ভারতের সর্বাত্মক আক্রমণ

Posted on Posted in 7

৭.২০৪.৫৮১

শিরোনামঃ ২০৪। ভারতের সর্বাত্মক আক্রমণ

সূত্রঃ দৈনিক পাকিস্তান

তারিখঃ ২৭ নভেম্বর, ১৯৭১

.

যশোর সীমান্তে সাঁজোয়া বাহিনী

জঙ্গী বিমান ও ট্যাঙ্ক ব্যবহার

১৮ টি ট্যাঙ্ক খতিগ্রস্তঃ

৬৩০ জন ভারতীয় সৈন্য হতাহত

সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় হামলা

আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই

পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে

ভারতের সর্বাত্মক আক্রমণ

.

    আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই ভারত পূর্ব পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে। কয়েক মাসব্যাপী ছোট ছোট হামলা, ছোট-বড় সংঘর্ষ এবং পূর্ব পাকিস্তানের চারদিকে সুপরিকল্পিতভাবে ১২ টি পদাতিক ডিভিশন মতায়নের পর এই হামলা চালানো হলো।

 

    গতকাল সোমবার ঢাকায় এপিপি পরিবেশিত খবরে প্রকাশ, ভারতীয়রা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আক্রমণ করে আমাদের এলাকায় খানিকটা ঢুকে পড়তে সক্ষম হয়, কারণ কেউ এটা ভাবতে পারেননি যে, তারা সকল প্রকার আন্তর্জাতিক রীতিনীতি সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করবে এবং হীনভাবে এক সর্বাত্মক হামলা চালাবে।

 

    ভারতীয় সেনাবাহিনী যশোর সেক্টরে তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করে। সেখানে ৯ ভারতীয় পদাতিক ডিভিশন, ৪ ভারতীয় মাউন্টেন ডিভিশন ও দুটি ভারতীয় ট্যাঙ্ক রেপিমেন্ট আক্রমণ চালায়।

 

    যশোরে সারা রাত এবং সকালেও প্রচণ্ড লড়াই চলতে থাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর বহু সৈন্য হতাহত হয়, কিন্তু ভারী ও প্রচণ্ড গোলাবর্ষণের ফলে তাঁরা তাদের আহত সৈন্যদের এবং অধিকাংশ মৃতদেহ সরিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়। উক্ত এলাকায় যে কিছু সংখ্যক মৃতদেহ পড়ে থাকে তাতে দেখা যায় যে, ৪২ ভারতীয় মাউন্টেন ব্রিগেড ও ৩৫০ ভারতীয় মাউন্টেন ব্রিগেড এই আক্রমণ নেতৃত্ব দেয়। প্রাথমিক রিপোর্টে প্রকাশ, ১৩০ জন ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়েছে। এক হিসাবে প্রকাশ, সম্ভবত ৫০০ ভারতীয় সৈন্য আহত হয়েছে।

 

    পাকিস্তানী সৈন্যদের মধ্যে হতাহতের সংখ্যা হচ্ছে ৭ জন নিহত ও ৪০ জন আহত। পাকিস্তানী সৈন্যরা ১৮ টি  ভারতীয় ট্যাঙ্ক ক্ষতিগ্রস্ত করলে যশোরে ভারতীয় সাঁজোয়া হামলা ব্যর্থ হয়ে যায়। আরো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই আশংকায় ভারতীয় সাঁজোয়া বাহিনী তাদের বিশ্বাসঘাতকমূলক ও কাপুরুষোচিত হামলা বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যশোর সীমান্তে সাফল্যজনকভাবে ভারতীয় আক্রমণ প্রতিহত করে। এখনো লড়াই চলছে।

 

    যশোরে ভারতীয় ন্যাট ও মিগ বিমানগুলোও হামলায় অংশগ্রহণ করে এবং পাকিস্তানী এলাকায় অনেকখানি অভ্যন্তরে প্রবেশ করে নভারন, সারসা, মানুরা নামক তিনটি গ্রামের অসামরিক বাসিন্দাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে। ভারতীয় বিমান বাহিনী এভাবে ৭৯ জন অসামরিক ব্যক্তিকে নিহত ও ১৩০ জনকে আহত করে। ডিভিশন ও কতিপয় ট্যাঙ্কের সাহায্যে আক্রমণ চালানো হয়।

 

    দিনের শুরুতেই এই আক্রমণ চালানো হয়। সংখ্যা অনেক কম হওয়া সত্ত্বেও পাকিস্তানী সৈন্যরা সুপরিকল্পিত ও কৌশলী তৎপরতার মাধ্যমে সাফল্যজনকভাবে ভারতীয় বাহিনীর হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। পাকিস্তানী সেনাবাহিনী শত্রুর ৫৮ জন সৈনিককে হতাহত করে। আমাদের পক্ষের ১১ জন প্রাণ হারায়।

 

    ইতিমধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পাওয়া খবরে প্রকাশ, ২৩ মাউন্টেন ডিভিশনের দুটি ব্রিগেড চট্টগ্রাম সেক্টরের উত্তর-পূর্বে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাকিস্তানী অবস্থানগুলো আক্রমণ করে। আশংকা করা হচ্ছে যে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব পাকিস্তানে আরো কয়েকটি ফ্রন্ট খুলবে। ইতিমধ্যে যশোর, সিলেট ও চট্টগ্রাম সেক্টর থেকে সংঘর্ষের আরো খবর এসে পৌঁছেছে।

 

    পাকিস্তানী সৈন্যরা গত রোববার যশোরের উত্তর-পশ্চিমে এক রেজিমেন্ট ট্যাঙ্কের সমর্থনপুষ্ট নিয়মিত ভারতীয় বাহিনীর দুটো পদাতিক ব্রিগেড শক্তির এক বড় রকমের হামলা প্রতিহত করেছে। ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে এ কথা জানা গেছে বলে এপিপির খবরে প্রকাশ।

 

    ইউনিটগুলো প্রথম জম্মু ও কাশ্মীর রাইফেলস ও ৩৫০ নম্বর পদাতিক ব্রিগেডের ৪ নম্বর শিখ নাইটের অন্তর্ভুক্ত। পাকিস্তানী সৈন্যরা সাফল্যের সাথে হামলাকারীদের হটিয়ে দেয়। সংঘর্ষে শত্রুদের ৯০ জন নিহত ও ১৬০ জন আহত হয়। পাকিস্তানীদের পক্ষে ৪ জন নিহত ও ৭ জন আহত হয়। এক সংঘর্ষে শত্রুদের ৭ টি ট্যাঙ্ক বিদ্ধস্ত হয়। রোববারের হামলাটি ছিল পূর্ববর্তী ভারতীয় হামলাগুলোর চেয়ে বেশী মারাত্মক।

 

    সারা রাত ভারতীয় ফিল্ডগান ও মাঝারী ও ভারী মর্টারের গোলাবর্ষণ করা হয়। ভোরের দিকে গোলাবর্ষণ থামলে সাঁজোয়া বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ভারতীয় সৈন্য ও তাদের চররা পাকিস্তানী অবস্থানগুলির ওপর হামলা চালায়। পাকিস্তানী সৈন্যদের পাল্টা আক্রমণের মুখে ভারতীয় বাহিনী অগ্রসর হতে ব্যর্থ হয়।

 

    কুমিল্লা থেকে প্রাপ্ত খবরে প্রকাশ, নিয়মিত ভারতীয় সৈন্যদের সমর্থনপুষ্ট ৪ শত ভারতীয় চর কুমিল্লা জেলার লক্ষণীপুর ফাঁড়িতে হামলা চালায়। কিন্তু সে হামলা ব্যর্থ করে দেওয়া হয় এবং বিপুল সংখ্যক হতাহত হওয়ার পর অনুপ্রবেশকারীরা পালিয়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা থেকেও হামলার অনুরুপ খবর পাওয়া গেছে। কিন্তু সদা জাগ্রত পালিস্তানী সৈন্যরা এসব হামলা পর্যুদুস্ত করে।

    অপর দিকে ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনী সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রামে গোলাবর্ষণ অব্যহত রেখেছে।

 

ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলো হচ্ছেঃ

     সিলেট আটগ্রাম, রাধানগর, জৈন্তাপুর। কুমিল্লায় কাইয়ুমপুর, মুকন্দপুর, সালদা নদী, অরগঙ্গা, মঙ্গলপুর, হরিমঙ্গল ও বড় জালা। ময়মনসিংহে কামালপুর ও করইতলা। যশোর চৌগাছা। কুষ্টিয়া দর্শনা। রংপুরে অমরখানা।