সাক্ষাৎকারঃ নায়েক সুবেদার মনিরুজ্জামান

Posted on Posted in 10

<১০, ২.৩, ৬৯-৭২>

 সাক্ষাৎকারঃ নায়েক সুবেদার মনিরুজ্জামান

(২৪ আগস্ট ১৯৭৩)

 

৮ ই মে, সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেই। হরিণাতে ২৪ ঘন্টা অবস্থানের পর মেজর  জিয়াউর রহমানের আদেশে শুভপুর অঞ্চলে বল্লভপুর এলাকায় আসি। শুভপুর – বল্লভপুরে পাকসেনাদের সাথে ২২ দিন যুদ্ধ চলে। এখানে মেজর জিয়াউর রহমান ও ক্যাপ্টেন ঘোষ (BSF) যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন।

 

সংবাদদাতার মাধ্যমে জানতে পারলাম যে, পাকিস্তানী সৈন্যরা আমাদের উপর আক্রমণ চালাবে। যুদ্ধের শেষদিন রাতে তিনটা থেকে আমাদের মর্টার মেশিনগান দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ফায়ার শুরু করতে বাধ্য হই। ভোর ৫ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত আমাদের অন্যান্য ফোর্স শুভপুর হতে আমলীঘাট পর্যন্ত Defence Position ছাড়তে বাধ্য হয়। পাকিস্তানীদের Artillery 105mm এর গোলা মধুগ্রাম – আমলীঘাটে বৃষ্টির মত পরতে থাকে। আমাদের গোলাবারুদ শেষ করে আমরা সকাল ৯ টায় ভারতের আমলীঘাট এলাকাতে একত্রিত হই। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন অফিসার ব্রিগেডিয়ার পান্ডের অধীনে আমাদের এক conference হয়। মেজর জিয়াউর রহমান ক্যাপ্টেন অলি ও অন্যান্য EPR বেঙ্গল রেজিমেন্টের JCO NCO এই conference এ উপস্থিত ছিলেন।

 

ব্রিগেডিয়ার পান্ডে বললেন যে, “আমার ৩০ বছরের চাকরী জীবনে অনেক বড় বড় যুদ্ধ দেখেছি  কিন্তু শুভপুরের যুদ্ধের মত কোথাও দেখিনি। মুক্তিফৌজদের চিন্তার কোন কারণ নেই। এ হল যুদ্ধের প্রথম অধ্যায়। দ্বিতীয় ও তৃতীয় এখনো বাকী আছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় অধ্যায় আপনাদেরকে সম্পন্ন করতে হব। তৃতীয় অধ্যায়ে আপনারা অন্যের সাহায্য পেতে পারেন। বাংলাদেশের হিরো বানেগা ত মুক্তিফৌজ বানেগা। আওর কিছিকা হক নেহি হে। খোদা হাফেজ জয় বাংলা। 

 

মেজর জিয়াউর রহমান আমাদের স্বান্তনা দেয়ার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে ছিলেন। সন্ধ্যাবেলায় আমাদেরকে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ক্যাম্প করার নির্দেশ দিয়ে তিনি চলে যান। ক্যাপ্টেন অলি আমাদের সাথে থেকে যান। এখানে কয়েকদিন অবস্থানের পর ছাগলনাইয়া থানার অন্তর্বর্তী চাঁদগাছী সাবসেক্টর  গঠন করা হয়। এক কোম্পানি সৈন্য এবং Mortar Platoon নিয়ে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে ১/ ২ তারিখে আমরা চাঁদ্গাছিতে Defence  তৈরী করি। সেখান থেকে Commando Operation শুরু হয়ে যায়। ক্যাপ্টেন অলি Sub Sector Commander Second in Command ক্যাপ্টেন শহীদ শামসুল হূদা যুদ্ধ পরিচালনা করেছিলেন যিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে সদয় ব্যবহার করতেন। তিনি অত্যন্ত দয়ালু ছিলেন। যে কোন Operation কে জয়যুক্ত করতে তিনি নিজের সৈন্যদের উদবুদ্ধ করতেন এবং আপ্রাণ পরিশ্রম করতেন।

 

চাঁদগাজি ডিফেন্সে থাকাকালীন পাকিস্তানী সৈন্যদের এক ব্যাটেলিয়ান আমাদের উপর আক্রমণ করে (জুন মাসের ১৫ তারিখ)। সেই আক্রমণের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হয়। পাকিস্তানী সৈন্যরা পিছু হটে যায়। সেইদিন আমাদের একটা Artillery Battery ছিল। ১৬ ই জুন পাকিস্তানী সৈন্যরা আবার এক ব্রিগেড সৈন্য নিয়ে আমাদের উপর আক্রমণ চালায়। কিন্তু পাকিস্তানীরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের অনেক লোক হতাহত হয়। পরাজয়ের গ্লাণি নিয়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। চাঁদ্গাছি দীঘিতে আমাদের Defence ছিল। দ্বিতীয় আক্রমণের দিন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং উপস্থিত থেকে Command করেছিলেন।

 

১৬/১৭ জুন পাকিস্তানী সৈন্যরা সকাল ৮ টা থেকে তৃতীয়বার আক্রমণ শুরু করে। তৃতীয়বার আক্রমণে আমাদের Defence এর অবস্থানগুলোতে তারা fire করে। পাঁচ টার সময় তারা আমাদের Defence এর উপর রেকী আরম্ভ করে। তাদের একটা Commando Battalion হেলিকপ্টারযোগে আমাদের Defence এর তাদের সুবিধাজনক জায়গায় অবতরন করতে শুরু কর। তারা দালালদের মাধ্যমে propaganda করেছিল যে তাদের এক ব্যাটেলিয়ন commando তারা অবতরণ করাচ্ছে মুক্তিফৌজকে ধ্বংস করার জন্। রাত বারো টার সময় ক্যাপ্টেন শামসুল হূদার নির্দেশ অনুযায়ী Special Messenger আমাকে একটি চিঠি দেন। তাতে লেখাছিল এক ঘন্টার মধ্যে position ছেড়ে কৃষ্ণনগর বাজারে report করতে। সমস্ত গোলাবারুদ শেষ করে কৃষ্ণনগরে যাবার জন্য এই message পেয়ে messenger কে আমি গ্রেফতার করি এবং বললাম যে আমি নিজে শামসুল হূদার কাছে যাব এবং message clarify না করা পর্যন্ত তুমি এই জায়গা থেকে কোথাও যেতে পারবে না। আমি নিজে শামসুল হূদার সাথে সাক্ষাত করি। তিনি আমাকে বললেন “ এটা একটা আশ্চর্য ঘটনা।Defence ছাড়ার কথা আমি বলিনাই ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং বলেছেন।

 

আমার সন্দেহ হয়েছিল এটা পাকিস্তানি কোন গুপ্তচরের কাজ। ক্যাপ্টেন শামসুল হূদা টেলিফোনযোগে ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং কে বললেন যে আমাদের সৈন্যরা ডিফেন্স ছেড়ে যেতে রাজী নয়। এমতাবস্থায় আমি কি করব? ব্রিগেডিয়ার বললেন সবার কাছে আমার অনুরোধ জানিয়ে দেন তারা যেন অতি সত্বর নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হয়ে যায় আমি সকালে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করব। এই আদেশ অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধারা কৃষ্ণনগরে পৌঁছে।

 

ক্রিষনুগরে মেজর জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি একজন JCO কে জিজ্ঞেস করলেন Mortar Platoon? সে এখনো আসে নাই? সে বলল, এখনো আসে নাই। ঐ লোকটাকে জিয়াউর রহমান অত্যন্ত দুঃখের সাথে জিজ্ঞেস করলেন Mortar Platoon কে ছেড়ে তোমরা কেন এসেছ ? পরে আমি সেখানে পৌছলাম। জিয়াউর রহমান আমাকে জিজ্ঞেস করলেন মুনীর defence ছাড়তে কে বলেছে? আমি বললাম জানিনা স্যার। ক্যাপ্টেন হূদা মেজর জিয়াউর রহমান কে বললেন স্যার ভারতীয় সেনাবাহিনীর কমান্ডার আদেশে defence ছাড়তে হয়েছে। আপনি ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং এর সাথে এ ব্যপারে আলাপ করুন।

 

১৮ ই জুন ব্রিগেডিয়ারের একজন সহকর্মী অফিসার কৃষ্ণনগরে আসেন এবং বলেন যে, ব্রিগেডিয়ার সাহেব বিকেলে আসবেন। আপ্নারা কোন চিন্তা করবেন না। সমস্ত সৈন্য নিয়ে আমরা পংবাড়ি চলে গেলাম। সেখানে কিছুক্ষন অবস্থাণের  পর ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং, মেজর জিয়াউর রহমান ক্যাপ্টেন রফিক। ক্যাপ্টেন অলি, ক্যাপ্টেন হূদা ক্যাপ্টেন হামিদ পংবাড়িতে আসেন। ব্রিগেডিয়ার সাবেক সিং প্রায় এক ঘন্টা সেখানে সবার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেন। তিনি মর্টার কমান্ডোকে ডেকে পাঠান। ক্যাপ্টেন হামিদ আমাকে দেখিয়ে দেন। ব্রিগেডিয়ার আমাকে উদ্দেশ্য করে বলেন আব বহুত নারাজ হো গেয়া কিউ লরাই খতম নেহি হে বহুত লরাই কারনা হে। হাম পাকিস্তানী কা হাত মে ঘেরা জাওয়ান কো মারনে নেহি দেঙ্গা। তিনি আমাদের কে নানা উপদেশ দেন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা  নির্ধারণে বাঙ্গালী অফিসারদের সাথে আলাপ আলোচনা করেন। সেখানে আমাদের সাধারন চা ও জলখাবার তিনি অত্যন্ত আনন্দের সাথে গ্রহণ করেন। তিনি একজন বিখ্যাত ও বিচক্ষণ সাহসী বুদ্ধিমান ও প্রকৃত কমান্ডার হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।

 

পংবাড়িতে আমরা বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। পংবাড়ি থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গেরিলা কায়দায় অপারেশন চলতে থাকে। ছাগলনাইয়া থানা এলাকায় জুন মাসের শেষ ভাগে রিস্টমুখ / রিকশামুখ ক্যাম্প তৈরী করা হয়। এখানে অবস্থানকালিন গেরিলা যুদ্ধ চলতে থাকে। ১৪ আগস্ট ভোরবেলায় তিনটার সময় আমরা ক্যাপ্টেন হূদার আদেশে একটি কমান্ডো অপারেশন এর ব্যবস্থা গ্রহন করি। আমার মর্টার প্লাটুন চাঁদ্গাজিতে পাকিস্তানী সৈন্যদের ঘাঁটি আক্রমণের পরিকল্পনা নেয়। ভোর ৭ টা ৪০ মিনিটে আমার পায়ে একটা গুলি লাগে। তার ফলে আমার দ্বিতীয় ব্যক্তিকে দায়িত্ব দিয়ে আমি চিকিৎসা গ্রহণ করতে চলে যাই। সেইদিন পাক বাহিনীর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই যুদ্ধের খবর বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল।

 

২৬ আগস্ট পাকিস্তানীরা ছাগলনাইয়া থানার আমজাদহাটে প্রতিরক্ষাব্যুহ তৈরী করে। মুক্তিযোদ্ধারা মর্টার প্লাটুনের সাহায্যে তাদের উপর গোলাবর্ষণ করে। পাকিস্তানিদের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়। তারা মুহূরী নদী পার হয়ে খাদ্যদ্রব্য অস্ত্র শস্ত্র ফেলে পিছু হটতে থাকে। গুতুমা, পরশুরাম ছাগলনাইয়া অঞ্চলে এইভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে। আমরা বিলেনিয়া এলাকাতে নোনাছড়ি ক্যাম্প স্থাপন করি। অক্টোবর মাসের ২০ তারিখ ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিক সাহেবের আদেশে আমাকে Artillery OP ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫৭ মাউন্টেন রেজিমেন্টে রিপোর্ট করতে হয়। সেখানে তিনদিন তাদের কমান্ড প্রসিডিউর শিক্ষা নিতে হয়। ২৪ অক্টোবর আমাকে অবজারভার ডিউটিতে পাঠানো হয়। সেটা হল কবেরহাটে পাক বাহিনীর সৈন্য অবস্থান, তার উপরে আর্টিলারির ফায়ার করানো – রাত দুইটার সময় নয়াটিলা অঞ্চল এলাকা থেকে ভোর ছটা থেকে আর্টিলারির ফায়ার করানো হয়। পাকিস্তানীদের অবস্থানগুলোর ওপর প্রথম মিডিয়াম রেজিমেন্টের ফায়ার আরম্ভ হয়। তখন আর্টিলারি কমান্ডিং অফিসার বলেছেন – “ আজ পাকিস্তানী কো মন ইয়াদ আয়েগা”।

 

আমার দায়িত্ব শেষ করে ২৪ ঘন্টা পরে আর্টিলারি কমান্ডারের কাছে পৌঁছি। কমান্ডিং অফিসার, ব্রিগেড কমান্ডার মেজর জেনারেল সেক্টর কমান্ডার সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছিল। আমার সাথে সাক্ষাৎ হলে তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেন এই কাজ সমাধা করতে আমার অসুবিধার কথা। পথে আমার অসুবিধার কথা তাদের বর্ণনা করলাম। সবকিছু বর্ণনা করা এখানে সম্ভব নয়।

 

ব্যাটারী কমান্ডার মেজর ওয়াতর সিং ক্যাপ্টেন বি কে ফালিয়া মেজর চৌধুরী তাঁদের সাথে অবস্থান করতে থাকি। তাঁরা আমাকে সর্বত ভাবে সাহায্য সহযোগীতা করেছেন। ১০ ই নভেম্বরে মুন্সিরহাট ফুলগাজি এই সমস্ত এলাকার যুদ্ধে পরশুরাম থানার অন্তর্গত অঞ্চলে মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছিল। কিন্তু পাক বাহিনী কোথা থেকে আক্রমণ চালাচ্ছে  তার কোন সঠিক হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেষ্টা করলে একমাত্র OP ছাড়া কোন উপায় নেই। কমান্ডিং অফিসার সিদ্ধান্ত নিলেন পাক বাহিনীর অনুসন্ধান নিতে হবে। তিনি আমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন মনির সাব কেয়া হোগা। আমি বললাম, আপনি আমাকে একটা ওয়ারলেস নিয়ে আবার আদেশ দেন আমি যাব। তিনি বললেন আপনার জীবনের ঝুঁকি কে নেবে ? আমি নিজেই ঝুঁকি নিয়ে যাব বলে বললাম। তিনি আমাকে বলেন নিজের ঝুঁকির কথা কাগজে লিখে দেয়ার জন্য। তিনি আমাকে একা যেতে দিলেন না। তারপর আমরা OP group চলে গেলাম সিদ্ধিনগর। একটা বৃক্ষের উপর রাত ১২ টা থেকে ভোর ৬ টা পর্যন্ত পাকিস্তানীদের অবস্থান জানার জন্য বসে থাকি। কিন্তু কোন সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে গেলাম খেদাবাড়ি সৌভাগ্যবশত সেখান থেকে একটা উঁচু বৃক্ষ দেখতে পাই।

 

১৬ নভেম্বর আমরা artillery target record করছিলাম। দেখতে পেলাম ফেনী হতে একটা ট্রেন পরশুরামের দিকে যাচ্ছে। ট্রেন টা দেখে আমাদের অনেক সাহায্য হয়েছে। গাড়ি উত্তরদিকে যাচ্ছে। আমাদের কাজ অব্যাহত থাকে। Gun Ranging অবস্থায়। বোমা রেলওয়ে লাইনের ওপর পরে। রেল লাইনের একটা fish plate নষ্ট হয়ে যায়। ট্রেনটা যখন ফেরত আসে তখন ওখানে এসে তিনটা বগি পরে যায়। ওটা দেখে আমরা আশ্চর্য হয়ে যাই। পুরানো মুন্সিরহাটে পাকিস্তানীদের Artillery gun position এ মিত্রবাহিনীর গোলার আঘাতে gun position ও চালক উভয়েই ধ্বংস হয়।

 

১৭ ই নভেম্বর ভোর থেকে পাকিস্তানীরা মুন্সিরহাট ফুলগাজি পরশুরাম অঞ্চল ছেড়ে ফেনীর দিকে চলে যেতে বাধ্য হয়। ১৮ ই নভেম্বর ফুলগাজী মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে আসে। পাক বাহিনী ফেনী অঞ্চল থেকে long range  কামানের সাহায্যে আত্মরক্ষা fire করে। এদিকে পরশুরাম অঞ্চলে পাক বাহিনীর ৬০/১০০ সৈন্য কয়েকজন অফিসার সহ মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। পাকিস্তানী সৈন্যগন ফেনী থেকে আর্টিলারি আক্রমন অব্যাহত রাখে। ১ লা ডিসেম্বর পর্যন্ত এভাবে যুদ্ধ চলতে থাকে।

 

আমি ২৭ শে নভেম্বর নিজের সেক্টরে ফেরত আসি। বর্তমানে নিজের মর্টার প্লাটুনের দায়িত্ব গ্রহন করি। মুন্সিরহাতের দক্ষিনে পাঠাননগরে অবস্থান করি। আমরা চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকি। ৩১ নম্বর জাঠ রেজিমেন্ট করেরহাট থেকে চট্টগ্রামের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

 

আমরা জোরারগঞ্জ মীরসরাই সীতাকুন্ড বারবকুন্ড কুমীরা ছোট কুমীরাতে ১৪ ই ডিসেম্বর রাতে ১২ ঘন্টা অবস্থান করি। ১৫ তারিখ ভোর ৩ টা থেকে অগ্রগতি শুরু হয়। সকাল ৭ টার সময় কুমীরা পৌঁছি। এখানে পাকিস্তানিদের সাথে তুমুল যুদ্ধ  হয়। ৫৬ টা আর্টিলারি গান এর সাহায্যে আমাদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকে। বেলা ৮ টার সময় কুমিরা টিবি হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছলে পাকবাহিনী আত্মরক্ষা ফায়ার আরম্ভ করে যার ফলে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর অনেকে হতাহত হয়।

 

১৫ ই ডিসেম্বর বারটার সময় পাক বাহিনী আমাদের ওপর পালটা আক্রমনের প্রস্তুতি নেয়। রেকি গ্রুপ ধরা পরে। জাঠ রেজিনেন্টের মর্টারের ফায়ার। শেষবারের মত জয়ানরা ইচ্ছামত ফায়ার করে জয়যুক্ত হন। পাক বাহিনীর ঘাঁটিগুলোর ক্ষতিসাধন হয়। মেজর এডজ্যুটান্ট ৩১ জাঠ রেজিমেন্ট সংবাদ পাঠালেন মুক্তিবাহিনীকে মোবারকবাদ জানালেন।

 

১৬ ই ডিসেম্বর শুক্রবার পাক সেনারা আত্মসমর্পণ করে চট্টগ্রাম কুমীর সীতাকুন্ডে। চট্টগ্রামে মুক্তিবাহিনী উল্লাসে ফেটে পরে।

 

স্বাক্ষরঃ (এন এম মুনীরুজ্জামান)

২৪ – ৮ – ৭৩