শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া

Posted on Posted in 2

<2.120.537>

 

 

শিরোনামসূত্রতারিখ
‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আহবান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া’দ্য ডন২৯ জুলাই, ১৯৭০

 

জাতির উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের ভাষনঃ

জুলাই ২৮,১৯৭০

 

প্রিয় দেশবাসী,

আসসালাম ওয়াআলাইকুম,

 

 

আমি সময়ে সময়ে বিভিন্ন ঘটনার অগ্রগতি সম্পর্কে আপনাদেরকে ওয়াকেবহাল রেখেছি। কারন দেশের মুখ্য বিষয়াদি ও এতদ সংক্রান্ত  ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ন সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে  সর্ব স্তরের জনপগনের অবগত থাকা উচিত। বিগত ৪ মাসে অনেক তাৎপর্যপুর্ন ঘটনা ঘটেছে এবং যার প্রেক্ষিতে আমাদের কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়েছে। আর তাই আমার এখন সময় এসেছে পুনরায় আপনাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার।

 

 

 

নতুন প্রদেশ সমুহঃ

গতবার আপনাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখার পর আরেকটি গুরুত্বপুর্ন ঘটনা ঘটে গেছে আর তা হচ্ছে – পশ্চিম পাকিস্তানে ১৯৫৫ -পুর্বের প্রাদেশিক ব্যাবস্থার পুনঃবহাল করা । আপনারা যেমনটি জানেন যে কয়েকমাস পুর্বে জনগনের ইচ্ছার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি গ্রহন করা হয় এবং আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এই প্রদেশ সমুহের পুনঃবহালকরন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে । আমি নিশ্চিত আপনারা একথা ভাবে তারিফ করবেন যে কয়েক মাস আগেও যা ছিলো কেবল আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবে রুপদান করতে আমাদেরকে বিপুল পরিমান প্রাশাসনিক কর্ম সম্পাদন করতে হয়েছে। এতদ সত্ত্বেও পুরাতন প্রদেশগুলির নিছক আনুষ্ঠানিক পুনঃবহালকরনই কোন সমস্যার সমাধান করবে না। কেনো এমন একটি ব্যাবস্থা গ্রহন করা আবশ্যক হয়ে পড়লো এবং কিভাবে এখন পরিস্থিতির উত্তরন সম্ভব তার কারন অনুসন্ধানে সর্বাত্বক প্রচেস্টা চালানো আজ প্রয়োজন। প্রশাসনকে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌছে দিতে পারাই ছিলো এই ব্যাবস্থা পুনঃবহালের প্রধান অর্জন। 

 

এ কাজ পাকিস্তানের এই অংশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসমুহের জনগনকে চলমান ঘটনাপ্রবাহে অধিকতর সম্পৃক্ততা দেয়া জন্যও বটে ।

 

আমি আপনাদের আরো সতর্ক করতে চাই যে ১ জুলাই যা ঘটে গেছে তা কেবল শুরু মাত্র। প্রশাসনিক ব্যাবস্থার সর্বস্তরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাসাধিক কাল ধরে এই সংহতকরন প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

 

একদিকে প্রশাসনকে যেমন দ্বিগুন পরিশ্রম করতে হবে তেমনি অন্যদিকে জনগনকেও ধর্য্য ধরে গঠনমুলক অবদান রাখার মাধ্যমে যে উদ্দেশ্য নিয়ে আলাদা প্রাদেশিক ব্যাবস্থার পুনঃবহালকরন করা হয়েছে তার পুর্নতা দিতে হবে।    

 

তদুপরি এটা অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ন যে পুরাতন প্রদেশসমুহের পুনঃবহাল যাতে অবশ্যই বিভিন্ন এলাকার মানুষকে সংকীর্ন আঞ্চলিকতার বিপজ্জনক পথে চালিত না করে। এ সকল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এখন থেকে পশ্চিম পাকিস্তান এক প্রাশাসনিক ইউনিটের বদলে চার ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হবে। এ প্রসঙ্গে এ পর্যন্তই।  এ কাজ জনগনের কল্যানসাধনে করা হয়েছে। এ প্রত্যাশা থেকে এটা করা হয়েছে যাতে এ প্রক্রিয়ার (পাকিস্তানের)এই খন্ডের নিদৃস্ট কিছু এলাকা সমুহের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ ও বঞ্চনার অনুভুতি দুরীকরনের সহায়ক হয়।

 

 

 

<2.120.538

 

বস্তুত আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, যখন থেকে মানুষ তাদের নিজ নিজ প্রদেশের বিষয়াদি নিজেরাই নিয়ন্ত্রন শুরু করবে তখন পার্শবর্তি ও অন্যান্য প্রদেশের প্রতি তাদের আচরন বিদ্বেষপুর্ন ও বিচ্ছিন্নতামুলক হওয়ার বদলে ভাতৃত্বপুর্ন ও সহযোগিতামুলক হয়ে আসবে।

বাস্তবিক অর্থে কোনো নির্দিস্ট প্রদেশের সীমানার মধ্যে জন্ম নেয় নি কিংবা বেড়ে উঠেনি এমন  কোনো ব্যাক্তিকে ঐ প্রদেশে বহিরাগত হিসাবে বিবেচনার প্রবনতা মেনে নেয়া হবে না । কারন একজন পাকিস্তানি হিসাবে একজন  ব্যাক্তি পাকিস্তানের যেকোন প্রান্তে বসবাস,কাজ করা ও সমৃদ্ধি লাভের সহজাত অধিকার রাখে ।

 

জাতীয় পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আমি আপনাদের আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নির্দেশনা মোতাবেক আমাদের নির্বাচনী প্রশাসন যন্ত্র বিপুল উদ্দিপনা ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা অবগত আছেন যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও তার কর্মচারীবৃন্দ নির্বাচন সংক্রান্ত সিংহভাগ কাজ এরইমধ্যে শেষ করেছেন। খোদার রহমতে আমরা আমাদের সাধারন নির্বাচন পরিকল্পনা সূচীকে অটুট রাখতে সক্ষম হয়েছি।বস্তুত আসন্ন নির্বাচনের দিনটি পাকিস্তানের জন্য এক সুবিদিত দিন হবে এবং আমার প্রার্থনা, এটা যেনো এদেশের বৃহত্তর কল্যান ও সমৃদ্ধির এক অগ্রদূতে পরিনত হয়।

 

বস্তুত নির্বাচন প্রসঙ্গে আমি যোগ করতে চাই যে আমার দৃঢ় সংকল্প এইসব নির্বাচনগুলো হবে অবাধ ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনে সহিংসতা জবরদস্তি ও অন্যান্য অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা যাতে না ঘটে তা নিশ্চিত করতে আমি সরকারের পক্ষে মোতায়েন যোগ্য এমন সকল প্রয়োজনীয় বাহিনীকে এ কাজে অবশ্যই  নিয়োজিত করবো।

 

এখন আমি এমন একটি বিষয়ের অবতারনা করবো যা আমাদের সবার কাছে  গুরুত্বপুর্ন ও একই সাথে আগ্রহ ব্যাঞ্জক। আমি বিগত কয়েক মাস ধরে এ দেশে চলমান রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে ইঙ্গিত করতে চাইছি। এবিষয়ে আমার ব্যাক্তিগত মুল্যায়ন হচ্ছে যে, খানিকটা অতিউৎসাহী ও সংঘাতময় প্রারম্ভ যা হয়তো কিছুটা বোধগম্যই ছিলো তারপর সবকিছু এখন মোটের উপর থিতু হয়ে এসেছে। পরস্পর কাদা ছোঁড়াছুড়ি হ্রাস পেয়েছে এবং জনসভা মিছিল ও অন্যান্য রাজনৈতিক কর্মকান্ডে হিংসার ব্যাবহার স্পস্টতই কমে গেছে। জনগন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন এই কৃতিত্বের সমান ভাগিদার।

 

মানুষ সহিংসতার নিন্দা করায় ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফলে রাজনৈতিক নেতারা দেখতে পেয়েছে এধরনের পথ অলাভজনক। এটা পরিহার্য। তথাপি প্রসন্ন বোধ করুন এবং আমাদের রাজনৈতিক চরিত্র থেকে সহিংসতা ও অন্যান্য ধ্বংসাত্বক কার্যকলাপ সম্পুর্ন রুপে দূরীভুত হয়েছে এমনটি দেখার প্রত্যাশা অব্যাহত রাখুন।

 

রাজনীতির মাঠে কি ঘটে চলছে তার সারবত্তার উপরে আমি এপর্যায়ে দুএকটি মন্তব্য করতে চাই। বিভিন্ন কারনে আমি এখনই এসবের মধ্যে হাত দেয়ার প্রস্তাব দিবো না। আমি পরিতাপের সাথে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, রাজনৈতিক দলসমুহের মধ্যে বিভেদের প্রবনতা অত্যন্ত তীব্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিদৃস্ট কিছু  রাজনৈতিক দলের অনড় অবস্থানের থাকার নীতিতে ছাড় দিতে হবে  এবং একে অন্যের প্রতি সহিষ্ণুতা প্রদর্শন অত্যাবশ্যক যদি তারা বিগত কয়েক মাসের প্রচেস্টার ফলাফলকে পাকিস্তানের জনগনের কল্যান ও দেশের অখন্ডতায় অবদান রাখতে কার্যকর রুপে দেখতে চান।     

এ প্রসঙ্গ ধরে আমি বিশেষত সহিংসতা দমন ও আইনশ্ংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করবো।   একটি বিষয়ে ভুলের অবকাশ নেই ; দেশ সামরিক আইনের অধীনে আছে। আমার নির্দেশের অধীন সামরিক আইন কর্তৃপক্ষ বক্তৃতা বিবৃতি সহ বেশকিছু কার্যকলাপ সহ্য করে আসছে যা অতীতে কোনো সামরিক শাসন কখনোই বরদাস্ত করতো না।  

<2.120.539>

এখন পর্যন্ত এধরনের ছাড় দেয়ার পিছনে যথেস্ট সন্তোষজনক কারন ছিলো। তন্মধ্যে প্রধানমত কারন হলো বিগত সময় ধরে এদেশে রাজনৈতিক কর্মকান্ড খর্বিত এবং বলতে গেলে প্রায় এতটাই পঙ্গু হয়ে পরেছিলো যে রসদ যোগানো ও উৎসাহ প্রদান ব্যতিত তা আর কখনো মাথা তুলে দাঁড়তে পারতো না। সামরিক আইন কর্তপক্ষ যদি প্রথম থেকেই সামরিক আইনের নিয়ম কানুন সর্বক্ষেত্রেই অত্যন্ত কঠোরতার সাথে প্রয়োগ করে যেতো তাহলে এই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য ক্ষমতা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে অহেতুক বিলম্বিত হতো এমন কি বিপন্ন করতে পারতো।        

একটি পরিকল্পনার অধীনে সামরিক আইল কতৃপক্ষ ক্ষেত্র বিশেষে সামরিক আইনকানুনের নিয়মনীতি উপেক্ষা করেছে এবং আমি জানি এটা কিছু গোস্টির কাছে দুর্বলতা হিসাবে পরিগনিত হয়েছে।  এসব লোক অনুধান করতে ব্যর্থ হয়েছে যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এধরনের আচরন ছিলো সুচিন্তিত এবং মুলত সতঃসিদ্ধ। আমার সরকারের কার্যভার এক কঠিন ও স্পর্ষকাতর দায়িত্ব বিশেষ । আমাদেরকে একদিকে যেমন অরাজকতার শক্তিকে নিবৃত্ত রাখতে হয়েছে অন্যদিকে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উত্তরন যাতে কোনো ভাবেই নিরুৎসাহিত না হয় তা নিশ্চিত করতে হয়েছে।         

 

এপর্যায়ে আমি আপনাদের কাছে ব্যাখ্যা করতে চাই কিভাবে এই সরকার ধাপেধাপে এদেশে রাজনৈতিক জীবন পুনঃপ্রতিস্টার চেস্টা করে গেছে। প্রথম পর্বে শুরুতে সামরিক আইন আরোপ এবং যা জুলাই ১৯৬৯ নাগাদ শেষ হয়েছে। এ পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন উপাদান ছিলো রাজনৈতিক দলসমুহকে নিষিদ্ধ না করা। আমার স্মরন আছে যে এই সিদ্ধান্ত আমাদের রাজনৈতিক দলসমুহ ও বুদ্ধিজীবি সমাজে যুগপতৎ বিস্ময় ও স্বস্তি আনে। তাদের বিস্মিতবোধ করার কারন ছিলো যে সাধারনত যে কোনো সামরিক জান্তারর প্রথম কাজই হচ্ছে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা। সামরিক জান্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্বমান থাকা প্রথাবিরোধী ঘটনা। এপর্বে যদিও আমরা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রেখেছি  যে বিদ্যমান রাজনৈতিক দলসমুহ যাতে নিষিদ্ধ না হয়ে যাতে তাদের কর্মকান্ড অনেকটাই সীমাবদ্ধ থাকে। যা অবশ্যই ইচ্ছাকৃত এবং আমাদের রাজনৈতিক জীবন ধাপে ধাপে পুন্রোজ্জীবনের পরিকল্পনার অংশ।

 

পরবর্তি পর্ব যা আগস্ট ১৯৬৯ থেকে ডিসেম্বর ১৯৬৯ পর্যন্ত ঘটেছে তাতে  রাজনীতির ময়দানে উল্লেখযোগ সংখ্যক অবাধ রাজনৈতিক কর্মকান্ড দেখা গিয়েছে যদিও কয়েকটি বিশেষ ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ অব্যাহত ছিলো। এসময়ের মধ্যে আমি কিছু গুরুত্বপুর্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি ও ঘোষনা দিয়েছি। পরবর্তি পর্বের শুরু হয়েছিলো এবছরের ১ জানুয়ারি যখন থেকে পুর্নদ্দোমে রাজনৈতিক কর্মকান্ডের অনুমতি প্রদান করে সকল বিধি নিষেধ তুলে নেয়া হয়। শুধু কিছু নিদৃস্ট নীতিমালা ব্যাতিত যা সামরিক আইন রুপে জারি ছিলো। তো আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, রাজনৈতিক কর্মকান্ডের পরিচর্যা ও উত্থানর প্রক্রিয়া কয়েকটি গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্তের সাথে ওতপ্রতো ভাবে জড়িত ছিলো যা এসব কাজের সাথে সরাসরিক সম্পর্কিত। আর বর্তমান পর্যায়টি হচ্ছে সর্বশেষ পর্ব। আমি আজ নির্বাচিত জন প্রতিনিধির নিকট শান্তিপুর্ন উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের ক্ষেত্র  প্রস্তুত করেছি তাই সামরিক আইন  অকার্যকর করতে সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ,সহিংসতা এবং সীমিত পর্যায়ে অন্যান্যধরনের অপরাধ সংঘটনের দরকার হবে না। 

<2.120.540>

 

এখন থেকে আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থে সব ধরনের বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করবো। সামরিক আইনের নির্দেশাবলি এবং অন্যান্য আইনের যেকোনো ধরনের ব্যাত্যয় এখন থেকে কার্যকর ভাবে মোকাবেলা করা হবে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পর আমি এখন নিশ্চিত যে সরকারের এই অবস্থান পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি যদি কিনা আমরা আমাদের রাজনৈতিক আচরনকে সভ্য করতে চাই। কারন এটাই (সভ্য রাজনৈতিক আচরন) জাতীয় সংসদের দিকে যাত্রার ও এমন একটি সংবিধান আনায়নের একমাত্র পথ যা কিনা পাকিস্তানের জনগনের নিকট গ্রহনযোগ্য হবে।

 

 

সাধারন নির্বাচনের জন্য আমাদের হাতে আর দুমাসের কিছু বেশি সময় আছে এবং এটা জরুরি যে রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীরা কি বলবেন ও কি করবেন তা সতর্কতার সাথে নির্ধারন করবেন। গনতন্ত্রের প্রথম কথাই হচ্ছে সহিঞ্চুতা।আসন্ন নির্বাচনের পুরোটা সময় সহিঞ্চু আচরন প্রদর্শনের মধ্যে দিয়ে আসুন প্রমান করি আমরা গনতন্ত্রের উপযুক্ত। একে অন্য প্রতি দোষারোপ কিংবা সরকারকে দোষারোপ আমাদের কাউকেই কোথাও পৌছে দিবে না।আমরা নির্বাচনের দিনের দিকে যেহেতু আগাচ্ছি তাই জাতির রাজনৈতিক উদ্যোমকে সুসভ্য ও গঠনমুলক খাতে প্রবাহিত করা আমাদের নেতৃবৃন্দের জন্য আবশ্যক। এটা করতে সমর্থ হলে আমরা আত্মবিশ্বাসের সাথে সামনের দিকে তাকাতে পারবো।

 

আমি আগেও বলেছি এবং আবারো বলছি আইন শৃংখলার ব্যাপারে দ্বিচারিতার ঝোক দমন করতে হবে।আপনি একদিকে সরকারকে দেশে শান্তিপুর্ন পরিবেশ তৈরি করতে বলে অন্যদিকে আইন ভঙ্গের দায়ে গ্রেফতার হওয়াদের জন্য শোরোগোল করতে পারেন না। রাজনৈতিক নেতাদের অনুধাবন করতে হবে যে আইনের চোখে সবাই সমান। আমি আপনাদের জানাতে চাই যে কিছু নিদস্ট অঞ্চলে কিছু নিদস্ট গোস্টির দ্বারা এই আইন শংখলাহীন পরিস্থিতির তৈরির ফল স্বরুপ আমি বিভিন্ন প্রদেশ ও অঞ্চলের গভর্নর ও সামরিক আইন প্রশাসকদের আইন শংখলা পরিস্থিতি প্রথম ও সর্ব্বচ্চো অগ্রাধিকার প্রদানের নির্দেশ দিয়েছি।

 

যেকোনো ধরনের অরাজকতার বিরুদ্ধে তারা দ্রুত কার্যকর ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য ইতমধ্যে নির্দেশিত আছেন। যারা পরিকল্পিত ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আইন ভঙ্গ করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করে অস্থিতিশীল অবস্থা তৈরি করতে চায় তারা গনশত্রু। 

 

এটা লক্ষ্য করে আমি আনন্দিত যে মানুষ এখন এ সত্য অনুধাবন করছে এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রে সাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত করে এমন ঘটনায় আইন শংখলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ আহব্বান করছে ও দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাতের নিন্দা জানাচ্ছে। এতে ভুলের অবকাশ নেইঃ প্রশাসন ও জনগন এবিষয়ে ঐক্যবদ্ধ আছে। জনগন ও প্রশাসন অরাজকতা সৃস্টিকারীদের স্থান দিবে না।    

 

 

দেশে গনতন্ত্র পুনঃপ্রতিস্টা সহ কিছু ব্যাপারে আমরা আমাদের জন্য পরিস্কার ভাবে সুনিদস্ট কিছু লক্ষ্য নির্ধারন করেছি। আমরা কাউকে এ লক্ষ্য অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে দেবো না কারন এটা পাকিস্তানের জনগনের আকাঙ্ক্ষা এবং আমরা তাদের কে তা অর্পনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

 

গতবার আপনাদের সামনে বক্তব্য রাখার পর ভারতের মহারাস্ট্র প্রদেশে মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার ফলে অনেক প্রানহানী ও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে যারা ভারতের নির্দোষ সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। আমি জানি আমাদের জনগন এই বিয়োগান্তক ঘটনায় কি দারুন বিক্ষুব্ধ যা কিনা বিশ্ব বিবেককেও নাড়া দিয়েছে।

<2.120.541>

 

১৯৫০ সালের লিয়াকত-নেহেরু চুক্তির আওতায় ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত ভাবেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয় কারন এটা অপরিহার্য ভাবেই মৌলিক মানবাধিকারের প্রশ্ন। আমরা আন্তরিক ভাবে আশা করছি যে ভারত সরকার মুসলিম সম্প্রদায় ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহন করবেন। 

 

ভারতের সাথে সু প্রতিবেশী সুলভ সম্পর্ক উৎসাহিত করা আমাদের অকপট বাসনা। যদি এটা দুঃখজনক যে ভারতের সাথে আমাদের প্রধান বিবাদসমুহ যা আমাদের দুই দেশের মধ্যেকার তিক্ততার মুল কারন তা এখনো অমিমাংসীতই রয়ে গিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ফারাক্কা আলোচনায় গঙ্গার পানিতে আমাদের ন্যায্য হিস্যা ভারত অন্তত স্বীকার করে নিয়েছে যদিও পানির পরিমানের প্রশ্নটি এখনো

সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ফেলে রাখা আছে। যা অন্ত্যন্ত জটিল সমস্যা।

 

 

এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে ভারত কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে কোনো সদিচ্ছা প্রদর্শন করছে না।ধরনের আন্ত রাস্ট্রিয় সমস্যা ন্যায্যতা ও সম অধিকারের ভিত্তিতে সমাধান হওয়া আবশ্যক।  

পৌনঃপৌনিক ভাবে একপক্ষের সমস্যার অস্তিত্ব অস্বীকারে কিংবা সমস্যাটি স্বপ্রনোদিত ভাবে সমাধান হয়ে যাবে ধরে নেয়ায় সমস্যা বাতাসে মিলিয়ে যাবে না। এর অস্তিত্ব থেকে যাবে এবং সকল পক্ষের কাছে গ্রহনযোগ্য সমাধানের জন্য আর্তি জানিয়ে যাবে।   

 

মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের আরব ভাইয়েরা নিজেদের অবিচ্ছেদ্য দাবির পক্ষে তাদের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছেন। আগ্রাসন প্রতিহত করার তাদের এই দৃঢ় প্রত্যয়কে আমরা সর্বাত্বক ভাবে সমর্থন করি। ভাতৃপ্রতিম দেশ তুরস্ক ও ইরানের সাথে আমাদের সহযোগীতা উত্তর নতুন মাত্রায় পৌচাচ্ছে। 

 

এবছর মে মাসে ইজমিরে আমি ইরানের হিজ ইম্পেরিয়াল ম্যাজিস্টি শাহেনশাহ ও তুরস্কের মান্যবর রাস্ট্রপতির সাথে মিলিত হই। বিশ্ব পরিস্থিতির অনেক বিষয় নিয়ে আমরা প্রফুল্ল চিত্তে আমাদের মধ্যকার ঐকতান দেখতে পেয়েছি। আমরা তিন দেশ বিশ্ব ও আঞ্চলিক শান্তি নিয়ে এক সাথে কাজ করার সিদ্ধান্তে উপনিত হয়েছে।

আমরা আমাদের জনগনের জীবনমানে দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে সম্মিলিত উদ্যোগ ও পারস্পারিক নির্ভরশীলতার প্রয়োজনিয়তা উপলব্ধি করতে সখম হয়েছি। এই অভিন্ন প্রচেস্টা আমাদের ঐক্যকে আরো সংহত করবে।

 

 

পরিশেষে সতর্কতামুলক কিছু কথা বলতে চাই ।এদেশের মানুষ অন্তঃসার শুন্য স্লোগান ও ফাঁকা বুলির বিপদ ও চোরা-ফাঁদ ধরতে সম্পুর্ন সক্ষম। সুতরাং আমি আশা করবো যে যারাই ভবিষ্যতে এদেশ পরিচালনার আকাঙ্ক্ষা রাখেন তারা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা,সামাজিক ও রাজনৈতিক

পীড়াদায়ক দিকসমুহ এবং উন্নয়নশীল দেশের যে সকল সীমাবদ্ধতায় ভোগে তা জনগনের নিকট ব্যাখা করবেন। এমন কোনো আশ্চর্য প্রদীপ নেই যা এই কঠিন সমস্যাগুলোর রাতারাতি সমাধান দিতে পারে। ভবিষ্যত নেতৃবৃন্দ ও দেশ শাসকগনকে অনুধাবন করতে হবে যে শুদুমাত্র সতর্ক পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলাফলই জন কল্যানদায়ক হতে পারে।    

 

 

বিশ্বসভায় সম্মানজনক ও শ্রদ্ধার আসন অর্জন করতে উন্নয়নশীল দেশসমুহকে কঠোর পরিশ্রম আর আত্মত্যাগের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। সমদ্ধির পথ দীর্ঘ ও কস্টসাধ্য। এখানে পথ সংক্ষেপনের অবকাশ(শর্টকাট)নেই।কঠোর বাস্তবতা জনগনের সামনে তুলে ধরার সাহস রাজনৈতি নেতৃত্বের থাকা আবশ্যক এবং  জনগনকে বিভ্রান্তকারে এমন বক্তব্য এড়িয়ে যাওয়া উচিত।তারা আর ফাঁকাবুলি গ্রহন করতে প্রস্তুত নয়।দাবি করার অধিকার তাদের আছে এবং মুখে ও কর্মে সততাই তাদের নেতাদের নিকট তাদের দাবি থাকবে।

 

প্রিয় দেশবাসি, জাতীয় নির্বাচনের আর মাত্র দুইমাস মত বাকি আছে।এই প্রথমবারের মত সমগ্র দেশ পুর্নাঙ্গ নাগরিক অধিকার নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। যাদের প্রথম কাজ হবে পাকিস্তানের জন্য সংবিধান প্রনয়ন করা এবং এরপর কেন্দ্রীয় আইন পরিষদ গঠন করা ।

<2.120.542

এ সময়কাল অতি গুরুত্বপুর্ন এবং ব্যাক্তি হিসাবে কতটা স্বাধীন ভাবে পরিচালনা করতে পারবো তারুপরে দেশে ভবিষ্যত অনেকটাই নির্ভর করবে।

প্রত্যেক ভোটারকে তার ভোটের মুল্য ও গুরুত্ব মুল্যায়ন করতে হবে এবং যারা নিঃস্বার্থ ও দেশপ্রেমের মনোভাব নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে সক্ষম তাদের পক্ষেই ভোট প্রদান করতে হবে। রাজনৈতিক দলসমুহ ও প্রার্থীদেরকে প্রমান করতে হবে তারাই সেই দল যাদের উপরে ভোটাররা নির্ভর করতে পারে।

সর্বপোরি এ সময়কালে সব তরফ থেকে অনেক বেশি আত্মনিয়ন্ত্রন অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসন স্বভাবতই শান্তিপুর্ন পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ প্রচেস্টা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু একাজে আপনাদের প্রত্যেকের সক্রিয় সহায়তা ও পুর্ন সহযোগীতা তাদের প্রয়োজন। আমার কোন সন্দেহ নাই যে আপনাদের তরফ থেকে এধরনের সাহায্য সহযোগিতা আসবে। এ পর্যন্ত যা অর্জিত হয়েছে তার জন্য আমি আপনাদের অভিনন্দন জানাতে চাই এবং আপনাদের এ মহতী প্রচেস্টার সর্বাত্বক সাফল্য কামনা করি। অতএব সম্মুখ পানে এগিয়ে যান ও নিজের উপরে আস্থা এবং সর্ব শক্তিমান আল্লাহর উপর পুর্ন বিশ্বাস রেখে জাতীয় নির্বাচনের মত বিশাল চ্যালেঞ্জিং কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহন করুন।

 

খোদা হাফেজ

পাকিস্তান পায়েন্দাবাদ !