১৩৮. ৬ ডিসেম্বর সম্পাদকীয়ঃ নিশ্চিহ্ন পাকিস্তান, এ লড়াই শেষ লড়াই

Posted on Posted in 6

নোবেল

<৬,১৩৮,২২৬>

সংবাদপত্রঃ জন্মভূমি ১ম বর্ষঃ ১৬শ সংখ্যা

তারিখঃ ৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১

সম্পাদকীয়

 

নিশ্চিহ্ন পাকিস্তানঃ এ লড়াই শেষ লড়াই

পাকিস্তানের জঙ্গী ইয়াহিয়া ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। ভারতের স্থলে, জলে ও অন্তরিক্ষে পাকিস্তানী আক্রমণের পাল্টা আঘাতে পশ্চিম পাকিস্তান আর অধিকৃত বাংলাদেশে ইয়াহিয়ার সামরিক বাহিনী কোণঠাসা ও কাবু। ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রচন্ড আঘাত করেছে পাকিস্তানের বিভিন্ন নৌ, বিমান ও সামরিক ঘাঁটির উপর। ভারতের সাথে পাকিস্তানের এ যুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর পাশে এসে এবার দাঁড়িয়েছে ভারতীয় বাহিনী। দুই বাহিনীর মিলিত আক্রমণে পশ্চিম পাকিস্তান ও দখলীকৃত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, করাচী ও কক্সবাজারের নৌবন্দর দাউ দাউ করে জ্বলছে। ঢাকা, শিয়ালকোট, যশোর, সারগেদা, রিসালপুর, পেশোয়ার, নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি শহরগুলি ভারতীয় বিমানের বোমাঘাতে জর্জরিত। মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় বাহিনীর অগ্রগতি অপ্রতিহত। বাংলাদেশের সর্বত্রই মুক্তি আসন্ন। যুদ্ধবাজ উন্মাদ ইয়াহিয়ার কণ্ঠস্বর চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মিলিত শক্তি।

.

নরঘাতী যুদ্ধবাজ উন্মাদ ইয়াহিয়া ও তার সামরিক জান্তারা বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ নিরীহ নিরস্ত্র নরনারী শিশুসন্তানদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। মা-বোনদের ইজ্জত নিয়েছে, সোনার বাংলার গ্রামের পর গ্রাম, শহরের পর শহর জ্বালিয়ে দিয়েছে, ধবংস আর লুট করেছে, ধর্মের নাম নিয়ে এক কোটি অসহায় নরনারীকে ভারতে ঠেলে দিয়েছে, পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষের পথ প্রদর্শক, এশিয়া ভূখণ্ডের মহান নেতা, বাংলাদেশের জাতির পিতা বাঙালীর নয়নমণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বন্দী করে রেখেছে জঙ্গীশাহী অন্ধকার কারাগারে। এই জঙ্গী সরকারকেই অস্ত্র যোগাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, মদত যোগাচ্ছে ঔপনিবেশিক বৃটেন। সর্ভারাদের দেশ নামধারী বিপ্লবী চীন স্বৈরাচারী সরকারকে নিয়ে মাতামাতি করছে। আর রাষ্ট্রসংঘ এদের তল্পিবাহক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশে যে গণহত্যা অনুষ্ঠিত হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে এতদিন কি রাষ্ট্রসংঘের কিছু করণীয় ছিল না? রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ব্যাপারে কোন কথা তোলার মত ঘটনা কি বাংলাদেশে ঘটেনি? বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ আর ভারতের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের হয়ে পৃথিবীর বৃহৎ রাষ্ট্রগুলির দ্বারে দ্বারে বাংলাদেশের সমস্যা নিয়ে ঘুরেছে, কেহই নির্যাতিত বাঙ্গালীদের আর্তনাদে কর্ণপাত করেনি।

.

আজকে আর কাহারও কথা নয়। সাম্রাজ্যবাদের দালাল পাকিস্তানকে নিষচিহ্ন না করা পর্যন্ত ভারতের দেশপ্রিয় জওয়ান ও জননী বাংলার সংগ্রামী মুক্তিবাহিনী থামবে না। এবার জঙ্গীশাহীর সাম্রাজ্য দখলের উপযুক্ত শাস্তির সময়। পশ্চিম পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও পেশোয়ারে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। সাবাস বেলুচি পাঠানরা সাম্রাজ্যলোভী পশ্চিম পাকিস্তানের সাম্রাজ্য দখলে রাখার চির সাধ চিরতরে মিটিয়ে দাও। এবার যুদ্ধে পাকিস্তান নিশ্চিহ্ন হবেই। বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনী আর ভারতীয় বাহিনী এবার শেষ লড়াই করেছে। বাংলাদেশ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানী ভাড়াটিয়া সৈন্যদের সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এ লড়াই চলবে। দু’দেশের মিলিত শক্তি কারও মধ্যস্ততা এখন আর বরদাশত করবে না।