বিশ্ব বিবেক ও বাংলাদেশ

Posted on Posted in 5
বিশ্ববিবেক ও বাংলাদেশ

১১ নভেম্বর, ১৯৭১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এখন পৃথিবীর সজাগ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বিশ্বের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে আলোড়নকারী ঘটনা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। পৃথিবীর প্রতি অঞ্চলের মানুষের চোখ বাংলাদেশের ওপর- সেখানে কি ঘটছে, কি চলছে সেখানে। কিন্তু জল্লাদ ইয়াহিয়ার মিথ্যা প্রচারণার কুয়াশা ভেদ করে বাংলাদেশের ঘটনাবালী সঠিক চিত্র কি সব সময় তাদের চোখে ধরা পড়ছে? তারা কি দেখতে পাচ্ছেন বাংলাদেশের বর্তমান রূপ, তার ক্ষতবিক্ষত, রক্তাক্ত চেহারা? বাংলাদেশ এখন আক্রান্ত। হানাদার বর্বর দস্যুরা তার বুকের ওপর সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে চলেছে। সেখানে সত্য নেই, ন্যায় নেই- মানুষের মুল্যবোধ মৃত, সেখানে এখন প্রচলিত মিথ্যা, উন্মাদ লালসা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সেখানে কেবল-

জীবনের সারকথা পিশাচের উপজীব্য হওয়া

নির্বিচারে নির্ববাদে সওয়া

শবের সংসর্গ আর শিবার সদভাব;

বর্তমান আক্রান্ত বাংলাদেশকে যদি আপনার জানতে চান, যদি তার পূর্ণাঙ্গ ছবি মানসচক্ষে অবলোকন করতে চান, তাহলে পিশাচের উপজীব্য জীবনকেই সেখানে খুঁজতে হবে। কারণ পাশবিকতাই এখন সেখানকার মৌলনীতি। কিন্তু এইসব নয়। এই রক্তাক্ত, নিপীড়িত বাংলাদেশের মাটি থেকেই লক্ষ লক্ষ মৃত মানুষের কংকাল থেকেই বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশের জাগ্রত তারুণ্য। তারা যুদ্ধ করছে মিথ্যার বিরুদ্ধে, পাশবিকতার বিরুদ্ধে অবিরাম যুদ্ধ করছে- আর তার নামই বাংলাদেশ। তাই আমরা হতাশ হইনে, হতাশ হবো না।

বিশ্বের বিবেকমান মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন আছে আমাদের এই সংগ্রামে, অস্তিত্ব রক্ষার এই যুদ্ধে। বিশ্বের এমন কোনো দেশ নেই, যে দেশের একটি মানব হৃদয়ও ব্যথিত হয়নি বাংলাদেশের মর্মান্তিক ঘটনাবলীতে। সব অঞ্চলের সব দেশের বিবেকমান মানুষের মন এই ঘৃণ্য বর্বরতায় বিষায়িত হয়েছে, প্রতিবাদ কল্যাণ ও সত্য প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধও তারই অন্তর্ভুক্ত। …

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এখন চূড়ান্ত বিজয়ের পথে। যতই দিন যাচ্ছে, নৈতিকতাহীন, বর্বর হানাদার সেনাবাহিনীর মনোবল ও শক্তি ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে। দেশ-বিদেশের সংবাদপত্রে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিজয় ও সাফল্যের সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে প্রতিদিন। বিশ্বের সব প্রভাবশালী পত্রপত্রিকা মুক্তিযোদ্ধাদের সাফল্যের কথা স্বীকার করেছেন। নিউজউইক’ ও অন্যান্য পত্রপত্রিকায় মুক্তিবাহিনীর অগ্রগতি ও পাকিস্তানী হানাদার খান সেনাদের চরম নাজেহাল হওয়ার বিবরণ প্রকাশিত হয়েছে। বিদেশী সাংবাদিক ও সংবাদ ভাষ্যকারদের মতে, হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী আর দীর্ঘদিন এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে বাংলাদেশে তাদের প্রভূত্ব বজায় রাখতে পারবে না, তাদের মৃত্যু আসন্ন ও অবশ্যম্ভাবী।

এর পরেও মধ্যযুগীয় বর্বরতার নায়ক জল্লাদ ইয়াহিয়া তার মিথ্যা অপপ্রচারের দ্বারা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, কারণ তার খোয়াব ভাঙতে এখনো কিছু বিলম্ব। কিন্তু ইয়াহিয়া, তোমার খোয়াব যেদিন ভাঙবে, সেদিন দেখবে কি নিষ্ঠুর ভয়ঙ্কর বাস্তব তোমার সম্মুখে।

দস্যু ইয়াহিয়া বাংলাদেশে পুতুল সরকার খাড়া করে বিশ্বকে ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করে আসছে। সম্প্রতি একজন বিদেশী সাংবাদিক ঢাকা ঘুরে এসে তার বাংলাদেশ পরিভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পুতুল মন্ত্রিসভার যে ঠাঁট ইয়াহিয়া দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন, বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। মন্ত্রী সাহেবরা থাকেন মিলিটারি ক্যান্টনমেন্টে। হাজার চেষ্টা করেও তাদের সাক্ষাৎ মেলেনি। আর বাংলাদেশের মালেক মন্ত্রিসভার কোনো আছে অস্তিত্ব বলেও মনে হয় না। এইসব মন্ত্রীদের জনসাধারণ কেউ চেনে না। বরং সেখানকার প্রকৃত অবস্থা অন্যরূপ। মৃত্যু, নির্যাতন সবকিছু উপেক্ষা করে ঢাকার হওয়ার জোগাড়।

সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের প্রবল চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র সরকার পাকিস্তানে সামরিক সাজসরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারী ঘোষণায় এই তথ্য জানা গেছে। এদিকে চীনে গিয়ে মি. ভুট্টো বড়ো বেশি কন্ধে পাননি। বরং চীনা অস্থায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী চিং পেং ফেই বাংলাদেশ সমস্যার যুক্তসঙ্গত সমাধানের প্রতিই পাকিস্তানকে সচেষ্ট হতে বলেছেন। ফরাসী সরকার বাংলাদেশ সমস্যার প্রতি অধিক মনোযোগী হয়েছেন এবং এর গুরুত্ব স্বীকার করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সাম্প্রতিক ফ্রান্স সফরকালে ফরাসী সরকারের পক্ষ থেকে এই মতামত প্রকাশ করা হয়। পশ্চিম জার্মানীর চ্যালেন্সর উইলি ব্রান্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। পশ্চিম সরকারের এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ঘটনাবলীতে পশ্চিম জার্মান সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

কিন্তু এখনো বাংলাদেশের মানুষ মরছে, গৃহ অগ্নিদগ্ধ হচ্ছে। এখনো দলে দলে মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছে। বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের জীবনে এখনো অন্ধকার রাত্রির শেষ হয়নি। তারা সকল চোখে অসহায় দুটি হাতে তুলে তাকিয়ে আছে সত্য ও ন্যায়ের অমোঘ দণ্ড করে নেমে আসবে, কবে, কবে। কবে শেষ হবে এই কালরাত্রির কুটিল অন্ধকার? শেষ এর হবেই। এতো রক্ত, এতো মায়ের চোখের জল, বুকফাটা কান্না, সকরুণ প্রার্থনার বাণী ব্যর্থ হতে পারে না :

বীরের এ রক্তস্রোত

মাতার ও আশ্রমধারা

এর যতো মূল্য সেকি ধরার ধূলায় হবে হারা?

স্বর্গ কি হবে না কেনা

বিশ্বের ভাণ্ডারী শুধিবে না

এত ঋণ?

রাত্রির তপস্যা সেকি আনিবে না দিন

নিদারুণ দুঃখ রাতে

মৃত্যুঘাতে

মানুষ চুর্নিল যাবে নিজ মর্ত্যসীমা

তখনও দেবে না দেখা

দেবতার অমর মহিমা?

(মহাদেব সাহা রচিত)

৩০ নভেম্বর, ১৯৭১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এখন চরম বিজয়ের লক্ষ্যপথে অগ্রসর হচ্ছে। যতই দিন যাচ্ছে, অমিতবিক্রম মুক্তিযোদ্ধাদের শক্তিও ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমশই তারা সংগঠিত হচ্ছে, শক্তিশালী হচ্ছেন, দুর্বার দুর্জয় হচ্ছেন। আর অন্যদিকে সেই সঙ্গে যতই দিন যাচ্ছে হানাদার পাকিস্তান বাহিনী ততই দুর্বল হচ্ছে, মনোবল ও নৈতিক সাহস হারাচ্ছে। এর কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের তারুণ্য ও নৈতিক মনোবল হানাদার দস্যুদের নেই। তারা পাশবশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে একটি নবজাগ্রত জাতির স্বাধীনতার আকাংক্ষাকে পদদলিত করে নিজেদের ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম রাখতে। আর সেই শাসন কায়েম রাখতে গিয়ে তারা নির্বিচারে নরহত্যা, লুণ্ঠন ও নারী ধর্ষণের পাশবিকতার পথ অনুসরণ করেছে। নীতিবোধ, মনুষ্যত্ব, মানবিক ন্যায়বিচার সবকিছু জলাঞ্জলী দিয়ে তারা দস্যু ও তস্করের নির্লজ্জ বর্বরতার ভূমিকায় নেমেছে- যেখানে তারা বন্যপশুর মতোই আদিম, হিংস্র ও নৃশংস। তাদের কাছের ন্যায়নীতি, সুবিচার, যুক্তি কিংবা মনুষ্যত্বের কোনো মূল্য নেই। নিষ্ঠুরতায় তারা বন্যজন্তুর মতোই অন্ধ, বর্বরতার তারা মধ্যযুগীয় হার্মাদ দস্যদের মতোই হিংস্র ভয়ংকর।

বিপরীত দিকে বাংলাদেশের তরুণ যারা যুদ্ধ করছেন, তাদের সংগ্রাম নিজেদের মাতৃভূমির শৃঙ্খল মোচনের সংগ্রাম, মায়ের লজ্জা, বোনের অপমান, পিতার অমর্যাদার প্রতিশোধ গ্রহণের সংগ্রাম। তাদের রক্তে মায়ের বোনের ভায়ের রক্তের প্রতিজ্ঞা জড়িত। তাই আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঐ হানাদার বর্বর দস্যুরা বন্দী পশুর মতোই অসহায়, দুর্বল। তাই বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিজয়-পতাকা। বাংলাদেশে উড়ছে স্বাধীনতার বিজয়-পতাকা, সেই সঙ্গে বিশ্বমানবতার মনের ভূগোলে অর্জিত হচ্ছে তাদেও জন্যে সমর্থন ও শুভেচ্ছার রক্তকুসুম। পৃথিবীর দিকে দিকে উড়ছে তারই উজ্জ্বল মানবিক পতাকা। তাই ওদেও যেখানে শেষ; আমাদের সেখানে শুরু।

বিখ্যাত মার্কিন সাপ্তাহিক নিউজউইক’ লিখেছেন, সামরিক ও রাজাকার বাহিনীর ক্রমাগত অত্যাচার বাংলাদেশের মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার করতে পারিনি। বরং অত্যাচার যতই বাড়ছে, বাংলাদেশের জাগ্রত জনতার মনে প্রতিশোধের স্পৃহা ততই প্রবল হচ্ছে। ঐ সাপ্তাহিকের বিশেষ প্রতিনিধি সিনিয়র সম্পাদক আর নো দ্যা বোরচাগ্রাফ বলেছেন, বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ওপর এখন মুক্তিবাহিনীর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। সারা বাংলাদেশের মানুষ আজ প্রতিশোধ চায়। শিকাগো নান টাইমসের সহযোগী সম্পাদক মি. রবার্ট ই, কেনেডি বলেছেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন নীতি তার কাছে হতবুদ্ধিকর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট সমস্যাটির প্রতি যথেষ্ট মনোযোগী নন বলেও তিনি কঠোর সমালোচনা করেছেন। মি. কেনেডি স্বীকার করেছেন যে মুক্তিবাহিনীর সাফল্য আসন্ন এবং তারা স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মোৎসর্গ করেছেন। বিখ্যাত মার্কিন দৈনিক ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক সম্পাদকীয় নিবন্ধেও বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন নীতির কঠোর সমালোচনা করা হয়। মার্কিন সাপ্তাহিক টাইমস এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী গান্ধীর সাম্প্রতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের একটি দীর্ঘ বিবরণী প্রকাশ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে- পাকিস্তান একটি ডুবন্ত কুকুর। তার মাথা জলের নিচে ঠেসে ধরার কোনো প্রয়োজন নেই ভারতের।

মস্কোর প্রভাবশালী রাজনৈতিক সাপ্তাহিক নিউ টাইমস’-এ বিশিষ্ট সোভিয়েট লেখক মি. উলানুকী এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, পাকিস্তানের নিষ্ঠুর নিষ্পেষণই স্বাধীন বাংলাদেশের দাবীর জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাস পর্যালোচনা করে মি. উলানুকী বলেছেন, পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অত্যাচারের প্রেক্ষিতেই বাঙালীরা অস্ত্ৰধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। বৃটেনের উদারনৈতিক দৈনিক গার্ডিয়ান বলেছেন, পাকিস্তান এখন নিঃসঙ্গ ও বন্ধুবিহীন। যুদ্ধ বাধলে তাকে একাই তার ফল ভোগ করতে হবে। ডেলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাও পাকিস্তানের এই নিঃসঙ্গ অবস্থার কথা বর্ণনা করে বলেছে, যতক্ষণ না ইয়াহিয়া বাংলাদেশ সমস্যার একটি যথার্থ রাজনৈতিক সমাধান না চাচ্ছেন, ততক্ষণ তার বন্ধুহীনতা কেবল বাড়তেই থাকবে।

এদিকে বৃটিশ মন্ত্ৰী মিঃ রিচার্ড উড বাংলাদেশ সমস্যার যথার্থ রাজনৈতিক সমাধানের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, বাংলাদেশ সমস্যার যুক্তগ্রাহ্য সমধান ছাড়া শরণার্থীরা দেশে ফিরে যেতে পারে না। আর এই যুক্তগ্রাহ্য সমাধানের অর্থই হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

মার্কিন সিনেটর উইলিয়ম স্যাকসবি বলেছেন, বাংলাদেশের অবিসংবাদিত জননেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ছাড়া বাংলাদেশ সমস্যার কোন সমধান হতে পারে না। সুতরাং বাংলাদেম সমস্যার সমাধানে অগ্রসর হতে হলে প্রথমেই শেখ মুজিবের মুক্তি প্রয়োজন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাকে তিনি ইতিহাসের অন্যতম শোচনীয় ঘটনা বলে আখ্যায়িত করেছেন। বাংলাদেশ সমস্যা সমাধানে মার্কিন সরকারকে সচেষ্ট হওয়ার জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশের বিস্তৃত অঞ্চলে- আর সেই সঙ্গে বিশ্বমানুষের সমর্থনপুষ্ট মানবতার পতাকাও উড়ছে বিশ্বের সর্বত্র। কেননা ন্যয়, সত্য ও স্বাধীনতার সংগ্রাম কখনো ব্যর্থ হয় না।

(মহাদেব সাহ রচিত)