ভুট্টোর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের বক্তব্য

Posted on Posted in 2

<2.141.597>

 

শিরোনামসূত্রতারিখ
ভূট্টোর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের বক্তব্যপাকিস্তান অবজারভার২২ ডিসেম্বর, ১৯৭০

 

 

আওয়ামী লীগই সংবিধান প্রণয়নের যোগ্য

জনাব ভুট্টোর ২০ ডিসেম্বর ১৯৭০ তারিখে করা মন্তব্যের জবাবে

জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ

সংবিধান প্রণয়ন কিংবা কেন্দ্রের সরকার গঠন তাঁর দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া চলবে না – বলে জনাব ভুট্টোর বক্তব্যের জবাবে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব তাজউদ্দিন আহমেদের দেয়া ২১ তারিখের পূর্ণ বিবৃতিটি নিম্নরূপঃ

জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টো তাঁর দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া দেশের সংবিধান প্রণয়ন করা কিংবা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করা যাবে না বলে যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, তা সঠিক হতে পারে না। পাঞ্জাব এবং সিন্ধু আর ‘ক্ষমতার দূর্গ’ হতে পারবে না। জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এমন ‘ক্ষমতার দূর্গের’ বিরুদ্ধেই। জনগণ ভোট দিয়েছে এক সত্যিকার গণতন্ত্রের জন্য যেখানে ক্ষমতা জনগণের উপরে ন্যস্ত, এবং যেখানে বিধানসভার সদস্যরা গঠিত হয়েছে ‘এক ব্যক্তি এক ভোট’ নীতিতে। এমন ব্যবস্থায় আওয়ামী লীগের মত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা অথবা বলতে গেলে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রাপ্ত দলই সংবিধান প্রণয়ন এবং কেন্দ্রের সরকার গঠনের জন্য পূর্ণ যোগ্য। এটি অন্য দলগুলোকে সাথে নিয়ে বা ছাড়াও করা যায়। এমন কোন সহযোগিতা যদি আওয়ামী লীগের লাগে, তা বেছে নেওয়া হতে পারে তবে তা হবে আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের সাথে যায় এমনদের থেকে, যা শোষণমুক্ত একটা নতুন আর্থসামাজিক শৃঙ্খলা স্থাপন করতে চায়।

 

এক প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধি অন্য কোন প্রদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধির চাইতে কোন বিশেষ অথবা উচ্চতর মর্যাদা দাবী করতে পারবেন না। এহেন দাবী অতীতের সেই সংকীর্ণতায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে যখন কেন্দ্রীয় সরকারকে দেখা যেত পশ্চিম পাকিস্তানের কোন নির্দিষ্ট অংশের শাসক গোষ্ঠির রক্ষক হিসেবে। পাকিস্তানের জনগন সেই অতীতকে প্রত্যাখ্যান করেছে। যদি আমরা উন্নত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে চাই, এমন দাবীগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত কারণ এগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বিতর্কের জন্ম দেয়। আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জনগণের ইচ্ছার বাস্তবায়নের প্রতি পূর্ণ সচেতন এবং এ ব্যাপারে চেষ্টার কোন ত্রুটি সে করবে না।