১২২। ১২ সেপ্টেম্বর সম্পাদকীয়ঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

Posted on Posted in 6

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

<৬,১২২,২০২>

শিরোনামসংবাদ পত্রতারিখ
সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

বিপ্লবী বাংলাদেশ

১ম বর্ষঃ ৫ম সংখ্যা

১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

 

       বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রস্তুতি বাহিণীর কর্তব্য ও ভূমিকা সম্বন্ধে আগেই বলা হয়েছে।েএবার তাদের কর্তব্যগুলি কিভাবে পালন করবে তা জানা দরকার। কিন্তু এটা জানবার আগে বুঝতে হবে যে বাংলাদেশে গেরিলা পদ্ধতির গুরুত্ব ও প্রয়োজনন কতখানি।

 

       গেরিলা যুদ্ধের সবচেয়ে দরকারী তিনটি বিষয় হলো সমগ্র জনগণের যুদ্ধে সাহায্য করা, লড়াইয়ের সঠিক স্থান ও কৌশল নির্বাচন করা এবং দীর্ঘদিন ধরে সর্বদাই একটু একটু করে শত্রু নিধন করা। এই তিনটি বিষয় একটু আলোচনা করে দেখা যাক।

 

       প্রথমে দেখা যাক সমগ্র জনগণকে যুদ্ধে সাহায্য করানোর ব্যাপারটা। এটা জানা দনকার যে গেরিলা লড়াইয়ের মত জনসমর্থনের প্রয়োজন আর কোন যুদ্ধে হয়না। সাধারনতঃ যুদ্ধে সৈন্যবাহিনী লড়াই করে চলে, এবং জনসাধারন তাদের জীবনযাত্রা প্রায় স্বাভাবিকভাবে চালাতে থাকে। কিন্তু গেরিলা যুদ্ধে প্রায় প্রত্যেককেই অংশগ্রন করতে হয়। ভিয়েতনামে দেখাগেছে যে হয়তো কখনো মা বাচ্ছাকে খাওয়াচ্ছে, কখনো বা সে ক্ষেতে চাষ করছে, আবার কখনোবা শত্রুপক্ষের গতিবিধি ক্ষমতা মনোভাব ইত্যাদি সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করছে, এমনকি প্রয়োজনে বন্দুকও ঘাড়ে নিচ্ছে।বাংলাদেশের গেরিলা যুদ্ধে এই অবস্থানই ঘটেছে। বর্বর পাক সৈন্য ভেবেছিল যে পাশবিক অত্যাচারের দ্বারা বাঙ্গালীর মুখ বন্ধ করে রাখবে। কিন্তু বিগত ২৪ বছর একটানা পশ্চিমী শোষণের মুখোশ আজ খসে পড়েছে। তাই প্রত্যহ দলে দরে জনসাধারণ মুক্তিফৌজে যোগদান করছে। এই রকম অসাধারণ জনসমর্থনই গেরিলা যুদ্ধে প্রয়োজন।

 

       দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে লড়াইয়ের স্থান এবং কৌশল স্থির করা আবশ্যক। গেরিলা লড়াইয়ে যে ধরনের স্থানের প্রয়োজন তা বাংলাদেশে যথেষ্ট রয়েছে। এইসব স্থান হলো জঙ্গল, পাহাড়, খাল-বিলওয়ালা অঞ্চল ইত্যাদি। এগুলোর সঠিক ব্যবহারের ফলে মুক্তিফৌজ ক্রমাগত জয়ের পথে এগিয়ে চলছে। সেই সঙ্গে যখন যেরকম কৌশল কাজে লাগানো যায়, সেরকম কৌশল নেওয়া হচ্ছে।

 

       আর তৃতীয় বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধ েসর্বদাই একটু একটু করে শত্রুর ক্ষতি ঘটিয়ে যাওয়া। এ ব্যাপারটা অত্যন্ত জটিল। কারণ, সাধারণত যুদ্ধে দেখা যায়যে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যুদ্ধের মিমাংশা করার চেষ্টা করা হয়। যেহেতু দিনের পর দিন সৈন্যবাহিনীর রসদ অস্ত্র-শস্ত্র যোগান দিয়ে ওঠা অত্যন্ত কষ্টকর। কিন্তু গেরিলারা জনগণেরই অংশ তাই তাদের রসদের অভাব হয়না। সমস্ত জনহণ মুক্তিফৌজের প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করে দেয়। বাংলাদেশের জনগণও আজ তাই দৃড় প্র্রতিজ্ঞ হয়ে মুক্তিফৌজের পিছনে এসে দাঁড়িয়েছে। সবারই একমাত্র প্রতিজ্ঞা – ‘বাংলা মা’ কে পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে মুক্ত করবো।