লন্ডনের হাইডপার্কের সমাবেশে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণের বিবরণী

Posted on Posted in 4

<,২৬৬,৬১৩৬১৭>

অনুবাদকঃ আল-জাবির মোহাম্মদ, খন্দকার কাফি আহমেদ

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৬৬। লন্ডনের হাইডপার্কের সমাবেশে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভাষণের বিবরণীলন্ডনস্থ একশন কমিটির দলিলপত্র১৮ জুন, ১৯৭১

 

জয় বাংলা – জয় বাংলা”

কসাই ইয়াহিয়ার বাংলাদেশে পশ্চিম পাকিস্তানের নিরবচ্ছিন্ন, অমানবিক গনহত্যা সম্পর্কে গ্রেট ব্রিটেন ও বিশ্ববাসীকে জানানোর জন্যে আমরা আজকে এখানে সমবেত হয়েছি। এবং এটা প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রিয় মানুষের দায়িত্ব ইয়াহিয়ার এই চলমান গনহত্যার নিন্দা জানানো এবং তা অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে বলা। আজ এই সভা শেষ হওয়ার পর ইয়াহিয়ার বর্বরোচিত শাসনে সমর্থন না দেওয়ার আবেদন নিয়ে আমরা এখান থেকে মিছিল নিয়ে চাইনিজ দূতাবাস ও আমেরিকান দূতাবাসের সামনে যাবো। আমি আপনাদের সবাইকে অনুরোধ করবো এই স্বৈরশাসকের শোষনের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এবং আমাদের সাথে আওয়াজ তুলতে যাতে বিশ্বের সকল সরকার বিশেষ করে গনপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকার ও আমেরিকার সরকার তাদের সাহায্য বন্ধ করে দেয় এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এবং আমি আপনাদের এই টুকুই বলতে পারি এই গনহত্যা বন্ধই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার একমাত্র উপায়। এছাড়া আর কোন উপায় নেই। তাই আমি আপনাদের সবাইকে আমার সাথে স্লোগান ধরতে অনুরোধ করি, “স্বীকৃতি দাও স্বীকৃতি দাও” – “বাংলাদেশ,বাংলাদেশ” “স্বীকৃতি দাও, স্বীকৃতি দাও” – “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” “স্বীকৃতি দাও স্বীকৃতি দাও” – “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”, “দীর্ঘজীবি হোক দীর্ঘজীবি হোক” – “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ” “দীর্ঘজীবি হোক দীর্ঘজীবি হোক” – “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”। ধন্যবাদ আমি এখন বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ প্রতিনিধি মাননীয় জাস্টিস চৌধুরী সাহেবকে অনুরোধ করবো মঞ্চে আসতে এবং আমাদের মাঝে কিছু বলতে। সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।

 

হাততালি , স্লোগান – জয় বাংলা।

 

 

 

 

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরি

বন্ধু এবং স্বাধীন বাংলাদেশের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, বাংলাদেশের সরকারের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই আমাদের এমন ভয়াবহ সংগ্রামের সময় আপনাদের উষ্ণ সহানুভুতি ও সমর্থনের জন্য।

(হাততালি…)

সুধীমন্ডলি, আপনারা অবগত আছেন যে আমরা আমাদের উপর গত তেইশ বছর নীরবে সহ্য করে যাওয়া রাজনৈতিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক শোষন সাংবিধানিক ভাবেই শেষ করতে চেয়েছিলাম। এবং সুধীমন্ডলি আপনারা আরো অবগত আছেন, কিভাবে সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান আমাদের এই সাংবিধানিক প্রচেষ্টাকে থামিয়ে দিয়েছে এবং ২৫ই মার্চ রাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র, বেসামরিক মানুষের উপর সামরিক বাহিনী গনহত্যায় লেলিয়ে দিয়েছে এবং এখনো বাংলাদেশী জনগণের উপরে গণহত্যা চালিয়েই যাচ্ছে। এই বেপরোয়া হত্যাকান্ডের প্রাক্কালে স্বাধীনতার স্বফঃস্ফুর্ত দাবী উঠেছে (ধিক! ধিক!—-) এবং সাড়ে সাত কোটি মানুষ নিজেদের ইয়াহিয়ার শাসন থেকে মুক্ত ঘোষনা করেছে।

(হাততালি…)

আমরা এখন ইয়াহিয়া খানের হানাদারসামরিক বাহিনীকে বাধা দেওয়ার ভয়াবহ সংগ্রামে লিপ্ত আছি।

(হাততালি…)

এই ভয়াবহ………… (মাইক ত্রুটি) সংগ্রামের সময় আমরা বিশ্ববাসীর সমর্থন ও সহানুভুতি আশা করি। বিশ্বের একপ্রান্তের নিদারূন যন্ত্রনা অবশ্যই অন্যদের ছুয়ে যাবে আশা করি। আমাদের এই বিপদের সময় অগাধ সহানুভুতির জন্যে আমরা ব্রিটিশ জাতি, সংবাদপত্র, রেডিও এবং টেলিভিশনের প্রতি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ। (হাততালি……)

আমাদের আজকে একটাই কাজ করার আছে, আর সেটা হচ্ছে ইয়াহিয়া খানের হানাদার বাহিনীকে বাধা দেওয়া। (হাততালি…) এবং সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীকে তাদের আক্রমন, ধর্ষন থেকে মুক্ত করা। (স্লোগান – জয়বাংলা)। আপনারা অবগত আছেন, তাদের সৈন্যরা গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে, ধর্ষন করছে, বাচ্চাদের হত্যা করছে, গনহত্যা চলছেই। বিশ্বের বিবেক কি এরপরেও জাগবে না! আমরা বিশ্ববাসী ও তাদের সরকারের কাছে আবেদন জানাই, ইয়াহিয়া খানের সরকারকে সুস্পষ্টভাবে বাধা দেওয়া হোক। আমি বিশ্বের সব সরকারের কাছে পশ্চিম পাকিস্তানকে অর্থনৈতিক সাহায্য না দেওয়ার জন্যে আবেদন জানাই। (হাততালি……)

আপনাদের অনুধাবন করা উচিৎ, পাকিস্তানের কোন সরকার নেই যাকে আপনারা সহায়তা প্রদান করবেন। ইয়াহিয়া খান নিজে পাকিস্তানকে শেষ করে দিয়েছে। আজ যা আছে তা শুধুই পশ্চিম পাকিস্তানের সরকার। (ধিক! ধিক!…) এবং বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষ হত্যার জন্যে সেই সরকারকে কোন ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়া উচিৎ নয়। এটা বিশ্বের সরকারের কাছে আমার প্রার্থনা। স্বাধীনতাকামী ও হানাদার বাহিনীকে ঠেকাতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশের বাচ্চা, নারী পুরুষ হত্যার জন্যে কোন অস্ত্র জোগান দেওয়া অনুচিত হবে। তারা তাদের স্বীয় শক্তিতে বিশ্বাস ও ভরসা করে কিন্তু তারপরেও বিশ্ববাসী ও সব সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছে যাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র জনগনকে হত্যার জন্যে ইয়াহিয়া খানকে কোন ধরনের অস্ত্রের জোগান না দেওয়া হয়। সুধীমন্ডলি, এখন নতুন মিথ্যাচার শুরু হয়েছে যে বাংলাদেশের জনগন স্বাধীনতা চায় না। প্রিয় বাংলাদেশের নাগরিকবৃন্দ, আমি আপনাদের অনুরোধ করবো, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও হানাদার বাহিনীকে থামাতে চান তারা হাত তুলুন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের দাবীতে এগিয়ে আসুন। (স্লোগানঃ জয় বাংলা…)

ইংল্যান্ড মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের দেশ হিসেবে সুপরিচিত। তাই এখানে যদি আপনারা আওয়াজ তোলেন তবে কেউ বলতে পারবে না আপনাদের বাধ্য করা হয়েছে বরং আপনারা স্বেচ্ছায় করেছেন। আপনারা বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধি। আপনাদের প্রত্যেইকেই প্রতিনিধি। এবং আপনার বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ইচ্ছা জানিয়ে দিয়েছে যা সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশীর দাবী (হাততালি)। এটা ইয়াহিয়া খানের ভাষ্য অনুযায়ী কোন দুবৃত্তের দাবী নয় বরং বাংলাদেশের জনগনের দাবী। সুধীমন্ডলি, আমরা হানাদার বাহিনীকে মোকাবেলা করতে বদ্ধ পরিকর। আমরা বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সংকল্পবদ্ধ। এবং এই সংগ্রামে আমরা সকলের সহায়তা, সহানুভুতি এবং সাহায্য চাই।

প্রিয় বাংলাদেশের নাগরিকবৃন্দ, আমাকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের বিশেষ নির্দেশনা  দিতে হবে। (জয় বাংলা…)

এই সমাবেশ শেষ হওয়ার পর যে মিছিল হবে সেটা শুধুই প্রতিবাদী মিছিল হবে না। এটা হবে গনপ্রজাতন্ত্রী চীন, আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের আবেদনের উপায়। ইয়াহিয়া খানকে অস্ত্রের জোগান দেওয়া বন্ধ করার আবেদন। ইয়াহিয়া খানের সামরিক সরকারকে অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদান বন্ধ করার আবেদন। বাংলাদেশের সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের এই আবেদন করার মিছিলে শৃংখলা ও শান্তি বজায় রাখতে অনুরোধ করেছেন যাতে যুক্তরাজ্যের অরিথিপরায়ন মানুষ বুঝতে পারে আমরা সুশৃংখল জাতি।  (হাততালি)

আমাদের মিছিল হবে শান্তিপূর্ন। কোন আক্রমনাত্মক স্লোগান আমরা দেবো না। দুই দেশের দুই দুতাবাসের সামনে কোন আলাদা দল হবে না। আমরা আন্তরিকভাবে আশা করি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের জনগন আমাদের সমর্থন দিবে এবং ইয়াহিয়া খানকে অস্ত্র জোগান দেওয়া বন্ধ করবে। (হাততালি…)

সেই প্রার্থনা, সেই আবেদনেরসাথে বাংলাদেশের নাগরিকরা লন্ডনে দুই মহান দেশের দুই জাতির কাছে যাবে । (হাততালি…)

আমাকে বলা হয়েছে আমাদের শত্রুরাওসক্রিয় এবং তারা হয়তো লোক পাঠাতে পারে যারা আমাদের মিশে যাবে যারা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যাচ্ছি এবং আমাদের এই লক্ষ্যে পৌছাতে ঝামেলা করতে পারে। আমি পরিস্কার করতে চাই, যারা এহেন কাজে লিপ্ত হবে তারা বাংলাদেশের শত্রু, এবং তাদের হীন কাজের জন্যে বাংলাদেশ সরকার কোন দায়ভার নিবে না এবং বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে তারা কোন ধরনের নিরাপত্তা পাবে না। (হাততালি।)

আমি তাই পুনরায় আমার প্রিয় দেশবাসি আপনাদের কাছে আবেদন জানাই যেকোন মূল্যে শৃংখলা ও শান্তি রক্ষা করবেন। আপনারা জানেন আমরা স্বাধীনতার সংগ্রাম করছি, এই বিদেশে এবং ব্রিটিশ সরকার আমাদের অতিথিপরায়নতা দেখিয়েছে, ব্রিটিশ সরকার এখানে আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে যেমন আমি বলছিলাম যেখানে বাকস্বাধীনতা আছে সেখানে আন্দোলনের স্বাধীনতা আছে। (হাততালি……)

আমাদের এই আবেদনের যাত্রায় আপনারা অবশ্যই ব্রিটিশ সরকার ও জনগনের অতিথিপরায়নয়ার জন্যে আপনার কৃতজ্ঞতা দেখাবেন এবং আপনার কাজ দ্বারা কোন ভাবেই সেই অয়াতিথেয়তার অবমূল্যায়ন করবেন না। প্রিয় নাগরিকবৃন্দ আমি তাই বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাজের মাধ্যমে আমরা কতটা সুশৃংখল সম্মানিত জাতি তা প্রদর্শন করবেন। (হাততালি এবং স্লোগানঃ জয় বাংলা)

সুধীমন্ডলি, এখানে যারা আমাদের আন্দোলনে সংহতি ও সমর্থন জানাতে এসেছেন তাদের আমি ধন্যবাদ এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেদিন বেশী দূরে নয় যেদিন মহামান্য রাণীর সরকার এবং কমনওয়েলথ প্রধান বাস্তবতা অনুধাবন করবেন এবং বাংলাদেশকে স্বীকৃতি জানাবেন। (হাততালি)

আমি মনে মনে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সেদিন বেশী দূরে না যেদিন বাংলাদেশ কমনওয়েলথ জাতির আনন্দিত সদস্য হিসেবে যোগদান করবে। (হাততালি)

প্রিয় দেশবাসী আপনাদের সংকল্প, সাহস, ত্যাগ এবং একতা বজায় রাখুন সেই আবেদন করি আপনাদের কাছে। আমরা সফল হবই। ইনশাল্লাহ, আমরা শান্তি প্রগতি ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবো।

আমরা এমন একটি সংবিধান গঠনকরব যা চিন্তার স্বাধীনতা,বাক স্বাধীনতা,মত প্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেবে।আমরা একটা গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠনের দিকে ধাবিত হচ্ছি যেখানে সকল মানুষ সমান হবে।হিন্দু ও মুসলিম,বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে আমরা শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করব।(হাততালি)

আমাদের স্বীকৃত নেতা শেখ মুজিব একটি নতুন বিশ্বাসের অগ্রদূত,একটি নতুন আশার রাষ্ট্রদূত এবং যে আশা রাষ্ট্র গঠন করবে যেখানে সবাই সমান,মুক্ত এবং কেউ নিপীড়িত হবে না।(হাততালি এবং স্লোগান)

সুধিবৃন্দ,শেখ মুজিব ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা এখনও জেলে যাদের অপমানজনক চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করা সত্ত্বেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।আমরা শেখ মুজিবের মুক্তি চাই।আমরা সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চাই।আমরা সব ধরণের ত্যাগের জন্য প্রস্তুত আছি,কেউ তাদের মুক্তি ঠেকাতে পারবে না।(হাততালি এবং স্লোগান:জয় বাংলা…….)

সুধিবৃন্দ,এখানে আরও কয়েকজন বিজ্ঞ বক্তা উপস্থিত আছেন,তারা আপনাদের সংক্ষেপে বক্তৃতা উপস্থাপন করবেন।কিন্তু,আপনাদের আপিলে মার্চ শুরুর আগে আমি বাংলায় কয়েকটি কথা বলব এরপর আমি আপনাদের অনুরোধ করব আপনারা মিছিল নিয়ে অগ্রসর হবেন।এই বৈঠকের পর আমি আপনাদের সঙ্গে বাংলায় আলোচনা করব।

ধন্যবাদ সুধিবৃন্দগণ(হাততালি….)

 

বক্তৃতার শেষাংশ-

     ভাই ও বোনেরা,আজকে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি মুক্ত কন্ঠে একতাবদ্ধভাবে ঘোষণা করতে যে,বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ ইয়াহিয়া খানের হানাদার সৈন্যদের হটিয়ে দেওয়ার জন্য বদ্ধপরিকর।

-হাততালি

আমরা এখানে সমবেত হয়েছি সমস্ত দুনিয়াকে জানিয়ে দিতে যে,আমরা একতাবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছি এবং ইনশাআল্লাহ সেই স্বাধীনতা আমরা রক্ষা করবো।-হাততালি ও স্লোগান:জয় বাংলা

আজকের এই শোভাযাত্রা সম্বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের সাথে আমার সরাসরি কথা হয়েছে।বাংলাদেশের মন্ত্রীমন্ডলী আমাদের জানিয়েছেন যে,আমাদের এই শোভাযাত্রা আবেদনের শোভাযাত্রা-এটা বিক্ষোভের মিছিল নয়।আমাকে জানিয়েছেন যে,আমি যেন তাদের হয়ে আপনাদের অনুরোধ করি,সর্ব অবস্থায় আপনারা শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করে বাংলাদেশের জনসাধারণ এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্মান বৃদ্ধি করবেন।-হাততালি-

আপনারা চীনা দূতাবাস এবং আমেরিকান দূতাবাসে যাবেন এই আবেদন নিয়ে যেন তারা ইয়াহিয়া খানকে কোনরূপ সাহায্য না করেন;কিন্তু কোনরূপ শ্লোগানের দ্বারা বা কোনরূপ ব্যবহারের দ্বারা আপনারা তাদের প্রতি  কোনরূপ অসম্মান প্রদর্শন করবেন না।-হাততালি-

পাকিস্তান হাইকমাশনের লোক আমাদের প্রশাসনের মধ্যে যোগ দিয়ে তাদের প্রতি অশোভন এবং অসৌজন্যপূর্ণ ব্যবহার করে আমাদের দায়ী করবার, দোষী করবার চেষ্টা করবে।তাদের থেকে আপনারা হুঁশিয়ার থাকবেন।-হাততালি-

এবং তাদের এই কাজের জন্য আমরা কোনরূপ দায়ী থাকবো না।আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তাজউদ্দিন সাহেব দ্ব্যার্থহীন ভাষায় আমাকে বলেছেন-আমাদের লক্ষ্য সকলের জন্য প্রীতি,বিদ্বেষ নয়।-হাততালি-

আপনারা এই কথাটি মনে রাখবেন। আমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের কাছে এই আবেদন জানাচ্ছি।আপনারা এই শোভাযাত্রায় যাবার সময় আমরা যে কয়েকটি শ্লোগান অনেক ভেবে-চিন্তে ঠিক করেছি, আশা করি,মাত্র সেই কয়েকটি বলে যাচ্ছি আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা বলবেন-“স্বীকৃতি চাই,স্বীকৃতি চাই ”

আপনারা বলবেন-“বাংলাদেশ,বাংলাদেশ”

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা বলবেন”দীর্ঘজীবী হও,দীর্ঘজীবী হও”

আপনারা বলবেন”শেখ মুজিব,শেখ মুজিব”

আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা বলবেন”দীর্ঘজীবী হোক মুক্তি ফৌজ”

আপনারা বলবেন”দীর্ঘজীবী হোক মুক্তি ফৌজ”

তারপরে আর একটা শ্লোগান হবে”বন্ধ কর,বন্ধ কর”

আপনারা বলবেন”গণহত্যা,গণহত্যা”

আর একটা হবে,”সমর্থন বন্ধ কর”

আপনারা বলবেন,”ইয়াহিয়া খান”।

:আপনাদের মনে থাকবে, আপনাদের সকলের?

:”হাঁ”

:আচ্ছা।

আমি আর একবার বলছি”স্বীকৃতি চাই,স্বীকৃতি চাই”

জবাবঃ “বাংলাদেশ, বাংলাদেশ”।

জনাব চৌধুরীঃ “বাংলাদেশ”

জনাব চৌধুরীঃ “দীর্ঘজীবী হও,দীর্ঘজীবী হও”

জবাবঃ “শেখ মুজিব,শেখ মুজিব”

জনাব চৌধুরীঃ “দীর্ঘজীবী হোক মুক্তি ফৌজ”

জবাব:“দীর্ঘজীবী হোক মুক্তি ফৌজ”

জনাব চৌধূরীঃ “বন্ধ কর,বন্ধ কর”

জবাবঃ “গণহত্যা,গণহত্যা”

জনাব চৌধূরীঃ”সমর্থন বন্ধ কর”

জবাবঃ “ইয়াহিয়া খান”।

জনাব চৌধুরীঃআপনাদের অশেষ ধন্যবাদ।আপনারা যে কষ্ট করে এখানে সমবেত হয়েছেন তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের আপনাদের ভাই ও বোনদের পক্ষ থেকে আমি আপনাদের শুকরিয়া আদায় করছি।এখন আপনারা শান্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণভাবে মিছিলে যোগ দিন।আসসালামু আলাইকুম।