রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী গ্রেফতার

Posted on Posted in 2

<2.60.304-306>

শিরোনামসূত্রতারিখ
রাষ্ট্রোদ্রোহিতার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র  মামলার আসামী গ্রেফতারদৈনিক পাকিস্তান৭ জানুয়ারী,১৯৬৮

 

পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্রঃভারতীয় কূটনীতিক বহিস্কারঃ অস্ত্র সংগ্রহের জন্যআগরতলার সামরিক অফিসারদের সঙ্গে গোপন বৈঠকঃ মোটা অংকের অর্থ লাভ                                  হীন চক্রান্ত সম্পরকে দেশের উভয় অংশে জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার

(নিজস্ব প্রতিনিধি প্রেরিত)

 

রাওয়ালপিন্ডি,৬ জানুয়ারীঃ পুর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার একটি ভারত সমর্থিত ষড়যন্ত্রে জড়িত থকার অভিযোগে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিস  ,সেনাবাহিনী,নৌবাহিনী , বিমান বাহিনি এবং রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

একজন সরকারীমুখপাত্র সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে প্রকাশিত তালিকাটি এ যাবত ধৃত ব্যক্তিদের পূর্ন তালিকা ।

আজিকার ঘোষণার সরকারের ইতিপূর্বেকার একটি প্রেসনোটকেই বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।আগের প্রেসনোটে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার দায়ে কতিপয় লোককে গ্রেফতারের কথা বলা হয়েছিল। সেই সংক্ষিপ্ত ঘোষণা দেশে নানা ধরনের জল্পনার সৃষ্টি করেছিল। আজকের ঘোষণায় ধৃত ব্যক্তিদের পুর্ন তালিকা প্রকাশ  করার সময় সব জল্পনার সমাপ্তি ঘটেছে ।

এদের সবাইকে পূর্ব পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে , ধৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশই পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার এই ষড়যন্ত্রে তাদের নিজ নিজ ভূমিকার কথা স্বীকার করেছে। এদের কেউ কেউ কমপক্ষে একজন ভারতীয় কূটনীতিক মিঃ ওঝার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলেন। এরা আগরতলাস্থ ভারতীয় সেনাবাহিনীর অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিশ্র এবং মেজর মেননের সাথে দেখা করেছিলেন।ভারতের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র ও অর্থ সংগ্রহই এই সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্য ছিল।

তবে আজ যে ষড়যন্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ হয়েছে তাতে এ কথা স্পষ্ট হয়ে গেছে পাকিস্তানের সাথে বন্ধুত্বের কোন ইচ্ছা প্রকৃতপক্ষে ভারতের নেই। কাশ্মীর বিরোধ এবং অন্যান্য বিরোধগুলো একটি গভীর শত্রুতারই প্রকাশ ।

ষড়যন্ত্রকারি হিসেবে দু জন সি,এস,পি অফিসার জনাব আহমেদ ফজলুর রহমান এবং জনাব রুহুল কুদ্দুসকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রসংগতঃ উল্লেখযোগ্য , সামরিক শাসনামলে স্ক্রিনিং কমিটি এদের দুজনের প্রতি নোটিশ দিয়েছিল। পরে প্রেসিডেন্ট উভয়কেই ক্ষমা করেন এবং আর একবার সরকারী কাজ করার সুযোগ দেন।

এপিপি পরিবেশিত সরকারী প্রেসনোটে বলা হয় , একটি রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গত মাসে পূর্ব পাকিস্তানে ২৮ ব্যক্তিকে গ্রেগতার করা হয়েছে ।ষড়যন্ত্রটি গত মাসে উদ্ঘাটিত হয় । ধৃত ব্যক্তিগণ পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টায় লিপ্ত ছিল।

 

ষড়যন্ত্র সফল করার জন্য প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র , গোলাবারুদ এবং অর্থ সংগ্রহ করাই তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল।এরা প্রচুর পরিমাণে অর্থ পেয়েছিল তেমন সাক্ষাৎ প্রমাণও পাওয়া গেছে ।চট্রগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ মিঃ ভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী সহ ধৃত আরো কতিপয় ব্যক্তির মারফত তারা টাকা পেয়েছে।

অস্ত্রশস্ত্রের তালিকাসহ (যার কথা আগরতলায় আলোচিত হয়েছে )বহু দলিলপত্র সরকারের হস্তগত হয়েছে।

 

    প্রেসনোটে বলা হয় , বিশৃংখলা সৃষ্টির এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে।এতে বলা হয়, এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই দেশের উভয় অংশের জনসাধারণের মধ্যে যে ঘৃণার সৃষ্টি হয়েছে সরকার সে সম্পর্কে সচেতন।তাই সরকার

প্রেসনোটে বলা হয়, এ ব্যাপারে তদন্ত সমাপ্তির পথে এবং বিচার শীঘ্রই শুরু হবে ।

ধৃত ব্যক্তিদের তালিকাঃ

প্রেসনোটে ধৃত ব্যক্তিদের তালিকা দেয়া হয়েছে এরা হলেনঃ আভ্যন্তরীণ নৌচলাচল সংস্থায় কর্মরত পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জাম হোসেন, চট্রগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ মিঃভূপতি ভূষণ চৌধুরী ওরফে মানিক চৌধুরী ,মি বিধান কৃষ্ণ সেন, চট্রগ্রাম জেলা আওয়ামীলীগ সহ সভাপতি ডাক্তার সাইদুর রহমান, সার্ভিস সিভিল ইন্টারন্যাশনালের (সুইজারল্যান্ড ) পাকিস্তান শাখার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য জনাব এম, আলীরাজা ,জনাবআহমেদ ফজলুর রহমান ,সি এস পি (স্বাস্থ্যগত কারণে ১৯৬৬ সাল থেকে ছুটি ভোগ করছেন) , জনাব রুহুল কুদ্দুস ,সি,এস,পি,(অবসর গ্রহণের প্রস্তুতি ছুটি ভোগ করছিলেন এবং একটি ট্রেনিং কোর্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্র গমনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ), জনাব মুহিবুর রহমান (প্রাক্তন ন্যাভাল স্টুয়ার্ড ) ,জনাব কামাল উদ্দিন আহমেদ (প্রাক্তন ন্যাভাল পেটি অফিসার ) , জনাব সুলতান উদ্দিন আহমেদ (প্রাক্তন ন্যাভাল লিডিং সী ম্যান ) , মীর্জা এম,রমিজ (পিয়াইএতে কর্মরত অবসরপ্রপ্ত প্রাত্তন ফ্লাইট ল্যাফটেন্যান্ট) , জনাব আমীর হোসেন (পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রাক্তন কর্পোরাল ), এ,বি,এম,এ সামাদ (পাকিস্তানবিমানবাহিনীরপ্রাত্তনকর্পোরাল ) জনাব খুরশীদ আলম (প্রাত্তন ন্যাভাল লিডিং সী ম্যান ) , লীডিং সী ম্যান পদের প্রাক্তন সার্জেন্ট ইত্যাদি পদের জনাব মোহাম্মদ মাহমুদ আলী, জনাব এ,বি,এম ইউসুফ, জনাব তাজুল ইসলাম, জনাব খুরশীদ মিয়া, জনাব দলিলুদ্দিন, জনাব মাসুদ আর চৌধুরী, জনাব আনোয়ার হোসেন, পাকিস্তান নৌবাহিনীর লেফটেন্যন্ট মতিউর রহমান, ডাক্তার ক্যাপ্টেন খুরশিদুদ্দিন, এ,এম,সি, সুবেদার আবদুর রাজ্জাক (পাকিস্তানসেনাবাহিনী),  সার্জেন্টএ,এম,এফ,হক  (বিমানবাহিনী ), সার্জেন্ট শামসুদ্দীন (পাকিস্তানবিমানবাহিনী ) এবং হাবিলদার ইনসাফ আলী।

ওঝা বহিস্ক্রৃত

অপর এক খবরে প্রকাশ , পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র এখানে জানান যে , আজ বিকেলে ভারতীয় হাইকমিশনকে পররাষ্ট্রদফতরে ডেকে আনা হয়। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারী মিঃ ওঝাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার ব্যবস্থা করতেও তাকে বলা হয়েছে। মুখপাত্র আরো বলেন, মিঃ ওঝাকে আজ রাতে ঢাকা ত্যাগ করতে তাকে বলা হয়েছে।

রয়টার্স পরিবেশিত খবরে প্রকাশ, ভারতের একজন সরকারী মুখপাত্র আজ রাতে নয়াদিল্লীতে বলেন যে, পাকিস্তান ঢাকাস্থ ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারী মিঃ পি, এন ওঝাকে বহিষ্কার করেছে।

মুখপাত্র আরো বলেন, মিঃ ওঝা কে আজ রাতে ঢাকা ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

 

এম আহমেদকে নয়াদিল্লী ত্যাগের নির্দেশ

নয়াদিল্লী ৬ই জানুয়ারী (এ,এফ,পি)ঃ পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় দূতাবাসের ফার্স্টসেক্রেটারী মিঃ ওঝার বহিষ্কারের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত আজ পাকিস্তানের নিকট নয়াদিল্লীর পাকিস্তানী হাইকমিশনের উপদেষ্টা জনাব এম আহমদের অপসারণ দাবী করে…।

জনাব আহমেদকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে নয়াদিল্লী ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আজ রাতে নয়াদিল্লীতে পাকিস্তান হাইকমিশনের নিকট প্রেরিত এক নোটে ভারত জনাব আহমেদের অপসারণ দাবী করে। তার বিরুদ্ধেগু প্তচরবৃত্তি ও ভারতের নিরাপত্তা বিরোধী ধবংসাত্নক কার্যকলাপের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া তিনি ভারতের জাতীয়তা বিরোধী চক্রকে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

 

*খান শামসুর রহমানকে ইন্দোনেশিয়া থেকে ডেকে আনিয়ে পরে গ্রেফতার করা হয়েছিল।