স্বাধীনতা যুদ্ধে আপোষের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির বিবৃতি

Posted on Posted in 4

<৪,২৩৭,৫২১>

অনুবাদকঃ কাজী সাদিকা নূর

শিরোনামসূত্রতারিখ
২৩৭। স্বাধীনতা যুদ্ধে আপোষের বিরোধিতা করে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির বিবৃতিসংগ্রামী বাংলা১৮ অক্টোবর, ১৯৭১

 

বাংলা আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার,

আমার দেশ

প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির পূর্ণ স্বাধীনতা অথবা মৃত্যু এটাই

বাঙ্গালী জাতির শেষ কথাঃ

বাংলাদেশ জাতীয় আওয়ামী দলের ঘোষণা

মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয় আওয়ামী দলের তরফ থেকে সম্প্রতি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয় যে বাংলাদেশের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ যখন দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং এক নতুন রূপ পরিগ্রহ করতে যাচ্ছে, সেই মুহূর্তে কোন কোন শক্তির তরফ থেকে আপোষের যূপকাষ্ঠে এই স্বাধীনতা সংগ্রামকে বলি দেওয়ার চক্রান্ত চলছে। তবে কি এত রক্ত, এত ত্যাগ, এত সংগ্রামের এই শেষ পরিণতি?

বাংলাদেশ জাতীয় আওয়ামী দলের বিবৃতির পূর্ণ বিবরণঃ

বাংলাদেশের জনগণের মুক্তিসংগ্রাম যখন জনযুদ্ধে রুপান্তরিত হতে চলেছে ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির সংগ্রাম শুরু হয়েছে। তথাকথিত ‘রাজনৈতিক সমাধানের’ নামে আজ বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের গতিরোধ করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র চলছে। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি এই সম্পর্কে বাংলার মুক্তিকামী জনগণকে হুঁশিয়ার করে দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছে। বাংলার মুক্তিসংগ্রাম আজ এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যেখানে শাসকচক্রের সাথে কোন আপসের চিন্তাও করা যায় না। বাংলার মানুষ আজ নির্মম, নিষ্ঠুর সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এটাই বুঝতে পেরেছেন যে, বাংলার মুক্তি আপোষের সরল পথে আসবে না। হানাদার দস্যুদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই অব্যাহত রেখেই বাংলার মুক্তি সম্ভব।

বাংলার মুক্তিসংগ্রামকে নস্যাৎ করে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, সে সম্পর্কে বাংলার মজলুম ও প্রবীণ জননেতা, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির সভাপতি মাওলানা ভাসানী ইতিপূর্বে ২৪ সে জুন দ্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন- “বাংলাদেশের জনগণ রাজনৈতিক সমাধানের নামে ধোঁকাবাজি কিছুতেই গ্রহণ করবে না। তাদের একমাত্র পণ- হয় দেশের পূর্ণ স্বাধীনতা, নয় মৃত্যু। এর সঙ্গে গোঁজামিলের কোন স্থান নেই”।  

স্বাধীন বাংলার স্বীকৃতি প্রভৃতি চার দফা ছাড়া বাংলাদেশের সমস্যার কোন রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব নয়- এ মর্মে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ৮ই অক্টোবর যে ঘোষণা করেছেন তা সমস্ত বাংলার মানুষের মনোভাবেরই প্রতিধ্বনি।

বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারাই রণাঙ্গনে বাংলাদেশের চূড়ান্ত ফয়সালা করবেন।

*মাওলানা ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় প্রকাশিত পত্রিকা।