিন (২৬ মে) এবং এই ধরনের যত জাতীয় অনুষ্ঠান আছে তা আয়োজন করা ।

ছয় মাস এর মধ্যে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সোসাইটি অনুষ্ঠান গুলো কখুব সফলতার সাথে আয়োজনে সক্ষম হয় এবং একটা জোরদার সচেতনা তৈরি হয় ইউকে তে থাকা বাংলাদেশীদের মাঝে আর নিজেদের মাঝে সহযোগিতার এর বন্ধন তৈরি হয় ।

বাকি সব সংস্থা একই রকম উদ্দেশ্য নিয়ে চলে, যেমন  পরিচালনা কমিটি, ছাত্র কমিটি, মহিলা কমিটি, একশন ববাংলাদেশ ইত্যাদি ।  কিন্তু বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক সোসাইটি  বিভিন্ন ধরনের উপাদান একত্র করে এবং তুলে ধরে যে কিভাবে তাদের বাধ্য করা হয়েছে তাদের দূর্বলতা ।  একটা সেচ্ছাসেবী সোসাইটি হিসেবে তারা বাস্তবায়ন করতে পারেনি যে গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রাম এবং ফান্ডস ।  ইহা সবচেয়ে ভাল সাহায্য করছে যা হল কিছু কাজ ( গান,নাচ,কবিতা)  ইত্যাদি নির্ধারিত করা হয় ককেন্দ্র থেকে । সবশেষে  এটা আশা করা বেশি ঠিক ছিলা না যে কেন্দ্র ব্যবহার হবে, সব কিছুর জন্য এটার কাজের ধরন দেখে, মিলিত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে নানা মত ছিল এবং তারা একটা স্থায়ী  প্রতিষ্টান যদিও স্বাধীনতা সংগ্রাম সফলতার সাথে জয়ী হয় । এটা সম্প্রসারিত করে পরে একটা কিংবদন্তী হিসেবে স্বাধীনতা সংগ্রাম তুলে ধরা হবে ইউনাইটেড কিংডম এ থাকা বাঙালিদের জন্য ।

এর উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সোসাইটি এর কেন্দ্র কার্যকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাড় করান, আমরা এইটা বলতে পারি যে সঠিক বিষয় এর পর্যাপ্ত অভাব আর প্রতিষ্ঠান এর অবস্থা উদ্বিগ্ন ছিল  লন্ডনে । পরবর্তিতে বিস্তারিত উদাহরণ এবং কাউকে লক্ষ্য করে অভিযোগ করা হয়নি ।

 

 

(i) যখন সপ্তম মাস চলছিল তখন বিচারপতি চৌধুরী বিভিন্ন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,  কূটনীতিক,  সংবাদিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব যারা ইউরোপ এবং আমেরিকা আছেন । যতদূর জানা যায়, যে এ ধরনের সাক্ষাত পরবর্তিকালে অনিয়মিত ভাবে হত এবং ব্যক্তিগত চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ হত । কেবল মাত্র শুধু কিছু বুলেটিন ছাপানো হতো ডাকযোগে প্রতিস্থাপিত হত । কেন্দ্র এটা বজায় ররেখেছিল বিচারপতি চৌধুরীর নেতৃত্বে ।

(ii) পরিচালনা কমিটি বা দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কমিটি  ছিল কারন এর উদ্দেশ্য, এটা সব সময় রাজনৈতিক সংস্থার  লোকজন যারা ইউকে তে আছে মিটিং,  মিছিল, ইত্যাদি এর বব্যবস্থা করত । তাদের প্রধান কাজ ছিল ফান্ড জমা করা আআর সবাই কে একত্র করে রাখা স্বাধীনতা সংগ্রাম । কেউ আশা করেনি যে তারা এই দ্বায়িত্ব সরাসরি নেবে আর কাজের পরিধি এই নোটেই বলা হয়েছে ।

 (iii) একই ভাবে সব কূটনীতিজ্ঞ  যারা সম্প্রতি তাদের মনোভাব ও আনুগত্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ এর জন্য ।  এছাড়া অন্য ভাবনাতে তাদের কর্মদক্ষতা প্রতিফলিত হয়, তারা প্রশিক্ষিত আমলা ছিলেন যারা নিজস্ব দক্ষতার দ্বারা সাংস্কৃতিক সংগ্রাম কে এক বৈপ্লবিক রূপ দেন । এটার সচিত্র উদাহরণ হচ্ছে সম্প্রতি মিস্টার হাসনাইন বাইকাল, সম্পাদক আল হারাম, ইজিপ্ট এবং সবচেয়ে ক্ষমতাধর চিঠি হয়েছিল আরব বিশ্বে, অক্টোবর এ লন্ডনে । এটা খবরের কাগজ এ রিপোর্ট ও হয়েছিল । কিন্তু ইহা কেউ উদ্যোগ নেয়নি বিচার চৌধুরী এর সাক্ষাত এর জন্য । অনেক বড় মিস!

 (iv) এমন কি অধি পাকিস্তানি পত্রিকা  ডাউন অফ করাচী নভেম্বর এর শুরুতে ঢাকা ডিআইটি টাওয়ার, যা জাতীয় ছাপাখানা ট্রাস্ট মর্নিং নিউজ বিল্ডিং এবং কর্নফুলী পেপার  মিলস যা এশিয়াতে সবচেয়ে বড় গেরিলা আক্রমণ এর বোমবিস্ফারণ নিয়ে এক খবর প্রকাশ করে । এটা প্রকৃতপক্ষে একটা অসাধারণ খবর ছিল আর দেখানো হয়েছে যে বর্ডার এ আক্রমণ হয়েছে । আফসোস এই কারনে যে এগুলোর কোনটা ই বাংলা সাপ্তাহিক কিংবা ইংরেজি পাক্ষিক এ প্রকাশ পায়নি  লন্ডনে ।  যদিও এধরন এর একটা কেন্দ্র তৈরি করা যথার্থ ছিল যাতে করে গবেষণা চালিয়ে নেয়া যায় আর বাংলাদেশ মিশন এর তথ্য উপাত্ত সমান এবং প্রচারিত করা যায় ।

(v) এন্ড্রে মেলারেক্স, যিনি ফ্রান্স এর একজন বিশিষ্ট কূটনীতিক বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এ সাহায্য সহযোগীতা আর সাপোর্ট দেন । এটা জানা যায়নি যে তা কতৃপক্ষ থেকে নাকি ব্যক্তিগত, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তার এই অফার গ্রহণ করা হয় । বাংলাদেশের কেন্দ্র থেকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হয় এবং তার সাথে একটা চুক্তি করা হয় মুজিবনগর সরকারের সাথে এবং তার ই সাথে এক প্রজ্ঞাপন  জারির উদ্দেশ্য যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হয় ।

 (vi) এটা প্রমাণিত যে প্রকাশ করার যে কাজ তা পরিকল্পনা করা হয় পর্যাপ্ত পোস্টার যা ছবি আর স্লোগান এ ভরা ছিল,  যাতে করে আন্দোলন এর মআতত্রা কমে না যায় ।  সাংস্কৃতিক কেন্দ্র অবিলম্বে কিছু পোস্টার বের করে বাংলাতে (এবং ইংরেজি আর ফ্রেঞ্চ ভাষাতেও) যাতে করে পরিপূর্ণ ভাবে প্রদর্শন করতে পারে বাঙলা রেস্তরাতে,অফিস এ এবং জনসামাগম এলাকা গুলো যেমন গ্রন্থাগার, জাদুঘর, রেল-স্টেশন, এয়ারপোর্ট, ডাক ঘর ইত্যাদি ।

(vii)এটা লক্ষনীয় যে বেশিরভাগ বাঙালি পরিতৃপ্ত , কিন্তু তার অধিকাংশ লোক ই অশিক্ষিত, তারা ই অনেকাংশে দায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য । তাদের উতসাহ ছিল দেখার মত । কিন্তু বিপদ আরও বড় হতো যদি এই দল বাস্তবিক ভাবে শিক্ষিত না হত তাহলে আমাদের নতুন জাতীয়তার জন্য সমস্যা ছিল,  আই.ই যে ধর্মনিরপেক্ষতা একটা ভন্ডামি ছিল পাকিস্তানের বাংলাদেশের জন্মের সময় । শুধুমাত্র স্লোগান ই পেরেছিল এই কুসংস্কার দূর করতে । বাংলাদেশের শত্রুরা খুব সহজেই তাদের বন্দুক ব্যবহার ছাড়া ই  এখানে যুদ্ধ করত সমর্থ হয়েছিল, যদি বা অবিলম্বে যুগপৎ প্রচেষ্টা না নেয়া হয় তবে এটা পরিস্কার প্রদর্শন করতে পারে না যে তারা বাংলাদেশের নতুন বাসী যারা তারা একটা সমাজ তৈরি করবে  যা কাজে লাগানো যাবে না হস্তক্ষেপ করতে পারবে ধর্মীয় জনসাধারণ হিসেবে ।  জনসাধারনের আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে । এই বিষয়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র খুব কঠিন কাজ করেছে । 

(viii) কেউ জানেনা পুরোপুরিভাবে স্বাধীন হতে কত সময় লাগবে বাংলাদেশের । ইতিমধ্যে কেন্দ্র  পরিচালনা করতে শুরু করেছে সব কেস যা বাংলাদেশের ছাত্ররা ইউকে তে সম্মুখীন হচ্ছে এবং গাইড করছে সব ধরনের অনুষন্ধানে উচ্চতর  শিক্ষায় সম্পর্কে ইউকে তে । এমন কি সংগ্রহ করে দিচ্ছে বৃত্তি, ভাতা,  সহকারিতা জন্য যারা  উপযুক্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে ।

 

(ix) অবিলম্বে কোন উপায় বের করা উচিতে বই এবং সাময়িকি ইতিহাস এর উপর এবং সাথে সাথে বর্তমান পরিস্থিতি, ঐতিহ্য, আর্ট,রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজতন্ত্র বাংলাদেশ সম্পর্কে যা ইংরেজি আর বাংলা দুই আছে কেন্দ্রিয় গ্রন্থাগার এর জন্য । আমাদের অবশ্যই উন্নত করা উচিত  অভিবাসীদের যারা ইউকেতে আছেন এবং একটা ভাল জোট হিসেবে একত্র করা যারা নিজেদের সম্পর্কে জানে । আমাদের সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত জানা উচিত ।

 

অর্থনৈতিক প্রভাব (প্রথম ছয় মাসের জন্য)

 

পূর্ণকালীন সহায়কের বেতন (১০০ পাউন্ড/মাস)                ৬০০ পাউন্ড

খন্ডকালীন পিওন-টাইপিস্টের বেতন (৬০ পাউন্ড/মাস)        ১৮০ পাউন্ড

স্টেশনারি ও সম্ভাব্য পরিবহন খরচ                        ৬০০ পাউন্ড

                                                —————–

                                         মোট (ছয় মাস)  ১৩৮০ পাউন্ড

(সকল ধরণের খরচ স্টিয়ারিং কমিটি বহন করবে)