বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপি

Posted on Posted in 4

<৪,২২০,৪৮৬>

অনুবাদকঃ শিপ্রা কর্মকার

শিরোনামসূত্রতারিখ
২২০। বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি কর্তৃক কানাডীয় পার্লামেন্টারী প্রতিনিধিদলের কাছে প্রদত্ত স্মারকলিপিবাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটি৭ জুলাই, ১৯৭১

 

কানাডিয়ান সংসদীয় প্রতিনিধি দলের জন্য বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে স্মারকলিপি

মহাশয়েরা,

এই সংক্ষিপ্ত স্মারকলিপি ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ এর পর গঠিত বাংলাদেশ রেডক্রস সোসাইটির পক্ষ থেকে জমা দেয়া হচ্ছে। ডক্টর, নার্স এবং সেচ্ছাসেবকরা যারা যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিল এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দ্বারা অব্যাহতি হয়েছে।  আজ আমরা এখানে আন্তর্জাতিক শরনার্থী হিসেবে ভারতে, যা দেশের খুব কল্যানকামী অস্থায়ী আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমরা এখানে অকাতরে সময় এর জন্য অপেক্ষা করছি যখন বাইরে থেকে আন্তর্জাতিক চাপ, বাংলাদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার এবং সক্রিয় পাকিস্তান ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়।  আমরা ফিরে আসবো যখন আমাদের একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা থাকবে অথবা বাংলাদেশ মুক্ত হবে। 

স্যার,  আজ আমরা এখানে কারন না আমরা “সক্রিয় রাজনীতিরর সঙ্গে বা পাকিন্তানের সামরিক জান্তা বিরুদ্ধে জনগনের গনতান্ত্রিক প্রতিবাদের সঙ্গে কাজ করতে হবে কিন্তু সহজ কারন হলো আমরা বাঙ্গালী। আমাদের শিক্ষার্থীরারা ১৫ এবং ৩০ বছর বয়সের মধ্যে কুড়ান করা হচ্ছে তারা কাটানো পাকিস্তান অার্মি না কারন তারা তাদের ঘোষিত এবং অঘোষিত প্রবিধানে কোন কর্মদকশূন্য কারন তারা পাকিস্তানের সামরিক শাষনের বিরোধিতা এবং প্রতিরোধের সম্ভাভ্য উপাদান সহজভাবে বাংলাদেশ বিবেচনা করা হয়। বিংশ শতাব্দীর বর্নবাদী আরতি ও পরিকল্পিত গনহত্যা এবং পৃথিবীর এখানো কয়েক সরকারের খারাপ অপরাধমূলক কাজ বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করেছে, এটা সম্পর্কে যথেষ্ট উদ্বেগ দেখানো হয়েছে।

 

আমরা বাংলাদেশের চলমান ভয়াবহ নিপীড়ন সবিস্তারে আর বর্ণনা করছি না, যেহেতু এটা বিশ্ব গ্রন্থ প্রকাশলয়ে বিবৃত ও নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটা আমাদের পীড়া দেয় যে, বাংলাদেশের গণহত্যা বন্ধে, বিশ্বশক্তি ফলপ্রসূ কিছুই করেনি, অধিকন্তু তাদেরই কেহ না কেহ এটার পোষকতা করেন এবং অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করে এটাতে অবদান রাখেন।

 

 আমরা খুব আশা করেছিলাম, বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীনতম কানাডিয়ান সরকার নরপশুদের দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মনোনীত প্রতিনিধিদের সাপ্রেশান এর নীরব সাক্ষী হয়ে থাকবে না।

 

আমাদের সবিনয় নিবেদন, আপনি মহাশয়রা চেষ্টা এবং আপনার সরকারকে প্ররোচিত করবেন   বাংলাদেশের গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের মাধ্যমে গণহত্যা সম্মেলনে একজন দস্তখতককারী হিসেবে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে। আমরা আরো সবিনয়ে অনুরোধ করি সাহায্যের, আমাদের দেশে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য আমাদের কারন ন্যায়পরতা স্বীকৃতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এর বৈধতা স্বীকার করে, যেহেতু এটি জনগনের ইচ্ছার উপর প্রতিষ্ঠিত।

 বনগা

জুলাই ৭, ১৯৭১                                             আপনার একান্ত

                                                      বাংলাদেশ এর পক্ষে

                                                                                                        রেডক্রস সোসাইটি