সামরিক শাসনের অবসান

Posted on Posted in 2

<2.24.157>

সামরিক আইন আজ শেষ হচ্ছে

রাওয়ালপিন্ডি, জুন ৭- ৪৪ মাসের পুরানো মার্শাল ল ন্যাশনাল এ্যাসেম্বল এর ১৫৬ জন সদস্য সহ আগামীকাল সকাল থেকে শেষ হতে যাচ্ছে, দেশের তৃতীয় “ জাতীয় সংসদ” এটার জন্মের ১৫ বছর আগে,রিপোর্টস এপলিকেশন। একটি রক্তপাতহীন বিপ্লব যেটা কিছু মিনিটের ভিতরেই গত সকাল ৯টার সময় পাকিস্তানের উভয় পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে  ৭ অক্টোবর দেশের উপর থেকে বাতিল হতে যাচ্ছে যেখানে নির্বাচন কমিশনার প্রধান হিসাবে দ্বায়িত্ব পালন করবেন, এছাড়া জাতীয় পরিষদের আনায়ন নিশ্চিত করতে হবে যেটা প্রেসিডেন্ট আইয়ুব সুরাহা করেন।  

 

রাষ্ট্রপতির মন্ত্রিসভা পদত্যাগ

 

রাওয়ালপিন্ডি, জুন-৭ – নতুন সংবিধান অনুযায়ী আজ সন্ধ্যায় মন্ত্রীসভার সদস্যরা রাষ্ট্রপতির দপ্তরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তাদের পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন………(পরদিন সকালে) রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগ পত্র গ্রহন করেছেন এবং সামরিক আইনে ৪৪ মাস ধরে মন্ত্রীরা যে সেবা দিয়েছে, ওই সেবার জন্য তাদের ধন্যবাদ দিয়ে তিনি পৃথক ভাবে চিঠি দিয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। দুইজন মন্ত্রী  জনাব মোহাম্মদ মনির এবং জনাব আব্দুল কাদের, যাদের নতুন আইন অনুযায়ী আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে রাষ্ট্রপতির অধীনস্ত নতুন মন্ত্রীসভার দ্বায়িত্ব অর্পন করা হবে। এর আগে মন্ত্রীরা তাদের অফিসে সর্বশেষ অংশগ্রহনের জন্যে শহরে উপস্থিত হয়েছেন। রাজধানীতে মন্ত্রীদের মধ্যে যারা উপস্থিত হয়েছেন তারা হলেন লে.জেনারেল ও.আ.বুরকি, জনাব মঞ্জুর কাদের, লে.জেনারেল কে.এম.শেখ, জনাব এফ.এম.খান, জনাব হাবিবুর রহমান, জনাব জাকির হুসাইন এবং জনাব জুলফিকার আলী ভুট্টো। আটঘন্টা পর রাষ্ট্রপতির বাসভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে নতুন সংবিধান অনু্যায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সংবিধানের অধীনে রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহন করবেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি জনাব কর্নোয়ালিশ মেসরাজ। মোহাম্মদ মুনির এবং আব্দুল কাদির নতুন সংবিধানের অধীনে আনুষ্ঠানিক ভাবে আগামীকাল সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাউন্সিলের সদস্য হিসাবে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে এ শপথ গ্রহন করবেন। এই শপথ অনুষ্ঠান দেশের “নতুন সাংবিধানিক শাসন” শুরু নিশ্চিত বা চিহ্নিত করে।

 

সামরিক আইন নিষ্পত্তিঃ

অন্য এক বার্তায়, প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান আজ কুটনৈতিকদের সাথে বসে এক নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছেন, এবং যা ১৮ জুন নতুন সংবিধান প্রবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামরিক শাসন প্রত্যাহারের পর সামরিক আইন মামলা নিষ্পত্তির জন্য অসুবিধা অপসারন করবে । এই অধ্যাদেশ বলে, সামরিক আইন কতৃপক্ষ কতৃক সামরিক আইন শাসনকালে জারি করা সকল বাক্য আইনত প্রেরন করা হয়েছে এবং তাদের দরপত্র অনু্যায়ী সকল নিষ্পত্তি বাহিত হবে। অধ্যদেশটি এটাও বলে যে, সামরিক শাসন চলাকালে সামরিক আইন কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রদানকৃত সকল মৃত্যুদন্ড কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে হয়েছিল।