হাইজ্যাককৃত বিমান ধ্বংসের প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবর রহমানের ঘোষণা

Posted on Posted in 2

<2.148.627>

 

মুজিব কায়েমি স্বার্থবাদিতাকে সাবধান করেছেন
ভুট্টো আইনগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন

লাহোরে হাইজ্যাককৃত ভারতীয় বিমান বিস্ফোরণের প্রতিক্রিয়ায় ১৯৭১ এর ৩রা ফেব্রুয়ারীতে শেখ মুজিবর রহমান এবং জনাব জেড. . ভুট্টোর বিবৃতি

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবর রহমান সরকারকে লাহোরে হাইজ্যাককৃত ভারতীয় বিমান বিস্ফোরণের তদন্ত করতে আহ্বান করেছেন এবং কোন গোষ্ঠী যেন এই ঘটনাকে পুঁজি করে কোন অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন।

শেখ মুজিবর রহমান বুধবার ঢাকায় এক বিবৃতিতে এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন যে, তিনি হাইজ্যাককৃত বিমানটি বিস্ফোরণের কথা শুনে অবাক হয়েছিলেন।

আওয়ামী লীগ প্রধান এই নেতা কায়েমি স্বার্থবাদিতার বিপরীতে জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান করেন এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বন্ধ করার চেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে বলেন।

শেখ মুজিবর রহমান বলেন, “আমি হাইজ্যাককৃত বিমানটি বিস্ফোরণের কথা শুনে অবাক হয়েছিলাম। যেহেতু হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটে গেছে, এর  পরবর্তী বিস্ফোরণ অবশ্যই নিন্দনীয়।”

তিনি বলেন, “এই ঘটনা দূর করার জন্য কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারত।  এটা বোঝা উচিত ছিল যে, এটি জাতির জীবনের একটি চরম সন্ধিক্ষণ। এই ঘটনায় সৃষ্ট অস্বাভাবিক অবস্থা শুধুমাত্র নাশকতাকারী ও ষড়যন্ত্রকারীদের জনবিরোধী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হবে।”

আওয়ামী প্রধান বলেন, “জনগণকে সম্পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যেকোন অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি করে জনগণের ক্ষমতা জনগণকে শান্তিপূর্ণ ভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার পথ বন্ধ করার চেষ্টাকে প্রতিরোধ করতে হবে”

তিনি বলেন, “আমি সরকারকে এই ঘটনার তদন্তের জন্য আহ্বান জানাই এবং কোন গোষ্ঠী যেন এই ঘটনাকে পুঁজি করে কোন অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

ভুট্টো আইনগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জনাব জেড. এ. ভুট্টো বুধবার বলেন যে, শনিবারে দুই কমান্ডো দ্বারা হাইজ্যাককৃত ভারতীয় বিমান ধ্বংসের জন্য পাকিস্তানের সরকার এবং জনগণ দায়ী নয়। 

 

 

<2.148.628>

 

লাহোর বিমানবন্দর থেকে করাচির উদ্দেশ্যে বিমানে ওঠার আগে তিনি পিপিআই এর সাথে কথা বলেন।

জনাব ভুট্টো এর আইনগত দিক থেকে বলেন যে, ভারতীয় বিমানটি পাকিস্তানের এখতিয়ারেই ছিল এবং পাকিস্তানী কেউ এটাকে বিস্ফোরিত করলে একটা বিপর্যয় মূলক অবস্থা তৈরি হত।

বিমানটির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল কাশ্মীরি দুই মুক্তিযোদ্ধা, যারা ভারতীয় সম্রাজ্যবাদের কবল থেকে নিজের মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার জন্য লড়াই করছে এবং পাকিস্তানের জনগণ ও সরকার এই ঘটনার জন্য দায়ী নয়।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান আরো বলেন যে, এই দুজন কাশ্মীরি মুক্তিযোদ্ধার রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে কোন প্রশ্ন ওঠেনি, কেননা তাঁরা ভারতীয় ছিল না।

তাদের পাকিস্তানের থাকার অধিকার আছে

“কাশ্মীরের অধিবাসী হিসেবে তাদের পাকিস্তানের থাকার অধিকার আছে,” এবং আরো বলেন, “আমরা এই সাহসী যুবকদ্বয়কে আমাদের সাথে পেয়ে খুশী।”

জনাব ভুট্টো প্রকাশ করেন যে, জম্মু ও কাশ্মীরি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনি লাহোরে তাঁর পার্টি লিডারদের বলবেন এবং যে উপায়ে তারা সাহায্য চায়, সে উপায়েই তিনি তাদের সাহায্য করবেন। 

কি ধরণের সাহায্য পাকিস্তান পিপলস পার্টি ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট করবে সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন যে, তিনি এই ব্যাপারে লাহোরে দলের নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন। যখন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট নিয়ে তাঁকে আরো প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে হয়, তখন তিনি বলেন, “আপনারা এই ব্যাপারে দলের নেতাদের সাথে কথা বলতে পারেন।”

————–