ভুট্টোর ভূমিকার নিন্দায় পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ

Posted on Posted in 2

<2.169.678>

 

ভুট্টো বর্জনে পাঞ্জাব- পাকিস্তান ফ্রন্টের PLKA

 

পাঞ্জাব-পাকিস্তান ফ্রন্টের ব্যবস্থাপনা কমিটি আজ এ মতামত প্রকাশ করে যে, শেখ মুজিবর রহামানের মার্শাল আইন বর্জন ও ক্ষমতা জনগণের নিকট হস্তান্তরের দাবি পাকিস্তানের সকল গনতন্ত্র প্রেমীদের নিকট সানন্দে গৃহীত হয়েছে এবং পাঞ্জাবের জনগণকে ভুট্টোর স্বেচ্ছাচারী রাজনীতি দমনে তার নেতৃত্ব বর্জনের প্রেরণা যুগিয়েছে।

আজ আহব্বায়ক মালিক গোলাম জিলানীর নিজস্ব বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় বলা হয় যে, ঢাকায় জাতীয় নির্বাচন নিয়ে টালবাহানার সিদ্ধান্তটি গভীর দুশ্চিন্তা ও দুঃখের বিষয়। তাদের মতে এ সিন্দধান্ত ছিল পুরোপুরি অযৌক্তিক।

কমিটির মতে সমগ্র দেশের উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া এ বেপরোয়া সিদ্ধান্তটি কেবল মাত্র একজন ব্যক্তির মস্তিষ্ক প্রসুত যার কিনা পুরো পশ্চিম পাকিস্তানের চারটির মধ্যে কেবলমাত্র একটি প্রদেশে (পাঞ্জাব) সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল,যা ছিল পাঞ্জাবের জন্য লজ্জাজনক।

কমিটির মতে পাঞ্জাবের জনগনকে পিপলস পার্টিকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করা হয়েছিল। বস্তুত পক্ষে পিপলস পার্টি ছিল এমন একটি রাজনৈতিক দল- সংবিধানের পক্ষে যার কোনোরকম প্রতিশ্রুতিবদ্ধতা ছিলনা। পিপলস পার্টির উপর পাঞ্জাব সহ পাকিস্তানের অন্যান্য প্রদেশের জনগণ যে বিশ্বাস স্থাপিত করেছিল, পিপলস পার্টি তার পুরোপুরি দুর্ব্যবহার করেছে। দলটি ইতোমধ্যেই নিজেকে অগনতান্ত্রিক ও আস্থার অযোগ্য বলে প্রমানিত করেছে।

সর্বশেষে কমিটি এই মতামত জ্ঞাপন করে যে পাকিস্তানের সার্বিক কল্যানার্থে ভুট্টোর নেতৃত্ব বর্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

 

 

 

 

 

 

 

<2.169.679>

ভুট্টোর জাতীয় পরিষদকে অসম্মান ও পাকিস্তানের গনতান্ত্রিক পরাজয়কে একমাত্র হিটলারের বৈপ্লবিক উত্থানের সাথেই তুলনা করা যায়।

কমিটির মতে পাকিস্তানের ইতিহাসের এই সুক্ষ ও গুরুত্বমণ্ডিত সন্ধিক্ষণে গনতন্ত্র রক্ষায় একটি সংগ্রাম বিশেষ ভাবে প্রয়োজনীয় ছিল। কেবল সেনাবাহিনীর উপরই যে দেশের সীমান্ত রক্ষা নির্ভরশীল সে দেশ কিভাবে বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সক্ষম তা ছিল অচিন্ত্যনীয়। প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে পিপলস পার্টি ও পাকিস্তানের অন্য সকল জনসাধারণের জাতীয় বিশ্বাস দুইটি মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল।

কমিটির মতে নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তটি পাকিস্তনের গনতন্ত্রের মুখে সবচেয়ে বড় বাধায় পরিনত হয়েছিল যা কিনা কেবলমাত্র একজন ব্যক্তির ক্ষমতার লোভের কারণে সমগ্র জাতীয় আকাংক্ষার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এ সকল অবস্থা বিবেচনায় রেখে কমিটি এই সুপারিশ করে যে মার্শাল আইন বর্জন ও গনতান্ত্রিক ক্ষেত্রকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যে শেখ মুজিবর রহমানের দাবি পাকিস্তানের সকল গনতন্ত্রপ্রেমী কর্তৃক সমর্থনীয়।

(করাচি, মার্চ ৪, ১৯৭১)

……………………….

আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই একমাত্র সমাধান

৪ মার্চ, ১৯৭১ সালে এয়ার মার্শাল(রিটায়ার্ড) আসগর খান কর্তৃক করাচি প্রেস ক্লাবে প্রদত্ত রিপোর্ট

গত কাল এয়ার মার্শাল(রিটায়ার্ড) আসগর খান “ বর্তমান রাজনৈতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষমতা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নিকট ন্যস্ত করণ” সংক্রান্ত একটি রিপোর্ট পেশ করেন।

তার মতে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের উচিত গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় সঙ্গহতি মেনে শেখ মুজিবর রহমানের হাতে পূর্ণ ক্ষমতা ন্যস্ত করা।

 

 

 

 

 

 

<2.169.680>

তার মতে সংবিধান প্রস্তুত করণের কাজ পরে করলেও চলবে। বর্তমানে যা একান্ত প্রয়োজনীয় তা হল উপযুক্ত স্থানে ক্ষমতা ন্যস্ত করা।

তিনি বলেন ছয় দফা দাবি জনগণের মধ্যে একটি হিস্টিরিয়া সৃষ্টি করেছে যা তিনি একজন নাগরিক হিসেবে নিবারণ করা জরুরি বলে মনে করেন। তার মতে এক্ষেত্রে একটি মৌলিক পরিবর্তন জরুরি।

পূর্ব পাকিস্তানের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি মন্তব্য করেন, “পুর্ব পাকিস্তানের দুরবস্থায় আমার মন ততটাই অশ্রুসিক্ত হয় যেন তা পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণেরই দুরবস্থার প্রতিরূপ।”

তিনি শেখ মুজিবর রহমানের হাতে ক্ষমতা ন্যস্ত করনের উপর জোরদান পূর্বক বলেন যে, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের উপর চালিত অত্যাচার মোটেই সহনীয় নয়। এর ফলে দেশে ভাংগন অবশ্যম্ভাবী।

পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণদের এ বিষয়ে অবগত করা উচিত যে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনরা অনেকদিক থেকেই বঞ্চিত। তাদের অবশ্যই প্রাপ্য অধিকার ও ক্ষমতা ন্যাস্ত করা উচিত।

একজন প্রশ্নকর্তার প্রশ্নের উত্তরে আসগর খান বলেন যে সাংবিধানিক নীতিমালার দিক দিয়ে শেখ মুজিবর রহমানের অবস্থান ছিল প্রশ্নাতীত। ভুট্টোই বরং বৈদেশিক নীতিমালা অবলম্বন করে নির্বাচনে অংশ নেন। এক্ষেত্রে ভুট্টোর কাছ থেকে পারস্পারিক বোঝাপড়া ও সংগতিপুর্ণ ব্যবহার প্রত্যাশিত ছিল।

তবে আসগর খানের মতে আওয়ামী লীগের ছয় দফা দাবির পক্ষে শক্ত অবস্থান গ্রহন খুব একটা প্রয়োজনীয় ছিলনা। এক্ষেত্রে পারস্পারিক মত আদান প্রদানের সুযোগ বিদ্যমান ছিল।

শেখ মুজিবর রহমানের সাথে আসগর খানের বৈঠকের বিষয় বস্তু কি হতে পারে তা জিজ্ঞেস করা হলে আসগর খান বলেন যে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার সাপেক্ষে শেখ মুজিবরের দৃষ্টিভংগি বুঝতে আগ্রহী।

 

 

 

 

<2.169.681>

পুর্ব পাকিস্তানে তার অবস্থানকালে তিনি পুর্ব পাকিস্তানের জনগণের নিকট তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের জনগনের সহমর্মিতা তুলে ধরেন যাতে করে পারস্পারিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পায়।

আসগর খান পরবর্তী তিন মাসে পাকিস্তানের রাজনৈতিক আবহাওয়া কিরকম হতে পারে তা নিয়ে কঠোর সমালোচোনা করেন। এক্ষেত্রে তিনি কুটনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ভূমিকাকে প্রাধান্য দান করেন।

তিনি বলেন আমেরিকা পাকিস্তানের বিভক্ততা কামনা করে। এক্ষত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের মাধ্যমে পুর্ব পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মুখে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তার মতে এ অবস্থা চলতে থাকলে পশ্চিম পাকিস্তানও অচিরেই ভেংগে পড়বে। তার মতে এ বিভক্তিকরণের পেছনে ভারতীয় কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

তিনি আরও বলেন যে পশ্চিম পাকিস্তান প্রায় ২৩ বছর ব্যাপী পুর্ব পাকিস্তানকে শাসন ও শোষন করে এসেছে। এখন যদি পুর্ব পাকিস্তানের হাতে সমগ্র পাকিস্তানের ক্ষমতা ভার চলে যায় তবে পশ্চিম পাকিস্তানেরও সমভাবে শাসিত ও শোষিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতরাং তার মতে পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে ক্ষমতার সুষম বন্টন থাকা উচিত।

আসগর খানের মতে পশ্চিম পাকিস্তানের জনগন সবসময়ই পুর্ব পাকিস্তানে হত্যাকান্ডের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তিনি দেশে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে সর্বাধিক ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন এই মুহুর্তে ক্ষমতার হস্তান্তর না ঘটলে দুই প্রদেশের মধ্যে সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে।ইহা কোনো হুমকি নয় বরং প্রকৃত অবস্থার ব্যবচ্ছেদ। সংঘর্ষ মোকাবিলার একমাত্র পথ  ক্ষমতার বন্টন ও সেনাবাহিনী প্রত্যাহার।

 

 

 

<2.169.682>

 

আসগর খান বলেন জাতীয় ও সাংবিধান সমস্যাবলি নির্বাচিত প্রতিনিধি কর্তৃক সমাধা করা উচিত। কিন্তু অবস্থার দ্রুত ও অবাঞ্জিত পরিবর্তনের ফলে বররমানে নির্লিপ্ত না থেকে জাতীয় সঙ্গহতি রক্ষায় এগিয়ে আসা উচিত।

তার মতে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় জাতীয় নেতাদের একত্রে বৈঠক করে প্রতিটি সমস্যার পুংখানুপুংক্ষ বিশ্লেষণের মাধ্যমে একত্রে সেসবের সমাধানে হাত দেওয়া উচিত।

তিনি অতি দুঃখের সাথে বলেন যে পশ্চিম পাকিস্তানের কিছু কিছু নেতা ক্ষমতা পুর্ব পাকিস্তানী নেতাদের নিকট ন্যস্ত করার চেয়ে সেনাবাহিনী বহাল করার প্রতি জোর প্রদান করছেন। তার মতে এ আচরণ নিতান্তই অগণতান্ত্রিক।

তিনি জাতীয় নির্বাচন মুলতবির বিপক্ষে মত প্রকাশ করে বলেন, যতসম্ভব প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান কর্তৃক আহবায়িত জাতীয় নেতাদের গোল টেবিল বৈঠকও ফলপ্রসু হবেনা।

তিনি পুর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আহবায়িত গোল টেবিল বৈঠকের সাথে বর্তমানে আহবায়িত বৈঠকের মিল খুজে বলেন দুটি বৈঠকই ১০ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য ছিল।

তিনি জাতীয় ইস্যু সমুহের ব্যবস্থাপনার দুরবস্থা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন শেখ মুজিবর রহমানই পাকিস্তানের আইনগত প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের ছয় দফা দাবিতে কোন ভুলের অবকাশ নেই।

পিপলস পার্টির প্রধান জনাব ভুট্টোর বক্তব্য অনুযায়ী বিদ্যমান তিনটি ফোর্স তথা পিপলস পার্ট, আওয়ামী লীগ ও সেনাবাহিনী- এর ব্যাপারে আসগর খানের মতামত জানতে চাওয়া হলে তিনি এর বিপক্ষে মত প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রীয় সঙ্গহতির উপর প্রাধান্য দিয়ে তিনি বলেন পশ্চিম পাকিস্তানের টিকে থাকার লক্ষ্যেই জাতীয় অখন্ডতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

(করাচি, মার্চ ৫, ১৯৭১)

<2.169.683>

 

 

আরটিসি : মুজিবের সিদ্ধান্তে হাজরভী’র সমর্থন : ভু্ট্টোর সমালোচনা।

জামাত উলেমা ই ইসলাম (পশ্চিম পাকিস্তান) এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা গোলাম গাউস হাজরভী ১০ই মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নেতাদের সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান এর যোগ না দেওয়ার বিষয়টি সমর্থন করেন।

তাহার মতে ভালো হতো, যদি জাতীয় পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সমবেত হয়ে ১০ দিনের জন্য তা স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া কর্তৃক রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ঐক্যের জন্য উদ্যেগ নেয়া।

জাবিস হোটেলে মাওলানা হাজরভির সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংবিধান তৈরীর কাজটি জাতীয় পরিষদের ভিতরে হওয়া উচিত, জনসম্মুখে নয়। সাংবিধানিক বিষয়ে জনাব ভুট্টো ও শেখ মুজিবের আপোষহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি ভুল পদক্ষেপ।

তিনি জনাব ভুট্টোর “আলটিমেটাম” শব্দ প্রয়োগ এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট সংকটের সমালোচনা করেন। যা কিনা পারস্পপরিক ভালোবাসা, সহনশীলতা ও সমঝোতার মাধ্যমে প্রতিহত করা যেত।

তিনি আরো বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান তার সর্বশেষ দেওয়া বক্তব্যে বেশ সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু অন্যদিকে একই দিনে লাহোরে জনার ভুট্টো উস্কানিমুলক বক্তব্য প্রদান করেন।মতিনি আরো বলেন, মুজিব তার বক্তব্যে যে সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানের মনোভাব দেখিয়েছেন একই মনোভাব ভু্ট্টো প্রকাশ করলে হয়তো আরেকটি ভু্ট্টো-মুজিব বৈঠকের সম্ভাবনা ছিলো।

মাওলানা গোলাম গাউস আরো বলেন, এই কঠিন সমেয় পূর্ব পাকিস্তানের ভাইদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের জনগণের সহানুভুতি আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংকটপূর্ন সময়ে সমাধানের একটি পথ বের হয়ে আসবে এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা ও সংহতি বজায় থাকবে এবং ইসলামের বন্ধনে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান আরো শক্তিশালী হবে।

ভুট্টোর নিন্দা- পূর্ব অনুমতি ছাড়াই, পশ্চিম পাকিস্তনের জাতীয় পরিষদের নির্বাচিত সদস্যের ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেয়ায় ভু্ট্টোর হুমকির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

তিনি উল্লেখ করেন, জনাব ভুট্টোর ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, জাতীয় ঐক্য এখনও সমুন্নত হয়নি এবং প্রত্যেক প্রদেশেরই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছে। জনাব ভুট্টো পশ্চিম পাকিস্তানের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবী করতে পারেন না। রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিষয়ে অথবা জাতীয় পরিষদের সদস্যকে হুমকি দেওয়ার মতো কর্তৃত্বপূর্ণ ভাষায় কথা বলা উচিত নয়।

 

মাওলানা গোলাম গাউস এই বলে সতর্ক করে দেন যে, একটি বিদেশি শক্তি তাদের কায়েমী স্বার্থ রক্ষার জন্য পাকিস্তানের অখন্ডতা ভাঙ্গনে লিপ্ত আছে। তিনি একটি বৃহৎ শক্তির কথা উল্লেখ করেন যে, তাদের লোকবল সারাদেশে বিচরণ করছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যাক্তির সাথেও যোগাযোগ শুরু করেছে।

 

<2.169.684>

 

পাকিস্তানের অখন্ডতা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বৈদেশিক প্রভাব ও চরদের কার্যকলাপের উপর সরকারকে সজাগ দৃষ্টি রাখার জন্য বলেন।

“মুলতবী অগণতান্ত্রিক” – ন্যাপের হরতাল ঘোষণা ৪ঠা মার্চ ১৯৭১। কোয়েটায় অনুষ্ঠিত এক সভায় বেলুচিস্তান প্রদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পর্টি (ওয়ালী গ্রুপ) হরতাল ঘোষণা। জনাব মোহাম্মদ হাশিম খান ঘিলজাই এর সভাপতিত্বে বেলুচিস্তার প্রদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ওয়ালী গ্রুপ)কোয়েটা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৩রা মার্চ ঢাকায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবী করাকে “শোচনীয় ও অগণতান্ত্রিক” বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

জরুরী ভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডেকে সাংবিধানিক সমস্যার সমাধানের ব্যাপারেও পার্টি হইতে বলা হয়।

ন্যাপের বিবরণীতে আরো বলা হয়, সাংবিধানিক সমস্যা সমাধানের উপযুক্ত স্থান হচ্ছে জাতীয় পরিষদ। লোকচক্ষুর অন্তরালে কারো ড্রয়িং রুমে বসে এসকল বিষয় আলোচনা প্রতারণার সামিল।

জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবী ঘোষণার ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে অস্থিরতার ও সারাদেশে বিশৃংখলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সংবিধান প্রণয়নের পর জাতীয় পরিষদের অধিবেশনের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করে জনগণের প্রতিনিধির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তরেরও দাবী জানানো হয়।

বিবরণীতে আরো বলা হয়, চক্রান্তকারী একটি দল কায়েমী স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্তর্ঘাতমুলক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণতন্ত্র নষ্ঠ করতে সচেষ্ট।

সেই একই দল পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক শাসন ব্যহত করার জন্য সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।

এর আগে বেলুচিস্তান প্রদেশের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি সর্বসম্মতভাবে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন মুলতবী ঘোষণার কারণে ১২ই মার্চ সারা বেলুচিস্তানে হরতাল আহ্বান করে।

১২ই মার্চ বিকাল ৩টা হতে ৫টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ মিছিল ও প্রতিবাদের আয়োজন করবে।

ন্যাপ এর বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দরাও উপস্থিত থাকবেন।

 

(করাচী – ৫ই মার্চ, ১৯৭১)