বাংলাদেশকে সমর্থন দানের আহবান সম্বলিত একটি পুস্তিকা

Posted on Posted in 4

<৪,১১৭,২০৭-২১০>

অনুবাদকঃ মুশাররাত আলম মৌ

শিরোনামসুত্রতারিখ
১১৭। বাংলাদেশকে সমর্থন দানের আহবান সম্বলিত একটি পুস্তিকাবাংলাদেশ সলিডারিটি ক্যাম্পেন১৯৭১

 

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সাথে সংহতি

সমর্থনের জন্য আহবান

আমরা ব্রিটিশ জনগন বিশেষত ব্রিটিশ শ্রমিকদের প্রতি আহবান জানাই আমাদের শ্রমিক ও কৃষকদের প্রতি সমর্থনদানের জন্য যারা বর্তমানে অসঙ্গত মুক্তিযুদ্ধের জন্য লড়াই করছে, শোষণ থেকে মুক্তি ও সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য।

বাংলাদেশের জনগন কারা ? কেন তাদের সমর্থন প্রয়োজন? এই প্রশ্নগুলো স্বাভাবিকভাবেই যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও গণমাধ্যম ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই বিষয়কে বিভ্রান্ত করছে। তারা শরনার্থী বা নৃশংসতার পূর্ণ বিবরণ দিয়েছে। কিন্তু এই দুঃখজনক ঘটনাগুলোর পিছনে যে সমস্ত কারন বিদ্যমান তার ব্যাপারে তারা সাধারনত কোন ব্যাখা দেয়নি। ১৯৪৭ সাল থেকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বিবরণ প্রয়োজন। এখানে কিছু প্রকৃত সত্য তুলে ধরা হলঃ

পশ্চিম পাকিস্তানের বিস্বাশঘাতকতা সবসময়েই বিরাজমান ছিল। পুর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় ২৫ মার্চ  বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এমন বিশ্বাসঘাতকতার ঘটনা ঘতেছিল যেটি সমকালীন ইতিহাসের ঘটনায় বিরল একটি দৃষ্টান্ত। কোন সতর্কবার্তা বা চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত না জানিয়েই। আদেশ পালন করতে গিয়ে, পশ্চিম পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সৈন্যরা হঠাৎ ঘুমন্ত ও নির্দোষ মানুষের বেসামরিক জনগনের উপর মেশিনগান, ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও কামান নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে। তারা তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়,  এবং তাদের উপর গুলি বর্ষন করে যখন তারা আগুন থেকে বাচার জন্য রাস্তায় এসে পড়ে। সেই রাতে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিহত হয়-অধিকাংশই তার মধ্যে ছিল নারী ও শিশু।

পরবর্তী দিনগুলোতে পশ্চিম পাকিস্তানী ঘাতকদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠে। সতর্কতার সাথে পরিকল্পিত, অতি নিষ্ঠুর গনহত্যার নীতি অনুসরণ করা হচ্ছিল। নির্বিচারে গণহত্যার মাধ্যমে তারা সাধারণ জনগণকে ভীতি প্রদর্শন করতে চায়। বেছে বেছে প্রশাসক, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী, প্রযুক্তিবিদ, ছাত্র এবং শিক্ষকদের গনহত্যার মাধ্যমে তারা সম্ভাব্য প্রতিরোধের যারা সুত্রধর ছিলেন তাদের ধ্বংস করার আশা করেছিল। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রে তারা ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এই পর্যন্ত কতজন নিহত হয়েছে তার সঠিক হিসাব কারো কাছে নেই।(এই অঞ্চলে সেই সংখ্যা হতে পারে ১০ লাখ)

ঢাকায় মিথ্যা সমঝোতার নাটক!!!…১৬ মার্চ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ইয়াহিয়া খান ও পুর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের কথাবার্তা হচ্ছে। মুজিবুরের পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের পুর্ন সমর্থন রয়েছে এবং যেটি নির্বাচনে প্রকাশ পেয়েছে  এবং ১০ থেকে ২৫ মার্চের অহিংস আন্দোলনেও সমর্থন রয়েছে। পুরো প্রশাসন এতে জড়িত ছিল যাদের মধ্যে ছিলেন বিচারক, পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তারা। ২ ও ৩ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানী সৈন্যরা অহিংস আন্দোলকদের উপর গুলি চালিয়েছিল, এক হাজারের বেশী জন যাতে নিহত হয়েছিল। কিন্তু ইয়াহিয়া খান এতে দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং তার ইচ্ছা ছিল সাংবিধানিক বিষয়গুলোর শান্তিপুর্ন মীমাংসা। মুজিবুর এই আশ্বস্ততা গ্রহণ করেছিলেন। তিনি সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিলেন। আমরা জানি কিভাবে এই সমঝোতা একটি মিথ্যা নাটক ছিল; যার আবরনে গনহত্যার জন্য সামরিক প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিল।

২৫ মার্চ, ১৯৭১ এবং এর পরবর্তী দিনগুলোতে যে গনহত্যা সংঘটিত হয়েছিল, সেটি পশ্চিম পাকিস্তানের ২৩ বছরের রক্তক্ষয়ী সমাপ্তি ঘটিয়েছিল, আরও জন্ম দিয়েছিল নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্রের।

বাংলাদেশের স্বীকৃতি। প্রত্যেক সম্ভাব্য দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। নেতৃবৃন্দ ৮০% জনগনের ভোট জিতেছিলেন, প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদে আওয়ামী লীগের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ অন্তত এখন পর্যন্ত স্বীকৃত হবে না। বৃহৎ ক্ষমতার এটি করাটা হবে অস্বস্তিকর। বাংলাদেশ ততদিন পর্যন্ত যুদ্ধ করবে যতদিন না তারা স্বাধীন হচ্ছে। সংগ্রামে নৈতিক ও সামরিক সহায়তার জন্য তাদের এই আবেদন। প্রত্যেক দিন আরও মানুষ নিহত হচ্ছে এবং দেশের সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে।

কেন এই গনহত্যা? পশ্চিম পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক শ্রেণীর এই কর্মকান্ড কোন অপ্রত্যাশিত মুর্খতার আচরন নয়। এগুলো অর্থনৈতিক শোষণ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের যৌক্তিক ও প্রয়োজনীয় ফলাফল যেটি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে হয়ে আসছে।

      যেভাবে পশ্চিম পাকিস্তান পুর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করেছে

এখানে পুর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক অধিকরণ ও পশ্চিম পাকিস্তানের স্বার্থে তাদের অধিনতার কিছু মৌলিক তথ্য তুলে ধরা হলঃ

১। আয়ঃ পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জনপ্রতি আয়ের মধ্যে বিরাট অসমতা ছিল।১৯৫২-৬০ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানের আয় পুর্ব পাকিস্তানের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশী ছিল। এবং ১৯৬৭-৭০ পর্যন্ত ছিল ৬১ শতাংশ। এভাবে দশ বছরের মধ্যা আয়ের ব্যবধান শতাংশের হিসেবে প্রায় দ্বিগুন ছিল।

২। বিনিয়োগঃ এই পরিস্থিতির উদ্ভিব ঘটেছিল যেহেতু পাকিস্তানের বিনিয়োগ তহবিলের উৎস ছিল পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ উৎস সমূহ এবং পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে সাত কোটি যা মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ছিল এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ সমূহ মুলত পশ্চিম পাকিস্তানে করা হত। কিন্তু ১৯৫০-৫৫ সালের মধ্যে পুর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যয়ের ২০ শতাংশ পেয়েছিল। ১৯৬৫-৭০ সালে তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়েও সর্বোচ্চ হার ছিল ৩৬%।

বেসরকারি বিনিয়োগেও ঐ সময়ে পুর্ব পাকিস্তানের অংশ ছিল ২৫ শতাংশের কম।

৩। বানিজ্যঃ ১৯৫০ এবং ১৯৭০ এর মধ্যবর্তী সময়ে পুর্ব পাকিস্তানের বৈদেশিক রপ্তানি আয় ছিল পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের ৫০ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে। কিন্তু পুর্ব পাকিস্তানের বৈদেশিক আমদানি ছিল ২৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে। ১৯৪৮ থেকে ১৯৬৯ এর মধ্যবর্তী সময়ে পুর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে স্থানান্তরকৃত সম্পদের পরিমাণ ছিল ২৬ লাখ টাকার উপরে।

(এই সমস্ত সংখ্যা সমূহ পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দপ্তর থেকে জারিকৃত দাপ্তরিক পরিসংখ্যান থেকে সংগৃহীত উপদেষ্টা পরিষদ, চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, ১৯৭০-৭৫, খন্ড-১, পরিকল্পনা কমিশন, পাকিস্তান সরকার, জুলাই ১৯৭০ থেকে সংগৃহীত)।

এই সমস্ত তথ্য থেকে এই উপসংহারে পৌঁছান যায় যে, পশ্চিম পাকিস্তনের উন্নয়ন পুর্ব পাকিস্তানকে বঞ্চিত করে হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে পুর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের একটি উপনিবেশ। এই পরিস্থিতি ভাগ্যক্রমে সৃষ্টি হয়নি, এটি ছিল বৃহত্তর রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলাফল। কাদের দ্বারা এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল?

পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক স্বৈর শাসকগন। ১৯৫৮ সাল থেকে পাকিস্তানে সামরিক একনায়কতন্ত্র রয়েছে। সকল সিদ্ধান্ত সামরিক নেতা ও উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্ধারিত হত। যেহেতু প্রাদেশিক রাজধানী ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে, ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানীদের দ্বারা গঠিত সামরিক গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত ছিল। যাইহোক, প্রকৃত সিন্ধান্ত সমূহ ওয়াশিংটনে নেয়া হত, ইসলামাবাদে নয়। বিশ্ব রাজনীতির কৌশলের গুরুত্বপুর্ন অংশ হিসেবে ইউ এস সাম্রাজ্য তন্ত্র পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক নেতৃবৃন্দ, আমলাতন্ত্র, এবং দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের উপর নির্ভর করে। এবং তার সমর্থকদের উত্তম ভাবে পুরস্কৃত করে; এমন কি তাদেরকে একটি শোষণের জন্য উপনিবেশ ও প্রদান করে।

পাকিস্তানকে ইউ এস এর সহায়তা। ১৯৫৪ থেকে ১৯৬৪ সালের মধ্যে পাকিস্তান প্রায় ২০ কোটি টাকা সামরিক অনুদান পেয়েছিল। এর মধ্যে ছিল স্টার লাইটার্স, প্যাটন ট্যাঙ্কস,আর্মার্ড পারসনেল ক্যারিয়ারস, অটোম্যাটিক এবং রিকয়েল ছাড়া ছোট অস্ত্র। এই অস্ত্র গুলো ছিল সাম্যবাদ “সংঘটিত করার” উদ্দেশ্যে । কিন্তু ১৯৬৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে সংক্ষিপ্ত সীমান্ত যুদ্ধ ছাড়াও পুর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বেসামরিক জনগণকে হত্যা করার কজে মুলত ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৯৫১ থেকে ১৯৫৯ সালে ইউ এস এর থেকে সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা অর্থনৈতিক সহায়তা পেয়েছে পাকিস্তান যা মুলত পশ্চিম পাকিস্তানে কারখানা স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

২২ টি পরিবার। ওয়াশিংটনে নেয়া  এই সিদ্ধান্তের ফলাফল ছিল পশ্চিম পাকিস্তানে শাসক গোষ্ঠী তৈরি করা, সেই বিখ্যাত “টুয়েন্টি টু ফ্যামিলিস” বা ২২ পরিবার। যার মধ্যে ছিল সামরিক ব্যক্তিবর্গ, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা ও শিল্পপতি। এই গোষ্ঠী ৮০% ব্যাংকিং সম্পদ, ৭৫% বীমা সম্পদ ও ৬০% শিল্প সম্পদ নিয়ন্ত্রন করত। তারা বিবাহ সুত্রে সম্বন্ধ যুক্ত ছিল এবং তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য একত্রিত ছিল। তারা জোরপুর্বক হলেও পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অসম বিনিময় রক্ষা করত। সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্র যন্ত্রকে পরিণত করেছিল তাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নীতির একটি মাধ্যম হিসেবে।

পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের প্রতিরোধ

পশ্চিম পাকিস্তানে কৃষক ও শ্রমিক দের মাঝে বিক্ষিপ্ত প্রতিরোধ ছিল। কিন্তু পুর্ব পাকিস্তানের প্রায় পুরো জনগোষ্ঠীর সংগঠিত প্রতিরোধ পাকিস্তান সৃষ্টির শুরু থেকেই দেখা গেছে। এবং তাদের নিজস্ব গুরুত্বপুর্ন সাফল্যও রয়েছে। নিম্নে কিছু গুরুত্বপুর্ন ঘটনার ক্রমানুক্রমিক বিবরণ দেয়া হলঃ

১৯৪৭ মুসলিম প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা

১৯৪৮ “পৃথক রাষ্ট্রের” দাবিতে আন্দোলনে অনেকে নিহত হয়। কিন্তু ফলশ্রুতিতে বাংলাকে দুইটি রাষ্ট্র ভাষার মধ্যে একটি হিসেবে গ্রহণ করা হয়

১৯৫৩ ইউনাটেড ফ্রন্ট এর নির্বাচনী বিজয় অসাম্প্রদায়িক ও কৃষক ও শ্রমিক প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রামের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এই সময়ে বাঙালি জাতির স্বার্থ রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগ ও প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৫৮ আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন এবং সামরিক শাসন ধার্য করেন ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও এরনেতা মাওলানা ভাসানির  সঙ্ঘবদ্ধ কৃষক আন্দোলনকে স্তিমিত করার জন্য।

১৯৫৬ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার যুদ্ধ আইয়ুব খান ও শাস্ত্রী উভয়ের জন্য সুবিধাজনক ছিল। যুদ্ধের পর ভারতের সাথে বাণিজ্য সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর পুর্ব পাকিস্তানের জনগণকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের জন্য এটি লাভজনক ছিল।

১৯৬৮ আওয়ামী লীগের ছয় দফায়  বৈদেশিক বাণিজ্য, বৈদেশিক অনুদান বণ্টন ও করারোপণের উপর নিয়ন্ত্রন সহ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন দাবি করা হয়। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির তের দফা কর্মসুচি যোগ করেছিল শিল্প সম্পদকে জাতীয়করণের আহবান এবং জমি বিতরনের নিয়ন্ত্রন।

১৯৬৯ আইয়ুব খান শাসনের সমাপ্তি মুলত পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের আন্দোলনের ফলাফল

১৯৭০ পুর্ব পাকিস্তানের প্রত্যন্ত এলাকায় ঘুর্নিঝড় স্পষ্ট ভাবে দেখিয়ে ছিল পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের দুঃখ দুর্দশার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠীর নির্লিপ্ততা। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। ১৬৯ আসনের মধ্যে ১৬৭ আসন জাতীয় পরিষদে পুর্ব পাকিস্তানকে বণ্টন করা হয়েছিল। এবং প্রাদেশিক পরিষদে ৩৪৩ আসনের মধ্যে ২০১ আসন ছিল আওয়ামী লীগের।

১৯৭১ পশ্চিম পাকিস্তানের দুর্নীতিগ্রস্ত শাসক গোষ্ঠী অনুধাবন করেছিল পুর্ব পাকিস্তানের উপর তাদের উপনিবেশিক শাসনের সমাপ্তি ঘটবে যদি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের ফলাফল গ্রহণ করা হয়। এই গনহত্যা পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের একতাবদ্ধ প্রতিরোধের মুখে একমাত্র সম্ভাব্য নীতি ছিল।

                          জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম

পুর্ব পাকিস্তানের কৃষক ও শ্রমিকদের আন্দোলনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় অনিবার্য। বহুল প্রচলিত গেরিলা যুদ্ধের মাধ্যমে পুর্ব পাকিস্তানের জনগন পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক আমলাতন্ত্র ও তাদের অস্ত্রধারী সৈন্যদের উপর বিজয় লাভ করবে। বাংলাদেশের মানুষের বহির্বিশ্বের কাছ থেকে দান নয় বরং সামন্তবাদ ও পুঁজিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য বস্তুগত সহায়তা পাওয়ার আশা রাখার অধিকার আছে।

বাংলাদেশের সাথে সংহতি

ব্রিটিশ সরকারের প্রতি এই সংহতি সমাবেশে নিম্নলিখিত দাবি পুরন করার জন্য আহবান করা হচ্ছেঃ

১।অতিসত্বর পাকিস্তানে সরবরাহের জন্য বরাদ্দকৃত অস্ত্রসমুহ জব্দ করা

২।পশ্চিম পাকিস্তানে সকল ঋণ, যেকোনো ধরনের অনুদান জব্দ করা

আমরা ব্রিটেন এবং অন্যান্য দেশের শ্রমিক শ্রেণী কে আহবান জানাই তাদের মজুরি পুর্ব পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে অর্পন করা। আমরা ডক শ্রমিক ও অন্যান্য শ্রমিকদের আহবান জানাই পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসনের জন্য বরাদ্দকৃত দ্রব্য সমূহ উৎপাদন বা কোথাও ভরানোর থেকে বিরত থাকার জন্য।

বাংলাদেশের জয়

কৃষক ও শ্রমিকের সংগ্রামের জয়

সাম্যবাদের জয়

                                                       স্বাক্ষরঃ বাংলাদেশ সংহতি সমাবেশ

                                                        ৭০, হারকোর্ট রোড

                                                            শেফিল্ড এস ১০ ১ ডিজে