শেখ মুজিবর রহমানের নির্বাচনী ভাষণ

Posted on Posted in 2

শিরোনামঃ শেখ মুজিবর রহমানের নির্বাচনী ভাষণ

সূত্রঃ এ,পি,পি 

তারিখঃ ২৮ অক্টোবর, ১৯৭০ 

রাওয়ালপিন্ডি, অক্টোবর ২৮: সমগ্র-পাকিস্তান আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট, শেখ মুজিবুর রহমান, একটি “বাস্তব এবং আধুনিক” গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা  এবং তার দলের ছয় দফা ফর্মুলার ভিত্তিতে দেশের অঞ্চলের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ  করেছেন।

 

জনগণকে রাজনৈতিক নেতাদের দলীয় ইশতেহার এবং প্রোগ্রাম সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে সরকার আয়োজিত একটি সিরিজের প্রথম পর্বে বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারিত একটি ৩০ মিনিটের বক্তৃতায়, তিনি বলেন: “এই ধরণের একটি ফেডারেল গণতান্ত্রিক কাঠামোতে, সামাজিক বিপ্লব ঘটাতে অবশ্যই একটি আমূল অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।”

 

  আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন যে, প্রাদেশিক অবিচার সমস্যার সমাধানে সাংবিধানিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্যে তার পার্টির ছয় দফা ফর্মুলার ওপর ভিত্তিতে  ফেডারেশন ইউনিটে পূর্ণ প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন অর্পণের মাধ্যমে একটি “যুক্তিসঙ্গত সমাধান” উপস্থাপিত হয়েছে।

 

তিনি বলেনঃ এ ধরণের স্বায়ত্বশাসন কার্যকরী করার জন্যে অবশ্যই অর্থনীতি পরিচালনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে, এই কারনে তিনি আর্থিক এবং রাজস্ব নীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ও সাহায্যে মধ্যস্থতা করা সহ অন্যান্য ক্ষমতা, ফেডারেশন ইউনিটের নিয়ন্ত্রণে থাকার ওপর জোর প্রদান করেন।

 

তিনি বলেন, একটি ন্যায়সঙ্গত ফেডারেল সমতা অর্জনের জন্যে ফেডারেটিং ইউনিটকে তাদের অর্থনৈতিক ভাগ্যের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দিতে হবে, যখন ফেডারেল সরকারের কাছে “পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা এবং নির্দিষ্ট রক্ষাকবচ সাপেক্ষে মুদ্রাব্যবস্থার” দায়িত্ব ন্যাস্ত থাকবে।

 

শেখ মুজিব “দুই প্রদেশের মধ্যে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অসমতার ভয়াবহ রেকর্ড সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। ২২ বছর পরে,  বাঙালি মাত্র ১৫ শতাংশ এবং প্রতিরক্ষা চাকুরিতে ১০ শতাংশেরও কম বলে গণনা করা হয়েছে।”

 

তিনি বলেনঃ চতুর্থ পরিকল্পনায় কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যর্থতার একটি স্বীকারোক্তি বরাদ্দ আছে, সরকার যতই শক্তিশালী হোক না কেন, যেন এটি পূর্বের অবিচারের প্রতিবিধান করে।

ফেডারেল সার্ভিস

আওয়ামী লীগের ফেডারেল নকশা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে, শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, এটি এছাড়াও পাকিস্তানের সব সার্ভিস বাতিল করে এবং ফেডারেল সার্ভিস দ্বারা তাদের প্রতিস্থাপন করার বিবেচনা করছ, যেখানে পাকিস্তানের সকল অংশ থেকে জনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে নিয়োগ প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা আরও বিশ্বাস করি যে একটি আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে একটি মিলিশিয়া বাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণ  জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকরভাবে অবদান রাখতে সক্ষম হবে।”

আওয়ামী লীগ সভাপতির দৃষ্টিভঙ্গি এমন ছিল যে “সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং বৈষম্যের উৎপত্তি” অপসারণের মাধ্যমে, এই নকশা একটি শক্তিশালী পাকিস্তান নিশ্চিত করবে।  তিনি বিশ্বাস করতেন এই সাংবিধানিক কাঠামোয়, একটি “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সামাজিক বিপ্লব এবং একটি সমাজতান্ত্রিক অর্থনৈতিক শোষণমুক্ত অর্ডার তৈরি করতে” সমর্থ হবে।

 

তার দলের অর্থনৈতিক কর্মসূচী বর্ণনা করতে গিয়ে, আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন জাতীয়করণের মাধ্যম পাবলিক মালিকানার অধীনে ব্যাংকিং ও বীমা সহ অর্থনীতির মূল এলাকা স্থাপন করা একান্ত  প্রয়োজনীয় ছিল।

“নতুন অর্ডারে, কর্মীরা শিল্প এন্টারপ্রাইজের মূলধন এবং ব্যবস্থাপনায় ন্যায়সঙ্গত ভাগ বহন করবে” তিনি বলেন।

শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতের নিজস্ব কর্মক্ষেত্রে ছিল এবং এটিকে অবশ্যই অর্থনীতিতে পূর্ণ অবদান রাখতে হবে তবে একচেটিয়া এবং সিন্ডিকেট “অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে হবে” বলে তিনি যোগ করেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি  ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, পাট ও তুলার বাণিজ্য জাতীয়করণ, অর্থকরী ফসলের গুণাবলীর উন্নতি এবং উৎপাদনকারীদের একটি সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল মূল্য নির্ধারণে আরও ব্যাপক সমর্থন এবং উৎসাহের আবেদন করেন।

 

জমিদারির শেষ

কৃষি খাত সম্পর্কে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, পশ্চিম পাকিস্তানে জায়দারগিরি জমিদারি এবং সরদারি ব্যবস্থা অবশ্যই বিলুপ্ত করতে হবে এবং ভূমি সম্পত্তির ওপর আরোপকৃত সর্বোচ্চ উচ্চতার এরূপ জমি এবং সরকারি ‘খাস’ জমি ভূমিহীন কৃষকের কাছে নতুনভাবে বিতরণ করতে হবে।

কৃষিকে আধুনিকায়নের জন্য, তিনি বলেন কৃষকদেরকে তাদের জমি বহুমুখী সমবায় জোটের অন্তর্ভুক্ত করার জন্যে প্ররোচিত করা উচিত।

শেখ মুজিব বলেন, তার দল ২৫ বিঘা পর্যন্ত ভূমি রাজস্ব বিলোপ করবে এবং এ ধরণের জমির সকল বকেয়া রাজস্ব মওকুফ করবে, “চূড়ান্তভাবে, আমরা বিদ্যমান ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা বাতিলের জন্যে সংকল্প করেছি” – তিনি যোগ করেন।

তিনি অর্থনৈতিক অবকাঠামোর অংশ গঠনে অত্যাবশ্যক এলাকার উদ্ধৃতি দিয়ে, তিনি বলেন এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবশ্যই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বিদ্যুৎ এবং পরিবহন এবং যোগাযোগে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে।

 

তার দ্বারা প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে ছিলঃ জরুরী ভিত্তিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যে একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পশ্চিম পাকিস্তানে জলাবদ্ধতা এবং লবণাক্ততা রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণে ব্যাপক সম্প্রসারণ, পূর্ব পাকিস্তানের যমুনা, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, কর্ণফুলী নদীর ওপরে এবং সিন্ধু পাঞ্জাবের নদীর ওপরে ব্রীজ তৈরি, এবং সমুদ্রবন্দরের উন্নয়ন এবং অন্তর্দেশীয় নদী বন্দর ও সড়ক ও রেলপথ উন্নয়ন।

 

শিক্ষা, হাউজিং

শিক্ষা খাতে বৃহত্তর বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, মোট জাতীয় উৎপাদনের অন্তত চার শতাংশ এই খাতে ব্যয় করা উচিত এবং স্কুল ও কলেজ শিক্ষকদের বেতন-ভাতা  যথেষ্ট পরিমানে বৃদ্ধি করা উচিত, “অনন্য সাধারণ পদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে নিরক্ষরতা অবশ্যই নির্মূল করতে হবে” তিনি অনুধাবন করেন।

তিনি বিনামূল্যে পাঁচ বছরের মধ্যে সব শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা প্রসারের জন্যে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালু করা, সমাজের সকল স্তরের জনগণের জন্যে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ সুগম, মেডিকেল ও কারিগরী বিশ্ববিদ্যালয় সহ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের দ্রুত প্রতিষ্ঠা, অবিলম্বে ইংরেজীর স্থলে বাংলা এবং উর্দু দ্বারা সর্বস্তরে প্রতিস্থাপন নিশ্চিতকরণ এবং আঞ্চলিক ভাষার উন্নয়নে সামগ্রিক প্রচেষ্টার জন্যে বলেন। 

শহরগুলোর সমস্যার ব্যাপারে যেখানে নিম্ন আয়ের গ্রুপগুলো “মানবেতর জীবন-যাপন” করছে, তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অবশ্যই দরিদ্র সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রয়োজনকে যোগানের মনোযগ দিয়ে এবং কম খরচের বাসস্থানের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, তিনি প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি পল্লী চিকিৎসা কেন্দ্র এবং প্রত্যেক থানা সদরে একটি হাসপাতাল, চিকিৎসাবিদ্যায় স্নাতকদের জন্যে গ্রামাঞ্চলে জাতীয় সেবার প্রবর্তন এবং প্রচুর সংখ্যক পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদেরকে প্যারা-মেডিকেল প্রশিক্ষণের জন্যে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অর্থনীতিতে শিল্প শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের মৌলিক অধিকার একটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের মাধ্যমে সম্মিলিতভাবে দরকষাকষি এবং একটি ধর্মঘট ডাকার নিশ্চয়তা অবশ্যই প্রদান করতে হবে, জীবিকা নির্বাহের জন্যে একটি মজুরি এবং তাদের ও তাদের সন্তানদের জন্যে মৌলিক সুবিধা যেমন আবাসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, এবং শ্রম আইনের দ্বারা তাদের মৌলিক অধিকার সীমাবদ্ধ করা অবশ্যই রহিত করতে হবে।

সকল নাগরিকের সমতার বিষয়ে তার দলের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা সবসময়ই সব ধরনের কমিউনিজমের বিরোধিতা করেছি”। তিনি বলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় অন্যান্য সকল নাগরিকের সমান সুবিধা ভোগ করবে এবং আইনের ক্ষেত্রে সমান নিরাপত্তা ভোগ করবে।

তিনি বলেন, “মোহাজিরদেরকে” নাগরিক জীবনে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে “যাতে তারা সাধারণ জনগণের সাথে মিশে যেতে পারে এবং ফলশ্রুতিতে জীবনের প্রত্যেক ক্ষেত্রে তাদের সমান অধিকার এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে।”

তিনি ছয়-দফা বা “আমাদের অর্থনৈতিক প্রোগ্রাম” ফর্মুলাতে ইসলাম বিপন্ন হয়েছে এমন কথাকে “মিথ্যা প্রচারণা” বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন, “প্রদেশ ও প্রদেশের মধ্যে এবং মানুষ ও মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার উৎসাহিত করে না এমন যা কিছুই থাকুক, সেটা ইসলামে বিরোধিতা করা যাবে।”

“আমরা সাংবিধানিক নীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছি যে ইসলামের সংযোগস্থল পাকিস্তানে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী কোন আইন প্রণয়ন বা আরোপ করা উচিত হবে না।”

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, “শক্তিশালী গোষ্ঠি” যা পাকিস্তানকে  ২২ বছর শাসন করেছে তারা জনগণের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর প্রতিরোধে যা কিছু করা সম্ভব সবকিছু করবে, কিন্তু তিনি উল্লেখ করেন যে একটি দৃঢ়সংকল্প মানুষ সফলভাবে এই ধরনের নিপীড়নের বাহিনীকে প্রতিহত এবং পরাস্ত করতে পারে।

 

তিনি বলেন, “আমরা তাই, আমাদের সমাজের প্রতিক্রিয়া বাহিনীর ওপর নোটিস জারি করি যে, পাকিস্তানের জনগণের সাথে আমরা, তাদের মোকাবিলা করবো এবং যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়, প্রতিটি সম্ভাব্য ক্ষেত্রে আমরা তাদেরকে প্রতিহত করবো।”

তিনি বলেন তার দল একটি “সত্যিকারের স্বাধীন, বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা দ্বন্দ্বে জড়ানো এড়ানোর জন্যে নিরপেক্ষ বৈদেশিক কূটনীতি” অনুসরণের জন্যে দৃঢ়বদ্ধ।

তিনি বলেন, “আমরা সিয়াটো, সেন্টো এবং অন্যান্য সকল সামরিক চুক্তি থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্যে, এবং ভবিষ্যতে যে কোন ধরনের সমর্থন এড়ানোর জন্যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সাম্রাজ্যবাদ উপনিবেশবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের সংগ্রামকে সমর্থন করি।” 

 

কাশ্মীর, ফারাক্কা

“সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়”এই নীতির সাথে তাল মিলিয়ে আমরা সব রাষ্ট্রের সাথে এবং বিশেষত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি। আমরা বিশ্বাস করি যে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের নিয়মমাফিক সম্পর্ক হবে আমাদের জনগণের জন্যে সেরা সুবিধা।

“আমরা, অতএব, আমাদের অসমাপ্ত দ্বন্দ্ব নিষ্পত্তির জন্যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব অন্তর্ভুক্ত করছি। জাতিসংঘের রেজুলেশন অনুযায়ী আমরা কাশ্মীর বিরোধের একটি ন্যায্য নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেছি।”

“হুমকি বা কবর এবং বাংলার অর্থনীতিকে স্থায়ী ক্ষতিসাধনের নিমিত্তে ফারাক্কা বাঁধের সমাপ্তি অবিলম্বে পূরণ করা আবশ্যক। আরও দেরি না করে এই সমস্যার একটি ন্যায্য সমাধানে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে।”

তিনি আইনি কাঠামো আদেশের আওতায় “নিয়ন্ত্রণ মূলক বিধান” এর প্রত্যাহারের জন্যে, সকল রাজবন্দীর মুক্তি এবং রাজনৈতিক কর্মকান্ডের কারনে উদ্ভূত সকল মামলা প্রত্যাহারের জন্যে ডাক দেন। — এ.পি.পি.