শান্তি কমিটিঃ গঠন ও তৎপরতা

Posted on Posted in 7

৭.২২০.৬৪৮ ৬৫৬

শিরোনামসূত্রতারিখ
২২০। শান্তি কমিটি গঠন ও তৎপরতাসংবাদপত্র১৯৭১

 

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনার জন্য শহরে শান্তি কমিটি গঠন

ঢাকা, ১০ই এপ্রিল (এপিপি)। শহরের জনগনের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গতকাল জনাব খাজা খয়েরউদ্দিনকে আহবায়ক মনোনীত করে একটি শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।  এ কেন্দ্রীয় কমিটির অধীনে শহরের সব শান্তি কমিটিগুলো কাজ করবে।

ঢাকার প্রতিনিধিস্থানীয় নাগরিকদের এক সভায় গতকাল “শান্তি কমিটি” গঠন করা হয়। কমিটি জনাব  খাজা খয়েরউদ্দীনকে কমিটির আহবায়ক নির্বাচন করেন । বর্তমানে ১০৪ জন সদস্য নিয়ে এ শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আরো সদস্য কো অপ্ট করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইউনিয়ন এবং মহল্লা পর্যায়েও শান্তি কমিটি গঠন করা হবে এবং তারা কেন্দীয় কমিটির নির্দেশে কাজ করবেন । কমিটি শহরের দৈনন্দিন জীবনে যত শীঘ্র সম্ভব স্বাভাবিক অবস্থা  ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা করবেন।

কমিটি প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে আগামী মঙ্গলবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে একটি শোভাযাত্রা বের করবেন এবং চক মসজিদ যেয়ে শোভাযাত্রাটি শেষ হবে।

কমিটিতে সদস্যদের মধো রয়েছেন জনাব এ,কিউ,এম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম, জনাব আব্দুল জববার খদ্দর , জনাব মাহমুদ আলী, জনাব এ,কে,রফিকুল হোসেন , জনাব ইউসুফ আলী চৌধুরি, জনাব আবুল কাসেম ,জনাব ফরিদ আহমদ, অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার, জনাব আজিজুল হক, জনাব এস,এম,সোলায়মান,পীর মোহসীন উদ্দিন,এডভোকেট শফিকুর রহমান, মেজর আফসার উদ্দিন,সৈয়দ মহসেন আলী, এডভোকেট ফজলুল হক চৌধুরি,আলহাজ সিরাজউদ্দিন,এডভোকেট আতাউল হক খান,এডভোকেট এ,টি,সাদী, জনাব মকবুলুর রহমান , আলহাজ্ব মোহাম্মদ আকিল,অধ্যক্ষ রুহুল কুদ্দুস, জনাব নূরুর রহমান,সম্পাদক  ইয়ংগ পাকিস্তান মওলানা মফিজুল হক,এডভোকেট আবু সালেহ এডভোকেট আব্দুন নাইম প্রমুখ।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের হীন প্রচারনার তীব্র নিন্দা করে সভায় নিন্মলিখিত প্রস্তাব গৃহিত হয়ঃ

ঢাকা শহর শান্তি কমিটির এ সভা পাকিস্তানের অভ্যন্তরিণ ব্যাপারে হিন্দুস্তানের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা করছে।

এ সভা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ভারতকে এ ধরনের বিপজ্জনক খেলায় মেতে আর একটি মহাযুদ্ধকে না আনার বিরুদ্ধে হুসিয়ারী উচ্চারন করছে।

এ সভা মনে করে যে, হিন্দুস্থান পূর্ব পাকিস্তানে সশস্ত্র অনুপ্রবেশকারী পাঠিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের দেশ প্রেমিকতার প্রতি চ্যালেঞ্জ করেছে।

এ সভা আমাদের প্রিয় দেশের সন্মান ও ঐক্য বজায় রাখার জন্য দেশ প্রেমিক জনগণকে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে আকুল আহবান জানাচ্ছে।

                                                        -দৈনিক পূর্বদেশ, ১১ এপ্রিল,১৯৭১

শান্তি ও জনকল্যান কমিটির বৈঠক

গত বুধবার পূর্ব পাকিস্তান শান্তি ও জন কল্যান ষ্টিয়ারিং কমিটির প্রথম বৈঠকে ভারতীয় ও অন্যান্য ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সময়োচিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ায় গভীর সন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।

এপিপির খবরে বলা হয় যে, বৈঠকে পাকিস্তানবাদ ও পাকিস্তানের অস্তিত্বের বিরুদ্ধে হিন্দু ভারতের দীর্ঘ দিনের পুরানো ব্রাক্ষণ্য শত্রুতার পুনরাবৃত্তির কঠোর নিন্দা করা হয়। বৈঠক পাকিস্তানকে ভেংগে দেয়ার সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের এলাকায় ভারতীয় অনুপ্রবেশেরও তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ষ্টিয়ারিং কমিটি সারা পূর্ব পাকিস্তানে কাজ করবে এবং জেলা থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সকল পর্যায়ে শান্তি ও জন কল্যান ইউনিট গড়ে তুলবে।

শান্তি ও জনকল্যান ইউনিটগুলো নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী জীবনের সর্বক্ষেত্রে আস্থা, শান্তি ও স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নিতি ও সমৃদ্ধি ত্বরান্নিত করতে সাহায্য করবে।

বৈঠকে গৃহীত অপর এক প্রস্তাবে যেসব সরকারী ও বেসরকারী সংস্থার কর্মচারীরা এখনো কাজে ফিরে আসেননি, তাদের প্রতি জনস্বার্থের খাতিরে অবিলম্বে নিজ নিজ কাজে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়।

অপর এক প্রস্তাবে বলা হয় যে, প্রাদেশিক ষ্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা সংস্থার সাংগঠনিক কর্মসূচী বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে বিভিন্ন জেলায় চলে যাবেন।

এক প্রস্তাবে দেশপ্রেমিক নাগরিক, আইনজীবী, মসজিদের ঈমাম ও মাদ্রসার মোদাররেসদের প্রতি জনসাধারনকে কোরান ও সুন্নাহর আদর্শে অণুপ্রানিত করে তোলার আহবান জানানো হয়, যাতে জনসাধারন ইসলাম ও পাকিস্তানের  দুষমনদের মোকাবিলা করতে পারেন এবং প্রয়োজন হলে জেহাদ যোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন।

কমিটি দেশপ্রেমিকদের প্রতি সকল জেলা শহর ও ইউনিয়নে পনের দিনের মাঝে সর্ব শ্রেণীর জনসাধারন ও পূর্ব পাকিস্তান শান্তি ও জনকল্যান কাউন্সিলের সাধারন সম্পাদকের ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর রোড , ১২ নম্বর বাড়ী, ঢাকা,-সাথে যোগাযোগ করে শান্তি ও জনকল্যান কমিটি গঠন করার আহবান জানান।

অন্য এক প্রস্তাবে শান্তি ও জনকল্যান কাউন্সিলের সকল ইউনিটের প্রতি জুম্মায় বৃহওর জামাতে সংগঠন এবং ইসলাম ও ইসলামের আবাসভ’মির প্রতিরক্ষা সম্পর্কে জনসাধারনকে শিক্ষিত করে তোলার আহবান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে সভাপতির ভাষনে মৌলবী ফরিদ আহমদ সংস্থার নীতি ও আদর্শ তুলে ধরেন। তিনি বর্তমান মুহুতে ভ্রাতৃসূলভ মনোভাব প্রদর্শনের জন্য চীনের প্রতি পূর্ব পাকিস্তানের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

সংস্থার সাধারন সম্পাদক মাওলানা নুরুজ্জামান ও সংস্থার লক্ষ্য ব্যাখ্যা করেন। বৈঠকে মৌলবী ফরিদ আহমেদের নেতৃত্বে বিশেষ মোনাজাত এবং পাকিস্তান ও ইসলামের খেদমতে আতœনিবেদনের উদ্দেশ্যে শপথ গ্রহন করা হয়। সদস্যরা দেশের সংহতি ও অখন্ডতা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ভারতীয় অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন।

জনাব ওয়াজউল্লাহ খান ,মোহাম্মদ আলী সরকার , মুস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা নুরুজ্জামান ও আজিজুর রহমান খান এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

জনাব আবুল ফয়েজ বোখারী, আব্দুর রশীদ ও ডক্টর আব্দুর রফিককে সদস্য কোঅপট করা হয়।

                                                        -দৈনিক পাকিস্তান, ১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

শান্তি কমিটির নতুন নামকরন

গত বুধবার শান্তি কমিটি নামে পরিচিত নাগরিক শান্তি কমিটির এক সভায় সংস্থার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। পূর্ব পাকিস্তানের জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি এবং সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানকে এই কমিটির কাজের আওতায় আনা হয়েছে।

এপিপি পরিবেশিত এই খবরে বলা হয় যে, কমিটি প্রয়োজন মতো আরো সদস্য কো-অপট করতে পারবেন। জনসাধারণ যাতে দ্রুত প্রদেশের অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য তাদের কাজ শুরু করতে পারেন তার জন্য কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি প্রদেশে সত্ব ও স্বাভাবিক অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সকল পদক্ষেপ গ্রহন করবেন।

কমিটি তাদের লক্ষ্য পূরণের জন্য জেলা ও  মহকুমা পর্যায়ে ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি তাদের কাজ দ্রুত ও যথোপযুক্তভাবে চালিয়ে যাওয়ার ও তাদের নীতি পূর্ণ আন্তরিকতার সাথে কার্যকরী করার জন্য নিন্মলিখিত ২১ জন সিদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছেঃ ১।আহবায়ক সৈয়দ খাজা খয়েরউদ্দিন ২।জনাব এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম ৩।অধ্যাপক গোলাম আজম ৪। জনাব মাহমুদ আলী ৫।জনাব আব্দুল জব্বার খদ্দর ৬।মাওলানা সিদ্দিক আহমদ ৭।জনাব আবুল কাসেম ৮।জনাব মোহন মিয়া ৯।মাওলানা সৈয়দ মোহাম্মদ মাসুম ১০।জনাব আবদুল মতিন ১১।অধ্যাপক গোলাম সারওয়ার ১২। ব্যারিষ্টার আখতার উদ্দিন ১৩।পীর মহসীন উদ্দিন ১৪।জনাব এ এস এম সোলায়মান ১৫।জনাব এ কে রফিকুল হোসেন ১৬।জনাব নুরুজ্জামান ১৭।জনাব আতাউল হক খান ১৮।জনাব তোয়াহা বিন হাব্বি ১৯।মেজর আফছারউদ্দিন ২০।দেওয়ান ওয়ারাসাত আলী ২১।হাকিম ইরতেয়াজুর রহমান ।

-দৈনিক পাকিস্তান ১৬ এপ্রিল, ১৯৭১

শান্তি কমিটির সংযোগ রক্ষাকারী নিয়োগ

এপিপির খবরে প্রকাশ, কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি ঢাকা নগরীর ইউনিয়ন ও মহল্লাগুলোতে শান্তি কমিটি সংগঠনের জন্য আহবায়ক মনোনীত করেছে।অনেক স্থানে এর মধ্যেই ইউনিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউনিট কমিটিগুলোর কার্যত্রুম সম্পকে সকল রকমের তথ্য ঢাকায় মগবাজারস্থ ৫ নম্বও এলিফ্যান্ট লেনে অবস্থিত কেন্দীয় শান্তি  কমিটির অফিসে অবশ্যই পোঁছাতে হবে। জনগনের সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় শান্তি  কমিটির অফিস ২৪ ঘন্টার জন্যই খোলা থাকবে এবং জনগনের সুবিধা অসুবিধা দেখার জন্য কমিটির দফতর সম্পাদক জনাব নূরুল হক মজুমদার এডভোকেটকে অফিসে পাওয়া যাবে।

 প্রদেশের সর্বত্র শান্তি কমিটি সংগঠনের পরিকল্পনা ও কর্মসূচী প্রনয়েনের জন্য কেন্দ্রী শান্তি কমিটি রোজই বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। কমিটি স্বাভাবিক জীবন যাত্রায় ফিরে যাওয়া এবং সব স্থানে ইউনিট শান্তি কমিটি গঠনে জনগনকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্য জেলা ও মহকুমা পযায়ে নেতা ও কমী প্রেরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কমিটি জনগনের নিকট থেকে সমস্যা ও অসুবিধা সম্পর্কে তথ্য গ্রহন ও তা লাগবের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সামরিক সেক্টরের সাহায্য লাভের ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কমিটি সদস্যদে মধ্য থেকে সংযোগ রক্ষাকারী অফিসার নিয়োগ করেছে।তারা ইতিমধ্যে তাদেও দায়িত্ব গ্রহন করেছেন। যোগাযোগ রক্ষাকারী অফিসারদিগকে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় মান্তি কমিটি অফিসে তাদের রিপোট পেশ করতে নির্দেশ দেয় হয়েছে।

-দৈনিক পাকিস্তান, ২০ এপ্রিল ১৯৭১

 

 

 

 

সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্য করার আহবান

শান্তি কমিটির আহবায়কের বিবৃতি

পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি সকল দেশপ্রেমিক পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি রাষ্ট্র বিরোধী লোকদের হিংসাতœক এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপ প্রতিরোধের এবং উৎসাহের সাথে সবরকম ভাবে সশস্ত্রবাহিনীকে সাহায্য করার আহবান জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার কমিটির আহবায়ক এস কে খয়ের উদ্দীন প্রচারিত প্রেস রিলিজে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী ব্যক্তিরা সারা প্রদেশে সম্পূর্ন বিপর্যস্ত হওয়ায় এখন পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছে,শান্তি প্রিয় নাগরিকদের হয়রান করেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিচ্ছে।

সশস্ত্র বাহিনী আমাদের জনগনের এবং আমাদের জানমাল রক্ষার জন্যই এসেছে।

সশস্ত্র বাহিনী যেখানেই যাবে সেখানে জাতীয় পতাক হাতে নিয়ে এগিয়ে আসার এবং রাষ্ট্র বিরোধী ব্যক্তি ও দুস্কৃতিকারীদের নির্মৃল করার অভিযানে সশস্ত্র বাহিনীকে সাহায্য করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোরজন্য শান্তি কমিটি দেশপ্রেমিক জনসাধারনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। কমিটি বলেছেন , দেশে সেনাবাহিনীকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।

শান্তিপ্রিয় ও দেশপ্রিয় ও দেশপ্রেমিক পূর্ব পাকিস্তানী জনগন ভারতীয় বেতারের বিদ্বেষ প্রচারনার এবং রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের গুজব ছড়ানোর প্রকৃত উদ্দেশ্য বুজতে পারবেন বলে কমিটি আশা প্রকাশ করেছেন।

 

খন্ডিত হওয়ার হাত থেকে দেশকে রক্ষার মহান কাজে সেনাবাহিনীর সাফল্যের জন্য কমিটি আল্লাহর কাছে গবীর কৃতঞ্জতা প্রকাশ করেছেন।

-দৈনিক পাকিস্তান,২৩ এপ্রিল ১৯৭১

শান্তি কমিটি প্রতিনিধিদের জেলা ও মহকুমায় পাঠানো হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির মিশন পূরনের জন্য জেলা ও মহকুমা সদর দফতরের কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি প্রতিনিধিদের পাঠানো হচ্ছে।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দ্রুত পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রাস্ট্রবিরোধী ও সমাজ বিরোধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জনগনকে সজাগ রাখা ও গুজব রটনাকারীদের দুরভিসন্ধি প্রতিরোধের  উদ্দেশ্যে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল রোববার এপিপি জানিয়েছেন যে, ইতিমধ্যেই যদি এ ধরনের কোন কমিটি গঠত হয়ে থাকে তাহলে এসব কমিটিকে স্বীকৃতির জন্য কেন্দ্রীয় অফিসে তাদের নাম পাঠাতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কমিটি সংশিষ্ট প্রশাসনিক কতৃপক্ষের কাছে স্বীকৃত শান্তি কমিটির রিপোর্ট দেবে।

তাছাড়া ঢাকা শহরে পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টিতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটির উদ্যোগে শহরের বিভিন্ন এলাকায় শান্তি স্কোয়াড বের করা হচ্ছে। শহর ও শহরের আশেপাশে আরও ১৬টি শান্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।…………

-দৈনিক পাকিস্তান, ২৬ এপ্রিল ১৯৭১

শান্তি কমিটির কর্মতৎপরতা শুরু

মুন্সীগঞ্জে পাক সেনাদের বিপুল অভ্যর্থনা জ্ঞাপন

মুন্সীগঞ্জ, ১১ই মে (পিপিআই)। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জোয়ানরা গত ৯ই মে মুন্সীগঞ্জে উপনিত হলে মুন্সীগঞ্জ মহকুমার জনসাধারন ও সরকারী করর্মচারীরা তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। পিপিআই বার্তা সংস্থার বিশেষ সংবাদাতা এ কথা লিখেছেন।

মেজর জাবেদের নেতৃত্বে পাকিস্তানী সেনাদও মুন্সীগঞ্জে সেনাদল উপনিত হলে সেখানকার বিভিন্ন শ্রেনীর লোক এই সেনাদলকে বিপুল অভ্যর্থনা জ্ঞাপন করেন।এর আগে জনসাধারন সকল দালান কোটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বাজার সমূহে পাকিস্তানের পতাকা উওোলন করেন।

পাকিস্তানি সেনা দল টাউনে উপনীত হলে সেখানে একটা আনন্দমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এরপর সেনাবাহিনীর অফিসাররা জাতীয় পরিষদেও সাবেক সদস্য এবং মুন্সীগঞ্জ টাউন কমটির চেয়ারম্যান জনাব আবদুল হাকিম বিক্রমপুরীসহ স্থানীয় সরকারী কর্মচারী ও নেতৃত্বস্থানীয় ব্যক্তিদের সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে জনাব বিক্রমপুরী সামরিক অফিসারদের মুন্সীগঞ্জ মহকুমার জনসাধারনের আন্তরিক ও পূর্ন সহয়োগিতার আশ্বাস দেন।

জনাব বিক্রমপুরী আরও বলেন ,লৌহজং,টঙ্গীবাড়ী, গজারিয়া, শ্রীনগর এবং সিরাজদিখান নিয়ে গঠিত এই মহকুমার জনসাধারন সব সময়ই আইনানুগ, শান্তিপ্রিয় এবং দেশপ্রেমিক।

সকর দোকান পাট, সরকারী ও বেসরকারী অফিসগুলো তাদের স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা অব্যাহত রাখে।কোন ব্যক্তিই ভয় ও আতংকে টাউন ছেড়ে যায়নি।

সমরিক অফিসাররা বাজার পরিদর্শন করেন এবং দেখতে পান যে, নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য দ্রব্যাদির মূল্যও স্বাভাবিক ও যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রয়েছে। পন্য দ্রব্যের সরবরাহও সন্তোসজনক রয়েছে। মুন্সীগঞ্জের কৃষকরা আউস ফসল কাটছেন। কৃষকরা আবার অন্যান্য ধরনের ধানও রোপন করেছেন।

সেনাবহিনীর দলটি মুন্সীগঞ্জের অভ্যন্তরে টঙ্গীবাড়ী,সিরাজদি খান, রামপাল(ঐতিহাসিক স্থান) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূন অংশ সফর করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনী পদ্মা নদী দিয়ে মাওয়া, ভাগ্যকুল এবং কুমারভোগ অতিক্রম করাকালে লৌহজঙ্গে জনসাধারন তাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান।

ইতিমধ্যে মুন্সীগঞ্জ কুমার ইউনিয়ন কাউন্সিলের সদস্য এবং শান্তিপূর্ন জনসাধারনদের তাদের নিজ নিজ এলাকায় শান্তি কমিটির সভা অনুষ্ঠান ব্য¯ত থাকতে দেখা গিয়েছে।তারা ভারতীয় দালালদের হাত থেকে তাদের নিজেদের ভ’মি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর।

এদিকে শান্তি কমিটির নেতা জনাব আবদুল হাকিম বিক্রমপুরী ইতিমধ্যেই ৬৮টি ইউনিয়ন কাউনিাসলের নেতৃস্থানীয় জনসাধারনকে সেনাবাহিনীর দল তাদের স্থানে উপনীত হলে সেনাবাহিনীকে তাদের সহযোগিতা দানের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রত্যেকটি এলাকার জনসাধারনই স্থানীয় জনসাধারনের প্রতি সেনাদলের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়েছেন। জনসাধারন ও সেনাদল সন্তষ্টির সাথে তাদের মত বিনিময় করেন।

-পূর্বদেশ, ১২ মে, ১৯৭১