সিলেটের জনসভায় জেনারেল নিয়াজী

Posted on Posted in 7

৭.২০৯.৫৮৯

শিরোনামঃ ২০৯। সিলেটের জনসভায় জেঃ নিয়াজী

সূত্রঃ দৈনিক ইত্তেফাক

তারিখঃ ২ ডিসেম্বর, ১৯৭১

.

সিলেটের জনসভায় জেঃ নিয়াজী

গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করা হইবে

.

    সিলেট, ১লা ডিসেম্বর (পিপিআই)।– এখানে অনুষ্ঠিত এক বিরাট জনসভায় এই মর্মে ঘোষণা করা হয় যে, ১৯৪৭ সালের গণভোটে সিলেটবাসী তথাকথিত বাংলাদেশের পক্ষে নহে, পাকিস্তানের পক্ষে ভোট দেয় এবং মাতৃভূমি রক্ষার জন্য সিলেটবাসী তাহাদের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত বিসর্জন দিবে।

    সিলেটে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ডের কমাণ্ডার এবং ‘খ’ অঞ্চলের সামরিক আইন প্রশাসক লেঃ জেঃ এ এ কে নিয়াজী প্রধান অতিথিরুপে উপস্থিত ছিলেন। সীমান্তের অগ্রবর্তী এলাকার সেনাবাহিনী পরিদর্শনের জন্য তিনি সিলেটে আগমন করেন।

    সভায় উপস্থিত জনতা ভারতীয় আক্রমণের নিন্দা করিয়া এবং সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁদের সমর্থনের বিষয় উল্লেখ করিয়া বিভিন্ন শ্লোগান প্রদান করে।

    জনতা লেঃ নিয়াজী এক খণ্ড কোরআন শরীফ উপহার দেয় এবং তাহারা পবিত্র কোরানের নামে শপথ করিয়া সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় মাতৃভূমি রক্ষার অঙ্গীকার করে।

    উক্ত সভায় সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জনাব আজমল আলী ভারতীয় আক্রমণ ও হস্তখেপের নিন্দা করিয়া বক্তৃতা করেন।

    জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা প্রসঙ্গে জেঃ নিয়াজী বলেন যে, যে কোন মূল্যে মাতৃভূমির রক্ষায় সেনাবাহিনী যখন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ তখন কোন এলাকা হইতে পশ্চাৎপ্রসারণের কোন প্রশ্নই উঠে না।

    তিনি বলেন যে, শত্রুর সঙ্গখ্যা গরিষ্ঠতার জোরে আমাদেরকে পরাভূর করা যাইবে না। আমরা সব সময় সংখ্যায় অল্প এবং সম সময়ই বিজয়ী হইয়াছি। আমরা আমাদের সেই অতীত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করিব।

    সবশেষে লেঃ নিয়াজী পথভ্রষ্ট ও ভারতীয় হাতে ক্রীড়নক ব্যক্তিদের জন্য সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, তাহাদের হীন কার্যকলাপ বন্ধ করিয়া ক্ষমতা গ্রহণের এখনও সময় আছে। তাহারা যদি সঠিক পথ অনুসরণে ব্যর্থ হয় তবে তাহারা ধ্বংস হইবে বলিয়া তিনি উল্লেখ করেন।

    ইতিপূর্বে সীমান্ত এলাকায় সৈন্যদের পরিদর্শনকালে লেঃ নিয়াজী দারূন প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাহাদের সাহস এবং বীরত্বপূর্ণ কাজের প্রশংসা করেন। তিনি সৈন্যদেরকে বলেন যে, তাহারা তাঁদের গৌরবদীপ্ত ঐতিহ্যের মান বজায় রাখিয়াছেন। সৈন্যদেরকে লেঃ নিয়াজী জানান যে, তাহাদের পশ্চাতে দেশবাসীর এবং মুসলিম বিশ্বের সমর্থন এবং সহানুভূতি রহিয়াছে।