রাজাকার কোম্পানি কমান্ডারদের বিদায়ী কুচকাওয়াজে জেনারেল নিয়াজী

Posted on Posted in 7

৭.২০৭.৫৮৫

শিরোনামঃ ২০৭। রাজাকার কোম্পানী কমান্ডারদের বিদায়ী কুচকাওয়াজে জেনারেল নিয়াজী

সূত্রঃ দৈনিক পাকিস্তান

তারিখঃ ২৮ নভেম্বর, ১৯৭১

.

সাভারে বিদায়ী কুচকাওয়াজে জেঃ নিয়াজী

রাজাকারদের উচ্চমনোবল ও

আত্মপ্রত্যয়ের প্রশংসা

.

    গতকাল শনিবার ঢাকা  থেকে ১৫ মাইল দূরে সাভারে রাজাকার কোম্পানী কমাণ্ডারদের প্রথম দলের বিদায়ী কুচওকায়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এপিপি পরিবেশিত এই খবরে প্রকাশ, ইষ্টার্ণ কমাণ্ডার ও ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন- শাসনকর্তা লেঃ জেঃ এ, এ, কে নিয়াজী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং আভিবাদন গ্রহণ করেন।

    এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, কোম্পানী কমাণ্ডারের পদমর্যাদা পর্যন্ত জুনিয়র নেতৃত্ব রাজাকারদের নিজেদের উপরই ন্যস্ত করা হয়েছে। কোম্পানী কমাণ্ডারদের প্রথম দলের দু সপ্তাহ ট্রেনিং গতকাল সমাপ্ত হয়। পরবর্তী কোর্স সোমবার থেকে শুরু। কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের পর জেঃ নিয়াজী এক সংক্ষিপ্ত ভাষণে তাদের দক্ষতার প্রশংসা করেন।

    তিনি বলেন যে, রাজাকারদের প্রসন্ন বদন, আত্মপ্রত্যয় ও উচ্চমনোবল দেখে তিনি বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন। রাজাকারদের ভূমিকা সম্পর্কে ভাষণদান প্রসঙ্গে তিনি বলে, একদিকে তাদের ভারতীয় চরদের সকল চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে এবং অপরদিকে বিপদগামী যুবকদের সঠিক পথে আনার চেষ্টা করতে হবে।

    জেনারেল নিয়াজী কুচকাওয়াজের পর রাজাকার কোম্পানী কমাণ্ডারদের সাথে ঘরোয়া ভাবে দেখা করেন এবং করমর্দন করেন। তারা দেশের সংহতি রক্ষার জন্য দেশপ্রেমমূলক শ্লোগান দেন।

দৈনিক পাকিস্তান

২৮ শে নভেম্বর, ১৯৭১

জেনারেল নিয়াজীর হিলি পরিদর্শন

.

    ইষ্টার্ণ কমাণ্ডার ও ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেঃ এ এ কে নিয়াজী গতকাল শনিবার হিলি এলাকা পরিদর্শন করেন। তিন দিন যাবৎ এখানে তীব্র সংঘর্ষ হচ্ছে। এপিপি পরিবেশিত এই খবরে বলা হয়েছে যে শুক্রবারও সীমান্তের ওপার থেকে পাকিস্তানী অবস্থানের উপর ভারতীয় গোলন্দাজ বাহিনী গোলাবর্ষণ করে।

    জেনারেল নিয়াজী যখন সৈন্যদের দেখার জন্য অগ্রবর্তী এলাকার যাচ্ছিল তখন ভারতীয় কামানের ছয়টি গোলা এসে পড়ে। তবে কোন ক্ষতি হয়নি। জেনারেল নিয়াজীর বিভিন্ন বাঙ্কার সৈন্যদের সাথে দেখা করেন। তিনি তাদের সাথে ঘরোয়া ভাবে আলোচনা করেন। তিনি তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও উচ্চমানোবল লক্ষ্য করেন। সংখ্যায় কম হলেও তাঁরা ভারতীয়দের বারংবারের হামলা প্রতিহত করে।

    হিলি এলাকা সফর করে জেঃ নিয়াজী বিদেশী সাংবাদিকদের একটি দলকে সাক্ষাৎ দান করেন। ভারতীয় হামলার স্বাক্ষর পরিদর্শনের জন্য তাঁরা হিলি এলাকা সফরে যান। যুদ্ধে তিনটি ভারতীয় ট্যাংক অকেজো করে দেয়া হয় এবং ১৫০ ভারতীয় সৈন্য নিহত হয়। তিনি গতকাল বিকেলে ঢাকা প্রত্যাবর্তন করেন।

দৈনিক পাকিস্তান

৩০ নভেম্বর, ১৯৭১

বিদেশী সাংবাদিকদের কাছে জেনারেল নিয়াজী

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্য যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে

.

    নিউওয়ার্ক, ২৯ শে নভেম্বর (এপিপি)- পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ডারের লেঃ জেনারেল এ এ কে নিয়াজী গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক বিদেশী সাংবাদিককে বিলেছেন যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে বলেই তিনি মনে করেন। গত ২১ নভেম্বর ভারত যে আক্রমন শুরু করেছে, তার কথা তিনি উল্লেখ করে বলেন, তাদের যা কিছু আছে সব নিয়েই তাঁরা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। কিন্তু তাঁরা ব্যর্থ হয়ে গেছে। জেনারেলের মন্তব্যগুলো গত শনিবারের নিউওয়ার্ক টাইমস পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশ করা হয়। জেঃ নিয়াজী বলেন, তাদের সৈন্যদের শোচনীয় ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁরা একমাত্র যে সাফল্য অর্জন করেছে তাহলে দেশের অভ্যন্তরে নিজেদের লোকজনকে সন্ত্রস্ত করা।

    জেনারেল বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী নেতৃত্ব দুর্বল এবং তাদের সৈন্যর’ দুর্বল। সংখ্যায় কম হলেও পাকিস্তানী সৈন্যরা ভারতীয়দের পর্যুদস্ত করেছে। পাকিস্তানের প্রতি একজনের জায়গায় ভারতের সৈন্য তিনজনেরও বেশী। তিনি বলেন, পাকিস্তানী সৈন্যদল অদ্বিতীয়। আমরা কখনো পরাজিত হয়নি। ইতিহাস দেখুন।

    আমি চ্যালেঞ্জ করছি, ইতিহাসে আমাদের বিজয় ছাড়া আর কিছু পাবেন না। আমরা কখনো পরাজিত হইনি এবং ভারতীয়রা কখনো জিততে পারেনি। আমি অতি সহজেই প্রতি একজনে তাদের তিনজনকে ধরে নিতে পারি।