বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রশ্নে সরকারী গোপন প্রতিবেদন

Posted on Posted in 2

<2.013.072-76>

২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬১ তারিখের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন

প্রথম ভাগ

রাজনৈতিক

১) ঢাকায় সফরকালে রাষ্ট্রপতি গভর্নর হাউজে দু’দল নাগরিকের সাথে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন

২) এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে শহীদ দিবস উদযাপন ছিল আরো দ্বিধাহীন। শহীদ দিবসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মিছিলটি ছিল প্রায় এক মাইল লম্বা। কয়েকটি বিবরণী থেকে উদ্ধৃত করা হলো:

“এবারে মূল বিষয়বস্তু ছিল পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে আরো ইতিবাচকভাবে তুলে ধরার ব্যাপারে জনতার দাবির প্রতি প্রত্যক্ষ সমর্থন এবং রোমান লিপি চালু করার প্রস্তাবনার সরাসরি প্রত্যাখ্যান।”

“দাবিসমূহের মধ্যে একটি ছিল সরকার যাতে স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি সমাপ্ত করে। এতে ব্যর্থতা লজ্জ্বাজনক এবং জাতিগত ব্যর্থতার চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও দাবিতে উল্লেখ করা হয়।”

“জাতীয় ঐক্য ও সংযুক্তির ধুয়া তুলে বাংলার নামে নতুন ভাষা তৈরি বা রোমান লিপি চালু করার প্রচেষ্টাকে আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ হিসেবে অভিহিত হয়েছে।”

রোমান লিপি চালুর প্রস্তাবনায় জনগণের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ভাষা সম্পর্কিত সকল প্রশ্নে স্থানীয়দের সংবেদনশীল অনুভূতির পরিপ্রেক্ষিতে, এ ব্যাপারটি আরো পরীক্ষানিরীক্ষার অবকাশ রাখে, এবং বাংলা একাডেমিতে অনুসন্ধানের জন্য এটি একটি বিষয় হতে পারে। এ ব্যাপারে আলোচনাসমূহ একাডেমিক পর্যায়ে নিতে হবে। যেসব পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে এ প্রস্তাবটি নিরীক্ষা করে কার্যকর একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য একটি কমিটি গঠন, সংবাদ মাধ্যমে রোমান লিপি চালু করার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনাকে উৎসাহিত করা, শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই রোমান লিপির সাথে পরিচিত এ ব্যাপারটির ওপর জোর দেয়া। ইংরেজি ভাষার আন্তর্জাতিক গুরুত্বের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষায়, উদাহরণস্বরুপ দ্বিতীয় শ্রেণীতে, ইংরেজির সাথে বাচ্চাদের পরিচিত করা একটি ধাপ হিসেবে হয়তো বিবেচনা করা যেতে পারে, যাতে করে যেসব শিশুরা প্রাথমিক শিক্ষার বেশি অর্জন করবে না তারা যাতে রোমান লিপির ওপর কাজ চালানোর মতো জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং পরবর্তীতে রোমান লিপি চালু হলে যাতে তাদের নতুন করে সেটি শিখতে না হয়।

৩) জনগণের মনে উচ্চ দ্রব্যমূল্য এবং প্রশাসনের কার্যকর বিকেন্দ্রীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জনগনের মতামত অনেকটা এরকম যে দুটো প্রশ্নেই সরকারের আরো বেশি মনোযোগ দেয়া দরকার। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেয়া এবং বিকেন্দ্রীকরণের জন্য প্রশাসনিক কমিশনের সুপারিশসমূহ যাতে সর্বতোভাবে প্রয়োগ করা হয় সেটা নিশ্চিত করা – এ দু’টি ব্যাপারে সমর্থন রয়েছে।

৪) সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ঠেকাতে অক্ষমতার জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করেছে সংবাদমাধ্যম । অনেক সংবাদ প্রতিবেদন এবং সম্পাদকীয় মতামতের আবেগী ভঙ্গি বেশ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে শরণার্থী জনগোষ্ঠীর মধ্যে। ফলাফলস্বরূপ যশোর, খুলনা, রাজশাহী এবং রংপুরে কিছু ঘটনা ঘটেছে। সংবাদমাধ্যমে ঘটনাগুলোকে খুব বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় নি এবং অবস্থা খুব দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।

এ ঘটনার সাথে করাচি থেকে প্রকাশিত জং এবং ডন ইত্যাদি  পত্রিকার সম্পর্ক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

৫) ভবিষ্যতে সংবিধান কীরূপ হবে সে ব্যাপারে জল্পনা কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। এটা মোটামুটি মেনে নেয়া হয়েছে যে ভবিষ্যৎ সংবিধান হবে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রিক। যে সব ব্যাপারে এখনো আলোচনা চলছে সেগুলো হলো:

  1. i) ইউনিয়ন কাউন্সিলগুলো ইলেকটোরাল কলেজ গঠন করবে কি না
  2. ii) সাধারণ নির্বাচন কীরকম হবে

iii) নির্বাচিত সদস্যরা কীরূপ ভূমিকা পালন করবেন

iv)প্রাদেশিক সরকারের গঠনপ্রণালী এবং প্রাদেশিক উপদেষ্টা সংস্থাসমূহের ভবিষ্যৎ

এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হবে — এ মর্মে শিক্ষামন্ত্রী জনাব হাবিবুর রহমানের নয়াদিল্লীতে দেয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব জাকির হুসাইন এ বছরে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেটিতে প্রকাশ, সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার জন্য বেঁধে দেয়া সময়টুকু সংবিধান প্রণয়নের জন্য খুব বেশি কম হয়ে যায় কি না এ মর্মে রাষ্ট্রপতিকে মন্তব্য করতে চাপ দেয়া হলে তিনি বলেছেন, “আমরা তৈরি হলে [নির্বাচন] হবে, নয়তো আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।”

৬) কঙ্গোতে গৃহযুদ্ধ প্রতিরোধ এবং সংসদীয় সরকারকে পুনর্স্থাপনে জাতিসংঘের সৈন্যদলকে অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষমতা প্রদান করা হবে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের  এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সর্বসাধারণের মতামত, এ সিদ্ধান্ত আরো আগেই নেয়া হলে পরিস্থিতির অবনতি হতো না।

৭) কাশ্মীরকে ভারতের অংশ হিসেবে মেনে নিতে চীনের অস্বীকারজ্ঞাপনকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এ অমীমাংসিত সমস্যায় এটি নতুন করে গুরুত্বারোপ করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে এ ঘটনাটি বিরাট একটি ধাক্কা হয়ে এসেছে।

দ্বিতীয় ভাগ

অর্থনৈতিক

১) বাজার বিনিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়ার পরবর্তীতে মূল্যের উর্ধ্বগতি নিয়ে এখনও মতামত প্রদান চলছে। পাকিস্তান অবজারভার লিখেছে, “যেমনটা আশা করা হয়েছিল, নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়ার পর দ্রব্যমূল্যের দাম বেড়ে যাবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যেমন ধারণা করা হচ্ছে, ভোক্তাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে। বর্তমানের উর্ধ্বগতি হয়তো ক্ষণস্থায়ী হবে না, কারণ একই রকম নিশ্চয়তা অনেকবারই দেয়া হয়েছিল কিন্তু কখনো সে কথার দাম দেয়া হয় নি এবং সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ঈদের কেনাকাটা শীঘ্রই শুরু হবে; এই সময়ে দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেয়া এবং পরবর্তীতে দ্রব্যমূল্যের ওপর প্রতিক্রিয়া বেশ ভাবনার উদ্রেক করে।  বাজারের বর্তমান অবস্থার সঠিক হিসাব নেয়া হয় নি, সিদ্ধান্তটিও সঠিক সময়ে নেয়া হয়নি।” মর্নিং নিউজ লিখেছে, “মাছ-মাংস-শাকসবজি এবং ফলমূলের দাম অনেক বেড়ে গেছে, যা সর্বকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি – বাজারকে কোন বিশেষ মহল নিজেদের স্বার্থে পরিচালিত করছে এমন ধারণা অনিবার্য।” ইত্তেফাক সাম্প্রতিক বিনিয়ন্ত্রণের, যার ফলে দ্রব্যমূল্যের দাম বর্তমানে বেড়ে গেছে বলে ইত্তেফাকের মতামত, সেটির সিদ্ধান্তের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আজাদীর বিবেচনায়, সকল ভোগ্যপণ্যের দামের বৃদ্ধি বিনিয়ন্ত্রিত দ্রব্যের দাম বেড়ে যাবারই ফল।

সি আই শীট, আয়রন রড ইত্যাদি আমদানি পণ্যের দাম বাড়ানোর যথেষ্ট সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে যে, এ ধরনের দ্রব্য আমদানির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে “সাশ্রয়ী মূল্যের” কথা বলাটা নিরর্থক। এর ফলে শুধু লাইসেন্সভাগ্যসম্পন্ন আমদানিকারকদেরই লাভ বাড়ে, সরকার বা ভোক্তাদের কোন সুবিধা হয় না। সর্বসাধারণের মত এই যে, অসন্তোষজনক শিল্পসম্প্রসারণ ও অসন্তোষজনক চাহিদার এরকম অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের বিনিয়ন্ত্রিকরণের সিদ্ধান্ত ভুল সময়েই নেয়া হয়েছে। পোশাক ইত্যাদির দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সাথে তাল মিলিয়ে মাছ, ডিম, মুরগি, মাংস, শাকসবজি ইত্যাদির বিক্রেতারাও পণ্যমূল্য বৃদ্ধি করেছে।

২) অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফিন্যান্স করপোরেশন এবং অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তানকে অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক অব পাকিস্তান দিয়ে প্রতিস্থাপন করাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে যে এর ফলে উপরি ব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়বে এবং প্রশাসনিক ব্যয় কমবে। মনে করা হয় যে কোম্পানির উপস্থিতির কারণে অভাবগ্রস্ত চাষীদের ব্যাঙ্ক থেকে লোন পাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কৃষি উন্নয়ন ব্যাঙ্কের পক্ষে অনুসন্ধান করে স্বল্পকালীন ঋণ দেয়ার কোন উপায় বের করা সম্ভব হতে পারে বিভিন্ন ভূমিখণ্ডের বর্তমান মালিকানার ভিত্তিতে, এমনকি যৌথ মালিকানায় ভূমির দলিল থাকলেও।

প্রতিবেদনে এও জানা গেছে যে ঋণ নেয়ার বর্তমান ব্যবস্থায় গ্রামীণ এলাকায় সুদের অত্যধিক হারের সমস্যা সমাধান হয় নি। সুদ ব্যবসার রীতি এবং সুদের বর্তমান হারের ওপর অনুসন্ধান এখনো করা হয় নি। গ্রামীণ অঞ্চলে দায়গ্রস্ততার বিস্তার কৃষিশুমারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কিন্তু সুদের হার নিয়ে অনুসন্ধান করা হয় নি।

৩) সমবায় কৃষির ব্যাপারে রাষ্ট্রপতির উল্লেখ সংবাদমাধ্যমে এসেছে। স্থানীয় অবস্থার দিকে বিশেষ নজর রেখে এ প্রসঙ্গে দেশের দুটো পক্ষেই নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। যেহেতু বিস্তারিত কিছুই এখনও আসে নি, তাই নির্দিষ্ট কোন মত এ ক্ষেত্রে এখনও পাওয়া যায় নি।

তৃতীয় ভাগ

প্রশাসনিক

১) ১৫-২-১৯৬১ তারিখে শৈতনলে(Shaitnal) লঞ্চ দুর্ঘটনার খবর সংবাদমাধ্যমে বড় করে এসেছে।

 

সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে অনুসন্ধান, ভুক্তভোগী পরিবারদের ক্ষতিপূরণ, সংঘর্ষের পর ডুবন্ত লঞ্চটির সাহায্যে এগিয়ে না এসে পালিয়ে যাওয়া লঞ্চের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া, পূর্ব পাকিস্তানের নদীপথে যান চলাচলের ওপর আরো কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ স্থাপন এবং ভবিষ্যতে এ ধরণের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনুভূতি এ উক্তিটিতে ফুটে উঠেছে, “বর্তমানের প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায়, পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল দিনকে দিন জীবন নিয়ে জুয়াখেলা হয়ে উঠেছে, মৃত্যুকে হাতে নিয়ে চলতে গিয়ে জনগণকে অনেক বেশিই মূল্য দিতে হচ্ছে।” IWTA এর এখনো এ অবস্থা নিরাময়ের কোন ক্ষমতা নেই, কারণ নৌযানের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদান, নাবিকদের লাইসেন্স প্রদান, রুট এবং যাত্রীবহন ক্ষমতা ইত্যাদি  নির্ধারণ সরকারের এখতিয়ারে। এমন প্রস্তাবনা করা হয়েছে যে, সময়সূচী এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা পালন বাধ্যতামূলক করার জন্য দরকারী আইনি ক্ষমতা থাকা উচিৎ একটিমাত্র এজেন্সির হাতে। আরও লঞ্চ প্রয়োজন, যার জন্য যাত্রীচলাচলের পরিমাণ মুল্যায়ন করা উচিৎ।

চতুর্থ ভাগ

ব্যুরোর কাজের মূল্যায়ন

১) পূর্ব পাকিস্তানে চারুকলার উন্নয়নের এবং এর আংশিক বাস্তবায়ন চলতি অর্থবছরে সম্পন্ন করার বিস্তারিত পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে এবং অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ পরিকল্পনাতে তিনটি অংশ রয়েছে, ক) নৃত্য, কন্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত, নাট্যকলার জন্য চারটি বিভাগসম্পন্ন চারুকলা একাডেমী গঠন, খ) জাতীয় নাট্যমঞ্চ গঠন এবং গ) আর্ট কাউন্সিল পুনর্গঠন এবং চারুকলার উন্নয়ন। এর সাথে সংযোগ রেখে আমরা আর্ট গ্যালারির ওপর আরেকটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করছি যেটি উক্ত প্রদেশে চারুকলার উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার অংশ হবে।

২) যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৩ মার্চ পাকিস্তান দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকল জেলার ডেপুটি কমিশনারদেরকে স্থানীয় প্রতিভাবান শিল্পী ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সহায়তায় নিজ নিজ জেলা সদরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে অনুরোধ করা হয়েছে। ঢাকা নগরে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি ও জাগো আর্ট সেন্টারকে এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।

৩) “বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে ইতিবাচক উপায়ে জাতীয় বিষয়াবলীতে আগ্রহ জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে”, আমরা প্রদেশের অন্তত ৮৮ টি ভিন্ন ভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনকে জাতীয় পুনর্গঠন এবং চারিত্রিক আদর্শের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয়ের ওপর সেমিনার আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছি, “যাতে করে হতাশার পরিবর্তে তাঁদের মধ্যে জাতীয় উন্নয়ন উদ্যোগে একাত্মতা এবং অবদান রাখার বোধ জাগ্রত হয়”। এসব সেমিনার আয়োজনের ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যে এসব প্রতিষ্ঠানে আমরা অর্থও প্রেরণ করেছি।

আমরা এসব প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত সম্মেলনগুলোর কার্যবিবরণী পাচ্ছি। ২৬-২-১৯৬১ তারিখে ঢাকাস্থ ইসলামিক একাডেমি কার্জন হলে “আধুনিক বিশ্বে ইসলামিক জীবনপন্থা” বিষয়ে একটি সম্মেলনগুলোর আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং শিক্ষকবৃন্দ যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং আরবি বিভাগের একজন প্রভাষক অনুষ্ঠানে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ পাঠ করেন। দিনাজপুরে নওরোজ সাহিত্য মজলিসের পৃষ্ঠপোষকতায় “ইসলামী সংস্কৃতির মর্মার্থ” শিরোনামে ১৪-২-১৯৬১ তারিখে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং শিক্ষাবিদগণ অংশগ্রহণ করেন। ঢাকাস্থ APWA ২৪-২-১৯৬১ তারিখে “জাতীয় পুনর্গঠনে নারীর ভূমিকা” শিরোনামে সেমিনার আয়োজন করে। নগরীর নেতৃস্থানীয় ভদ্রমহোদয়াগণ এতে অংশগ্রহণ করেন। অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ও সংস্থায় অনুরূপ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছে এবং হচ্ছে।

৪) আন্তর্জাতিক প্রেস ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে লাহোরে ফেব্রুয়ারি ২৬ থেকে মার্চ ৪, ১৯৬১ ব্যাপী আয়োজিত সেমিনারে যোগদানের উদ্দেশ্যে পূর্ব পাকিস্তানের ছয়জন সাংবাদিক পশ্চিম পাকিস্তানে গিয়েছেন।

৫) কুমিল্লায় অবস্থিত পাকিস্তান গ্রাম উন্নয়ন একাডেমিতে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণদানের সাথে সমন্বয় রেখে পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদ বিষয়ে একগুচ্ছ প্রবন্ধ প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আমাদের নির্বাচিত লেখকদের মধ্য থেকে করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত একজনের কাছ থেকে উক্ত বিষয়ে কয়েকটি প্রবন্ধের একটি সেট আমরা পেয়েছি।

৬) আমাদের জাতির মহানায়কদের ওপর নাটক রচনার উদ্দেশ্যে, “পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ”, “বিবি আজিজান”, “আলাউদ্দিন হুসেইন শাহ”, “জাতীয় পুনর্গঠন এবং চারিত্রিক আদর্শের লক্ষ্যে পরিবর্তনশীল আধুনিক সমাজ” ইত্যাদি বিষয়বস্তুর ওপর লেখালেখি করার জন্য প্রদেশের চারজন বিশিষ্ট লেখককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

৭) দেশের দু’প্রান্তের লোকজনের মধ্যে উন্নততর মতৈক্য গঠনের লক্ষ্যে আমরা চিহ্নিত বেশ কিছু বাংলা বই উর্দুতে ভাষান্তর ও প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। এর সূত্র ধরে বাছাইকৃত বইগুলো হচ্ছে, ক) নজরুল ইসলাম রচিত ইসলামী সংগীত এবং কবিতা (প্রায় ৩০ টি), খ) জনাব মাহবুবুল আলম রচিত “মোমেনের জবানবন্দি”, ৩) জনাব আবুল ফজল রচিত “মাটির পৃথিবী”।