বাংলাদেশের যুদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি

Posted on Posted in 14
শিরোনাম সূত্র তারিখ
১০৪। বাংলাদেশের যুদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতিনিউইয়র্ক টাইমস২৭ অক্টোবর ১৯৭১

 

Razibul Bari Palash

<১৪, ১০৪, ২৪৪>

 

দ্যা নিউইয়র্ক টাইমস, ২৭ অক্টোবর ১৯৭১

বাংলাদেশের যুদ্ধে পাকিস্তানের ক্ষয়ক্ষতি

-মেকল এম ডব্লিউ ব্রাউন

-নিউ ইয়র্ক টাইমস স্পেশাল

 

করাচী, পাকিস্তান, অক্টোবর ২৬ – পাকিস্তানের রিপোর্ট করেছে যে আজ তার সেনাবাহিনী অব্যাহত চাপে আছে। পূর্ব পাকিস্তানে কুমিল্লা জেলার কসবা এলাকায় “ভারতীয় সৈন্য ও এজেন্ট” নিশ্চিত দাবি করে যে আরও ৭৮ টি “শত্রু” দের লাশ পাওয়া গেছে।

 

সাম্প্রতিক একটি বিবৃতিতে দাবি, দুই দিনে শত্রু দের ৫৭৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান।

 

বিবৃতিতে বলা হয় ভারত বলেছে পাকিস্তানের কসবা এলাকা বিদ্রোহী বাঙ্গালীদের বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। পাকিস্তান সরকারের বিবৃতি অস্বীকার করে তারা বলে পূর্ব পাকিস্তানের ঐ অঞ্চল তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

 

বিবৃতিতে পাকিস্তানি সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথা বলা হয়নি। সেখানে “ভারতীয় এজেন্ট” শব্দটি ব্যবহার করে বলা হয় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি গেরিলারা সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। “ভারতীয় এজেন্ট” বলতে হয়ত গ্রামবাসীদের বোঝানো হয়েছে।

 

 

 

শেলিং চলছে

 

সরকার বলেছে যে সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে শেলিং অব্যাহত থাকছে। সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামে যে শেল পড়েছে সেগুলো কোথা থেকে আসছে।

 

পাকিস্তানি সরকার প্রায়ই রিপোর্ট করে যে, কুমিল্লার জেলা শহর সীমান্তে ভারতীয় আর্টিলারি বেষ্টিত এবং তারা সেখানে শেলিং করে – তবে ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে বোঝা যায় যে শেলগুলি সাধারণত ২-ইঞ্চি মর্টার থেকে আসে যেগুলোর নিক্ষেপ সীমা ক্ষুদ্র এবং সীমান্ত থেকে এখানে আসার কথা নয়।

 

গত মার্চ মাসে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাঙালি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিয়মিতভাবে গ্রাম ও অন্যান্য শক্তিশালী পয়েন্ট দখল করে। তাদের কাছে আর্টিলারি ব্যারেজ আছে এবং তারা আমেরিকান নির্মিত ও সোভিয়েত-নির্মিত জেট বিমান দ্বারা হামলা করছে।

 

বর্ষার কারণে পূর্ব পাকিস্তান এর বিশাল ধান এবং পাট ক্ষেত্র ডুবে যাওয়ায় সামরিক এম্ফিবিয়াস অপারেশন চালানো হচ্ছে ৫০ টি লাইট এসাল্ট বোট দিয়ে যা আমেরিকা সাইক্লোন রিলিফ বিতরণের জন্য দিয়েছিল – যেগুলো গত মার্চে আর্মি অধিগ্রহণ করে।

 

বর্ষা প্রায় শেষ হয়ে গেছে এবং সরকারী বাহিনী সম্ভবত আরও বেশি গতিশীলতা পাবে।