শেখ মুজিব কর্তৃক সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান।

Posted on Posted in 2

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্রের ২য় খণ্ডের ৭৬৩-৬৪ নং পৃষ্ঠায় মুদ্রিত ২০৪ নং দলিল থেকে বলছি…

 

শিরোনামসূত্রতারিখ
শেখ মুজিব কর্তৃক সেনাবাহিনীর হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানদ্যা ডন১৯ মার্চ, ১৯৭১

 

তদন্ত কমিটি মেনে নিতে অসম্মতা জ্ঞাপন করলেন মুজিব

কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য সাধন করতে পারবে নাঃ সীমাবদ্ধ

 

১৮ই মার্চ, ১৯৭১ সালে ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের লিখিত বিবৃতি

 

  আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান আজ সামরিক আইন প্রশাসক, জোন বি দ্বারা গঠিত তদন্ত কমিশন প্রত্যাখ্যান করেন। ২রা মার্চ থেকে ৯ই মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বেসামরিক শক্তিকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার কার্যকারণ বিষয়ক এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়।

জারীকৃত বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রধান ঘোষণা করেন যে, এরকম একটি কমিশনকে বাংলা দেশের মানুষ কোনোভাবেই কোনো ধরণের সহায়তা করবে না। তিনি আরও বলেন যে, কেউ এই ‘কমিশন’ এর সদস্যের জন্য মনোনয়ন দিবে না বা সদস্য হিসেবে কাজ করবে না।

 

সামরিক আইন প্রশাসকের আদেশ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির মনোনয়ন অনুযায়ী পূর্ব পাকিস্তানের হাইকোর্টের একজন বিচারপতি কমিশনটির নেতৃত্ব দিবেন।

 

*                *                    *                    *                    *

 

নিম্নে সম্পূর্ণ বিবৃতি উপস্থাপন করা হলঃ

 

“আমি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, ইতোমধ্যে ঘোষিত ‘তদন্ত কমিশন’ বাংলা দেশের পক্ষে আমার দাবি পূরণ করতে পারে নি। সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের জারীকৃত আদেশ ও বিধান অনুযায়ী কমিশনকে আবার সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের কাছেই প্রতিবেদন জমা দিতে হবে, যা অত্যন্ত আপত্তিকর। তদন্তের শর্তাদি প্রাক-বিচারের উদ্দেশ্যের সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং আসল বিষয়গুলোর ব্যাপারে তদন্ত বন্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

 

তদন্তের একমাত্র শর্ত হলঃ

 

   “২রা মার্চ থেকে ৯ই মার্চ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় বেসামরিক শক্তিকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার কার্যকারণ বিষয়ক”। মৌলিক বিষয়টিকে এভাবেই প্রাক-বিচার করা হয়েছে। আসলে এটা তদন্ত করতে হবে যে, সেনাবাহিনীকে নিয়োজিত করা এবং বল প্রয়োগ করা বেসামরিক শক্তির সাহায্যার্থে ছিল নাকি গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সাহায্যার্থে ছিল। ‘কমিশনটিকে’ প্রকৃত নৃশংসতা থেকে দূরে রাখা হয়েছে যেখানে বাংলা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এর ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিরূপণ এবং কোন পরিস্থিতিতে বেসামরিক নিরস্ত্র নাগরিকদের গুলি করা হয়েছে- তা তদন্ত করা সম্ভব নয়।

 

“এরকম ‘কমিশন’ কোন কার্যকর উদ্দেশ্য সাধন করতে পারবে না। প্রকৃতপক্ষে এই ধরণের একটি তদন্ত প্রকৃত সত্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসল তদন্ত হতে পারে না বরং এটি জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করার একটি অপকৌশল মাত্র।”

 

“তাই আমরা কোনোভাবেই এই রকমের একটি ‘কমিশন’কে গ্রহণ করতে পারি না। বাংলা দেশের মানুষ এই ধরণের ‘কমিশন’কে সহযোগিতা করবে না, কিংবা তার সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবে না।” 

 

“জনগণের পক্ষে আমরা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ চার দফা দাবি উত্থাপন করেছিলাম, যার মধ্যে একটি ছিল সঠিক দিকনির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও প্রকাশ্য তদন্ত। ঐ দাবিগুলোর একটিকে নামমাত্রভাবে, খণ্ডাংশে এবং উপরের বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী গ্রহণ করা হলে আমরা যে গভীর সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছি, তা সমাধান করা সম্ভব নয়।”

 

মুজিবের তদন্ত

 

এদিকে শেখ মুজিব পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের সংসদীয় দলের নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও জাতীয় পরিষদের সদস্য জনাব আবিদুর রেজা খান-কে চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক গোলাগুলি ও অন্যান্য ঘটনার ব্যাপারে সরেজমিনে তদন্তের জন্য সেখানে পাঠিয়েছেন।

 

       তাঁরা পরিস্থিতি পর্যালোচনাপূর্বক সেই মোতাবেক প্রতিবেদন দাখিল করবেন। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, মাওলানা ভাসানীও এ ব্যাপারে শেখ মুজিবকে একটি তারবার্তা পাঠিয়েছেন।