বাংলাদেশ পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শী এম. পি. দের বিবরণ ও কমন্স সভার প্রস্তাব

Posted on Posted in 13
শিরোনামসূত্রতারিখ
উপমহাদেশের পরিস্থিতির প্রত্যক্ষদর্শি এম.পিদের বিবরণ ও বিবৃতির ভিত্তিতে বিতর্ক এবং কমনস সভার প্রস্তাবকমনস সভার কার্যবিবরণী১৪ মে, ১৯৭১

 

জনসাধারনের বাসস্থান

শুক্রবার, ১৪ইমে,১৯৭১

পূর্ব পাকিস্তান

 

 

বেলা ১১.৫

জনাব ব্রুস ডগলাস- মান(কেনসিংটন,উত্তর)আমি সরে যাওয়ার জন্য অনুরধ করছি,

যে, এই বাসস্থান পূর্ব পাকিস্তানে হওয়া হত্যা ও ধ্বংসের এবং বছরেরে শেষের দিকে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট এর ভীতি প্রদর্শনে তার সরকারি প্রভাব দেখিয়ে তাদের শত্রুতা শেষ করে নিরাপদ করার জন্য, জাতিসংঘ বাঁ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংগঠনে ভর্তি, এবং একটি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির কৃতিত্বে যা পাকিস্তানের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের সম্মান রাখবে।

 

এই মোশন আর্লি ডে মোশন নং ৫০৯ এর তুলনায় একটু বেশি সুনির্দিষ্ট যা আমি উত্থাপন করি, পূর্ব পাকিস্তান একটি যুদ্ধবিরতি নিরাপদ করার জন্য তাদের সরকারি কলিংযের প্রভাব ব্যাবহার করতে। এই মোশন ৩০০ সম্মানিত সদস্যের দ্বারা সাক্ষর করানো হয়েছে, যা আমি মনে করি এই সংসদের জন্য একটি রেকর্ড, এবং এই উদ্বেগ এবং পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশের অনুভুতি হাউসে প্রতিফলিত হচ্ছে । আমি আশা করি যে  এই কথনে পরিবর্তন পূর্ববর্তী মোশনের অর্জিত সমর্থন থেকে সরে আসবেনা। এই দ্বিতীয় মোশন শুধুমাত্র প্রথমেই পূর্ব বাংলার দুঃখজনক পরিস্থিতি অন্তরনিহিত ছিল তা আরও বিশদভাবে ব্যখ্যা করবে, যার উপর ব্রিটিশ সরকারের উচিত কিছু প্রভাব জাহির করা।

 

বিয়োগাত্নক ঘটনার প্রকৃতি পরিমাণ সুপরিচিত হয়। যারা মৃত তাদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়। পশ্চিম পাকিস্তান সরকারের অফিসিয়াল অনুমান হচ্ছে শুধুমাত্র ১৫,০০০ জন মারা গেছে। কিন্তু সর্বনিম্ন স্বাধীন অনুমান ১০০,০০০ থেকে শুরু, এবং অনেকে হিসাব করে যে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যে এক লাখের বেশি হয়ে গেছে। কিন্তু মৃতের সংখ্যা যতই হোকনা কেন, এটা নিশ্চিত যে দুই লাখের বেশি মানুষ দেশের এই আতঙ্কিত পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত ছিল, যে তারা একেবারে মর্মস্পর্শী অবস্থায় তাদের বাস্থান ভারতে সরিয়ে নিয়েছে।

 

২২শে এপ্রিল। আমি এবং আমার সম্মানিত  বন্ধু সদস্য( জনাব স্টোনহাউজ) পশ্চিম্বঙ্গের শরণার্থী শিবিরের ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পটি ছিল সাংঘাতিক জনাকীর্ণ। তারা খুঁটির উপর ছাঁদে গুলি ছোড়ার তেরপল, সাহে ঢেউ তোলা লোহার স্থল এবং খড় মাদুরের ছাদ স্থাপন করেন। সেই সময় প্রতি পরিবারের জন্য ১০ বাই ১০ ফিট স্থান বরাদ্দ ছিল । ক্যাম্পের প্রায় সব ফ্ল্যাট নিম্নস্তরের স্থলে অবস্থিত ছিল, এবং যে সময় আমি সেখানে ছিলাম সেখানে কেবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

 

সত্য যে হাজার হাজার পরিবার বর্ষা শুরু হওয়ার সাথে সাথে তাদের বাসভবন সরিয়ে নিতে বাদ্য হয়েছে, পরিস্থিতি হচ্ছে যে জায়গায় ক্যাম্পগুলো অবস্থিত সেগুলো অদুর ভবিষ্যতে প্লাবিত হতে পারে যদি ইতিমধ্যেই প্লাবিত না হয়ে থাকে তাহলে সেখানে শুকনো মাটিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক স্থায়ী কক্ষ থাকতে হবে, পালিয়ে যাওয়া পরিবারের অবস্থা যা প্রতিফলিত করে।

 

ক্যাম্পে পর্যাপ্ত খাদ্য ছিল, কিন্তু সেই খাদ্য ভারতীয় সরকারকে দিনে ৬টি নতুন পয়সায় মাথাপিছু এক রুপি খোয়াতে হয়। যখন প্রতিফলিত হয় যে ২০০ মিলিয়নের বেশি ভারতীয় নাগরিক দিনে মাথাপিছু এক রুপির মানের নীচে বাস করছে, কেউ প্রশংসা করতে পারে যে স্ত্রেন যা ভারতীয় সরকার নিজেই নিজেদের জন্য বহন করতে পারেনা। উদ্বাস্তুদের সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা অপরিহার্য, যা ভারতের একটি অসামান্য সামাজিক ো রাজনৈতিক সমস্যা, সেইসাথে আর্থিক সমস্যাও বটে।

 

কিন্তু উদ্বাস্তুদের জন্য ভারতের সমস্যা পুরোপুরি ভিন্ন, আমরা শুধু পূর্ব পাকিস্তানের শর্ত সম্পর্কে অনুমান করতে পারি। আমি ২৪শে এপ্রিল পূর্ব পাকিস্তান ভ্রমণের উপর একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছি, ভারত সরকারের জ্ঞান অতবা অনুমোদন ছাড়াই, তারা যেভাবে আমাকে বলেছিল যে তারা আমার নিরাপত্তার ব্যাপারে মনযোগী হবে যদি আমি ভেতরে যেতাম। আমি বাংলাদেশের ধারণকৃত এলাকা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম।

 

আমি চেয়েছিলাম, প্রথমে, উদ্বাস্তুদের থেকে কিছু তথ্য পেতে, এবং বুধবারের জন্য সম্মানিত সদস্য এবং আমি ক্যাম্পের কিছু সংখ্যক দের সাথে কথা বলেছি। ঘতনা তাদেরকে কনরকম পরিবর্তন ছাড়া বলা হয়েছিল। মাননীয় সদস্যদের উপর আমার আশ্বাস যে যারা নৃশংসতায় নিজেদের ঠেলে দিয়েছিল তাদের গুজব তইরিতে আমাদের সতর্কতা ছিল না ।  আমরা নিজেরাই নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে গিয়েছিলাম, এবং আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করেছি কেন তারা তাদের গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছে।

 

বার বার আমরা একই ঘটনা বলেছি: পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক সেনা কর্তৃপক্ষ গ্রামে প্রবেশ করেছিলেন, যা পড়ি রক্ষিত হয়নি, পুরুষদের মাঠে এবং পরে মহিলা ো শিশুকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, একটি বিরাট সঙ্খ্যার মানুষকে হত্যা করার পর গ্রাম গুলো জ্বালিয়ে দিয়ে চলে গিয়েছে।

 

বাংলাদেশ সীমান্তের ভেতরে আমি আরও উদ্বাস্তু দেখেছি, যে আমাকে বেশি অথবে একই রকম গতনা বলেছে। এই ব্যক্তিরা ভারত সীমান্তের দিকে যাচ্ছিলো। তাদের গ্রামে, যেখানে আমাদের সাক্ষাত হয়েছিলো তা থেকে ৪ মেইল দূরে, সেই সকালেই দগ্ধ করা হয়েছে। উদ্বাস্তুরা আমাদের বলেছেন যে গ্রামে যে ফসল রোপণ করা হয়েছে এমনকি যা করা হয়নি যা তারা ভারত সীমান্তে আসার সময় অতিক্রম করতে এসেছে। বাংলাদেশের শুধুমাত্র নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে রোপণ চলছে।

 

এটা সুস্পষ্ট ছিল যে পাঞ্জাবিদের ঘৃণ্য, পুর পাকিস্তানের মানুসদের মধ্যে গত ছয় সপ্তাহে যা তৈরি করা হয়েছে, যার সিংহভাগ বাঙালি, পাকিস্তান আবার এক হতে পারে এটা খুব অসম্ভব।

 

উভয় পক্ষের নৃশংসতা আছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। হত্যাকন্দ জুদ্ধের একটি বাজে ব্যবসা। আমরা অনেক উৎস থেকে পরস্পর বিরোধী প্রতিবেদন শুনেছি, এবং বিশেষ করে ব্রিটিশ প্রেস থেকে, নৃশংসতার প্রকৃতির। ২রা মে সানডে টাইমস একটি বিবরণ উপস্থাপন করে যেখানে যেখানে বর্তমান নৃশংসতা বাঙ্গালিদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং বাংলা বিডিআর বিদ্রোহের এই বিয়োগাত্মক ঘটনা পুরোটা পরিকল্পিত।

 

বিবরণ সত্য হলেও এটি দুঃখজনক যে সংবিধানের একটি পত্রিকা সানডে টাইমস এটি পরিষ্কার করে নি যে যেই প্রতিবেদক বিবরনটি উপস্থাপন করছেসে শুধুমাত্র পশ্চিম পাকিস্তানের নয় সম্পাদক ও কারাচি নিউজের। যেটি পশ্চিম সরকার মালিকাধীন প্রেস ট্রাষ্ট অথবা অন্যান্য স্বাধীন বিবরণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমা সাংবাদিকরা সথিক, প্রতিটি বিবরণ থেকে এবং জনসংযোগ বিবৃতি থেকে এটি স্পষ্ট যে মাননীয় সদস্যবৃন্দ পশ্চিম পাকিস্তানের হাইকমিশন থেকে পেয়েছে, যে হত্যাকাণ্ড পশ্চিম পাকিস্তান সেনাবাহিনী তেকে শুরু হয়েছিল, একটি সম্ভাব্য বিডিআর বিদ্রোহের প্রতিরোধ হোক বা না হোক।

 

সেটাই প্রথম স্পষ্ট বিষয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে প্রতিদিনের বিলিপত্রের সাথে জয়লাভ দাবি করা । তৃতীয় দফা হচ্ছে হত্যাকাণ্ডের স্কেল এবং ঘৃণাকারী পাকিস্তান এখন একটি একক মৃত রাজ্য। তাজউদ্দীন আহমেদের ভাষায়, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কথা,

‘পাকিস্তান মৃত এবং ম্রিতদেহের পরবতের নীচে চাপা পড়েছে’

পূর্ব পাকিস্তান কে নিচে ধরে রাখা শুধুমাত্র বৃহৎ সামরিক বাহিনী দ্বারা সম্ভব।

আমি পূর্ব পাকিস্তানের ভেতরে সেনা ক্যাম্পে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করেছি। আলোচনা থেকে, আমি তার সাথে ছিলাম, এবং বাংলাদেশ আর্মির দ্বিতীয় নির্দেশ। মেজর ওসমান, কিছু জিনিস আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। প্রথমতি হচ্ছে যে পশ্চিম পাকিস্তান কে জোর করা অব্দি যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। দ্বিতীয়টি হছে পক্ষের একটি ক্ষমতা ছিল, বাংলাদেশ সেনাভিনি, আওয়ামী লীগ সংগঠন এবং গেরিলা জদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, স্মরণীয় হচ্ছে যে, আমরা যা বলেছে তা অনুযায়ী , মুলত গ্রামাঞ্চল এখনো বাংলাদেশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

এটি, অবশ্যই, সথ্য যে পশ্চিম পাকিস্তান বাহিনী, ভালো সরঞ্জাম এবং উচ্চতর অগ্নি ক্ষমতা, কোর্স করার জন্য বাছাই করা যেকোনো এলাকায় পাঠাতে পারেন, জতদিন না সেতু উড়িয়ে দেয়া হয়। দেশ যোগাযোগের জন্য এই সেতুর উওর নির্ভরশীল, এবং এই সেতু ছাড়া জল্পথের উন্নয়ন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

 

মুলত গ্রামাঞ্চলের প্রশাসন বাংলাদেশ আর্মি দ্বারা বাহিত হয়। তাদের জনসংখ্যার সিংহভাগ সারগর্ভ সমর্থন আছে, যা পশ্চিম পাকিস্তান বাহিনীর জন্য প্রতিকূল। প্রকৃতপক্ষে, সন্তোষজনক ভাবে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করা পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব হবে।

 

আমার কাছে চিন্তার বিষয় হচ্ছে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পূর্ব পাকিস্তানের সেনাবাহিনী থেকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং রোগ নিয়ে চিন্তিত। তিনি আমাকে জানান দেশের এক-তৃতীয়াংশে রোপণ করা হচ্ছেনা এবং শস্য এলাকায় উচ্চতর অনুপাত, যা প্রধানত খাদ্য ফসলের উপরেই নিরভত হয়।

 

যে কোন স্বাভাবিক বছরে পূর্ব পাকিস্তান দুই লাখের মধ্যে এবং তিন লাখ খাদ্য শস্য আমদানি করে। এই বছর পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কোন আমদানির অনুমুতি দিচ্ছে না। গতবছর নভেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ে সেখানে শস্য বিশেষ করে চালেরত স্টক ধ্বংস হয়েছে।  

 

স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার লাখ লাখ মানুষের অনাহারের আশঙ্কা নিয়ে অত্যন্ত সচেতন। তারা ফসল রোপণ নিশ্চিত করার জন্য চেষ্টা করছেন, অন্তত তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে, কিন্তু কিছু এলাকা মানুষের কাজ করার জন্য অনেক বেশি বিপদজনক।

 

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রীর পরবর্তী ঘটনা যা আমাকে মুগ্ধ করেছে তা ছিল বাকি বিশ্ব বর্তমান অবস্থাকে পাকিস্তানের আভ্যন্তরীণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা নিয়ে বাঙ্গালী মানুস গভীরভাবে ক্ষুব্ধ, এটি ছিল সংযোগ যা আমি মনে করেছিলাম পাকিস্তানের ইতিহাস প্রতিষ্ঠায় মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব ইত্যাদি।

 

হাউস মুলত সেখানে তিন যুক্তরাষ্ট্র ফেডারেশনে একটি প্রস্তাব প্রত্যাহার হওয়া উচিত। পশ্চিম পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তান ও আসাম এবং তারপর ব্বাকি ভারতের। যা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল, এবং তারপর ১৯৪৭ এ মাউন্টব্যাটেন প্রস্তাব পেশ করা হয়; প্রত্যেক এলাকায় সিদ্ধান্ত নেয়ার বিধান। কিছু কিছু জায়গায় গণভোট হয়েছিল, কিন্তু পূর্ব বাংলায় পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে লেজিসলেটিভ পরিষদ যুক্ত করা সেচ্ছাসেবীদের সিদ্ধান্ত ছিল। এটি সেই সিদ্ধান্ত যা পূর্ব বাংলার মানুস এখন বাতিল করারা চেষ্টা করছেন।

 

আমি পশ্চিম পাকিস্তান দ্বারা পূর্ব পাকিস্তানে অর্থনৈতিক শোষণের কথা মনে করিয়েছি যা পাকিস্তান স্থাপন থেকেই অব্যাহত ছিল। আমি এখন হাউসে যে তথ্য দিতে পারি তা তা বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী থেকে পাওয়া নয় কিন্তু স্বাধীন সুত্রে জানা গেছে, এবং আমি ২৯শে মার্চের ফাইনানশিয়াল টাইমস ে একটি বিশেষ বিবৃতি রেফার ক্রতে পারি।

 

১৯৪৭ সালে পূর্ব পাকিস্তান এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মাথাপিছু অ্ায় ছিল প্রায় সমান। যাইহোক, সাহায্যে ব্যায়ের বৈষম্যের ফলে, সংগ্রহ ও করের খরচ, চাকুরিতে বৈষম্য, পাঞ্জাবীদের জন্য কাজে অগ্রাধিকার, এবং পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা, যা পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ বাণিজ্য অংশীদার পশ্চিম বং পশ্চিম বঙ্গের সাধারণ বাণিজ্য অংশীদার পূর্ব পাকিস্তান কে হারায়, পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের উপর বিশাল অর্থনৈতিক নির্যাতন হচ্ছে।

 

গত বছর আওয়ামীলীগের নির্বাচন বিস্ময়কর নয়, যা পূর্ব পাকিস্তানের কিন্তু পাকিস্তান রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন ের প্রোগ্রাম ছিল, জনপ্রিয় ভতের ৮০ শতাংশ ১৬৯তির ১৬৭ টি আসন লাভ করেছে। এই অপ্রতিরোধ্য বিজয়ের ফলে, আওয়ামী লীগ কে পুরো পাকিস্তানের সরকার হিসেবে গন্য করা হয়। এটা সেই দাবি করে না। যাইহোক, ফলে ২৫ মার্চ ১১ টায় যুদ্ধ ঘোষণা দেয়া হয় যারা নিজের দেশের জনগণের অধিকার দাবির জন্য নির্বাচিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী তার সরকার কর্তৃক স্বীকৃত সরকার দেখতে উদ্বিগ্ন ছিলেন, এবং সর্বোপরি ব্রিটেনের ঐতিহাসিক সম্পরকের কারণে। আমি তার কাছে ব্যখ্যা করি এবং আমি মনে করি যে, তিনি যদি এবং জতক্ষন না বাংলাদেশ বাহিনীর পূর্ব বাংলার একটি বড় অংশ গ্রহণ এবং প্রশংসা করেন, এটি প্রয়ুন হতে পারে, পূর্ব পাকিস্তানে সাহায্য প্রদান করা, বিদেশি সরকারের পশ্চিম পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করা। এ ব্যপারে তারা নিদারুনভাবে উদ্বিগ্ন যে তাদের নির্বাচিত সরকারকে তাদের এইভাবে স্বীকৃত করা উচিত ছিল। আমি তাদের ধীশক্তি দেহে মুগ্ধ হই। সরকারের সদস্যদের সিংহভাগি সামাজিকভাবে উদার এবং আমি বিশ্বাস করি যে আমি তাদের হাউসের প্রত্যেকের সাথে প্রত্যেকের মিলিয়ে দিতে পারবো। তারা গেরিলা যুদ্ধে পাওায়া কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন এবং সামাহিক গণতন্ত্র আদরশ ধারণকারী। একই সাথে একজন গেরিলা ও উদার হওয়া কঠিন। একটি গেরিলা যুদ্ধ অনিবার্য ছিল। সবথেকে খারাপ, যদি পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ এযাবতকালে আরও বেশি সফল হয় তাহলে ভারতের ভেতরে গেরিলা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।

 

ভারত সরকারের মনভাব অন্যতম সঠিক। আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবিং দিল্লীর অন্যান্য মন্ত্রী ও যারা আমাকে মুগ্ধ করে তারা পশ্চিম পাকিস্তনারে বিরোধ বিপদ সম্পর্কে সচেতন এবং পরবর্তী কয়েকবার চীনের সাথে জরিত থাকার। তা সত্ত্বেও ভারতীয় জনমত ভারপ্ত সরকারকে অনুমুতি দেয় না।

 

ফলে এটি অবশ্যম্ভাবী যে গেরিলা কার্যকলাপ থেকে উদ্বাস্তুরা ক্যাম্পে ঘাঁটি গাড়বে। এটা সীমান্তে ঘটা অনেক বিপদ বাড়তে পারাকে নিত্রিত্ত দেয়া। সত্য যে বাংলাদেশ বাহিনিকে সীমান্তে ফিরে আসার জন্য জোর করা হয়, মানে হচ্ছে সীমান্তে দুর্ঘটনা ঘটবে এবং পশ্চিম বাংলায় যুদ্ধ পরিচালনার ঘাঁটি তে অথিক বিপদের আশঙ্কা থাকবে। যদি পদক্ষেপ না নেয়া হয় এই অবস্থা একটি দীর্ঘ পরিনাম দেকে আনবে এবং লক্ষ লক্ষ ম্রত্তুর দুঃখজনক যুদ্ধ। যাইহোক এত একটি যুদ্ধ যা প্রতিরোধ করতে পারে। এটি এক যা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা গম্ভিরভাবে এবং দ্রুত পশ্চিম পাকিস্তানে প্রভাবিত করে। পশ্চিম পাকিস্তানে একটি বৃহৎ আমদানি বিল হয়েছে। যার বিদেশি রিন অনুমান করা হয় প্রায় ১,৮০০ মিলিয়ন। জুদ্ধের শুরুতে ের মজুদ প্রায় ৩৫ মিলিয়ন ছিল এবং মে মাসে ইতিমধ্যে ভারতে প্রায় ৪০ মিলিয়ন ঋণ পরিশোধে খরচ হয়, নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন, যখন এমনকি তারপর, দেখা করতে সক্ষম হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

 

টুডেস টাইমস পশ্চিম পাকিস্তানেরতীব্র আর্থিক সঙ্কতের উপর এখনো রিপোর্ট করেনি। সংবাদ-সপ্তাহের এ সপ্তাহের সংখ্যায় গতকালের ফাইনানশিয়াল টাইমস ের নিবন্ধন্তি নিয়ে আলোচনা করেনি। পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনীতি দেউলিয়া, ধ্বংসের পথে। পশ্চিম পাকিস্তানের একটি যুদ্ধে প্রতিদিন সরকারের প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার খোয়াতে হয়। এই পরিস্থিতিতে বাকি বিশ্ব একটি ভালো চুক্তি জাহির করেছে। আমি মনে করি যখন পশ্চিম পাকিস্তানে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধ হয় তখন আমাদের উচিত পুরো সাহায্য প্রদান স্থগিত করা। কোন ইভেন্তের জন্য আমাদের অবশ্যই নতুন কোন সাহায্যে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া উচিত নয় এবং আমাদের উচিত জথাজথ কিস্তিতে বিদ্যমান ঋণের সার্ভিসিং অঙ্গিকার করা।

 

আমি আশা করি ব্রিটিশ সরকার পসচিম পাকিস্তানে যুদ্ধ চলাকালীন সাহায্য প্রদান স্থগিত করা নিয়ে প্রেস করবেন। আমি আশা করি যে বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মনিটারই ফান্ড নিঃসন্দেহে পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে করা যুদ্ধে পশ্চিম পাকিস্তাঙ্কে সাহায্য করা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের প্রভাব ব্যাবহার করবে। আমাদের সকল সামরিক সহায়তা শেষ করা উচিত কোন ছোট যন্ত্রাংশ বা গোলাবারুদ প্রদান বিতরণ থেকে, যেমন নিম্ন লিখিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। আমি আশা করি যে জাতিসংঘে প্রেসের জন্য অন্য দেশগুলকে যুক্ত করতে পারি,  ত্রাণ সংগ্রহ এবং আন্তর্জাতিক তহবিল সংগঠনএ সঠিক বন্তন নিশ্চিত করার জন্য। ত্রাণ পশ্চিম পাকিস্তান সরকার দ্বারা পরিচালিত এবং যারা অভুক্ত রয়েছে তাদের রেখে ের সামরিক বাহিনিকে আরও মানুস হত্যা করার জন্য ব্যবস্থা করা হয় ।

 

সর্বোপরি, আন্তর্জাতিক চাপে আমরা যাই জাহির করিনা কেন আমাদের উচিত পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তাঙ্কে তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে ব্যবহার করা, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ সরকারে অনুমুতি, পূর্ব পাকিস্তান প্রশাসনে নিতে। এখনো একটি স্বাধীন পূর্ব পাকিস্তান কে মধ্যপন্থী ো দায়িত্বশীল দের নেতৃত্ব থেকে সুরক্ষিত করার ভালো সুযোগ রএছে। এটি বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলর মধ্যে একটি হবে কিন্তু ভারতের সাথে বানিজ্যের জন্য ম্ুক্ত থাকবে। পশ্চিম বঙ্গের পন্য ঠিক সেগুলই যা পূর্ব পাকিস্তনাএর প্রয়োজন হয়। বিশ্বের দুই দরিদতম দেশে পূর্ব পাকিস্তানের বাণিজ্য স্বাধীন থাকবে। জত বেশি যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে দারিদ্র, পীড়া কমার৪ সম্ভাবনা তত কম থাকবে এবং গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে মৃত মানুষের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে।

 

মাননীয় স্পিকার- অনেক সম্মানিত সদস্য কথা বলতে ইচ্ছুক। যারা আমার চখে ধরা পড়েছে তাদেরকে সঙ্খিপ্ত যুক্তিসঙ্গত বক্তব্য দিতে হবে।

বেলা ১১.২৭

বৈদেশিক উন্নয়ন মন্ত্রী( জনাম রিচারড উড)- মাননীয় সদস্য কেংসিংটনের জন্য, উত্তর (জনাব ডগলাস মান) একটি দুরদান্ত ইভেন্ত সম্প্রতি পাকিস্তান কে স্পর্শ করেছে। আমি আশা করি কমনস হাউস আমাকে এই বিতর্ক বেড়ে খুব তাড়াতাড়ি উদ্বিগ্নতা প্রকাশ করার জন্য আমাকে ক্ষমা করে দিবে যা আমাদের সব দুঃখকষ্ট বোধ, না দশ না শত সহস্র কিন্তু লাখ লাখ মানুস এই সাম্প্রতিক ঘটনার ফলে দূরে সরে গিয়েছে। আমি মনে করি সেখানে আজ সাধারণ চুক্তি হবে যে আমরা মানুষের পীড়া দূর করার জন্য এবং রাজনৈতিক ো অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব ফিরিয়ে আনতে যাই করতে পারি তাই করার চেষ্টা করতে হবএ। হাউস্তি স্বাভাবিকভাবে, এবন্য ন্যায়ত, অন্যান্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিসয়ে বিতর্ক করতে অনিচ্ছুক, কিন্তু আমার মতে এটি বঝার চেষ্টা করা প্রয়োজন, বর্তমান অবস্থার পটভূমি দেখে আমাদের সিদ্ধান্তের মনোভাব ঠিক রাখা উচিত। পূর্ব থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে যেই ভ্রমণ করুক, অন্যান্য দিকে, দেশের দুতি অংশ অনইক্য দ্বারা তাড়িত করা আবশ্যক। এটি একটি দেশ যা ভউগলিক দিক থেকে অনন্য। অন্যদিকে যদি তারা দুতি অংশ পরিদর্শন করে। আমি সেখানে রমজান ের রথমে ভ্রমণ করেছি, আমার মনে হয় তারা মুসলিম ধরমের মধ্যে কত ঘনস্ত সম্পরক বজায় রেখেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ১০০ লাখ মুসলিমের জন্য পাকিস্তান ইসলামী স্বদেশ প্রতিস্থা করেছিল। অনেক মাননীয় সদস্য যারা নিজেরা দেখেছেন তারা সম্মত হবে যেই দেশ বিভক্ত হয়ে অন্তত ১০০০ মেইল দূরে চলে গেছে তাদের অসুবিধা দেখা সরকারের জন্য কঠিন হবে। কিন্তু এই সহজাত ভউগলিক অসুবিধা শুধুমাত্র বেশি পরিচিত তাই  এই হাউসে পাকিস্তান সংক্ষিপ্ত স্বাধীন ইতিহাস।    

.

mou

রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের রাষ্ট্রপতিত্বের পর, রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের দ্বারা পুনরায় সামরিক শাসন ঘোষণা করা হল যখন তিনি মার্চ, ১৯৬৯ এ ক্ষমতায় এলেন।  কিন্তু রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খানের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল একটি বেসামরিক গণতান্ত্রিক শাসনের হাতে শীঘ্রই ক্ষমতা হস্তান্তর।

গত নভেম্বরে গঙ্গা অববাহিকায় ঘুর্নিঝড়ের পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান সফরে আমার সুযোগ হয়েছিল রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করার, এবং আমার সম্মানিত বন্ধু প্রধানমন্ত্রী, যা হাউস জানে, গত জানুয়ারিতে তার পাকিস্তান সফরের সময় তার সাথে আলোচনায় বসেছিলেন। আমি তখন আশ্বস্ত ছিলাম এবং এখনও আশ্বস্ত আছি যে রাষ্ট্রপতির পুরোপুরিভাবে একটি বেসামরিক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠ অভিপ্রায় ছিল।

কিন্তু তখন রাষ্ট্রপতি জোর করেছিলেন, এবং তখন থেকে জোর করছেন যে পাকিস্তানকে একটি একক মুসলিম রাষ্ট্রের মর্যাদা বজায় রাখা জরুরি। নির্বাচন গুলির ফলাফল ছিল পরিষ্কার, যেটি পাকিস্তানে সর্বপ্রথম সার্বজনিন ভোটাধিকারের উপর ভিত্তি করে ছিল। শেখ মুজিবর রহমানের আওয়ামী লীগ পুর্ব পাকিস্তানে অপ্রতিরোধ্য জয় পেয়েছিল এবং নির্বাচনী পরিষদে সামগ্রিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। শেখ মুজিব এবং লীগ একটি কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে লম্বা সময় ধরে প্রচারণা করেছেন যেখানে অন্যান্য জিনিসের মধ্যে ছিল পুর্ব পাকিস্তানে বৃহৎ মাত্রায় স্বায়ত্তশাসন যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণ থাকবে শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক বিষয়ে।

যেহেতু হাউস জানে  যে, নির্বাচনের পড়ে রাষ্ট্রপতি, শেখ মুজিব এবং জনাব ভুট্টো,পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা এর মধ্যে প্রাথমিক কথা বার্তা হয়েছিল। যেহেতু হাউস আরও জানে যে দুর্ভাগ্যবশত এটি সমঝোতায় পৌঁছেনি এবং ঢাকায় একটি লম্বা সময় ধরে আলোচনা চলেছিল , রাষ্ট্রপতি মার্চের শেষ দিকে সামরিক কার্যক্রম গ্রহণ করেছিলেন।

যেহেতু সম্মানিত প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ করেছেন, পুর্ব পাকিস্তানে নৃশংস কার্যাবলি সংঘটিত হয়েছে- যা তিনি সঠিক বলেছেন-দ্বন্দ্বের উভয় পক্ষের দ্বারা। পুর্ব পাকিস্তান সম্প্রদায়ে সকল শ্রেণীর মানুষের দুর্দশা এবং জীবননাশ আজ আমাদের গভীর উদ্বেগের ভিত্তি, একটি দেশ যেটির সাথে ব্রিটেনের এবং অনেক মানুষ যারা সেখানে বাস করেছে অনেক গভীর বন্ধন রয়েছে, একটি দেশ যেটি কমনওয়েলথ এর সাথী সদস্য এবং একটি দেশ যেখান থেকে অনেক মানুষ ব্রিটেন এ বসবাস করতে এসেছে। সেসমস্ত নিকট বন্ধনের জন্য, অতীত এবং বর্তমান উভয় সময়ে  আমরা পাকিস্তানের মত দেশের প্রতি উদ্বিগ্ন হয়ে থাকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়।

এই সংবিগ্ন পরিস্থিতিতে যেটি মার্চ এর শেষ এবং এপ্রিলের শুরুর দিক থেকে অবস্থা করছে, এটি আমাদের জন্য জরুরি যে আমরা পুর্ব পাকিস্তানে আমাদের নিজস্ব জাতীয় অধিবাসীদের সাহায্য করি দেশ ত্যাগের জন্য যদি তারা নিরাপত্তার খাতিরে এটি জরুরি মনে করে। এই ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৮০০ ব্রিটিশ অধিবাসী দেশ ত্যাগ করেছে।

লিডস, পুর্বের (জনাব হিলি) যোগ্য সম্মানিত সদস্য এই সপ্তাহে আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু, পররাষ্ট্র সচিবকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন শেখ মুজিবের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে,  এবং আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আমাকে অনুরোধ করেন এই যোগ্য সম্মানিত ভদ্রলোকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করার এবং এটি করতে বলেন। এই প্রশ্ন, অন্যান্য অনেক বিষয়ের মাঝে একটি বিশয় যেটির ব্যাপারে তিনি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির সাথে যোগাযোগ রেখেছেন, এবং আমাদের সাম্প্রতিক তথ্য এটি যে শেখ পশ্চিম পাকিস্তানে নিরাপত্তা হেফাজতে আছেন এবং এটি সম্ভাব্য যে তাকে বিচারের আওতায় আনা হবে, কিন্তু আমাদের কাছে কোন সুনিশ্চিত প্রতিবেদন নেই যে তাকে পুর্ব পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে।

আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি যে আমাদের মাঝে পাকিস্তানে অতিসত্ত্বর জরুরি বিশয় কি হতে পারে এই ব্যাপারে কোন বলিষ্ঠ প্রভেদ হবে কিনা, যদিও আমি সম্পুর্ন স্পষ্ট করেছি যে বিভিন্ন পন্থার মাঝে গভীর পার্থক্য হবে যেটির দ্বারা সেই উদ্দেশ্য অর্জিত হতে পারে। একমাত্র বিচক্ষণ উদ্দেশ্য হতে পারে সেই দেশে শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পুনঃসৃষ্টি। আমরা আমাদের স্বার্থ পাকিস্তানের সরকারের কাছে পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছি এবং সেই সরকার আমাদের কাছে পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছে যে তারা এই উদ্দেশ্যের প্রতি পুরোপুরি নিবেদিত।

কিন্তু রানীর সরকার এবং পাকিস্তানের বাইরে অন্যান্য সরকারের জন্য তিনটি আলাদা সমস্যা প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রথমটি হল পুর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে দুর্দশা এবং সম্ভাব্য খাদ্যস্বল্পতা দূরীকরণ; দ্বিতীয়টি হল যা সম্মানিত সদস্য উল্লেখ করেছেন শরনার্থীদের দুর্দশা দূরীকরণের সমস্যা যারা পুর্ব পাকিস্তান অতিক্রম করে ভারতে গিয়েছে এবং তৃতীয় সমস্যা হল দীর্ঘ মেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা।

১১ এপ্রিল এখানে তার বক্তব্যে আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু পররাষ্ট্র সচিব আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টায় রানীর সরকারের অংশগ্রহণের তৎপরতার কথা পুনরায় উল্লেখ করেছিলেন, এবং তিনি ১১ মে বলেছিলেন, আমেরিকান রাষ্ট্রসচিবের সাথে পরামর্শের পর, যে আমাদের দৃষ্টিতে এটি জাতিসংঘের মাধ্যমে উত্তমভাবে ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সুতরাং, উ থান্টের কাছে একটি বার্তা পাঠানো হয়েছিল যেটিতে পরামর্শ ছিল যে আন্তর্জাতিক সহায়তার জন্য তার প্রস্তাব পুনরায় করা উচিত। উ থান্ট পাকিস্তান সরকারের সাথে ত্রাণ সমস্যার ব্যাপারে যোগাযোগ রেখেছেন এই উদ্দেশ্যে, একটি বিশেষজ্ঞ দলকে একটি বস্তুনিষ্ঠ মুল্যায়ন তৈরির জন্য যে কি প্রয়োজন এবং একটি আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে যেকোন প্রয়োজনীয়তা সহায়তা গ্রহণ করার জন্য।

দ্বিতীয় সমস্যা যেটির উপর সম্মানিত সদস্য তার অধিকাংশ বক্তব্য নিয়োজিত করেছিলেন সেটি হল উল্লেখযোগ্য সংখক শরনার্থী বর্তমানে ভারতে অবস্থা করছে। আমি এই ব্যাপারে ভারতীয় সরকারের গভীর উদ্বেগের ব্যাপারে অবগত এবং আমি এই সরকারের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারি যে এই অবস্থার মোকাবেলা করা উচিত। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত এই ব্যাপারে আমার সাথে দুই দিন পুর্বে আলোচনা করেছেন, এবং আবারও এই সমস্যার নিশ্চিতভাবেই যেটি দরকার সেটি হল আমাদের অবশ্যই এটি আন্তর্জাতিকভাবে সমাধান করা উচিত।

প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে যেটি আমার সম্মানিত বন্ধু হাউসকে বলেছেন, আমরা অতিসত্বর সহায়তা করেছিলাম ব্রিটিশ দাতা সংস্থা গুলোকে সহযোগিতা প্রস্তাবের মাধ্যমে যেটি ছিল ৬ মে ত্রাণ সরবরাহ নিয়ে আকাশ পথে যেতে তাদের সমর্থ করা। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দাতা সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে এবং আমি আশা রাখি যে এটি বজায় থাকবে। আমি বুঝতে পারছি যে দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধি- সম্ভবত ওয়েনসবারির যোগ্য সম্মানিত সদস্য (জনাব স্টোনহাউস) এবং অন্যনান্য সম্মানিত সদস্যরা সম্ভবত এর উপর মন্তব্য করতে সমর্থ হবেন- বর্তমানে ভারতে পরিস্থিতির যাচাই করছেন। আমি আরও বুঝতে পারছিযে ভারতীয় সরকার জাতিসংঘের কাছে সহায়তার জন্য আবেদন করেছে, এবং জাতিসংঘ শরনার্থী হাই কমিশনের একটি দল বর্তমানে ভারতে আছে। আমাদের এটির প্রতিবেদনের জন্য আগ্রহ সহকারে অপেক্ষা করা উচিত। একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ প্রচেষ্টা স্পষ্টত প্রয়োজন। আমাদের দৃষ্টিতে এটি জাতিসংঘের ভারতীয় সরকারের সহযোগিতায় পরিচালনা করা উচিত।

তৃতীয় সমস্যা যেটি আমি উল্লেখ করেছিলাম সেটি হল পৃথক সমস্যা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে অসুবিধা এবং সহায়তা যেটি এটিকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন। এটি একটি বিশয় যেটি আমরা বিশ্ব ব্যাংকের  এবং পাকিস্তান ত্রাণ সংঘের অন্যান্য সদস্যের সাথে  আলোচনা করছি   শর্ত স্থাপনের চেষ্টা করার জন্য যার অধীনে এমন সহায়তা আরও কার্যকরী ভাবে প্রদান করা যেতে পারে।

আমি সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের জনাব ম্যাকনামারা এর সাথেওএটি নিয়ে আলোচনা করেছিলাম। এটি আমার কাছে পরিষ্কার যে  অন্যান্য দাতারা আমদের উদ্বেগের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছে এবং  আমাদের সাথে সহমত যে দাতা দেশ এবং সংস্থাগুলোকে অবশ্যই একসাথে কজ করতে হবে। আমরা তাই আশা করছি যে পাকিস্তানের ব্যাপারে একটি সংঘ সভা শীঘ্রই আয়োজন করা হবে, যেটিতে পরবর্তী সহায়তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হতে পারে।        

.

Mou

যখন তিনি মঙ্গলবারে হস্তক্ষেপ করলেন লানার্ক এর যোগ্য সম্মানিত মহিলা সদস্য (মিসেস হার্ট), পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝে অসমতার উল্লেখ করলেন। সম্মানিত ভদ্রলোক এই সকালে এই ব্যাপারে উল্লেখ করেছিলেন। আমরা এবং সংঘের অন্যান্য সদস্যরা এই ব্যাপারে খুবই উদ্বিগ্ন এবং আমরা এই দুঃখজনক ঘটনাগুলো ঘটার অনেক পুর্বে পুর্ব পাকিস্তানে আমাদের ত্রানের বৃহত্তর অংশ ব্যয়ের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করছি। এটি শুধুমাত্র আমরা নই যারা এই উপসংহারে পৌঁছেছে। ১ নভেম্বর পুর্ব পাকিস্তানে পা রাখার পুর্বে আমি যখন ইসলামাবাদে ছিলামামাকে পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্পষ্টভাবে অবগত করা হয়েছিল যে এই ভারসাম্যহীনতা যা অতীতে সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং যেটি তারা জানতে পেরেছে, ভবিষ্যতে বিহিত করা উচিত। আমার মনে আছে যে বাক্য প্রতিনিয়ত আমার সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছিল সেটি ছিল-“ পশ্চিম থেকে পুর্বে প্রয়োজনীয় সম্পদের স্থানান্তর”। সুতরাং, এটি এমন কিছু নয় যেটি আমরা নিজে থেকে চিন্তা করেছি; পাকিস্তান সরকারের এতে সমর্থন আছে।

আমাদের ত্রাণ সহায়তা বিশেষভাবে উপদিষ্ট ছিল, যা যোগ্য সম্মানিত মহিলা জানেন, পানি এবং কৃষি উন্নয়নের জন্য কার্যক্রম কর্মসুচিতে যেটি বিশ্বব্যাংক গত জুলাইতে প্রস্তুত করেছিল। এটি, যেমন যোগ্য সম্মানিত মহিলা জানেন,  দেশব্যাপী সেচ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি খুবই বিশাল এবং উচ্চাভিলাষী কর্মসুচি, এমন এক প্রকার যেটি যেকোনো অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভিত্তি হিসেবে অবশ্যই প্রয়োজন।

গত শরতে পুর্ব পাকিস্তান থেকে ফেরার পর, আমরা পাকিস্তান সরকারের সাথে কিছু সমঝোতায় পৌঁছেছিলাম, কার্যক্রম কর্মসুচিতে আমাদের নিজস্ব ব্রিটিশ অবদান কি রুপ নেয়া উচিত। আমরা নানবিধ সম্ভাবনার ব্যাপারে আলোচনা করেছিলাম। কিছু এই আলোচনায় ফলপ্রসূ হচ্ছিল, কিন্তু হাউস এই ব্যাপারে স্পষ্ট অবগত থাকবে, এ সমস্ত এখন স্থির আছা। আমাদের বিশেষজ্ঞ এবং পরামর্শকদের পুর্ব পাকিস্তান থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং ঋনের অধীনে ব্রিটিশ দ্রব্যাদির সরবরাহ স্থগিত করা হয়েছে।

সম্মানিত সদস্যরা দেখে থাকবেন যে এক্সপোর্ট ক্রেডিটস গ্যারান্টি বিভাগকে বাধ্য করা হয়েছে পাকিস্তানের সাথে পরবর্তী কোন রপ্তানি লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য। আমাকে বলা হয়েছে যে এটি একটি পদক্ষেপ যা অনেক অনিচ্ছার সাথে নেয়া হয়েছে। কিন্তু বিভাগের স্বাবলম্বনের ভিত্তিতে এটির কর্তব্যের আলোকে, পাকিস্তানে বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে এটি অবশ্যম্ভাবী। এই গোলযোগের দ্বারা শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হয়নি, অনেক গুরুতরভাবে ভবিষ্যৎ রপ্তানি আয়ও মারাত্নকভাবে কমে যেতে পারে। এসমস্ত কিছু,যা  ইতোমধ্যে একটি নাজুক অর্থনীতিতে পুর্ববর্তী বন্যার ধকলের উপরে অবস্থান করছে, বৈদেশিক ঋনের বর্তমান ভার পরিশোধ অব্যাহত রাখার জন্য পাকিস্তানের সামর্থ্যের উপর গুরুতর শঙ্কা উত্থাপন করবে।

এই বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যা যা আমি উল্লেখ করেছি, একটি বিরোধকে সামনে নিয়ে আসে যেটি এই বিতর্কে সম্ভবত একটি বড় অংশ দখল করে আছে। রানীর সরকার উদ্বিগ্ন, যেমনটি আমি আশা করি যে আমি স্পষ্ট করেছি যে, পাকিস্তানে উন্নয়ন সহায়তা পুনরায় শুরু করা যখন এটি শুরু করা যাবে। সম্মানিত ভদ্রলোক তর্ক করেছিলেন, যেটি কোন সন্দেহ নেই যে অন্যন্য সম্মানিত সদস্যরাও তর্ক করবেন এই বিতর্কের সময়, যে আমাদের পাকিস্তানকে পরবর্তী কোন সহায়তা দেয়া উচিত নয় যতক্ষন না রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রমে রাজি হবেন। যদিও ত্রাণ সহায়তা সমস্যার সাধারণ সমাধানে একটি ভূমিকা রাখতে পারে। আমি গভীরভাবে দ্বিমত পোষণ করি যে এটিকে একটি নির্দিষ্ট সমাধান চাপিয়ে দেয়ার জন্য দণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যেটিকে পর্যবেক্ষকরা, ঢাকা অথবা ইসলামাবাদ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকে ভুলঅভাবে চিন্তা করেতে পারেন যে এটি শান্তি স্থাপনে অবদান রাখবে এই জ্ঞানের সাথে যেটি অবশ্যই অসম্পুর্ন।

সুতরাং, দ্বিধা সমাধানের জন্য যেটি আমি অধিক ইতিবাচক উপায় বিবেচনা করি সেটিকে প্রাধান্য দেব। আমরা প্রস্তুত। আমি পুনরায় বলছি যে, উন্ননের জন্য ত্রাণ সহায়তা পুনরায় চালু করার জন্য, কিন্তু আমরা স্পষ্টত এটি করতে পারি শুধুমাত্র যদি শর্তগুলো পুনরধিষ্ঠিত করা যায় যার অধীনে এই সহায়তা কার্যকরীভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। সুতরাং, এটি রানীর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি যে পুর্ব পাকিস্তানে একটি রাজনৈতিক সমাধান জরুরি এবং এটি অবশ্যই পাকিস্তান সরকার এবং জনগনের বিশয় যা তাদের অর্জন করতে হবে। আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু  প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সাথে ঘনিষ্ঠ এবং গোপন যোগাযোগ রেখেছেন, তাকে বলেছেন এই সমঝোতার লক্ষ্যে কাজ করতে। আমি অবগত আছি যে রাষ্ট্রপতিও সেটি করতে চান। আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু বৈদেশিক এবং কমনওয়েলথ বিষয়ক রাষ্ট্রসচিব পুর্ব পাকিস্তানের দুর্দশা সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেটি আমি আশা করি আমি পর্যাপ্তভাবে এই সকালে উল্লেখ করেছি, এবং আমাদের আশা যে এই দ্বন্দ্বের একটি সমঝোতা যথাসম্ভব শীঘ্রই অর্জিত হবে সকল দলেনর গ্রহণযোগ্যতার উপর ভিত্তি করে।

আমি আশা করি এটি স্পষ্ট যে আমি কি বলেছি , আমি হাউসকে এই পদক্ষেপ নেয়ার জন্য কোন উপদেশ দেয়ার অবস্থানেই নেই, যেটি আমি মনে করি ভুল হবে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়ার, যেটি আমাদের একটি সুযোগ দিয়েছে সেটি থাকার যা আমি আশা করি একটি কার্যকরী এবং গঠনমূলক আলোচনা হবে।সরকার হাউসের এই উদ্বেগের ব্যাপারে অবগত এবং বিশেষত অনেক সম্মানিত সদস্যের উদ্বেগের যাদের অনেকের নির্বাচনী এলাকা পাকিস্তানের সাথে ব্যক্তিগত এবং অর্থনৈতিক বন্ধনযুক্ত। এটি একটি উদ্বেগজনক ব্যাপার যেটির আমরা পুরোপুরি অংশীদার এবং আমরা একটি সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য ইচ্ছা প্রকাশ করি যেটি আমাদের সমর্থ করবে সেই ভূমিকা পালন করতে যেটি আমাদের পালন করা উচিত সমগ্র পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্য। ১১:৪৭ এ এম

জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট (ফুলহাম)- আমরা সবাই আমাদের সম্মানিত বন্ধুর প্রতি কৃতজ্ঞ কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য জনাব ডগলাস-মান এর প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন এবং যিনি খুবই চিত্তাকর্ষক এবং উদারভাবে এটির সম্পর্কে কথা বলেছিলেন।আমরা বৈদেশিক উন্নয়ন মন্ত্রীর কাছে বাধিত এই বিতর্কে শীঘ্রই হস্তক্ষেপ করার জন্য। আমরা এটি শুনে আনন্দিত যে সরকার ইতোমধ্যে ভবিষ্যতে ত্রাণের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে পদক্ষেপ নিয়েছে- জাতিসংঘের মহাসচিব এবং দাতা সংস্থাগুলোর সাথে তাদের যে আলোচনা হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহের অতিক্রমের সাথে এই সমস্যা ব্যাপকভাবে প্রকট হবে এবং হতে থাকবে, প্রশ্ন হল এই সমস্যাগুলোর প্রতি কেমন আচরণ হবে, দুর্দশাগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ক্ষমতা কাদের হাতে থাকবে- তারা কি পশ্চিম পাকিস্তানী অথবা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ- ত্রাণের পাওয়া এবং ব্যাবস্থাপনার ক্ষেত্রে।

সমানভাবে, যা মন্ত্রী বললেন, যদি ত্রাণ সহায়তা পুনরায় চালু করা হয় এবং যদি এটি দেখানো হয় যে পুর্ব পাকিস্তানের প্রয়োজনীয়তার দিকে  পক্ষপাত দেয়া হচ্ছে যেটি তিনি বর্ননা করলেন, এই নিতিগুলর বাস্তবতায় রুপান্তর পুর্ব পাকিস্তানে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর উপর নির্ভর করবে। সুরাং আমাদের এই দিকটি বিবেচনা করা কর্তব্য।

আমি এখানে অন্য সকলের মত জানি সেই সমস্যাগুলোকে যা ঐ পরিস্থিতিকে একটি সরকারকে ঘিরে ধরে। এই দ্বন্দ্বের  এবং নাইজেরিয়ার দ্বন্দ্বের মাঝে অনেক বৈসাদৃশ্য আছে কিন্তু একটি আনুষ্ঠানিক এবং আইনি সাদৃশ্য আছে যেটির কিছু গুরুত্ব আছে। এটি হল যে উভয় ক্ষেত্রেই এটি একটি  কমনওয়েলথ দেশে এটি একটি বেসামরিক যুদ্ধ। আই উপলব্ধি করছি যে যুক্তরাজ্য সরকার যে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে সেটি হল- আমরা কিভাবে কিছু উপকার করতে পারে পাকিস্তানের কাছ থেকে পুরোপুরি কোন আরোপের প্রসঙ্গ ছাড়াই যে আমরা এটির অভ্যন্তরীণ ব্যপারে হস্তক্ষেপ করছি এবং সম্ভবত এটি সিন্ধান্ত নেয় যে আমরা যা করছি সেটি বিপরীত ফল বয়ে আনবে।    

 

   

.

আমি বিশ্বাস করি একটি উত্তর রয়েছে যেটি আমি আশা করেছিলাম যে মন্ত্রী দেবেন। এটি হল কমনওয়েলথ কাঠামোর মাধ্যমে কাজের চেষ্টা করা। এই বিষয়ে ব্রিটেনের একার কাজ করার চেষ্টা সন্দেহের উদ্রেক করবে যে আমরা পুনরায় সর্বশক্তির দেশ হওয়ার চেষ্টা করছি।

কমনওয়েলথ এর গঠন এবং কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট সৃষ্টির সমগ্র চিন্তার অন্যতম কারণ ছিল যাতে কমনওয়েলথ দেশগুলো একে অপরের সংস্পর্শে থাকতে পারে এমন একটি পন্থায় যেটি শত্রুতা বা হস্তক্ষেপ এর অভিযোগ এর উদ্রেক করবে না। আমি এটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ বা তত্ত্বীয় নিতিকথা হিসেবে বলছিনা। এখানে উদাহরন স্বরুপ বলা যায় যেখানে নাইজেরিয়ার সাদৃশ্য কিছুটা গুরুত্ব বহন করবে। আমার মনে আছে যে ১৯৬৯ এর শুরুর দিকে কমনওয়েলথ প্রধানমন্ত্রী দের সম্মেলনের সময়ে, প্রধান আওলোও এখানে এই দেশে ছিলেন নাইজেরিয়ান সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে। লন্ডনে আরও ছিলেন বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারের প্রতিনিধিরা। ব্রিটিশ সরকার সমর্থ ছিল, কমনওয়েলথ সম্মেলনের পটভূমিকার প্রেক্ষিতে, প্রধান আওলোও কে বিচ্ছিন্নতাবাদী সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে দেখা করার জন্য রাজি করানোতে, যেখানে প্রধান চালিকাশক্তি ছিল কমনওয়েলথ পৃষ্ঠপোষকতা। এটি খুবই দুর্ভাগ্যজনক ছিল যে ঐ প্রতিনিধিরা সেই সুযোগ প্রত্যাখান করেছিলেন। সেই ক্ষেত্রে, দেশটি বলেছিল “এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার” যেহেতু কমনওয়েলথ কাঠামোতে কিছুটা প্রস্তুত ছিল সমঝোতার সম্ভাব্যতা আলোচনা করার জন্য। আমার ধারণা সরকার তাদের যা আছে তার চেয়ে বেশী কিছু করতে পারত না কমনওয়েলথ কাঠামোকে ব্যবহার করার চেষ্টা করে এই ভয়াবহ দ্বন্দ্বে রাজনৈতিক সমঝোতার প্রচার করতে।

আমাদের আরও  মনে রাখা উচিত যে নাইজেরিয়ান সরকার, নিসন্দেহে তাদের সার্বভৌম মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তাদের শক্তিসমুহের সাথে সহযোগী হিসেবে থাকতে দেয়ার জন্য ইচ্ছুক ছিল, আসলে দেখার জন্য তারা কেমন আচরণ করেছিল এবং বিশ্বের কাছে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। তারা এটিকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে তাদের মর্যাদার পতন হিসেবে দেখেনি যেমনটি হওয়া উচিত ছিল। আমি জানি না পাকিস্তনা সরকারের আচরণ কেমন হতে পারে। কিন্তু নাইজেরিয়ার স্থাপন করা দৃষ্টান্তের প্রেক্ষিতে , পাকিস্তানে ভয়াবহ গনহত্যার উপর  বিশ্ববাসীর নিঃসন্দেহ উদ্বেগের প্রেক্ষিতে, আমি বিশ্বাস করি যে এটি এমন একটি বিষয় যা তাদের বিবেচনা করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো উচিত।

আমি এর বেশী কিছু বলব না যেহেতু আমি জানি অনেকেই এই বিতর্কে অংশ নিতে ইচ্ছুক। আমি  যতদুর সম্ভব পরিমিতভাবে পরামর্শ দিতে পারি যে আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই তারা ত্রাণ সহায়তার জন্য এই পর্যন্ত যা করেছে তার জন্য। আমি বিশ্বাস করি তারা হাউসের পুর্ন সমর্থনের জন্য আশ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে, পরবর্তী পদক্ষেপগুলোর জন্য যা শেষ পর্যন্ত নেয়া যেতে পারে। আমি শুধু পরামর্শ দিতে চাই, এ ছাড়াও, যে একটি রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা যা এখনও সেভাবে ব্যবহার করা হয়নি যেভাবে ব্যবহার করা উচিত ছিল যা হয়ত কার্যকরী হতে পারে। সকাল ১১;৫২

জনাব হিউ ফ্রেসার (স্ট্যাফোর্ড এবং স্টোন); আমিও কেনসিংটন, উত্তর (জনাব ডগলাস মান) এর সম্মানিত সদস্যকে অভিনন্দন জানাতে চাই যিনি যুক্তিযুক্ত এবং কূটনৈতিকভাবে এই বিতর্কের সুচনা করেছেন। আমি আরও অভিনন্দন জানাতে চাই বৈদেশিক উন্নয়ন এর যোগ্য সম্মানিত মন্ত্রীকে তিনি যা বলেছেন তার উপর যেটি অবশ্যম্ভাবীভাবে একটি অত্যন্ত যৌক্তিক বক্তব্য ছিল। আমি মনে করি তিনি যা বলেছেন সেটি থেকে একটি উপসংহার টানা ন্যায়সঙ্গত হবে যে যে প্রভাব যা আমাদের আছে সেটিকে আনা হবে দেখার জন্য যে একটি সমাধান পাওয়া যেতে পারে। 

এটি কিছু আবেগের সাথে যা আমি অনুসরণ করি  ফুলহাম এর যোগ্য সম্মানিত সদস্য (জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট), সেই সময়ের পরে যখন আমরা নাইজেরিয়ান বেসামরিক যুদ্ধের উপর বিবাদে জরিয়ে ছিলাম। আমিও একটি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তার সাথে যোগদান করতে চাই এই পরামর্শ দেয়ার জন্য যে অন্যান্য পন্থাও রয়েছে যেখানে আরও অধিক অর্জন করা সম্ভব, জাতিসংঘের মাধ্যমে অথবা এই দেশের একা কাজ করার চাইতে।

এ ব্যাপারে কোন প্রশ্ন নেই যে যে পুর্ব পাকিস্তানে বর্তমান ভয়াবহতা একটি বাস্তবিক সমস্যার উপস্থাপন করছে যা শুধুমাত্র হাউসের নৈতিক জ্ঞানকে প্রভাবিত করবে না, বিশ্বের ঐ অংশের স্থিতিশীলতার প্রশ্নকেই প্রভাবিত করবে। কেনসিংটন, উত্তর এর সম্মানিত সদস্য যেটি স্পষ্ট করেছেন, অন্যান্য শক্তিও রয়েছে যারা জনগনের দুঃখদুর্দশার উপর সমৃদ্ধিলাভ করার চেষ্টা করছে এবং একটি এলাকার শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে যেখানে দ্বন্দ্বের অনুপস্থিতি বিশ্বশান্তির জন্য অত্যাবশ্যক। আমি এই বিষয়কে ভীষণ উদ্বেগজনক হিসেবে বিবেচনা করি, শুধু এই কারণে নয় যে যে সমস্ত জনগন দুর্দশা ভোগ করছে তাদের প্রতি আমাদের অনুভুতি আছে এবং পাকিস্তানে আমাদের অনেকেরই বন্ধু রয়েছে, এই কারণেওযে এটি এশিয়ার স্থিতিশীলতার উপর বাস্তবিক হুমকি তৈরি করতে পারে। সুতরাং, দুর্ভাগ্যজনকভাবে শুধুমাত্র একটি উন্নত পরিস্থিতি তৈরির জন্য জাতিসংঘের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, যা এই পর্যন্ত রানীর সরকারের দ্বারা বিবেচনা করা হয়েছে, তার থেকেও এই প্রচেষ্টা আরও বড় মাপের এবং আরও অনেক গভীর মাত্রায় হতে হবে।

এখানে আমি অতিসত্ত্বর ফুলহামের যোগ্য সম্মানিত সদস্যের সাথে যোগদান করব। আমি বিশ্বাস করি যে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়ে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে, এভং আমি মনে করি যে এটি প্ররোচিত হওয়া উচিত। কিন্তু জাতিসংঘের বাইরেও আরও দুটো এলাকা আছে যেখানে চাপ প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং খাদ্য বন্তনের আশু সমস্যা মোকাবেলার জন্য সহায়তা সুলভ করা যেতে পারে। আমি বিশ্বাস করি সেন্টো চুক্তির অধিনে-যেতি সর্বোপরি পাকিস্তানের কাছে অনেক গুরুত্বপুর্ন এবং যেটির আমরা এবং তুরস্ক, অন্যান্যদের মাঝে সদস্য- একটি প্রস্তাবনা করা উচিত যে প্রকৌশল দল সে সমস্ত সমস্যাগুলোর মোকাবেলা করার জন্য সুলভ রাখা উচিত যেগুলো প্রকৃতিগতভাবে প্রকৌশলী এবং যেগুলো মোকাবেলা করা স্পষ্টতই পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর সাধ্যের বাইরে। আমি আরও বিশ্বাস করি, যেটি ফুলহামের যোগ্য সম্মানিত সদস্য পরামর্শ দিয়েছেন, যে এটি পাকিস্তানী সরকারের উপর ছেড়ে দেয়া উচিত যে পর্যবেক্ষকদের এটি দেখতে দেয়ার অনুমতি দেয়া উচিত যে খাদ্যদ্রব্য যেগুলো  সহজলভ্য,  ভিতরে ধুকছে এবং সরবরাহ করা হচ্ছে।

শেষে, আমি বিশ্বাস করি যে আমাদের দায়িত্ব এবং গুরুত্ত্বের একটি স্থান আছে যেটি আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধুর দ্বারা স্পর্শ করা হয়েছে এবং আমাদের এটি স্পষ্ট করা উচিত যে সহায়তা বর্ধিত করা অসম্ভব সেই সময় পর্যন্ত যতক্ষণ সেই স্থানের অবকাঠামো ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত। আমি বিশ্বাস করি না এটি একটি হুমকি। এটি একটি বাস্তবিক বিষয় এবং আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধু অনেক দায়িত্বজ্ঞানের সাথে এটির উপর আলোকপাত করেছেন এবং বিষয়টির উপর বেশীদূর চাপ প্রয়োগ করেননি।

  কোন ধরণের মানবিক বিষয়  থেকে বেশ দূরে- এবং এটি আমাদের সকলকে স্বতন্ত্র ব্যক্তি হিসেবে প্রভাবিত করেছে-কিন্তু হাউস অফ কমন্স হিসেবে আমাদের সরকারের উপর প্রভাব আনতে হবে এর ফলাফলের জন্য। আমাদের পরামর্শ হল যে এই দেশ এবং আমাদের সরকারের ভীত হওয়া উচিত নয় যেটি তারা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কমনওয়েলথ এর একজন প্রধান সদস্য হিসেবে, প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে এবং সেন্টো চুক্তির সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন এবং গতিশীল সদস্য হিসেবে, আমাদের সুযোগ আছে এটি দেখার যে এই ভয়াবহ অবস্থা হল নিয়ন্ত্রিত এবং বিশ্বশান্তির হুমকি হিসেবে পরিণত হয়নি, যেটি সহজে হতে পারত। সকাল ১১;৫৯

জনাব পিটার শোর (স্টেপনি); আমি আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য (জনাব ডগলাস মান)কে হাউসের সামনে এই প্রস্তাব তুলে ধরার জন্য অভিনন্দন জানানোর জন্য আমার যোগ্য সম্মানিত বন্ধুদের সাথে যোগদান করলাম। আমি তার প্রতি ধন্যবাদ জানাই, এবং অন্যান্য যোগ্য সম্মানিত বন্ধুদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা পুর্ব পাকিস্তানে গিয়েছেন যতদুর পর্যন্ত তাদের যাওয়া সম্ভব ছিল, এবং যারা সরাসরি যা খুজে পেয়েছেন সেটি সহ ফিরে এসেছেন। আমি কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সাধারণ যুক্তিকে যেটি ছিল পরিস্থিতি যাচাইয়ে আমাদের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল “লৌহ পর্দা” যেটি পুর্ব পাকিস্তানে গত ছয় সপ্তাহের অধিকাংশ সময় জুড়ে নেমে ছিল।

আমরা ঘটনাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানি যেগুলো অতিসত্ত্বর পুর্ব পাকিস্তানে পাকিস্তানী সৈন্যবাহিনীর দ্বারা ক্ষমতা দখল বা বিভিন্ন কেন্দ্রের ভোগদখলকে ত্বরান্বিত করেছিল। আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানতাম এবং আমরা জানতাম প্রসঙ্গত যে এটি সেই পরিস্থিতি ছিলনা যেটিতে পুর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক ব্যক্তিরা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন কিন্তু এটি ছিল সেই ঘটনা যাতে তারা তখনও রাজনৈতিক কর্মসুচির উপর জোর দিচ্ছিলেন যেটি তারা তাদের নিজেদের দেশের জনগন এবং সর্বোপরি সবার কাছে তুলে ধরেছিলেন-পাকিস্তানের স্বাধীনতা।

তখন থেকে, যাইহোক, এবং সৈন্যবাহিনীর পুর্ব বাংলায় স্থানান্তর এবং আক্রমণের কিছু দিনের মধ্যে আমরা অব্যাহত এবং সুশৃঙ্খল তথ্যের থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। প্রতিনিধিদের একত্রে আনা হয়েছিল এবং সম্ভব্য শীঘ্র মুহুর্তে তাদের দেশ থেকে প্রেরণ করা হয়েছিল। এখন, পাঁচ বা ছয় সপ্তাহ পর, আমরা পরবর্তী প্রতিবেদন গুলো গ্রহণ করা শুরু করেছি যেহেতু বেশ কিছু সংখ্যক প্রতিনিধি, শক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতির মাঝে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর কাছ থেকে অনুমতি পেয়েছেন কি হচ্ছে সেটির কিছু অংশ ঘুরে দেখার জন্য।

আমি এক মুহুর্তের জন্য ঘুরে দেখব প্রতিবেদনটি যেটি বুধবার, ১২ মে ফিন্যান্সিয়াল টাইমে প্রকাশ পেয়েছিল, আগেরদিন ঢাকা থেকে এটি জনাব হার্ভে ষ্টকউইন দ্বারা প্রেরিত হয়েছিল। তিনি লিখেছেনঃ

“সকল নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত যে মৃতের সংখ্যা শত থেকে হাজারে পৌঁছেছে”।

“অব-নগরায়ন ব্যাপক মাত্রায় অব্যাহত আছে; অধিকাংশ শ্রমিক কারখানা থেকে এবং চাষিরা ক্ষেতে থেকে অনুপস্থিত থাকা অব্যাহত রাখছে”।

এই প্রতিবেদনগুলো যেমন আছে তেমন  ছাড়াও, পুর্ব বাংলা থেকে, আমরা জানি যে ব্যাপক মানবস্রোত সীমান্ত অতিক্রম করে পশ্চিম বাংলা এবং ভারতে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

স্পষ্টতই, আমরা একটি মহাবিপর্যয়  প্রত্যক্ষ করছি এবং আমার অশুভ অনুভুতি হচ্ছে যে এটির মাত্রা অনেক ব্যাপক যেটি আমরা এখনও বুঝতে বা বিশ্বাস করতে শুরু করিনি। আমাদের নিজেদের জিজ্ঞাসা করতে হবে, সুতরাং, কঠিন প্রশ্ন-সর্বদাই ব্রিটিশ সরকারের জন্য কঠিন এর প্রেক্ষিতে  যে শুধু একটি মিত্র রাষ্ট্র নয়, কমনওয়েলথ এর সহযোগী দেশ হিসেবে পুর্বে কি বিষয় রয়েছেঃ এই ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য কি?

আমি কখনোই একজন সেরকম মানুষ ছিলাম না যে হালকাভাবে জোর দেবে যে আমাদের করা উচিত, এটি যেমন ছিল, একটি প্রথম প্রাধান্য হিসেবে আমাদের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগকে পরিতৃপ্ত করার জন্য কিছু জ্ঞানের প্রেক্ষিতে, এমন ভাবে কাজ করা উচিত যেটি নৈর্ব্যক্তিকভাবে আসল পরিস্থিতিকে সহায়তা করে না। এই ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র সচিবের কাছ থেকে বিভিন্ন  বক্তব্য শোনার পর এবং এটি জেনে যে তিনি পাকিস্তান সরকারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে প্রতিনিধিত্ব তৈরি করেছেন, যদিও দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিশ্বাস করা যে ঐ ব্যক্তিগত প্রতিনিধিত্বের খুবই কম প্রভাব আছে, সর্বত্তোমভাবে। আমি মনে করি যে আমরা কথা বলে ঠিক কাজ করেছি, এবং সাধারণভাবে কি হচ্ছে সে সম্পর্কে।

যখন আমি বলি “আমরা” আমি বস্তুত সংসদের সকল সদস্যকে বোঝাই, এবং, আমি আরও আশা করি যে সরকার নিজেরাই যদিও হয়তোবা এত দৃঢ় ভাষায়, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সুস্পষ্টভাবে এবং প্রকাশ্যে ব্যক্ত করা সঠিক মনে করবে।

.

Dibya

এর দ্বারা আমি মন্ত্রীর বিভিন্ন ঘটনার বিশ্লেষণের একাংশের সাথে যুক্ত হলাম যা এই বিয়োগন্তক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এবং যার প্রতি আমি সম্মতি জানাতে পারিনি। প্রকৃতপক্ষে, যথার্থ ভদ্রলোকেরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের নামকরা সংগঠনের উচ্চপদধারী ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন। আমার জানামতে বিশ্বের কোন দেশ এভাবে বিভক্ত নয়। এক অংশ থেকে আরেক অংশের দূরত্ব ১০০০ মাইল। এমতাবস্তায় শক্তিশালী সার্বজনীন চেতনাই শুধুমাত্র অংশদুটিকে একত্রে রাখতে পারত।

 

১৯৪৭ সালে মুসলিম ধর্মবিশ্বাসীরা এই শক্তিশালী সার্বজনীন চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছিল। সত্যিটা হল, বিশ বছর কিংবা এরচেয়েও বেশি সময় পার হতে হতে এই চেতনা দূর্বল হয়ে পড়েছে এবং তাকে প্রতিস্থাপিত সাধারণ কাজের জন্য গড়ে তোলা নতুন বন্ধন।

 

দুই অঞ্চলেরই ইচ্ছা না থাকলে এইধরনের রাষ্ট্রকে একত্রে ধরে রাখা সম্ভবপর নয়। আমার মনে হয়, সেই ইচ্ছাটা নিঃশেষ হয়ে গেছে এবং তা আর পুনরায় জেগে উঠবেনা।

 

মাননীয় ভদ্রলোকের বিবৃতিতে কিভাবে বোঝাপড়া হচ্ছিল সেই ব্যাপারটি উঠে আসার পরপরই তিনি আমার সমর্থন হারালেন এবং আমার মধ্যে সহানুভূতি জাগ্রত হল। তার বিবৃতি অনুযায়ী, ইয়াহিয়া খান অসামরিক গণতন্ত্রের হাতে তার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আগ্রহী ছিলেন এবং তিনি সবসময়ই এটি করতে চেয়েছিলেন। সম্ভবত এটাই হতে চলেছিল। কিন্তু যখন গণতন্ত্র জাগ্রত হল এবং তিনি লক্ষ্য করলেন এটি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছা এবং ধ্যানধারণা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তিনি এটিকে গুঁড়িয়ে দিলেন। তিনি গণতন্ত্রকে ভেঙে দিয়েছিলেন- এটাই ছিল তার অপকর্ম, তার পাপাচার। তিনি জনগণের সম্মিলিত প্রত্যাশার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারলেন না। এটা অনেকটা গতবছরের ১৮ জুনের মত ছিল, যখন দেখলাম ভোটসংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল আমাদের একদমই পছন্দ হয়নি তখন ভদ্রলোক যাতে সরকারের প্রথম সারিতে তার বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে না পারে সেজন্য আমরা সৈন্য নিয়োগ করলাম।

 

এটা ছিল দন্ডনীয় অপরাধ, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে অপরাধ। বিষয়টা পরিষ্কার করি। দেশের ভবিষ্যৎ অর্থাৎ এটি দুই খন্ড হবে নাকি একত্রেই থাকবে সে বিষয়ে আমি মাননীয় ভদ্রলোকের সিদ্ধান্তের ওপরে কথা বলতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম জনগণই সে সিদ্ধান্ত নেবে, কিন্তু পাকিস্তানী সৈন্যদের নৃশংস কর্মকান্ড দ্বারা তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিল।

 

এটি বলার সময় নিজের মধ্যপন্থী অবস্থা দেখে আমি নিজেই অভিভূত, আমি আমাদের লক্ষ্য ও নীতিমালা যার জন্য কিছু জঘন্য ঘটনা ক্রমানুসারে সংঘটিত হয়েছে বিবেচনায় আনলাম এবং কয়েক মূহুর্ত চিন্তা করলাম তা নিয়ে আমরা কি করতে পারি। মন্ত্রী আমাদের সাহায্য কর্মসূচির ব্যবহার সম্পর্কে কি বলেছেন এবং তার মন্তব্যের নিহিতার্থ আমি সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারছি। সাহায্য কর্মসূচি আরম্ভ করার সময় তিনি বলেছিলেন এটি অবশ্যই রাজনৈতিক ফয়সালা দ্বারা চালানো যাবেনা, কারণ স্ট্যাফোর্ড এবং স্টোনের (জনাব হুগ ফ্রেসার) মাননীয় সদস্যরা দেখিয়েছিলেন রাজনৈতিক অবকাঠামো কোন ধরনের মারাত্মক এবং অসম্ভব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এই কর্মসূচি পুনরারম্ভ করা সম্ভব হবেনা। অবশ্যই তাই হওয়া উচিত এবং এটাও ঠিক পাকিস্তান সরকারেরও তা বোঝা উচিত। যেহেতু ত্রাণ কর্মসূচির জন্য সাহায্যের সাথে শুভেচ্ছাও পাঠানো হচ্ছে আমার মনে হয় আমাদের সকল সংস্থা এবং যেসব শক্তি আমাদের আয়ত্ত্বাধীন সেগুলো আমাদের সচল করা উচিত। জাতিসংঘের সাথে নেয়া উদ্যেগটিকে আমি অন্তঃস্থল থেকে সমর্থন করি এবং আশাকরি তা সফল হবে।

 

আমি মনে করি দেশে যেকোন ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রণয়নের ব্যপারটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বাস করি স্ট্যাফোর্ড ও স্টোনের মাননীয় সদস্য এবং আমার মাননীয় বন্ধু যিনি ফুলহ্যামেরও সদস্য (জনাব মাইকেল স্টুয়ার্ট) এই প্রশ্নে একই চিন্তাধারা পোষণ করেন।

.

Ahsan

স্যার ফ্রেডেরিক বেনেট (টর্কি)

স্টেপনির রাইট অনারেবল মেম্বার তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের সাংবিধানিক ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে তাঁর ভাষ্য তুলে ধরে ধরেছেন। তাই আমি ঠিক করেছি, কিভাবে দেশটি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে সাংবিধানিক দিক দিয়ে এমন মর্মান্তিক পরিণতির দিকে এগিয়ে গেল তা তুলে ধরবো। নির্বাচনের আগে শেখ মুজিব নিজে একটি আইনি কাঠামোর ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলেন। শুধু তিনি নন, আওয়ামী লীগও এর উপর ভিত্তি করেই নির্বাচনে লড়াই করার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়।

কাঠামোটি থেকে আমি শুধুমাত্র একটি উক্তি তুলে ধরছিঃ

“সমগ্র দেশের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে এবং বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিন বিষয়ে দায়িত্ব সমূহ যথাযথ ভাবে পালন করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ক্ষমতা থাকতে হবে, এবং সেটা আইনি, প্রশাসনিক এবং অর্থনৈতিক-সব বিষয়েই।“

শেখ মুজিবের দল নির্বাচনে সুস্পষ্ট বিজয় লাভ করার পর কিছু বিষয় সামনে নিয়ে আসে, তার মাঝে কয়েকটি আমি এখন তুলে ধরবো।

তিনি বলেন, জাতীয় মুদ্রার ক্ষেত্রে, সহজে বিনিময় ও পরিবর্তনযোগ্য দুটি পৃথক মুদ্রা থাকতে পারে, অথবা সকল ক্ষেত্রেই একটি মাত্র মুদ্রাও চালু রাখা যেতে পারে। এটি তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। এর পর বলা হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের জন্য পৃথক ব্যাংকিং প্রিজার্ভ গঠন এর কথা। আলাদা রাজস্ব ও আর্থিক নীতির কথাও বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতির অধীনস্ত থেকেও প্রতিটি রাষ্ট্র আলাদা আলাদা ভাবে নিজ অঞ্চলে কর ও শুল্ক আরোপ এবং আদায় করবে। যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের এ বিষয়ে কোন এখতিয়ার থাকবে না। বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে ব্যবসাকার্য পরিচালনা, সবই পৃথকভাবে হতে হবে।

দেশটির অখণ্ডতা ধরে রাখার জন্য যে আইনি কাঠামো প্রয়োজন, তার সাথে উপরোক্ত বিষয়গুলো কি আদৌ সংগতিপূর্ণ? যে প্রস্তাব একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি গড়ে দিচ্ছে সেটা মেনে নেয়া কি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব? উপরের প্রস্তাবগুলো দেখার পর এটা অন্তত স্পষ্ট, কেন জেনারেল ইয়াহিয়া এবং তাঁর উপদেষ্টা মণ্ডলী ধরে নিয়েছেন যে সমস্ত মূলনীতির উপর ভিত্তি করে নির্বাচন হয়েছিল তা সবাই বর্জন করেছে। যদিও বলা হয়ে থাকে তার পক্ষ থেকে সমঝোতায় আসার জন্য তখনও কোন রকম চেষ্টা করা হয় নি। তবে আমি আনন্দিত যে আমার রাইট অনারেবল বন্ধুটি তার সমঝোতায় আসার চেষ্টাকে সমর্থন জানিয়েছেন। যখন শেখ মুজিব পাকিস্তানের রাজধানীতে যেয়ে আলোচনায় অস্বীকৃতি জানালেন, তখন জেনারেল ইয়াহিয়া নিজেই ঢাকা চলে যান। সেখানেই তিনি শেখ মুজিবকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, যাতে তিনি সবার সাথে সহযোগীতা করেন। তিনি শেখ মুজিবকে আলোচনার জন্য রাজধানীতে ডেকে না এনে নিজেই দুইবার ঢাকায় চলে যান। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের পক্ষে এর চেয়ে বেশি আর কি করা সম্ভব? এরপর তিনি বুঝে যান রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বজায় রাখার জন্য কারো কোন ইচ্ছা নেই, আর তখনি শুরু হয়ে যায় যুদ্ধ।

জনাব জুলিয়াস সিলভারম্যান (বার্মিংহাম, অ্যাস্টন)

শেখ মুজিব শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের সর্বস্তরের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থনই পেয়েছেন এমনটি কিন্তু নয়, আইনসভার সিংহভাগ সদস্যও তাঁর পক্ষে ছিলেন, তাই নয় কি?

স্যার এফ. বেনেটঃ

আমি মনে করি, যখন কোন ব্যক্তি যুক্তি সহকারে কোন প্রসঙ্গ উত্থাপন করছেন তখন কোন অনারারি সদস্যকে কথা বলার সুযোগ দেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত- এই মাত্র ঘটে যাওয়া ঘটনাটি তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। উনি যেরকমটি বলছেন আমি সেরকম কিছু বলিনি। আমি বলেছি শেখ মুজিব নির্বাচনে অংশগ্রহণের পূর্বে যে আইনি কাঠামোর বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছিলেন, নির্বাচনের পর তা থেকে তিনি সরে এসেছেন। তিনি তাঁর দেশের ভোটার দিয়েই নির্বাচনে সুস্পষ্ট বিজয় নিশ্চিত করেছেন এ কথা সত্য, কারণ সমগ্র পাকিস্তানের মাঝে সেখানে ভোটার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই পরিস্থিতিকে কোন ভাবেই যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতির সাথে তুলনা করা যাবে না। আওয়ামী লীগ পশ্চিম পাকিস্তানে একটি আসনেও জয়লাভ করতে পারেনি। তাই এই দেশের দুই অংশকে একত্রে রাখতে হলে হয় যুদ্ধের মাধ্যমে তাদেরকে এটা ঠিক করে নিতে হবে অথবা পূর্বে উল্লেখিত আইনি কাঠামোকে মেনে নিয়ে একটি সমঝোতায় আসতে হবে।

পাকিস্তানিরা অত্যন্ত গর্বিত জাতি। তারা খুব ভালো করেই জানে কমনওয়েলথ এর অন্তর্গত দেশসমূহের মাঝে এই দেশটি সম্পূর্ণ স্বাধীন। তারা এটাও জানে তাদের সমস্যাগুলোর জন্য ব্রিটেনও কিছুটা দায়ী, যার দায়িত্বও ছিল এই রাষ্ট্রের জন্ম। সুতরাং আমাদের দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপ না হয় সে ব্যাপারে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। এমনকি এই ‘হাউজ’ এ বসে কোন পক্ষ নেয়া থেকে বা কাউকে ভালো বা মন্দ বলা থেকেও আমাদের বিরত থাকা উচিৎ।

কোন পক্ষকে দোষারোপের থেকে এই ভোগান্তির অপসারণে আমি বেশি আগ্রহী। এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ঠিক সেই কাজটিই আমি করে চলেছি। যখনই কোন দেশ আরেক দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে, ফলাফল হয়েছে হিতে বিপরীত। এক পাকিস্তানি ব্যক্তি আমার কাছে একবার জানতে চেয়েছিলেন, নির্বাচনে জয়ের পর পাকিস্তানে সদ্য গঠিত আইনসভার প্রথম আলোচনা যদি হয় কিভাবে প্রভাব খাটিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সমস্যার সমাধান করা যায়-তাহলে আমার কেমন লাগবে? আমাদের কাছে তুলনাটি সামঞ্জ্যস্যপূর্ণ মনে না হতে পারে, কিন্তু পাকিস্তানিদের কাছে ব্যাপারটি ঠিক এরকমই। কানাডার ব্যাপারে ফরাসিদের জন্যও একই কথা প্রযোজ্য। কানাডার সরকার সর্বদাই বাইরের প্রভাব প্রতিহত করার ব্যাপারে সচেষ্ট। আমরা দেখেছি, জেনারেল দ্য গল এর অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে কুইবেকে কি ধরণের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। সাহায্য যদি করতেই চাই, আমাদের কারো পক্ষ নেয়া চলবে না। আমাদের মনোযোগ থাকবে সর্বোচ্চ সাহায্য পাঠানোর ব্যাপারে। যদি আমাদের কোনপ্রকার কাজে মনে হয় আমরা অযাচিতভাবে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছি, তাহলে পরিস্থিতি নিশ্চিতভাবেই খারাপের দিকে যাবে।

আমার মতে, পাকিস্তানের সামনে এখনো সুযোগ আছে, যদি পূর্ব পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরে আসে। পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদকে একসাথে বসার জন্য আহ্বান জানানোর ব্যাপারটি বিবেচনা করতে ইচ্ছুক। যদি তেমনটি কখনো ঘটে, আমার কাছে মনে হয় এ ব্যাপারটি স্পষ্ট যে নতুন করে আর কোন নির্বাচনের প্রয়োজন নেই। উপরন্তু, প্রাদেশিক পরিষদের সভায় আওয়ামী লীগের যে সমস্ত সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তাদের মাধ্যমেই আইনি কাঠামোটির বিভিন্ন দিক বজায় রাখা সম্ভব হবে। যদি উদ্যোগগুলো সফল হয়, দেশটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে এটা হবে এক শুভ সূচনা।

কি কি উপায়ে আমরা সাহায্য করতে পারি তা আমি ইতিমধ্যেই উল্লেখ করেছি। এবং তা অবশ্যই সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে বা অবরোধ আরোপ করে নয়। আমাদের আরও বেশি পরিমাণ সাহায্য পাঠাতে হবে এবং সে সাথে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যেন এর পুরোটাই পূর্ব পাকিস্তানে যায়। এছাড়াও কমনওয়েলথ যে উদ্যোগটি নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন জানাই। কেননা তাদের নেয়া এই উদ্যোগের ফলে যা অর্জন করা সম্ভব তা এর অন্তর্গত কোন স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষেই অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। আশা করি সবাই তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাবেন।

ব্রিটেনের সংসদের যে সমস্ত সদস্য সেখানকার চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আগ্রহী, তাদের সামনেও একটি সুন্দর সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি। আমাদের সামনে এরকম মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে পাকিস্তান আমাদের দেশ থেকে নির্দলীয় ভিত্তিতে পরিদর্শক দল যাওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহী। যদি আমাদের পক্ষ থেকে পরিদর্শনের কোন উদ্যোগ নেয়া হয় তাহলে প্রথমে ভারত যেয়ে তারপর পূর্ব পাকিস্তান যাওয়াটা হবে একটি মারাত্মক ভুল। কাশ্মীরে চলমান উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে আমাদের ভারতে আলাদা ভাবে যেতে হবে। সংসদ সদস্যদের একই দলের প্রথমে ভারত এবং সেখান থেকে পূর্ব পাকিস্তান যাওয়াটা মোটেও উচিৎ হবে না। যদি এমনটি হয়, তাহলে এত কিছু করেও কোন সুফল বের করে আনা যাবে না।

পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাসমূহ যথেষ্টই আতঙ্কজনক। তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাধা তৈরি করার বদলে যদি আমরা ক্ষত সারানোর দিকে বেশি মনোযোগ দেই তাহলে শুধু পূর্ব পাকিস্তান নয়, এশিয়া মহাদেশেরও নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে তা সহায়ক হবে।

.

Nowshin

জনাব ডেনিস হেলি (লিডস, পূর্ব)- বিতর্ক তুলে ধরা এবং সরিয়ে ফেলা এবং সথিক তথ্যের যে বক্তব্য তিনি দেন তার জন্য পুরো হাউজ আমার সম্মানিত বন্ধু উত্তর কেনসিংটন এর সদস্য ( জনাব ডগলাস-মান) এর উপর কৃতজ্ঞ । বিতর্কে অংশগ্রহণকারী সদস্যবৃন্দ সম্মানিত বন্ধুর দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব অনুসরণ করেছে।

 

পাকিস্তান দুর্যোগের দুটো দিক রয়েছে। আমাদের মাথায় প্রথম এবং সবথেকে টাটকা দিক হচ্ছে প্রকাণ্ড মনুষ্য ট্র্যাজেডি, এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে অসাধারণ রাজনৈতিক বিপদ।  বিশ্ব মানবিক বিয়োগ দ্বারা স্তব্ধ হয় তাই এখনো পুরোপুরি সতর্ক হতে পারেনি, আজ দেখতে পাচ্ছি যা এর থেকেও বড় মানবিক বিচ্ছেদ দেকে আনতে  পারে। আমরা এখনো মানবিক বিয়োগাত্মক স্কেল উপলব্ধি করতে পারিনি। আমরা ভারতের শরণার্থী সমস্যা স্কেল জানি। ইসরাইল এবং নিউজিল্যান্ডের দুই লক্ষ্যেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ী ছেড়ে চলে গেছে এবং গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাদের বিবেচনায় বৃহত্তর নিরাপত্তা এলাকায় বাস করছে। উদ্বাস্তুদের দেখাশোনা করার খরচ বছরে ১৪০ ডলার  ভারত সরকার অনুমান করছে। এখনো দিনে প্রায় ৬০,০০০ উদ্বাস্তু কে পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে যাবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।যদি প্রবাহ অদুর ভবিষ্যতে না থামে তাহলে, ভারত সরকারের অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা পাঁচ লাখে পৌঁছাতে পারে।

 

প্রশাসন অ যোগাযোগ খুব ভালভাবে ধ্বসে পড়েছে বলে পূর্ব পাকিস্তানের এই সীমারেখা এবং সমস্যার প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের খুব কম বিস্তারিত জানা আছে। কিন্তু আমরা জানি বাইরে বিশাল এলাকা জুড়ে এত বিশৃঙ্খলা রয়েছে যে কিছু শহরে, বর্তমান হতনার কারণে সাম্প্রতিকতা বেড়ে গেছে। কিন্তু আমরা জানি সেখানে শহরের বাইরে বিশাল এলাকায় বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং কিছু শহর সাম্প্রতিক মানবহীন ঘটনার ফলে পরিণত হয়েছে। আমরা সাম্প্রতায়িক সহিংসতার আতঙ্কজনক গল্প শুনেছি। সেখানে শুধুমাত্র এক সম্প্রদায় দ্বারা ভয়াবহ গণহত্যা পরিচালিত হয়েছে। আমরা জানি দেশের সর্বত্র প্রভাবশালী সমাজের ভয় রয়েছে। ফলে দুর্ভিক্ষ ো রোগের প্রভাব ৭০ থেকে ৭৫ মিলিয়ন বেড়ে গেছে। এটি মানুষের সমস্যা।

 

আমি মনে করি দৃষ্টান্তমূলক সদস্য এই বাড়ি চিনতে পেরেছে এবং মানুষের তাৎক্ষণিক সমস্য ো দুঃখকষ্টে স্বস্তি এসেছে। আমরা সরকারের সাথে সবাই একমত যে এই ত্রাণ একা এক দেশের জন্য খুব বড় একটি সমস্যা, এমনকি এক দেশের গোষ্ঠীর জন্য। শুধুমাত্র জাতিসংঘের সংস্থা বিয়োগাত্মক দের প্রয়োজনীয় ত্রাণ সংগ্রহ করতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গের জাতিসংঘ দ্বারা অবিলম্বে ব্যবস্তা কার্যকর হতে পারে। ভারত সরকার বলেন যে তারা জাতিসংঘের সাহায্য চান এবং যেকোনো ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে তারা সাহায্য করতে সক্ষম।

 

পূর্ব পাকিস্তান এখনো কিঞ্চিৎ একটি রহস্য। আমি মনে করি মন্ত্রী বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে মহাসচিবের যোগাযোগ ছিল কিন্তু আমি তাকে যা বুঝেছি, সংবর্ধনা সম্পর্কে কোন চুক্তি এখনো জাতিসংঘের দলের কাছে পৌঁছায়নি। পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ঘটনা হচ্ছে যে, এমনকি পাকিস্তান যদি জাতিসংঘের শাজ্য নিতে রাজি হয়, একটি সুষম বন্তনের মাধ্যমে কঠিন শারীরিক সমস্যা হতে পারে।  

 

উদাহারনস্বরূপ আমরা জানি যে, গত নভেম্বরের সর্বনাশা বন্যা থেকে পূর্ব পাকিস্তানের যে অংশ এখনো কষ্টভোগ করছে তাদের ৪.৫০ লক্ষ্য মানুষের জীবন বাইরের ত্রাণ সরবরাহের উপর নির্ভরশীল। এখনো ১৫০,০০০ টন চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রানের জন্য তাদের আপিল কোন কাজে লাগবে না।

 

আমরা এও জানি যে যখন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস বর্তমান কষ্টভোগ সম্পর্কে জ্ঞ্যাত হয়ে ঢাকায় অবিলম্বে একটি বিমান পাঠাতে চায়, াকিস্তান সরকার এটি অবতরণের অনুমুতি দিতে অস্বীকার করে। জাতিসংঘের তাৎক্ষণিক সমস্যা নিরনয়ের সুযোগ এবং কিভাবে সুপারিশ পূরণ করা হয় টা থাকা আবশ্যক। সরকারের উপর আমাদের সবার আশা অদুর ভবিশ্যতের এই চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের প্রভাব ব্যবহার করা।

 

এই ঘতনায় বেশ কিছু দৃষ্টান্তমূলক সদস্যের সথিক ভুমিকা সম্পর্কে ধারণা আছে। মন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানের সাথে আমাদের একটি ঐতিহাসিক যোগাযোগ আছে; মানবিক বন্ধন আছে। পাকিস্তান ে নিয়ে আসার জন্য আমাদের ১৯৪৭ এর নিস্পত্তি দায়ী। জনাব শোর ঐতিহাসিকভাবে সঠিক, যখন তিনি বলেন একটি রাজ্য যার উপাদান ১০০০ মেইল পৃথক তাদের বেঁচে থাকা অসম্ভব।

 

জনাব শোর: আমি টা বলিনি।

জনাব হেলি: এর জন্য এই ঘটনা ঘটা সম্ভব। এটি মালয়শিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ঘটে, যেখানে হাওয়াই এবং আলস্কা বিশাল দূরত্বে পৃথক রাষ্ট্র। আমরা আশাবাদি যে, এটি সংযুক্ত আরব প্রজাতন্ত্রের সাথে ঘটবে। আমরা আমাদের নিজস্ব ইতিহাস থেকে জানি যে যদি কোন রাষ্ট্রের উপাদান ব্যপকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকে, এটি আবশ্যকরূপে গুরুত্তপুরন যে স্বার্থ এবং দূরবর্তী উপাদান নিকতবরতি হওয়ার আকাঙ্খার জন্য সরকারের সম্মান দেখানো উচিত। আমরা ১৮তম শতাব্দীর কঠিন পথের মধ্যে এই কঠিন সমস্যা সম্পর্কে জেনেছি, অথবা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রর উপস্থিতি নেই।

 

আমরাও পাকিস্তানের এস.ই.এ.টি.ও এবং সেন্টোর মিত্র। আমি আশা করি যে, মন্ত্রী পাকিস্তানে কোন অস্ত্র না পাঠানো এবং জতক্ষন অরজন্ত কষ্টভোগ সমাধানের দিকে না যাচ্ছে ততক্ষন কাজ করার প্রস্তাব না করার আশ্বাস দেবেন।

 

বিভিন্ন সম্মানিত সদস্য বলেছেন, ব্রিটেন, প্রাক্তন যুদ্ধ ক্ষমতা এখন একটি কঠিন অবস্থানে আছে। আমাদের দেয়া কোন পরামর্শ অন্যদের কাছ থেকে আসা পরামর্শ থেকে কম স্বাগত। তুর্কির একজন সমান্নিত অদস্য হিসেবে (স্যার এফ বেনেট) বলেন, আমাদের উত্তর আয়ারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা ভালো ইচ্ছার সিঙ্গে দেখে এবং সাম্প্রদ্যিকতা এবং ধর্মীয় পার্থক্য থেকে আহরিত সমস্যা সবসময় সরকারি ক্ষমতা দিয়ে সমাধান করা যায়না। একটি জাতি যার উত্তরে কোন অধিকার আছে অবশ্যই অনন্য রাজনিতিতে সমস্যা সমাধানের কোন অধিকার নেই।

 

যাইহোক, সেদিন বলা হয় যে, যখন আমরা সরকারকে আবশ্যম্ভিকরূপে পররাষ্ট্রের অন্যান্য এলাকায় নিজেদের গোপন উপস্থাপনা, পূর্ব পাকিস্তানের সাথে আমাদের সংযোগ প্রকৃতি, এবং আমাদের দায়িত্ব সান্নিত সস্য যারা সরকারি সস্য নয় উভয়ই উদ্বেগ প্রকাশে বেশি অধিকার ও দায়িত্ব রাখে।

সম্মানিত সদস্য দ্বারা শনাক্তকৃত কেন্দ্রীয় সমস্যা হচ্ছে, যদি পূর্ব পাকিস্তান এর রাজনৈতিক সমস্যার কোন নিষ্পত্তি না দেয় তাহলে পাকিস্তানে প্রয়োজনের মাত্রানুযায়ী ত্রাণ বিতরণ এবং কার্যকরী অর্থনৈতিক সহায়তা দেবার কোন সম্ভাবনা নেই। এক স্বীকারোক্তি যে পূর্ব পাকিস্তানে আমি পুনঃপ্রতিবিম্ব যা সাধারণ প্রশাসন হিসেবে বর্ণনা করা যেতে পারে তা ধীর কঠিন এমনকি রাজনৈতিক নিষ্পত্তির পরেও বিশ্বাস করি। উত্তর কেনসিংটনের একটি ব্যাপার আছে যার সাথে আমি সম্মানিত সদস্যদের সাথে মত পোষণ করবনা। আমিমনে করি যে তিনি প্রশাসনিক ও সামাজিক সমস্যার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীন সরকারের ক্ষমতাকেও রটিয়েছেন। উপায় সম্পর্কে একটি কেন্দ্রীয় সত্য এই যে, আওয়ামী লিগ ের যে বিয়োগাত্মক নাটকটি ঘটেছিল, যেমন বলা হয়েছে, অপ্রতিরোধ্য প্রাপ্তি সমর্থন- ১৬৭-১৬৯ আসন না রাজনৈতিক না প্রশাশনিকভাবে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল। বস্তুত, যদি এটি এমন হতো যে, জেনারেল চৌধুরী, একটি নির্লিপ্ত ভারতীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে লেখা, অন্য কোন দিন লিখেছেন, প্রকৃতপক্ষে ঘটনা খুব ভিন্ন হতে পারতো।

 

পরিস্থিতি এমন যে সরকারি উতরাধিকার পরিস্থিতি এখন পূর্ব পাকিস্তানের পুলিশের একটি বড় অংশ, সৈন্যদের একটি বড় অংশ এবং সরকারি কর্মকর্তা দের একটি বড় অংশ, হত্যা করা হয়েছে যারা খমতার ট্যাক্সে মানুষের দলে আবদ্ব হয়, অনেক বেশী অভিজ্ঞ দক্ষ ও রাজনৈতিক নেতাদের চেয়ে প্রস্তুত পূর্ব পাকিস্তানে হতে পারে। যাই হোক, আমার কাছে এই মনে হচ্ছে যে, কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ সাম্প্রতিক আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য আস্থা জ্ঞ্যাপন করে, এবং এটি করতে পারেনা এবং অবশ্যই না, রাজনৈতিক নিষ্পত্তির সাথে সংশ্লিষ্ট কারো দ্বারা অগ্রাজ্য হতে পারেনা।

 

আমি মনে করি যে শেখ মুজিবউর রহমান কে পাকিস্তান সরকার করা হবেনা । আমার কাছে এই মনে হচ্ছে যে, তারা রাজনৈতিক নিষ্পত্তি পুরোপুরি অসম্ভব করে ফেলতে পারে। এরথেকেও খারাপ হচ্ছে, অন্য নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের সম্প্রদায়ে উপস্থিত হতে বাধ্য থাকবে। প্রকৃতপক্ষে, যে ভূখণ্ডে রাজনৈতিক অভিজাত ধ্বংস বিদ্যমান সেখানে কোন শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সাজানো একেবারে অসম্ভব। আমি আশা করি যে, সরকার তাই করবে যা তারা পাকিস্তান সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে পারবে। আমার মনে হচ্ছে যে, সেখানে উন্নতি হতে হলে, শেখ রহমানের মুক্তি এবং সমস্যা সমাধানের দাওয়াত এ দায়িত্ব গ্রহণ করা অনেক ভালো কাজ।

 

আমার দ্বিতীয় দফা হচ্ছে যদি সেখানে দ্রুত রাজনৈতিক উন্নতি না ঘটে, একটি দীর্ঘ সময়ের জন্য, সম্ভাব্য অপ্রতিরোধ্য পতন, কোন সংগঠিত সরকার এবং, প্রক্রিতপক্ষে বিভিন্ন পূর্ব পাকিস্তানের সংগঠনের সম্মানে। নৈরাজ্য যে, এই ধরনের একটি দুঃখজনক এবং বিপদজনক ধোস অঘরে যোগ দিবে, শুধুমাত্র পূর্ব পাকিস্তানের মানুষই নয় অথবা, প্রকৃতপক্ষে, পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান কিন্তু উপমহাদেশের সমগ্রদের জন্য। আমরা জানি যে পশ্চিমবঙ্গের ভাঙ্গন নিশ্চিত, এবং কেউ ভাবছে যদি পূর্ব পাকিস্তান সরকার অনেক্তাই আলাদা হয় যায় তাহলে বিশ্বের সে অংশে শিহরিত অবস্থা কিভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

 

যে পটভূমির বিরুদ্ধে , আমি এ সমস্যার পুরবাতিক্রমে কিছু বলতে চাই। প্রথমত সেখানে ত্রানের একটি সমস্যা রয়েছে। আমি আশা করি আমরা সবাই একমত এবং মন্ত্রী এ সম্পর্কে কিছু বলবেন যদি তিনি কথা বলতে আব্র অনুরধ করেন যে জাতসঙ্ঘের সমালোচনামূলক চলন্ত বিষয় সাহায্য পেটে এবং পাকিস্তান সরকার মহাসচিবের প্রস্তাব গ্রহণ করবেন।

 

আমি আশা করি যে ব্রিটিশ সরকার জাতিসংঘের সাহাজ্যে উদার অবদান রাখবেন, এবং তাই বাকি বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমি জানি যে মন্ত্রী দাবি করেননা যে ১৮০০০ ডলার ইতিমধ্যে দেয়া সমস্যা স্কেলের তুল্য, এবং আমি এও আশা করি যে, কিছু দেশ যার কিছু ঐতিহাসিক দায়, এবং সঙ্গে, নিকটতম পাকিস্তানে মানবন্ধন, এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যা শুধুমাত্র সমস্যা স্কেলের সঙ্গে তুল্য নয় কিন্তু বিশ্বে অন্যদের আশা যা দেবে।

 

তুর্কির সম্মানিত সদস্যদের ধারণা সে এলাকায় একটি সংসদীয় প্রতিনিধি ডল পাঠানো যেতে পারে। আমার বলাতা গ্রাজ্য করা উচিত নয় যে, একটি প্রতিনিধিদলের পশ্চিমবঙ্গ এবং পাকিস্তান উভয় পরিদর্শন করা উচিত, কিন্তু আমার মনে হয়, শুধুমাত্র যদি আমরা সর্বদলীয় প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারি আমরা আমাদেরকে সংসদে ভালো অবহিত করতে পারিনা কিন্তু কিন্তু যারা যেতে পারে, ফিরবার সময়, ত্রাণ সমস্যায় আরও জনস্বার্থ যোগ করতে পারে এবং সমস্যার স্বস্তি করতে পারে।

 

ত্রান সমস্যার সাথে, পরবর্তী সমস্যা, সাহায্যের। মন্ত্রী যা বলেন তাতে আমি পুরোপুরি সম্মতি দিচ্ছি। আমরা বন্দোবস্তের প্রকৃত নির্দেশ দিতে পারিনা, কিনতু আমরা মনে করি আমরা পারবো, এবং অবশ্যই, একটি শর্ত হিসেবে কার্যকর সাহায্যের বন্দোবস্ত । সর্বশেষে, যেমন বলা হয়েছে ই.সি.জি.ডি ইতিমধ্যে বাধ্য হয়েছে, নিজস্ব চার্টার দ্বারা, অস্তিত্বহীন বাহ্যিক কারণে পাকিস্তানের জন্য ক্রেডিট নিশ্চয়তা প্রত্যাখ্যান করা ধার্মিক প্রতিপন্নতা,এবং আমি মনে করি আন্তর্জাতিক ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মণিটারি ফান্ড উভয় ভিন্ন বিধিতে আবদ্ধ হওয়ার ব্যপারে আমি ঠিক বলেছিলাম যা তাদের বিভিন্ন সাহায্যের  শর্ত এবং যুক্তিতে স্থাপন করেছে। এটি ভদ্র রাজনৈতিক শারির কোন প্রশ্নের মধ্যে পড়েনা। এটি পুরো বিশ্বের করদাতাদের জন্য খরচকারি প্রতিস্থান্সমুহের প্রশ্ন।

 

উত্তরের সাহায্য বন্ধে আমি আম্ার সম্মানিত সদস্যদের সাথে একমত নই। আমি আশা করি যে আমি মন্ত্রিকে সথিক ব্যখ্যা দিতে পেরেছি যখন তিনি ব্রিটেনের দেয়া সাহাজ্যের বাল্ক পূর্ব পাকিস্তান প্রকল্পে আলো ঘনীভুত হওয়ার কথা বলেন, এবন এই বিয়োগাত্মক ঘটনায় আমাদের দানকৃত সাহায্যের জন্য জ্বর করা উচিত, আমাদের নিজেদের দ্বারা অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা যা অনশগ্রহন করে, মুলচ পূর্ব পাকিস্তানে ঘনীভূত।  

.

bokul

মিঃ উডঃ এই পরিষদে কোন ভুল বোঝাবুঝি হোক আমি চাই না। সেটা আমাদের মূল উদ্দেশ্য এবং আমরা এক্ষেত্রে পাকিস্তান সরকারের সমর্থন পাচ্ছি। কিন্তু যেমনটি মাননীয় ভদ্রমহোদয় বলছিলেন এবং আমিও বলার চেষ্টা করছিলাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিস্থিতি আগের শান্ত অবস্থায় ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসুচির এগিয়ে নেয়া অসম্ভব হবে।

মিঃহ্যালিঃ আমি সেটা স্বীকার করি এবং আমার মাননীয় বন্ধু ল্যানার্কের সদস্য যদি সরাসরি বিতর্কে অংশগ্রহণ করেন তিনও একই পথ অনুসরণ করবেন।

পরবর্তী ব্যাপার হচ্ছে জাতিসঙ্ঘের সম্পৃক্ততার সমালোচনামূলক গুরুত্ব। আমি ফুলহামের সদস্য (মিঃ এম. স্টুয়ার্ট) আমার মাননীয় বন্ধুর সাথে একমত পোষণ করছি যে, কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সম্ভবত গুরুত্বপুর্ন ভুমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে,কিন্তু কমনওয়েলথ এর সম্পৃক্ততার ব্যাপারে বিশেষ জটিলতা রয়েছে। কারণ ঐ অঞ্চলে কমনওয়েলথ এর সবচেয়ে বড় দেশ ভারত এবং এক্ষেত্রে তার কাছে কমনওয়েলথের চেয়ে জাতিসংঘের গ্রহণযোগ্যতা বেশি হবার সম্ভাবনা বেশি,কিন্তু চেষ্টা গুরুত্বপূর্ন।

সংকটের যে প্রকৃতি, মানবিক সমস্যা ও তাকে অনুসরণ করে রাজনৈতিক সমস্যার যে বিপদ যদি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে কোন অগ্রগতি না হয় সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপুর্ন হয়ে উঠবে। স্বল্পমেয়াদে সাম্প্রতিক বিয়োগান্তক ঘটনায় দুর্ভোগ লাঘবের এটাই  একমাত্র উপায়। আমি বিশ্বাস করই জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতা এই দুঃখজনক ঘটনাকে একটি আন্তর্জাতিক সঙ্ঘাতে পরিনত রোধ করা এবং বিশ্বশান্তির হুমকি প্রতিহত করায় দারুণ আশাবাদের কাজ করবে। জাতিসংঘের সম্পৃক্ততা দ্রুত রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে পরিবেশ তৈরি করবে।

এক্ষেত্রে পরিস্থিতি পুর্বতন নাইজেরিয়া বা কঙ্গোর মত নয়,মূলত একজন কঙ্গো সমস্যা নিয়ে যত চিন্তা করবে তত গভীর বিশ্লেষণ সম্ভব হবে। অবশ্যই বড় পার্থক্য হচ্ছে, কঙ্গোর মর্মান্তিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার মাধ্যমে। আর পুর্বপাকিস্তানের নির্মম ঘটনা সাম্রাজ্যবাদ পরবর্তী রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারনে যেখানে ব্রিটেনের বড় দায় রয়েছে। যদি অন্য কিছু না হয়, এই নির্মম ঘটনা আমাদের সকলের দৃশ্যমান উদ্বেগকে যুক্তিযুক্ত করে।

স্যার রিচার্ড থম্পসনঃ এই বিতর্কের অন্যসকল বক্তার মত আমিও উত্তর কেনসিংটনের মাননীয় সদস্যকে(মিঃ ডগলাস ম্যান) ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ তিনি এত গুরুত্বপুর্ন একটি ব্যাপারে আলোচনার সুযোগ করে দিয়েছেন।

আমার জন্য এটা একটি চলমান বিতর্ক, কারণ আমি জন্মসূত্রে এবং বিভিন্ন সংগঠনের কারণে উপমহাদেশের বিশেষ করে বাংলার ঘটনাপ্রবাহের সাথে দীর্ঘ সময়ধরে যুক্ত। আমার জীবনের এক-চতুর্থাংশ পৃথিবীর  ঐ অংশে অতিবাহিত হয়েছে। আমি সেখানে জন্মগ্রহণ করেছি,আমার জীবিকা নির্বাহ করেছি। নিজের ভাষার চেয়ে আমি প্রথম যে ভাষা শিখেছি তা হল বাংলা। যদিও আমি এখন পুনর্মূল্যায়িত হতে চাইব না,কারণ এতে মরিচা পড়ে গেছে,কিন্তু যদিও এটা আমার দেশ নয় তবুও পৃথিবীর ঘটনা আমাকে উদ্বিগ্ন করে। আমি জানি অন্য যেকোন স্থানের চেয়ে আমি বেশি আপন অনুভব করতাম।

এখানে উল্লেখ করার বিষয় হল, পুর্বের একসময় আমি কমনওয়েলথ সম্পর্ক বিষয়ক উপপররাষ্ট্র-মন্ত্রী ছিলাম এবং বিশ্বব্যাংকের সাথে ভারত,পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের সিন্ধু অববাহিকা চুক্তি স্বাক্ষরে যুক্ত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করি ভারতের পাকিস্তানের মধ্যে সেটা ছিল সবচেয়ে অর্থবহ একক সহযোগিতা চুক্তি যা তাদের স্বাধীনতার পর থেকে কল্পনাও হয়নি। আর আমরা যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলাম তাদের আশাবাদ এটা দেশ দুটির মধ্যে পারস্পারিক সহযোগিতা ও বিশ্বাসের নতুন যুগের সূচনা করবে।

আমি পূর্বেই বলেছি, পুর্ব পাকিস্তানের জনগন যারা ভয়াবহ বিপর্যয় ও সংকটের মাঝে পড়েছে তাদের জন্য আমার গভীর সমবেদনা রয়েছে। একইভাবে, আমি দেখতে পাচ্ছি পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে একটি আসন্ন হুমকি ও অনেকাংশে বিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনার সম্মুখীন হয়ে ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে হয়েছিল। কিন্তু যে বাড়াবাড়ি ঘটেছিল বলে আমরা বিষ্বাস করি আমরা তা উপেক্ষা করতে পারিনা,আর যদি তা না করে থাকে তবে একটি নিরর্থক যুদ্ধের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে।

এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে শেখ মুজিবুর রহমান সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে পাওয়া নতুন সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহন করতে সমর্থ হলেন না যে নির্বাচনে তিনি অসাধারণভাবে তার প্রদেশে ব্যাপক জয় পেয়েছিলেন। এটা ছিল একটা দীর্ঘ সামুরিক শাসনের পরিসমাপ্তি যা পাকিস্তানে একমাত্র শাসনব্যাবস্থা ছিল। আমরা প্রশংসা করতে পারি কারণ এক ব্যক্তি এক ভোটের মাধ্যমে গনপরিষদের জন্য অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল পুর্ব পাকিস্তানকে নিয়ে পাচ প্রদেশের জন্য একটী প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন সম্ভব করা ও পুর্ব পাকিস্তানের প্রতি পুরনো বৈষম্য দূর করা যা আমাদের অনেকের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল, আমি মনে করি তা এখনো বিদ্যমান। যদি তিনি এই ফলাফল নিয়ে অগ্রসর হতেন তবে তিনি হতেন পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। মূলত পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সম্ভাবনা দেখেছিলেন।

যাইহোক সে সম্ভাবনা দূর হয়ে গেছে কিন্তু সেটা আমাদের উদ্বেগের বিষয় নয়। রহমান দৃশ্যত বিচ্ছিন্নতা অন্তর্ভুক্ত করে অন্যান্য শর্তসহ একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন যা ছিল যে ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছিলেন তা বহির্ভুত। যা নির্বাচনের পূর্বে পুর্ব পাকিস্তানের জনগনের কাছে প্রকাশ করা হয়নি এবং কোন কেন্দ্রীয় সরকার তা গ্রহন করতে পারেনা। আমি টর্কও্য়ের মাননীয়  সদস্য(স্যার এফ. বেনেট) আমার বন্ধুর সাথে আমি একমত কার্যত একটি যুদ্ধবিরিতি হয়েছে। এটা বলা হচ্ছেনা যে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ,গোলাগুলি,লুটতরাজ,সীমান্ত ঘটনা এবং এমন কিছু গঠছে না কিন্তু আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী একটু বেশি কঠোর ছিল।

বিপরীত প্রতিবেদন সত্বেও আমি বিশ্বাস করি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করছে। চট্রগ্রাম বন্দর পুনরায় তার কার্যক্রম শুরু করেছে এর অর্থ দেশ থেকে রপ্তানী হচ্ছে। মানুষ ধীরে ধীরে শহরে ফিরে আসছে,কাজ পুনরায় শুরু হচ্ছে, এই বিতর্কে যা হচ্ছে তার বিপরীত ঘটছে। আমি বিশ্বাস করি প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষ ও তাদের চাষাবাদের  ওপর প্রভাব খাদ্য সরবরাহে খুব গুরুত্বপূর্ন, যত বলা হচ্ছে পরিস্থিতি ততটা গুরুতর নয়। আমি বিশ্বাস করি চাষাবাদ চলমান রয়েছে।  

.

Bokul

পাতা-৪২

এতকিছু সত্ত্বেও আমরা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের ডাক দিতাম তাহলে সেটা বেশীক্ষণ টিকতে পারতো না । রাজনৈতিক প্রবাসী এবং কতিপয় ব্যক্তি যারা নিয়ন্ত্রন করে তাদের দুর্দান্ত প্রচেষ্টা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসনের ভয়াবহ সমস্যা দৃশ্যমান ছাড়াও রাজনৈতিক নিষ্পত্তির দেহাবশেষ চলছে ।

আমাদের অবশ্যই ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে হবে । যদি আমরা শান্তি-সংস্থাপন করতে পারি তাহলে স্বাভাবিক সময়ে ফিরে আসা শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।জানি এই ক্ষত খুব দ্রুত সেরে উঠবে না কিন্তু তাতে অনেকটা এগিয়ে থাকবে । প্রথমত ত্রান এবং পুনর্বাসন , দ্বিতীয়ত নিষ্পত্তি যা টেকসইয়ের আশা জাগায় ।

প্রথমদিকের মূল সমস্যা হল যোগাযোগব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা যা অত্যান্ত খুবই জরুরী প্রয়োজন,তারপর খাদ্য-চিকিতসা সহ অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ উপাদানের সহজলভ্যতার প্রশ্ন তোলা। পশ্চিম পাকিস্থানের সরকার বলেছে খাদ্য সরবরাহে নয় বরং খাদ্য বন্টনে শোচনীয় অবস্থা বিরাজমান ।

যাইহোক, আমি মনে করি পাকিস্থানী সরকার আগের চেয়ে আরো নমনীয় হবে, এখন পর্যন্ত তারা জাতিসংঘ , কমনওয়েলথ বা সেনটর যেকোন ত্রান সরবরাহকারী দলকে অনুমতি প্রদান করেছেন । সকল প্রস্তাবনা গুলো সুন্দরভাবে সাজিয়ে লিখা হয়েছে । আমি ব্যক্তিগতভাবে সেনটোর প্রস্তবনা গুলো পছন্দ করেছি কারন- আমাদের ক্ষমতা জড়িত মূলত মুসলমানদের ক্ষমতা এবং সেটা অত্যান্ত আবেগময় অবস্থায় পরিগণিত হতে পারে ।

কিন্তু আমি আশা করি পাকিস্থান সরকার আরো আন্তরিক হতে পারে যেখানে তারা নিরীক্ষকের সম্ভাব্য শর্তাবলী নিয়ে মোকাবেলা করবে তবে এটা সুনিশ্চিত করতে হবে প্রাপকদের তাদের অধিকার যেন যথাযথভাবে বন্টন করতে পারে । আমি তাদেরকে প্ররোচিত করেছিলাম ব্যাপারটা অত্যান্ত গুরুত্বের সাথে নিতে। আমি জানতাম যে জাতির গর্ব সেখানে বিপদাপন্ন এবং কতটা পীড়াদায়ক তা আমরা জানতাম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ত্রান পাওয়া যার জন্য আমরা অভিলাষী হয়েছি ।

প্রাচ্যের সম্মানিত সদস্যদের (মিঃ হিলি ) মতে তারা বলেছিল- যদি আন্তর্জাতিক উৎস থেকে বড় আকারে সাহায্য প্রদান করা হয় ,যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবেন তাদেরকে যুক্তিযুক্ত এবং যথাযোপযুক্ত উপায়ে নিশ্চিত করতে । যদি আমি আমার চিন্তাভাবনায় ঠিক থাকি এবং আমি জানি আমি ঠিক তাই যতদ্রুত সম্ভব পুনরায় যোগাযোগ করা । তারপর বিধান জারি করতে হবে যা দেশের উপকারী হয় এবং পরিচয় বহন করে করে উদাহরণসরূপ সিমেন্ট , রেললাইন ,ফ্লাট মোড়া নৌকা । একই সাথে অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরবরাহ করে আমাদের নিজস্ব সম্পদ অপচয় করা অনুচিত বলে মনে করি ।

সাম্প্রতিককালে পশ্চিম পাকিস্থানে আঘাত হানা হ্যারিকেনের জন্য জন্য বাচ্চাদের দুধের বোতলসহ অনেক কিছু পাঠানো হয়েছে । সবাই জানে পশ্চিম পাকিস্থানে বাচ্চারা দুধ খায় । তবে বোতল প্রাপকেরা জানে না এগুলো দিয়ে তারা কি করবে । আমি মেনেই নিয়েছি এগুলো উদ্দেশ্য প্রণেদিত ভুল ছিল । যাইহোক এটা দেখে খুব ভাল লাগছে যে সাহায্যের প্রক্রিয়া সঠিক ভাবেই চলছে এবং প্রাথমিকভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথ ,কালভার্ট , ও সেতু পুনঃনির্মানের পরিকল্পনা করা উচিত ।

 

রাজনৈতিক নিষ্পত্তির হেতু, আমি দৃঢ়ভাবে তাদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছি যারা বলে থাকে পূর্ব পাকিস্থানের স্বাধীনতার সম্ভবপরতা তাদের কাছে বোধগম্য নয় (Interruption) । নূন্যতম সাহায্যের সম্ভবনা ছাড়াই প্রশাসনের সাথে একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী মুসলিম গ্রুপ যা ২৫ বছর আগেই ভারতের দ্বারা পরিব্যাপ্ত হওয়া যা তাদেরকে এখন উদ্ধিগ্ন করেছে আলাদা হবার জন্য যেটা তাদের বোধশক্তির কোন অর্থই প্রকাশ পায় না ।

পূর্ব পাকিস্থানের অস্তিত্বের পুরো ঐতিহাসিক কারনীটা এখনো সত্য যে মুসলমান সম্প্রদায়ের দ্বারা শাসিত অধিকাংশ হিন্দু সম্প্রদায় বিশাল শংকায় দিনাতিপাত করে । পাকিস্থান গঠনের ২৫ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে , আমার অভিজ্ঞতায় বিবেচনাযোগ্য এমন কিছুই আমি শুনিনি , দেখিনি বা শিখিনি আমার বন্ধু ,সরকারি বা বেসরকারি সুত্র থেকে যারা রাষ্ট্রবিষয়ক মৌলিক পরিবর্তনের কোন পরামর্শ দিবে। আমি যদি সেখানে থাকতে পারতাম !

 

মিঃ জুলফিকার সিলভার ম্যানঃ এটা সত্য যে প্রায় ৬০ মিলিয়ন লোক ভারতে থাকতে পছন্দ করে তাছাড়া প্রায় শত শত শরনার্থী ভারতে প্রবেশ করেছে ? ভদ্রলোকের বক্তব্য অস্বীকার করবেন ?

স্যার আর থম্পসনঃ মোটেও না । ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধীবাসীদের সংখ্যা কম নয় । স্বাধীনতা লাভ এবং আলাদা হবার পূর্বে সংখ্যা অনেক ছিল ।যারা জন্মগত ভাবে এখানকার তারা তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে চায়নি ।

যাইহোক ,পূর্ব পাকিস্থানে ৮০ লাখ লোকের মধ্যে সমমনা মুসলিম দল আছে । সবচেয়ে কঠিন দিক অতিক্রম করতে হয়েছে অতীতে যখন ভারতের স্বাধীনতা নিদারুনভাবে সমালোচিত হচ্ছিল তখন বাঙালী মুসলমানেরা ছিল সর্বেসর্বা যে তাদের ছিটমহল থাকা এবং পাশ্চাত্যের ইসলামী সমমনা ভাইদের সাথে রাজনৈতিক সংযোগ থাকা উচিত। যদিও সময়ের পরিবর্তনের সাথে এসব কিছুই পরিবর্তন হবে , তার জন্য প্রয়োজন একটি ভাল লেনদেন। ২৫ টা বছর প্রমানের জন্য কিছুই নয় ।

ভয় থাকে যে , আমি নিশ্চিত পূর্ব-পাকিস্থানের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা কামনা করে কিছু মানুষ ,যারা সমস্ত আঘাত বাতিলের চেষ্টার পেছনে মুসলিম রাজ্য গঠনের উদ্দেশ্য ছিল । অর্থনৈতিক বা কৌশলগত ভিত্তি নেই যার উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র বোধগম্যভাবে উন্নতি লাভ করতে পারে । যদিও আমরা সচেতন পশ্চিম পাকিস্থানের নাগরিক অধিকার অবহেলার বিষয়ে , তার অবহেলা এবং দরিদ্রতা স্বাধীনতাকে থামিয়ে দিতে পারেনা ।

শতবছর ধরে পূর্ব পাকিস্থান ঐতিহ্যগতভাবে দরিদ্র,অনুন্নত এবং কৃষিপ্রধান। আমরা প্রায়ই বলে থাকি তারা পাট চাষ করে আর কলকাতা সেই লাভ ঘরে তোলে । যা এখনো সত্য। কলকাতার আশেপাশে নগরায়নের ফলে শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে যার পুরো লভ্যাংশটা যাচ্ছে পশ্চিম পাকিস্থানীদের হাতে অথচ পূর্ব পাকিস্থানের অশিক্ষিত চাষীরা যারা সরাসরি উতপাদন করতো তারাই মানবেতর জীবন যাপন করতো ।

মিঃ সিডনী বিডওয়েল(সাউথ অল)ঃ এই অংশে বিরাট সম্মাননা আছে অভিজ্ঞতার জন্য । এটা কি সত্য নয় যে  পশ্চিম পাকিস্থানীরা অব্যাহতভাবে পূর্ব পাকিস্থানীদের উপর বাজে ব্যবহার করছে ? এটাও কি সত্য নয় যে রাজনৈতিক সমাধান কার্যত অসম্ভব যেখানে অর্থনৈতিক প্রাচুর্যতা যথেষ্ট রয়েছে ? যখন পূর্ব পাকিস্থানকে ব্যবহার করা হত সকল মুনাফা ও লাভের উৎস হিসাবে , তাছাড়া তখন কি পশ্চিম পাকিস্থান পূর্বকে কলোনি হিসাবে বিবেচনা করতো ? 

.

nijhum

44.

একটা অন্যতম কারন হল দুই অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক অসমতা। তবে আমি সন্তুষ্ট যে, শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার একটিকে তুলে নিয়েছে। নিশ্চিতভাবে একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান চাইলে সাধারন নির্বাচনের ফলাফলকে স্বীকার করে নিতে হবে যার অর্থ হতে পারে, পুরো দেশের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচিত প্রতিনিধি আছে।

 

 

মি. বিডওয়েল: আর চাপের ব্যাপারে কী বলবেন?

 

স্যার আর. থম্পসন: এটা ছিল রক্ষাকবজ যা ঐ অবস্থানের প্রতিবিহিত করতে পারতো এবং আমি যে যদি এটাকে কাজ করার একটা সুযোগ দেওয়া হত, শেষ পর্যন্ত এটা প্রতিবিহিত করতো।

 

মি. বডওয়েল: নিষ্ঠুর সামরিক চাপের প্রতিবিহিত?

 

স্যার আর. থম্পসন: একজন ভদ্রলোক কোন বিষয়ের উপর তার মতামত দ্বারা অভিহিত হন।এটা নতুন কোন সমস্যা নয়। গোটা পাকিস্তানের স্বাধীনতার সাথেই এটা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনে আমরা বুঝতে পেরেছি যে পূর্ব পাকিস্তান  পাট রপ্তানীর সম্পূর্ন প্রাপ্য পাচ্ছিল না, যেখানে সম্পূর্ণ অর্থনীতি এর উপর নির্ভর ছিল।

এটা আগেই ঠিক করা ছিলো যে এটি সংশোধন করা হবে, কিন্তু তা এই বিদ্রোহের জন্য  বাস্তবায়ন করার জন্য কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি৷ যাইহোক, এটি এখনো হতে পারে৷ আমি আশাবাদী যদি সরকার পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধির অধীনে পূনর্বাসন এবং সহায়তা কর্মসূচি চালু করে৷ তাদের মধ্যে অনেকেই টিকে থাকবে, কিছু ভবিষ্যতকে ন্যায্য করার জন্য প্রশাসন পুণর্গঠন এবং বিন্যাসে সরকারের সাথে এগিয়ে আসবে৷ প্রস্তাবটি নতুন সংবিধানের এক ব্যাক্তি এক ভোট ধারনার অন্তর্ভুক্ত আইনি কাঠোমোয় রূপায়িত হবে , সরকারের ধারনা পাঁচটি প্রদেশে বিকেন্দ্রিকরণে পূর্ব পাকিস্তানের  গণপূর্ত ব্যায় ভাগ কম ছিলো৷ আমি বিশ্বাস করি সমতা আসবে এবং যৌক্তিকভাবে সন্তোষজনক ফলাফল সুরক্ষিত হবে, একটি নতুন সংবিধান করা হবে পুরাতন সামরিক আইন প্রতিস্থাপন করার জন্য৷ পাকিস্তানের চূড়ান্ত স্থিতি ই হবে প্রত্যাশার সর্বোৎকৃষ্ট পুনর্মিলন , এবং আমি শেষ করবো রাস্ট্রপতির কিছু উদ্ধৃতির দ্বারা

আমি তোমাদের সত্যি বলছি যে আমার লক্ষ্য একই রয়েছে যথা জণগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। অবস্থার সম্মতিসাপেক্ষে যত দ্রুত সম্ভব আমি এই বিষয়ের অর্জনের প্রতি পরিষ্কার পদক্ষেপ নেবো।

১: ১০ পিএম,

জনাব জন পারডোয়ে (কর্ণেল, উত্তর)

: (মি. ডাগলার মান) উত্তর, কেনিংসটনের সদস্য, এই বিতর্ককে পরিচিত করার জন্য আমিও মাননীয়কে আমার অভিনন্দন দিতে চাই এবং তার প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা প্রসারিত করতে চাই। সকল সম্মানীয়’র ভয়াবহ অবস্থা অভিহিত করতে আমি তার সাথে যোগ দেবো।

 

 

 

45.

তারা জানালো কি কি ঘটেছিল, কি কি ঘটছে আর কি হতে পারে যদি না কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়। আমি বিশেষভাবে তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তার এই উপকারের জন্যে কারণ অবস্থাটা আমার জন্যে একদম অপরিচিত ছিল,  তখনও  যদি আমাদের কোন ধরণের বিপ্লবের সম্মুখীন হতে হতো,  যা মার্কসবাদী বা সমাজতান্ত্রিক কোন বিপ্লব ছিল না,  কিন্তু তবুও উনিশ শতকের একটি সংস্কার মুক্ত বিপ্লব ছিল। সম্ভবত আমরা এসবের সাথে মানিয়ে চলার ক্ষমতাও হারিয়েছিলাম। এটা একটা মারাত্মক বিপদ যে এই বিতর্ক কেবল ভয়াবহ একটি প্রকাশ, কেবল বলার অপেক্ষা রাখে না, ওয়েল বাস্তবে সেখানে আমাদের করার মত কিছু নেই। সেখানে কিছু কথা ভেতর ভেতর চলছিল,  আর এই বিতর্কের শুরুতেও এই ঘটনার কিছু প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিলো, যদিও মনে হচ্ছিলো আমাদের আর কিছুই করা উচিৎ হবে না,  যেন আমাদের মাঝে সমাজতন্ত্রের আর কোন শক্তি বাকি নেই, ঐ প্যাক্স ব্রিটানিকা এখন মৃত, যদিও এই ঘটনার অস্তিত্ব নিয়ে আমাদের মনে সন্দেহ ছিল, আর আমাদের এর মাঝ থেকে বের হওয়াটাও জরুরী ছিল, আর এই অভিব্যক্তির সঙ্গে ভয়, শঙ্কা এবং অন্তর্বেদনাও উপস্থিত ছিল।

আমি যে সত্যটা বিশ্বাস করিনা তা হলো, যে আমরা পরবর্তী ইম্পেরিয়াল শক্তি মানে আমরা আমাদের ক্রমাগত ক্ষণস্থায়ী দিনগুলি অবশ্যই অন্য পাশে অতিবাহিত করবো। যদি আমরা কাজ করতে পারি তবে তা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং তা করার আমাদের ইচ্ছা ও সংকল্প হলো একটি সন্মানজনক প্রতিক্রিয়া এবং তা শুধুমাত্র সাম্রাজ্য-উত্তর ছিনিয়ে নেওয়ার প্রতিক্রিয়া নয়।। পাকিস্তানের অবস্থা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, শুধুমাত্র মানব পরিপ্রেক্ষিতে এবং কারন তা বিশাল মানব সহানুভূতি উত্থাপন করছে তার জন্য নয়, কিন্তু কারন হচ্ছে এটি একটি বিশ্ব ক্ষুদ্র সমস্যা যা  সারাবিশ্বের মুখোমুখি হচ্ছে। এই সমস্যা গুলো হছে  অতিরিক্ত জনসংখ্যা, অসহ্যকর দারিদ্র, অনাহার, অবিরাম সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং ভয়ানক সমস্যাটা হচ্ছে যাকে আমরা আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার বুঝিয়ে থাকি। যেমন টি বলা হয়েছে, যে কেউ পাকিস্তানের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখতে পাবে যে, দেশটির মধ্যে সহজাত ভৌগলিক অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। এটা সম্ভবত ভৌগলিকভাবে অনন্য নয়।কারণ সেখানে অন্য দেশ আছে যাদের অন্তত তাদের উপাদানের অংশের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। যখন একটি দেশের দিকে তাকিয়ে ভৌগলিক ভাবে এভাবে বিভক্ত করা হয় , সমস্ত ইতিহাস তখন চিৎকার করে বলে যে, দুটো অংশকে শুধু ধর্মের কারনে একসাথে ঝুলিয়ে রাখা অসম্ভব। ‘আমি মনে করি, স্বার্থের কারণে সমাজে শ্রেণী থাকবে! তবে আমি এটাও মনে করি না, মার্কসবাদীরা ইতিহাসকে যেভাবে সাজিয়েছেন বা ব্যাখ্যা করেছেন, ঠিক সেভাবেই অর্থনৈতিক-স্বার্থে সমাজে শ্রেণী থাকতে হবে!

পাকিস্তানের পরিস্থিতিতে দুইটি আলাদা উপাংশের মধ্যে এই ধরনের স্বার্থভিত্তিক সম্প্রদায় নেই এবং বিগত বছরগুলোতেও ছিল না। রাষ্ট্রটি তার ভিত্তি এবং উপস্থিতির জন্য এক ধরনের ভয়, এমনকি ঘৃণা নিয়ে ইন্ডিয়ার উপর নির্ভরশীল। এরকম ভয় বা ঘৃনার প্রতি পশ্চিমবঙ্গের আগ্রহ না থাকার অনিবার্য কারন আছে। ক্রয়ডন (Croydon) দক্ষিনের সম্মানিত সদস্য (স্যার আর. থম্পসন) ২৫ বছর আগে যে মতবাদ উত্থাপন করেছিলেন তা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অবশ্যই ছিল। কিন্তু এই ভিন্নতার উপাদান ছিল- (এবং আমাদের সার্বভৌম ইতিহাসের উপর আমার পড়া,  এটি যদি তার না হয়)- আমরা গোটা ভারতীয় উপমহাদেশকে ভাগ করে শাসন করার জন্য এসব সম্প্রদায়কে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ করতাম। একটা বড় পরিসরে আমরা ধ্বংয়াহ করে ফেলি, যেমনটা আয়ারল্যান্ডে বছরের পর বছর করেছি, আমাদের নিজস্ব সার্বভৌম কারনে দুটো সম্প্রদায়ের মধ্যে ভাগ।

 

স্যার আর.থম্পসন: আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে সম্মানিত ভদ্রলোক পুরোপুরি ভুল ছিলেন। আমরা ভারতীয় উপমহাদেশে ঐকিক রাষ্ট্র চেয়েছিলাম। আমরা প্রায় পেরেছিলামও, এবং এটাই ছিল একমাত্র কারন যে আমরা এমন একটা অচলপ্রায় রাষ্ট্রে ছিলাম যেখানে কোন কার্যকর সরকার না রেখে আমাদের সরে আসা সম্ভব ছিল না, এটা আমাদের বিবেক-বিরুদ্ধ ছিল,কিন্তু যেহেতু এটা সবচেয়ে ভালো ছিল যা অর্জন করা যেত, দেশটিকে ধর্মের ভিত্তিতে দুই ভাগে ভাগ করে।

.

Joya Korem

প্রধানত ভারত ও পাকিস্তানের মাঝে কাশ্মীর বিতর্কের মতবিরোধ থেকে এর উৎপত্তি।

অতীত ইতিহাস জানা না থাকলে এ পরিস্থিতি অনুধাবন করা খুব কঠিন। বাংলায় মুসলিম শাসনের পূর্বে উচ্চবর্ণ হিন্দুরা তাদের স্বদেশীয়দের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করত। সাধারণ মানুষের ভাষা তাদের জন্য প্রযোজ্য ছিল না, তাদের ভাষা ছিল দেবতাদের ভাষা সংস্কৃত। ইসলামের কারনেই বাংলা সাহিত্য আকৃতিলাভ করেছে ও সহনশীল মুসলিম শাসকগণের অধীনেই বাংলা কবিতা উচ্চমার্গে পৌঁছেছে। পরবর্তীতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মাধ্যমে স্থাপিত ব্রিটিশ আধিপত্যে বাংলার মুসলমানদের মর্যাদা হ্রাস পায়। এরপর উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুরা মুসলমানদের অবজ্ঞা করতে থাকে ও উচ্চ শ্রেণীর মুসলমানরা উর্দু ভাষা গ্রহণ করেন। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের তাবেদার ছাড়া আর কিছু নয় এই অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে নিপীড়িত হচ্ছে এমন ধারনা মুসলিম লীগকে একটি জনপ্রিয় দলে পরিণত করে, যা সম্ভবত অন্য যেকোন জায়গার চেয়ে বাংলায় গভীরভাবে অনুভুত হয়েছে।

কার্জন কর্তৃক ১৯০৫ সালে আদি একক-বাংলার প্রথম ভাগাভাগি ছিল হিন্দু অর্থ যোগানদাতাদের কঠোর অর্থনৈতিক দমন থেকে বাংলার মুসলিমদের উদ্ধার বা উদ্ধার প্রচেষ্টার একটি চমৎকার পদক্ষেপ, যদিও তা তাঁর দ্বারা সূচিত হয়নি। ১৯৪৭ সালে বাংলার দ্বিতীয় দেশভাগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্ম দেয়। আমি নির্দ্বিধায় স্বীকার করি যে, বাংলার কোন অংশই মোহাম্মাদ ইকবালের প্রথম রূপরেখায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না; তবে অবিভক্ত ভারতে ব্রিটিশ শাসনের শেষভাগের ঘটনাপ্রবাহ, ত্রুটি সমূহ ও ভুল বোঝাবুঝি পাকিস্তানের সাথে এর অন্তর্ভুক্তিকে অপরিহার্য করে তোলে।

পূর্ব পাকিস্তানের উপর পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ এই হাউসের কেউই অস্বীকার করে না। পশ্চিমাদের দ্বারা শোষিত পূর্ব পাকিস্তান একটি দুগ্ধদায়ী গাভী হিসেবে গণ্য হচ্ছে যা পাকিস্তানেরই একটি রাজ্য। তবে এটুকু বলা উচিত, পূর্ব পাকিস্তানের অনেক উচ্চ প্রশাসনিক পদে পশ্চিমাদের অন্তর্ভুক্তি দেশভাগের সময় হিন্দু কর্মকর্তাদের অভিবাসনের কারনে হয়েছিল।

কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারবে না যে তহবিল, আয় ও সম্পদের অসম বণ্টন হয়েছে, যদিও আমি মনে করি যে, এই অধিকার প্রয়োগের উদ্যোগটি মাননীয় সদস্যদের পরামর্শের কিছু পূর্বেই গৃহীত হয়েছে। এটিও বলা বাহুল্য যে, এমনকি ১৯৬৮ সালের পূর্বেও পাকিস্তানের ছয় জন প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনজনই ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের।

একটি আমেরিকান নথিতে, যা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন মাননীয় সদস্যদের নিকট প্রচার করেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে “পাগল” এবং “ক্ষমতামত্ত” বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যারা জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে চেনেন তারা কখনই এই বর্ণনার সাথে তাকে মেলাতে পারবেন না। আমি বাংলাদেশের সমর্থনকারীদের এই পরামর্শ দেই যে, যদি তারা এই দেশের জনগণের যুক্তিসঙ্গত মনে ছাপ রাখতে চান, তবে এধরণের ভাষা প্রয়োগ করবেন না। সন্দেহাতীত ভাবে জেনারেল ইয়াহিয়া খান একজন পেশাদার সৈনিক যিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ পতাকার অধীনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন, তার রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে নিষ্কৃতি পেতে ও নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে উদগ্রীব। তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের মাঝে ভারসাম্যহীনতা, অসমতা, অবিচারের প্রতিকারের ব্যপারেও সচেষ্ট।

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেউ অস্বীকার করবেন না যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। শুধু শেখ মুজিব রহমানের আওয়ামী লীগই নয় বরং পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সকল দলই প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনের ব্যপারে একমত ছিলেন। স্বায়ত্তশাসনের দাবী আমরা কেবল পূর্ব পাকিস্তানেই শুনতে পাই না, বরং পশ্চিমের প্রদেশ গুলোও স্বায়ত্তশাসন এবং পশ্চিমের দলগুলো প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিল। যখন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন শেখ মুজিব রহমান ও তার লীগ সমর্থিত আইনি কাঠামোতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল। আমি জানি না তা কেনসিংটন, নর্থ বা অন্য যে কারও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অস্বীকার করা হয়েছে কিনা।

বিতর্কের মনোভাব নিয়ে নয়, বরং যেহেতু নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া খুব কঠিন তাই জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে সম্মানিত  ভদ্রলোক কে জিজ্ঞাসা করি যে, তিনি কি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের এই বিবৃতি গ্রহণ করেছেন যে, তিনি শেখ মুজিব রহমান কর্তৃক আশ্বস্ত হয়েছেন যে, তাঁর মনে সংবিধানের যে রূপরেখা রয়েছে তা শুধুমাত্র ক্ষোভ প্রশমনে বৈধতা প্রদানের উদ্দেশ্যে নয়, বরং সামগ্রিক ভাবে পাকিস্তানের অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও সংহতি বজায়ের উদেশ্যেও নিহিত। আমি এর বিপক্ষে কোন অবস্থান দেখিনি এবং আমি মনে করি যে এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

জনাব ডগলাস মানঃ মাননীয় ভদ্রলোক যেরূপ আমাকে অনুরোধ করেছেন, আমি স্বীকার করি যে, আওয়ামী লীগার দের নির্বাচন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে পরিষ্কারভাবে এটি শেখ মুজিবের প্রকৃত উদ্দেশ্যের অংশ ছিল যে, পূর্ব পাকিস্তান সামগ্রিক পাকিস্তানের একটি রাজ্যের অংশ হিসেবে থাকবে, তবে এর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন থাকবে; এবং নির্বাচনী বিজয় লাভের পর অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন আওয়ামী লীগের জোরাল দাবিতে পরিণত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ ঘোষণা নিঃসন্দেহে শেখ মুজিবের নিকট বিস্ময়কর। আমি আশা করি যে, মাননীয় ভদ্রলোক এটিও স্বীকার করবেন যে, যুদ্ধটি প্রেসিডেন্ট কর্তৃক সূচীত হয়েছিল এবং এটি আমেরিকান অধ্যাপকগণ নন যারা “ পাগল ও ক্ষমতামত্ত” বিশেষণ ব্যবহার করেছিলেন এবং হত্যাযজ্ঞের সূচনা করেছিল পাকিস্তান সামরিক কর্তৃপক্ষ।

জনাব বিগস-ডেভিসনঃ এসব জটিল ঘটনাসমূহ অনুসন্ধান করা কঠিন। অবস্থাদৃষ্টে যা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে তা হল, নির্বাচনের সুবিধা নিয়ে একটি একক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী না হয়ে শেখ মুজিব বরং পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতায় মনোযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এটি আমার নিজস্ব অভিমত।

পূর্ব পাকিস্তানে ভয়ানক নৃশংসতার ঘটনায় হাউস গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়েছে। আমি আনন্দিত যে, কেনসিংটন, নর্থের মাননীয় সদস্য বলেছেন যে, সকল নৃশংসতাই একপাক্ষিক ভাবে সংঘটিত হয়নি এবং সব কিছুই পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা সংঘটিত হয়নি। আমি ভেবেছিলাম যে, গার্ডিয়ানের গত ১০ই মে প্রকাশিত ঢাকা থেকে এস. আর. ঘাউরিঁর প্রতিবেদনটি চিত্তাকর্ষক ছিল, যখন তিনি বললেন যে,

“অবশ্যম্ভাবীভাবেই, এই রক্তাক্ত নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হচ্ছে বেচারা বিহারী……. পাকিস্তানের বন্দর কেন্দ্রিক দ্রুত বর্ধমান, সেই মতাদর্শ জড়িয়ে আছে যা এই দেশের জন্ম দিয়েছিল এমনকি নিজেকে এর জিম্মাদার, ব্যাখ্যাকারী ও চালনাকারী রূপে নিয়োগদানকারী। ২৩ বছরে দুই বার উদ্বাস্তু হওয়ার বেদনাদায়ক ইতিহাস রয়েছে বিহারীদের……পাকিস্তান তার আবেগ ও তার আশ্রয়।

এই দুঃখজনক ঘটনাপ্রবাহে কেউ কেউ বিহারী সম্প্রদায়কে কিছুটা ভুলে গিয়েছে।

এটি এখন ক্রমান্ময়ে স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, অনেক খারাপ গল্পই অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। আমি এতে বিস্মিত নই। যখন আমি পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলাম এবং হিন্দু ও শিখ সংখ্যালঘু, মুসলিমরা যাদের হত্যাকাণ্ডে লিপ্ত ছিল তাদের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ছিলাম, আমাকে গুলিচালনার নির্দেশ দিতে হয়েছিল, হতাহতের সংখ্যা এক হাতেই গুনে দেয়া যেত, কিন্তু সন্ধ্যার মধ্যেই সকল জেলায় ছড়িয়ে পড়ত যে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এরূপ পরিস্থিতিতে যে কেউ তাই আশা করে।

আমি খুব আনন্দিত যে, ভারতীয় বেতারের প্রচার অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ যাদেরকে “নির্মূল” করার কথা বলা হয়েছিল তারা জীবিত আছেন এবং বাঙ্গালী কবি বেগম সুফিয়া কামাল মারা যান নি।

হত্যাকাণ্ড সকল বিবেচনায়ই খুবই ভয়ানক হওয়া সত্ত্বেও অনেক প্রতিবেদনে আমার প্রশ্ন রয়েছে। এমনকি আমি সন্দেহ করি যে আসলেই কি উদ্বাস্তুদের সংখ্যা ২ মিলিয়ন। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে যখন আমার ডানে সম্মানিত বন্ধু পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিষয়ক সচিব তার বক্তব্য দিচ্ছিলেন তখন আমি বলতে চেয়েছিলাম যে, ঐ সীমান্ত ছাড়িয়ে যাওয়া আন্দোলনে, সেখানে সর্বদাই ঝামেলাপূর্ণ ও ঘাটতিপূর্ণ সময় ছিল, এবং আমি খুবই আশা করি, যেহেতু পরিস্থিতি সমূহ ক্রমান্ময়ে স্বাভাবিক হচ্ছে – ক্রয়ডন, দক্ষিণের আমার মাননীয় বন্ধু আমাদের আশা করার কারন দেখিয়েছেন যে, যেহেতু পূর্ব পাকিস্তান অঞ্চলে পাল্টা একটি আন্দোলন হবে, তাই ক্রমেই পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হয়ে উঠছে।

কেনসিংটন, নর্থের মাননীয় সদস্য বিষণ্ণ ছিলেন। তিনি বলেন যে, যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে। আমি আশা করি যে, ভারতীয় সেনাবাহিনীর জেনারেল চৌধুরীই সঠিক এবং যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়াছে। গেছে। একটি গেরিলা সংঘর্ষ জ্বলে উঠতে পারে। সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বাংলায় নতুন কিছু নয়। প্রথম দেশভাগের সময় ১৯০৫ সালে যা ১৯১১ তে শেষ হয়েছিল, এবং বেসামরিক অবাধ্যতার সময়েও এই উদ্বেগ ব্যপক ছিল।

তবে স্বাভাবিকতার লক্ষণ রয়েছে। লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে, বাঙ্গালী নেতৃবৃন্দরা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতে সামনে এগিয়ে আসছেন এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানর চেষ্টা করছেন। চালনা ও চট্টগ্রামে পাট বোঝাই করা হচ্ছে। বিচ্ছিন্নতার মাঝে আমি কোন রাজনৈতিক সমাধান দেখতে পাই না। কিন্তু, রাজনৈতিক সমাধান পাকিস্তানীদের জন্যই। আমি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করি যে, তিনি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, যেমন জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। একজন সামরিক ব্যক্তি হিসেবে তিনি অন্য সবার চেয়ে ভাল জানেন যে বেয়নেটের উপর কেউ চিরকাল বসতে পারে না।

পরিশেষে আমি এই ব্যপারে ব্রিটিশদের চাওয়া উল্লেখ করতে চাই। আমরা অবশ্যই চাই যে, কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ সমুহ যারা আমাদের সাথে CENTO ও S.E.A.T.O তে সম্পৃক্ত রয়েছে, তাদের মাঝে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বিরাজ করে। যদি বিচ্ছিন্নতা হয় তবে সেটাই সর্বশেষ হবে না। যারা পখতুনিস্তান চায় তাদের এমনকি পাকিস্তানের অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনেও পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতা ইন্ধন যোগাবে। এটা বিস্ময়কর নয় যে ভারত, তার সকল সমস্যা ও বিভিন্ন ভাষাগত প্রদেশ থাকা সত্ত্বেও, ভারত যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর, সতর্ক রয়েছে, এবং ব্রিটিশ সরকারও সঠিক ভাবেই কম রক্ষণশীল নয়, যেহেতু বর্তমানে বিচ্ছিন্নতা সমস্ত উপমহাদেশের জন্য একটি হুমকি স্বরূপ, এবং শুধু পাকিস্তানে নয়; যেখানে চীন প্রয়োগ করেছে এবং সীমানায় উপস্থিত ও অতিক্রম করছে, অপেক্ষা করছে।

জনাব ডেপুটি স্পিকার (স্যার রবার্ট গ্র্যান্ট-ফেরিস): ডানের সম্মানিত ওয়েন্সবারির সদস্য (জনাব স্টোনহাউস) কে ডাকার পূর্বে, আমার মনে হয় এই হাউসের কার্যক্রমের সহায়ক হবে, যদি আমি বলি যে, এখন থেকে সম্মানিত সদস্যবৃন্দ যারা বিতর্কে অংশ নিতে চান প্রত্যেকেই অংশ নিতে পারবেন, গড়ে ১২ মিনিটের মধ্যে তাদের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখবেন। পর্যাপ্ত সময় ছেড়ে যাচ্ছি ডানের লানার্কের মাননীয়া সদস্যা (মিসেস হেইট) ও বিতর্ক সমাপ্তির জন্য মন্ত্রী মহোদয়কে।

 

 

.

নিলয় কুমার সরকার

 

দুপুর ১টা বেজে ৪২ মিনিট।

Mr. John Stonehouse (Wednesbury): হাউস বিতর্ক সূচনা এবং মধ্যপন্থী উপায়ে সে বিষয় প্রবর্তন জন্য আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন এর সদস্য (জনাব ডগলাস মান) এর প্রতি কৃতজ্ঞ।

আমার পর্যবেক্ষণ যা অনারারি সদস্য Croydon , দক্ষিণ (স্যার আর থম্পসন)  দ্বারা তৈরি করা হয়েছে এবং কিছু রাজনৈতিক পয়েন্ট মোকাবেলা করতে চান যা অনারারি সদস্য Chigwell (জনাব বিগস ডেভিসন) দ্বারা উত্থাপিত হয়। আমি আমার বক্তৃতা যে অংশ অনারারি সদস্য কর্নত্তয়াল (জনাব Pardoe), এর কথাকে সমর্থন করে তার জন্য আনন্দিত। 

প্রথমত, আমি মনে করি হাউস একমত হতে হবে যে এটা খুবই উদ্বেগজনক ব্যাপার যে আমাদের এই বিতর্কের জন্য প্রায় সাত সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং আমার অনারারি বন্ধু সদস্য কেনসিংটন, এর  ব্যালট জেতার ভাগ্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে। এটা বরং বিষণ্ণকর যে আমাদের সংসদীয় পদ্ধতি বিশ্বের উদ্বেগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার সময় সরকারি বা বিরোধী দলের  জন্য বরাদ্দ করার অনুমতি দেয় না। যাইহোক, আমরা আজ বিতর্ক করছি এবং আমি আনন্দিত যে আমরা এই সুযোগ পেয়েছি। এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক বিতর্ক প্রমাণিত হতে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের কাছ থেকে অবদান অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়েছে, তাদের অনেক গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আমি আমার সাম্প্রতিক সহযোগী ত্রাণ প্রতিষ্ঠানের সাথে তিন সপ্তাহ আগে ভারত ও পশ্চিমবঙ্গ-পূর্ব বাংলার সীমান্ত থেকে আমার সফরের কথা বলতে প্রথম চাই, এবং আমি হাউসে নিশ্চিত করে বলছি অনারারি বন্ধু সদস্য, কেনসিংটন উত্তর এর কথা যে শিবিরে তাদের আমি দেখেছি। সে সময়  দিনে ঢালাও  হারে সীমান্তের উপর আতঙ্কজনক-শরণার্থী ছিল। আগ্রহউদ্দীপক বিষয় হল- আমি এটা নিশ্চিত করছি যে যেহেতু উদ্বাস্তুদের অধিকাংশই সংখ্যাগুরু মুসলিম,  হিন্দু নয়।  এই অবস্থা যে বিভাজনের সময় প্রয়োগ এবং তার পরের থেকে যখন পূর্ব থেকে মানুষ পালিয়ে আসত তা  থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। পরিস্থিতি এমন ছিল যে সংখ্যাগুরু হিন্দু ছিল, ছিল যদি না সব হিন্দু, একটি মুসলিম রাষ্ট্র যেখানে তারা ভয় করে যে তারা অবদমিত হবে তাই তা থেকে পালিয়ে আসত। পরিস্থিতি এখন এমন যে শরণার্থীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পালিয়ে আসছে মুসলিম রাষ্ট্র থেকে যেখানে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী ছিল।

এই পরিস্থিতিতে, এটা ভারতীয় সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অবদান যে, তারা অবাধে লাখ লাখ না হলেও হাজার হাজার এই শত শত গ্রহণ করেছে যেখানে তারা নিজেরাই অধিক জনসংখ্যার দেশ, এবং কোনো দ্বিধা ছাড়াই, তাদের সম্পদের সর্বোত্তম সান্ত্বনা এবং খাদ্য তারা প্রদান করেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই মানবিক কাজের জন্য অভিনন্দিত হওয়ার প্রাপ্য। এটা হয়ত সহজ হত তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়া, আর বলে দেয়া, “এটি আমাদের সমস্যা নয়”।

প্রধানমন্ত্রী নেহরু, পার্টিশন এর সময়ে, একটি গ্যারান্টি দিয়েছিলেন যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কোনো সদস্য ভারতে যাওয়ার অধিকার থাকবে। স্পষ্টত যে এই গ্যারান্টি পূর্ববাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য করা হয়নি। ভারত, প্রকৃতপক্ষে, তার অধিকার র‍্যেছে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়ার এবং উদ্বাস্তুদের অন্তঃপ্রবাহ প্রতিরোধ করবে যারা শুধুমাত্র জনাকীর্ণ পশ্চিমবঙ্গে অর্থনৈতিক সমস্যার যোগ করবে না কিন্তু সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা জন্য কারণ তৈরি করতে পারে, যেমন সেই এলাকার হিন্দুপ্রধান মানুষজন অনুভূত করছে যে পালিয়ে আসা মুসলমানদের নিজেদের অবস্থার চেয়ে ভাল সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

একটি বিপজ্জনক দিক হল, একটি বিশেষ জেলার জনসংখ্যার অর্ধেক শরনার্থী হয়ে এসেছে এবং পশ্চিম পাকিস্তানের প্রশাসন অর্থ দিয়ে অনুপ্রবেশকারী ঢুকিয়ে দিতে পারে যারা ভারতীয় অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে পূর্ব বঙ্গের পরিস্থিতির উপর থেকে নজর সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে।

আমি যে গল্প শুনতে পেলাম তাতে আতঙ্কিত ছিলাম। আমি সেসব গল্প যা প্রেস রিপোর্ট করা হয়েছিল তার পুনরালোচনা করতে চাই না- আমরা তাদের পড়েছি – কিন্তু আমার হাউসকে বলতে হবে যে আমি উদ্বাস্তুদের থেকে সরাসরি শুনেছি তা সত্যিই ভয়ঙ্কর ছিল। আমি একটি গ্রুপের সাথে কথা বলেছি যাদের স্ত্রীরা তাদের সন্তানদের ধরে ছিল। তাদের গল্প শোনানোর সময় তারা কাঁদছিল। তারা বলছিল তাদের স্বামীরা যারা কোন নেতা নয়, আওয়ামী লীগের সমর্থক নয়, পাকিস্তানি আর্মি প্লাটুন গ্রামে ঢোকার পর তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায় এবং ঠান্ডা মেজাজে তাদের গুলি করে।

উদ্বাস্তুরা নিজেরা পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে নির্বিচারে ক্ষেতে কৃষক হত্যা করতে দেখেছিল। তারা বলেন এই নৃশংসতা বাঙালিদের বিরুদ্ধে বিহারীদের দ্বারা সংঘটিত, বিহারীদের আচরণ  সম্পূর্ণ আগ্রাসী ছিল কারণ তারা সেনাবাহিনীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। আমি বিতর্ক করব না যে অন্য দিকেও নৃশংসতা ছিল, এবং তাদের সমানভাবে আক্ষেপ করতে হবে। বাঙালিদের বিহারীদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার ঘটনা হয়েছে। কিন্তু এই সবের কারণ হল পশ্চিম পাকিস্তান সরকার গত বছর নির্বাচনে গণতান্ত্রিক ইচ্ছার অভিব্যক্তির প্রতি সমর্থন বজায় রাখার ব্যাপারে ব্যর্থ হয়েছে।

এটা আমার কাছে পরিষ্কার যে ক্যাম্পে থাকা হাজার হাজার মানুষ যারা ভারতে পালিয়ে এসেছে, প্রকৃতপক্ষে যেখানে মুসলিমরা স্বেচ্ছায় আসতে চায় না, যারা বছরের পর বছর ভারত এবং হিন্দুদের বিরুদ্ধে ছড়ানো প্রপাগান্ডার শিকার, তারা পশ্চিম পাকিস্তানিদের কার্যকলাপে আশাভঙ্গ ও মোহভঙ্গ না হলে পূর্ব বাংলা থেকে পালিয়ে আসতে চাইত না।

আমাকে না শুধুমাত্র, অন্যান্য পর্যবেক্ষকের যারা সেখানে ছিল, তাদের কাছে মানুষের ভয়ংকর ঘটনার কিছু বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘটেছে। সরলভাবে, সেখানে বড় অনুপাতে একটি গণহত্যার হয়েছে। এটা অচিন্তনীয় যে একটি গণহত্যা না হলে সুবিশাল সংখ্যার মানুষ এই সীমান্ত জুড়ে পালিয়ে আছে ।

যারা এই সমস্যার একটি সমাধান খুঁজে পেতে চান নৃশংসতার এবং  সামরিক ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে থাকার নিন্দা করতে হবে। এটা যথেষ্ট নয় যে অন্য দিকে হত্যাযজ্ঞ হয়েছে পাশাপাশি পরিস্থিতির পাশ কাটিয়ে যেতে হবে। আমি একমত সেখানে সম্ভবত ঘটেছে, কিন্তু আমাদের স্বীকার করতে হবে যে সামরিক শক্তির বড় হত্যাযজ্ঞ যা পশ্চিম পাকিস্তানীরা গোপনে কয়েক সপ্তাহ ধরে গোপনে রেখেছে যখন আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছিল। যখন কয়েক মাস আগে থেকে পূর্ব বাংলায় দুর্ভিক্ষের বিপদ বিবেচনা করা হয় পরিস্থিতি আরও ভয়ানক হয়ে ওঠে। বর্তমান সময়ে, অনেক এলাকায়, সেখানে বিতরণ ও যোগাযোগের অভাবের কারণে খাদ্য ঘাটতি রয়েছে। সড়ক ও রেলপথ কাটা হয়েছে। যে সম্পর্কে কোন সন্দেহ নেই। ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন দুই দিন আগে জনাব হার্ভে স্টক উইন এটি নিশ্চিত করেছেন। কিন্তু আগামী কয়েক সপ্তাহের দুর্ভিক্ষ বিপত্তি  যা অবশ্যই আসবে, আমাদের নিজেদেরকে ব্যসচেতন রাখতে হবে যেন এটিকে তুচ্ছ না ভাবা হয়,  প্রধান ধান ফসল, তথাকথিত আমান ফসল, প্রাক বর্ষা সময়কালে রোপণ করা হয় নি।

এই ফসল থেকে পূর্ববাংলায় উত্পাদিত মোট ধানের ৬০/৭০ শতাংশ আসে এবং যদি এটা রোপণ করা না হয়, এটা অক্টোবর এবং নভেম্বর  চাষ করা যাবে না। দুর্ভিক্ষ আসবে সম্ভবত যা ১৯৪৩ সালে সংঘটিত দুর্ভিক্ষ এর সর্বনাশা প্রভাবের সমান হবে।

আমাদের নিজেদেরকে সমস্যার বিভিন্ন দিক নিয়ে চিন্তা করা উচিত। প্রথম প্রয়োজন ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা শরণার্থী শিবিরে এইড সহায়তা করা। এখানে, আমি বলতে চাই ত্রাণ সংগঠনগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সহানুভূতিশীল এবং সহায়তার জন্য আবেদন সাড়া দানকে প্রশংসা করেন। তার উষ্ণ প্রতিক্রিয়া এবং কর্ম গতির ফলে, আমরা ওয়ার অফ ওয়ান্ট, অক্সফাম ও খ্রিষ্টান এইডের দেয়া ত্রান প্লেন ভরে পাঠাতে পেরেছি। কিন্তু এই এইড, যদিও এটার প্রশংসা করা হয়, কিন্তু এটা প্রয়োজনের তুলনায় সমুদ্রের একটি বিন্দু মাত্র।

আমি আজ একটি টেলিগ্রাম পেয়েছি কলকাতা থেকে পাঠানো, রেভারেন্ড জন হেস্টিংস, কলকাতার একজন মন্ত্রী যিনি অনেক বছর ধরে ত্রাণ কাজে কলকাতায় নিবেদিত এবং যিনি এখন ক্যাম্পে সহযোগিতার সাথে সংশ্লিষ্ট।  তিনি বলেন:

“সবাই দাতাদের ও পররাষ্ট্র সচিবের প্রতি তাঁবু ও সরবরাহ চালান এর জন্য কৃতজ্ঞ। অফিসিয়াল শরণার্থী সংখ্যা পশ্চিমবঙ্গে ১.৮ মিলিয়ন; পুরো ভারতে ২.৫ মিলিয়ন। ১ মিলিয়নের জন্য ভাল আশ্রয় এখনও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।“

তিনি দেখিয়েছেন যে, যদিও শরণার্থী সমস্যা মোকাবিলা করতে হবে, আমরা নিজেদের পূর্ব বাংলায় সমস্যা নিয়েও চিন্তা করা উচিতঃ

 “আমরা বাস্তব সমস্যা এড়ানোর জন্য সন্দেহভাজন হয়ে যাব যদি আমরা শরণার্থী সেবা থামিয়ে দিই।“

প্রথমত, তারপর, শরণার্থী ক্যাম্পে: ব্যাপক সহায়তা হতে হবে সেখানে। এখানে, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ যদিও আসছে একটু ধীরে, সেটিকে স্বাগত জানানো হবে। জাতিসংঘ ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠন করেছে, শুধুমাত্র ক্যাম্পে শরণার্থীদের বিশেষ সহায়তা দেবার জন্যই নয়, সীমান্ত জুড়ে তাদের পুনর্বাসন করার জন্যও। পূর্ববাংলার নিজের পরিস্থিতি এবং কয়েক মাসের মধ্যে প্রত্যাশিত দুর্ভিক্ষের জন্য জন্য জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর এখন দুর্যোগ মোকাবেলায় পরিকল্পনা শুরু করা উচিত।

আমি কিছু রাজনৈতিক পয়েন্টে আসছি যা বিতর্কে উত্থাপিত হয়েছে এবং আমি Torquay এর অনারারি সদস্য (স্যার এফ বেনেট) এবং তার অনারারি বন্ধু সদস্য Croydon, দক্ষিণ এর মন্তব্যের কিছু বিষয় অবিলম্বে নিতে চাই। Torquay এর অনারারি সদস্য বলেন, শেখ মুজিব রহমান নির্বাচনের সময় স্বীকার করেছিল একটি ঐক্যবদ্ধ দেশে ধারাবাহিকতা জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, এবং  তিনি একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী দর্শনের প্রচার করছিলেন  শুধুমাত্র নির্বাচনের পরে। অনারারি ভদ্রলোক বলেন নির্বাচনের পূর্বে ছয় দফা আইনি কাঠামোর সংগে মিলে নি যার ব্যাপারে শেখ মুজিব রহমান একমত ছিলেন।

 অনারারি জেন্টলম্যান যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। আমি এখানে Keesing এর সমসাময়িক আর্কাইভ থেকে করা ৬ই ফেব্রুয়ারি একটি ডকুমেন্ট দেখাচ্ছি যা দেখায় যে, আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসনের ছয়দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন যা ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব রহমান দ্বারা পেশ করা হয়। এটা কোন নতুন প্রোগ্রাম নয়, এটা এমন কিছু, যার জন্য আওয়ামী লীগের বহু বছর ধরে কাজ করেছে। ছয় দফা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের বেশ কিছু পয়েন্ট ছিল যে পয়েন্টগুলা যা শেখ মুজিব রহমান নির্বাচনের পর অনুসরণ করতে চাইবেন যা নির্দেশিত ছিল বলে উল্লেখ করেন Torquay এর জন্য অনারারি সদস্য।

বস্তুতপক্ষে, মানব ইতিহাসে খুব কমই এরকম স্পষ্ট নির্বাচনী প্রোগ্রাম যেখানে এক ব্যক্তি এক ভোট বা আরও স্পষ্ট করে সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে মানুষের সামনে আনা হয়েছে।  এখানে আমাদের ছয় দফা আছে। নির্বাচনে যে তারা পাকিস্তানের একটি এক দেশের আইনী কাঠামোর মধ্যে হবে না সময় কোন প্রশ্ন ছিল না। ইয়াহিয়া খান এবং তার সহযোগীদের থেকে এই প্রোগ্রামের ব্যাপারে কোন আপত্তি পেশ করা হয় নি কারণ, অবশ্যই তারা এটি পূর্ব বাংলায় এই পরিমাণে সমর্থিত হবে আশা করেনি। শুধুমাত্র নির্বাচনের পর, যখন পূর্ববঙ্গে আসনের ৯৮ শতাংশে এই ধরনের একটি প্রোগ্রাম উপর জয়ী হয়, আপত্তি উত্থাপিত হতে শুরু করেছিল।

এখন আমরা গভীর দার্শনিক ও সাংবিধানিক সমস্যায় জড়িত। আমি একজন সম্মানিত সদস্যের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলছিলাম এবন তার মন্তব্য ছিল, “তারা তাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে। একবার আমরা এটা তাদের দিয়েছি, নিজস্ব রসে সিদ্ধ হওয়া তাদের নিজেদের ব্যাপার। তারা একটি স্বাধীন সার্বভৌম জাতি. আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারব না। তাদের কঠিন উপায়ে শিখতে হবে।“ আমি এ সব বিষয়ে এ মনোভাবের সঙ্গে একমত হতে পারি না। আমি কর্নওয়াল, উত্তর এর  অনারারি সদস্যের সঙ্গে একমত। সম্মানের সঙ্গে আমাদের অন্যান্য দেশের ব্যাপারে আগ্রহ থাকবে, বিশেষত যখন গণহত্যা সংগঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ধ্যান ধারনাকে অস্বীকার করা হয়, এটা একটা দায়িত্ব যা আমরা হৃদয় থেকে উপলব্ধি করি।

এখন জাতিসংঘের কার্যাবলী। আমি একমত যে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে ত্রাণ প্রচার সাহায্যার্থে নিতে এবং দুর্ভিক্ষ এড়ানো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে হবে। কিন্তু জাতিসংঘকে  শুধুমাত্র এটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা উচিত হবে না। চার্টার দশের ধারা ১ এ জাতিসংঘের প্রথম উদ্দেশ্য হল যেঃ

শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য, এবং শেষপর্যন্ত: শান্তির জন্য হুমকি প্রতিরোধ ও অপসারণের জন্য কার্যকর সমষ্টিগত ব্যবস্থা গ্রহণ”

সবাই স্বীকার করে যে এটি শান্তির জন্য একটি ব্যবস্থা, চীন একপাশে সঙ্গে ্খেলছে এবং U.S.S.R. সম্ভবত অন্য পাশে খেলছে।

প্রবন্ধ ১ অব্যাহত:

“আগ্রাসী কর্মকাণ্ড বা শান্তির ভঙ্গের অন্যান্য কার্যকলাপ দমন করা”

একটি আগ্রাসী ঘটনা ঘটেছে, পাকিস্তানি আর্মি দ্বারা, আমরা যেসব প্রমাণ শুনেছি যেভাবে নিরীহ মানুষকে আক্রমণ ও হত্যা করা হচ্ছে যা গত ২০ বছরের মধ্যে ঘটা সব থেকে বাজে ঘটনা।

পরবর্তীতে,

 শান্তি ভঙ্গ হতে পারে এমন কর্মকান্ডের শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং ন্যায়বিচার এবং আন্তর্জাতিক আইন, সমন্বয় বা আন্তর্জাতিক বিরোধ বা পরিস্থিতি নিষ্পত্তিকরণ যা মূলনীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।

.

আমি অপূর্ব

এতে এমন কিছু নেই যা একে শুধুমাত্র একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের সাথে অপর সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে। কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের মধ্যে যদি এমন বিভক্তি দেখা দিতে থাকে যা বিশ্ব শান্তির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে তবে জাতিসংঘের এ ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করা উচিৎ। জাতিসংঘ সনদের ধারা ১ এর অনুচ্ছেদ ২ অনুসারে, ‘জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ’ এর অধিকার রয়েছে। এটি যদি সততার সাথে প্রয়োগ করা হয় তবে নিশ্চিতভাবেই এটি পূর্ব বাংলার মানুষের জন্যও প্রযোজ্য, যারা কীনা আওয়ামী লীগের ছয় দফা দাবিকে বিপুল ভোটের মাধ্যমে সমর্থন দিয়েছে এবং পূর্ব বাংলায় তারা নিজেরা আস্থা রাখতে পারে এমন সরকারের ব্যাপারে তাদের চাহিদা ব্যক্ত করেছে। আমি সেই সব সম্মানীত সদস্যের সাথে একমত যারা মনে করেন অখণ্ড পাকিস্তানকে আর টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশ সরকার অবশ্যম্ভাবী ভাবেই গঠিত হবে। এই ৭৫ মিলিয়ন মানুষ গণতান্ত্রিক ভোটের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। তবে, যাই হোক, জাতিসংঘ হয়ত নিজে এই সিদ্ধান্তের দায়িত্ব নিতে পারে না এবং আমি জাতিসংঘের করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ করতে চাই। জাতিসংঘ সনদের ধারা ৩৩ অনুসারেঃ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে এমন যে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে প্রথমেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। “নিরাপত্তা পরিষদ” ধারা ৩৪ অনুসারে, “যে কোনো বিরোধ বা পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করতে পারে কী না তা জাতিসংঘ খতিয়ে দেখতে পারে।“ আমার মনে হয় এই বিতর্কে অংশ নেয়া প্রত্যেক সম্মানীত সদস্য একমত হয়েছেন যে এক্ষেত্রে সেই পরিস্থিতি প্রযোজ্য। অতএব, জাতিসংঘের শুধু ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিলে চলবে না, যদিও এটাও জরুরি, কিন্তু, সনদের এই ধারার প্রয়োগেও মনোযোগী হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘ বৃহৎ শক্তিগুলোর এক ক্লাবে পরিণত হয়েছে। এটি এমন একটি ক্লাব যেখানে শুধু সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলো প্রবেশাধিকার পায়। মানবতা জাতিসংঘের কাছে কোনো মূল্য পায় না যদি না কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র তার প্রতিনিধিত্ব করে। এটি একটি দুঃখজনক বিষয় এবং আমি আশা করি যে, কোনো একসময়ে, এ বিষয়ে এমন কিছু করা হবে যাতে করে কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই নিপীড়িত মানবতা জাতিসংঘের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে ইতোমধ্যে ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিল এবং আরও কিছু এজেন্সির ক্ষেত্রে এটি হয়েছে। পূর্ব বাংলার গত কয়েক সপ্তাহের বিদ্যমান পরিস্থিতির মতো অবস্থার প্রতি নিরাপত্তা পরিষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কোনো একটা সুযোগ থাকতে হবে যেন কোনো বৃহৎ বা ক্ষুদ্র শক্তির কাছ থেকে অনুরোধ আসার অপেক্ষা না করে ধারা ৩৩ ও ৩৪ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। যদি কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্র এখন এ ধরণের কোনো পদক্ষেপ নেয়, হয়তো তাহলে জাতিসংঘ নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে কাজ শুরু করতে পারে। একটি যুদ্ধবিরতি এবং সুষ্ঠ যোগাযোগ এবং সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা বজায় রাখতে সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে দুর্ভিক্ষ ও রোগব্যাধী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে তা নিশ্চিত করার পরে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে পূর্ব পাকিস্তানে একটি গণভোটের ব্যবস্থা করা যায় যেন কোনো সন্দেহের অবকাশ ছাড়া নির্ধারণ করা যায় যে জনগণ স্বাধীন বাংলাদেশ চায়, না কি পশ্চিমের সাথে একই রাষ্ট্র হিসেবে একত্রীভূত থাকতে চায়। আমি বিশ্বাস করি তাদের সিদ্ধান্ত কী হবে সে ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে নেয়া হয়ে গিয়েছে। যদি, যে কারণেই হোক, জাতিসংঘ গত বছরের নির্বাচনের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারে, সেক্ষেত্রে আমি বিশ্বাস করি একটি গণভোট তাদেরকে সহায়তা করতে পারে। সিগওয়েল এর সম্মানীত সদস্য বাংলাদেশি সমর্থকদের দ্বারা প্রচারিত একটি বিজ্ঞপ্তির ভাষাকে অসংযত বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জেনারেল ইয়াহিয়া খানকে ক্ষমতার নেশায় মত্ত এবং পাগল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আমার জানতে ইচ্ছে হয়, সম্মানীত সদস্য দুই দিন আগে আমার হাতে আসা পাকিস্তানের মহামান্য হাই কমিশনার জনাব সালমান এ. আলীর পাঠানো অপর একটি দলিলেরও এমন সমালোচনা করবেন কী না। দলিলটি কিছুটা এরকম- “আওয়ামী লীগ যাদেরকে প্ররোচনার মাধ্যমে জয় করতে ব্যর্থ হয়েছিল তাদেরকে নাৎসি স্টাইলের কৌশল খাটিয়ে নিজেদের পথে আনতে চেষ্টা করেছিল। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল এবং অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট অংশের দ্বারা নির্দেশিত ও পরিচালিত হত্যাকাণ্ড সমূহের সত্যিকারের মাত্রা এখন পরিষ্কার হচ্ছে।“ সম্মানীত সদস্য অপর পক্ষের ‘বাড়াবাড়ি’র নিন্দা করেছেন। আমি আশা করবো তিনি এই বাড়াবাড়িরও নিন্দা করবেন। আমি এর উল্লেখ করছি এটা দেখানোর জন্য যে, এই বিরোধে উভয়পক্ষই কিছু অত্যন্ত নিন্দনীয় বক্তব্য দিচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি না এরকম প্রতিটি অভিযোগ, পালটা অভিযোগের বিচার করতে যাওয়া আমাদের নিজেদের জন্য কোনো সুবিধার কারণ হবে বা সমস্যার সমাধান অনুসন্ধানে কোনো সুবিধার কারণ হবে। সময়মত, ঘটে যাওয়া মৃত্যুগুলো সম্পর্কে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন আসবে, কিন্তু আজকে আমাদের উদ্দেশ্য তদন্ত নয়, দোষারোপ নয়, বরং চলমান যে কোনো বাড়াবাড়ির নিন্দা করা যা আমি একটু আগে কলকাতার যে টেলিগ্রামের কথা আমি বলেছি তাতে উল্লেখ করা হয়েছে এখনও চলমান হিসেবে, এই আশায় যে আমরা এর একটি বিহিত করতে পারবো, এর এমন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে পারবো যা সম্পূর্ণভাবে পূর্ব বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার উপর ভিত্তিকৃত। মি. বিগস ডেভিসনঃ সম্মানীত সদস্য আমার উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি মনে করি না যে দু’টি বিবৃতি পরস্পর তুলনাযোগ্য। একটি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নৃশংসতার অভিযোগ, অপরটি একজন ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব ও সততার বিরুদ্ধে আক্রমণ। আমি পরেরটির ব্যাপক প্রতিবাদ করছি। এই দু’টি তুলনাযোগ্য নয়। মি. স্টোনহাউসঃ আমি বিশ্বাস করি যে, পরিস্থিতি নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের দিকেই নির্দেশ করছে। এতে অনেক মাস লাগতে পারে, বা বছরও লাগতে পারে, কিন্তু আমি মনে করি এক হাজার মাইলের বেশি দূরত্বে অবস্থিত ৭৫ মিলিয়ন মানুষের একটি দেশে, বিহারি সংখ্যালঘু ব্যতীত যার অধিকাংশই বর্তমানে তাদের বিরোধীতা করবে, সেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসন পুনর্বহাল করা অসম্ভব হবে। এই পরিস্থিতিতে, দীর্ঘযাত্রায়, পূর্ব বাংলার জনগণের জয় হবেই। অতএব, আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের উচিৎ হবে না পশ্চিম পাকিস্তানিদের এটা ভাবতে উৎসাহী করা যে, তারা কোনো ‘স্বাভাবিক’ পরিস্থিতিতে ফেরত যেতে পারবে যাতে তারা দেশের এই অঞ্চলে তাদের শাসন চালিয়ে যেতে পারবে। আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের জন্ম হবেই, এবং আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে, বিশ্ব শান্তির স্বার্থে তাদেরকে এটি অর্জনে সহায়তা দেয়া উচিৎ।

.

ফারজানা আক্তার মুনিয়া

২ঃ১০ অপরাহ্ণ রেভারেন্ড ইয়ান পেইসলি (অ্যান্ট্রিয়াম, উত্তর)ঃ অন্য সকল সম্মানীত সদস্যের ন্যায় আমিও এই প্রস্তাবের প্রস্তাবক, সম্মানীত সদস্য, কেনসিংটন, উত্তর (মি. ডগলাস মান)কে সাধুবাদ জানাতে চাই। পূর্ব পাকিস্তান ট্রাজেডির প্রতি আলোকপাত করে এমন যেকোনো কিছুই স্বাগত জানানোর যোগ্য। যাই হোক, এখানে আরও একটি ট্রাজেডি আছে। সেটি হলো, অনেকের মধ্যে এক ধরণের উদাসীনতা, সচেতনতার অভাব, এমনকী গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি সম্পর্কে নির্লিপ্ততাও আছে। নিজের এবং বিশ্ব স্বার্থের কারণে, যেসব বিষয়ের সম্পূর্ণভাবে নিন্দা করা উচিৎ সেসব বিষয়ে প্রকাশ্যে এবং স্পষ্টভাবে কিছু না বলার একটা প্রবণতা আছে। আমরা এমন এক সময়ে বাস করি, যখন আমরা অত্যাচার, সহিংসতা, রক্তপাত, অরাজকতা এবং অনাচারের সাথে মানিয়ে নিয়েছি। পুরো জাতি জুড়ে যে গভীর উদ্বেগ থাকা উচিৎ, তা নেই। কোনো বিতর্ক যদি আমাদের এই জাতিকে নাড়া দিতে পারে তো সেটি হচ্ছে এই বিতর্কটি। আমি বিতর্কে অংশ নেয়া সকল সম্মানিত সদস্যের উদ্বেগ প্রকাশকে স্বাগত জানাই। যাই হোক, জাতি জুড়ে যে আগ্রহের অভাব তা অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রনহীন সমাজ আমাদের নৈতিকতার যে অবক্ষয় ঘটিয়েছে তারই প্রমাণ দেয়। যে গভীর আন্তরিক উদ্বেগ থাকার কথা ছিল তা নেই। পূর্ব পাকিস্তানের সন্ধ্যা ঘনিয়েছিল সাইক্লোনের মাধ্যমে। এখন তারা তাদের মধ্যরাত পার করছে, আর সে কী এক মধ্যরাত! প্রতিবেদনগুলো যদি অতিরঞ্জিতও হয়ে থাকে, তবুও কোনো সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানে এক বিভৎস হত্যাকাণ্ড চলেছে। হাউস এর এদিকের এক সম্মানিত সদস্য পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের ২৫ মার্চের বক্তব্যের উল্লেখ করেছেন। সেটি ছিল একটি দুঃখজনক বক্তব্য, কারণ এটি ছিল সেই একই দিন সন্ধ্যায় যে দিন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে হানা দিয়েছিল, এবং কোনো সন্দেহ নেই যে সেখানে ভয়ানক হত্যাকাণ্ড চলেছে। সেখানে ভয়াবহ নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। আমি বিশ্বাস করি যে নৃশংসতা উভয়পক্ষের উপরই ঘটানো হয়েছে। তবে, এটা বলাও ঠিক হবে যে, এক পক্ষের ক্ষেত্রে তা নিরাশা এবং গভীর হতাশার বোধ থেকে এসেছে, আর অপর পক্ষে তা বর্বর সামরিক শক্তির জোর থাকার ফলাফল। আমরা যারা এই হাউসে আছি তাদেরকে বর্বর সামরিক শক্তির নিন্দায় সর্বজনীন হতে হবে। গৃহসমূহ ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবারগুলোকে হত্যা করা হয়েছে এবং শহরগুলোতে ধর্ষণ করা হয়েছে। দশ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং শত সহস্র মানুষকে গৃহহীন করা হয়েছে। আমি এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। আমি একে প্রথমত মানবিক কারণে স্বাগত জানাই। মৃত এবং মৃতপ্রায় মানুষের আর্তনাদ যেন বৃথা না যায়। অত্যাচার, রক্তপাত এবং আমাদের উদ্দেশ্যে আমাদের ভাইদের আর্তনাদে সরকার এবং রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ হওয়া উচিৎ। এটা এমন দিন নয়, যখন আমাদের আলোচ্য এই মাত্রার একটি ইস্যু এবং ট্রাজেডি নিয়ে কোনো সরকার গড়িমসি করতে পারে। গণতন্ত্রের স্বার্থেও এই প্রস্তাবকে সমর্থন দিচ্ছি, কারণ এখানে কোনো সন্দেহ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানের অধিকাংশ মানুষ একটি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব পাকিস্তান ও আমার নিজ দেশের পরিস্থিতিকে সমান্তরাল ভাবে দেখানোর একটা চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু, সম্মানিত সদস্যদের সচেতন থাকতে হবে যে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অধিকাংশ মানুষ যুক্তরাজ্যের অংশ হিসেবেই থাকতে চায়, পক্ষান্তরে, পূর্ব পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে যে সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধিকার চায়। দু’টো পরিস্থিতি সমান্তরাল নয়। এই হাউসে আমরা সময়ে সময়েই শুনে থাকি যে, সকল সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষা করতে হবে। পূর্ব পাকিস্তান প্রশ্নে এটি হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের তারা কী ধরণের দেশে বসবাস করতে চায় এবং কী ধরণের সংবিধানের অধীনে কাজ করতে চায় তা বলার অধিকার। অবশ্যই গণতন্ত্রের স্বার্থেই তাদের অধিকার আছে তাদের কণ্ঠ বিশ্বের কাছে পৌঁছানোর। যদি বিশ্বনেতাদের মাঝে এই হাউসের বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে হয়, যদি সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু উভয়ের অধিকারের রক্ষক হিসেবে এই হাউস জনগণের আস্থা পেতে চায়, তাহলে সরকারকে অবশ্যই আজ সম্মানিত সদস্যদের প্রস্তাবিত কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে এবং দেখাতে হবে যে তারা সঠিক পথে চলতে চায়, সেই পথে যা এই সকল মানুষকে তাদের গভীর ও ভয়াবহ সংকট এবং ভয়ংকর কষ্টের সময় সাহায্য করবে। ২ঃ১৬ অপরাহ্ণ মি. জুলিয়াস সিলভারম্যান (বার্মিংহাম, অ্যাস্টন)ঃ আমি কি এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপন করার জন্য আমার সম্মানিত বন্ধু কেনসিংটন, উত্তর এর সদস্য (মি. ডগলাস মান) এর উদ্দেশ্যে যে অভিনন্দনসমূহ পৌঁছানো হয়েছে তাতে আমার কণ্ঠও যোগ করতে পারি? এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে এই হাউসের প্রত্যেক সদস্য এবং দেশের সকলের সচেতন হওয়া উচিৎ। এমনকী যদি অপর একটি সরকারের নিন্দা করার বিষয়ে আমাদের সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে অনীহার কারণটি কেউ বুঝতেও পারেন, তবু সংশ্লিষ্ট সকল আন্তর্জাতিক প্রভাব সহকারে, যেকোনো মূল্যে এই হাউসের এ বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। এই ক্ষেত্রে, কী ঘটেছে সে বিষয়ে সত্যটি সুস্পষ্ট এবং পরিষ্কার। ৭৫ মিলিয়ন মানুষের একটি জাতি স্বায়ত্তশাসনের জন্য আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, স্বাধীনতা বা বিচ্ছিন্নতার জন্য নয়। তারা শুধু তাদের মতামত প্রকাশ করেনি। তারা এটি স্পষ্টভাবে করেছে এমন একটি নির্বাচনে যা সুষ্ঠু হয়েছে বলে উভয়পক্ষই একমত হয়েছে। সম্ভবত নির্বাচনে সকল পক্ষের আশানুরূপ ফলাফল আসেনি, কিন্তু নির্বাচনটি সুষ্ঠু হয়েছে সে ব্যাপারে সাধারণভাবে সবাই একমত। পূর্ব বাংলায় এর ফলাফল স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে বিপুল সমর্থন দিয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবেই সেখানে দর কষাকষি শুরু হয়ে যায়। তারা বিভক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু বিভক্ত হবার আগেই, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, যা প্রায় সম্পূর্ণভাবেই পশ্চিম পাকিস্তানিদের দ্বারা গঠিত, সদ্য নির্বাচিত দলটির উপর বর্বর নির্যাতন চালানো শুরু করে, যাদেরকে কিছুদিন আগেই জনগণ তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। হতে পারে যে, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দেয়া এবং পাইকারি গণহাত্যার বর্ণনাগুলোতে কিছুটা অতিরঞ্জন আছে। কিন্তু আমি মনে করি যে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে এটা বোঝার জন্য যে, যদি, এমনকী এর অর্ধেকও সত্যি হয় তাহলেও পূর্ব পাকিস্তানে যা হচ্ছে তা ক্ষমার অযোগ্য। আমরা ২ মিলিয়ন মানুষের উদ্বাস্তু হবার খবর পেয়েছি, সিগওয়েলের সম্মানিত সদস্য (মি. বিগস-ডেভিসন) বলেছেন যে সংখ্যাটি সম্ভবত সঠিক নয়। সেটা যাই হোক, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই যে, বিপুল পরিমাণ শরণার্থী, যাদের অধিকাংশ মুসলিম, তাদের নিজেদের গ্রাম, মাটি, বাড়ি ত্যাগ করে এমন এক অচেনা দেশের পথে পাড়ি দিয়েছে যে দেশকে তারা বহু বছর ধরেই শত্রু জ্ঞান করে আসছে। অবশ্যই, কোনো ভয়ানক শক্তি দ্বারা চালিত না হয়ে এই অপসরণ ঘটেনি। এই বিষয়টি, যে কোনো অবস্থায়, পূর্ব পাকিস্তানে যা হচ্ছে সে সম্পর্কে আমরা যে ভয়ঙ্কর কাহিনীগুলো শুনছি তার বড় অংশকে সমর্থন করে।

.

রাফি শামস

একাধিক সম্মানিত সদস্য জানিয়েছিলেন, যেহেতু শেখ মুজিবুর রহমান অপসরণ চেয়েছিলেন তাই প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে আলোচনা ভেঙে দেয়ার এবং তার মিলিটারী ফোর্স পাঠানোর কর্তৃত্ব দেয়া হয়েছিল । এই মতামতের কোন বৈধ ভিত্তি আমি পাইনি। সাড়ের সাত কোটি মানুষের একটি জাতি যদি স্বাধীনতা চায় , কেন তাদের ভাগ্য নিরুপণের অধিকার তাদের থাকবে না? এরকম একজন জেনারেলের, যার কিনা কোন বৈধ সাংবিধানিক অবস্থান নেই,যে কিনা কোন সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচনের মাধ্যমে এই অবস্থানে আসেনি , বরং এসেছে সেনাবাহিনীর হাত ধরে- তার কী অধিকার আছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকাশিত মতামতকে উপেক্ষা করার? যদিও তারা এত দূর অবধি চিন্তা করেনি, তারা চেয়েছিল অর্থনৈতিক স্বায়ত্বশাসনের অধিকার। এই দেশ গুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করে বলতে পারি তারা এটা করতে বাধ্য হয়েছিল।

 

জেনারেল ইয়াহিয়া খানের আন্তরিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলার অবকাশ আছে। সমস্যা হল, ঠিক যখন আলোচনা চলছিল তখন সৈন্য ও অস্ত্র বোঝাই যুদ্ধজাহাজ ভারতীয় উপদ্বীপ ধরে যাত্রা শুরু করেছে। তাই প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে এই আলোচনা কি তবে শুধু মাত্র সময়ক্ষেপণ ছিল নাকি সৎ উদ্দেশ্যেই এটা চলছিল? তবে এই আলোচনা সত্যি হোক বা নাই হোক, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ কোন অবস্থাতেই বিশ্ব জনমতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

 

ঘটনা সমূহ সম্পূর্ন পরিষ্কার। আমি জানিনা,কিভাবে ইতিহাস কিংবা সাংবিধানিক খুঁটিনাটি এই সমস্ত পরিষ্কার ঘটনবলী কে নস্যাৎ করতে পারে।

 

এরকম অবস্থায় আমাদের কী করা উচিত? কয়েকজন সম্মানিত সদস্যের মতে এরকম অবস্থায় যদি সরকার কোন মতামত দিতে যায় তবে সেটা সরকারের জন্য হীতে বিপরীত হবে। এর বাইরে আমি আশা করছি জাতিসংঘ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে কোন বিবৃতি প্রদান করবে। আমি এমন কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম যারা আশা করে সরকার ক্ষতিগ্রস্থ দের ত্রাণ ও সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমি নিশ্চিত, এখন পর্যন্ত যে ১৮০০০ ইউরো সাহায্য হিসেবে দেয়া হচ্ছে সেটা অপ্রতুল, এ ব্যাপারে মন্ত্রী আমার সাথে একমত হবেন। এটি খুবই সামান্য। আমি আশা করছি এটা মাত্র শুরু। বড় অংকের সাহায্য সরকারের থেকে প্রয়োজন হবে এবং আশা করছি অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশ গুলোও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। সামান্য সম্পদের গরিব দেশ ভারত কেবলামাত্র ভৌগলিক অবস্থানের কারণে এই ভয়াবহ দুর্যোগের সম্পূর্ণ চাপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এই বোঝা বিশ্বের সকল দেশেরই গ্রহণ করা উচিত।

 

আমি মনে করিনা কেবল মাত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের দ্বারা এই সমস্যা মোকাবিলা করা যাবে কারণ এই সমস্যা বিশাল। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যেই বলেছেন পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে গেছে। সুতরাং এটি এখন সরাসরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নিতে হবে। সরকারের সাহায্য ছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সঙ্ঘ গুলোও এখানে কাজ করতে পারবেনা। আমি আশা করব সরকার এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে,ভারতীয় উপমহাদেশে আমাদের বিশেষ এবং ঐতিহাসিক অবস্থানের জন্যই। 

 

পূর্ব-বাংলার মানুষদের ত্রাণ পৌছানোর আগে এটিও মাথায় রাখতে হবে যে, তাদের মনে হতেই পারে পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে আসা এই ত্রাণ সাহায্য আসলে তাদের সাহায্য করার জন্য নয়, বরং আধিপত্য বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। কাজেই যদি এবং যখন এধরনের সাহায্য দেয়া সম্ভব হবে সরকার এবং জাতিসঙ্ঘ এই সাহায্য প্রদানের ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যবেক্ষন বজায় রাখবে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে মানবিক বিবেচনায় দেয়া সাহায্য যেন অন্য কেউই ব্যবহার না করে।

 

আমি ধারণা করছি এই সমগ্র কক্ষ আশা করে সরকার এই পরিস্থিত মোকাবেলায় সংবেদনশীল হবে, বিশেষ করে ভারতে অবস্থানরত বিশাল উদ্বাস্তু শিবিরের ব্যাপারে।

 

 

মি.বার্নার্ড ব্রেইনি (এসেক্স, সাউথ-ইস্ট) ঃ এই বিতর্ক আমাদের সম্মানিত সদস্যদের তীব্র সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। একদিকে এনিয়ে দ্বিমত করার অবকাশ নেই যে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে কী হচ্ছে। এতক্ষন আমি যতগুলো বক্তব্য শুনলাম তা থেকেই এটি পরিষ্কার। আমরা সবাই এ ব্যাপারে একমত এবং সবাই বাস্তবিক কোন কিছু করতে আগ্রহী।

 

অন্যদিকে পাকিস্তান একটি সার্বভৌম দেশ যাদের সাথে আমাদের দীর্ঘ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক আছে। এই দেশটি সাম্প্রতিক কালে অর্থনৈতিক সমস্যারও সম্মুখীন হয়েছে। সে সময় অন্যান্য দেশের সাথে আমরাও তাদের পাশে ছিলাম সেটা সত্যি, কিন্তু যেহেতু পাকিস্তান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র, আমাদের এ ব্যাপারে মত প্রকাশের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে এবং একই সাথে আমাদের কর্ম পরিকল্পনা ঠিক করার ব্যাপারেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

 

এটা আমাদের বোঝা উচিত যে, যেমনটা আমরা অনেকেই নাইজেরিয়ান গৃহ যুদ্ধের সময় থেকে বলে আসছি , আমরা এখন আর কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ গুলোর শাসনকর্তা নই, আমাদের আইন সেখানে এখন আর চালু নেই। অনেক সময়ই প্রাক্তন রাজকীয় শক্তিদের হস্তক্ষেপ তাদের বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে। স্বাধীনতা মানে কেবল নিজেদের নীতি গ্রহণের স্বাধীনতাই নয়, বরং ভুল করার স্বাধীনতাও।

 

তারপরও, আমরা ব্যাপারটা এভাবে ছেড়ে দিতে পারিনা। সব কিছুর পরও ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের সাথে আমাদের গভীর বন্ধন রয়েছে। তিন শতক জুড়ে আমাদের সাথে ভারতীয় উপমহাদেশের,যারা এখন ভারত এবং পাকিস্তান,যে সম্পর্ক ছিল তা আমরা মুছে ফেলতে পারবনা কারণ তারা আমাদের ইতিহাসের অংশ। ভারত ও পাকিস্তানের অনেকের সাথেই আমাদের অনেকের গভীর ও আত্মিক যোগাযোগ আছে। সেই সাথে আছে ব্যবসায়িক সম্পর্ক। তাই আমরা, আমাদের সম্মানিত সদস্যরা যেমনটা বললেন, ভারতীয় উপমহাদেশের এই বিভাজনে আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে।

 

পাশাপাশি, অন্যান্য দেশ গুলোর সাথে আমরাও ভারত ও পাকিস্তান উভয়কে অর্থনৈতিক ভাবে সাহায্য করেছি,আর তাই এই দু দেশেরই উন্নতির পিছনে আমাদের ভূমিকা আছে। সমগ্র বিশ্বে রোগ,শোক ও অশিক্ষার বিরূদ্ধে যুদ্ধ করে শান্তি ছড়ানো ছাড়া ব্রিটিশদের কোন স্বার্থ নেই। এটা এমন একটা অবস্থা,যা ব্রিটেনের জন্য নতুন ধরণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। মানুষ ব্রিটিশ প্রভাবের কথা বলে, কিন্তু এই ক্ষেত্রে, যে কোন বিচারে ,এটা অনেক বিশাল হতে পারে।

 

আমার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলা উচিত নয়, অন্যান্য সম্মানিত সদস্যদের মত আমার এত তথ্যসূত্র নেই।

.

Farhana

মন্ত্রী সাহেব বলেন ব্রিটীশ সরকার পাকিস্তান সরকার কে তখন ই অনুদান দেয়ার কথা চিন্তা করবে যদি তা সঠিক ভাবে বিতরন নিশ্চিত করা হয়। এই ব্যাপারে আসলে একটি রাজনইতিক ঐকমতে আসতে হবে। পশ্চিম পাকিস্তান কি রাজনৈতিক ভাবে কখনো একটি স্থির অবস্থায় আসতে পারবে? আমার ধারনা, পাকিস্তান সরকারের হাতে যদি বিশয়টি ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে এই সমস্যার সমাধান কখনই হবে না। 
জনাব জেমস কিলফেডার বলেন, তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন যে প্রেসিডেন্ট এবং পাকিস্তান সরকার কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক সরকার গঠনে যথাযথ উদ্যোগ নেয় নি। আমরা সবাই জানি যে আর্মি যখন কোনো দেশের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রন করে তখন নির্বাচনে অনেক কারচুপি হবার সম্ভাবনা থাকে, কিন্তু এই ব্যাপারে পাকিস্তান সরকার বা প্রেসিডেন্ট কেউ ই কোনো ব্যাবস্থা গ্রহন করেনি।

অপরদিকে, জনাব বারন্স এর মতে ২৫ মার্চ ও তার ফলাফল সরূপ পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ যে রাজনৈতিক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সহজে ্পূরব পাকিস্তানের রাজনৈতিক অবস্থায় কোনো স্থিরতা আসবেনা যতক্ষন না বিশ্বের অন্যান্য দেশ পাকিস্তান সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি না করে।

সরকারের আন্তর্জাতিক ভাবে অনুদান চাওয়ার সিধান্ত কে আমি স্বাগত জানাই কিন্তু সরকারের আগে নিজেদের রিলিফ কমিটি গূলোর উপর জোর দেয়া উচিত। কারন আন্তর্জাতিক ভাবে বিষয়টির সমাধান হওয়া বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার । আমাদের নিজস্ব সংস্থা গূলোর ই এই ব্যাপারে অতি দ্রুত ও যথাযথ ব্যাবস্থা নেয়ায় ব্যাপারে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা আছে। সরকারের যাথাযথ সহযোগীতা পেলে তারা তড়িৎ গতিতে সব কাজ ঠিক সময়ে সম্পাদন করে ফেলতে পারবে।

আমি মন্ত্রী মহোদয় কে এই ব্যাপারে সম্পূর্ণ ধারনআ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি যে ব্রিটিশ সরকার রিলিফের ব্যাপারে (আন্তর্জাতিক রিলিফ যা ইউনাইটেদ নেশান এর মাধ্যমে পাঠানো হবে ও দেশিয় সংস্থা উভয়) কিভাবে সহোযোগীতার কথা বলেছেন । ফরেন সেক্রেটারি কে মঙ্গলবার এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি, তিনি যোগাযোগ ব্যাবস্থার কিছু সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং বলেন যে পাকিস্তানী আর্মি দের মাধ্যমে রিলিফ বন্টন করা হবে।

রিলিফ কমিটির সমস্যা গুলো খুঁজে বের করতে হবে। উপযুক্ত সাহায্য ও প্রষ্ঠপোষকতা পেলে রিলিফ কমিটি সব কাজ সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

দেশের এমন অবস্থায় আর্মি দের মাধ্যমে খাদ্য বন্টন করতে হলে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হবে। নাইজেরিয়ান কনফ্লিক্ট এ যে সমস্যা গূলো তৈরি হয়েছিল তা এখানেও দেখা দিবে। সাধারন জনগন কে কখনোই এটা বুঝানো সম্ভব হবে না যে আর্মিরা সুষ্ঠু ভাবে খাদ্য বন্টন করবে।

আমি আমার সম্মানিত বন্ধু কে অভিনন্দন জানাচ্ছি বিষয়টি তিনি উত্থাপন করেছেন বলে যা একটি বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে এমন ২য় বার হল যে ইউ এন ও কমন ওয়েলথ, একটি কমন ওয়েলথ এর অন্তর্ভুক্ত রাষ্ট রাজনৈতিক ব্যাপারে সাহায্য করতে অক্ষম হল। এই দুট সংস্থা কে তাদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে হলে এই সমস্যা মোকাবেলায় কোনো না কোন দক্ষ উপায় যেভাবেই হোক খুজে বের করতে হবে/

 

যথাযথ কর্তৃপক্ষ একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার আমার দৃষ্টিতে এনেছে এবং তা হল, পাকিস্তান হাইকমিশন ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেছে যাতে ব্রিটিশ নিরাপত্তা রক্ষি বাহিনি পাকিস্তান এর ব্যাপারে আরো তথ্য যোগাড় করে, বিশেষ করে- পাকিস্তানি ও ব্রিটিশ দের মধ্যে কয়জন বিদ্রোহের সাথে জড়িত আছে।।

এসব বিদ্রোহের সাথে যারা জড়িত তারা কিছু সপ্তাহ ধরেই অনেক কে ইন্টারভিউ দিচ্ছে, যার মধ্যে স্পেশাল ব্রাঞ্চ এর লোকজন ও আছে। সবাই নিরাপত্তা কর্মীদের দুশ্চিন্তা সম্পর্কে অবগত আছে। এই নিয়ে অভিযোগ করার কনো অবকাশ নেই যে নিরাপত্তা কর্মীরা action bangladesh এর লোকজন দের জিজ্ঞাসাবাদ কেন করছে, কারন তারা এই চাকরীতেই নিয়োজিত এবং এই জন্যই তাদের বেতন দেয়া হয়। এটি হতাশাজনক হলেও এখন অনিবার্য পরিস্থিতি যা মেনে নিতে হবে।

তারচেয়েও বড় যে অভিযোগটি একটি বিশ্বস্ত সূত্রে সামনে এসেছে তা হল, পাকিস্তানি হাইকমিশনের কাছে অনেক তথ্য পাচার হচ্ছে, মন্ত্রী মহোদয়কে এই বিষয়টি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানানো হল।

Mr. John H. Osborn Sheffield. Hallam এর মতে, একটি স্বাধীন দেশের উপর ইচ্ছামত বিতর্কিত ভাবে যা কিছু ইচ্ছা করা যায়না। এই পরিস্থিতি থেকে দেশ কে রক্ষা করে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় নিএ যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব । আমাদের কি কি করনীয় এই ব্যাপারে আলোচনা করে একটি সিধান্তে আসতে হবে। দেখতে হবে আমাদের ক্ষমতা আসলে কত টুকু। কারন আমাদের হাতে আর একচ্ছত্র অধিকার নেই, এছাড়া কোনো কিছু চাপিয়ে দেয়া আর সৌহার্দ পূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে এগিয়ে যাওয়ার মাঝে অনেক পার্থক্য আছে।

কিন্তু পূর্ব পাকিতানে নির্বিচারে গনহত্যা চলছিল যা মানবতার জন্য হুমকিসরূপ। এই থেকে প্রমান হচ্ছিল পশ্চিম পাকিস্তানের পাঞ্জাবিরা বাঙ্গালীদের উপর কি ভয়াবহ জুলুম করছিল। পাকিস্তানী মিলিটারি রা যেভাবে অত্যাচার শুরু করেছিল তা আর কোন রকম রাজনৈতিক মতাদর্শের মধ্যে পরেনা। কিন্তু এই জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া বা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিব কারোর ই কারোর ই সম্পূর্ণ ভাবে নিন্দা করা যায়না।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফলাফল সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমরা জানি ইয়াহিয়া খান মিলিটারি সরকার এর হাতে সম্পূর্ণ গনতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তানত্র করতে চেয়েছিল। আমি এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করি যে শেখ মুজিবর রহমান তার ক্ষমতার উপযুক্ত প্রইয়োগ করে নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারেন নি। এবং দুই বছর আলোচনা করেও তিনি কোন সমঝোতায় আসতে পারেন নি।

তথাকথিত ‘ছয় দফা’ নিয়েও ওনেক আলোচনা হয়েছে। একটি হল, federal gvt নিরাপত্তা ও বৈদেশিক বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। আরেকটি হল, সংবিধান একটি নিজস্ব ফেডেরাল এর আওতায় থাকা উচিত। সম্প্রতি আরো কিছু বিশয় এখানে যুক্ত হয়েছে, মিলিটারি দের সরিয়ে নিয়ে তাদের ব্যারাক এ ফিরে যেতে বলা এর মধ্যে একটি।

সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়েও একটী দন্দের সৃষ্টি হতে পারে, ভোটার রা ভাবতে পারে তারা একটী বিভক্ত প্রদেশ সৃষ্টির জন্য ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশ এটিকে দুটি জাতির মধ্যে যুদ্ধ বলে ঘোষনা দিয়েছে, আমাদের মাঝেও এই নিয়ে তর্ক হবে যে এটি কি আসলেও নাকি সামরিক যুদ্ধ নাকি মুক্তির জন্য যুদ্ধ। এটি যাই হোক না কেন তা নিয়ে আফসোস করা উচত নয় এবং যা নিন্দা করার মত বিষয় তা নিয়ে অবশ্যই নিন্দা করা উচিত। গত ২৫ বছর নিয়েই পাকিস্তান বিভক্তিকরন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে, এখন বাংলাদেশ এই বিষয়ে বিশ্বের সহানূভুতি পাচ্ছে।

এখন আমরা বুঝতে পারছি যে বাংলাদেশ কে ছোট করে দেখা ঠিক হয়নি, সেখানে এক বিশাল বিপ্লব ঘটছে। স্বাধীনতার জন্য তাদের ঘটানো বিপ্লব যার সাথে বায়ফ্রার বিপ্লবের মিল পাওয়া যায়।

জনাব মাইকেল স্টুয়ারট নাইজেরিয়ার সাথেও এর মিল খুঁজে পান। যদিও আমরা আসলে সঠিকভাবে জানিনা যে কি হয়েছিল, Anthony Mascarenhas এর মতে বিদ্রোহ প্রথম বাঙ্গালীরাই শুরু করেছিল।

ব্রিটিশ সরকার ও আমেরিকান সরকার এই বিদ্রোহের ব্যাপারে একই রকম ধারনা পোষন করেন, অপরদিকে চীনা সরকার পাকিস্তান কে সমর্থন করে, এরমধ্যে ভারত রেফুজি দের নিয়ে অনেক ঝামেলায় আছে। রেফ্যুজি ক্যাম্প গুলর অবস্থা অনেক শোচনীয় ছিল, এবং এও বুঝা যাচ্ছিল যে যেভাবে এরা আসছে কিছু দিন এর মধ্যেই এর সংখ্যা ২/৩ লাখ এ ছড়াবে, চমকপ্রদ ব্যাপার হল, রেফ্যুজি দের মধেয় কিন্তু সবাই মুসলিম ছিল না।

 

বর্ডার এ ভারত ও পাকিস্তান এর মধ্যে এ নিয়ে অনেক গোলমাল হচ্ছিল, আমরা ব্রিটিশ রা জানতাম যে কোন ব্যাপারে আসলে আমাদের কতটা ভূমিকা রাখা উচিত ও কোথায় কি করা উচিত। শোনা যাচ্ছিল যে পশ্চিম পাকিস্তান কে আর কোনো রকম সাহায্য করা হবেনা, কিন্তু আমরা কোন একটি জাতিএ ধ্বংস হতে দিতে পারিনা।

আমি সরকারের এই সিধান্ত কে স্বাগত জানাই যে তারা পূর্ব পাকিস্তান কে সাহায্য করতে যাচ্ছে। বহির্বিশ্বের চাপ এইদিক এই ছিল যে পূর্ব পাকিস্তান এর সাহায্য প্রয়োজন । শেফিল্ড এলাকায় আমি এমন অনেক মানুষের সাথে কথা বলেছি যারা পূর্ব পাকিস্তান থেকে এখানে এসেছে এবং তারা জানে যে তাদের পরিবার পরিজন কি অবস্থায় আছে বা তাদের সাথে কি হয়েছে।

 

.

Nury

(১)

শেফিল্ড সকাল তারবার্তায় মর্ট রোজেন ব্লুম এর ” শকুনে পূর্ণ বাংলাদেশ ” এর অধিকাংশ সংগঠকের পরিবার পাকিস্তানে(গঠনের পেছনে) ছিল এবং মৃত(মেরে ফেলা হয়েছে)। এই দুঃখজনক ঘটনাটি আমাদের সকলকে অনুপ্রানিত করে।

(২)এইজন্য কি আমরা অপরিহার্যভাবে পশ্চিম পাকিস্তান সরকারকে দোষারোপ করতে পারি?যেখানে যোগাযোগের একটি ব্যর্থতা রয়েছে।পাকিস্তান সরকারকে অবশ্যই এই ঘটনা দেশের জনগণের সামনে আনা উচিত। সমস্যার সম্মুখীন নাইজেরিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এটা ছিল সপ্তাহ এবং মাসের জন্য।আমরা শুনেছিলাম কেবলমাত্র বিয়াফ্রামের গল্প।সাংবাদিকরা পেছনের কাহিনী সামনে এনেছিল যা আমাদের সকলের উদ্বেগের কারন।আমাদের সত্যিটা জানাতে এবং পাকিস্তান সরকারের গঠনমূলক মনোভাব জনগনের সামনে তুলে ধরতে কিছু প্রচেষ্টা অবশ্যই ছিল।

(৩)গ্রেট ব্রিটেন একটি বিশ্বের শক্তি হিসেবে আর নেই কিন্তু এটি একটি সমাধান অর্জন করতে  নৈতিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক নৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে পারে। চুড়ান্ত সমাধান অবশ্যই পাকিস্তানে।একটি অব্যাহত সাহায্যের কার্যক্রম অবশ্যই পরিচালিত করা হয় কিন্তু এটি অবশ্যই যথাযথভাবে শাসিত এবং যেটি কঠিন হবে কারন আমি সরকারের ভাল অবস্থা বুঝতে পারি যেখানে সরকার নিজেই প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে চাইবে।

একই ধরনের সমস্যা যেটি নাইজেরিয়াতে আমরা পেয়েছিলাম।ভারতীয় উপমহাদেশে পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে যে পরিস্থিতি উদ্ভূত হয়েছিল তা মুক্ত বিশ্ব সদয়ভাবে গ্রহণ করেনি।আমরা চাই সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক কিন্তু যে সমস্যা উদ্ভূত হয়েছে তা থেকে কেবলমাত্র একটি উপলব্ধি আসতে পারে,আমাদের একটি নৈতিক দায়িত্ব হলো আমাদের প্রভাব খাটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনতে এদের মধ্যকার যারা একে অপরের সাথে কথা বলতে চায় না এবং সেখানে ঘৃণার অবস্থান থেকে সহানুভূতি প্রতিস্থাপন করতে হবে।

৪)

বিকেল ৩ টা বেজে ৮ মিনিট,

জনাব ফ্রাঙ্ক জুদ (পোর্টসমাউথ,পশ্চিম) :

আমি যোগদান করেছি সেখানে, যে আমার সম্মানিত বন্ধু(মি: ডগলাস মান)উত্তর কেসিংটন এর সদস্য একটি বিতর্ক উপস্থাপন করবার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছে।আমি যোগদান করেছি তাদের সাথে যদিও তারা মন্ত্রী তাদের সমর্থনে ভালো খবর যা বলেছিল তা প্রকাশে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল।নথিভুক্ত হয়েছিল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কর্ম এবং উন্নতি অগ্রগতি সম্পর্কে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার মধ্যে কোন দুর্দশায় দ্রুত প্রয়োজনে একটি সমন্বিত ড্রাইভ সংগঠিত করতে চেস্টা করেছিল।

(৫)

আমার মন্ত্রীর কাছে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন আছে।তিনি কি একটি আশ্বাস দিতে পারেন যে,সরকার এদেশের কোন ছাত্রছাত্রীকে পৃূর্ব পাকিস্তানে পড়াশুনা করার অনুমতি দিবেনা।জোরপূর্বক তাদের গবেষণা শেষ করতে হবে অস্বাভাবিক তারাতারি? যদি সরকার কোন শিক্ষার্থীকে এরকম দূর্ভাগ্যপূর্ণ অবস্থায় পায়।আমি অশা করি যে তারা তাদের গবেষণা যেন সম্পন্ন করতে পারে তা নিশ্চিত করবে।

(৬)

আপাত দৃস্টিতে বড় ঝড়ও পরে শান্ত হতে পারে।এ থেকে এই পর্যায়ে কোন ভিত্তিহীন অসম্পূর্নতা উদ্ভূত হলে আমাদের তাই সতর্ক হতে হবে।যুদ্ধ এবং হত্যা বিচারে প্রাথমিক পর্যায়ে যা যা ঘটেছে তার উপর বর্তমানে কোন গল্প নেই।এরকম আপাত শান্ত পরিস্থিতিতেও আমাদের শিথিল আচরনের কোন কারন নেই।যদি পাকিস্তান সামরিক সরকারের গোপন করার ভয় না থাকে তবে আগ্রহী হয়ে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দ্বারা অনুৃৃমোদন দিয়ে সেখানে থেকে সহযোগীতা করা উচিত।

.

৭১ পৃষ্ঠা —————————>>

 

 

 

 

 

খুব সত্যি যে একটি দেশের উন্নয়নশীল দেশের সাথে সম্পর্ক অআছে মানে দাতা দেশ উন্নত দেশগুলোর ঘটনায় মধ্যস্থ করে কারন অর্থনৈতিক এবং সামাজিক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরকার ঐ দেশকে সমর্থন দিয়ে থাকে তা নিচে দেওয়া হলো। ঘটনা হলো একটি দেশ সার্বভৌম দেশের সাথে সামরিক সহযোগীতা করে মানে হলো যে,কারন এটি দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা নীতির উপর নির্ভর করে প্রথম দেশের সহযোগীতার উপর হস্তক্ষেপ করছে।

 

 

 

 

-যদি বাসস্থান এই কারনে গ্রহণ করতে হয়,অআমরা নিজেদেরকে যে প্রশ্নটি অবশ্যই করব তা হলো,হস্তক্ষেপের যে নীতি পাকিস্তানে অআমরা চালু করেছিলাম সেখানকার অআবহাওয়ার একটা পরিবর্তন দরকার।আমি তর্ক করে প্রমাণ করব যে সেখানে এটির একটি পরিবর্তন দরকার।সফল হতে হলে সাহায্য অবশ্যই হতে হবে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে।একটি সুস্থ অংশীদারিত্বের অর্থ হলো যে,অংশীদাররা সবাই কথা বলতে এবং অধিবেশন কালে তাদের কথা নিঃসংঙ্কোচে বলবে।আমি অআমার সংগঠকদের বাড়ি যেতে পারব না এবং একটি সরকারের সমর্থনে তাদের করের ব্যবহার প্রতিপাদন করতে পারব না।যেটিতে আমি বিশ্বের যে কোন এলাকায় খুঁজে পাই অসমর্থনীয় এবং শোচনীয় শাসন ব্যবস্থা। যদি সংজ্ঞানুসারে একটি সফল অংশীদারিত্ব গঠনে কাজ করা হয় তবে অআমাদের একটি অধিকার অআছে অংশীদারিত্ব গঠনে কিছু বলতে।

 

 

 

-আমি বিশ্বাস করি যে,সম্পূর্ণ সাম্রাজ্য থেকে কমনওয়েলথের রুপান্তরের সাথে কমনওয়েলথের মধ্যে অংশীদারিত্বের উপর অআমরাই নতুন সম্পর্ক চালু করেছি।যদিও অআমরা অতি মেজাজের কারনে সেখানকার সংবেদনশীলতা বুঝেছি। পোস্ট সাম্রাজ্যবাদের এই যুগের উপর অআমাদের অক্ষমতার একটি অনুভূতি,সুপারিশের জন্য এটি অর্থহীন।এখন অআমরা সাম্রাজ্যবাদী দায়িত্বের নিষেধ থেকে মুক্ত।অআরো অআছে যেমন,অআমরা খোলাখুলি এবং মুক্তভাবে সমতার হিসেবে দেশে অংশীদার হিসেবে কথা বলতে পারিনা;যেমন পাকিস্তান।যখন অআমরা ঐ পরিস্থিতির সম্মুখীন হই অআমরা দেখতে পাই সবচেয়ে খারাপ ধরনের প্রতিবন্ধকতা সাজানোর উপর নিযুক্ত করা হয়েছে।তাই নয় কি।

 

 

 

পরবর্তীতে অআমার মনে হয়েছে যে, বিশ্বের সম্প্রদায়ের অআবশ্যিক পারস্পারিক অধীনতায় স্পস্ট করে প্রমাণ দেখায় পাকিস্তানে কি ঘটেছিল।অআমরা দেখেছি যে,শরণার্থী সমস্যা অআসলে তাৎক্ষনিক একটি অআন্তর্জাতিক সমস্যায় পরিনত হয়েছে।ভারতে যে সকল শরণার্থী অআছে বর্তমানে কেবলমাত্র সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যাই না,ভারতে এটি একটি কৌশলগত সমস্যা। গেরিলা কার্যক্রমের কারনে সৃস্ট দ্বন্দ্ব থেকে দায়মুক্ত থাকতে ভারতকে খুঁজে নিতে হবে কঠিন পথ।যেটির উপর ভিত্তি করে হতে পারে শরণার্থী শিবির। সুতরাং এটি একটি অআন্তর্জাতিক সমস্যা।

 

 

 

অআমরা অআরো জানি অআমার ডানের সম্মানিত বন্ধু লীডস এর সদস্য, পূর্ব (মিঃ হেলি) এটি তৈরি করেছিল যা খুব স্পস্ট করেছিল মূলত সেখানে অআরেকটি অআন্তর্জাতিক মাত্রার সমস্যা ছিল। কারন সম্ভাবনার সাথে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে চিন্তা বৃদ্ধি পেয়েছিল তা অআমরা অবশ্যই বিবেচনায় রাখব।রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সম্ভাবনা যেটি তা হলো তৎক্ষনাত এলাকার জন্যই নয় অআমাদের সকলের জন্য দলগুলো দ্রুত বর্ধিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ন ফলাফল দিয়ে দলের জন্য অপেক্ষা করছিল।

 

 

 

অতএব, আমি বিশ্বাস করি যে পাকিস্তানের সামরিক শাসন ব্যবস্থা নিয়ে অআমাদের স্পস্টাস্পস্টিভাবে কথা বলা উচিত।এবং এটার জন্য একটা পরিকল্পনা দরকার যে, যদি অআমরা ঐ শাসন ব্যবস্থার সাথে কোন সাহায্য এবং উন্নয়নমূলক সম্পর্ক চালু রাখতে চাই। যে পরিমান নির্মমতা এবং পাকিস্তানের জনগনের উপর চাপিয়ে দেওয়া স্বৈরাচারী নীতিগুলি মেনে অআমরা অধীন থাকতে পারব না।এই শাসন ব্যবস্থা নিয়ে কিছু বলতে অআমাদের প্রস্তুত থাকা দরকার। এটি অআমাদের নিকট পরিস্কার যে,সংযুক্ত একটি পাকিস্তানের একমাত্র কার্যকর ভবিস্যৎ এর জন্য যেটি ভাল ইচ্ছার উপর ভিত্তি করে এবং দুটি অংশেই স্বেচ্ছাসেবী সহযোগীতা এবং যেটি একটি অংশের উপর অন্য অংশের দ্বারা চাপিয়ে দেওয়ায় একটি সংযুক্ত পাকিস্তানের অনিবার্য বিচ্ছিনতায় প্রতিশ্রুত হয়।

.

Nabila

পৃষ্ঠা-৭৬-৭৯

খণ্ড-ত্রয়োদশ

দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধান সম্পর্কে মতামত প্রকাশ করা হয়েছে,এবং প্রত্যেক ব্যাক্তি সদস্যেরই উচিত তাদের মতামত প্রকাশ করা।

পূর্ব পাকিস্তানের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার উপর একাগ্রতা নিয়ে মন্তব্য দিয়ে আমি উপসংহার টানতে চাই।আমি, দক্ষিণ-পূর্ব (জনাব braine),এসেক্সের সম্মানিত সদস্য এবং আমার পোর্টস্মাউথের সম্মানিত বন্ধু,দক্ষিনের (জনাব Judd) এর কথা শুনে খুশি হয়েছিলাম এবং অন্যান্যরাও এই ব্যাপারে জোর সমর্থন দেয়।সম্ভবত সম্মানিত সদস্যগন তাদের একান্ত এবং ব্যাক্তিগত চলমান পর্যবেক্ষনের উপর জোর প্রদানের জন্য।এবং এতে আরও কিছু সংখ্যা যোগ করা উচিত।করাচিতে মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের মাথা পিছু আয়ের প্রায় ৬০শতাংশ উপরে।পশ্চিম পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলে মাথাপিছু আয় পূর্ব পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের মাথাপিছু আয়ের প্রায় ২৫শতাংশ উপরে।যাই হোক না কেন,এটা সুস্পষ্টভাবে বলা যায় যে এই পরিসংখ্যান ১৯৬০ সালে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের ভেতরের সংকীর্ণ ফারাককে প্রদর্শন করে।পূর্ব পাকিস্তানের ওই সময়ে এই নিদারুণ ত্রুটিপূর্ন ফলনের পেছনে কি কারণ ছিল এর ভেতর প্রচেস্টা ছিল তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর অসামঞ্জস্যতা দূরীকরণের এবং তারা এই সমস্যার কারণও ধরতে শুরু করে।

আমার সম্মানিত বন্ধু,ইস্ট হ্যামের সদস্য,উত্তর(জনাব প্রেন্টিস) এই মাসের শুরুতে মন্ত্রির তরফ থেকে প্রত্যুত্তর দেন যার মূল বক্তব্য ছিল,তিনি এবং আমি আমাদের দ্বায়িত্বের ভাগ যা কিনা ব্রিটিশ সহায়তার অধীনে কেবলমাত্র এক-পঞ্চমাংশ এই বছর সংঘটিত হয়েছে এবং এর বেশিরভাগই শুরু হয়েছিল ১৯৭০ সালে।আমরা আরও বেশি আনন্দিত কারণ এই প্রোগ্রাম আমরা প্রবর্তন করেছিলাম এবং প্রধানমন্ত্রী সেচ ও কৃষিক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানে এই কার্যক্রম এখনও চালু রেখেছেন।আমি আশা করি এই চুক্তির বাস্তবায়ন ঘটবে এবং এই বৃহদ কার্যক্রমে আমরা অবদান রাখতে পারব।

যা প্রয়োজন,ভারতকে তার সম্পর্কের সমস্যা সমাধানে,পূর্ব পাকিস্তানে ইউনাইটেড নেশানের ত্রাণ সহায়তার জন্য দ্রুত কার্যক্রমের প্রয়োজন অথবা শান্তিপূর্ন অবস্থার মাধ্যমে যেন পাকিস্তানকে পুনরায় সহায়তা প্রদান করা যায় তার জন্য যৌক্তিক উদ্দেশ্যের প্রয়োজন যাতে করে তীব্র উদ্বেগের মাধ্যমে সরকার তা অনুভব করতে পারে,যা কিনা আজ যারা এই বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তাদের মাধ্যমে উচ্চারিত হয়েছে,এবং সেই উদ্বেগ এবং জরুরি অবস্থা সাহায্য সংঘ এবং উইনাইটেড নেশানের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

বিকাল ৩:৪৩

জনাব উডঃ যদি এই প্রতিষ্ঠান আমাকে বিদায় দিতে রাজি থাকে,তবে আমি কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে চেস্টা করব।

বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয় এবং ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের নির্বাচনের উপর ভিত্তি করে বলা যায় একটি চমৎকার চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে।সম্ভবত এই সম্পর্কে আমার বলার তেমন কিছুই নেই।আমার সম্মানিত বন্ধু,পররাষ্ট্র সচিব এবং কমনওয়েলথ এফেয়ারস এর জন্য সতর্কতামুলক প্রত্যুত্তর দিলেন সম্মানিত সদস্য উত্তর(জনাব ডগ্লাস-ম্যান)কে যখন তিনি কেনসিংটনকে নিয়ে গত মঙ্গলবার একটি প্রশ্ন করেছিলেন।এই ব্যাপারে আমি একটা মন্তব্য যোগ করতে পারি,যা বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে যুক্ত থেকে আমি শিখেছি যে,সময়ে সময়ে যে সব সমস্যা আমাদের সামনে আসে কিংবা প্রদর্শন করা হয় তা আমরা যেমনটা জানি তার চেয়ে অনেক সহজভাবে দেখানো হয়।এটি একটি সমস্যা এবং আমার কাছে এটি অনেক বড় কঠিন বিষয় বলে মনে হয়।

পাকিস্তান সরকার এবং অন্যান্য সরকারের মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্কের ব্যাপারে,যখন সম্মানিত সদস্য Wednesbury(জনাব স্টোনহাউজ) উইনাইটেড নেশান এবং হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পর্কে তার মতামত দিচ্ছিলেন তিনি অনুচ্ছেদ ২(৭) এর সম্বন্ধে কিছু উল্লেখ করেননি যা আমার আশা করা উচিত ছিল।কারণ এই অনুচ্ছেদে আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সদস্য রাস্ট্রের হস্তক্ষেপ না করার ব্যাপারে সরাসরি আলোচনা করা হয়েছে।

অন্যান্য রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে আমি যদি কিছু বলতে চাই তবে তা হচ্ছে,গ্রেট ব্রিটেন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।এবং যারা বিতর্কে অংশ নিয়েছেন তারা সবাই এই ব্যাপারে সহমত প্রকাশ করেছেন।ভারতের সাথেও আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ট।

জনাব স্টোনহাউজঃ সম্মানিত সদস্যগন কি এই ব্যাপারে একমত হতে পারেন যে অনুচ্ছেদ ২ কাউকে বিশ্বাস করাতে সক্ষম যে একমাত্র ইনাইটেড নেশানই সদস্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারবে এছাড়া পৃথক কোন সার্বভৌম রাষ্ট্রের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবার অধিকার নেই।

জনাব উডঃ যদি আমরা ইউনাইটেড নেশানের দলিল নিয়ে বিতর্কে বসতে চাই,তবে আমার অন্যান্য যে সকল বিষয়ে উত্তর দেয়া দরকার তা ব্যাতিত আমরা কাঙ্ক্ষিত সময়ে আলোচনা শেষ করতে পারব।সম্মানিত সদস্যগন এই ব্যাপারে খেয়াল করে থাকবেন যে ইউনাইটেড নেশান এই সম্পর্কে তার মতামত ব্যাক্ত করবে,অনুচ্ছেদ ২(৭) এর আলোকে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ এই ক্ষেত্রে অসমীচীন।আমার মনে হয় আমার চালিয়ে যাওয়া উচিত কারণ এখানে আরও অনেক প্রশ্ন আমাকে করা হয়েছে এবং সেগুলোর উত্তর আমার দেয়া প্রয়োজন।

পুর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিনতিতে যেই উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে ইতোমধ্যে আমি ভারত সরকারের সাথে সমবেদনা প্রকাশ করেছি ,যার পরিস্থিতি সম্পর্কে ভারতীয় হাই কমিশনার আমার কাছে পুর্বেই জানিয়েছেন।ভারতীয় সরকার ভালো করে জানেন যে তাদের এই অসহায় অবস্থার সাথে মর্মান্তিক কষ্টের ভার লাঘবের জন্য আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যোগ দেবার জন্য আমাদের ইচ্ছার কথা।

সম্মানিত সদস্যগনের মধ্য অনেকেই ত্রাণের বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন।ভারতে ত্রাণ সহায়তার ক্ষেত্রের প্রশ্নে,আমি যা বুঝি তার উল্লেখ আমি ইতোমধ্যে দু’বার করেছি যে কি অবস্থার উদ্রেক হতে পারে।wednesbery এর সম্মানিত সদস্যের কাছে আমি কৃতজ্ঞ,কারণ আমার সম্মানিত বন্ধুর কাছে যেই অবদানের জন্য তিনি যেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার জন্য,হয়ত এই ব্যাপারে এখন আমরা একমত হতে পারব।সম্মানিত সদস্যের প্রতি আমার উত্তর হচ্ছে যে,না ১৮০০০ পাউন্ড  সহায়তার ক্ষেত্রে আমাদের ইচ্ছার ব্যাপ্তি নয় যদি না সেখানে সর্বোচ্চ পরিমান সহায়তার কথা আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখ থাকত,যেখানে আমাদের অবশ্যই সহায়তা প্রদান করার দরকার হত।

আমরা চ্যারিটেবল সোসাইটি এবং ইউনাইটেড নেশানের হাই কমিশনের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।সম্মানিত লেডি লানার্কের সদস্য(মিসেস হার্ট) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে আমরা কখন রিপোর্ট পাব।আমি বুঝতে পারছি যে অক্সফামের ব্রিগেডিয়ার ব্ল্যাকম্যান এই সপ্তাহান্তে বাংলা থেকে ফিরে এসেছেন এবং অক্সফামের আবাসিক প্রতিনিধি অন্যান্য ক্যাম্প পরিদর্শন করছেন।এটি রিপোর্টের অন্য প্রান্ত ব্যাখ্যা করছে।উইনাইটেড নেশানের হাই কমিশন ক্যাম্প এখনও পরিদর্শন করছেন।আমি জানি না এই রিপোর্ট কখন আসবে, কিন্তু আমি বুঝতে পারছি যে কমিশন আসছে সপ্তাহে দিল্লি ফিরে যাবার একটা সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমরা রিপোর্ট পাবার পর খুব বেশি দেরি হবে না।

লিডসের সম্মানিত সদস্য,পূর্ব(জনাব হ্যালি) বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন,খুবই স্বাভাবিকভাবে,পাকিস্তানের নিজের ত্রাণ এবং পুনর্বাসনের যোগান নিয়ে।উ থান্ট দু’টি প্রস্তাব দিয়েছিলেন,প্রথমত পাকিস্তান সরকারের উচিত আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা গ্রহন করা দ্বিতীয়ত তাদের একটি দল গ্রহণ করবার জন্য প্রস্তুত থাকা যারা প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে নিরুপন করবে।উ থান্টের এইসব পদক্ষেপের পাশাপাশি পাকিস্তান সরকারের উপর দ্রুত আন্তর্জাতিক সহায়তারও আশা করছি।

এখানে অন্যতম সমস্যা, বিমানপোতের সাথে সংযোগের ক্ষেত্রে যা কিনা Wednesbury এর সম্মানিত সদস্য এর মর্ম বুঝবেন,এবং সম্মানিত সদস্যগন এ ব্যাপারে অবহিত আছেন যা কিনা চট্টগ্রামে অবতরন করেছে এবং আমরা পাকিস্তান সরকারের কাছে অঙ্গিকার বদ্ধ যে এইগুলো ঘূর্নিঝড় উপদ্রুত এলাকায় পূনর্বাসন কাজে ব্যাবহৃত হবে।যদি আমরা ত্রাণ ও সরঞ্জাম পেতে চাই তবে যে ত্রাণ আনতে পারবে,যা আন্তর্জাতিক সংস্থার অনুগ্রহ,তবে আমাদেরকে অবশ্যই পাকিস্তান সরকারের মতামত ও অঙ্গিকারনামা গ্রহন করতে হবে যাতে করে আমরা যেভাবে চাই তা সেভাবেই ব্যাবহৃত হবে,কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমার মতামত বদলে যাবে,যা কিনা আমি আশা করছি সভায় ভাগ করে নেয়া হবে যে আমরা এটা আন্তর্জাতিক ভিত্তিতে পেতে পারি এবং সেই পথেই আমরা কাজ করছি।

ফুলহামের সম্মানিত সদস্য(জনাব এম. স্টুয়ার্ট) এবং অন্যান্যরা কমনওয়েলথের কাজের সম্ভাবনার ব্যাপারে ধারণা দেন।আমার ধারনা আমার সম্মানিত বন্ধু স্টাফোর্ড এবং স্টোনের সদস্য (জনাব হিউ ফ্রেসার) CENTO এর মাধ্যমে কাজের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।আপাত অবস্থান বলতে নিরীক্ষণ ছাড়াও লিডসের সম্মানিত সদস্য পূর্বদিক কর্ত্রিক প্রদত্ত হয়েছে যা কিনা আমাদের সবারই কম বেশি হয়েছে যেটা ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যবর্তি সমস্যার কারণে হয়েছে।আমাদের যে কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অগ্রগতি সাধনে সাবধান থাকা দরকার সেটা কমনয়েলথ হোক,CENTO হোক কিংবা ইউনাইটেড নেশানই হোক না কেন।আমাদের সেসকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি মনোনিবেশ করা দরকার যা পাকিস্তান সরকারের কাছে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য হবে।ইউনাইটেড নেশানের সম্পৃক্ততা সম্মানিত সদস্যগন এবং আমিও কামনা করি যদিও আমার সম্মানিত বন্ধু ফরেন ও কমনয়েলথের সেক্রেটারি সম্মানিত সদস্যের এই ভাবনাকে অসম্মান করবেন না তথাপি অন্যান্য সম্ভাবনাগুলোও আমাদের পরিক্ষা করে দেখা দরকার।

লিডসের সম্মানিত সদস্য অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে প্রশ্নে উল্লেখ করেছেন।আমার সম্মানিত বন্ধু প্রশ্ন পর্যালোচনা করেছেন।একমাত্র উল্লেখযোগ্য অস্ত্র লেনদেন করা হচ্ছে ১৯৬৭ সাল থেকে চলে আসা একটি চুক্তির ধারাবাহিকতা যা কিনা নৌ বাহিনির জাহাজ সংশোধনে এবং রাডারের যন্ত্রপাতির জন্য করা হয়।এছাড়া তেমন কোন উল্লেখযোগ্য অস্ত্রের লেনদেন যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের মধ্যে আজ অবধি সংঘটিত হয় নি।এবং আমার সম্মানিত বন্ধু বেশ আনন্দিত এটা জেনে যে এই চুক্তির কোন ধরনের পরিবর্তন আপাতত করতে হচ্ছে না আর আমার মনে হয় না এই ব্যাপারে আমাদের নেয়া পদক্ষেপ কোন কাজে আসবে।

ব্র্যান্ট ফোর্ড এবং চিজউইকের সম্মানিত সদস্য (জনাব বার্নস) পাকিস্তানি হাই কমিশনের মাধ্যমে এই দেশে পাকিস্তানি নাগরিকদের কার্যক্রম অনুসন্ধানের ব্যাপারে জানতে চেয়েছেন।আমি যা বলেছি তা থেকে এটা সুস্পষ্ট ভাবে প্রতীয়মান যে পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে এই ধরনের কোন তথ্যের জন্য পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ে অনুরোধ করা হয় নি।

পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা কার্যকরভাবে পুনরায় শুরু করবার জন্য সাহায্যের বিধান পুনরায় চালু করবার সক্ষমতার প্রশ্নে বিতর্ক আবারও কেন্দ্রিভুত হচ্ছে।পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতে ত্রাণ সহায়তাকে অভ্যর্থনা জানানো ছাড়াও

এই ব্যাপারে সবাই একমত হয়েছে যে,রাজনৈতিক অবস্থার স্থিতিশীলতা পুনঃস্থাপন করা ছাড়া এই কার্যক্রম পুনরায় শুরুর আশা আমরা করতে পারি না।

সেখানে আরও একটি সাধারন চুক্তি করা হয়েছে যেখানে পূর্ব পাকিস্তানকে ভবিষ্যতে সহায়তা দেবার জন্য জোর প্রদান করা হয়েছে।সম্মানিত লেডি তার পূর্ন সমর্থন দিয়েছেন।আমি পুনরাবৃত্তি করছি গত নভেম্বরে যখন থেকে আমি পাকিস্তানে আছি তখন এই মতবাদ পাকিস্তানি সরকারের মাধ্যমে সবার সাথে ভাগ করেছে।

আমার এর সম্মানিত বন্ধু এসেক্সের সদস্য দক্ষিণ-পূর্ব (জনাব ব্রেইনি) সহায়-সংঘের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন।যে বৈঠকের কথা তিনি ভাবছিলেন তা ১৯৭০ এর জুলাই মাসের সরকার পরিবর্তনের পরই সংঘটিত হয়েছিল।সেই সময় বিশ্বব্যাংক তাদের কার্যপ্রক্রিয়ার প্রোগ্রাম সৃষ্টি করে।সভায় আসন্ন বছরের জন্য প্রতিশ্রুত অর্থের পরিমান ছিল ৩৭৬ মিলিয়ন ডলার।আমার সম্মানিত বন্ধু তার গানিতিক দক্ষতার কারণে সহজেই অনুমান করতে পারবেন অর্থের পরিমাণ।এই ত্রাণ কর্মসুচির বৃহত্তর দিক ছিল পাকিস্তানে গিয়ে কার্যক্রমে অংশগ্রহন করা।যখন জরুরি অবস্থার জারি হয়েছিল তখন আমরা তিনটি প্রধান আলোচনায় এগিয়ে ছিলাম এবং এর মধ্যে একটি মূলধন প্রকল্প আমরা আমাদের ত্রাণ কর্মসুচির আওতায় আনতে চেয়েছিলাম।সহায়-সঙ্ঘ সেদিন থেকে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক সমস্যার মোকাবেলা করছে পাকিস্তানের বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনায় রেখে।আমার সম্মানিত বন্ধুরও এই বিষয়টি মাথায় ছিল।সেই সময়ে আমি খুব চিন্তায় পড়ে যাই কারণ তাকে রিপোর্ট করবার মত তেমন কোন তথ্য আমার কাছে ছিল না।একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং দাতা এবং পাকিস্তান সরকারের মাঝে আলোচনা চলছিল।আরও একটি বৈঠক হবে এবং আমি আশা করছি সেখানে অগ্রগতির সম্ভাবনা আছে।

পোর্টসমাউথ.ইস্টের সম্মানিত সদস্য (জনাব জুড),তিনি আমাকে অবগত করেছিলেন যে তাকে দ্রুত যেতে হবে,পূর্ব পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের কথা জিজ্ঞেস করছিলেন যে যাদেরকে তাদের ছাত্রজীবন স্থগিত করতে হবে।আমি নিশ্চিতভাবে বলেছিলাম যে, শুধুমাত্র জরুরি অবস্থায় তহবিলের অভাবে কোন পুর্ব পাকিস্তানি শিক্ষার্থিকে অকালে ছাত্রজীবন বন্ধ করতে হবে না।আমি সম্মানিত মহোদয়কে তার আশ্বাস দিয়েছিলাম।

আমরা বেশ কিছু ভাষণ শুনেছি,যার বেশ কিছুতে পূর্ব পাকিস্তানকে অপসারনের সম্ভাবনার ব্যাপারে সমর্থন ছিল।অন্য্যগুলোতে যদিও এই সম্ভাবনাকে সমর্থন দেয়া হয় নি তথাপি পাকিস্তানের দুই অংশের শান্তিপূর্ন এবং গঠনমূলক পূনর্মিলন নিয়ে সন্দেহ ছিল।এই ধরনের জল্পনার মুল্য প্রায় না থাকার মতই।পূর্বে আমি যা বলেছিলাম পরিশেষে আমি তাতেই বহাল থাকব,যে উদ্দেশ্য আমি উত্থাপন করেছি তা কামনীয়;সমগ্র পাকিস্তানের,পূর্ব এবং পশ্চিম,শান্তিপূর্ন ও স্থিতিশীল পুনরায় সৃষ্টি করা প্রবলভাবে কাম্য,যদি কিনা তা সাধিত হতে পারে,আমি অঙ্গীকার করছি যে আমরা আমাদের সকল ধরনের চেস্টা বহাল রাখব এবং পাকিস্তান সরকারকে তার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার জন্য যে কোন ধরনের চাপ প্রদানের আদেশ অব্যহত রাখব।

প্রশ্ন করা এবং করতে সম্মত হওয়া।

সংশোধিত

এই প্রতিষ্ঠান,পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড ও ধ্বংসের এবং বছরের শেষে খাদ্যাভাবের সম্ভাব্য সঙ্কটের ব্যাপারে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,মহামান্য সরকারকে এই বিবাদের সমাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য তার সকল ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে,ইউনাইটেড নেশান অথবা অন্যন্য ত্রাণ সহায়তা সংস্থার স্বীকৃতি এবং রাজনৈতিক সমঝোতা অর্জনই পাকিস্তানের জনগনের গনতান্ত্রিক অধিকারকে সম্মান দেবে।