বিক্ষোভকালে ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ

Posted on Posted in 2

<02.80.413-414>
 

পাতাঃ ৪১৪

শিরোনামসূত্রতারিখ
বিক্ষোভকালে ছাত্রদের উপর লাটিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপদৈনিক পাকিস্থান১৮ই জানুয়ারী, ১৯৬৯

 

ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ

(বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক)

 

            ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা গতকাল শুক্রবার কলা ভবনের বটতলায় সর্বদলীয় ছাত্র সভা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করে এবং ঘনঘন কাঁদুনে গ্যাস ও লাল পানি নিক্ষেপ করে।

            ছাত্রদের ১১-দফা দাবীর ভিত্তিতে গতকাল দাবী-দিবস পালন উপলক্ষে ‘ডাকসু’ সহ-সভাপতি জনাব তোফায়েল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ ছাত্র সভা শেষে ছাত্ররা পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে মিছিল বের করেন। মিছিলটি কলাভবনের পশ্চিম দিকে প্রক্টরের অফিসের সামনের দরজা দিয়ে বের হয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরের বাস ভবনের সামনে দিয়ে পাবলিক লাইব্রেরীর দিকে এগুতে থাকলে এক দিকে রোকেয়া হলের সামনে মোতায়েন পুলিশ বাহিনী রায়ট কারের সাহায্যে লাল পানি ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। কয়েকজন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের লাঠিচার্জের ফলে কয়েকজন ছাত্র আহত হয়। তৃতীয়বর্ষ বাংলা অনার্সের ছাত্র মোশাররফ হোসেনের শরীরের অনেক স্থানে কেটে রক্ত বের হয়। তাঁকে গ্রেফতার করে, কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধে পুলিশ ট্রাকে তুলে রাখলে তিনি ব্যাথায় কাতরাতে থাকেন এবং কিছুক্ষণ পরে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

            সাড়ে বারটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত একঘন্টা কাল স্থায়ী ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কয়েক দফা কাঁদুনে গ্যাস ও দু’বার লাল পানি নিক্ষেপ করে। ছাত্ররা পুলিশের উপর ঢিল নিক্ষেপ করলে পুলিশরাও ছাত্রদের উপর পাল্টা ঢিল নিক্ষেপ করে। শেষ পর্যায়ে গ্রেফতারের সংবাদ প্রচারিত হওয়ার পর ছাত্ররা পুনরায় বটতলায় সমবেত হন। ‘ডাকসু’ সহ-সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র অঙ্গনে পুলিশী নির্যাতনের নিন্দা করেনে বং এর প্রতিবাদে আজ শনিবার সহরের সকল শিক্ষা- প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান। এরপর কিছু সংখ্যক ছাত্র হকিষ্টিক নিয়ে ভাইস-চ্যান্সেলরের বাসভবনের দিকে যাওয়ার সময় পুলশ আবার কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। গ্রেফতারকৃত ছাত্রদের সঠিক সংখ্যা জানা যায়নি। পি পি আই জানিয়েছেন প্রায় দু’ডজন ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রমনা থানার ওসি জানান যে, তিনি সঠিক সংখ্যা না জানলেও প্রায় বিশুনের মত ছাত্রকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

            গতকাল বটতলায় অনুষ্ঠিত সভায় ছাত্রদের ১২-দফা দাবী মেনে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

            সভার‍য় গৃহীত প্রস্তাবে ১৪৪ ধারা বাতিলের এবং আগামী ১লা ফেব্রুয়ারী প্রদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়।

 

এন এস এফ নেতাদের বিবৃতি

 

এন এস এফের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক জনাব মাহবুবুল হক দুলন, “ডাকসু” সাধারণ সম্পাদক ও জিন্নাহ হল এন এফ সভাপতি জনাব নাজিম কামরান চৌধুরী ও মহসীন হল ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জনাব ইব্রাহীম খলিল গতকাল শুক্রবার এক যুক্ত বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র অঙ্গনে পুলিশ বাহিনীর বেপরোয়া লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ ও সাধারণ ছাত্রদের মারধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুলিশী কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন।

            তাঁরা ছাত্রদের সংগ্রামে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা পুলিশী হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত আজকের কর্মসূচীর প্রতিও পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

 

মেডিকেল কলেজে

 

            দাবী দিবস পালন উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ছাত্ররা কালো পতাকা উত্তোলন এবং কালো ব্যাজ ধারণ করেন। ছাত্ররা তাঁদের দাবী-দাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপিও প্রিন্সিপালের নিকট অর্পন করেন। মেডিক্যাল ছাত্ররা পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বটতলায় সভা্য যোগ দেন।

 

সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজে প্রতীক ধর্মঘট

 

            গতকাল শুক্রবার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কএজের ইন্টার্র্নি ডাক্তাররা তাঁদের উন্নততর মর্যাদা ও দাবীর ভিত্তিতে প্রতীক ধর্মঘট পালন করেন। তারা ডাঃ সাব্বির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় মিলিত হয়ে স্বায়ত্তশাসিত স্বাস্থ্য সার্ভিস ও ইন্টার্নীস ডাক্তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধির দাবী জানান।

 

            পাকিস্থান জমিয়াতে তোলাবায়ের আরাবীয়ার সাধারণ সম্পাদক জনাব এস এম ইদ্রিস গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে শান্তিপূর্ণ ছাত্র জনতার উপর পুলিশী জুলুম ও বেআইনী গ্রেফতারের নিন্দা করেছেন। তিনি গ্রেফতারকৃতদের মুক্তিও দাবী করেছেন।

            ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের উপর পুলিশী নির্যাতনের নিন্দা করে পাকিস্থান ছাত্র শক্তির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জনাব শফিকুর রহমান একটি বিবৃতি দিয়েছেন