ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্র

Posted on Posted in 4

<৪, ৫৫, ১০১-১০৩>

শিরোনামসূত্রতারিখ
৫৫। ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্রএকশন কমিটির দলিলপত্র ১৮ই আগস্ট, ১৯৭১

 

৭০এ হাই স্ট্রিট

কোলচেস্টার এসেক্স

১৮ই আগস্ট, ১৯৭১

প্রিয় বন্ধুগন,

ব্রিটেনে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো রচনার লক্ষে প্রস্তাবিত একটি খসড়া গঠনতন্ত্র আমি এখানে জুড়ে দিচ্ছি এই আশায় যে গঠনতন্ত্র তৈরিতে এটি সহায়ক হবে।

যদি প্রয়োজন হয় আমি সানন্দে এই খসড়ার যেকোন বিষয় ব্যাখ্যা করব।

বিনীত,

(জনাব লোকমান আলী)

একটি নিখুঁত ও একতাবদ্ধ আন্দোলন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে, সকল কর্মকাণ্ডে একতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা নিশ্চিত করতে আমরা, যুক্তরাজ্যে সকল বাংলাদেশি সমর্থকণ, বাংলাদেশ একশন কমিটির এই গঠনতন্ত্র মেনে নিলাম। এখন থেকে যুক্তরাজ্যে এই কমিটির নতুন নাম হবে “বাংলাদেশ কাউন্সিল” এবং ঠিকানা হবে ১১ গোরিং স্ট্রিট (ভবিষ্যতে যেকোন কিছু পরিবর্তনযোগ্য)।

লক্ষ্যসমূহঃ

১. এই কাউন্সিলের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার এবং মুক্তি ফৌজদের জন্যে বিভিন্ন জিনিস-পত্র ক্রয়ের উদ্দেশ্যে তহবিল সংগ্রহ করা। অন্য কোনভাবে এটি করা আদৌ সম্ভব নয়।

২. যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রচেষ্টার গতি বৃদ্ধি করতে এবং তাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের ইচ্ছাকে পূরণ করার লক্ষে তাদেরকে প্রাণোদ্দীপ্ত করা।

৩. দেশের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বাংলাদেশের সমর্থকদের অবগত করা এবং যতটা সম্ভব তাদের সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার সদ্ব্যবহার সম্পর্কে তাদেরকে ওয়াকিবহাল রাখা।

৪. বাংলাদেশ সরকার ও তার প্রতিনিধিদের সাথে যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি সমর্থকদের যোগাযোগ বজায় রাখা।

৫. তহবিলের রক্ষণাবেক্ষণ এবং সদ্ব্যবহারে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ তহবিল ট্রাস্টিদের সাহায্য করা।

৬. বাংলাদেশের প্রতি বিশ্বসমর্থন বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া।

৭. বাংলাদেশি জনগণের দুর্দশা লাঘবে সাহায্য তৎপরতাসহ যেকোন সহায়ক কর্মকান্ডের আয়োজন করা।    

গঠনঃ

       ১. বোর্ড অফ ট্রাস্টি

       ২. জাতীয় পরিষদ

       ৩. নির্বাহী কমিটি

       ৪. স্থানীয় কমিটি

নিয়মঃ

       এখানে উল্লিখিত নিয়মগুলি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে

পরিষদঃ

       ১. কাউন্সিল স্বশাসিত হবে এবং সম্ভাব্য সর্বোত্তম চ্যানেলের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বিনাশর্তে এর সমর্থন দান করবে।

       ২. কাউন্সিল বাংলাদেশ সরকার ও তার দূতের নিকট থেকে আসা নির্দেশনা খুঁজবে।

       ৩. প্রত্যেক স্থানীয় কমিটি থেকে দুইজন করে সদস্য নিয়ে এই কাউন্সিল গঠিত হবে।

       ৪. কাউন্সিল একজন প্রেসিডেন্ট ও চারজন ভাইস-প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে। প্রেসিডেন্ট ও ভাইস-প্রেসিডেন্টের মেয়াদ এক বছর কার্যকরী থাকবে।

       ৫. পরিষদের সেক্রেটারির পদবী হবে অঅবৈতনিক।

নির্বাহী কমিটিঃ

       ১. জাতীয় পরিষদ এবং স্থানীয় কমিটি উভয়ের সদস্য হতে উক্ত কাউন্সিল নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত করবে।

       ২. নির্বাহী কমিটির সদস্য বিভিন্ন পেশা যেমন আইনজীবী, সাংবাদিক, একাউন্ট্যান্ট এবং এইরূপ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ হবেন।

       ৩. নির্বাহী কমিটির মেয়াদকাল হবে এক বছর।

কার্যাবলীঃ

       ১.এই কাউন্সিলের প্রধান কাজ হবে আন্দোলন আরো বেগবান ও ফলপ্রসূ করার জন্য একটি নীতিমালা প্রনয়ন করা।

       ২. কাউন্সিল স্থানীয় কমিটির নিকট দায়বদ্ধ থাকবে স্থানীয় কমিটির সাথে লিয়াজো রক্ষা করা এবং কমিটিকে পূর্ণ অবগত রাখার জন্য।

       ৩. নির্বাহী কমিটির কার্যাবলী তদারক করবে উক্ত কাউন্সিল এবং নির্বাহি কমিটি কাউন্সিলের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে।

       ৪. কোন ব্যক্তি কিংবা একটি বিশেষ কাজ করার নিমিত্তে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গকে মনোনীত করার ক্ষমতা থাকবে কাউন্সিলের হাতে।

       ৫.জরুরী কোন প্রয়োজন ছাড়া কাউন্সিল কোন মিটিংএর কমপক্ষে চারদিন আগে তার সদস্যকে লিখিতভাবে জানাবে।

       ৬. কোন চুক্তিভঙ্গের অপরাধে কাউন্সিল তার সদস্য কিংবা নির্বাহী কমিটির কোন সদস্যের বিরুদ্ধে যেকোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবে।

       ৭. কাউন্সিল সংবিধান পরিপন্থী কোনপ্রকার কাজ করতে পারবে না। এ বিষয়ে কোনপ্রকার সন্দেহ উত্থিত হলে নির্দিষ্ট একটি নির্বাচিত কমিটি গঠন করে তা সমাধান করতে হবে।

       ৮. পরিষদের যে কোন সদস্যের কোন একটি আন্দোলন করার ক্ষমতা থাকবে কিন্তু তা কাউন্সিলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য উপস্থিত থাকা অবস্থায় পাশ হওয়া লাগবে।

       ৯. কাউন্সিল প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার বসা লাগবে কিন্তু নির্বাহী কমিটির প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে একবার বসতেই হবে।

       ১০.আন্দোলনের সাথে জড়িত এমন যেকোন লেখ্য প্রমান,প্রস্তাবনার রেকর্ড রাখার দায়িত্ব কাউন্সিলের।

       ১১.অফিস চলাকালীন সময়ে কাউন্সিলের যেকোন সদস্যেরই এইসকল রেকর্ডে পূর্ণ এক্সেস থাকবে। কিন্তু তাদের সম্পাদককে তা জানিয়ে রাখতে হবে।

প্রেসিডেন্টের দায়িত্বঃ

       প্রেসিডেন্টের প্রধান দায়িত্ব হবে কাউন্সিল বিষয়ক সার্বিক তত্ত্বাবধান করা, গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্যে কাউন্সিলের প্রতিনিধি হওয়া এবং যখন প্রয়োজন তখন পরামর্শ দান করা। ভাইস প্রেসিডেন্টেরও অনুরুপ দায়িত্ব পালন করতে হবে যখন প্রয়োজন।

চেয়ারম্যানের দায়িত্বঃ

      কাউন্সিলের সদস্যদের দ্বারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবে। তিনি কাউন্সিলের সব সভায় সভাপতিত্ব করবেন। তিনি সদস্যদের প্রতি সর্বাবস্থায় এবং কাউন্সিলকে তার লক্ষ্যে পরিচালনায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবেন। যেকোন কাউন্সিল মিটিং মূলতবী কিংবা স্থগিত করার ক্ষমতা তাঁর হাতে রয়েছে কিন্তু তা কখনই এক পক্ষকালের বেশি নয়। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁর দায়িত্ত্ব পালন করবেন।

স্থানীয় কমিটিঃ

      একটি স্থানীয় কমিটিতে কমপক্ষে ৫০ জন সদস্য থাকবে যারা কাউন্সিলের ভোটে প্রতিনিধিত্ব করবে।

৫০ জনের কম সদস্য সংখ্যা থাকলে তাদের অন্য যেকোন কমিটি,এলাকা কিংবা শহরে যোগদান করতে হবে এইরূপ ভোটদানের যোগ্যতা অর্জনের জন্য।

       নিম্নে একটি স্কেচ ম্যাপ দেয়া হল যেখানে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ কাউন্সিলের গঠন দেখানো হয়েছেঃ

স্কেচ-ম্যাপ

 

 

                                                                                                             এম. লুকমান

৭০এ হাই স্ট্রিট ,                                                                                       এম. লুকমান

কোলচেস্টার, এসেক্স                                                                 বাংলাদেশ একশন কমিটির

টেলিঃ ০২০৬৭১২৫৫                                                                                      পক্ষ থেকে

                                                                             ক্যাম্ব্রিজ, এসেক্স,সাফোক এবং নরউইচ