বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সদর দপ্তর প্রকাশিত বিভিন্ন সেক্টরের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনমালা

Posted on Posted in 11
শিরোনামসূত্রতারিখ
২। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী সদর দপ্তর প্রকাশিত বিভিন্ন সেক্টরের যুদ্ধ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রতিবেদনমালাবাংলাদেশ আর্কাইভস, মুজিবনগরজুলাই-আগস্ট, ১৯৭১

 

<১২, , ৬-১১>

ট্রান্সলেটেড বাইঃ

Ashrafi Nitu <6-11>

Iffat E Faria <11-18>

Fazla Rabbi Shetu <18-24>

Aparajita Neel <25-34>

Kazi Wasimul Haque <35-42>

 

 

গোপনীয়

 

বাংলাদেশ ফোর্সের সদরদপ্তর
নং ৩০১২\বি ডি এফ\জি এস (১)
৩১ ই জুলাই,১৯৭১

 
প্রতি,

সাদেক খান 
৪\এ, পাম এভিনিউ 
প্রযত্নে-ব্যারিস্টার এ সালাম 
কলকাতা-১৯
বিষয়: রেডিও ও প্রেসে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি রিপোর্ট

আমি আপনাকে নিউজলেটার পাঠাচ্ছি। মেমো নং-১, তারিখ ৩১ জুলাই, ৭১। দয়া করে ক্যামেরাম্যান উজ্জ্বলকে অবিলম্বে প্রেরণ করবেন। মেজর খালিদ তাকে পাঠানোর কথা বলেছেন ।

 

ধন্যবাদ ।
স্বাক্ষর : সুলতান এম খান

 

এনক্লোজার
*****
কুমিল্লা,ঢাকা,ফরিদপুর সেক্টরের উপর প্রতিবেদন
স্মারপলিপি নং-১
৩১ ই জুলাই,১৯৭১

 

ফরিদপুর

 

ফরিদপুর জেলায় মিলিটারি বাহিনী দ্বারা যেসব তীব্র অতর্কিত আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে তা থেকে নিম্নোক্ত ঘটনাগুলো হতে ধারণা পাওয়া যায়। 
(ক) ২০ ই জুলাই মুক্তিফৌজ শান্তি কমিটির(তথাকথিত) একটি বৈঠকে অতর্কিত আক্রমণ করে। এ আক্রমণে শান্তি কমিটির সম্পাদক,সক্রিয় সদস্য নুরুল ইসলাম উভয়ই নিহত হয়। এছাড়াও তাদের দুইজনসহযোগি নিহত। এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে মাদারিপুর জেলার অন্তর্গত পালং উপজেলায়।

নিম্নোক্ত বিভিন্ন ঘটনার কারণেসহযোগীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সরকার প্রদত্ত মেশিনসমূহ মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে স্বাধীনতাকামী বাহিনীর বিভিন্ন আক্রমণ দ্বারা।

 

(খ) ২৬ শে জুলাই নারিয়া পুলিশ স্টেশনে আক্রমণ হয় এবং এই আক্রমণে একজন পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ নিহত হয়।

(গ) পালং পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত আঙুরিয়া বাজারঃ পাট গুদামের ২৫০০০ মণ (আনুমানিক) পাট পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তহসিল দপ্তরের সরকারি নথি এবং কৃষি অধিদপ্তর সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়েছে।

 

(ঘ) রাশেদ ফকির,রাশেদ ঢালি এবং হাফিজসহ সকল শত্রুসহযোগী নিহত হয়। এই ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে খাদেরগঞ্জ পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত শাহাজাহানপুর বাজারে। এছাড়াও পালং পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত ধর্মশ্বেরের কাদির খান ও নারিয়া পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত ইউনুস নামে অন্য দুইসহযোগী নিহত হয়।

 

রজস্ব অফিসের সকল নথিপত্র এবং পালং পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত ছিড়ান্দির মুনসেফ কোর্টও পুড়িয়ে ফেলা হয়। গোসাইরহাটেও পুড়িয়ে দেয়া হয়।

 

এছাড়াও গোস্বিরহাট থানার নিকটে পামোদিয়ায় একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও বেতার স্টেশন ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়। এই ঘটনা ঘটে ভেদেরগঞ্জ পুলিশ স্টেশনে।

 

কুমিল্লা

 

(ক) ২৫,২৬,২৭ ই জুলাই সালদানন্দী এলাকায় ব্যাপক গোলাগুলি বিনিময় হয়। শত্রুদের উপর হাল্কা মরণাস্ত্র এবং মর্টার প্রয়োগ করা হয়। ২৬ শে জুলাইয়ের আক্রমণে শত্রুরা মারাত্নক হতাহতের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে (তবে হতাহতের সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায় নাই)।

 

শত্রুরা বিক্ষিপ্তভাবে মনেরা ব্রীজের দিকে পশ্চাপদ হচ্ছিলো। তারা প্রতিরক্ষার জন্য ভাঙা ব্রীজটি মেরামতের চেষ্টা করছিলো।

 

(খ) আখাউড়া পুলিশ স্টেশনের অন্তর্গত দাইখোলা গ্রামের চেয়ারম্যান সিরাজ মিঞা ভুঁইয়া সালদানন্দীর কমান্ডারের কাছে আত্নসম্পর্ণ করেন ।

 

(গ) শত্রুদের একদল আমাতলির একটি বাড়িতে ঘাঁটি গড়েছিলো। গত যুদ্ধের (মর্টার ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গোলাগুলি বিনিময় হয়) পর শত্রুদের পশ্চাৎ অবস্থানে অতর্কিত আক্রমণ করা হয়।

 

(ঘ) ২৩ শে জুলাইকেলাসনগরে এক দল মুক্তিসেনা শত্রুদের সাথে গুলি বিনিময় করেছে। শত্রুদের ২১ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছে। নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও ধারণা করা হচ্ছে একজন অফিসার নিহত হয়েছে।

 

২৬ শে জুলাই বগাবারিতে একটি রেলপথ,২ টি টেলিফোন পোস্ট এবং ২টি শত্রুর ট্রাক সফলভাবে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

গোপনীয়

 

বাংলাদেশ ফোর্সের হেডকোয়ার্টার

নং ৩০১২\ বি ডি এফ\ জি এফ 
২রা আগস্ট,৭১
প্রাপক:

সাদেক খান 
৪\এ পাম এভিনিউ 
প্রযত্নে ব্যরিস্টার এ সালাম 
কলকাতা-১৯
বিষয়: বেতার ও প্রেসে অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য রিপোর্ট।

 

আমি একটা নিউজ লেটার পাঠাচ্ছি। নথি নঃ ২, ২ আগস্ট, ১৯৭১। মুক্তিবাহিনি নিয়মিত কিছু গান এবং কবিতা পাঠাচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনার মতামত জানালে খুশি হবো। এগুলো প্রকাশ ও প্রচার করলে তারা আরো উজ্জীবিত হবে।

                                               

স্বাক্ষর-সুলতান এম খান

 

এনক্লোজারঃ ৪

 

 

গোপন বার্তা

 

২রা আগস্ট,১৯৭১
সিলেট, ব্রাক্ষণবাড়িয়া সেক্টরের উপর প্রতিবেদন:
মুক্তিবাহিনী এবং গেরিলাবাহিনীর নিয়মিত আক্রমণে শত্রুরা মারাত্নক হতাহতের শিকার হচ্ছে। তারা অনেক পাক আর্মিরসহযোগী দোসরদেরকেও প্রতিহত করেছে।

 

১ ২৪ তারিখে শত্রুদের আখড়ায় অতর্কিত আক্রমণে ২৫ জন শত্রুসেনা নিহত হয়। এছাড়া শত্রুরা সাধারণ মানুষদের তাদের মৃতদেহ বহন করতে বাধ্য করে এবং মারাত্নক গোলাবর্ষণ করে। এই ঘটনা সংঘটিত হয় সিলেটেরতেলিয়াপাড়ায় (কমলাপুর গ্রাম)।

 

২মুক্তিফৌজ গেলিরা নরসিংদির পশ্চিমে অহিনাশপুরের রেলপথে একটি এন্টি মাইন স্থাপন করে সেনাবাহী রেললাইন উড়িয়ে দেয়। সবধরনের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও শত্রুরা এই ফাঁদে পা দেয় এবং তাদের ৪টি বগি উড়িয়ে দেওয়া হয়।

 
৩ গেরিলার একই দল রেলপথের স্টেশন সিগনাল বোর্ড এবং সরারচরের (বাজিতপুর পুলিশ স্টেশনের নিকটে, কিশোরগঞ্জ উপজেলা, ময়মনসিংহ জেলা) টেলিগ্রামের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে পাকসেনাবাহিনি অত্রএলাকায় সন্ত্রাসী কাজকর্ম চালায়।

 

৪ ১৪ তারিখে বাজিতপুর থানার শান্তিকমিটির (তথাকথিত)সহসভাপতি সানাউল্লাহ নামে এক মাওলানা আহত হয় এবং ২৬ তারিখ রাতে নিহত হয়।

 
দশ তারিখে বাজিতপুরের কুখ্যাত বাচ্চু মিঞা নিহত হয় ।

 

৫২৯ শে জুলাই সিলেটের মোহাম্মদপুরেরতেলিয়াপাড়ায় এক অতর্কিত আক্রমণে ৩৫-৪০ জন সেনা নিহত হয়।

একই আক্রমণে একজন অফিসার (ক্যাপ্টেন), দুইজন জে সি ও (সুবেদার), একজন এন সি ও নিহত হয়।

 

৬মাইন বিস্ফোরনে দুরমানগরে একজন রাজাকার নিহত হয়। একই এলাকায় শত্রুর অবস্থানে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই হামলার হতাহতের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় নাই (সিলেট)।

 

৭ ২৯ শে জুলাই আরেকটি অতর্কিত আক্রমণে দুধপাতিল থানার চুনারুঘাটে ৯ জন সেনা নিহত হয়। 
৮ ভাতাকান্দি থানার দাঊদকান্দীতে বেতারকে বিপর্যস্ত করে গেরিলাবাহিনী। ২৫ শে জুলাই একই গেরিলা দল দায়েরপাড়া শান্তি কমিটির সভাপতি আবুল মিয়া এবং মুজিতপুর ইউনিয়নের মমতাজ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি শান্তিকমিটির ছোট সমাবেশে অতর্কিত আক্রমণ করে। মিঠাকান্দা স্টেশন থেকে ছয়টি রাইফেলস ছিনিয়ে নেয়া হয় বেলাবো বাজারে মুক্তিফৌজ বাহিনি ৫ জন রাজাকারকে মেরে ফেলে ।

 

 

চট্টগ্রাম সেক্টর

 

আমলাঘাটে কিছু বিস্ফোরক রাখা হয় এবং চারটি বৈদ্যুতিক তোরণ উড়িয়ে দেয়া হয়। মুক্তিফৌজ নরোরা বাজারে(রামগড়) অতর্কিত আক্রমণ চালায় এবং আবু আহমেদ এস ও লাই মিয়া নামে একজন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে। কালিয়ারে অতর্কিত আক্রমণে কিছুসহযোগী নিহত হয়। পাকসহযোগী মোঃ সিরাজ চৌধুরী এবং আরো দুইজনকে মেরে ফেলা হয়।

 

 

ঢাকা,কুমিল্লা,নোয়াখালি এবং ফরিদপুর সেক্টর

 

১ সালদানন্দী-শত্রুদের অবস্থানে হামলা করা হয় এবং মর্টার ব্যবহার করা হয়। বড় ধরনের হতাহতের আশা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের সঠিক পরিমাণ এখনো জানা যায় নাই (২৭ ই জুলাই)

 

২ ২৩ শে জুলাই-হরিমঙ্গল ব্রিজের দক্ষিণ অংশের রেলপথের ২৭০ ফুট অংশ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

 

৩ ২৮শে জুলাই-বায়রার দক্ষিণ অংশে বিজনা ব্রিজে শত্রুদের অবস্থানে মর্টার দিয়ে গোলাগুলি বিনিময় করা হয়েছে। শত্রুদের ১০ জন সেনা আহত হয়েছে এবং ৩ জন নিহত হয়েছে।

 

৪ বিধ্বংস্ত ব্রিজের নিকটে সালদানন্দী পুলিশ স্টেশনে শত্রুর অবস্থানে হামলা, ২জন নিহত,৫জন আহত।

 

৫ হরিমঙ্গলে ৩৫ ফুট দৈর্ঘ্য আর ২০ ফুট প্রস্থের একটি ব্রিজের দুই পাশ উড়িয়ে দেয়া হয় ।

৬ ২৮ শে জুলাই আনন্দপুরের নিকটে শত্রুদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আক্রমণ করা হয় এ আক্রমণে ৩ জন শত্রু নিহত হয় ।

 

নিম্নে শত্রুদের প্রতিরক্ষা অবস্থানে বিভিন্ন রকমের আক্রমণের ঘটনা বর্ণনা করা হলো ।

 

২৮ শে জুলাই : মহেশ্বরে ৬ শত্রু আহত
২৮ শে জুলাই: আমরতলিতে ৪ জন আহত (শত্রু) 
২৮ শে জুলাই : বাশমঙ্গলে ৬ জন নিহত এবং ৫ জন আহত 
২৮ শে জুলাই: আনন্দপুরে ১১জন নিহত এবং ৫ জন আহত
২৯ শে জুলাই: রোদেশ্বরে ২ জন নিহত ও আহত

২৯ শে জুলাই: আনন্দপুরে একটি রেলপথের ব্রিজের ও রেলপথের ২০ ফুট ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এই ব্রিজটি পাকিরহাট ও

রাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝে অবস্থিত ছিল।

 

ঢাকা অপারেশন

 

অপারেশনগুলো নিজে পরিচালনা করছে এমন ছেলেদের কাছ থেকে সংগৃহিত তথ্য নিচে দেওয়া হলো।

 

২৬ শে জুলাই রাত ৮১৫ টায় মতিঝিলের বিদ্যুৎ ও পানি উপকেন্দ্রে (মতিঝিল মাজারের নিকটে) সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়। পুরো মতিঝিল কলোনীতে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

 

২৩ তারিখ রাতে মুক্তিবাহিনী যাত্রাবাড়ি ব্রিজ উড়িয়ে দেয় যখন পশ্চিম পাকিস্তানীদের সাথে আরেকটি অপারেশনে থাকার কথা ছিলো। এই ঘটনায় ৫২ জন পুলিশ নিহত হয়।
২৮ তারিখ রাত আটটায় হাত বোমা ছোঁড়া হয় ইপিআরটিসি মতিঝিলের বাস স্টেশনে, হতাহতের অবস্থা জানা যায় নি।

 

২৩ জুলাই দুপুর ১২ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন সফলভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে ।গেরিলারা প্রথমেই শত্রুদের স্থাপিত ৪৫-টি এন্টি পার্সোনাল মাইন নিষ্ক্রিয় করে দেয়, যার মধ্যে ১২-টা ছিল বড় মাইন।

গুরুত্বপূর্ণ নথি

 
বাংলাদেশ ফোর্সের হেডকোয়ার্টার
নং৩০১২\বি ডি এফ\ জি এস (ও পি এস) 
৪ ই আগস্ট,১৯৭১
প্রাপক: সাদেক খান
৪\ক, পাম এভিনিউ
প্রযত্নে ব্যারিস্টার এ সালাম
কলকাতা-১৯
বিষয়: রেডিও ও প্রেসে প্রকাশের জন্য অবস্থার প্রতিবেদন এবং ছবি ।

 

আমি টেলিভিশনের একটি স্ক্রিপ্ট পাঠাচ্ছি যেটা সম্প্রতি গ্রানাডা টেলিভিশন লিমিটেড এ প্রচার করা হয়েছে এবং এর সাথে কিছু ছবিও পাঠাচ্ছি (একই দল তুলেছে)। নিউজ এর সাথে থাকছে। আর ঘটনার ছবিও পাঠাচ্ছি।

 

স্বাক্ষর-সুলতান এম খান

 

এনক্লোজার-১৫

পাকসেনাদের গোপন আক্রমণ

 

নদী কি কখনো তার প্রবাহ থামিয়েছে? নদীর কুল ছিল ৯০ জন পাকসেনাদের মৃত্যুশয্যা।

 

নদী কি কখনো তার প্রবাহ থামিয়েছে? এখন এটা পাকসেনাদের জন্য এক বিরাট প্রশ্ন। কিন্তু তা ঘটেছিল। মুক্তিসেনারা তা সম্ভব করেছিল। কুমিল্লায় বেশ কিছু ঘটনায় বিব্রত হবার পর পাকসেনারা সেখানে তাদের শক্তি বৃদ্ধির জন্য নৌকায় করে প্রচুর সৈন্য সমাবেশ করার চেষ্টা করছিল। মুক্তিফৌজের ধারাবাহিক বিতারনের জবাবে পাকসেনারা তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা করছিল। সম্প্রতি ঘটমান যুদ্ধে পাকসেনাদের মুক্তিবাহিনী প্রায় অচল করে দিয়েছিল।

 

২৯ জুলাই তারই ধারাবাহিকতায় প্রায় ৩০০ সৈন্যের ৭ টি নৌযান জলপথে যাচ্ছিল। কুমিল্লার জাফরগঞ্জে মুক্তিবাহিনী একটি সফল এম্বুশ করে তাদের উপরে। ৭ টার মধ্যে ৪ টা নৌকা মুক্তিবাহিনীর আয়ত্তের কাছে আসলে তারা মর্টার, এল এম জি ও এইচ এম জি দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। সেই কথাটা সত্যি সত্যি ফলে যায়। নদী হথাত টার গতি থামিয়ে দেয়। কিন্তু শত্রুরা তাদের নৌকা ডুবে যাওয়া ঠেকাতে পারেনি। এগুলোতে প্রায় ১২৫ জন সেনা ছিল (এক কোম্পানি)। কিন্তু হায়, প্রায় সবাই ডুবে মারা যায় বা নিহত হয়। কিন্তু বাকি ৩ টি নৌকা তাদের আর্টিলারির সাহায্য নিয়ে তাদের পূর্বের স্থানের দিকে পালিয়ে যায়।

 

প্রায় একই সময়ে কুমিল্লার মান্দাভাগে মুক্তিফৌজেরা মেশিনগান, মর্টার দিয়ে শত্রুদের আক্রমণ করে প্রায় ৩০ জনকে হত্যা করে। সেখানে যুদ্ধ এখনো চলছে। যদিও নতুন নতুন তথ্য ক্রমশ আসছে।

 

সম্প্রতি কুমিল্লা ও টার আসে পাশের এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় পাকসেনাদের মনোবল ধ্বংসের পথে। তারা ভয়ে কুমিল্লার সরকারী বাসভবন ছেড়ে চান্দিনায় চলে যাচ্ছেন।

 

আশা করি বাংলার নদী শত্রুদের জন্য কোনোদিন প্রবাহিত হবেনা।

 

৩০ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত নিম্নের ঘটনাগুলি ঘটেছে। এগুলো সব কুমিল্লার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশের।

 

৩০ জুলাই কুমিল্লার উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অংশে শত্রুদের অনেক অবস্থানে মুক্তিফৌজ এম্বুশ করে। তাদের প্রচুর হতাহত হয়। শ্রিমান্তপুএ শত্রুদের আস্তানা আক্রমণ হয়। ১১ জন নিয়মিত সেনা নিহত হয়। একই দিনে একই স্থানে আরেকটি এম্বুশে আরও ৪ জন শত্রুসেনা নিহত হয়। কোটেসশর ও রাচিয়াতে আলাদা এম্বুশে ৪ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়। আনন্দপুর ও নারায়নপুরের আরও ৪ টি অবস্থানে এম্বুশ করা হয়। সেখানে যথাক্রমে ১২ ও ১৮ জন পাকসেনা নিহত হয়।

 

৩১ জুলাই আবারো আক্রমণ হয়। কায়াম্পুরে ১২ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। একই দিনে ইয়াকুবপুর ও লাটুমুরায় ২০ জন সেনা নিহত হয়।

 

১ আগস্ট চমকপ্রদ ঘটনা ঘটে। প্রায় ১৩০ জন সেনা ছুটোছুটি করে কবরস্থানের দিকে পালাতে থাকে। জাফরগঞ্জের কাছে ৯০ জন নিহত ও ডুবে মরে (অন্যত্র বিস্তারিত বর্নিত আছে)।

 

হরিমঙ্গলে এম্বুশ করার সময় পাকসেনাদের ৩০ জন নিহত হয়। কায়াম্পুরে আরেকটি ঘটনায় ১৩ জন হতাহতের ৯ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। স্রিমন্তপুরে ৩ জন ও কোটেসশরে ২ পাকসেনা নিহত হয়।

 

শত্রুদের অবস্থানে আক্রমণ চলছেই। কলাছারার ঘটনা আগেই বলা হয়েছে। লাটুমুরা, চন্ডিয়ার, বাড়িয়া ও গুরাইটে ২৯ জন হতাহত হয়। কায়াম্পুর জ্যাকপটে আক্রমণ করে ১০ সেনা নিহত করা হয়। ৪ জন আহত হয়। জিক্রাতে মর্টার আক্রমণে শত্রুদের ১৪ জন হতাহত হয়। ৬ টি বাঙ্কার ধ্বংস হয়।

গুরুত্তপূর্ন খবর

 

বাংলাদেশ বাহিনীর হেডকোয়ার্টার

No 3012/BDF/GS (I)

05 Aug, 71

 

প্রতি

Sedeq Khan

4/A Palm Avenue

C/O Barrister A Salam

Calcutta-19

 

বিষয় – প্রেস ও রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি রীপোর্ট

 

আমি একটি নিউজলেটার পাঠাচ্ছি। মেমো নং ৩, তারিখ-৫ আগস্ট ৭১।

 

সংযুক্তি-১

স্বাক্ষর

সুলতান এম খান

 

 

 

জরুরী অবস্থার রিপোর্টঢাকা অপারেশন

 

১। ২৫ জুলাই সকাল ৬টা ১মিনিটে পুবাইলএর কাছে কালসাটাতে নরসিংদী থেকে ঢাকাগামী একটি ট্রেন বিষ্ফোরিত হয়। পাথর ও বালিতে পরিপূর্ণ দুইটি বগি, ডিজেল ইঞ্জিন, এবাং যাত্রী ও ওয়েস্ট পাকিস্তানী পুলিশসহ তিনটি বগি সম্পূর্নরূপে ধবংস হয়ে যায়। সাথে সাথে ই ইঞ্জিনটিতে আগুন ধরেযায়। কালোধোয়া দেখা যায় এবং সবগুলো বগি লাইনচ্যুত হয়ে পতিত জমিতে পড়ে যায়। পাথর ও স্প্লিন্টার ছুটে ১৫০-২০০ গজএর ভেতরে। বালি ও পাথর ভরা বগিগুলোর আঘাতে একটি কাল্ভার্ট ধ্বংস হয়ে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশসহ প্রায় ৩০-৩৫ জন নিহত হয়। দায়িত্বরত রেলোয়ে ইঞ্জিনিয়ার যিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন, গেরিলাদের জানান যে এটা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল অপারেশন এবং ধ্বংস করা ট্রেনগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে।

 

২। ২৭ জুলাইএ রাত ৮টা১১মিনিটে মতিঝিলের পাওয়ার সাবস্টেশন (পীরজঙ্গিমাজার) সম্পূর্ন রূপে ধ্বংস হয়ে যায়। ৪জন গেরিলার একটি দল সাবস্টেশনে প্রবেশ করে এবং ২ জন পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশসহ সব গার্ডদের নিরস্ত্র করে ফেলে। তারা গার্ডদের ওখানে বেধে ফেলেন এবং তালা ভঙ্গে বিস্ফোরক স্থাপন করেন এবং ওই দুই পুলিসকে মেরে ফেলেন। বিস্ফোরন সংঘটিত হয় এবং পুরো স্টেশন ধ্বংস হয়ে যায়। পুরো দালান ধ্বসে পড়ে। মতিঝিল, শাহজাহানপুর, গোপীবাগ এবং কমলাপুর রেলস্টেশন এরিয়া সম্পুর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পুরো মতিঝিল এলাকা আতংকিত হয়ে পড়ে রেলওয়ে কলোনী দিয়ে যখন একদল অবাঙ্গালী লোকজন পলায়ন করছিল তখন-৫০ জন রাজাকার তাদের ঘিরে ফেলে। মুক্তিযোদ্ধারা গ্রেনেড হামলা করেন এবং গুলি চালান। প্রায় ৮-১০জন রাজাকার ঘটনা স্থলে মারা যায়।

 

৩। ক) ২৩ জুলাইএ সিদ্ধিরগঞ্জের ২টি সংযোগ খূটিকেটে ফেলা হয়। দলটি ৩৫টি ছোট মাইন এবং ১০টি বড় মাইন নিষ্ক্রিয় করেন যেগুলো কিনা খুটিগুলো ঘিরেছিল।

খ) ২৩ জুলাইএ্সিদ্ধিরগঞ্জও খিলগাঁও এর লাইনের একটি সংযোগ খুটি ধ্বংস হয়।

গ) ২২ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জ ও কমলাপুর এর লাইনের একটি সংযোগ খুটি ধ্বংস হয়। দলটিকে শুধু খুটি ধ্বংসের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

 

 

৪। ১৫ জুলাই দুপুর১২টায় চার্জ বসিয়ে কিছু বৈদ্যুতিক খুটি উড়িয়ে দেয়া হয়। খুটিগুলো টঙ্গি ব্রিজের নিকটবর্তী ছিল। এই লাইন গুলি মিরপুর ও টঙ্গিকে এবং টঙ্গী থেকে ঢাকাকে সংযুক্ত করে ছিল।

 

৫। ২৮ জুলাইএ একটি বৈদুতিক খুটি ধ্বংস করা হয়। এই লাইনটি কালিগঞ্জ হতে টঙ্গি পর্যন্ত গেছিল। এটি ৩৩০০০ ভোল্ট এর লাইন ছিল। ঘটনাস্থল ছিলনা গাদি।

 

৬। ১৫ জুলাই এ যখন পাগলার নিকটে একটি রেলওয়ে কালভার্ট উড়িয়ে দেয়া হয় যখন একটি ট্রেন ব্রিজটি পার হচ্ছিল। ব্রিজটি সম্পুর্নরুপে ধ্বংস হয়ে যায়। সামনের খালি বগি দুটো পানিতে পড়ে যায় এবং ইঞ্জিনটি একপাশের লাইন এ বেধেছিল। ইলেক্ট্রিক পদ্ধতিতে একাজটি করা হয়।

 

৭। ঢাকা মিল ব্যারাকের নিকটের ট্রেনিং সেন্টারে দুটি হাত বোমা ছুড়ে মারা হয়। এর ফলে দুই রাজাকার মারা যায়। অপারেশনের তারিখ ছিল ১১ জুলাই ১৯৭১।

 

৮। ১৫ জুলাই আলমগঞ্জ ঢাকায় শান্তি কমিটি অফিসারদের আক্রমণ করে ২ জনকে হত্যা করা হয়।

 

৯। ১২ জুলাই একজন দুর্ধর্ষসহচরকে ধরার প্রস্তুতি চলে। সে কিছু মেয়ে ও টার নিজের কন্যাকে নিয়ে ফেরী বোটে পাড় হচ্ছিল। সেটি ডুবিয়ে দেয়া হয় ও সবাই নিহত হয়।

 

 

 

 

সিলেটব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টর

 

১ আগস্ট মুক্তিফৌজ চৌরাশিয়াতে শত্রুদের পেট্রোলে আক্রমণ করে তাদের বেশ কয় জন ও ১ জন রাজাকার হত্যা করে।

 

২ আগস্ট আমপারা চা বাগানে ৩ জন পাকসেনা হত্যা করা হয়। তারা ২৮ টি যানেতেলিয়াপারা থেকে মাধবপুরে যাচ্ছিল। মুক্তিবাহিনী তাদের উপর এম্বুশ করে ৩ জন নিহত ও অনেক আহত হয়। রিমা চা বাগান ও বাল্লা ক্যাম্পে আক্রমণে যথাক্রমে ৩ ও ৪ জন পাকসেনা নিহত হয়। একই স্থানে অন্য ২ টি অ্যামবুশে যথাক্রমে ২ ও ৩ জন পাকসেনা নিহত হয়।

 

৩১ জুলাই কৃষ্ণপুরের সুরমা গ্রামে মুক্তিফৌজ ২ টি এন্টি ট্যাঙ্ক মাইন পুঁতে রাখে। এতে ৩ টনের একটি সৈন্য ভর্তি যান আক্রান্ত হয় ও ২০ জন নিহত ও অনেক হতাহত হয়। শত্রুরা রাগ হয়ে পাশের জনসাধারণের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

 

 

চট্টগ্রাম সেক্টর

 

বাগার বাজারে মুক্তিফৌজের আক্রমণে অনেক রাজাকার নিহত হয়। শত্রুদের পেট্রোল যানে আক্রমণে ৩ জন নিহত হয় ও বাহনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনা ছিল ৩১ জুলাইয়ের। ছাগলনাইয়াতে আক্রমণে ১০ পাকসেনা নিহত ও ৫ জন আহত হয়।

গুরুত্তপূর্ন নিউজলেটার

 

বাংলাদেশবাহিনীর সদরদফতর

No 3012/BDF/GS (0)

০৮ আগস্ট ৭১

 

 

প্রতি

সাদেক খান

সেক্রেটারি, বাংলাদেশ আর্কাইভস

১৩/১ পাম এভিনিউ

কোলকাতা-১৯

 

বিষয় – প্রেস ও রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি রীপোর্ট

 

আমি একটি নিউজলেটার পাঠাচ্ছি। মেমো নং ৫, তারিখ-৮ আগস্ট ৭১।

 

সংযুক্তি-১

 

স্বাক্ষর

সুলতান মাহমুদ

কুমিল্লার সংবাদ, নোয়াখালী সেক্টরের অংশ

 

) ফেনী

 

জগন্নাথের টেলিফোনের খুটি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায়, ফেনী ও চৌদ্দ গ্রামের মধ্যবর্তী টেলি্যোগাযোগ সসম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন এবং সংযোগহীন হয়।

 

ফেনী ও চট্টগ্রামের মধ্যে ররাস্তা ও বন্ধ করে দেওয়া হয়, যখন মুক্তিবাহিনী আনাতলিসেতু ৩০০১ বিবিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করে। ঘটনাটি ঘটে ৩১ শে জুলাই। ১ জন রাজাকার ও বিস্ফোরণে নিহত হয়। সেতুটির গুরুতর মেরামত প্রয়োজন।

 

পাইথ্রাতে (ফেনীরনিকটবর্তী), ৫ জন রাজাকারকে আটক করা হয়েছে মাইনসহ। এগুলো ক) ট্যাংক-বিরোধীমাইন, ওখ) সেনা-বিরোধীমাইন।

 

বাংলাদেশের ভিতর কর্মরত একটি ছোট গ্যারিলাবাহিনী, সেনবাথ(উত্তর) এঅবস্থিত, রাজাকার শাখায় আক্রমণ করে এবং ৪ জনকে নিহত এবং ৬ জনকে আহত হয়। গ্যারিলারা ২৩০৩ রাইফেল বাজেয়াপ্ত করে। ফেনীর আশেপাশের রাজাকারদের মুক্তিফৌজদের সাহায্য করতে বাধ্য করা হয়। তবে, সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী রাজাকাররা(৭০%) মুক্তিফৌজকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। যদিও, খারাপ উপাদানগুলো এখনো দৃশ্যতেই রয়ে গেছে। কিন্তু আমরা আশা করতে পারি যে শেষ পর্যন্ত তারা নিশ্চিহ্ন হবে।

 

 

) কুমিল্লা উত্তরপূর্বঅংশ

 

শত্রুপক্ষ কুমিল্লা শহরের আশেপাশে তাদের সর্বচ্চো শক্তি নিয়োগ করেছে। যদিও পাকবাহিনী চেষ্টা করছে আক্রমন চালানোর, তাদের বারবার আত্মরক্ষামুলক পদক্ষেপ নিতে হয়েছে। এমনকি আত্মরক্ষামুলক পদ থেকে কিছু শত্রুদের প্রত্তাহার করতে হয়েছে। গেরিলারা কুমিল্লা বিভাগের বেশ গভির থেকে পরিচালনা করছে। এখানে জ্ঞাপিত হচ্ছে যে রাজাকাররা বরংসহযোগী পূরণ।

 

কুমিল্লা কোম্পানিগঞ্জ এর রাস্তায় মাইন বিস্ফোরণের দরুন শত্রু পক্ষের একটি সংবিভাগ বহনকারী যান ধ্বংস হয়ে যায়। একজন পাকসেনা নিহত হয় এবং ১ টি রাইফেল বাজেয়াপ্ত করা হয়।

 

২ থেকে ৩ আগস্ট কুমিল্লার উত্তর সাব সেক্টরে নানাবিধ আক্রমণে প্রায় ৫০ জন পাকসেনা হত্যা করা হয়। আনন্দপুর, স্রিমন্তপুর, আজানপুর, চারনাল ও হরিমঙ্গলে সফল অ্যামবুশ করে আমাদের বাহিনী। আজানপুরে একটি সেতু ধ্বংস করা হয় এলাকাবাসীর সহায়তায়। এতে সাধারণ জনগণ কিছুটা হতাহত হয়। ১৪ জন পাকসেনা ও ১১ জন সাধারণ জনগণ মারা যায়। আনন্দপুরে ৪ জন, স্রিমন্তপুরে ৩ জন, চারনালে ৬ জন ও হরিমঙ্গলে ৮ জন পাকসেনা নিহত হয়। কোটেসশরে ১ জন পাকসেনা নিহত ও ৩ জন আহত হয়। ৪ আগস্ট হরিমঙ্গল ও রাজপুরে শত্রু অবস্থানে মর্টার আক্রমণে যথাক্রমে ৮ জন ও ৭ জন পাকসেনা নিহত হয়।

 

 

 

সিলেটব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টর

 

সিলেটের দক্ষিণ ভাগেতেলিয়াপারা চা বাগানের কাছে শত্রুরা জোড় হতে থাকে। যেমন-সেজামুরা, ধর্মঘর, চৌরাস্তা ইত্যাদি। তারা মেশিনগান ও মর্টার দিয়ে আক্রমণ করে। শত্রুরা ৪ দিক থেকে আক্রমণ করার চেষ্টা করে। শত্রুদের ৬ জন নিহত ও ২ জন আহত হয়েছে।

 

সুরমা গ্রাম থেকে রেশন নিয়ে আসা একটি বাহনে আক্রমণ করে সেটা উড়িয়ে দেয়া হয়। একটি জিপ ও ৩ টনের ট্রাক ছিল। রিপোর্টে জানা যায় একজন অফিসার ও ১ জন জে সি ও নিহত হয়েছে।

 

৫ আগস্ট সিতিধাইয়ের পশ্চিমে আলিপুরায় এম্বুশে ১৫ জন শত্রু নিহত ও অনেক হতাহত হয়। কিছু বাঙ্কার ধ্বংস হয়। গেরিলাদের একটি দল সুতাং রেলওয়ে স্টেশন উড়িয়ে দেবার জন্য পাঠানো হয়। শত্রুদের একটি নৌকা ডুবে যায় ও অনেক পাকসেনা ও রাজাকার নিহত হয়। একটি বিস্ফোরণে ৩০০ পাউন্ড বোমা বিস্ফোরিত হয় ও অনেক পাকসেনা ও রাজাকার নিহত হয়।

 

 

 

চর্গ্রাম সেক্টর

বিচ্ছিন মাথা

 

এটা ছিল এক মেজরের মাথা, একজন পাক আর্মি মেজর। মাথাকেটে বাংলাদেশ ফর্সেস হেড কয়ার্টারে নিয়ে আসা হয়। কারেরহাট, ফেনীতে গত ১০ দিনে মুক্তিফৌজ ও পাকসেনাদের মধ্যে অনেক যুদ্ধ হয়।

 

৪ আগস্ট ৫ ঘণ্টা যুদ্ধে ৩৭ জন পাকসেনা ও ৫০ জন রাজাকার নিহত হয়। আক্রমণের চরম পর্যায়ে তারা একজন ক্যাপ্টেন, ২ জন জে সি ও হত্যা করে ও একজন মেজরের মাথাকেটে ফেলে তার মাথা বেইজে নিয়ে আসে। একটি সময়ে শত্রুরা আত্ম সমর্পনে প্রস্তুত ছিল কিন্তু কিছুক্ষণের ভিতরে সেখানে শত্রুদের আরও ২ প্লাটুন সেনা এসে হাজির হয়-কিন্তু তারা বেইজ থেকে সরে যায়। তখন তারা এদিকে সেদিকে পালাতে থাকে। গ্রামবাসীরা তাদের আক্রমণ করে। শত্রুরা অস্ত্র ফেলে দৌড়াতে থাকে। সম্প্রতি খবরে জানা যায় শত্রুরা কারেরহাটে ৬ আগস্ট তাদের অবস্থান ছেড়ে চলে যায়-কিছু সিভিল ফোর্স ও রাজাকারদের রেখে। ছাগলনাইয়াতে একটি এম্বুশে ৪ জন পাকসেনা নিহত ও ৩ জন আহত হয়। কালিয়াতে কালিয়া ব্রিজ উড়িয়ে দেয়া হয় এবং আম্লিঘাটে একটু বৈদ্যুতিক খুঁটি ধ্বংস করা হয়।

প্রেস সংক্রান্ত ডকুমেন্ট

 

বাংলাদেশবাহিনীর সদরদফতর

No 3012/BDF/GS (1)

১০ আগস্ট ১৯৭১

 

প্রতি

সাদেক খান

সেক্রেটারি, বাংলাদেশ আর্কাইভস

১৩/১ পাম এভিনিউ

কোলকাতা-১৯

 

 

বিষয় – প্রেস ও রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি রীপোর্ট

 

আমি একটি নিউজলেটার পাঠাচ্ছি। মেমো নং ৬, তারিখ-১০ আগস্ট ৭১।

 

সংযুক্তি-৩

স্বাক্ষর

সুলতান মাহমুদ

 

 

 

সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টর

 

সিলেট (দক্ষিণ) এবং ময়মণসিংহের কিছু অংশ।

 

মুক্তিফৌজ বেশ কিছু দিন ধরেই দ্বারীপুর-লাটুপুর এবং মুকুন্দপুরে শ্ত্রুর উপর নজর রাখছিল। পরবর্তীতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। মুক্তিফৌজ চুনারুঘাটের রাস্তায় ট্যাংক-বিধ্বংসী মাইন পেতে রাখে।

 

৫ ই আগস্ট সকালে শ্ত্রুদের কিছু যানবাহন মাইনে বিধ্বস্ত হয়। বিস্তারিত জানা যায়নি।

 

গেরিলাদের ঘাঁটি থেকে শত্রু ঘাটির অভ্যন্তরে পাঠানো হয়েছিল, যারা তাদের দায়িত্ব থেকে নিম্নলিখিত ফলাফল অর্জন করেছেন।

 

তারা নিম্নলিখিত পাকবাহিনীর দোসরদের খতম করেছেন,

 

২৭ জুলাই: সিরাজমিয়া ওরফে সিরু, গ্রাম-বাগদাহার, থানা-নবীনগর।

২৭ জুলাই:কফিলুদ্দিন আহমেদ, শান্তি কমিটির মেম্বার, গ্রাম-মহেশপুর, থানা-নবীনগর।

২৭ জুলাই: রাজাকারদের দুইটিগ্রু প, গ্রাম-মহেশপুর, থানা-নবীনগর।

২৭ জুলাই:হরমুজ, গ্রাম-ভৈরবপুর, থানা-ভৈরব।

২৮ জুলাই:লালমিয়া, গ্রাম-শিমুলকান্দি, থানা-ভৈরব।

৩১ জুলাই:নারায়ণপুরবাজারে, রশিদনামের একজন ডাকাত, যে নিজেকেমুক্তিবাহিনীর সদস্য বলে দাবী করত, থানা-রায়পুরা।

৩১ জুলাই:নরসিংদিতে পুর্ব পাকিস্তান রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন অফিসে ও গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অনেকেই আহত হয় এবং অফিস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

 

৩রা আগস্ট: মুক্তিফৌজ নবীনগর থানার ভুচাবাড়ি গ্রামে পাকবাহিনীর অবস্থানের উপর চোরাগুপ্তা হামলা চালায়। শত্রুপক্ষের দশজন সেনা নিহত হয়। মুক্তিফৌজের কমান্ডোরা পোস্টঅফিসে ও গ্রেনেড হামলা চালায়। যার ফলশ্রুতিতে পোস্টঅফিসের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

 

দৌলতকান্দির নিকট মুক্তিবাহিনী টেলিফোন পোল উড়িয়ে দেয়, যার ফলে ভৈরববাজার ও নরসিংদি মধ্যে টেলিফোন যোগাযোগ বিঘ্নিত হয়।

 

কুমিল্লা এবং ফেনী সেক্টর

 

৫ইআগস্ট উত্তরসেনবাগ, কুমিল্লাতে চারজন রাজাকারকে হত্যা করা হয়। মুক্তিফৌজ দুইটি থ্রী নট থ্রী রাইফেল ও জব্দ করে। ২রা আগস্ট ফেনী-চিটাগাং মহাসড়কের আন্নান্তাজি অংশের একটা ব্রিজ ধ্বংস করা হয়। শালদা নদী (নয়নপুর) অংশে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে পাকবাহিনীর তুমুল যুদ্ধ চলতেছিল ৫ই আগস্ট থেকে। শত্রুর হতাহতের ব্যাপারে এখনো কিছু জানা যায় নি। মুক্তিফৌজের সাতজন এখন পর্যন্ত্য শহীদ হয়েছেন। চৌরালার যুদ্ধে মর্টার শেলের আঘাতে শত্রুপক্ষের তিনটি বাংকার ধংস হয়েছে, দুইজন নিহত এবং ছয় জন আহত হয়েছে। মুক্তিফৌজের এনকে আব্দুস সাত্তার, এনকে মুজাহিদ এবং মোহাম্মাদ আলি আক্কাস শহীদ হয়েছেন।

 

কুমিল্লার উত্তরে মুক্তিফৌজ শত্রুদের উপর হামলা অব্যাহত রেখেছে। ২রা আগস্টে, কানাশতলায় শত্রুদের পাচটি অবস্থানের উপর হামলা চালায় মুক্তিফৌজ। সূর্য্যনগরে গুপ্তহামলায় শত্রুপক্ষের চারজন সৈনিক নিহত ও দুইজন আহত হয়।

 

মুক্তিফৌজের আক্রমণের পর শত্রুরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ৮জন শত্রুসেনা নিহত ও আরও ২ জন আহত হয়।

 

 

 

কুমিল্লা গেরিলা বাহিনীর শহর

 

মুক্তিবাহিনীর ব্যাতিক্রমি আক্রমণে পাকিস্তান সেনাবাহিনী একেবারেই বিপর্যস্ত হয়ে গেছে।গেরিলাদের ঘনঘন আক্রমণে কুমিল্লা শহর ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে। পুরো অঞ্চল এখন মুক্তিফৌজের দখলে।

 

বাধ্য হয়ে হানাদার বাহিনী তাদের ২য় হেডকোয়ার্টার কুমিল্লা থেকে চান্দিনায় সরিয়ে নিয়েছে। খাঁ খাঁ নীরবতা বিরাজ করা এই শহরে এখনকেউ খুবই কম সংখ্যক শত্রুসেনা টহল দলকে দেখতে পাবে।

 

রহস্যজনক আক্রমণের জন্য এবং মৃত্যুর ভয়ে পাকসেনারা এখন নিজেদের চলাফেরা আর অস্ত্রের শব্দ শুনলেও ভয় পায়।

 

৪ আগস্ট মুক্তিবাহিনী মর্টারসহ ব্যাপক হামলা চালায় রায়পুরের পাকশিবিরে। ২০ পাকসেনা এবং ৭ রাজাকার ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এত শক্তিশালী আক্রমণে পাকবাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং পালিয়ে যায়। একই এলাকায় কুমিল্লার পূর্বাঞ্চলে(গোমতী নদীর তীরবর্তী) ধ্বংসপ্রাপ্ত হরিমঙ্গল ব্রিজে মুক্তিফৌজ ৩ পাকসেনা এবং শ্রীমান্তপুরে আরও ২ পাকসেনাকে খতম করে।৬ই আগস্ট মুক্তিফৌজ শালপুর গ্রামের শিবিরে আবার আক্রমণ চালিয়ে ২০ সেনাকে ঘায়েল করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টরে ছাত্রদের দ্বারা পরিচালিত এক অ্যামবুশে ১০ হানাদার এবং ১০ রাজাকারকে হত্যা করে। বুড়িচং পুলিশ স্টেশনে মুক্তিফৌজের হাতে ১৫ রাজাকারের প্রাণনাশ হয়। ৪ ও ৫ আগস্ট কোটেশ্বর এলাকায় উপর্যপুরি আক্রমণ পরিচালনা করা হয়। এতে ১০ পাকসেনা নিহত হয়।

 

 

কুমিল্লার উত্তর-পূর্ব অঞ্চল (আখাউড়া এবং কশবার নিকটবর্তী)

 

নবীনগর এবং মুরাদনগরে গত ১০ দিনে ২৫ রাজাকারকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের কয়েকজনের নাম নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

 

১। আলন্দিকোটের আক্কাস আলী মাস্টার

২। শ্রীখাইলের ক্যাপ্টেন মিয়া চেয়ারম্যান

৩। বাগদাহার, নবীনগরের শিরু মিয়া

৪। মহেশপুরের মাজেদ মিয়া

৫। বিটঘরের কফিল উদ্দিন

 

নিম্নে কুমিল্লার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মুক্তিফৌজের আক্রমণ এবং অ্যামবুশের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলঃ

ক) ৩রা আগস্ট ইব্রাহিমপুরে অ্যামবুশ করে ১১ হানাদার সেনাকে হত্যা করা হয়।

খ) ৩রা আগস্ট কাশিমপুরের শত্রুশিবিরে হামলাতে ১ শত্রুসেনা ঘায়েল হয়।

গ) ৩রা আগস্ট মেরাসানি এবং কলাচারা চা বাগানের শত্রু শিবিরে আক্রমণ করে যথাক্রমে ১ ও ৩ সেনাকে হত্যা করে।

ঘ) ৩রা আগস্ট রাজপুর এলাকার রেললাইন উড়িয়ে দেওয়া হয়।

ঙ) ৩রা আগস্ট লাটুমুরা এবং চান্দিবর এলাকার শত্রুশিবিরে আক্রমণ করে ১৯ এবং ২রা আগস্ট মর্টার হামলায় ১০ হানাদার সেনা ঘায়েল হয়।

চ) ৫ই আগস্ট বগাবাড়ি এলাকায় অ্যামবুশ করা হয়, এতে ৪ পাকসেনা নিহত ও ২ জন আহত হয়।

ছ) ৬ আগস্ট কশবা এলাকায় শত্রুশিবিরে অ্যামবুশ করা হয়। এতে ১৯ পাকসেনা নিহত ও ১০ জন আহত হয়।

 

 

 

 

প্রেসের দলিল এবং ডকুমেন্ট

 

হেডকোয়ার্টার,

বাংলাদেশ ফোর্স নং 30/2/BDF/GS (1)

১২ আগস্ট, ১৯৭১

 

বরাবর,

সাদেক খান

সচিব, বাংলাদেশ আর্কাইভ

১৩/১, পাম এভিনিউ

কলকাতা-১৯

 

বিষয়ঃ রেডিও এবং প্রেসে পরিবেশনের জন্য পরিস্থিতি রিপোর্ট

 

আমি একটি নিউজলেটার পাঠাচ্ছি। মেমো নং-৭, তারিখ-১২ আগস্ট ৭১।

 

সংযুক্তি-৩

স্বাক্ষর

সুলতান মাহমুদ

 

 

 

রিপোর্ট-কুমিল্লা সালদা নদী সেক্টরঃ

 

আমাদের জয় সুনিশ্চিত। শত্রুবাহিনীরক্ষণ কৌশল গ্রহণ করেছে, তবুও তারা বিভিন্ন রক্ষনাত্নক অবস্থান ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। সালদা নদী এলাকায় (নয়নপুর, মন্দাবাগ) তাদের কঠোর অবস্থান ছিল। কিন্তু গত ১ মাস শত্রু শিবিরগুলো বারবার আক্রমণ করে ক্ষতিগ্রস্ত এবং ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাদের পিছু হটতে হয়েছে, আর যেসব জায়গায় তারা প্রতি আক্রমণ করতে চেয়েছে, সেখানেই তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

 

১০ই আগস্ট মুক্তিফৌজ নয়নপুর এলাকা সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করে। ১১ই আগস্ট শত্রুবাহিনী মন্দাবাগ এবং আশেপাশের এলাকার শিবির থেকে ভারী মর্টার প্রত্যাহার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে যাত্রা করে।

 

শত্রুসেনারা জীবন বাঁচাতে পালাচ্ছে এরকম দৃশ্য দেখাটা আনন্দের ব্যাপার। এই সেক্টরে প্রায় ২০০ বর্গ মাইল এলাকা উদ্ধার করা হয়েছে।(পরবর্তীতে এই বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে)

 

 

রিপোর্ট-উত্তর-পূর্ব কুমিল্লা

 

সরিষাদি এবং গুরবাতি রেলস্টেশনের মাঝামাঝি বাইকোমরার কাছাকাছি এলাকায় মনুষ্যবিহীন মাইন স্থাপন করা হয়। মাইন বিস্ফোরণের ফলে দুটি ভিন্ন পাকসেনাদল ঘায়েল হয়।

 

বড় আইয়ুবপুর গ্রামে একজন ছাত্র মুক্তিসেনা অত্র এলাকার রাজাকার বাহিনীর প্রধান মীর আকবর আলী ও তার পুত্রকে হত্যা করে।

 

রিপোর্ট-সিলেট (দক্ষিণাঞ্চল) সেক্টর এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া

 

* ৯ আগস্ট একপালার রাজাকার ক্যাম্পে মুক্তিফৌজ হামলা চালায়। ৫ রাজাকার ঘায়েল হয়। এই সময়ে ৫৩ রাউন্ড গুলিসহ ১টি থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল উদ্ধার করা হয়।

 

* আসামপুরের শত্রু শিবিরে হামলা চালালে ১০ জন নিহত এবং বেশ কিছু হানাদার সদস্য আহত হয়।

 

* ৯ আগস্ট কমলাপুর গ্রামের শত্রুশিবিরে হঠাৎ অ্যামবুশ করা হয়। এই আক্রমণে ৩ শত্রুসেনা ঘায়েল হয়।

 

* ৯ আগস্ট এক অ্যামবুশের মাধ্যমে দক্ষিণ বিজয়নগরে রাজাকারদের নিধন করা হয়।

 

বিভিন্নস্থানে কমান্ডো অভিযান

১২জুলাই নারায়ণগঞ্জের গদনাইলে অবস্থিত ইলেকট্রিক সাব-স্টেশনের যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়। ফলে বিদ্যুতের অভাবে বেশ কয়েকটি কলকারখানার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে-চিত্তরঞ্জন এবং লক্ষ্মীনারায়ণ পোশাক কারখানা এবং পাট বিপণন কর্পোরেশন।

*

 

২৬জুলাই পাট বিপণন কর্পোরেশন সংলগ্ন মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রেলব্রিজ যামাঝিরপাড়া পুল নামে পরিচিত, সেটা ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে মালবাহী ট্রেনের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

 

৪ আগস্ট পাট বিপণন কর্পোরেশনের অবস্থিত পাটের মজুদ কারখানায় অগ্নিসংযোগ করা হয় যা ৪ দিন ব্যাপী জ্বলতে থাকে। ফলে ৫০-৬০,০০০ মেট্রিক টন বহনের সক্ষমতা রাখা এই কারখানার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সেই সময় সক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশ পরিমাণ পাট মজুদ ছিল।

 

৩০ জুলাই আশুগঞ্জ-সিদ্ধিরগঞ্জ লাইনে সরবরাহকারী ১,৩২,০০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক গ্রিডের দুটি খুঁটি/পোল ধ্বংস করা হয়। ফলে আশুগঞ্জ-ঢাকা বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত এবং বন্ধ হয়ে যায়। একই দল ভৈরব-নরসিংদী-ঘোড়াশাল বাইপাস হয়ে কাজ করা আশুগঞ্জ-ঢাকা লাইনের ১০০০ কিলোওয়াট গ্রিড ধ্বসিয়ে দেয় এবং ভৈরব-ঢাকা টেলিফোন লাইনের দুটি করে মোট ৪টি পোল ধ্বংস এবং তার উপড়ে ফেলা হয়।

 

৩০ জুলাই সকাল ৭টায় গেরিলা বাহিনী চৌদ্দগ্রামের ৪ মাইল দক্ষিণের নানকারা এলাকায় আক্রমণ করে। শত্রুবাহিনীর একটি চলন্ত জিপে হামলা চালিয়ে ড্রাইভারসহ ৭ জনকে হত্যা করা হয়। কানে গুলি খাওয়া এক পাঞ্জাবির কাছ থেকে জি-থ্রি রাইফেল এবং গোলাবারুদ দখলে নেওয়া হয় এবং তাকে বর্ডারের দিকে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে মৃত্যুবরণ করে। স্ত্রীর কাছে লেখা দুটি চিঠি এবং কিছু তাবিজ তার পকেট থেকে উদ্ধার করা হয়। সৈন্যটি ছিল বেলুচ রেজিমেন্টের মাঞ্জুর আহমেদ।

 

৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় গেরিলা বাহিনী চৌদ্দগ্রামে ঢুকে মর্টার এবং এমএমজি ব্যবহার করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। সকাল পর্যন্ত চলা এই আক্রমণে শত্রুবাহিনীর অনেক সদস্য নিহত হয় (বেসামরিক রিপোর্ট অনুযায়ী)

 

৩১ জুলাই রাত সাড়ে ১১টায় অ্যামবুশ বাহিনী চৌদ্দগ্রাম এবং জগন্নাথে চলাচলরত পাক বাহিনীর উপর হামলা চালায়। প্রথমেই রাস্তার উত্তরপাশে ২০ জন এবং দক্ষিণ পাশে ৬ জন মারা যায়। শত্রুবাহিনী পাল্টা হামলা চালাতে চালাতে ঐ এলাকা থেকে সরে যায়, তারা বেসামরিক লোকজনের সহায়তায় মৃতদেহ সরিয়ে ফেলে। এই আক্রমণে মোট ৩২ পাকসেনা নিহত হয়।

 

২আগস্ট ভোর ৬টায় হরিসর্দারহাটের রাস্তায় মুক্তভাবে চলমান শত্রুসেনাদের উপর আক্রমণ চালিয়ে ৮জনকে হত্যা করে। পাল্টা জবাবে পাকসেনারা আমাদের বাহিনীর উপর শেল হামলা চালায়। তারপর আমাদের বাহিনীও সমুচিত জবাব দেয়। দিনভর চলা এই যুদ্ধে শত্রু বাহিনীর ১৫জন নিহতসহ মোট ২৫ জন আঘাত প্রাপ্ত হয়।

 

৩ আগস্ট চৌদ্দগ্রাম এবং মিয়ার বাজারের সংযোগকারী রাস্তায় দাঁড়ানো পাকসেনাদের উপর ৫০০-৬০০ গজ দূর থেকে অতর্কিত হামলা চালায় এবং ৪ জনকে হত্যা করে।

 

৩ আগস্ট মুক্তিবাহিনী চট্টখোলা-ফেনী রোডে ট্যাংক এবং অ-মনুষ্যবাহী মাইনসহ এক রাজাকার দলকে আটক করে, যাদেরকে মাইন পোঁতার নির্দেশ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। আটককৃত রাজাকারদের নাম হল-

 

ক) গোলাম মুস্তাফা

খ) নুরুল ইসলাম

 

২৯ জুলাই মুক্তিবাহিনী ঘাটুকিয়া নদীপথে যাতায়াতকারী পাকসেনাবাহী লঞ্চে আক্রমণ করে। ৪৫ মিনিট চলা বন্দুকযুদ্ধে শত্রুবাহিনীর ৫ জন নিহত এবং ১০ জন আহত হয়।লঞ্চটি ডুবিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি, কারণ, মুক্তিবাহিনীর রকেট লঞ্চার কাজ করছিল না।

 

 


 

প্রেস সংক্রান্ত ব্যাপার এবং ডকুমেন্টস

 

হেডকোয়ার্টার, বাংলাদেশ ফোর্স

নং-৩০১২/বিডিএফ/জিএস (১)

১৩ আগস্ট, ১৯৭১

 

বরাবর,

সাদেক খান,

সচিব, বাংলাদেশ আর্কাইভ

১৩/১, পাম এভিনিউ, কলকাতা-১৯

 

বিষয়ঃ পত্রিকা এবং রেডিওতে পরিবেশনের জন্য প্রেরিত তথ্যলিপি।

 

আমি আপনার কাছে যুদ্ধের তথ্যলিপি পাঠাচ্ছি। পত্র নং-৮, তারিখ-১৩ আগস্ট, ১৯৭১। আমি আপনার নিকট মুক্তিসেনা রচিত কতগুলো কবিতা এবং গানও পাঠাচ্ছি।

 

ইতি

সুলতান মাহমুদ

 

***

 

 

প্রেসের জন্য তথ্যলিপিঃ

দক্ষিণ কুমিল্লাঃ

 

৫ আগস্ট মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের পর্যদুস্ত করার জন্য বের হয়। বিকেল সাড়ে ৪টায় শত্রুবাহিনীর একটি দল রাঙ্গামুরা বাজারের সামনের রাস্তায় ব্যারিকেড দেয় এবং সেই সময়েই ১০ জন পাকসেনার একটি দল সেই ব্যারিকেডকে সুরক্ষা করার জন্য মার্চ করে আসতে থাকে। মুক্তিবাহিনী উভয় দলের উপর গুলি চালিয়ে ২ জনকে নিহত এবং ৩ জনকে আহত হয়।

 

৬ আগস্ট মুক্তিবাহিনী রাস্তার পূর্বদিকের অংশে অবস্থান করার সময় খবর পায় যে, হানাদার বাহিনীর একটি ছোট দল সীমান্ত থেকে মহাসড়কের দিকে আসছে। মুক্তিবাহিনী একটি পুকুরের ঢালে পজিশন নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। শত্রুবাহিনী এসে পৌঁছানোর সাথে সাথে গুলি করা শুরু করে। এই আক্রমণে ৪ জনকে ঘায়েল করে।

 

 

উত্তর-পূর্ব কুমিল্লাঃ

 

৭ আগস্ট ধুম এবং মস্তান নগর রেলওয়ে স্টেশনের মাঝামাঝি জায়গায় মুক্তিবাহিনী একটি বগিসহ রেল ইঞ্জিন উড়িয়ে দেয়। ধারণা করা হচ্ছে, চালক,সহকারী এবং আরও ২ জন রেল কর্মচারী নিহত হয়েছে এই আক্রমণে।

 

 

চট্টগ্রাম সেক্টরঃ

 

২ আগস্ট মুক্তিফৌজের গেরিলারা এক কুখ্যাত পাক দোসর-সাতকানিয়া কলেজের প্রিন্সিপাল আবুল খায়েরকে হত্যা করে এবং একই দিনে ঐ এলাকার একটি ব্রিজ ধ্বংস করে। এই ঘটনা, পাক বাহিনীকে তৎপর করে এবং তারা সাতকানিয়া কলেজের আশেপাশে সৈন্যবৃদ্ধি করে। কিন্তু এই এলাকাতেই আবার মুক্তিসেনারা আক্রমণ করবে, তা ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেনি হানাদাররা। গেরিলারা ৬ আগস্ট রাতে শত্রুশিবিরে হামলা চালিয়ে তছনছ করে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পাক শিবির পর্যদুস্ত হয়ে পড়ে। প্রায় শতাধিক প্রাণহানি ঘটে পাক শিবিরে। মুক্তিবাহিনীও কিছুটা ক্ষতির শিকার হয়েছে, তবে তার পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ৭-১৩ আগস্ট পর্যন্ত কতজন পাকসেনা ঘায়েল হয়েছে, জানা যায়নি, তবে সংখ্যাটি বেশ ভালো পরিমাণ তাতে কোন সন্দেহ নেই। মুক্তিবাহিনী অনেক পাক দোসরকেও হত্যা করেছে এই কয়দিনে। ৮ আগস্ট বানশাখালা এলাকায় একটি রেলব্রিজ উড়িয়ে দেয়।

 

 

 

কুমিল্লাসেক্টরঃ

শালদানদীর উপর নিউজ বুলেটিন, নয়নপুর, মন্দভাগ

 

শত্রুবাহিনীর সকল অবস্থানই ধ্বংস করা হয়েছে এবং শত্রুসেনারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে পালিয়েছে। এখনো সঠিক বিবরণ না পাওয়া গেলেও শুধুমাত্র ৭ আগস্ট মন্দাবাগ এবং সালদা নদী এলাকায় ৩৩ পাকসেনা নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে। মন্দাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০০ শত্রু বাঙ্কার ধ্বংস করা হয়েছে এবং পুরো এলাকা মুক্তিবাহিনীর দখলে। কসবা-কুমিল্লা রোডে রেলব্রিজ, কালভার্ট, বৈদ্যুতিক খুঁটি, রেল লাইন পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। কসবাতে এক সফল অ্যামবুশ চালিয়ে ১৩ পাকসেনাকে ঘায়েল করা হয়েছে।

 

এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে, ৭-৯ আগস্ট কুমিল্লা সেক্টরে ৯০ পাকসেনা খতম হয়েছে। গেরিলারা গোমতী নদীর চারেপাশের এলাকায় বারবার গুলিবর্ষণ এবং অ্যামবুশ করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।

 

কোটেশ্বর এলাকায় ৮ আগস্ট শত্রুবাহিনীর ৫ সদস্য নিহত এবং ৩ সদস্য আহত হয়। ১০০ গজ টেলিফোন লাইন উপড়ে ফেলা হয়। ৯ আগস্ট কোটেশ্বর এলাকায় আরও একটি আক্রমণে ২ জন এমং অমরতলীতে আরেক আক্রমণে ৬ জন পাকসেনা নিহত হয়। ১০ দিন আগেই আজমপুর এলাকায় হানাদার বাহিনীর সারানো একটি ব্রিজ ধংস করা হয়। আখাউড়া সেক্টরে এক অ্যামবুশে দুই পাকসেনাকে ঘায়েল করা হয়।

 

বিবিরবাজার এলাকাঃ

 

৫ আগস্ট মুক্তিফৌজ লালার ব্রিজ ধ্বংস এবং একই দিনে ঢালিবাড়ি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত করে। এরপর মিয়ার বাজার ক্যাম্পে আক্রমণ করে ৫ পাকসেনা এবং ৫ রাজাকারকে খতম করে। আরেক অভিযানে বক্সনগর এলাকায় ১০ পাকসেনা প্রাণ হারায় এবং ৬ জন আহত হয়। ৭ আগস্ট বিচ্ছিন্ন অভিযানে দুই পাকসেনা নিহত এবং ৩ সেনা আহত হয়।

 

ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাঃ

 

 

৪ আগস্ট গেরিলা বাহিনী নরসিংদীর পঞ্চপাখি ব্রিজ ধ্বংস করে ঢাকা-নরসিংদী স্থল যোগাযোগ বিপর্যস্ত করে ফেলে।

 

৫ আগস্ট আড়াইহাজার-বটলা এলাকার কাঁচা সড়ক খনন করে পানির স্তরে নামিয়ে আনায় আড়াইহাজার এলাকায় পাকসেনাবাহিনীর যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

 

৩০ জুলাই ঢাকা-দাউদকান্দি (কুমিল্লা সড়ক) এর সংযোগকারী ব্রিজ মেরামতের অযোগ্য করে ধ্বংস করা হয়েছে। ফলে ঢাকা-কুমিল্লা যোগাযোগ প্রায় বন্ধ।

 

অ-মনুষ্যবাহী মাইনের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এক পশ্চিম পাকিস্তানীর গাড়ি টুকরো টুকরো করা হয়েছে।

৩০ জুলাই ফার্মগেট এলাকার শত্রু চেক পোস্টে হামলা করে গেরিলারা। ৪ পাকসেনা তৎক্ষণাৎ নিহত এবং পরে আরও ৫ জন মৃত্যুবরণ করে। ৫ সেনা আহত হয়।

 

দুটি পশ্চিম পাকিস্তানি দোকান গ্রেনেড হামলার শিকার হয় ৫ আগস্ট। দুটি দোকানই ক্ষতিগ্রস্ত এবং কয়েকজন আহত হয়।

মুক্তিযোদ্ধা সামসুল আলম রচিত তিনটি কবিতা

 

।।আহবান।।

২০-৭-৭১

 

বীর মুক্তির দল,

তোরা এগিয়ে এগিয়ে চল।

তোদের পিছে থাকি জনতা,

দেবে অসীম বল।

বীর সাহসী সৈনিক হয়ে,

কর জীবন পণ।

আপন হাতের অস্ত্র বলে,

বাধা দেরে রণ।

পাকসেনাদের দূরাচর,

করে দেরে ঠান্ডা।

নীলাকাশে উড়িয়ে দেরে,

বাংলাদেশের ঝান্ডা।

রক্ত বর্ণ চোখ করে,

উঠরে সবাই রঙিন হয়ে।

পাকসেনাকে তাড়িয়ে দিয়ে,

বাংলা আন আপন করে।

সময় তোদের চলে যায়,

তোরাকেন উঠিস নাই?

বঙ্গবন্ধু প্রান দেয়,

তোরাকেন জাগিস নাই।

পাকসেনাদের দুরাশা,

ভেঙে দেরে স্বহস্তে।

বাংলা মাকে গড়িয়ে নেরে,

সভ্য যুগের সাথে সাথে।

বাংলাদেশে জন্ম মোদের,

ধন্য বাংলার মাটি।

বাংলার বুকে গড়া মোদের,

শরীর পরিপাটি।

বিপদ বাঁধায় লড়বে সবাই,

করবোনা আর লাজ।

সবাই মোরা বাংলার ছেলে,

সবাই বাংলার রাজ।

বাংলার মান রক্ষা করা,

মোদের প্রধান কাজ।

এ বিশ্বমাঝে বাংলা মাকে,

গড়তে হবে তাজ।

।।আহবন।।

২০-৮-৭৯

 

 

বঙ্গবন্ধুর ডাক এসেছে,

চলরে সবাই।

আয়রে আমার ভাই বোনেরা,

নতুন করে গাই।

মায়ার বাঁধন টুটে,

আয়রে সবাই ছুটে।

ঐ শহীদেরা চেয়ে আছে,

শুনতে মুক্তির গান।

আয়রা আমার ভাইরা সবাই,

নতুন পথে ধাঁই।

স্বাধীনতার গান রচিয়ে,

সবাই মিলে গাই।

অন্ধ জীবন হতে,

চলরে আলোর পথে।

বাংলা মাকে স্বাধীন করে,

সাম্যের গান গাই।

তোমাদের ঐক্যবদ্ধ,

হইতে হবে।

তোমাদের ঝড় তুফান,

সইতে হবে।

হিংসা বিদ্বেষ ছেড়ে দিয়ে,

আয়রে পা বাড়াই। ঐ।

আমাদের দাবিদাওয়া,

মানতে হবে।

আমাদের বঙ্গবন্ধুকে,

ছাড়তে হবে।

আমাদের স্বাধীনতা

দিতে হবে।

ঐক্যবদ্ধে জড়িয়ে সবাই

এসো বিশ্ববাসীকে

দেই জানাই। ঐ।

|| আয়না ||

২০-৬-৭১

 

জাগ জাগ জাগরে

মুক্তির দল উঠরে সাজিয়া।

উঠরে সবাই রঙ্গিন হয়ে

আকাশ ছেদিয়া।

শুনরে মুক্তিসৈনিক

দেখরে নয়ন মেলিয়া।

দস্যু সেনাদের খঞ্জর

বাজিছে ঝনঝন করিয়া।

কে কোথায় তোরা

আয়রে সবাই ছুটিয়া

পলাশির ঐ চিত্রহ্রদে

লও অংকিত করিয়া

ঈমানের বল যায়নি

এক্ষণও উঠিরে রাঙ্গিয়া।

সত্যের জন্য প্রাণ দিয়ে

সবাই যাও শহীদ হইয়া।

ওরে ভয় নাই ভয়নাই

হবে মোদের ঈমানের জয়।

জাগরে জাগরে বাজারে

দামামা শির উঁচু করিয়া।

তোরাকেন আজ যুদ্ধের

অলসের হিলিভাই চুপ করিয়া।

সভ্যজগতে অঙ্গতা মুছিয়ে

জাগরে সবাই নতুন হইয়া।

 

 


 

প্রেস সংক্রান্ত ডকুমেন্ট

 

 

বাংলাদেশ ফোর্সের দপ্তর নং ৩০জে২/বিডিএফ/জিএস(1)১৪ই আগস্ট, ১৯৭১  প্রতিঃসাদেক খানসচিব, বাংলাদেশ আর্কাইভস১৩/১ পাম এভিনিউকলকাতা-১৯  বিষয় : প্রেস এবং রেডিও সংক্রান্ত পাবলিকেশনের অবস্থা প্রতিবেদন  আমি আপনাকে একটি নিউজলেটার পাঠাচ্ছি, যার মেমো নাম্বার–৯, তারিখঃ ১৪ই আগস্ট ১৯৭১।  স্বাঃ সুলতান মাহমুদ 

 

*******************************************

  সিলেট(দক্ষিন) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সেক্টরের নিউজ বুলেটিনঃ ১২ই আগস্টে মুক্তি ফৌজ শেজামুরা (Shejamura) এলাকায় ওৎ পেতে ১জন শত্রুপক্ষের সেনাকে হত্যা করে। এবং এ ঘটনায় আরো অনেক শত্রুসেনা আহত হয়।

 

সুরমা টি-গার্ডেন এরিয়ারতেলিয়াপাড়া চুনারুঘাট সড়কে মুক্তিফৌজ এন্টি-ট্যাঙ্ক মাইন পুঁতে রাখে। সেটির বিস্ফোরণে একটি ৫ টনের যাত্রীবাহি গাড়ি যা শত্রুপক্ষের সৈন্য বহন করছিল, সেটি ধ্বংস হয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলেই শত্রুপক্ষের ৮জন সেনা নিহত হয় এবং আরো অনেকে আহত হয়।

  ময়মনসিংহের একাংশঃ ৩ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধারা কালিগঞ্জ থানার চর সিন্ধার বাজার এলাকায় ডাঃ ফজলুল করিম (এম বি বি এস)-এর চেম্বারের ভিতরে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাকে গুরুতর আহত হয়। এছাড়াও ঐ গ্রেনেড নিক্ষেপের কারণে পাকিস্তানি সেনাদের দুই বিশেষসহযোগী গফুর ব্যাপারিসহ আরো একজন নিহত হয়। পাকিস্তানিদের আরেকজনসহযোগী গিরাদি-এর ফজলু মিয়াকে মুক্তিফৌজের গেরিলারা দেশের ভালোর জন্য হত্যা করে।  ৫ই আগস্ট মুক্তিফৌজ জাতীয় জুট মিল ও জনতা জুট ভিতরে গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে উভয় মিল বন্ধ হয়ে যায়।

কুমিল্লা ও ফেনী সংবাদদক্ষিণ কুমিল্লা ৪ঠা আগস্ট মুক্তিফৌজবিবিরবাজারের কাছাকাছি এলাকার উন্মুক্ত স্থানে চলাফেরারত অবস্থায় শত্রুদের উপর গুলিবর্ষণ করে। এতে শত্রুপক্ষের দুইজন মারা যায়। শত্রুপক্ষের লোকজন কোনরকম জবাব দেয়া ছাড়াই পিছু হটে পালিয়ে যায়।  মুক্তিফৌজ কমান্ডোরা হরিদাসপুর হাট থেকে আমানগন্ডা পর্যন্ত মর্টার এবং মেশিনগান দিয়ে শত্রুপক্ষের ঘাটিতে আক্রমণ চালায়। শত্রুরা এর উত্তরে কোনরকম গুলিবর্ষন করেনি। নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশরাজাকার ও বিহারিই তাদের অবস্থান ত্যাগ করে। গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়া এবং শত্রুপক্ষের প্রচন্ড শেলিং-এর কারণে মুক্তিফৌজ পিচু হটে চলে আসে। একজন সিএএফ অফিসারসহসহ শত্রুপক্ষের ১৩ জন নিহত হয় এবং ৮ জন আহত হয়। এই প্রতিবেদন বিভিন্ন সূত্র থেকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত করা হয় এইটাআরও নিশ্চিত যে সেই কর্মকর্তাপিক ক্যাপ, একটি কালো মিলিশিয়া শার্ট ও একটি খাকি প্যান্ট পরেছিলেন এবং তার সাথে লাল রঙের চামড়ার খাপে ৭৬২ মিমি একটি চাইনিজ পিস্তল ছিল। এই অপারেশনে মুক্তিফৌজের ১জন মারা যায় ও ২ জন আহত হয়। শত্রুপক্ষ এখানে ৫০% রাজাকার, ২৫% মিলিশিয়া, ২৫% বিশুদ্ধ আর্মি পার্সন দ্বারা গঠিত ছিল। ১০ই আগস্ট মুক্তিফৌজ আবার শত্রুপক্ষের ২৫(পঁচিশ) জনের একটি গ্রুপের উপর গুলিবর্ষণ করে। এ সময়ে তারা বালুঝুরির একটি ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে ছিল।এতে শত্রুপক্ষের ৬ জন সৈন্য মারা যায়। শত্রুপক্ষের বাকি সৈন্যরা লাশগুলো নিয়ে বড় রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়।  

 

মিরাবাজার এলাকা (কুমিল্লা)ঃ

 

9 আগস্ট মুক্তিফৌজ রাজপুরে শত্রু অবস্থানের উপর আক্রমণ করে। এতে ১০ জন শত্রুসেনা নিহত হয়।

 

 

 

কুমিল্লার উত্তর অঞ্চল (গোমতী নদীর কাছে)ঃ

 

শত্রুপক্ষ এ এলাকায় এখনো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন। বাকিরা এই এলাকা তাদের দখলে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু গেরিলাদের নানারকম কৌশলের কারণে শুধুমাত্র একটি ফলাফলই নির্দিষ্ট ছিল, উত্তরই একটিই ছিলো-“মর তোরা”। মৃত্যু অথবা পাআনো ছাড়া তাদের আর কোন পথ খোলা ছিল না। এ যুদ্ধে টিকে থাকা তাদের জন্য ছিল ভীষণ কঠিন।  ১০ই আগস্ট কোটেশ্বর এবং নারুয়াতে শত্রুপক্ষ আবার মুক্তফৌজের হামলার স্বীকার হয়। শত্রুদের ঘাটিতে আক্রমণ করে যথাক্রমে ৩জন ও ৬ জনকে হত্যা করা হয়। সবচেয়ে বড় আঘাত করা হয় ১১ই আগস্ট। মুক্তিফৌজ হরিমঙ্গলে শত্রু ঘাটিতে আক্রমণ করে প্ররায় ২০ জন শত্রুসেনাকে হত্যা করে। কোটেশ্বরও রক্ষা পায়নি। ১১ই আগস্ট ৩ জন শত্রুসেনাকে হত্যা করা হয়। একইদিনে পাঞ্চুরাতে ২ জন শত্রুসেনাকে হত্যা করা হয়। এ আক্রমণগুলোর সবই মুক্তিফৌজের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে।

কুমিল্লার উত্তর-পূর্ব অঞ্চলঃ 

শত্রুরা নয়নপুর থেকে সরে গিয়ে (শালদা নদীর কাছে) মন্দবাগ দখল করার চেষ্টা করে। যদিও শত্রুরা মন্দবাগের মুল এলাকায় তাদের দখল হারায় এবং অতঃপর তারা মন্দবাগ বাজারে তদের ঘাটি গাঁড়ে। এটা ছিল ৯ আগস্টের ঘটনা। শত্রুরা নয়নপুরে আগে থেকেই নাস্তানাবুদ ছিলো। ৯ই আগস্ট মুক্তিফৌজ আরো উজ্জীবিত হয়ে শত্রুদের পুরো এলাকাছাড়া করতে মাঠে নামে। এতে মন্দবাগ (Mandabagh) বাজারে শত্রুপক্ষের ৫জন নিহত ও ১ জন আহত হয় এবং নওগাঁতে ৫ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়। ঐ একই দিনে মুক্তিফৌজ একটি ব্রিজ ও শত্রুপক্ষের ১০ টি বাংকার ধ্বংস করে দেয়। ১০ই আগস্ট মন্দবাগ বাজারে মুক্তিফৌজ সামনে এগিয়ে সরাসরি শত্রুদের ঘাটিতে হামলা করে প্রায় ২০জন শত্রুসেনাকে হত্যা করে ও বিশাল সংখ্যক শত্রুসেনাকে আহত হয়। ১১ই আগস্ট শত্রুপক্ষ প্রায় ৩০০ সেনা ও ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে পালিয়ে যায়। মুক্তিফৌজ শত্রুপক্ষের প্রায় ১০০ বাংকার ধ্বংস করে। পেছনে শত্রুদের একটি পেট্রলবাহিনী ছিল। মুক্তিফৌজ তাদের মোকাবেলা করে। ১২ই আগস্ট লক্ষ্মীপুর, মন্দবাগ বাজার ও পয়েশে শত্রুপক্ষের ৯ জন নিহত ও ৬ জন আহত হয়। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

 

প্রেস সংক্রান্ত ব্যাপার এবং ডকুমেন্টস

 

 বাংলাদেশবাহিনীরসদরদপ্তরনং 3012 / BDF / GS(T)১৪ আগস্ট ১৯৭১ থেকে : সাদেক খানসচিব, বাংলাদেশ আর্কাইভস13/1, পাম এভিনিউকলকাতা-19 বিষয় : প্রেস এবং রেডিও পাবলিকেশন জন্য পরিস্থিতি প্রতিবেদন আমি তোমাকে পাঠাচ্ছি একটি নিউজলেটার দ্রষ্টব্য মেমো কোন  14 আগস্ট 1971 সংযুক্তি-১ কপি  স্বাঃ / সুলতান মাহমুদস্টাফ অফিসার

 

 

কুমিল্লা

চৌদ্দগ্রাম-মিয়াবাজার সাব-সেক্টর

 

১৭ই আগস্ট থেকে ২০ই আগস্ট পর্যন্ত মুক্তিফৌজের বিভিন্ন অপারেশন এবং এমবুশে ১জন ক্যাপ্টেনসহ শত্রুপক্ষের ৬১ জন সৈন্য নিহত ও ২০ জন সৈন্য আহত হয়। এমজি ৪৩ বেল বক্স ও এমজি চেইনসহ মুক্তিফৌজ বিপুল পরিমানে অস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে। বিস্তারিত নিচে দেয়া হলঃ

 

মুরাদনগরে দেশী নৌকায় চলাফেরা করার সময় মুক্তিফৌজ শত্রুসেনাদের উপর এমবুশ করে। মুক্তিফৌজ শত্রুপক্ষের উপর সরাসরি গুলিবর্ষন করলে একজন ক্যাপ্টেন, বিভিন্ন পদবীর ২৯ জন শত্রুসেনা ও ৫জন রাজাকার নিহত হয়। একজন রাজাকারকে গ্রেফতার করা হয়।

 

মুক্তিফৌজ নিন্মলিখিত জিনিশপত্র দখল করেঃ

১। এমুনিশন এমজি ৪৩ বেল বক্স-২ (১ বক্স ভর্তি ও ১ বক্স খালি)

২। ৭৬২ চায়না এমুনিশন-৫০০

৩। রাইফেল ৩০৩ – ১

 

ঐ একইদিনে একটি এমবুশে মুক্তিফৌজ আরো ২ জন শত্রুসেনাকে হত্যা করে।

১৮ই আগস্ট আনন্দপুরে আরেকটি শত্রুঘাটিতে হামলা করলে যথাক্রমে ৩জন নিহত ও ২জন শত্রুসেনা আহত হয়।

আরো দুইটি আক্রমণ ও এমবুশে আনন্দপুর ও কন্টেশতলাতে যথাক্রমে ৯জন ও ৭জন শত্রুসেনা নিহত ও আহত হয়।

২০শে আগস্ট মুক্তিফৌজ আবার রঙ্গুনাথপুরে শত্রুঘাটিতে এমবুশ করলে ১১জন শত্রুসেনা নিহত ও ৩জন আহত হয়। নিন্মলিখিত জিনিশপত্র দখল করা হয়ঃ

 

১। এমজি ১ এ ৩ চেইন এবং মেগাজিন।

২। আই জি-৩ রাইফেল

 

 

চাঁদপুর (কুমিল্লা জেলা)

 

চাঁদপুরে মুক্তিফৌজ ব্যাপক পরিমাণে তাদের কর্মকান্ড চালু করে। ১৬ই আগস্ট মুক্তিফৌজ ২ টি স্টিমার ডুবিয়ে দেয়-একটি কার্গো বার্জসহ একটি কার্গো। এই কার্গোগুলো শত্রুদের জন্য রেশন এবং অন্যান্য দ্রব্যাদি বহন করছিল। আরেকটি স্টিমারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। প্রতিটার ক্যাপাসিটি ২০০০ থেকে ৩০০০ টন ছিল।

 

লঞ্চঘাট ও প্যান্টুন ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং একটি ভাসমান আই ডাব্লিউ টি এ জেটিও বিধ্বস্ত হয়। মুক্তিফৌজরা যখন অপারেশন শেষে ফিরে আসছিল, তখন পাকিস্তানি সেনারা তাদের উপর ওপেন ফায়ার করে, কিন্তু মুক্তিফৌজ গেরিলারা কোন হতাহত ছাড়াই ফিরে আসে।
সিলেট (দক্ষিণ)

 

২০ই আগস্ট ওসমানপুরে একজন পাকিস্তানি সৈন্যকে হত্যা করে ও একজনকে মারাত্বকভাবে আহত হয়।

  সারাংশ: ১৪ই আগস্ট-২২ই আগস্টময়মনসিংহ-সিলেট-মৌলভীবাজার সেক্টর চোরাগুপ্তা হামলা: ৯রেইড: ১২রাজাকার হত্যা: ৪৮রাজাকার আহত: ১০ক্ষতিগ্রস্থ বা ডুবে যাওয়া নৌকাঃপাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ: ১৩স্পিড বোট উপর হামলা: ২পাকবাহিনী আহত: ৬৭পাকবাহিনী হত্যা: ২৪৭অফিসার্স: ৩স্বদেশদ্রোহী নিহত: ৩৬স্বদেশদ্রোহী আহত: ১পুলিশ হত্যা: ৭অফিসার: ১মাইনে বিস্ফোরিত সেনাবাহিনীর যানবাহন: ৬(সেনাবাহিনীসহ/ছাড়া)লঞ্চ ধ্বংস: ১সেতু ও রেল কালভার্ট বিধ্বস্ত, ধ্বংস: ১২ক্ষতিগ্রস্ত ব্রিজ:রেললাইনের ট্রাক উৎপাটনঃ রেলও্যে ট্রাক ধ্বংস: ৩শটগান দখল:রাইফেলস: ২২শটগান: ২১বেয়নেট: ৩এলএমজি: ১গ্রেনেডঃ ৪ইলেকট্রিক তোরণ (ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্থ): ১উপড়ানো টেলিফোন লাইন: ৪টেলিফোন পুল: ২ইলেকট্রিক তোরণ: ৩

 

 

ঢাকা-কুমিল্লা-চিটাগং সেক্টর

চোরাগুপ্তা হামলা: 8রেইড: ৩০রাজাকার হত্যা: ১৮ রাজাকার আহত: ৪রাজাকার ব: ২ক্ষতিগ্রস্থ বা ডুবে যাওয়া নৌকাঃবাংকার ধ্বংস: ৩পাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ: ১৯ পাকবাহিনী আহত: ৭৫পাকবাহিনী হত্যা: ৪০১ অফিসার্স: ৪মুক্তিহত্যা হত্যা: ১স্বদেশদ্রোহী নিহত: ২০(প্রিন্সিপাল, সাতকানিয়া কলেজের জনাব আব্দুল খায়েমনিহত)স্বদেশদ্রোহী আহত: আমিমাইনে বিস্ফোরিত সেনাবাহিনীর যানবাহন: ২(সঙ্গে বা সেনাবাহিনী ছাড়া, খনি দ্বারা)ব্রিজেস & রেলওয়ে কালভার্ট বিধ্বস্ত, ধ্বংস: ৯বাংকার: ১১০ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজঃরেললাইনের ট্রাক উৎপাটনঃ৯ ফুট রেলওয়ে ট্রাক ধ্বংস: ১৩৩ ইয়ার্ড বন্দুক দখল:টেলিফোন পুল: ২২টেলিফোন লাইন উপড়ানো: ২ মাইলপাওয়ার তোরণ: ১০ইলেকট্রিক স্টেশন: ১

 

কুষ্টিয়া-যশোর-খুলনা সেক্টর

চোরাগুপ্তা হামলা: ৪রেইড: ৯রাজাকার হত্যা: ২৮রাজাকার আহত:রাজাকার দখল: ১৭ক্ষতিগ্রস্থ বা ডুবে যাওয়া নৌকাঃপাকবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ: ৭পাকবাহিনী আহত: ১০পাকবাহিনী হত্যা: ৭৭অফিসার্স: ২স্বদেশদ্রোহী নিহত: ৩৩স্বদেশদ্রোহী আহত: মাইনে বিস্ফোরিত সেনাবাহিনীর যানবাহন: ১(সঙ্গে বা সেনাবাহিনী ছাড়া, খনি দ্বারা)ব্রিজ & রেলওয়ে কালভার্ট বিধ্বস্ত, ধ্বংস: ৩ক্ষতিগ্রস্থ ব্রিজঃ রেলওয়ে ট্রাক ধ্বংস:ক্ষতিগ্রস্থ রেললাইনঃটেলিফোন লাইন উপড়ানো:বন্দুক দখল: রাইফেল: ১গোলাবারুদ: ১৪বন্দুক: ১১ 

রংপুর-দিনাজপুর-রাজশাহী সেক্টর

চোরাগুপ্তা হামলা: ৭রেইড: ৮থানায় হানা: ৩পুলিশ কর্মকর্তা নিহতঃ ১পুলিশ হত্যা: ৭রাজাকার হত্যা: ২৭রাজাকার দখল: ১২ক্ষতিগ্রস্থ বা ডুবে যাওয়া নৌকাঃ২পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধ: ৪পাকবাহিনী আহতঃ৩৩পাকবাহিনী হত্যা :৪৮অফিসার: ৭স্বদেশদ্রোহী নিহত: ৫৫স্বদেশদ্রোহী আহত:মাইনে বিস্ফোরিত সেনাবাহিনীর যানবাহন: ৫(সঙ্গে বা সেনাবাহিনী ছাড়া, খনি দ্বারা)ব্রিজ & রেলওয়ে কালভার্ট বিধ্বস্ত, ধ্বংস: ২ক্ষতিগ্রসব্রিজ :রেলওয়ে ট্রাক ধ্বংস:40 ফুটক্ষতিগ্রস্থ রেললাইনঃশটগান দখল: রাইফেল: ৩৬পাওয়ার তোরণ ধ্বংস: ১

 

 

 

প্রেস বিষয়ক এবং দলিলাদি

 

সদর দপ্তর বাংলাদেশ বাহিনী

নংঃ ৩-১২/বি ডি এফ/ জি এস (অপ্স)

১৬ই অগাস্ট ১৯৭১

 

 

বিষয়ঃ সংবাদপত্র এবং রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি বর্ননা

 

আপনাকে ১৬ই অগাস্ট ১৯৭১ তাং বিশিষ্ট ১১ নং মেমো দিয়ে একটি সংবাদ প্রকাশনা পাঠালাম।

 

স্বাক্ষর

 

সংযুক্তিঃ ০২ টি মাত্র

 

সুলতান মাহমুদ

 

 

চিটাগাং সেক্টর

 

১৪ আগস্ট মুক্তিফৌজ গেরিলারা চান্দগাড়িতে শত্রু অবস্থান ঘেরাও করে এবং শত্রুরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এ যাবত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শত্রুপক্ষের নয় জন হতাহত হয়েছে যার মধ্যে একজন জেসিও এবং চার জন রাজাকার রয়েছে। শত্রুদের পাকিস্তানী পতাকা উত্তোলন করতে দেয়া হয়নি।

 

 

সিলেট(দক্ষিন)এবং ব্রাক্ষণবাড়ীয়া

 

(১৪) ঘেরাও চলাকালিন সময়ে মুক্তিবাহিনী চৌরাস্তার একটি বাড়ী যা শত্রুপক্ষের প্রাক্তন আস্তানা ছিল, তা উড়িয়ে দেয়। শত্রুপক্ষের হতাহতের কোন খবর এখনো জানা যায়নি। মুক্তিবাহিনী মুকন্দপুরে শত্রুপক্ষের অবস্থানের ওপর মর্টারের গোলা বর্ষন করে, শত্রুপক্ষের হতাহতের কোন খবর এখনো জানা যায়নি (১৪ই অগাস্ট)। মুক্তিবাহিনী সিন্ধার খান চা বাগানে শত্রুপক্ষের অবস্থানের ওপর মর্টারের গোলা বর্ষন করে, শত্রুপক্ষের হতাহতের কোন খবর এখনো জানা যায়নি (১৪ই অগাস্ট)।

 

কামালপুরে মুক্তিবাহিনী মর্টারসহযোগে শত্রু অবস্থানে হামলা চালায়, তিনজন শত্রুসৈন্য ঘটনাস্থলে মারা যায়, মর্টার আক্রমনের ফলে হতাহতের কোন সংবাদ এখনো জানা যায়নি।

 

১২ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনী আলিনগর-জয়নগর (মোহনপুরের অগ্রবর্তী) এলাকায় চার জন রাজাকারকে হত্যা করে।

 

১৩ ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনীর এক ছোট দল সিন্ধার খান চা বাগানে ঘেরাও এর সম্মুখীন হলে যুদ্ধ করে ফেরত আসার সময় নিজেদের কোনরুপ ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই তারা পাচ জন শত্রুসৈন্যকে হত্যা করতে সক্ষম হয়।

 

 

 

ঢাকা এবং ময়মনসিংহের আশেপাশে মুক্তিবাহিনীর কমান্ডো কার্য্যক্রম

 

 

২৫ শে জুলাই ঘোড়াশাল রেলওয়ে স্টেশন এবং জিনারদি (ঢাকা জেলা) র মধ্যবর্তী স্থানে গ্যাস পাইপ ধ্বংস করা হয়।

 

পাকিস্তানী বাহিনীর সঞ্চিত অস্র এবং গোলাবারুদ সংগ্রহের উদ্দেশে মুক্তিবাহিনী বাজিতপুর ন্যাশনাল ব্যাঙ্কে হামলা চালায়। পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সংঘর্শে পাকিস্তান আর্মির তিন সদস্য, একজন গার্ড এবং একজন ক্যাশিয়ার মারা যায়। মুক্তিবাহিনীও তাদের একজন সদস্যকে হারায়, তবে কোন অস্র এবং গোলাবারুদ সংগ্রহ করা যায়নি।

 

৩১শে জুলাই দুই কুখ্যাত রাজাকার ভ্রাতা শফিক এবং শাহজাহানের মধ্যে শফিককে হত্যা করা হয়।

 

৫ই অগাস্ট গেরিলারা জুট মার্কেটিং করপরেশনের বাইলিং এজেন্ট মারকাসের পাটের গোডাউনে অগ্নি সংযোগ করলে ৪০০ বেল পাট পুড়ে যায়।

 

২ য় অগাস্ট নবীনগর থানাধীন মেহেরকোটা গ্রামের রাজাকার কালা মিয়া এবং ৩ রা অগাস্ট কৃষ্ণনগর গ্রামের রাজাকার হারুন আলিকে হত্যা করা হয়।

 

 

 

চিটাগাং সেক্টর

 

১৩ ও ১৪ ই অগাস্টের রাতে মুক্তিবাহিনী এই অঞ্চলে বৃহৎ আকারের অভিযান পরিচালনা করে।

 

১৪ ই অগাস্ট রামগরের এসডি’ওর বাংলো, এসডি’ওর অফিস এবং মৃত্তিকা সংরক্ষন অফিসে হামলা হলে শত্রুপক্ষ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয় যার বিস্তারিত বিবরন এখনো জানা যায়নি।

 

মহাননী বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমন পরিচালনা করা হয়, ক্ষয়ক্ষতির বিবরন এখনো জানা যায়নি।

মুক্তিযোদ্ধাদের একই দল সেই এলাকায় ৪৮ গজ রাস্তা উড়িয়ে দেয়।

 

মুক্তিবাহিনী রামগর এবং কারাগার হাট সংযোগকারী রাস্তার সোনাছড়ি ব্রীজে পাহারারত শত্রু অবস্থানে হামলা চালায়, ২০ মিনিটের এই অভিযানের পুরোটা সময় জুড়ে শত্রুসৈন্যদের মরন আর্তনাদ শোনা যায়। শত্রুপক্ষের হতাহতের খবর এখনো জানা যায়নি। বাগান বাজারের শত্রু অবস্থানে মর্টারের গোলা বর্ষণ করা হয়, হতাহতের নিশ্চিত খবর পাওয়া গেলেও সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।

 

অতর্কিত হামলা চালিয়ে মুক্তিবাহিনী আন্ধার মানিকে শত্রুদের প্রধান ঘাটি দখল করে নেয়। জেসিওদের নিকট হতে প্যারেড স্যালুট গ্রহন করার সময় একজন অফিসারকে ঘটনাস্থলে হত্যা করা হয়, তাৎক্ষনিক ভাবে নিকটে দাঁড়ানো অপর তিনজন অফিসারকে হত্যা করা হয়। সাহায্যকারীরা আসার ফলে এবং মর্টার গোলাবর্ষণ শুরুর কারনে ব্যাপক সংখ্যক শত্রুসৈন্য নিহত হয়।

 

মুক্তিবাহিনী তলাতলী এবং টাকিয়ার শত্রু অবস্থানে প্রথমে মর্টার হামলা চালিয়ে পরে এই দুই শত্রু এলাকা ঘেরাও করে, হতাহতের কোন খবর এখনো পাওয়া যায়নি। টাকিয়াতে দুইটি এবং ক্লিনাগারে দুইটি শত্রু টাওয়ার ধংস করা হয়।

 

 

 

 

 

 

 

কুমিল্লা

আখাউড়া সাবসেক্টর

 

 

চাদপুর, লঙ্কামুরা এবং ভাগলপুরে (৯, ১০ এবং ১১ তারিখে) মুক্তিবাহিনীর যোদ্ধারা ৪ শত্রুসৈন্য, এক রাজাকারকে হত্যা করাসহ এক রাজাকার এবং শত্রুপক্ষের এক চরকে গ্রেফতার করে।

 

মুক্তিবাহিনী চাদপুর এলাকাতেও হামলা চালায় এবং ৪ শত্রুসৈন্যকে হত্যা করে (সকালে ৪ জনের মৃতদেহ দেখা গেছে)। ১১ ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনী দালাল বাড়ির বিচ্ছিন্ন শত্রু অবস্থানে পুনরায় হামলা চালায় এবং ৫ শত্রুসৈন্যকে হত্যা করে।

 

১২ ই অগাস্ট লাটুমুরায় দুইটি এবং লক্ষীপুরে অপর দুইটি শত্রু বাঙ্কার উড়িয়ে দেয়া হয়। দুই কুখ্যাত রাজাকার তথা আবুল কাশেম, পিতা মৃত কলি মিয়া, গ্রাম চাদপুর, কসবা এবং আবু মিয়া, গ্রাম সাইদাবাদ, থানা কসবা, মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

 

 

কুমিল্লা উত্তরাংশ (গোমতি নদীর নিকটে)

 

১২ ই অগাস্ট আতাখারায় শত্রু অবস্থানে ভিন্ন ভিন্ন গুপ্ত হামলায় মোট ১৪ জন্য শত্রু সৈনিক মারা যায়। সর্বশেষ আক্রমনের পর শত্রুপক্ষ মৃতদেহ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে ব্যার্থ হবার পর গোলন্দাজ বাহিনির ছত্রছায়ায় তা সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়।

 

কেবল এই এলাকাতেই ১২ এবং ১৩ ই অগাস্ট (গোমতি নদীর নিকটে) সংরক্ষনশীল মতে মুক্তি বাহিনী ৪০ জন শত্রুসৈন্যকে হত্যা করে।

 

নিম্নে ঘেরাও এবং গুপ্ত হামলার ফলে শত্রু পক্ষের নিহত এবং হতাহতের বিবরণ দেয়া হল।

 

১২ই অগাস্ট কোটেশ্বরে একজন এবং ১৩অই অগাস্ট জানবাড়িতে আট জন শত্রুসৈন্যকে হত্যা করা হয়, কোটেশ্বরীতে তিনজন, পায়কোঠায় দুইজন এবং নারাওয়ারাতে আরো তিনজন মারা যায়।

 

 

———————————————————————————-

 

 

প্রেস বিষয়ক এবং দলিলাদি

 

সদর দপ্তর বাংলাদেশ বাহিনী

নংঃ ৩০১২/বি ডি এফ/ জি এস (অপ্স)

১৭ই অগাস্ট ১৯৭১

 

 

বরাবর

সাদেক খান

সেক্রেতারী, বাংলাদেশ আর্কাইভ

১৩/১ পাম এভিনিউ

কলকাতা-১৯

 

বিষয়ঃ প্রেস এবং রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি বর্ননা

 

আপনাকে ১৭ই অগাস্ট ১৯৭১ তাং বিশিষ্ট ১২ নং মেমো বাবদ একটি সংবাদ প্রকাশনা পাঠালাম।

 

স্বাক্ষর

 

সুলতান মাহমুদ

 

সংযুক্তি

 

 

নিউজ বুলেটিন

কুমিল্লা এবং ঢাকা

শালদা নদী এলাকা

 

 

শত্রুদের নৃসংশতা আগের তুলনায় ব্যাপক হ্রাস পেয়েছে। এখন তারা গ্রামের লোকদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ন সম্পর্কের ব্যাপারে অধিকতর সচেতন। পাস্কিস্তান আর্মি পথ প্রদর্শক হিসেবে তুলে নিয়েছিল এমন একজনের বক্তব্য থেকে এটা জানা গেছে। শত্রুরা বিশেষত গত সপ্তাহে এই এলাকায় ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির শিকার হয়েছে। ১০ ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনী শত্রুর বিভিন্ন ঘাটিসহ তাদের অগ্র এবং পশ্চাৎ অবস্থান দখল করে নেয়।

 

শালদানদী চত্বরে মর্টারের ব্যাপক গোলাবর্ষন এবং এই এলাকায় হামলার কারনে শত্রুপক্ষ ৪ দিনে ৬০ জন হতাহত হবার মত ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতির শিকার হয়েছে, ফলে মানস গ্রামসহ নয়নপুর গ্রাম এবং শালদানদী গোডাউন এলাকাতেও শত্রুপক্ষ তাদের প্রতিরক্ষা বিস্তৃত করেছে।

 

মন্ডাবাগ গ্রামে নিখুত বোমাবর্ষনের কারনে শত্রুপক্ষের একটি ১২০ মর্টার বিধ্বস্ত হয় এবং এক সপ্তাহে প্রায় ২০০ (দুই শত, যার বেশীরভাগ মৃত) জন হতাহত হয়।

 

এই এলাকায় শত্রুপক্ষে রমনোবল সম্পূর্ন ভেঙ্গে পরে এবং তারা আক্রমন বুহ্য ব্রাহ্মনপাড়ায় সরিয়ে নিয়ে যায়।

 

শালদানদী এলাকায় মুক্তি বাহিনীর অত্যন্ত সফল তিনটি গুপ্ত হামলার ফলে শত্রু বাহিনী এই রাস্তা ব্যাবহার বন্ধ করে দিয়েছে

 

১১ ই অগাস্ট শত্রুবাহিনী মন্ডাবাগ পৌছানোর জন্য এক নতুন রাস্তা বের করার চেষ্টা করে এবং অপরাহ্নে ফেরত আসে।

 

ফেরত আসার সময় তারা পথ প্রদর্শক হিসেবে নাগেশ গ্রাম থেকে এক জনকে সংগ্রহ করে। এই ব্যাক্তি শত্রু পক্ষের ভেঙ্গে পরা মনোবলের কথা জানান। তিনি জানান নৌকার ভেতর থাকা শত্রুপক্ষেরকেউকেউ কান্না করছিলেন এবং নৌকা থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান, অন্যরা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ছিল।

 

এটা ইতিমধ্যে জানা গেছে মন্ডাবাগ বা নয়নপুরে দৃষ্টিসীমার মধ্যে শত্রুবাহিনী নেই। ১৩ এবং ১৪ই অগাস্ট শত্রুপক্ষ মন্ডাবাগে তাদের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে চাইলে ২০ জন হতাহতের পর তাৎক্ষনিক ভাবে পশ্চাদপসারন করে।

 

 

চিটাগং সেক্টর

 

১৫ ই অগাস্ট শত্রুপক্ষের ১৫ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়। ছাগলনাইয়াতে এক হামলায় শত্রুপক্ষের তিনজন সৈন্য নিহত হয়, মির্ধানবাজারে অপর এক গুপ্ত হামলায় ১২ (বারো) জন্য শত্রুসৈন্য নিহত হয়।

 

 

সিলেট (দক্ষিন) এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া

 

১৪ই অগাস্ট নালুয়া চা বাগান এলাকায় শত্রু অবস্থানে গুপ্ত হামলায় ৭ (সাত) শত্রুসৈন্যকে হত্যা করা হয়, অপর ছয় জজন আহত হয়।

 

ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গেরিলা কার্য্যক্রম

 

মুক্তিবাহিনীর নরসিংদীর গেরিলারা পূবালী জুট মিলের দুইটি গোডাউন পুড়িয়ে ছাই করে দেয়।

 

নিম্নের তিন সক্রিয় রাজাকারকে হত্যা করা হয়।

 

১) ঘোড়াশালের মোহাম্মাদ ইদ্রিস

২) জোনারদি র ফাজলুল হক

৩) রূপগঞ্জের সক্রিয় দফাদার ইসলাম উদ্দিন

৪) ডাকাত দলের এক সদস্য

 

একটা RL এবং একটা MMG উদ্ধার করা হয়, একই সাথে বিপুল পরিমান গোলাবারুদ হতগত হয়।

 

সমাবেশে ভাষন দেবার সময় সমগ্র পাকিস্তান জামাত-ই-ইসলামের এক ভাইস প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়।

 

ঢাকা এবং নরসিংদীর মধ্যবর্তী পাচরাখী সেতু সম্পূর্ন ভাবে বিদ্ধস্থ করা হয়।

 

হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টাল ঘটনা (ইতিমধ্যে বিবৃত)

 

রূপগঞ্জে মুক্তিবাহিনী দুই জন পশ্চিম পাকিস্তানী ছাত্র, যারা স্বেচ্ছায় রাজাকার হিসেবে কাজ করছিল, তাদের গ্রেফতার করে।

কুমিল্লার দক্ষিনাঞ্চল

 

১৩ ই এবং ১৪ই অগাস্টের মধ্যে চৌদ্দগ্রামের নিকটে ৩০ জনের মৃত্যুসহ শত্রুবাহিনীর ৪০ জন হতাহত হয়। একটি জীপ পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং ঘটনাস্থলে ৬ জনকে হত্যা করা হয়, এখানে দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধ চলে। অবশেষে শত্রুপক্ষ মৃতদেহ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। একই দিনে অপর এক সংঘর্ষে শত্রুবাহিনী প্রায় ১০ জন সৈন্য হারায়।

 

১৪ ই অগাস্ট ট্রাঙ্ক রোডে শত্রু বাহিনীর যাতায়াত গুপ্ত হামলার শিকার হয় এবং বালুঝুরি ব্রীজে শত্রু অবস্থান আবারও ঘেরাও করা হয়। শত্রুপক্ষের প্রায় ১৫ জন হতাহতের শিকার হয়। শত্রুপক্ষের চৌদ্দগ্রাম, হরি সদরহাট এবং আমনগোদা অবস্থানের ওপর মর্টারের গোলাবর্ষন করা হলে শত্রুপক্ষের আরো ১০ জন হতাহত হয়।

 

১৪ ই অগাস্ট রাত্রে শত্রুপক্ষের ১২ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হয়। মুক্তিবাহীনি আনন্দপুর, জঙ্গলবাড়ী এবং কোটেশ্বর এলাকায় হামলা করে এই সাফল্য অর্জন করে। পাওয়া খবর অনুযায়ী ১৩ এবং ১৪ ই অগাস্টের মধ্যে কুমিল্লা সেক্টরে শত্রুপক্ষের হতাহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

 

 

————————————————————————————

 

 

প্রেস বিষয়ক এবং দলিলাদি

 

এচেলন সদর দপ্তর বাংলাদেশ বাহিনী

নংঃ ৩০১২/বি ডি এফ/ জি এস (১)

১৮ই অগাস্ট ১৯৭১

 

 

বরাবর

সাদেক খান

সেক্রেতারী, বাংলাদেশ আর্কাইভ

১৩/১ পাম এভিনিউ

কলকাতা-১৯

 

বিষয়ঃ প্রেস এবং রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি বর্ননা

 

আপনাকে ১৮ই অগাস্ট ১৯৭১ তাং বিশিষ্ট ১৩ নং মেমো বাবদ একটি সংবাদ প্রকাশনা পাঠালাম। একই সাথে রেডিও পাকিস্তান কতৃক ১৭ ই অগাস্ট ১৯৭১ সালে বেলা তিনটার সময় প্রচারিত হাবিলদার সালাহ উদ্দিনের সাক্ষাতকারের বিরোধীতা করে দেয়া বাংলাদেশ বাহিনীর বিভিন্ন জেসিও এবং এনসিও র একটি যুক্ত বিবৃতি, যা এখনো বাংলাদেশ রেডিওর কাজে আসতে পারে, সংযুক্ত করা হল।

 

সংযুক্তি-৪ (চারটি মাত্র)

 

স্বাক্ষর

সুলতান মাহমুদ

কুমিল্লা এবং ফেনীর সংবাদসমূহ

 

১৩ এবং ১৪ ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনী শত্রুবাহিনীকে প্রায় হাতাহাতি আক্রমন করে। এই সাহসী সম্মুখ যুদ্ধ শত্রু বাহিনীর অবস্থান গুড়িয়ে দেয়। শত্রুসৈন্যদের তাদের বিভিন্ন রক্ষনাত্বক অবস্থান থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। শত্রু অবস্থানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলিত হয়, জনগণ উল্লাস ধ্বনি দেয় এবং পাকিস্তানী সৈন্যদের পলায়ন করতে দেখে।

 

সালদার এবং সুবার বাজারে (পরশুরাম পুলিশ স্টেশন) প্রায় হাতাহাতি যুদ্ধে পাকিস্তান আর্মির এক অফিসার এবং অন্যান্য পদের আরো ১৫ জন চরম পরিনতি বরন করে।

 

শত্রুপক্ষের ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৬ জনের আহত হওয়া নিয়ে সর্বমোট ২২ জন হতাহত হয়।

 

মুহুরী নদীর পশ্চিম তীরে হাজী খালেকপুর থেকে গাবতলী (সালদার এবং সুবার বাজারের নিকটে) শত্রুপক্ষ আবার বিপর্যের সম্মুখীন হয়। দ্বিতীয় আক্রমন শত্রুপক্ষকে কোনরূপ সুযোগ না দিয়ে গুড়িয়ে দেয়, জনগনের মনোবল ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। ব্যাপক আনন্দ উল্লাসের মধ্য দিয়ে জনগণ বিজয় উদযাপন করে। শত্রু বাঙ্কার ধংস করা হয়, ব্যাপক অস্র এবং গোলাবারুদ হস্তগত হয়। ১৩ (১০ সৈন্য, ৩ রাজাকার) জনের মৃত্যু, ৭ জন আহত হওয়া নিয়ে শত্রুপক্ষের মোট ২০ জন হতাহত হয়। শত্রুবাহিনী বর্তমানে তাদের সুরক্ষা অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা কিছু বায়ু পর্যবেক্ষনও চালাচ্ছে। ১৩ এবং ১৪ই অগাস্টের মধ্যে সালদার এবং সুবার বাজারে শত্রুপক্ষের মোট হতাহতের সংখ্যা ৪২ জন।

 

১১ এবং ১২ ই অগাস্ট সুবার বাজার এবং বাদুয়াতে শত্রুপক্ষের ৪ জন হতাহত হয়, ১২ অগাস্ট ফেনবী রোডে মাইন বিস্ফোরনে এক জন সৈন্য নিহত এবং ওপর একজন গুরুতর আহত হয়। সুবার বাজারে মুক্তিযোদ্ধারা ২ মেইল লম্বা টেলিফোন তার হস্তগত করে।

 

কুমিল্লা

চৌদ্দ গ্রাম এবং মিয়ার বাজারের সন্নিকটে

 

শত্রুরা তাদের ২ জন অফিসারকে হারিয়েছে। হরিমঙ্গলে মুক্তি বাহিনী আক্রমন চালালে একজন লেফটেন্যান্ট, একজন সেকেন্ড লেফটেন্যান্টসহ ছয়জন সৈন্য মৃত্যুবরন করে। শত্রুপক্ষএর মোট ১২ জন হতাহতের মধ্যে ৮ জন ম্রিত এবং অপর ৪ জন আহত।

 

১২ই অগাস্ট এক সফল অভিযানে মুক্তিবাহিনী ১২জন শত্রুসৈন্যকে হত্যা এবং ৫ জনকে আহত হয়। কটক বাজারে মুক্তিবাহিনী ১০ (দশ) জন সৈন্যকে হত্যা করে, অপর দুই জন আহত হয়।

 

বক্স নগর হতে ১২ই অগাস্ট ২ জন রাজারকারকে গ্রেফতার করা হয়। ১৫ ই অগাস্ট আখাউড়ার কাছে এক গোরস্থানে গুপ্ত হামলায় ৪ জন শত্র্য সৈন্য মারা যায় এবং অপর দুই জন আহত হয়।

 

 

সিলেট (দক্ষিন), ব্রাহ্মনবাড়িয়া, ময়মনসিংহ এবং ঢাকার কিয়দংশ

 

মুক্তিবাহিনীর কমান্ডোরা নিম্নবর্নিতসহযোগীদের নিশ্চিহ্ন করেনঃ

 

১) মাস্টার আহমেদ আল খান, গ্রামঃ বাঘার হাট, থানাঃ কাপাসিয়া, ৫ ই জুলাই ময়মনসিংহ

২) আব্দুল বাতেন এবং আব্দুল মান্নান, গ্রামঃ ওজলি, থানাঃ কাপাসিয়া, ১০ ই অগাস্ট, ময়মনসিংহ

৩) আব্দুল ওয়াহিদ, গফরগা, ময়মনসিংহ

৪) চান্দ মিয়া এবং সৈয়দ আলি নামের রাজাকার দ্বয়, গ্রামঃ কারিহাটা, থানাঃ কাপাসিয়া, ৪ ঠা অগাস্ট, ময়মনসিংহ

৫) আব্দুর রাজ্জাক এবইং লোকমানুর রহমান, তারাগাও গ্রামে, থানাঃ কাপাসিয়া, তারা পর্যায় ক্রমে রুপগঞ্জ গ্রাম, ঢাকা এবং পাবনা জেলার স্থানীয় ছিল।

৬) মোহাম্মদ হাফিজুদ্দিন এবং আব্দুল আলি (রাজাকারদ্বয়), গ্রামঃ তারাগাও, থানাঃ কাপাসিয়া, ২৩ জুলাই

৭) মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, পিতাঃ সাইফুদ্দিন এবং আব্দুল হাকিম, পিতাঃ মোঃ সামিরুদ্দিন, গ্রামঃ তারাগাও, থানাঃ কাপাসিয়া, ২৫ শে জুলাই

 

 

একটি বিলম্বিত সংবাদঃ গুরুত্বপূর্ন

 

২৮ শে জুলাই দারাদারিয়া গ্রামের (থানাঃ কাপাসিয়া) গ্রামের নিকট গুপ্ত হামলার শিকার হয়ে শত্রুপক্ষের খাদ্য বহনকারী তিনটি লঞ্চ সম্পূর্নভাবে ধংস হয়ে ডুবে যায়।

 

 

প্রেস বিষয়ক এবং দলিলাদি

 

এচেলন সদর দপ্তর বাংলাদেশ বাহিনী

নংঃ ৩০১২/বি ডি এফ/ জি এস (১)

২২ শে অগাস্ট ১৯৭১

 

 

বরাবর

সাদেক খান

সেক্রেতারী, বাংলাদেশ আর্কাইভ

১৩-১ পাম এভিনিউ

কলকাতা-১৯

 

বিষয়ঃ প্রেস এবং রেডিওতে প্রকাশের জন্য পরিস্থিতি বর্ননা

 

১৮ই অগাস্ট ১৯৭১ তাং বিশিষ্ট ১৪ নং মেমো বাবদ একটি সংবাদ প্রকাশনা পাঠালাম।

 

স্বাক্ষর

 

সুলতান মাহমুদ

 

সংবাদ

সিলেট (দক্ষিন), ব্রাহ্মনবাড়িয়া

 

মুক্তিবাহিনীর কমান্ডোরা সম্প্রতি ব্রাহ্মনবাড়িয়া-কুমিল্লা, ব্রাহ্মনবাড়িয়া-আখাউড়া-কুমিল্লা র মধ্যবর্তী সকল সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। ১৮ ই অগাস্ট মুক্তিবাহিনী সুলতানপুর সড়ক সেতু (একটি বৃহৎ এবং গুরুত্বপূরন সেতু) গুড়িয়ে দেয়। এই সেতু শত্রুপক্ষের সংযোগ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছিল।

 

  • মুক্তিবাহিনী ১৮ ই অগাস্ট সিলেট জেলায় দুইটি টাওয়ার (এক লাখ ৩২ হাজারকেভি) ধংস করে
  • মুক্তিবাহিনী ভৈরব বাজারে ইসমাইল নামক এক গুরুত্বপূর্নসহযোগীকে হত্যা করে, রহ্মত আলি নামে আরেকজনকে গুরুতর আহত করা হয়।

চট্রগ্রাম

 

মুক্তি বাহিনী ১৮ ইন অগাস্ট পুরো রাঙ্গুনিয়া পুলিশ বাহিনীকে গ্রেফতার করে, যার মধ্যে ছিল ৭ জন রাজাকার এবং ৫ জন পশ্চিম পাকিস্তানী পুলিশ। সংক্ষিপ্ত বিচারের পর সবাইকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

 

  • বোয়াখালিতে মুক্তি বাহিনীর গ্রেনেড হামলায় প্রাক্তন মুসলিম লীগ MPA এবং গুরুত্বপূর্ন একসহযোগী তার বাম পা হারায়
  • মুসলিম লীগের নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর গুরুত্বপূর্নসহযোগী জনৈক মোঃ ইসমাইলকে রাউজানে হত্যা করা হয়

মুক্তিবাহিনী চট্রগ্রামের আগ্রাবাদ, জেনারেল হাসপাতাল, চিটাগং কলেজ, হোস্টেল এবং অন্যান্য এলাকায় পতাকা উত্তোলন করে। বোয়াখালি, আনোয়ারা, পাটিয়া এবং সাতকানিয়া থানা বাংলাদেশী পতাকায় পরিপূর্ন ছিল।