মার্কিন প্রসাশনের সামালোচনা করে বাংলদেশ শিক্ষক সমিতির বিবৃতি

Posted on Posted in 4

<৪,২৩২,৫১১-৫১২>

অনুবাদকঃ সজীব কুমার সাহা

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৩২। মার্কিন প্রসাশনের সামালোচনা করে বাংলদেশ শিক্ষক সমিতির বিবৃতিবাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১

 

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির পক্ষে ডক্টর এ কে রায় এর সংবাদ বিবৃতি

 

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক গ্যালব্রেইথ তার কলকাতা আগমনের সময় দমদম বিমানবন্দরে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা ও সমস্যা সমাধানের জন্য দা স্টেটসম্যান পত্রিকা কে যে সাক্ষাতকার দেন তা আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেছে । অধ্যাপক গ্যালব্রেইথ এর সুপারিশ অনুযায়ী বাংলাদেশের সমস্যা সমাধানের একমাত্র উপায় বাংলাদেশের সরকার নিজেদের গঠন করতে দেওয়া অথবা স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করা অথবা এই জাতীয় কোন ব্যাবস্থা করা। স্পষ্টভাবে অধ্যাপক গ্যালব্রেইথ পাকিস্তানকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চিন্তা করছেন কিন্তু বাংলাদেশ হবে স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল । অধ্যাপক যদি মনে করে থাকে তার পন্থা টি বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে তাহলে এটি অধ্যাপকের একটি ভুল ধারনা । আজ এই পরিস্থিতিতে স্বাধীনতা ব্যাতীত বাংলাদেশের জনগনের কাছে কোন কিছুই গ্রহনযোগ্য নয় । ইতিমধ্যে আমরা অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি এবং আরো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত যতক্ষন পর্যন্ত না পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের পবিত্র মাটি থেকে উৎখাত করতে না পারছি । বাংলাদেশকে শুধুমাত্র স্বায়ত্তশাসনের জন্য বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগ নয় ,এটি আরো উচু স্তরের। কয়েক লক্ষ শরনার্থী ভারতে আশ্রয় নিয়েছে এবং তাদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে তাদের প্রতি মানবিক ও সহানুভূতিশীল হওয়ার জন্য জনগনের মতামত কে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনকে সমর্থন দেয়ার জন্য নিক্সন প্রশাসন চাপ দেয়ার অনুরোধ করছি। আমরা দৃড়ভাবে বিশ্বাস করি যে আমেরিকার শান্তিপ্রিয় জনগন বাঙালি হত্যার জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে অস্ত্র সরবরাহের নিক্সন এর নীতি সমর্থন দিবে না এবং যদি দেয় তাহলে অস্ত্র সহ পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করা হবে।

 

আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে আমেরিকা সরকারের ক্রমাগত অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহের ব্যাপারে অধ্যাপক গ্যালব্রেইথের দৃষ্টি আকর্ষন করছি । আমেরিকা সরকার এবং আমেরিকার জনগন এ ব্যাপারে সচেতন আছে যে সরবরাহকৃত অস্ত্র বাংলাদেশে গনহত্যার কাজে ব্যাবহার করবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী । আমরা সহ সারা বিশ্বে জনগন আমেরিকার এই নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে । কিন্তু এখন পর্যন্ত এই প্রতিবাদ আমেরিকা সরকারের উপর কোন প্রভাব ফেলছে বলে মনে হচ্ছে না । আমরা কিছুদিন আগে কলকাতায় আমেরিকার রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট কেনেডির নিকট একটি স্মারকলিপি দেয় । সম্প্রতি একটি খবর ছড়িয়েছে যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ইচ্ছানুযায়ী ভিয়েতনাম যুদ্ধে ব্যাবহৃত অস্ত্র বাংলাদেশে গেরিলাদের দমনের জন্য পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে দেয়া হচ্ছে । এই বিষয়ে কলকাতায় আমেরিকার দূতাবাসে কিছুদিন ধরেই স্মারকলিপি আদান প্রদান করা হচ্ছে । চীন সরকারে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ আমরা একই পরিতাপের সাথে লক্ষ্য করছি । আমাদের জন্য এটা বিশ্বাস করা কঠিন যে আমেরিকার জনগন বাংলাদেশের জনগনকে দমন ও শাসন করা সমর্থন করছে ।

 

অত এব সমিতির পক্ষ থেকে আমরা ন্যায়বিচার , মানবতা ও স্বাধীনতার জন্য আমেরিকা এবং চীনের জনগনের কাছে আবেদন করছিঃ

ক। ইয়াহিয়া সরকারকে সবধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা বন্ধ করা ।

খ। নৃশংসতা কমানোর জন্য পাকিস্তান সরকারকে চাপ দেয়া এবং শেখ মুজিব সহ শিক্ষক , বুদ্ধিজীবি এবং রাজনৈতিক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে ।

গ। এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সার্বভৌম স্বীকৃতি প্রদান ।

 

কলকাতা

১১ই সেপ্টেম্বর , ১৯১১                                                                                        ( এ কে রায় )

                                                                                                                       জেনারেল সেক্রটারী

                                                                                                                     বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি