শান্তি কমিটির গঠন ও তৎপরতা সম্পর্কিত আরো কয়েকটি দলিল

Posted on Posted in 7

৭.২২১.৬৫৭

জিলা ”এগ্রিকালচার পীস সাব–কমিটি” গঠনের নির্দেশ।

চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটি

কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি, ঢাকা অধিভুক্ত

অফিসঃ

পাকিস্তানী কাউন্সিল

( মুসলিম ইন্সটিটিউট হল)

কে সি দে রোড, চট্টগ্রাম

 

আহবায়কঃ আলহাজ মাহমুদুন নবী চৌধুরী

সূত্র নং – ২৬/সি ভি পি সি / ৭১

তারিখ- ১৫/৬/১৯৭১,

১। জনাব আহমেদুর রহমান চৌধুরী, সচিব, হাটহাজারী থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি , এবং

২। ডাঃ এম , এজহার মিয়া, সচিব, বোয়ালখালী কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি মিলনায়তন, চট্টগ্রাম ।

যেহেতু সমাজবিরোধী উপাদান যোগাযোগ বিচ্ছিন্নকরণের মাধ্যমে স্বাভাবিক নাগরিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ভাঙ্গনের সৃষ্টি করেছে এবং জনগণের বিশ্বাসও নড়ে যাচ্ছে, কৃষি খাতও এর ব্যতিক্রম নয়, অতএব অর্থনীতির প্রধানতম খাত হিসেবে কৃষিখাত সচল করার জন্য একটি উপ-কমিটি গঠন করার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করা হচ্ছে ।

 

১। এই উপকমিটি জেলা পর্যায়ে কৃষি শান্তি উপ কমিটি নামে এবং অন্যান্য পর্যায়ে কৃষি শান্তি উপ কমিটির পূর্বে নিজ নিজ এলাকার নামানুসারে পরিচিত হবে ।

২। আপনারা উভয়ে জনাব আহমেদুর রহমান চৌধুরী এবং ডঃ এজহার মিয়া আপনারা উভয়ে কৃষি শান্তি উপ –কমিটির আহবায়ক হিসাবে মনোনীত। আপনারা  চট্টগ্রাম জেলার নিম্নলিখিত দায়িত্ব জরুরিভাবে গ্রহন করেছেন ।

১। আপনারা উভয়ই যৌথ ভাবে,

ক। ২৫ জন সদস্য নিয়ে কৃষি শান্তি কমিটি উপ- কমিটি গঠন করুন যারা প্রত্যেকে প্রতি জেলার একটি থানাকে প্রতিনিধিত্ব করবে। এক- তৃতীয়াংশ শক্তি নিয়ে উপ-কমিটি কাজ আরম্ভ করতে পারবে।

খ। থানা, ইউনিয়ন বা সম্প্রদায় পর্যায়ে আহবায়কের মনোনয়ন করবেন। এসব পর্যায়ে উপ- কমিটির শক্তি ১৫ জনের বেশি অতিক্রম করা উচিত না এবং মোট শক্তির এক – তৃতীয়াংশ শক্তি কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম হবে ।

গ। আহবায়ক অথবা সদস্যদের সততা এবং চরিত্রের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করার মাধ্যমে আপনারা কৃষি শান্তি উপ –কমিটির জন্য ব্যক্তি মনোনয়ন করবেন। এবং

ঘ।  কৃষিখাতে শান্তি উপকমিটির কোনো সদস্য বা আহবায়কের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পূর্বে  চট্টগ্রাম জেলার শান্তি কমিটির আহবায়কের অনুমোদনের গ্রহণ করবেন।

১১। আপনারা  দুইজন যৌথ ভাবে দায়িত্বগ্রহণ বা সহায়তা বা নিম্নলিখিত কৃষিখাতের কার্যক্রম সরাসরি অথবা উপ- কমিটির দ্বারা সংগঠিত করবেন ।

ক। গ্রাম অঞ্চলের কৃষক পর্যায়ে শান্তি সুনিশ্চিত করতে হবে এবং কৃষকদের তাদের স্বাভাবিক কৃষি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে ।

খ। কৃষকদের প্রয়োজনীয় যোগান যেমন বীচ, সার , কীটনাশক , পাম্প, তেল জ্বালানী, ঋণ ইত্যাদি তারা সাধারনত যেসব উৎসের মাধ্যমে জোগাড় করত সেই বিষয়ে সাহায্য করতে হবে ।

গ। কৃষকদের মাঝে যারা সরকারী সমবায় সমিতির সাহায্যে সাধারণ প্রশিক্ষন নিচ্ছিল তাদের কার্যকম অবিরত রাখার জন্য সাহায্য করবে ।

ঘ। কৃষি সমবায় – সমিতি সংঘ এবং কৃষিঋণ সংগঠন যেমন সমবায়- সমিতি ব্যাংক, বহুমুখী সংঘ এবং প্রাথমিক সংঘ পূর্ব পাকিস্তান সরকারের নিবন্ধিত সমবায় সমিতির মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবে । এবং তাদের কৃষি কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় বৈঠক করার জন্য সাহায্য প্রদান করা হবে ।

ঙ। আরও বেশি খাদ্য উৎপাদনের জন্য সরকারী সমবায় সমিতির মাধ্যমে পুনরায় লোন পরিশোধের ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা হবে। এবং  তাদের আত্মবিশ্বাস  পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য পূর্বে সাধারনত তারা  যে সব উৎস থেকে ঋণ পেত তার ব্যবস্থা করতে হবে।

চ। সরকারের বিভিন্ন বিভাগের যে সব কর্মকর্তাগণ কৃষি কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত ছিল তাদের সহায়তা করতে হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান কৃষি কার্যক্রমে নিয়োজিত ছিল পুনরায় শান্তি পুনস্থাপন এবং সবকিছু স্বাভাবিক করার মাধ্যমে সেগুলো সচল করতে হবে।

ছ। কৃষি ক্রিয়াকলাপে অথবা সরকারী অনুমোদিত কৃষি সংস্থা সমূহের কার্যকলাপে কেউ যদি বাঁধা সৃষ্টি করে সরকারী কতৃপক্ষকে কর্মকান্ডের বিবরণ দিয়ে নোটিশের এর মাধ্যমে অবহিত করবে।

কৃষি খাতের উপ- কমিটির সকল সিদ্ধান্ত আপনাদের যৌথ অনুমোদনের মাধ্যমে গৃহীত হবে। এবং যৌথভাবে বা আলাদাভাবে আপনাদের দ্বারা গৃহীত মনোনয়ন অথবা সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটির আহবায়ক দ্বারা তা সংস্কার করবে ।

 

 

এস। ডি/ মাহমুদুন নবী চৌধুরী

আহবায়ক

চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটি

 

অনুলিপিঃ

১। সহকারী উপ-প্রশাসক, মার্শাল-ল কতৃপক্ষ , চট্টগ্রাম ।

২। সহকারী কমিশনার, চট্টগ্রাম ।

৩। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( সাধারণ ) চট্টগ্রাম।

৪।  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( উন্নয়ন )

৫। উপ- বিভাগীয় কর্মকর্তা সদর ( দক্ষিন )

৬। উপ- বিভাগীয় কর্মকর্তা সদর (উত্তর )

৭। উপ- বিভাগীয় কর্মকর্তা সদর ( কক্সবাজার )

৮। পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম 

৯। বিভাগীয় অফিসার উন্নয়ন ( সকল থানা )

১০।আঞ্ছলিক- ডেপুটি রেজিস্টার , কো- অপ , সোসাইটিজ, চট্টগ্রাম।

১১। সহকারী রেজিস্টার, কো- অপ , সোসাইটিজ, চট্টগ্রাম।

১২। জেলা পরিচালক । ই পি এ ডি সি , চট্টগ্রাম ।

১৩। সহকারী প্রকৌশলী । ই পি এ ডি সি , চট্টগ্রাম ।

১৪। জেলা কৃষি, অফিসার , চট্টগ্রাম ।

১৫। সচিব, টি সি সি এ লিমিটেড চট্টগ্রাম ।

১৬। অফিসার ইন চার্জ ( সকল থানা )

 

অবগতির জন্য ,

সাবঃ মাহমুদুন নবী চৌধুরী

আহবায়ক

চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটি ।

 

 

থানা “এগ্রিকালচার পীস সাব –কমিটি”র আহবায়কদের নিয়োগপত্রও তাদের দায়িত্ব

 

 

জেলা কৃষি শান্তি উপ- কমিটি ।

প্রযত্নেঃ পাকিস্তান কাউন্সিল

মুসলিম ইন্সটিটিউট হল

কে সি দে রোড, চট্টগ্রাম

 

 প্রতি …………………………………………………………………………………………………।।

কৃষি শান্তি উপ কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে আমরা চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটির অনুমোদন এবং সম্মতিপূর্বক আপনাকে মনোনীত করছি।

জনাব………………………………………………………………………………………………………………………………………, আহবায়ক,

… … … … … … … থানা কৃষি শান্তি উপ- কমিটি নিম্নলিখিত  কার্যকমগুলো অবশ্যই সম্পন্ন করবে ।

১। সাংগঠনিক দায়িত্ব।

২। ক্রিয়ামূলক দায়িত্ব ।

…………………………………………………………………

অনুমোদনক্রমে

স্বাক্ষরিত- মাহমুদুন নবী চৌধুরী

৩/৭/৭১,

আহবায়ক ,

চট্টগ্রাম জেলা শান্তি কমিটি  

 ১। ……………

আহমেদুর রহমান চৌধুরী

২। ………………………

(ডঃ মোঃ এজহার মিয়া)

যুগ্ম আহবায়ক

জেলা কৃষি শান্তি উপ-কমিটি , চট্টগ্রাম।

 

ইউনিয়ন কৃষিশান্তি কমিটির আহবায়কদের নিয়োগপত্র ও তাদের দায়িত্ব

থানা কৃষিশিক্ষা কমিটি, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম

মেমো নং…….                                                                        তাংঃ ১৭/০৭/১৯৭১

 

আমি ওয়াকিল আহম্মদ তালুকদার চট্টগ্রাম গেলা কৃষিশান্তি কমিটির যুগ্ম আহবায়কদ্বয়ের অনুমোদন ও মনোনয়ন প্রাপ্ত হইয়া রাংগুনিয়া থানা কৃষিশান্তি কমিটির আহবায়ক হিশেবে আপনি মিঃ…………………. কে ইউনিয়ন কৃষিশান্তি কমিটির আহবায়ক নিযুক্ত করতঃ নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালনসমূহের জন্যে অনুরোধ করিতেছিঃ

০১)    সাংগঠনিক দায়িত্বসমূহ

 

(ক) যাহারাপূর্ব হইতে কৃষি কাজের সহিত জড়িত আছেন এবং রাষ্টিীয় সংহতি নিঃসন্দেহ এ রূপ ১৫ জন সদস্য সহযোগি তা আপনার ইউনিয়ন কৃষিশান্তি কমিটি গঠন করিতে হইবে।

 

(খ) নিন্মস্বাক্ষারকারী ও জেলা আহবায়ক অনুমোদন সাপেক্ষে আপনি কমিটিগঠন করার সাথে সাথে অন্ততঃপক্ষে ০৫জন সদস্য লইয়া কাজ আরম্ভ করিতে পারেন। কিন্তু প্রথমে আপনার ইউনিয়ন কৃষিশান্তি কমিটির সকল সদস্যের নাম ঘোষনা করিতে হইবে। ক্রমে অবশিষ্টসদস্যদের নাম অনুমোদনের জন্য পাঠানো যাইতে পারে , যদি এক সাথে ১৫টি নাম পওয়া না যায়।

 

(গ) প্রত্যেক বিষয়ে সুবিচার করিতে হইবে এবং রাষ্ট্র বিরোধি কার্যকলাপ সরাসরি ও সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত না হইলে কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানী করা যাইবেনা। সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি যে কোন রাজনৈতিক দলভুক্ত হউক না কেন।

 

(ঘ) কৃষি বিষয়ক সরকারী সংস্থা এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা স্বার্থের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করা।

 

(ঙ) প্রয়োজনবোধে আঞ্চলিক কৃষিশান্তি কমিটি গঠন করা যাইতে পারে। এরূপ কমিটিতে ০৫ জন সদস্য এবং একজন ভারপ্রাপ্ত হিসেবে কাজ করিবেন, কৃষি কাজ করেনা এমন কোন ব্যক্তি ইহার সদস্য হইতে পারবেনা।

 

(চ) কেবল প্রয়োজন বোধে,  প্রাথমিক সমবায় সমিতি উপর ভিত্তি করিয়া প্রাথমিক কৃষিশান্তি কমিটি গঠন করা যাইতে পারে। এরূপ কমিটি কেবলমাত্র সেখানে করা যাইবে যেখানে সমবায় ঋণআদায় ও ঋণ গ্রহীতা সদস্য উৎপাদিত ফসল ও সম্পতি রক্ষণাবেক্ষন সমস্যার উদ্ভত নয়।

 

(ছ) বিগত গোলযোগে রসময় যে সকল বেসরকারী কৃষি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পদ শূণ্য হয়েছে তদস্থানে নতুন কর্মকর্তা নাম প্রস্তাব করা যাহাতে  ঐ সকল প্রতিষ্ঠান অধিকখাদ্য উৎপাদনের উদ্দেশ্য কাজ করিয়া যাইতে পারে।

 

(জ) আপনার শান্তিকমিটির সভা সপ্তাহে একবার অনুষ্ঠিত করা ও থানা কৃষি শান্তি কমিটির পাক্ষিক সভায় যোগদান করা যাইতে পারে।

 

২। কার্য নির্বাহি দায়িত্ব সমূহ

 

(ক) পাকিস্তানের বিশেষ পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা সহ চাষী সাধারণের নিরাপত্তা সম্পর্কে তাদের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করা।

 

(খ) আত্মগোপন সমাজবিরোধী ব্যাক্তিদের সম্পর্কে চাষীদিগকে সতর্ক করিয়া দেওয়া যাহাতে ঐ সকল ব্যাক্তি দ্বারা কোন দুস্কর সাধিত হইতে না পারে।

 

(গ) চাষীদিগের মধ্যে বিশ্বাস আহরন করা যে তাহাদের উৎপাদিত ফসলাদি ন্যায্য মূল্য পাইবে এবং স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পর্যাপ্ত ভাবে তাহাদের প্রয়োজন মিটানোর হইবে।

 

(ঘ) সকল কৃষি সমবায় সমিতির ও অন্যান্য কৃষি সংক্রান্ত বিষয়সমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা এবং তাদের প্রয়োজন মিটানর কাজে সহায়তা প্রদান করা।

 

(ঙ) সরকারী কর্মচারীসহ যে কোন মহল হইতে কোন প্রকার অন্যায় হুমকি বা ক্ষতিকর প্রতিষ্ঠনের বিরুদ্ধে কৃষিপ্রতিষ্ঠান এবংচাষীদের সাহায্য করা।

 

(চ) সমবায় সমিতির মাধ্যমে প্রদত সরকারী ঋণ আদায়ের ব্যপারে সমবায় সমিতির সাহায্য করা।

 

(ছ) কর্জ ও খাজানা ইত্যাদি আদায়কারী সংস্থাকে বিগত গোলযোগের সময় নিরুদ্দেশ ব্যাক্তিদের সমবায় সমিতিতে দেয় টাকা আদায়ের ব্যাপারে অবহিত করা।

 

(জ) এলাকায় পরিত্যক্ত জমিজমা ও অন্যান্য সম্পত্তির তত্ত¦বধায়ক রূপে কাজ করার জন্য বর্তমান প্রাথমিক সমিতির সমূহকে সংগঠন করা এবং প্রয়োজনবোধে নতুন কৃষি সমাবয় সমিতির সাহায্য গ্রহন করা।

 

 

(ঝ) সমবায়সমিতি কর্তৃক দায়িত্ব গ্রহনকার পর্যন্ত সম্পূর্ণ অস্থায়ীভাবে পরিত্যক্ত ভূসম্পত্তি তত্তাবধায়রূপে কাজ করা।

 

(ঞ) কেবলমাত্র পূর্ব মালিক অথবা চাষীদের অনুপস্থিতির দরুর কোন জমি পতিত না রাখা।

 

(ট) ভূমি সংক্রান্ত আইন অনুসারে প্রত্যাবর্তনকারী কৃষক অথবা জমির মালিকে তাহার দখল ও স্বার্থ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সহায়তা করা।

 

(ঠ) কোন জমি অথবা অন্য প্রকারসম্পত্তি জোরপূর্বক অথবা বেঅঅইনীভাবে আত্মসাৎ না করা হয় এবং তদ্বারা কোনপ্রকার গোলযোগ সৃষ্টি হইতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখা।

 

(ড) উৎপাদিত ফসল ন্যায্য মূল্যে বিক্রয়ের ব্যপারে চাষীদের সাহায্য করা এবং উহার ন্যায্য মূল্য পাইতে সহায়তা করা।

 

(ঢ)  কোন প্রকার অবিচার করা হইলে উহাজিলা কৃষিশান্তিকমিটি, স্থানীয় আহবায়ক এবং সরকারী কতৃপক্ষকে জানাইতে হইবে। সত্বর সাড়া না পাইলে তৎক্ষণাৎ ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের গোচরীভুত করা।

 

(ন) আপনার এলাকাস্থ শান্তিকমিটির সকল স্তরের সহিত ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা রক্ষা করা।

 

 

স্বাক্ষর-

(ওয়াকিলআহম্মদ তালুকদার)

আহবায়ক,

রাঙ্গুনীয়া থানা কৃষিশান্তিকমিটি, চট্রগ্রাম।

 

 

 

দুস্কৃতকারীদের তৎপরতা রোধের জন্য সামরিক কতৃপক্ষের

কাছে জিলা শান্তি কমিটির পরামর্শ।

 

 

 

প্রতি,

উপ- প্রশাসক,

মার্শাল- ল,

চট্টগ্রাম।

 

স্যার,

দুর্বৃত্তকারীদের রাষ্ট্র বিরোধী কার্যক্রম দিনে দিনে বৃদ্ধি পাওয়া এবং রাষ্ট্রদ্রোহীরা বহু সংখ্যক দেশ প্রেমিকদের হত্যা করার কারনে আমরা দুর্বৃত্তকারীদের নির্মূলে এবং শহরে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য নিম্নলিখিতপদ্ধতি সমূহ সুপারিশ করছিঃ

 

১। ক। নিন্মোল্লিখিত দেশপ্রেমিক বাহিনীগুলোকে সংঘটিত করে পুরো শহরের সন্দেহজনক বাড়ি এবং ভবনগুলো সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ঘেরাও করা উচিত যার নেতৃত্বে থাকবে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা  ইউনিয়নের নিচের কমিটিসমূহের অধীনে থাকবে।

১। স্থানীয় রাজাকার যারা প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত ( সংগঠিত অথবা অসংগঠিত )

২। আল বদর বাহিনীর সদস্যরা ।

৩। ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা ।

৪। ইউনিয়ন শান্তি কমিটির সদস্যরা।

৫।পুলিশ।

৬। বেসামরিক প্রতিরক্ষার সদস্যরা।

৭। এবং দেশ প্রেমিক স্থানীয় ছাত্ররা এবং অন্যান্য তরুন নাগরিকগণ। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে গ্রাম থেকে আরও রাজাকার আনতে হবে।

 

খ। একই ভাবে প্রত্যেক ইউনিয়নে স্থানীয় গ্রাম প্রতিরক্ষা দল গঠন করা যেতে পারে যাদের মাধ্যমে সমগ্র এলাকা সুরক্ষিত করা হবে এবং স্থানীয় চেয়ারম্যান অথবা বি ডি সদস্যদের নিয়ে সন্দেহজনক সকল বাড়ি এবং ভবনগুলো সময়ে সময়ে অনুসন্ধান করতে হবে।

গ। নিজ এলাকার যেকোনো দুর্ঘটনার জন্য চেয়ারম্যান অথবা বি ডি সমূহ দায়ী হবে।

 

২। ক। দুর্বৃত্তদের সরকারী অফিস অথবা বেসরকারি অফিসে বোমাবাজি বন্ধ করার জন্য নিম্ন লিখিত পদ্ধতি গ্রহন করা উচিতঃ

ক। ডি সি অফিস থেকে একটি আদেশ নামা প্রতিরক্ষা কমিটির সকল চীফ অফিসের কো – অপারেশন নিজ নিজ অধস্তন কর্মচারীদের নিকট পাঠাতে হবে যাদের মাঝে চৌকিদার এবং  পিয়নও অন্তর্ভুক্ত।

খ। একইভাবে অফিস বা সংস্থার আঙ্গিনায় কোন দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য চীফরা দায়ী থাকবে।

গ। তারপর একইভাবে অফিসে কর্মরত দুর্বৃত্তকারীদের চীফের তত্ত্বাবধানে সহকর্মীদের দ্বারা অফিসে পাহারা দিয়ে রাখা হবে। 

 

৩। উপরে বর্নিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং অগ্রগতি পর্যালোচনাসহ সমন্বয় করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে হবে যেখানে ডি সি এবং এস পি ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে । এবং রাজনৈতিক দলগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিতভাবে সপ্তাহিক মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।

আপনার বিশ্বস্ত

স্বাক্ষরিত

(বদিয়ুল আলম )

সচিব

জেলা শান্তি কমিটি

চট্টগ্রাম 

 

জ্ঞাতার্থে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনণের জন্যঃ

১। ডি সি, চট্টগ্রাম

২। এস পি, চট্টগ্রাম

৩। গভর্নর, পূর্ব পাকিস্তান

৪। অধ্যাপক শামসুল হক, মিনিস্টার –ইন- চার্জ , ত্রাণ ও পুনর্বাসনের সঙ্গে উপরের স্বাক্ষরকারীর টেলিফোনে কথোপকথন এর রেফারেন্স ।