বন্দী মুক্তি ও দাবী দিসব

Posted on Posted in 2

<02.117.530-531>

শিরোনামবন্দী মুক্তি দাবী দিবস

সূত্রন্যাপ (ভাষানী),ছাত্র ইউনিয়ন শ্রমিক ফেডারেশন

তারিখ১৭ এপ্রিল,১৯৭০

 

বন্দী মুক্তি দাবী দিবসউপলক্ষে হরতাল জনসভা

স্থানঃ পল্টন ময়দান,সময়ঃবিকাল টা

প্রধান বক্তাঃ মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী

ভাইসব,

দেশ আজ এক চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের সম্মুখীন।ছাটাই,লক-আউট ও ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূল্যের চাপে মেহনতী জনতার বিভিন্ন অংশ মজুরী ও বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য ন্যায়সঙ্গত দাবী-দাওয়া আদায়ের জন্য ক্রমেই ধর্মঘটের পথ বাছিয়া লইতে বাধ্য হইতেছেন।অন্যদিকে,খাদ্যের উচ্চমূল্য এবং ক্রয়ক্ষমতার অভাব তৎসহ খাজনা-ট্যাক্সের জুলুম গ্রামীণ জন-জীবনকে করিয়া তুলিয়াছে দুর্বিসহ।আমাদের দেশের তরুন শিক্ষার্থী সমাজও তাহাদের উপর চাপাইয়া দেওয়া অগণতান্ত্রিক শিক্ষানীতি মানিয়া লইতে অস্বীকৃতি জানাইয়াছে।আর জনগণ বিভিন্ন অংশের ন্যায়সংগত দাবী-দাওয়া লইয়া সংগ্রাম করার জন্য যাহারাই আগাইয়া আসিতেছে তাহাদেরই স্থান হইতেছে কারাগারে।আজ রাজনৈতিক নেতা দেবেন শিকদার,মশিহুর রহমান,আনোয়ার জাহিদ,মণি সিং, ছাত্র নেতা মাহবুবউল্লাহ,শ্রমিক নেতা লুতফুল হল মজুমদার সহ বহুসংখ্যক রাজনৈতিক,ট্রেড ইউনিয়ন,কৃষক ও ছাত্রনেতা জেলখানায় বন্দী। শ্রমিক নেতা কাজী জাফর আহমেদ,রাশেদ খান মেনন,ছাত্রনেতা জামাল হায়দার সহ আরও অনেকের বিরূদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা এবং শ্রমিক নেতা আবুল বাশার,আব্দুল মালেক সহ আরও অনেকের বিরূদ্ধে হুলিয়া ঝুলিতেছে।

 

এই অবস্থায় মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামীদ খান ভাসানী আগামী ১৯ এপ্রিল,রবিবার সারা দেশব্যাপী “বন্দীমুক্তি ও দাবী দিবস” পালনের আহবান জানাইয়াছিলেন।এই দিবসের দাবীগুলো হইতেছে-

(১) আটক ও সাজাপ্রাপ্ত সকল রাজনৈতিক,ট্রেড ইউনিয়ন,কৃষক ও ছাত্র নেতার মুক্তি চাই,গ্রেফতারী পরোয়ানা ও হুলিয়া প্রত্যাহার কর ; সাম্প্রতিক ধর্মঘটকালে ধৃত সকল বাস- শ্রমিকের মুক্তি চাই।

(২) ২০ টাকা মণ দরে চাল ও ১০ টাকা মণ দরে গম চাই ; খাজনা- ট্যাক্সের দায়ে সার্টিফিকেট জারী করা চলবে না ; টেস্ট রিলিফের কাজ চাই।

(৩) পূর্ব পাকিস্তানে ৫ একর এবং পশ্চিম পাকিস্তানে ১২.৫ একর পর্যন্ত জমির মালিকদেরও খাজনা মওকুফ কর,খাস ও সরকারী জমি গরিব ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিলি কর,পেশাগত ট্যাক্স মওকুফ কর, পানির উপর কর মওকুফ কর, বর্গাদার উচ্ছেদ করা চলবেনা।

(৪) মিল মালিকদের লক-আউটের অধিকার দেওয়া চলবে না,ধর্মঘটেরর অধিকারসহ শ্রমিকদের যৌথ দর কষাকষির অধিকার কায়েম কর,শ্রমিকের নিম্নতম মজুরি মাসিক দুইশত টাকা নির্ধারণ কর।

(৫) নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমাও,সস্তাদরের দোকান চালু কর,পাট ও আখের ন্যায্য মুল্য দিতে হবে।

(৬) ছাত্র,শিক্ষক ও কার্যরত সাংবাদিকদের দাবী মানতে হবে।

(৭) প্রেস এন্ড পাবলিকেশন অর্ডিন্যান্স বাতিল কর,ন্যাশনাল প্রেস ট্রাস্ট ভেঙে দাও।

 

উপরোক্ত দাবীগুলো আমাদের দেশের – কৃষকসহ জনতার সকল অংশের জন্য জরুরী দাবী । আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঐ দিবস পালনের মধ্য দিয়া এমন এক গণ-আন্দোলনের সূচনা করি যাহা গণ-অধিকারের বিরূদ্ধে নতুনভাবে যে চক্রান্ত শুরু হইয়াছে উহাকে ব্যর্থ করিয়া দিবে।ঢাকা শহরের রিক্সা,স্কুটার,বাস চালক মালিকদের নিকট আমাদের অনুরোধ,আপনারা ঐ দিন সকাল ৬ টা হইতে বেলা ১ টা পর্যন্ত যানবাহন বন্ধ রাখিয়া ১৯ এপ্রিল “বন্দি মুক্তি ও দাবী দিবস”কে সাফল্যমন্ডিত করিতে আগাইয়া আসুন। কলকারখানার শ্রমিক- ভাইদের প্রতি আমাদের আবেদন,আপনারা ঐদিন কলের চাকা বন্ধ রাখুন এবং দলে দলে মিছিল সহকারে জনসভায় যোগদান করুন ।

 

নাজিমুল আলম

কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন

সিরাজুল হোসেন খান

সাধারণ সম্পাদক

পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন।

মোহাম্মদ সুলতান

সম্পাদক

ঢাকা শহর ন্যাপ।