লন্ডনে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বীকৃতি মিছিলের কর্মসূচী-পুস্তিকা

Posted on Posted in 4

<৪,২৬৯,৬২০-৬২৩>

অনুবাদকঃ নন্দন দেব

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৬৯। লন্ডনে আয়োজিত বাংলাদেশের স্বীকৃতি মিছিলের কর্মসূচী-পুস্তিকাএ্যাকশন বাংলাদেশ, লন্ডন প্রকাশিত পুস্তিকা১ আগস্ট, ১৯৭১

 

গণহত্যা থামাও                                              গণহত্যা থামাও 

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও                                 বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও                                                                                                        স্মারকসভা                         

 

                                   গণহত্যা থামাও

                        “বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও” সমাবেশ

                           রবিবার, ১লা অগাস্ট ১৯৭১

গণহত্যা থামাও                                            গণহত্যা থামাও 

বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও                                বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দাও                                                                                                                                                              

                                                                                     কর্মসূচীঃ

২.০০সঙ্গীত যুগলবন্দীঃ       ভারতীয় সেতারবাদক  মনেশ চন্দ্র সাথে তবলায় মাধুকর কোঠারা 

২.১৫ বিচারপতি আবুঃ     ঢাকা উচ্চ আদালতের সাবেক বিচারপতি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। বর্তমানে বিদেশে বাংলাদেশের বিশেষ প্রতিনিধি ।

২.৩০                        প্রত্যক্ষদর্শীর  রেকর্ডকৃত অংশ

২.৩৫ reg prentice M.P. চারজনেরমধ্যেএকজন M.P.S যিনিপশ্চিমপাকিস্তানএবংবাংলাদেশউভয়দেশপরিদর্শন করেছেন ।

২.৫০রেভ কেনিওন রাইটঃ১৫ বছর পশ্চিম বাংলায় বাস করেছেন। অপারে বাংলাদেশে এবং ভারতের শরণার্থী শিবিরের সাম্প্রতিক পরিদর্শক । কোভেন্ট্রি ক্যাথেড্রালের পরিচালক।

 ৩.০০ প্রধানমন্ত্রী জন স্টোনহাওজঃ বাংলাদেশে একবার এবং ভারতে অবস্থিত শরণার্থী শিবিরে দুবার পরিদর্শন করেছেন।বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার ডাকে ২১০জন মন্ত্রীর করা প্রস্তাবিত স্বাক্ষরে এসেছেন ।

৩.১৫  লর্ড ব্রকওয়েঃ প্রথমসারির একজন যিনি পাকিস্তানি সৈন্যর দ্বারা কৃত  নৃশংসতার নিন্দা জানিয়েছেন  ।

৩.১৫    শেখ মুজিবুর রহমানের রেকর্ডকৃত অংশ ।

৩.৩০ টম উইলিয়াম ও.সি এম.পিঃ পূর্বে রাজনৈতিক বিচারে শেখ মুজিবুর রহমানের বিবাদী ছিলেন।

৩.৪৫ সঙ্গীতঃ        বাংলাদেশের জনগনের সাংস্কৃতিক সংগঠন ।

৪.২৫ বেগম লুলুঃ    বানু্গালিএখানে পড়াশোনায়রত  বাঙালি মহিলা ।

৪.৩৫ ডেভিড কশফঃ  টেলিভিসন, চলচ্চিত্র এবং মঞ্চ অভিনেতা।

৪.৪০রেভ। রজার ক্রসওয়েটঃ        চার্চ মিশনারি সোসাইটির তরুণ পরিচালক

৪.৪৫ লেডী গিফোরডঃ        পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে ডাকা মতবিনিময় সভার      কোস্পন্সর এবং সভাপতি

৪.৫০ বব এডওয়ার্ড এমপিঃ  কেমিক্যাল ওয়ার্কার ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ।

৪.৫৫ সিমন হেবডিচঃ জাতীয় তরুণ লিবারেললীগের রাজনৈতিক সহ-সভাপতি।

৫.০০ নির্মল সিং.             লুটন থেকে আগত একজন শিখ কর্মী ।

৫.০৫ পউল কানেটঃ        বাংলাদেশের ঘটনা ের মুখপাত্র ।

                           সঙ্গীত ।

জনাব হিথকে চিঠি প্রদানের জন্য ১০ ডাউন স্ট্রিটের দিকে যাত্রা এবং কোণায় অবস্থান।

                           বক্তা

              ( এই অনুষ্ঠানটি শেষ সময়ে পরিবর্তন সাপেক্ষ )

শ্রদ্ধেয় জনাব হিথ,

১লা আগস্ট, ১৯৭১ রবিবার ত্রাফাল্গার স্কয়ারে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ রেলিতে অবস্থিত সহস্র মানুষের পক্ষ থেকে আমরা এই বার্তা এনেছি।

যখন আমরা সবাই পূর্ব বাংলায় রাজনৈতিক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানকে কোন প্রকার উপরন্তু অর্থনৈতিক সাহায্য না পাঠানোর সিদ্ধান্তকে প্রশংসা দিচ্ছি , তখন এটা পরিস্কার যে শুধুমাত্র এই আচরন পাকিস্তান সেনাবাহিনিকে ৭.৫ কোটি বাঙালি মানুষের গনতন্ত্রকে দমন করার উন্মত্ত প্রয়াসকে কিছু মাত্র নিবৃত্ত করছে না ।

অতএব আমারা আপনার নিকট আবেদন করছি , বাঙালি জনগনের উপর পাকিস্তানি গণহত্যা বন্ধের নিমিত্তে উল্লেখিত যথার্থ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক ।

প্রথমত, নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকৃত কার্যকলাপ “জাতিসংঘ গণহত্যা সমঝোতা অনুচ্ছেদ ২, উপপরিচ্ছেদ (ক), (খ), (গ)”  এর আওতায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিসদের নিকট উত্থাপন করে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ব্রিটেনের প্রতিশ্রুতির প্রতি সম্মান দেখানোর  জন্য আমরা অনুরোধ করব।

দ্বিতীয়ত, আপনাদের প্রভাব খাটিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি আমেরিকান সরকারের প্রেরিত অস্ত্র চালান বন্ধ করার জন্য আমরা অনুরোধ করব।

তৃতীয়ত, আমরা অনুরোধ করব, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রাদেশিক সরকারকে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য, যখন এটা পরিস্কার যে , পশ্চিম পাকিস্তানি সরকারকে সচেতন করার জন্য এটাই একমাত্র শান্তিপূর্ণ এবং কূটনৈতিক পন্থা অবশিষ্ট আছে ।যেভাবে তারা দাবি করে, বাঙালি জনগনকে বশ্যতা স্বীকার করানোর জন্য বর্বর নীতিই তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য , তাহলে সেই যুদ্ধে তারা হেরেছে ২৫ই মার্চ ; যেদিন তারা সেটা শুরু করেছিল। ৭০০০০হাজার সেনাবাহিনী ৭৫ মিলিয়ন মানুষকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত ধরে রাখার আশা করতে পারে না। একটি স্বাধীন বাংলাদেশ নিছক সময়ের ব্যাপার। এটাই বাস্তবতা এবং আরো জীবন অংশ হারানোর আগেএটাকে স্বীকৃতি দেয়া  পর্যবেক্ষক দেশের উপর নির্ভর করে । অন্যথায়, এ ধারণাই সমর্থন করা হবে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতি কেবল বন্দুকের নল থেকেই আসে ।

শুধুমাত্র ব্রিটেনে অবস্থিত ১০০,০০০ বাঙালি যাদের পরিবার এবং বন্ধু অত্যাচারিত ও হত্যা হয়েছে তাদের কথা মনে রেখে নয়, উপরন্ত প্রত্যেক মানুষের নামে আমরা এসব বিষয়গুলো উত্থাপন করছি, কারন যদি এই গণহত্যানীতি বাধাহীনভাবে চলতে দেয়া হয় তাহলে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি তার ধরন পরিবর্তন করবে।

সর্বশেষে জনাব হিথ আমরা আপনার নিকট প্রার্থনা করব এই বিষয়গুলো করার জন্য কারন যেহেতু এটা ব্রিটেন ছিল যে প্রায় ২৩ বছর আগে পাকিস্তান গঠনের ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিল তাই ভারতীয় উপমহাদেশের এই ব্যাপারে ব্রিটেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বহন করে। যদি আমরা এই প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে বিফল হই, যদি ভারত তার মুখোমুখি বিশাল সমস্যা সমাধানে যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়, তাহলে ব্রিটেনকে এর দোষের ভাগীদার  হতে হবে।

যখন দূরবর্তী খণ্ডনে অনুমোদনে কোন সরকারের অনিহাকে আমরা তারিফ করি , তখন আমরা আশা করি আপনি সম্মতি জানাবেন যে, যদি মানুষের উপর এই শারীরিক উচ্ছেদ এবং নির্যাতনে সায় দেয়া হয়, তাহলে যেসব মানুষ তাদের সাথে বসবাস করে তাদের পরিস্কারভাবে প্রকাশ করা ইচ্ছায় স্বেচ্ছাচারী সীমানার বাস্তবসম্মত পুনর্বিন্যাসের  সাড়া দেয়ার অপেক্ষা আমাদের গ্রহ আরো অধিক বিপদগ্রস্ত হবে।

                                                    আপনার অনুগত,

কমনসভায় ২০০ এর বেশী সংসদ সদস্য এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর দিয়েছেন। তারা যোগ করেন এগারোজন মন্ত্রণাপরিষদের সদস্য এবং তিরিশজন সাবেক মন্ত্রিকে।

পূর্ববাংলায় গণহত্যা

এবং

বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদান

“এই ভবন বিশ্বাস করে যে পূর্ববাংলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীকর্তৃক বিশাল আকারে  বেসামরিক মানুষের ব্যাপক গণহত্যা এবং নৃশংসতা যা পাকিস্তান কর্তৃক স্বাক্ষরিত গনহত্যার উপর জাতিসংঘের রীতির বিপরীত, ডিসেম্বর ১৯৭০ এর নির্বাচনে জনগনের গনতান্ত্রিক ইচ্ছার প্রকাশকে গ্রহণ করতে কাণ্ডজ্ঞানহীন অস্বীকৃতি জানানোর মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়  যে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সরকার পূর্ববাংলায় শাসন করার সম্পূর্ণ অধিকার খুইয়েছে ।

অতএব,  আস্থা রাখা যায়  যে, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ এই অবস্থাকে আন্তর্জাতিক শান্তি এবং জেনোসাইড কনভেনশন উভয়ের জন্য একটি হুমকি তা  জরুরিভাবে বিবেচনা করার জন্য আহ্বান করবে, এবং আরো  বিশ্বাস করা যায় যে  এই আদেশ পুনঃস্থাপন করা পর্যন্ত জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক বাংলাদেশের প্রাদেশিক সরকারকে পূর্ববাংলার জনগনের আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রকাশের চালিকাশক্তি হিসেবে অনুমোদন দিবে।“

আমি সংযুক্ত করেছি ব্রিটিশ পাউন্ড বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে দূরবর্তী কাজের জন্য।

 

প্রাপক,

এ্যাকশন বাংলাদেশ

৩৪ স্ট্রেটফোর্ড ভিলাস,

লন্ডন, এন। ডব্লিও। ১

যোগাযোগ- ৪৮৫ ২৮৮৯ এবং ২৬৭ ৪২০০

 

  

সম্মিলিত বাংলা সঙ্গীতঃ

“বাঁধ ভেংগে দাও

বাংলা অনুলিপি

 

বাঁধ ভেংগে দাও। বাঁধ ভেংগে দাও। বাঁধ ভেংগে দাও।

ভাং………………………………… গো (দু’বার)

বন্দী প্রাণ মন হউক উধাও। বন্দী প্রাণ মন হউক উধাও।

ধা ……………………………………… ও (একবার)

 

রোমান অনুলিপিতে অনুবাদঃ

 

BADH BHENGE DAO, BADH BHENGE DAO, BADH BHENGE DAO

BHAN— — — — — — — — — NGO (twice)

DHA— — — — — — — — — — — — O (once)

 

ইংরেজী অনুবাদঃ

Break the barrier, Break the barrier, Break the barrier, Break.

Let the imprisoned soul fly away

 

“এরপর আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয়,

তোমাদের কাছ আমার অনুরোধ রইল- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলা যখন

রক্ত দিয়েছি তখন আরও দেব- এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ ।

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম- এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

 

জয় বাংলা”।                           

                                                -শেখ মুজিব।