বৈষম্য সম্পর্কে পিয়ারসন কমিশন রিপোর্ট

Posted on Posted in 2

<02.104.478-48০>

বৈষম্য সম্পর্কে পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্ট

পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন -ব্যয় ও উৎপাদন বৃদ্ধির হার হ্রাসের সুপারিশ

(পূর্বদেশ রিপোর্ট)

চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে “পাকিস্তানে দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য অবিলম্বে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যয় এবং সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের হার হ্রাস করতে হবে।”

বৈষম্য দূর করার জন্য কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কতৃক একটি সুষ্ঠু ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তাতে অধিক অর্থ ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুপারিশ করেছেন।অন্যথায় অবহেলারর মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে বলে রিপোর্টে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্ট নামে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক রিপোর্টটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং পাকিস্তানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সমস্যা সম্পর্কে সংক্ষেপে নানা তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং দেশের দু’অংশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক বৈষম্য সম্পর্কে কমিশনের সতর্ক ও রক্ষণশীল মতামতও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অনেকের কাছে চাঞ্চল্যকর মনে হয়েছে।শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়,রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তানের দুরবস্থা সম্পর্কে কমিশনের রিপোর্ট এ স্পষ্ট ভাষায় বলা

“রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অংশীদার হওয়া অনেকটা সান্তনা লাভের মত।এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধিষ্ণু অর্থনৈতিক বৈষম্য আঞ্চলিক অসন্তোষকে আরো তীব্র করে তুলেছে।”

(পৃষ্টা ৩০৫)।

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে প্রদত্ত তথ্যাদি পাকিস্তানের সরকারী হিসাবপত্র থেকেই সংগৃহীত এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার জন্য মুখ্যতঃ আইয়ুব শাসনামলেও সরকারী ভাষ্যের উপরই নির্ভর করা হয়েছে।এসত্ত্বেও কৃষি ও শিল্প অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পরবর্তীকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দ্রুত বর্ধিষ্ণু বৈষম্য, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের টাকার ন্যায্য ভাগ পাওয়ার ক্ষেত্র পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভাগ্যের কথা কমিশন গোপন করেননি।

পিয়ার্সন কমিশন নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের রিপোর্টে পাকিস্তান সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

” দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে, দু’অঞ্চলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যই রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থিতিহীনতার কারণ হয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ বৃদ্ধির সরকারী প্রচেষ্টা, দক্ষতা এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার করার সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোর অভাবে ব্যর্থ হয়েছে।প্রদেশের আবহাওয়া এবং ছোট ছোট কৃষি ফার্মের উপযোগী করে ধান ও পাট উৎপাদনের আধুনিক কারিগরি বিদ্যা যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।অধিকন্তু সবচাইতে জরুরী প্রয়োজন হচ্ছে,কেন্দ্রীয় সরকার থেকেই অর্থ,বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি দিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।এর অর্থ হবে। পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যকরী করার ব্যয় হ্রাস এবং সেখানকার সামগ্রিক উন্নয়ন হার কমিয়ে ফেলা।এ না হলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি উপেক্ষার ফল বিপদজনক হবে।” (পৃঃ ৩১৬)

কমিশনের গোড়ার কথা

“উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার” ক্ষেত্রে ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে থাকায় ১৯৬৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট মিঃ জর্জ উডস গত বিশ বছরের উন্নয়ন সাহায্য, সাহায্যদান নীতির সাফল্য ত্রুটি ও ফলাফল পর্যালোচনার জন্য অভিজ্ঞতা ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। মিঃ পিয়ার্সন এই কমিশনে কাজ করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে সাতজন সহযোগী গ্রহণ করেন। কমিশনের এই অপর সাতজন সদস্য হলেন, যুক্তরাজ্যের স্যার এডওয়ার্ড বয়েল,ব্রাজিলের মিঃ রবার্টো দ্য অলিবিয়া ক্যাম্পোস, যুক্তরাষ্ট্রের মিঃ সি ডগলাস ডিলন, পশ্চিম জার্মানির ডঃ উলফ্রেড গুথ, জ্যামাইকার ডবু,আর্থার লুই,ফ্রান্সের ডৎ রবার্ট ই, মারজোলীন এবং জাপানের ডঃ সবুরো ওকিতা। কমিশনের চেয়ারম্যান মিঃ পিয়ার্সন এবং উপরোক্ত সাতজন সদস্য ছাড়াও অন্যান্য উন্নয়ন ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে ১৪ জন বিশেষজ্ঞ গ্রহণ করা হয়। উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগীতার গত বিশ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা ছাড়াও আগামী ২০ বছরের জন্য কমিশন নানা রকম প্রস্তাব ও সুপারিশ জ্ঞাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিক থেকে পিয়ার্সন কমিশনের গুরুত্ব বিশ্বের অকম্যুনিস্ট দেশগুলোতে কম নয়। কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়াও আঞ্চলিক বৈঠক রাওয়ালপিন্ডি, নয়াদিল্লী, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ২৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে কমিশনের চেয়ারম্যান মিঃ পিয়ার্সন আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের রিপোর্টে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের নিকট পেশ করেন।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ

অকম্যুনিষ্ট বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনার সঙ্গে পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে ভৌগোলিক দিক থেকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানের দু’অংশের অর্থনৈতিক সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট ভাষাতেই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে সমান গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। ফলে দ্রুত কৃষি উন্নয়নের ফলে পশ্চিন পাকিস্তান খাদ্যোৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্ধৃত এলাকায় এবং পূর্ব পাকিস্তান ঘাটতি এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক বৈষম্য দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কমিশন বলেছেন, ” দেশের দু’অংশে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী নীতি আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি উন্নয়ন কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্রাকার ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশ ঘটিয়াছে এবং খাদ্য ঘাটতির ভয় থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির দরুন উদ্ধৃত খাদ্যের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে স্থবিরতা এবং বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যা ক্রমেই সকলের মোহভঙ্গের কারণ হয়েছে।……… পাকিস্তানের শিল্প বিকাশ দ্রুত হওয়ার সত্বেও এই শিল্প ক্ষুদ্রাকার এবং প্রায় অধিকাংশ কাঁচামালের অভাবে আমদানির উপর বহুলাংশের নির্ভরশীল। তদুপরি প্রধানতঃ পশ্চিম পাকিস্তানকেই শিল্পায়ীত করা হয়েছে। দেশের দু’অঞ্চলের বৈষম্য তাতে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে”। (পৃঃ ৩১০)।

কৃষি,শিল্প ও বৈদেশিক মুদ্রা বন্টনের ক্ষেত্রে

পাকিস্তান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় কমিশন দেশের দু’অংশের বিপরীতমুখী কৃষিনীতি অনুসরণ

 

 

বৈষম্য সম্পর্কে পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্ট

পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন -ব্যয় ও উৎপাদন বৃদ্ধির হার হ্রাসের সুপারিশ

 

 

(পূর্বদেশ রিপোর্ট)

 

 

চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে “পাকিস্তানে দুই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য অবিলম্বে পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যয় এবং সামগ্রিকভাবে উন্নয়নের হার হ্রাস করতে হবে।”

 

 

বৈষম্য দূর করার জন্য কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কতৃক একটি সুষ্ঠু ও সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তাতে অধিক অর্থ ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সুপারিশ করেছেন।অন্যথায় অবহেলারর মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে বলে রিপোর্টে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।

 

 

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্ট নামে পরিচিত এই আন্তর্জাতিক রিপোর্টটি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে এবং পাকিস্তানে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

 

 

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত পাকিস্তানের উন্নয়ন এবং উন্নয়ন সমস্যা সম্পর্কে সংক্ষেপে নানা তথ্য প্রদান করা হয়েছে এবং দেশের দু’অংশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্য সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।পাকিস্তানের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আঞ্চলিক বৈষম্য সম্পর্কে কমিশনের সতর্ক ও রক্ষণশীল মতামতও অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অনেকের কাছে চাঞ্চল্যকর মনে হয়েছে।শুধু অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নয়,রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তানের দুরবস্থা সম্পর্কে কমিশনের রিপোর্ট এ স্পষ্ট ভাষায় বলা

 

 

“রাজনৈতিক অধিকারের ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের অংশীদার হওয়া অনেকটা সান্তনা লাভের মত।এছাড়া পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধিষ্ণু অর্থনৈতিক বৈষম্য আঞ্চলিক অসন্তোষকে আরো তীব্র করে তুলেছে।”(পৃষ্টা ৩০৫)।

 

 

পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে প্রদত্ত তথ্যাদি পাকিস্তানের সরকারী হিসাবপত্র থেকেই সংগৃহীত এবং দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সমস্যার জন্য মুখ্যতঃ আইয়ুব শাসনামলেও সরকারী ভাষ্যের উপরই নির্ভর করা হয়েছে।এসত্ত্বেও কৃষি ও শিল্প অর্থনীতির ক্ষেত্রে স্বাধীনতার পরবর্তীকালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দ্রুত বর্ধিষ্ণু বৈষম্য, বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের টাকার ন্যায্য ভাগ পাওয়ার ক্ষেত্র পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভাগ্যের কথা কমিশন গোপন করেননি।

 

 

পিয়ার্সন কমিশন নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের রিপোর্টে পাকিস্তান সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ

” দেশটির অভ্যন্তরীণ সমস্যার দিকে তাকালে দেখা যাবে, দু’অঞ্চলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যই রাজনৈতিক বিরোধ ও স্থিতিহীনতার কারণ হয়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ বৃদ্ধির সরকারী প্রচেষ্টা, দক্ষতা এবং সম্পদের সদ্ব্যবহার করার সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোর অভাবে ব্যর্থ হয়েছে।প্রদেশের আবহাওয়া এবং ছোট ছোট কৃষি ফার্মের উপযোগী করে ধান ও পাট উৎপাদনের আধুনিক কারিগরি বিদ্যা যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে।অধিকন্তু সবচাইতে জরুরী প্রয়োজন হচ্ছে,কেন্দ্রীয় সরকার থেকেই অর্থ,বিশেষজ্ঞ প্রভৃতি দিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করা।এর অর্থ হবে। পশ্চিম পাকিস্তানের কার্যকরী করার ব্যয় হ্রাস এবং সেখানকার সামগ্রিক উন্নয়ন হার কমিয়ে ফেলা।এ না হলে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি উপেক্ষার ফল বিপদজনক হবে।” (পৃঃ ৩১৬)

 

 

কমিশনের গোড়ার কথা

“উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার” ক্ষেত্রে ক্রমাগত উদ্বেগজনক অবস্থার সৃষ্টি হতে থাকায় ১৯৬৭ সালের ২৭শে অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট মিঃ জর্জ উডস গত বিশ বছরের উন্নয়ন সাহায্য, সাহায্যদান নীতির সাফল্য ত্রুটি ও ফলাফল পর্যালোচনার জন্য অভিজ্ঞতা ও মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের প্রস্তাব করেন। মিঃ পিয়ার্সন এই কমিশনে কাজ করার জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে সাতজন সহযোগী গ্রহণ করেন। কমিশনের এই অপর সাতজন সদস্য হলেন, যুক্তরাজ্যের স্যার এডওয়ার্ড বয়েল,ব্রাজিলের মিঃ রবার্টো দ্য অলিবিয়া ক্যাম্পোস, যুক্তরাষ্ট্রের মিঃ সি ডগলাস ডিলন, পশ্চিম জার্মানির ডঃ উলফ্রেড গুথ, জ্যামাইকার ডবু,আর্থার লুই,ফ্রান্সের ডৎ রবার্ট ই, মারজোলীন এবং জাপানের ডঃ সবুরো ওকিতা। কমিশনের চেয়ারম্যান মিঃ পিয়ার্সন এবং উপরোক্ত সাতজন সদস্য ছাড়াও অন্যান্য উন্নয়ন ও উন্নয়নশীল দেশ থেকে ১৪ জন বিশেষজ্ঞ গ্রহণ করা হয়। উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগীতার গত বিশ বছরের ইতিহাস পর্যালোচনা ছাড়াও আগামী ২০ বছরের জন্য কমিশন নানা রকম প্রস্তাব ও সুপারিশ জ্ঞাপনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এদিক থেকে পিয়ার্সন কমিশনের গুরুত্ব বিশ্বের অকম্যুনিস্ট দেশগুলোতে কম নয়। কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া ছাড়াও আঞ্চলিক বৈঠক রাওয়ালপিন্ডি, নয়াদিল্লী, সিঙ্গাপুর প্রভৃতি শহরে অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরের ২৫ই সেপ্টেম্বর তারিখে কমিশনের চেয়ারম্যান মিঃ পিয়ার্সন আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশনের রিপোর্টে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের নিকট পেশ করেন।

অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ

অকম্যুনিষ্ট বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়ন ও উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা পর্যালোচনার সঙ্গে পিয়ার্সন কমিশনের রিপোর্টে ভৌগোলিক দিক থেকে পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাকিস্তানের দু’অংশের অর্থনৈতিক সমস্যা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট ভাষাতেই অভিমত প্রকাশ করেছেন যে, কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রেও পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে সমান গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি। ফলে দ্রুত কৃষি উন্নয়নের ফলে পশ্চিন পাকিস্তান খাদ্যোৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্ধৃত এলাকায় এবং পূর্ব পাকিস্তান ঘাটতি এলাকায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক বৈষম্য দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। কমিশন বলেছেন, ” দেশের দু’অংশে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিপরীতমুখী নীতি আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে। পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষি উন্নয়ন কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষুদ্রাকার ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশ ঘটিয়াছে এবং খাদ্য ঘাটতির ভয় থেকে উৎপাদন বৃদ্ধির দরুন উদ্ধৃত খাদ্যের সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিক্ষেত্রে স্থবিরতা এবং বর্ধিষ্ণু জনসংখ্যা ক্রমেই সকলের মোহভঙ্গের কারণ হয়েছে।……… পাকিস্তানের শিল্প বিকাশ দ্রুত হওয়ার সত্বেও এই শিল্প ক্ষুদ্রাকার এবং প্রায় অধিকাংশ কাঁচামালের অভাবে আমদানির উপর বহুলাংশের নির্ভরশীল। তদুপরি প্রধানতঃ পশ্চিম পাকিস্তানকেই শিল্পায়ীত করা হয়েছে। দেশের দু’অঞ্চলের বৈষম্য তাতে আরো বৃদ্ধি পেয়েছে”। (পৃঃ ৩১০)।

কৃষি,শিল্প ও বৈদেশিক মুদ্রা বন্টনের ক্ষেত্রে

পাকিস্তান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনায় কমিশন দেশের দু’অংশের বিপরীতমুখী কৃষিনীতি অনুসরণ

শিল্পোন্নয়ন পচ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত করা এবং অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক সাহায্য বণ্ঠনের ক্ষেত্রে অনুসৃত বৈষম্য নীতির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং এই প্রতিক্রিয়া থেকে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। গত দশকে অধিক হারে বৈদেশিক সাহায্য ও ঋণলাভ করা সত্ত্বেও পাকিস্তানের দু অঞ্চলে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা কেন সৃষ্টি হয়েছে কমিশনের রিপোর্ট থেকে তার একটা আভাস পাওয়া যায়।

ঢাকা মঙ্গলবার , ২রা অগ্রাহয়ন , ১৩৭৬

নভেম্বর ১৮, ১৯৬৯

অসম কৃষি – উন্নয়ন থেকে প্রকৃত বৈষম্যের শুরু

(পূর্বদেশ রিপোর্ট)

পিয়ারসন কমিশন নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী রিপোর্টে বলা হয়েছে , স্বাধীনতা লাভের একুশ বছরের মধ্যেও পুরব পাকিস্তানে কোন গ্রিন রেভোলিউশন বা সবুজ বিপ্লব সংঘটিত হয়নি। সামগ্রিক কৃষি বিপ্লবকেই কমিশন সবুজ বিপ্লব আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে আধুনিক সেচ ব্যবস্থা, পানি সমস্যা সমাধান , সার সরবরাহ, নয়াজী আমদানি মুনাফা কেন্দিক কৃষি নীতি অনুসরনের ফলে পচিম পাকিস্তানে কৃষি বিপ্লব অনুষ্ঠিত হয় এবং মাত্র দুবছরে শতকরা ৫০ ভাগ গম উদপাদন বৃদ্ধি পায়। পুরব ও পচিম পাকিস্তানে বৈষম্য মুলক কৃষি নীতি অনুসরণই দেশের দু অংশের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধির জন্য মুলত দায়ী।

কমিশনের রিপোর্টে আমদানি বানিজ্যের ক্ষেত্রে বৈদেশিক সাহায্যের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা প্রদরশন করা হয়েছে। গড়পড়তা ভাবে উন্নয়নশীল দেশের আমদানী বানিজ্যের শতকরা ২০ ভাগ বৈদেশিক সাহায্যের অরথানুকুল্য লাভ করে। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তানে আমদানী বাণিজ্যের প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ এইডের অরথানুকুল্য লাভ করে। এই আমদানী বাণিজ্যে পূর্ব পাকিস্তান কিভাবে গত দু দশক যাবত বঞ্চিত হয়েছে তার হিসাব পাকিস্তানের সরকারী হিসাব পত্তরেও রয়েছে। পিয়ারসন রিপোর্টে বলা হয়েছে , এইডের অরথানুকুল্য আমদানি ক্ষেত্রে নতুন যন্ত্র পাতি ও খুচরা অংশ, শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, কৃষি উন্নয়নের জন্য কীটনাশক ওষুধ ও সার প্রভৃতিকেই বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর পর আমদানী বাণিজ্যে উপেক্ষিত পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি ও শিল্পের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারন প্রত্যক্ষ ভাবে উল্লেখ না করে কমিশন বলেছেন, পাকিস্তানের শিল্পোন্নতি প্রধানতঃ পচিম পাকিস্তানেই ঘটেছে। কমিশনের রিপোর্টে পাকিস্তানের রফতানি বাণিজ্যের কথা ও উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোরীয় যুদ্ধের আহাম্মক তেজী ভাবের সুযোগ নিয়ে প্রধানতঃ কাচা পাট ও তুলা রফতানির উপর নিরভর করে পাকিস্তান তার বহি বাণিজ্যে কিভাবে লাভবান হয় ,তার বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানত ঃ পূর্ব পাকিস্তানের পাট ও অন্যান্য কাঁচামাল দ্বারাই বহি বাণিজ্যে খাতে প্রায় দুদশক যাবত বৈদেশিক মুদ্রার সিংহ ভাগ অর্জিত হয়েছে। কিন্তু অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা এবং ঋণ ও সাহায্যের অর্থ বণ্টনে পূর্ব পাকিস্তান যে তার ন্যায্য অংশ কখনো লাভ করেনি , তার হিসাব সরকারী পরিসংখ্যানেও গোপন করা সম্ভব হয়নি। কৃষি, শিল্প ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই ক্রমাগত বৈষম্য পূর্ব পাকিস্তানে মুল্ধন সৃষ্টিতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায় এবং অন্যদিকে পূর্ব পাকিস্তানের পুজি ও সম্পদ ক্রমাগত অন্যত্র পাচার হতে থাকে। কমিশনের রিপোর্টে এই বৈষম্যমূলক অবস্থার বিশদ বর্ণনা না দিয়ে সংক্ষেপে মন্তব্য করা হয়েছে @ পূর্ব পাকিস্তানকে শিল্পোউন্নয়নের জন্য ক্রমাগত সরকারী খাতের উপর নির্ভর করতে হয় এবং পুজি নিয়োগের সুযোগ গ্রহনে বেসরকারী খাত ব্যর্থ হয়। (মুদ্রিত রিপোর্ট, প্রঃ ৩১০)

 

 

<2.104.481-482>

পিয়ার্সন কমিশন বা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন কমিশনের মতে স্বাধীনতা লাভের পরে যেমব উন্নয়নশীল দেশে দ্রুত “সবুজ বিপ্লব” বা কৃষি সংঘটিত হয়েছে সেসব দেশেই দ্রুত শিল্পোন্নতি ঘটেছে। পাকিস্তানে কৃষি বিপ্লব শুধু দেশের এক অংশে তার বেশী সুযোগ থাকা সত্ত্বে ও তার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করা হয়েছে। কমিশনের মুদ্রিত রিপোর্টের ৩১৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছেঃ
“দেশের দু’অংশে কৃষির অসম বিকাশ আঞ্চলিক বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে। অথচ এই বৈষম্য দূরীকরণে কৃষিই সর্বাধিক সহায়তা যোগাতে সক্ষম। পূর্ব পাকিস্তান অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানকার ভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং সেখানে অধিক উৎপাদন সক্ষম ধানের বীজ ছাড়াও উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। সেচ কার্যের জন্য সেখানে পানি রয়েছে এবং জমির শতকরা ২০ ভাগে মাত্র বছরে দু’বার শস্য উৎপাদন করা হয়।
বিভিন্ন নদী থেকে লো-লিফট পাম্পের সাহায্যে পানির ব্যবস্থা করে উৎপাদন বহু গুণ বৃদ্ধি সম্ভব। এ ব্যাপারে প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়নি, সুতরাং এই পরিকল্পনার দ্রুত সম্প্রসারণ অত্যাবশ্যক।”
পূর্ব পাকিস্তানে যেখানে সকল সুযোগ ও জমির উৎপাদিকা শক্তির বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও গত দশকে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রাধমিক কর্মসূচী ছাড়া বলতে গেলে কিছুই করা হয়নি, সেখানে পশ্চিম পাকিস্তানে স্বাধীনতা লাভের পরপরই অনুর্বর লবণাক্ত কৃষি জমিতে ‘কৃষি বিপ্লব’ সম্পাদনের জন্য কি করা হয়েছে, কমিশন তার বিশদ বিবরণ প্রদান করেছেন।
কমিশন বলেছেন, “উন্নত টেকনোলজির সাহায্যে পশ্চিম পাকিস্তানে কৃষি ক্ষেত্রে নাটকীয় উন্নতি সাধিত হয়েছে। গম ও চাল উৎপাদনের ক্ষেত্রে আরো বেশী ফলন প্রত্যাশা করা যায়।” (পৃষ্ঠা ৩১৬)
কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “১৯৫০ সালের দিকে পশ্চিম পাকিস্তানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থার অভাবে বহু চাষাবাদের জমিতে লবণাক্ততার দরুন উৎপাদন মোটেই সম্ভব ছিলনা। কিন্তু জলাবদ্ধতা ও জমির লবণাক্ততার সেই অভিশাপকে এখন আশির্বাদে রুপান্তরিত করা হয়েছে (পৃষ্ঠা ৩৪)।
বন্যা বিশেষজ্ঞরা বলেন, পূর্ব পাকিস্তানের বন্যার অভিশাপকেও আশির্বাদে রুপান্তর করা এবং কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিপ্লব সৃষ্টি সম্ভব। এক্ষেত্রে শুধু প্রয়োজন পশ্চিম পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকা পরিকল্পনার মত সুষ্ঠু পরিকল্পনা, প্রয়োজনীয় অর্থ, বৈদেশিক সাহায্য ও বিশেষজ্ঞের। কিন্তু গত একুশ বছরেও এই অভাবটি পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
স্বাধীনতার প্রাক্কালে পশ্চিম পাকিস্তান কৃষিক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের চাইতে উন্নত ছিলনা, বরং কোন কোন এলাকা পশ্চাৎপদ ছিল। এই অবস্থায় মাত্র দ’ুদশকে দু’অঞ্চলের মধ্যে মারাতœক কৃষি বৈষম্য সৃষ্টি হল কি করে? একদিকে জমির লবণাক্ততা দূর করা এবং গভীর কূপ খনন ও নলকূপ বসিয়ে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন কৃষির উন্নতিতে সহায়তা জুগিয়েছে, অন্যদিকে আধুনিক ও উন্নত কৃষি পদ্ধতি প্রবর্তন গোটা কৃষি ব্যবস্থার চেহারা পাল্টে দিয়েছে।
কমিশন বলেছেন, “গম ও চালের নতুন ধরনের বীজ প্রবর্তন কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন আনয়ন করে। ১৯৬৬-৬৭ সালে যেখানে ২ লক্ষ একর জমিতে নতুন গমের বীজ রোপণ করা হয়েছিল, পরবর্তী বছরে তা ২৩ লক্ষ একর জমিতে গিয়ে দাঁড়ায়। নতুন বীজ থেকে চালের উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে বৈদেশিক ঋণের টাকায় দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয় এবং দ্রুত সার উৎপাদনেরও ব্যবস্থা হয়। পশ্চিম পাকিস্তান বিশ্বের দীর্ঘতম একটানা সেচ ব্যবস্থার অধিকারী। সেচের অধীনে উন্নত চাষ, পানি ও সার সরবরাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থা, ফসলের নতুন বীজ সরবরাহ, বিদেশ থেকে উন্নত যন্ত্রপাতি এসে কৃষি ব্যবস্থায় প্রবর্তন এবং মুনাফা প্রাধান্য মূলক কৃষিনীতি পশ্চিম পাকিস্তানে বিপ্লব সংঘটন সম্ভবপর করেছে। (পৃষ্ঠা ৩০৭ ও ৩০৮)
কমিশন পশ্চিম পাকিস্তানে কৃষি উৎপাদনের হার বৃদ্ধিরও ইকটা তালিকা দিয়েছেন। এই হার নীচে দেয়া হল। ১৯৪৯-৫০-১৯৫৯  ৬০ গম ১.১ ভাগ এবং অন্যান্য প্রধান শস্য ২.৩ ভাগ। ১৯৫৯-৬০-১৯৬৭-৬৮ গম ৪.০ এবং অন্যান্য প্রধান শস্য ৫.০। (পৃষ্ঠা: ৩০৯)।
কৃষি ক্ষেত্রে উন্নতির ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে কৃষিকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় ছোট ছোট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের বিকাশে শুরু হয় এবং আমদানী বাণিজ্য ও বৈদেশিক গ্রান্ট ও লোনের সিংহভাগ লাভ করায়  সেখানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রাথমিক শিল্প-ভিত্তি গড়ে ওঠে। পূর্ব পাকিস্তান এদিক থেকে এই শিল্প-ভিত্তির কাঁচামাল যোগানদার এবং উৎপাদিত দ্রব্যের ক্রেতার ভূমিকায় থেকে যায়। পশ্চিম পাকিস্তানে অথনৈতিক উন্নয়নের শিল্প-ভিত্তি প্রতিষ্ঠা লাভ করায় সোখানে স্থানীয় পুঁজির যেমন বিকাশ ঘটে, তেমনি বাইরের পজিও সেখানে আকৃষ্ট হয়।
পিয়ার্সন কমিশন পূর্ব পাকিস্তানের দুর্ভোগ্যের প্রাথমিক কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, “উন্নত সেচ ব্যবস্থঅ পশ্চিম পাকিস্তানের কৃষিতে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটায়, অন্যদিকে সেচ ব্যবস্থার অভাবে পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিতে এই পরিবর্তৃন অনুপস্থিত। ফলে খাদ্যোৎপাদন তুলনামূলকভাবে বাধ্যগ্রস্ত হয়ে রয়েছে। অতি সম্প্রতি লো- লিফট পাম্পের সাহায্যে জমিতে পানি সরবরাহ বৃদ্ধির ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার ফলে কৃষকদের পক্ষে বছরে দুটি কিংবা তিনটি ফসল ফলানেরও সম্ভ হবে। অসম কৃষিনীতি দু’অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্যের পরিসর বিরাটভাবে বৃদ্ধি করেছে।  (পৃষ্ঠা ৩০৮।
পূর্ব পাকিস্তানের কৃষি উন্নয়ন সম্পর্কে কমিশন সুস্পষ্ট ভাষায় সুপারিস করেছেন-আধুনিক টেকনোলজির সাহায্যে পূর্ব পাকিস্তানে পাট ও ধান উৎপাদনের ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন এবং কেন্দ্রীয় সরকারেরই উচিত এই উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য অর্থ ও বিশেষজ্ঞ সরবরাহের দায়িত্ব গ্রহণ করা।