মাওলানা ভাসানী কর্তৃক আইয়ুব খান প্রস্তাবিত গোল টেবিল বৈঠকের এবং ১১ দফা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

Posted on Posted in 2

<2.088.429>

শিরোনামসূত্রতারিখ
মওলানা ভাসানী কর্তৃক আইয়ুব খান প্রস্তাবিত গোল টেবিল বৈঠকের বিরোধিতা এবং ১১-দফা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহবানদৈনিক সংবাদ৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯

 

১১-দফা ও ১৪ই-র হরতালের প্রতি ভাসানীর সমর্থন

প্রস্তাবিত গোলটেবিল বৈঠকের বিরোধিতা

 

গতকাল (শুক্রবার) অপরাহ্নে ৪৬, কাপ্তান বাজারস্থ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ভাসানীপন্থী ‘ন্যাপ’ কর্মীদের এক সভায় বক্তৃতা প্রদান প্রসঙ্গে পার্টির সভাপতি মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারী আহূত হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। তিনি উক্ত দিবসের হরতালকে সফল করার জন্য পার্টির প্রতিটি কর্মীর প্রতি নির্দেশ প্রদান করেন এবং ১১-দফা দাবীতে উক্ত হরতাল পালন এবং উক্ত দিবসে ১১-দফা দাবিতে মিছিল করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান । পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বর্তমান গনসংগ্রামকে তিনি অব্যাহত রাখার উপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বলেন যে, সাম্রাজ্যবাদ, একচেটিয়া পুঁজিবাদ এ সামন্তবাদী শক্তিসমূহ আজ তাহাদের স্বার্থরক্ষা আইয়ুবের আমলাশাহীর ত্রিশঙ্কু অবস্থায় বিপর্যস্ত বোধ করিতেছে এবং পরিত্রাণের জন্য মরিয়া হইয়া আপোষের পথ খুজিতেছে । তিনি এই মুহূর্তে যে কোন আপোষ জনগণের জন্য আত্মহত্যার শামিল হইবে বলিয়া মনে করেন। তিনি বলেন, গণ অভ্যুত্থানের যে শক্তির বলে আজ এই সরকার নিস্তেজ হইয়া পড়িয়াছে, সেই শক্তির চাপ অব্যাহত রাখিয়াই আজ ইহাকে খতম করিতে হইবে।

  তিনি আরও বলেন যে, সংগ্রামের পথেই আজ পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন, পশ্চিম পাকিস্তানের এই ইউনিট বাতিলের দাবী এবং যে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকেরা বুকের রক্ত দিয়া এই গনসংগ্রাম গড়িয়া তুলিয়াছে এবং আইয়ুবের ভিত টলাইয়া দিয়াছে তাহাদের দাবীসমূহ প্রতিষ্ঠিত করিতে হইবে।

  তিনি প্রস্তাবিত গোলটেবিল বৈঠকের বিরোধিতা করেন এবং বলেন যে আসন্ন গোল টেবিল বৈঠকে যোগ দিয়া স্বায়ত্তশাসনের ও ছাত্র, শ্রমিক, কৃষকের দাবী আদায় করা সম্ভব হইবে না।

  তিনি বর্তমান সংগ্রামের গতিবেগকে তীব্রতর করার প্রতি এবং সকল অন্যায় আইনকে অমান্য করিয়া আরও আত্মত্যাগের মাধ্যমে চূড়ান্ত মুক্তির পথ রচনা করার জন্য কর্মী সাধারণের প্রতি আহ্বান জানান ।

  মওলানা সাহেব ছাত্রদের মহান আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত অনুপ্রাণিত হইয়া অভিভাবক ও কর্মীদের প্রতি মুক্তির জন্য প্রাণপাত করার মনোভাব গড়ে তোলার আহ্বান জানান। উত্তরণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসাবে তাঁহার দল ১৯৬৬ সালের জুন মাসে যে ১৪-দফা দাবী গ্রহণ করিয়াছিল তাহা ছাত্রসমাজের ১১-দফা দাবীর অনুরুপ।

  মওলানা সাহেব টাঙ্গাইল ও হাজীগঞ্জের সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণের ঘটনাসহ সকল স্থানের গুলি বর্ষণের ও ছাত্র গণহত্যার প্রতিবাদ জানান এবং শহীদদের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে সর্বস্ব পণ করার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।