শেখ মুজিবের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের শক্তিশালী রাষ্ট্রবর্গের কাছে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের আবেদন।

Posted on Posted in 3
শিরোনামসূত্রতারিখ
শেখ মুজিবের নিরাপত্তার জন্য বিশ্বের শক্তিশালি রাষ্ট্রবর্গের কাছে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর আবেদনএশিয়ান রেকর্ডার , আগষ্ট ৬-১২ , ১৯৭১১৩ জুন, ১৯৭১

 

শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তা

বিশ্বশক্তির কাছে জনাব তাজউদ্দীন আহমেদের আবেদনঃ

                বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ ১৩ জুন বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের কাছে আবেদন জানিয়েছেন “বাংলাদেশের জনগনের অবিসংবাদিত নেতা” শেখ মুজিবুর রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং মুক্তির জন্য  ।

                স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে এক সম্প্রচারে জাতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঢাকায় শেখ মুজিব তাকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে চক্রান্ত করেছিলেন- প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের এমন অভিযোগ “এতোটাই অপরিনত যে রীতিমত হাস্যকর”।

                বাংলাদেশ সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য বিশ্বের সকল রাষ্ট্রকে  আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, “শুধুমাত্র এই সরকারই আমাদের দেশে বৈধ পরিচয় বহন করে এইজন্য যে এটি এদেশের জনগনের মুক্ত মতপ্রকাশের উপর প্রতিষ্ঠিত । আমাদের জনগন পশ্চিম পাকিস্তান ভিত্তিক ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্নরূপে অস্বীকার করেছে এবং এখন তাদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য তাঁরা যুদ্ধ করছে।”                 

                “আমাদের সংগ্রামের প্রশ্নে যারা কোনো পক্ষই নেননি কিংবা এই ব্যাপারে নির্লিপ্ত আছে অথবা সরাসরি এর বিরোধিতা করেছেন, আমি তাদেরকে নিশ্চয়তা দিতে চাই যে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে এবং এদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষের দৃঢ়সংকল্প তার সেই স্থান ধরে রাখবে । মানবসম্প্রদায়ের এতো বিরাট অংশকে উপেক্ষা করা কি রাষ্ট্রগুলোর জন্য যৌক্তিক ?” তিনি প্রশ্ন করেন ।

                এক বিশেষ বার্তায় মুসলিম এবং আরব দেশগুলোর জন্য, যারা এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে গনহত্যার ব্যাপারে কোনো নিন্দা জানায়নি, তিনি বলেনঃ “তাদের পক্ষে এটা মর্মান্তিক ভুল হবে যদি তারা ভেবে নেয় ইয়াহিয়ার সামরিক দল ইসলামিক অধিকার রক্ষার জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নীরবতা তাই ঔপনিবেশিকতা এবং বর্বরতাকে সমর্থন করছে। ইসলামাবাদকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়াটা স্বৈরতন্ত্রের পক্ষে তাদের অবস্থান বোঝায় ।”

                তিনি বলেন , ১১ সপ্তাহ যাবৎ মুক্তিযুদ্ধ চলছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার মনে হতাশার সৃষ্টি করেছে । পশ্চিম পাকিস্তান আর্মির অবিশ্বাস্য পরিমান ক্ষয়ক্ষতিই গেরিলা আক্রমনের সাফল্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে । ব্যাপক সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের জমজ-নীতি স্বাধীনতার স্বপ্নপূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ জাতির মনোবল ভাঙতে সফল হয়নি । অপরদিকে হানাদার শত্রুরা নিরাশায় অগোছালো অবস্থায় আছে ।

                জনগন সহযোগিতা করতে প্রত্যাখ্যান করায় যে অর্থনৈতিক সংকটের তৈরী হয়েছে তা সামরিক জান্তা বৈদেশিক সহায়তা ছাড়া নিরসন করতে পারবে না । এটি এখন ১০০ ও ৫০০ রূপীর কাগুজে নোটের মূল্যহ্রাসে পরিনত হয়েছে । এটা শুধুমাত্রঅর্থনৈতিক দিক থেকে তাদের মরিয়া অবস্থার প্রমানই নয় , একই সাথে ইসলামাবাদে তাদের অর্থভান্ডার পূর্ণ করার জন্য জনগনকে তাদের নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করার নির্লজ্জ চেষ্টা ।

তাদের বীরোচিত প্রতিরোধের জন্য বাংলাদেশের জনগনকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন , তাদের সংগ্রামের এই নতুন পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধারা আরও সুসংগঠিত এবং তাদের পদগুলো নতুন সৈন্য দিয়ে ভরে উঠছে ।