ভাসানী কর্তৃক গন আন্দোলনের ডাক

Posted on Posted in 2

<2.72.398>

 

মাওলানা ভাসানী কর্তৃক গণ-আন্দোলনের ডাক

(বিশেষ সংবাদদাতা, পাকিস্তান অবজারভার)

ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (পিকিংপন্থী) এর প্রধান মাওলানা ভাসানী শুক্রবার পল্টন ময়দানের জনসমাবেশে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনের আহবান  জানান। তিনি এই অভিযোগ অস্বিকার করেন যে, তার দল অন্য বিরোধী দলগুলোর সাথে ঐক্য চায়না। কিন্তু তিনি বলেছেন, আমি নির্বাচনে লড়ার জন্য যুক্ত ফ্রন্ট চাই না।

সরকার কর্তৃক নিপীড়নের প্রতিবাদে এই সমাবেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (পিকিংপন্থী) ও পূর্ব পাকিস্তান শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জনাব মশিউর রহমান, এমএএন, জনাব আব্দুল হক, জনাব মোহাম্মদ ত্বোহা। বিরোধী দলের বাস্তব কর্মসূচী নেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন যে, তাদের দাবিসমূহ যেমন প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন, প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রত্যক্ষ ভোট ব্যবস্থা, সংবাদ পত্রের স্বাধীনতা ইত্যাদিই এই কর্মসূচী গঠন করেছে।

জনগণের দাবী গ্রহন না করায় সরকারের সমালোচনা করে মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী আশংকা প্রকাশ করেন যে যদি দাবী পূরণ না করা হয় তবে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীনতা অর্জনের পথ গ্রহণ করতে পারে।

তিনি একাধিকবার ঈঙ্গিত প্রদান করেছেন যে তার দল আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেনা। তিনি বলেছেন, যদি জনগণ বিরোধিতা করে তবে সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে পারবেনা।

তিনি জনাব ভুট্টু ও খান ওয়ালী খানসহ রাজবন্দীদের মুক্তি দাবি করেন।

তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দেন এবং মৌলিক গণতন্ত্রীদের এই সময় সাবধান হতে বলেন।

সমাবেশের পর মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে মিছিল হয়। মিছিলকারীরা পল্টন ময়দানের দক্ষিণ প্রবেশপথ হয়ে ডি.আই.টি. এভিন্যু ধরে গভার্নর্স হাউজের সামনের রাস্তায় প্রবেশ করতে গেলে কিছুসংখ্যক পুলিশ তাদের পথ অবরোধ করে।

টয়েনবি সার্কুলার রোডের নিকটে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভের পর মিছিলকারীরা জিন্নাহ এভিন্যু ধরে বাইতুল মোকাররমের দিকে যায়।

মিছিলটি কিছু সংখ্যক বেষ্টনী পার হয়ে গেলে শিশু পার্কটি ধ্বংস্তুপ অবস্থায় পাওয়া যায়। টয়েনবি সার্কুলার রোডে দন্ডায়মান ই.পি.আর.টি.সি’র বাসগুলোর জানালা আংশিক ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়।

বাতুল মোকাররমে মিছিল শেষ হলে মাওলানা ভাসানী শনিবারে ধর্মঘটের ডাক দেন, পূর্বে পল্টন ময়দানের ভাষণে তিনি ১২ই ডিসেম্বর সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। তাই তার এ ঘোষণা বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে। তিনি পরে ঘোষণা করেন যে শনিবারে পরিবহন ধর্মঘট হতে পারে।