১৪৪. ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের অধিকৃত এলাকায় কি দেখলাম

Posted on Posted in 6

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

<৬,১৪৪,২৩৪>

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্রঃ ষষ্ঠ খন্ড

শিরোনামসংবাদ পত্রতারিখ
বাংলাদেশের অধিকৃতিএলাকায় কি দেখিলামবাংলার বাণী

মুজিবনগরঃ তৃতীয় সংখ্যা

১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭১

 

 

বাংলাদেশের অধিকৃতিএলাকায় কি দেখিলাম

(নিজস্ব প্রতিবেদক)

 

       অতিসম্প্রতি ”বাংলার বাণী”র একজন প্রতিনিধি বাংলাদেশের অধিকৃত অঞ্চলের বিস্তীর্ন এলাকা সফর করিয়া ফিরিয়া আসিয়াছেন। সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অঅমাদের প্রতিনিধি যে বিবরন লিপিব্দ্ধ করিয়াছেন তারই অংশবিশেষ এখানে ছাপা হইল।

 

       তরুন গেরিলাদের আক্রমন তীব্রতর হওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশের অধিকৃত অঞ্চলে শত্রু সেনাদের অত্যাচার ও উৎপীড়ন আরো তীব্র হইয়া উঠিয়াছে। ‘বিশ্বের সেরা সৈনিকরা’ মুক্তিযোদ্ধাদের সহিত সম্মুখ সমরে অবতীর্ন হইবার পরিবর্তে সাধারন গ্রামবাসীর উপর চরমতম নিগ্রহ চালাইয়া তাহাদের দুর্বলতা ঢাকিবার চেষ্টা করিতেছে। ভীতসন্ত্রস্ত গ্রামবাসীদের তাহারা নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করিতেছে। বিশেষ করিয়া মুক্তিযোদ্ধারা  যে জায়গায় একবার খানসেনাদের উপর হামলা করিয়া গিয়াছে তাহার আশেপাশে সাধারন মানুষের উপর হানাদাররা বর্বর নির্যাতন চালাইতেছে। অতি সম্প্রতি গাইবান্ধার রসুলপুরের সুইসগেটের নিকটবর্তী ফুলছড়ি বাঁধের উপর মানাশ নামক জায়গায় একটি পুল গেরিলা যোদ্ধারা রাত্রিকালে আক্রমন করিয়া রাজাকার ও পাকসেনাদের  একটি ছোট পাহারা ঘাঁটি বিদ্ধস্ত করিয়াছেন  এবং পুলটির ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন। মানাশের নিকটবর্তী কামারজানী ও গাইবান্ধাতে পাকসেনাদের দুই বিরাট শক্ত ঘাঁটি থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ চলাকালে তাহারা অক্রমনস্থলে আসার সাহস পায়নাই। পরদিন সকালে একজন ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে একদল বর্বর সৈন্য ঘটনাস্থলে আসিয়া ৩/৪ মাইল এলাকা জুড়িয়া ধ্বংশযঞ্জ চালাইয়া প্রায় ১০০ লোক হত্যা করে। রাজাকার ও স্থানীয় অবাঙ্গালীরা পরে তাহাদের সাথে মিলিত হইয়া মানাশ ও রসুলপুর এলাকা তছনছ করিয়া ফেলে।

 

       অনুরুপভাবে গেরিলা রেডিও পাকিস্তান রংপুরের উপর আক্রমন চালাইলে পাহারারত পঞ্চাশজনেরও অধিক পাকসেনা আত্বগোপন করে এবং তাহাদের অনেকে আহত হয়। রেডিও শ্টেশন হইতে মাত্র হাফ কিলোমিটার দুরে পাক সরকারের সিভিল আর্ম ফোর্সের সেক্টর অফিস এবং মাত্র এক কিলোমিটার দুরে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থাকা সত্ত্বেও তাহারা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি পাল্টা আক্রমন করিবার জন্য কেহই বাহির হয়নাই। এখানে অর্ধঘন্টাব্যাপী যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধারা রেডিও শ্টেশনের বেশ ক্ষতিসাধন করে। পরদিন সকালে যথারীতি “বিশ্বের সেরা সৈনিকরা” রেডিও সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও প্রায় পাঁচ মাইল দুর পর্যন্ত অভিযান চালাইয়া বহু ঘরবাড়ী জালাইয়া দেয় ও নিরপরাধ গ্রামবাসী ও তরুনীকে ধরিয়া নিয়া যায়। তাহাদের ভাগ্যে কি হইয়াছে তাহা জানা যায় নাই।

 

       একইদিনে তাহারা উক্ত রেডিও শ্টেশনের প্রোগ্রাম অরগানাইজার জনাব মহিউদ্দিন হায়দার, ড্রাইভার তারামিয়া ও কয়েকজন টেকনিশয়ানকে রংপুরের দ্বিতীয় সামরিক শিবির মডেল স্কুলের নিকট দমদম পুলের নিকট অতি নৃশংসভাবে হত্যা করে।

 

       পাকবাহিনীর হিংস্রতা যেভাবে দিনদিন বৃদ্ধি পাইতেছে তাহাতে তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ পাইতেছে। দেশবাসীকে আতঙ্ক ও ভীতগ্রস্ত করিয়া তাহারা “স্বাভাবিক অবস্থা” ফিরাইয়া আনিতে চাহিতেছে। কারন তাহারা বুঝিতে পারিয়াছে এইদেশে তাহাদের আয়ু ফুরাইয়াছে।