বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানে কমন্স সভায় পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি

Posted on Posted in 13
                  শিরোনাম                        সূত্র                    তারিখ
বাংলাদেশ সমস্যার রাজনৈতিক সমাধান অবশ্যই করতে হবে:কমনস সভার পররাষ্ট্র সচিবের বিবৃতি        কমনস সভার কার্যাবলি             ২৩ জুন, ১৯৭১

 

১৯৭১ সালের ২৩ জুন হাউজ অব কমনস সভায় যুক্তরাজ্য সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এলেক ডগলাস হোম এর বিবৃতির সারসংক্ষেপ।

২১  জুন সোমবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব মি. শরণ সিং এর সাথে আমিসহ আমার ডান দৃষ্টান্তমূলক বন্ধু প্রধানমন্ত্রীর একটি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, আলোচনা চলাকালীন ভারতে ব্যাপকভাবে ক্রমাগত উদ্বাস্তুু প্রবেশ যে একটি স্থায়ী বিপদ ও বোঝার সৃষ্টি করছে এবং পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা নিয়ে সরকার তাদের যে  উদ্বেগ প্রকাশ করছে সে বিষয়টি তিনি আমাদের কাছে স্পষ্ট করেন।

ইন্ডিয়া এইড কনসরটিয়ামের সাম্প্রতিক বৈঠকের পর ওনার সরকার উদ্বাস্তুদের সহযোগিতা ও ভারতীয় সরকারের অর্থনৈতিক বোঝার উপশমের জন্য সরকার পাঁচ মিলিয়ন টাকা সুলভ করে।

কনসরটিয়ামের অন্যান্য সদস্যদের মত আমরাও এই অবদানে সাহায্য করি এবং আমাদের স্বাভাবিক উন্নয়নের উপর ভারত সহযোগিতা করে।উপরন্তু ভারতে উদ্বাস্তুদের সরাসরি ত্রান প্রদানের জন্য সরকারের সহযোগিতায় আরও ১ মিলিয়ন টাকা প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়।

ওনার সরকার ত্রানের জন্য সকল ধরনের সহযোগিতাকে সহজলভ্য করে এবং ভারতে পুনর্বাসনের জন্য এর পরিমান ৮ মিলিয়নে বর্ধিত করে।এটি একটি মানবিক কাজ যার সাথে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই যেখানে আমি আশা করি ইউনাইটেড ন্যাশনের বেশিরভাগ বেশিরভাগ সদস্যই তাতে অংশগ্রহন করবে।এই পর্যন্ত প্রায় ২৩ জন অংশ নিয়েছে।

২১ জুন পাকিস্তান কনসরটিয়ামের সদস্যদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট গুলো বিবেচনা করা হয় এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রতিনিধিগন যারা পূর্ব পাকিস্তান পরিদর্শন করেন এবং ইসলামাবাদের সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন।

নতুন যেকোন সহযোগিতায় যেকোন কিছু দানের জন্য কোন অঙ্গীকারবদ্ধতার কথা বলা হয় নি যদিও সকলেই পূর্ব পাকিস্তানের এই মানবিক মুক্তির জন্য ইউনাইটেড ন্যাশনের কার্যকর নজরদারিতে অবদানে সম্মতি প্রকাশ করে।

মহামান্য সরকারের নীতি সেই অবস্থান প্রকাশ করে যে পাকিস্তান ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকল্প যতদূর সম্ভব ক্রমাগত চালনা করছে কিন্তু সত্যিকারের একটি রাজনৈতিক সমাধানের দিকে অগ্রগতির বিষয়ে একটি দৃঢ় প্রমান না পাওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রতি নতুন ব্রিটিশদের সহযোগিতার ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন থাকতে পারে না।

পূর্ব পাকিস্তানের এই বিশৃঙ্খল অবস্থা অব্যাহত রয়েছে। এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে দুইজন ব্রিটিশ নাগরিক মি. পি. জে. চালমার্স ও জে. ওয়াই বয়েড যারা উভয়ই সিলেট জেলার চা-রোপন এস্টেট এ কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাদের অনুপস্থিতির তথ্য আইন সভায় আমাকে রিপোর্ট করতে হয়।

পূর্ব পাকিস্তান ও ভারত উভয়েরই ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের শত চেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তানের মার্শাল ল শাসন ও ভারতীয় সরকারের মাঝে অনুসন্ধান করে তাদের কোনো সংবাদ সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি।

এই পরিস্থিতিতে তাদের নিরাপত্তার জন্য গভীর শংকার তৈরি হয় এবং আমি মহামান্য সরকারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করছি এবং এই উদ্বগময় সময়ে দেশে তাদের স্বজনদের নিকট আইনসভা ১টা নিশ্চয়তা প্রদান করে।

 

 পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট যারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালিয়ে গেছে তারা তাদের বাড়িতে ফিরে আাসবে এই আাশাই পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং এমন ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন যে তারা যে শংকা বোধ করছে তাদের সেই শংকার কোনো কারন নেই।

মাহামান্য সরকার তার নিকট একটি শান্তিপূর্ণ অবস্থা পুনরুদ্ধারের গুরুত্বকে প্রকাশ করে যেখানে আস্থাই পারে তাকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক জীবন পুনরুদ্ধার করতে।

আমার দেয়া বিবৃতির মাধ্যমে আমি এই ডানপন্থী ভদ্রলোক কে তার সাধারন অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই।

রাজনৈতিক দৃষ্টিকোন থেকে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ফলাফল বা রাজনৈতিক ভবিষ্যত কি হতে পারে প্রকাশ্যে আমার এই বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার জন্য এই সময় সহায়ক হবে না।

আমাদের ব্যক্তিগত অনেক পরামর্শের ভিত্তিতে ২৮ জুন প্রেসিডেন্ট একটি বিবৃতি প্রদান করেন। একটি আশা ছিল এবং আমরাও তার কাছে এই আশাই প্রকাশ করেছিলাম যে তিনি পূর্ব পাকিস্তান থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পশ্চিম পাকিস্তানে একত্রিত করতে সক্ষম হবেন। আমরা মনে করি এটি অপরিহার্য।

ভারতীয় সরকার এ ধরনের কোনো প্রস্তাবনা উত্থাপন করে নি এবং আমার মনে হয় যে অতঃপর আমাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করাই উত্তম এবং উদ্বাস্তুদের  একটি বৃহদাংশ পূর্ব পাকিস্তানে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা পরবর্তীতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি তার বিবৃতিতে প্রকাশ করেন,এছাড়াও সেই অংশে ইউনাইটেড ন্যাশনের যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে অকালীন হবে।

যেখানে একটি রাজনৈতিক বিবৃতি আবশ্যক।সেখানে একটি বেসামরিক সরকারও বহাল থাকতে হবে।সরকারের প্রশাসনিক পরিস্থিতির মূল্যায়ন অবশ্যই হতে হবে।দৃষ্টান্তমূলক সদস্যরাই চিহ্নিত করবে যে একমাত্র সেনাবাহিনীই খাদ্য বিতরনের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে।