বিশ্বের বিদ্যোৎসাহী সমাজের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য সাহায্য প্রাত্থনা করে বাংলাদেশের শিক্ষক সমিতির আবেদন

Posted on Posted in 4

<৪,২১৬,৪৭৪>

অনুবাদকঃ আইনুল ইসলাম বিশাল

শিরোনামসূত্রতারিখ
২১৬। বিশ্বের বিদ্যোৎসাহী সমাজের কাছে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য সাহায্য প্রাত্থনা করে বাংলাদেশের শিক্ষক সমিতির আবেদনবাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি

 

১লা জুলাই,১৯৭১

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি

(বাংলাদেশ শিক্ষকদের সমিতি)

দারভাঙ্গা ভবন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা-২, ইন্ডিয়া

প্রিয় বন্ধু,                                                 ১লা জুলাই,১৯৭১

আপনি সম্ভবত পূর্ব পাকিস্তান বর্তমান বাংলাদেশের জনগনের উপর পাকিস্তান আর্মির নজিরবিহীন বর্বরতা সম্পর্কে অবগত আছেন। সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ভারতে পার হয়েছে। শিক্ষক সম্প্রদায় গত দুই দশক ধরে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং একটি মাত্র সামাজিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্ব পূর্ন ভূমিকা রেখে আসছে, এই জন্য এর সদস্যগন স্বাভাবিকভাবেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিশেষ লক্ষ্য বস্তু হয়েছে।অনেক শিক্ষক নিহিত হয়েছে, যারা দখলকৃত জায়গার মধ্যে আটকা পড়ে আছে তারা হয়রানি এবং অত্যাচারিত হচ্ছে, কিছু সংখ্যক বন্ধুকের মুখে পাকিস্তান আর্মির কর্মকান্ডকে সমর্থন করে বিবৃতি দিতে বাধ্য হচ্ছে।ফলস্বরূপ, এই হয়রানির শিকার সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতিদিন ভারতে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ থেকে শিক্ষকরা ভারতে এখন অস্থায়ী নির্বাসিত, তারা নিজেদের একটি সমিতি গঠন করেছে যাদের পক্ষে আমরা আজ আপনার নিকট লিখছি।

প্রায় ১০০ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক,১০০০ কলেজ শিক্ষক এবং ৩০০০ স্কুল শিক্ষক আমাদের সঙ্গে তাদের নাম নিবন্ধন করেছে।ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্য গুলোতে আরো কয়েক হাজার এসোসিয়েশনের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি।অধিকাংশ শিক্ষক তাদের পরিবার নিয়ে এসেছে এবং প্রত্যেকে প্রত্যেককে নিঃস্বার্থভাবে সাহায্যে করছে।

এই সম্প্রদায় অতীতে সমাজের জন্য অবদান রেখেছে এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের পর সমাজের পুনর্গঠনে সম্ভাব্য ভূমিকার বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা সম্ভাব্য পরিনতি থেকে তাদের রক্ষায় সব প্রচেষ্টা বিবেচনায় রেখেছি।শরনার্থী শিবির গুলোতে শিক্ষকদের অস্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক পেশা-গবেষনা, প্রকাশনা এবং উদ্বাস্তু শিশুদের শিক্ষার জন্য আমরা কিছু পরিকল্পনা গ্রহন করতে সক্ষম হয়েছি। এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বেসরকারি উৎস থেকে আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন হবে এছাড়াও একটি অবস্থান তৈরিতে ভারত সরকারের ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতার প্রয়োজন হতে পারে।

বিশ্ব থেকে আমাদের এসোসিয়েশনের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য প্রতিষ্ঠানের কম্যুনিটির সদস্যেদের পক্ষ থেকে আমরা আপনার কাছে আবেদন করছি।সহযোগিতা বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির নিকট পাঠানো যাবে। দারভাঙ্গা ভবন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কলকাতা-২, ইন্ডিয়া

আপনার স্নেহভাজন

(ড.এ.আর. মল্লিক)

ভাইস চ্যান্সেলর।

চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

এবং

সভাপতি।

 বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি